জান্নাতি পাপিয়া!

ছোট গল্প – কলমে শ্যামাঃ শুনেছি ভাসা ভাসা শব্দতরঙ্গের মত। কিন্তু কখনও দেখার সৌভাগ্য হয়নি জান্নাতি পাপিয়ার সৌন্দর্য! বলতে গেলে আমার কল্পনার সীমাবদ্ধতার জন্য, আঁকতে পারিনি জান্নাতি পাপিয়ার সুবাস, নিঃশ্বাসের সুগভীর প্রকাশযোগ্য কোন অনুভূতির চাদরে শীতের কুয়াশা ভেদ করে একটু শিশির বিন্দু স্পর্শ করার মত।

অথচ সৌভাগ্য নাকি পায়ে হেটে আসে, আমার জীবনের সাঁঝেরবাতি মিটমিটিয়ে জ্বলছে, এমন সময় জান্নাতি পাপিয়ার কাছে থেকে এতটা সমাদর, আপ্যায়ন আর এতটা সন্মান পাব। এ জীবনে সবই যেন কল্পনাতিত আর অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।

আমার অনুভূতির এমনটাই ক্ষুদ্র প্রকাশ মাত্র, যেন উত্তাল সাগরের ঢেউয়ে ডিঙ্গি নৌকায় ভাসছি! ২৪ ঘন্টার কাটা পার হয়নি, তবুও আমার মন বলছে আমি কি জান্নাতি মানুষ দেখে এলাম নাকি ঐ মানুষ গুলো ছোট বাগান বাড়িটায় জান্নাতের টুকরা করে তুলেছে। আপন মমতায় জড়িয়ে পবিত্র ভালোবাসার বন্ধনে। এই জগৎ এর, এ জান্নাত পরকালের জান্নাতের সমতুল্য সুন্দর হবে, বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি। বিন্দু মাত্র দ্বিধা নেই আমার। অন্তত আমাকে যদি জান্নাত নির্বাচন করতে বলা হয় নিঃসংকোচে আমি জান্নাত সমতুল্য ছোট্ট ঐ বাগান বাড়িটার দিকেই কেবল হাত বাড়াব জীবনের সর্বোচ্চ দিয়ে।

খোদার দ্বারে শুকরিয়া আদায় করে জানিয়ে দিবো হে পরমকরুনায়, পরকালের জান্নাত তোমার এই গুনাগার বান্দার জন্য এই দুনিয়াতে দেখার সৌভাগ্য দিলে। আর আমাকে শুধু এই জগৎ এর এই জান্নাতের সুবাস থেকে আমাকে বঞ্চিত করো না। এতটুকু সুবাস পেতে দিলেই আমি তোমার দুনিয়া আর পরকালের সব জান্নাত, বেহেস্তকে হৃদয়ঙ্গম করবো অবলীলায়।

হ্যাঁ আজ আমি আপনাদের এমন একটি জান্নাতি পাপিয়ার পরিবারের গল্প শুনাতে চাই!

গতকাল পরন্ত বিকেলে সেই জান্নাতি পাপিয়াদের বেহেস্তি পরিবার দেখার উদ্দেশ্য মেঠোপথ ধরে হাটছিলাম। আঁকাবাঁকা মেঠোপথ দুপাশে ছোট ছোট গ্রামীণ ঘর, অপরুপ পরিবেশ সে এক চোখ জুড়ানো মনোরম প্রকৃতির সৌন্দর্য, সারি সারি ধান ক্ষেতের ঘ্রাণে মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাচ্ছে বাতাসের মূর্ছনায়।

তার মধ্যে হঠাৎ এক অজানা আতংক আর ভয় আমাকে ঘিরে ধরলো, নিজেকে অনেক ছোট মনে হচ্ছিল, জানি না জান্নাতি পাপিয়াদের বাড়ির সুন্দর পরিবেশের সাথে সামান্য সময়ের জন্য নিজেকে মানিয়ে নিতে পারব কিনা। আমাকে তারা কিভাবে গ্রহন করবে জানি না, আমি তো পাপি মানুষ গুনাগার। একটা অপরাধবোধ আমাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। যতটা পথ এগোচ্ছি আমার পা যেন ধরে আসছে, যেন পথ শেষ হয়না।

আরেক দিকে জান্নাতি পাপিয়াদের বাড়ির পথ চিনি না, লোকের মুখে শুনে শুনে এগোচ্ছি। যেন হাজার বছর ধরে পথ হাটিতেছি। একবার তো মনে হলো পিছন ফিরে দৌড়ে পালাই, কিন্তু সে পথও রুদ্রদীপে পরিনত হয়েছে।

কেমন আছো ভাই, পথে আসছে কষ্ট হয়নি তো, হঠাৎ সেই চিরচেনা আদর মাখা, মায়ামমতা মিশানো আপন মানুষের পবিত্র কন্ঠে আমার ঘোর কেটে নিজেকে আবিষ্কার করলাম।

দেখলাম, সেই ছোট বেলায় মায়ের মত বড় বোনের মমতাময়ী মায়ের হাত আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন ছোট ভাই আর সন্তানের মত করে। ততক্ষণে রাস্তায় আসতে আমার যে ভয়, দ্বিধা দন্ড আর নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছিল। সব যেন তাহার পবিত্র হাতের স্পর্শে ভুলে গেলাম। ফিরে যেতে ইচ্ছে করলো এক যুগ আগের বায়না ধরে সরিষা তেল, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ দিয়ে মুড়ি মাখিয়ে অনেক আনন্দের গল্প শুনতে শুনতে মুড়ি খেয়ে সবার করে, আবার মুড়ির বাটি মমতাময়ী বড় বোনের হাতে দিয়ে বলা আপনার হাতের মাখানো মুড়ির স্বাদে পেট ভরে তো মন তো ভরে না, আরও কিছু দিননা। বলেই অট্রহাসিতে সবাই ফেটে পড়া।

আবার হঠাৎ চেতনা ফিরে পেলাম তার দরদী কন্ঠে, কি ব্যপার! বাড়ির বাইরে দাড়িয়ে থাকবে নাকি? এসো এসো বাড়ির ভিতরে এসো।

বাড়ির ভেতর ঢুকতেই জান্নাতি হাওয়ায় সুবাসিত হোল মন আমার। সেই সাথে বাড়ির দক্ষিণে খোলা মাঠ থেকে ভেসে আসছে ফাল্গুনী হাওয়া, বসন্তের প্রথম প্রহরের ঠিক তখন গোধূলির পদধূলিতে মহুয়া বায়ুমন্ডল সুরভিত হয়ে আমার অশান্ত মনে প্রশান্তির ছোঁয়ায় প্রবেশ করলাম দুনিয়ার প্রথম বেহেস্তি পরিবারে আমার নিজের চোখে আর শরীরে।

তারপর যথারীতি জড়তার সাথে কুশল বিনিময় পর সন্মানের সাথে অনেক সুন্দর আপ্যয়ন করলেন, বিশেষ করে তাদের দুই বোনের নিজের হাতে তৈরি কপি, ঠিক যেন অমৃত সুধা। আমার মায়ের হাতের খাবারের পর পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ খাবার খেয়ে কলিজা ঠান্ডা হয়ে গেলো। শুধু একটা কথাই মনে হচ্ছিল পবিত্র হাতের স্পর্শে আর পবিত্র মনের পবিত্রতায় পরম যত্ন তৈরি খাবার জান্নাতি খাবার ছাড়া আর কি হতে পারে।

তারপর, মমতাময়ী মায়ের মত বড় বোন আমার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলেন। আমি ক্ষুদ্র, অযোগ্য আর সামান্য মানুষ কি আর বলব, তিনি সবইতো জানের ছোট বেলায় আব্বা চলে গেলেন ইয়াতিম করে। তারপর কত লোকের কত টিটকারি আর অবহেলা। ধৈর্য ধরে দুঃখী মায়ের দোয়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে একটা বিদেশি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছি। সেই সাথে জানতে চাইলাম তাহার পরিবারের সবার বর্তমান অবস্থা।

তিনি বিনয়ের সাথে জানালেন, আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছেন। মেয়ে দুটা শিশু থাকতেই আল্লাহ তার কাছে থেকে স্বামীকে নিয়ে গেলেন। তারপর, ফেরেস্তার মত শশুর আব্বা আর তাহার বড় ভাই আমার মেয়েদের নিজের সন্তানের মত লালনপালন করেছেন। নিরাপত্তা দিয়ে পরম যত্নে আগলে রেখেছেন, এটা আমাদের পরম সৌভাগ্যের ব্যপার, সে জন্য খোদার কাছে শুকরিয়া জানাই।

কেমন জানি করে, মেয়ে দুটা তাদের পবিত্র মনের স্পর্শে আমাকে আপন করে নিয়ে আমাকে চিরকৃতজ্ঞ করে রাখল। আমি তাদের কুশল জানার পর, তারা জানালো একজন স্কুলে আর একজন ডিগ্রি কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারে মাকে সহোযোগিতা করেন। পাশাপাশি বড়জন কলেজের পাশে একটি মা ও শিশু ক্লিনিকে পার্ট টাইম জব করেন শুনে খুব খুশি হলাম।

বলতেই বড়জনের মুখে একটা স্বপ্নের রেখাপাত লক্ষ করলাম। দেখলাম তার চোখে হাজারো স্বপ্ন নয়, মাত্র দু-তিনটা স্বপ্ন। এক- সুন্দর মত পড়াশোনাটা শেষ করার সাথে ভালো মানুষ হয়ে সংসারের হাল ধরে মায়ের মুখে হাসি ফোটানো। দুই- ছোট বোনটাকে সত্যিকারের মানুষ হতে যা যা প্রয়োজন তার সবকিছু সাধ্যমত চেষ্টা করা। তৃতীয়ত – একজন বিশ্বস্ত মানুষের বিশ্বস্ত হাত ধরে সুখেদুখে সাদামাটাভাবে সারাটা জীবন কাটিয়ে দেওয়া। এই জান্নাতি বাড়ির মতই আরও একটি জান্নাতি পাপিয়ার মা হওয়া।

তারপর আমার পরম শ্রদ্ধেয় মায়ের মত বড় বোন তাহার বাড়ির চারপাশ ঘুরে দেখালেন, দেখলাম তার প্রতিবেশীরাও অনেক আন্তরিক যেন সবাই জান্নাতি ফুল বাগানের এক একটা ফুল গাছ আর ছেলে মেয়ে গুলো সৌরভের গোলাপ। একটা সময় এই জান্নাতের বাগান থেকে বের হবার সময় হলো, সবাই সবাইকে সালাম বিনিময়ের পর শেষে একটা ইচ্ছে প্রবলভাবে ঘিরে ধরলো মায়ের মত মমতাময়ী বড় বোনের পদধূলি নিতে। কিন্তু আমার সংকীর্ণ মন সেই সাহস পায়নি।

এক পা বাড়াতেই একটা নিঃপাপ আর পবিত্র চোখ আমাকে পিছনে ফিরে দেখতে বাধ্য করলো। প্রথম বার দেখলাম তার চোখে কত মায়া আর নীলাকাশের দিগন্ত ছোঁয়া এঁকে জগৎ এর সকল রঙ তুলিকে হার মানিয়ে সৃষ্টিকর্তা নিজের হাতে সৃষ্টি করেছেন জীবন্ত অপ্সরী। মুখখানি কত যে পবিত্র, যে পবিত্র মুখটা জীবনে একটি পলক দেখলে জীবনের সকল দুঃখ কষ্ট ভুলে যাওয়া যায়। আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করে জেনে গেলাম, হে মহান প্রভু তুমি মানুষকে এতটা সুন্দর আর পবিত্র করে সৃষ্টি করেছেন যে, আমি পাপি গুনাগারের পক্ষে কল্পনাতেও অনুভব করা সম্ভব নয়। এমন হলো যে নিজের অজান্তেই আল্লাহ তায়ালাে পবিত্র পদতলে সিজদাহ্ করে নিলাম।

হঠাৎ নিজেকে আবিষ্কার করলাম সেই মেঠোপথের দুপাশে ধান ক্ষেতের মাঝখানে। যেন অজানা কারণে মনটা বিষাদে ভরে গেল, নিজেকে বোঝাতে পারছি না কেন মনটা এমন বিষাদে ভরে গেল। তখন আমার মনটা বলে দিলো তুই বড় স্বার্থপর, অকৃতজ্ঞ মানুষ কি করে ভুলে গেলি সেই দেবতা তুল্য বড় ভাইটা কে। যে কিনা তোর ছোট বেলায় পরম যত্নে আগলে রেখেছিল।

স্কুল থেকে ফেরার সময় যখন তার বাজারের দোকানের সামনে দিয়ে হেটে যেতে দেখলেই পিছন থেকে নিঃশব্দে বুকে টেনে নিয়ে বলত, কিরে পাগলা এই পরন্তু বিকেলে শুকনো মুখে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিস। আমার সাথে আয়, কিছু কিনে দেই খেতে বাড়ি যা। মাঝে মধ্যে লজ্জা লাগত তাই তার কাছে থেকে খাবার কিনে নিতে চাইতাম না। তখন আদরমাখা শাসনের সুরে বলতে চর দিয়ে দাঁত ফেলে দেব কিন্তু রে পাগলা।

সেদিন নিজের হাতে আমাকে খাইয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলত আরে পাগলা তুই তো জানিস না, তুই আমার কে। তুই যে আমার সন্তানতুল্য, আজ তো বুঝবি না, যেদিন থাকব না সেদিন তো বুঝতে পারবি, কেন তোকে পাগলা বলে বুকে জড়িয়ে রেখে কপালে চুমু এঁকে দেই! নিজের অজান্তেই অশ্রু তে আমার চোখ ভিজে গেছে খেয়াল করলাম আমি ধান ক্ষেতের পাশে বসে আছি।

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সেই আদরমাখা পাগল ডাক নাম টা ধরে আর কেউ ডাকে না আমায়। ভাবতেই আবারও শিশুর মত বুকটা হুহু করে কেদে উঠলো। এক যুগেরও বেশি সময় আগে, এক সড়ক দুর্ঘটনায় আমার মাথার উপরের বটবৃক্ষের ছায়াটা সরে গিয়ে আবারও আমি ইয়াতিম হলাম।

শিশুকালে আব্বা কে হারিয়ে যখন অসহায়ের মত পথে পথে ঘুরছিলাম তখন এই ফেরেস্তার মত মহান মানুষটি আমাকে সন্তানের মত বুকে টেনে নিয়েছিলেন। আজ তার রেখে যাওয়া জান্নাতে বাগানে ঘুরে ঘুরে দেখে গেলাম।

হে মহান আল্লাহ তায়ালা আপনার পবিত্র পায়ে সিজদাহ্ করে করজোড়ে অনুরোধ, হাজারো ফরিয়াদ আর আকুল পার্থনা করি, তার জান্নাতের বাগানের সকল মানুষ গুলোকে সমস্ত বিপদআপদ থেকে রক্ষা করে সুখে শান্তিতে রাখুন। আর আমি তো আপনার গুনাগার পাপি বান্দা। খুব নগন্য আর ক্ষুদ্র মানুষ, যদি এই পবিত্র জান্নাতের বাগানে সামন্য যত্ন আর সেবা করার সৌভাগ্য দেন তো আমার জন্ম সার্থক আর পূর্ণতা পাবে।

– আমিন।

[দুদিন আগে আমার পরম আত্মার আত্মীয় বাড়িতে থেকে ঘুরে এসে স্মৃতিচারণ মূলকথা ]

বড়লেখার কৃতি সন্তান জাতীয় দলের ইবাদত’কে ফুলেল শুভেচ্ছা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশ ক্রিকেটের টেষ্ট জয়ের অগ্রনায়ক মৌলভীবাজারের বড়লেখার কৃতী সন্তান ইবাদত হোসেন চৌধুরী জীবানকে শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সংবর্ধনা দিয়ে বরন করে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা। নিউজিল্যান্ড জয়ের পর প্রথমবার গত বৃহস্পতিবার তিনি গ্রামের বাড়িতে বাবা-মা ও পরিবারের সাথে দেখা করতে এলে ক্রিকেট প্রেমীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

ক্রিকেটে বাংলাদেশের জন্য আরো বড় সম্মান বয়ে আনতে উদীয়মান তরুণ ক্রিকেটার ইবাদত হোসেন চৌধুরী সকলের দোয়া চেয়েছেন। তিনি উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের কাঁঠালতলী গ্রামের সাবেক বিজিবি কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী ও গৃহিনী মা সামিয়া বেগমের ছেলে।

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলীর সভাপতিত্বে ও ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আহাদের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে ইবাদত হোসেন চৌধুরী বলেন, তার স্বপ্ন বাংলাদেশকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি লুৎফর রহমান চুন্নু, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. উবায়েদ উল্লাহ খান, দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন, উপজেলা খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি আব্দুর রহমান, সাবেক ফুটবলার কমর উদ্দিন, ক্রীড়া ভাষ্যকার আমজাদ হোসেন পাপলু।

সভাপতির বক্তব্যে নির্বাহি কর্মকর্তা খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী বলেন, ইবাদতের পারফরম্যান্সে অনুপ্রাণিত হয়ে বড়লেখা থেকে যেন তার মত জাতীয় পর্যায়ের আরো ক্রিকেটার তৈরী হয়, সে লক্ষ্যে আমাদের সকলকে কাজ করতে হবে। ইতিমধ্যে বড়লেখায় একটি মিনি স্টেডিয়াম তৈরীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান।

অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসক

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রী’র বসতঘর আগুনে পুড়ে গৃহহীন নারীর পাশে আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা নিয়ে জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান উপস্থিত। গেল বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় শমশেরনগর ইউনিয়নের ভাদাইর দেউল গ্রামে এ সহায়তা দেওয়া হয়।

জানা যায়, গত ৩রা ফেব্রুয়ারি বিধবা নারী নুরজাহানের একমাত্র উপার্জনকারী ছেলে পেশায় রং মিস্ত্রি নুর ইসলাম (মোল্লা) বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার ১২দিনের মধ্যে দূর্ঘটনা বসতো রাতে তার বসত ঘরে আগুন লেগে পুড়ে ছাই হয়েছে। আগুনের লেলিহান শিখায় প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধিত হয়। ঘটনার পর থেকে খোলা আকাশের নিচে বাসযোগ্য করে অসহায় হয়ে দিনাতিপাত করছিলেন বিধবা নারী নুরজাহান বেগম।

মানবিক প্রতিবেদন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ নারীর বাড়ীতে গিয়ে আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা ও বিভিন্ন সামগ্রীর সমন্বয়ে দুই বস্তা শুকনো খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল আহমেদ, নারী সদস্য শারমিন বেগম চৌধুরী ও সদস্য দিলদার আহমেদ। এ সময় শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল আহমেদ বলেন, ফুলতলী ট্রাষ্ট থেকে এ স্থানেই শীঘ্রই একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, গণমাধ্যমে এ মানবিক প্রতিবেদন পড়েই এই অসহায় মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে দেখতে এসেছি। রেলওয়ের বন্দোবস্তকৃত ভূমিতে তাদের জন্য কমপেক্ষ ৫ শতক খাস জমি বের করে বসতঘর তৈরি করে দেওয়া হবে। এ দায়িত্ব নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হককে দেওয়া হয়েছে।

বাঞ্ছারামপুরে আগুনে পুড়ে শিশু হাসান নিহত, শোকে পাগলপ্রায় পরিবার

মো. নাছির উদ্দিন,বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর সদরের চরের কান্দার হাটির বাকপ্রতিবন্ধী আব্দুর রহমান একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগল প্রায় হাসানের বাবা-মা। নিহত হাসানের মা ছেলের শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। যখই জ্ঞান ফিরছে তখনই ‘আমারে কে মা ডাকবে বলে চিৎকার দিয়ে আবার জ্ঞান হারাচ্ছেন।

হাসানের বাবা আব্দুর রহমান বাকপ্রতিবন্ধী  নির্বাক, পুত্র শোকে একটানা তার চোখ দিয়ে পানি ঝড়ছে। প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না। এদিকে হাসানের  দাফন সম্পন্ন হয়েছে।  গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহত হাসানের মা জানান আমার ছেলে বাঞ্ছারামপুর প্রতাবগঞ্জ বাজারে হোসেন মিয়ার খাবার হোটেলে ৮ মাস যাবৎ কাজ করে গতকাল ছেলে কাজে যাইতে রাজি ছিলোনা,বুজাইয়া, নিচ্ছা ফুইচ্ছা, ছেলেরে দোকানে কাজে পাঠাইয়াছি। আমার এই একটাই ছেলে ছিলো আর দুইটা মেয়ে বাকপ্রতিবন্ধী আমি এখন কি করবো।

গত বৃহস্পতিবার ১টা ৩৫ মিনিটে  বাঞ্ছারামপুর বাজারে হোসেন মিয়ার খাবার হোটেলে এর সামনে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে, তখন হোটেলের পিছনে ভিতরে হাসান ও জাহিদুল নামে ২টি শ্রমিক আটকা পড়ে যায়  খবর পেয়ে বাঞ্ছারামপুর হোমনার ফায়ার সার্ভিসের  দুইটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্হলে এসে ২ ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ততক্ষণে ৮ টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বাঞ্ছারামপুর ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার অঞ্জন চৌধুরী মজুমদার স্হানীয় লোকের সহযোগিতায় আগুনে দগ্ধ অবস্হায় জাহিদুল ও হাসানকে উদ্ধার করে বাঞ্ছারামপুর সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়,তাদের দুইজনের অবস্হা আশংকাজনক হওয়ায়  ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউট রেফার করা হয় কিন্তু ঢাকা নেয়ার পথে হাসান (১৪ ) গাড়ীতেই মারা যায়।

দুর্যোগ ব্যবস্হাপনা ও ত্রাণমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্হায়ী কমিটির সভাপতি ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম এমপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা সমশাদ বেগম,পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন উজানচর ইউপি চেয়ারম্যান কাজী জাদিদ আল-রহমান জনি, পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আর্থিক সহযোগিতা করেন এবং তাদের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুরুন করার আশ্বাস দিয়েছেন মাটি ও মানুষের নেতা ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম এমপি।

মৌলভীবাজারে শীতের দাপট বহাল

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: দেশের অন্যান্য জায়গায় শীতের দাপট কমলেও মৌললভীবাজার জেলায় তা বহাল তবিয়তেই আছে। বসন্তের শুরুতে আবারও জেঁকে বসেছে শীত। কয়েক দিন কনকনে শীত ও হিমেল হাওয়ার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। গত বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে শ্রীমঙ্গলে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শ্রীমঙ্গলে রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়া সহকারী কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শ্রীমঙ্গলের পরই ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রংপুরের তেঁতুলিয়া। ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিয়ে তৃতীয় স্থানে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড রয়েছে। আর সিলেটে বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

হিমেল হাওয়ার কারণে সকাল এবং সন্ধ্যার পর বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছেন চা শ্রমিকসহ ছিন্নমূল শীতার্ত মানুষেরা। শীতের কারণে বস্তিবাসী, চা বাগান, বোরো চাষি, হাওর পাড়ের ছিন্নমূল ও দিনমজুররা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন।

এদিকে, শীতজনিত রোগে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু ও বয়স্কদের নিয়মিত ভর্তি অব্যাহত রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শ্রীমঙ্গলে রেকর্ড করা হয়েছে। তবে দু-এক দিনের মধ্যেই তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে বলে জানান। এখন তো ক্লাইমেট (জলবায়ু) অনেক চেঞ্চ (পরিবর্তন) হয়ে পড়েছে। গত বছর বৈশাখ মাস পর্যন্ত ঠাণ্ডা ছিল। এবার হয়তো এর আগেই শীত বিদায় নেবে বলে আশ্বাস।

রাণীশংকৈলে দিনব্যাপি প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী মেলা অনুষ্ঠিত

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ সারা দেশের ন্যায় ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের আয়োজনে বৃহস্পতিবার দিনব্যাপি প্রানিসম্পদ প্রদর্শনী মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

পৌরশহরের কেন্দ্রীয় উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত প্রাণীসম্পদ প্রদর্শনী মেলায় ২৫ টি স্টলে উপজেলার খামারীরা বিভিন্ন উন্নত জাতের গাভী, ছাগল, ভেড়া, ঘোড়া, খরগোস, কচ্ছপ, কবুতরসহ অনেক প্রজাতির দৃষ্টি নন্দন পাখি প্রদর্শন করেন।

দিনব্যাপি এ মেলার অনুষ্ঠানে ইউএনও সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিভের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহারিয়ার আজম মুন্না।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আ’লীগ সভাপতি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সইদুল হক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শেফালি বেগম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নাসিরুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত), পৌর আ’লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান, প্রধান শিক্ষক আবু শাহানশা ইকবাল প্রমূখ।

পরে খামারিদের মাঝে ৩ টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

বাঞ্ছারামপুরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১ জন নিহত ও ৩ জন আহত, তিন কোটি টাকার ক্ষতি

মো. নাছির উদ্দিন-বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার  প্রতাবগঞ্জ বাজারে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের সময় খলিল মিয়ার কনফেকশনারি দোকান, আনিছ মিয়ার মুদি দোকান,ফুল মিয়ার গো খাদ্যের দোকান,আমির মিয়ার সেনেটারি এন্ড ইলেক্ট্রনিকস দোকান, শ্রীধামের হার্ডওয়াডের দোকান,হোসেন মিয়ার খাবার হোটেল, শুকুর আলীর খাবার হোটেল, লিল মিয়ার গুদাম ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আগুনে পুড়ে ১ জন নিহত তিন জন আহত হয়েছে। এতে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

আশেপাশের লোকজন  আগুন নেভানোর চেষ্টা করে নেভানো সম্ভব হয়নি পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে হোমনা বাঞ্ছারামপুরের ২টি ইউনিট ২ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে ততক্ষণে ৮টি দোকান ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

হোসেন মিয়ার খাবারের হোটেলের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রঞ্জন বর্মন জানান  চারজনকে উদ্ধার করে বাঞ্ছারামপুর সরকারি হাসপালের ইমার্জেন্সিতে আনা হয়।দুইজনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাদেরকে ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউট রেফার করা হয়। ঢাকা নেয়ার পথে হাসান (১২) মারা যায়। বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে  বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্হাপনা ও ত্রাণমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্হায়ী কমিটির সভাপতি ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম এমপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা সমশাদ বেগম,পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন উজানচর ইউপি চেয়ারম্যান কাজী জাদিদ আল-রহমান জনি, পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এবং মাননীয় সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন এবি  তাজুল ইসলাম বলেন, আমি প্রথমে খবরটি জনির কাছে শুনতে পেয়ে ইউনোকে বলি ঘটনাস্হলে আসার জন্য আমি সচিব মহোদয়কে ফোন করে সাথে সাথে চলে আসি,শেখ হাসিনার সরকার আছে আপনাদের পাশে আমি দুর্যোগ ব্যবস্হাপনা মন্ত্রাণালয়ের সভাপতি আছি, সরকার আপনাদের ক্ষতি পূরণ  পুষিয়ে দিবে, আপনারা হতাশ হবেন না ধৈর্য ধারণ করুন,ব্যবসায়ীরাসহ আপনাদেরকে সহযোগিতা করবে।

পরে এমপির ব্যাক্তি গত তহবিল থেকে প্রতি জনকে ১০হাজার করে নগদ টাকা ও নিহত ব্যাক্তির পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা আর পৌর মেয়র এর পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা নগদ অনুদান দেওয়া হয়।

রাণীশংকৈলে ২১ ফেব্রুয়ারি পালন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শহীদ ভাষা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ উপলক্ষে এদিন দুপুরে  উপজেলা হলরুমে ইউএনও সোহেল সুলতান জূলকার নাইন কবির স্টিভের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না,ভাইস।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, আ’লীগ সভাপতি অধ্যক্ষ সইদুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান শেফালি বেগম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইন্দ্রজিৎ সাহা, স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুস সামাদ, শিক্ষা অফিসার রাহিম উদ্দীন ও আলী শাহরিয়ার।

আরও উপস্থিত ছিলেন, পৌর আ’লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম,ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন,মহিলা আ’লীগ সম্পাদিকা ফরিদা ইয়াসমিন,মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান, প্রভাষক সুকুমার মোদক ও প্রশান্ত বসাক, প্রেসক্লাব সভাপতি কুশমত আলী ও ফারুক আহমদসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা, শিক্ষক ও সাংবাদিকবৃন্দ প্রমুখ।

সভায় সরকারি বিধি মোতাবেক শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস  যথাযথ মর্যাদায় পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

দেশের মানুষ খুশি হওয়ায় এবং বেগম খালেদা জিয়া সুস্থ হওয়ায় বিএনপি অখুশি -তথ্যমন্ত্রী

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: বাংলাদেশ আওয়ামীরীগের যুগ্ম সম্পাদক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ ও সুদুরপ্রসারী নেতৃত্বের কারনে বাংলাদেশের সকল মানুষের অর্থনৈতিক পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছে। পাকিস্থানকে অনেক আগেই ছাড়িয়ে গেছে। পাকিস্তান এখন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলছে। পাকিস্তানের জনগনের কাছে বাংলাদেশ এখন উদাহরন। পাকিস্তানের জনগন এখন সে দেশকে বাংলাদেশ বানানোর আহবান জানাচ্ছেন।

মন্ত্রী বৃহষ্পতিবার দুপুর দেড়টায় নওগাঁ জিলা স্কুল মাঠে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ নওগাঁ পৌর শাথার ত্রিবার্সিক কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন।

মন্ত্রী আরও বলেছেন, বিএনপি এখন সব বিষয় নিয়ে অখুশি। দেশের মানুষ খুশি হওয়ায় অখুশি । আবার তাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সুস্থ হওয়ায় খুশি। বিএনপি’র আর কোন রাজনীতি নাই। বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থ্যতার বিষয়ই তাদের এখন একমাত্র রাজনীতি।

চলমান নির্বাচন গঠন নিয়ে বিএনপি’র ভুমিকার সমালোচান করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অপরাপর রাজনৈতিক দল এবং দেশের সুশীল সমাজের সকলেই যখন নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সার্চ কমিটির নিকট নাম জমা দিয়েছে তখন বিএনপি সেখান থেকে দুরে থাকলো। দেশের সকল সুশীল সমাজের মানিুষ যখন প্রায় ৩শ জন মানুষের নাম সার্চ কমিটির নিকট জমা দিয়েছেন তখন বিএনপি নাম জমা দিল কি না দিল তাতে কিছ যায় আসে যায় না। তবে তিনি বলেন বিএনপি সরাসরি নাম জমা না দিলেও তাদের মনোনীত ব্যক্তিরা নাম ঠিকই জমা দিয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপি নির্বাচন কমিশন নিয়ে কখনই খুশি নয় । কারন একমাত্র জয়ের নিশ্চয়তা না পেলে নির্বাচন কমিশনে ফেরেশতাদের সম্পৃক্ত করলেও তারা খুশি হবে না। আসন্ন নির্বাচন কমিশনে যদি ৩ জন ফেরেশতাকে মনোনয়ন দেয়া হয় সেই কমিশনের প্রতিও তাদের কোন আস্থা থাকবে না। সার্চ কমিটির দেয়া নামগুলোর মধ্যে তেকে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তথ্যমন্ত্রী দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সরকারের গৃহিত গঠনমুলক পদক্ষেপের কারনে মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশের একজন রিক্সাচালক প্রতিদিন ৬ থেকে ৭শ টাকা আয় করেন। ঢাকা এবং চট্টগ্রামের মত শহরে একজন শ্রমিক প্রতিদিন কমপক্ষে এক হাজার টাকা আয় করেন। প্রতিটি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। যথন দেশের প্রতিটি মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী, যখন ঘরে ঘরে সুখ স্বাচ্ছন্দ। জনগণ যখন আওয়ামীলীগের রাজনীতির প্রতি সন্তুষ্ট তখন স্বাধীনতার বিপক্ষের এবং পাকিস্তানের দোসররা দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে দেশের অভ্যন্তরে এবং দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর চক্রান্তে লিপ্ত হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল এবং আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যথন দেশেল উন্নয়নে মনোনিবেশ করেন, দেশে বিদেশে যখন প্রশংসা অর্জন করছিলেন তখনই পাকিস্তানের দোসররা তাকে হত্যা করে দেশের উন্নয়ন বন্ধ করে দিয়েছিল । অথচ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের সমং অঅমাদেরন জাতয়ি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিলেম ৯ দশমিক ৫৯ ভাগ। আমরা প্রবৃদ্ধির সেই রেকর্ড অতিক্রম করতে পারিনি।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ আরও বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের ব্যপক উন্নয়ন কর্মকান্ড অর্জিত হয়েছে। এই সাফল্যের নজির দেখে অনেকেই পিঠ বাঁচাতে আওয়ামীলীগে যোগদান করতে আসবেন। যারা পিঠ বাচাতে আওয়ামীলীগে আসতে চাইবে, যারা জমি দখলের সাথে জড়িত, যারা মাদকের সাথে জড়িত তারা দলের নেতৃত্বে আসতে পারবেনা। এ ব্যপারে স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর হুশিয়ারী প্রদান করেন।

নওগাঁ পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি দেওয়ান ছেকার আহম্মেদ শিষানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সম্মেলনের উদ্বোধন করেন নওগাঁ জেলা আওয়ামীরীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল মালেক। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারনে সম্পাদক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি। সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ রোকেয়া সুলতানা, মোঃ শদিুজ্জমান সরকার এমপি, ব্যারিষ্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন এমপি, আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন হেলাল এমপি এবং মোঃ ছলিম উদ্দিন তরফদার সেলিম এমপি।

বর যাত্রীবাহী গাড়ি রোধ করে ডাকাতি

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার টিলাগাঁও ইউনিয়নে কনে নিয়ে বরযাত্রী বহনকারী গাড়ী ফেরার পথে সংঘবদ্ধ ডাকাতদের কবলে পড়েন। ডাকাতরা দেশিয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বরযাত্রীদের কাছ থেকে ১৫-১৬টি দামি মোবাইল ও নগদ ২৫ হাজার টাকা লুট করে নেয়। বুধবার রাতে কুলাউড়া উপজেলার বাঘেরটিকি এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
টিলাগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক জানান, টিলাগাঁও ইউনিয়নের চকসালন গ্রামের বনকেশ সেনের মেয়ের বিয়ে ছিলো ১৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার। কনের বাড়ি খাওয়া দাওয়া শেষে বরযাত্রীবাহি ৪টি মাইক্রোবাস শ্রীমঙ্গলে ফেরার পথে টিলাগাঁও ইউনিয়নের রেলক্রসিংয়ে ডাকাতরা গাড়ীর গতিরোধ করে। এসময় দেশীয় অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে নগদ টাকাসহ দামি মোবাইল লুট সহ মূল্যবান ছিনিয়ে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে রাতে টহল পুলিশ ও বৃহস্পতিবার দুপুরে কুলাউড়া থানা পুলিশের একটি দল এসআই অপুর নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছে।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিনয় ভূষণ রায় জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।