২২ ফেব্রুয়ারি থেকে খুলছে মাধ্যমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শিক্ষা ডেস্কঃ আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়া হবে। দুই ডোজ করোনা টিকা নেওয়া থাকলে শিক্ষার্থীরা সশরীরে শ্রেণিকক্ষে পাঠ নিতে পারবেন, অন্যরা অনলাইন কিংবা টেলিভিশনের মাধ্যমেই ক্লাস করবেন। তবে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আপতত বন্ধই থাকছে বলে এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে।

আজ  বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এসব তথ্য জানান।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ২২ ফেব্রুয়ারির পর আরও ১০ থেকে ১৪ দিন সময় নেয়া হবে। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলেও সরকারের দেয়া ১১ দফা বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মানতে হবে। নতুন করে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়া হবে না।

উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমণ রোধে গত ১৩ জানুয়ারি থেকে ১১ দফা বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। এরপর ২১ জানুয়ারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধসহ নতুন করে ৫ দফা নির্দেশনা দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তাতে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর আরও দুই সপ্তাহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। যা শেষ হচ্ছে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি।

ঠাকুরগাঁওয়ে বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলায় বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নুরুল হক (৫৫) নামে  গলায় ফাঁস লাগা এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ঘটনার দিন ভোরে সদরের রুহিয়া ইউনিয়নের মধুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। নুরুল হক মধুপুর কুড়ালিপাড়া গ্রামের মৃত: উসমান আলী ছেলে।

রুহিয়া থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত নুরুল হক বুধবার ভোর ৫ টায় দিকে বাসা থেকে ৫০০ ফিট পশ্চিমে আম গাছের ডালে শাড়ি বেঁধে গলায় ফাঁস দেন।  খবর পেয়ে রুহিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শাড়ি কেটে মৃত অবস্থায় নুরুল হকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

স্বজনদের দাবি, নিহত নুরুল হক বেশ কয়েক বছর ধরে মানসিক অসুস্থ ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তাকে চিকিৎসাও করানো হয়। এর আগেও তিনি কয়েক বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।

রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) মো. সহিদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কমলগঞ্জের ধলই নদীতে বিষ প্রয়োগ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করছে কিছু দুর্বৃত্তরা। অদ্য রোজ মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার সময় ধরে দেখা যায় ধলই নদীতে কিছু দুর্বৃৃত্তরা বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করেছে এবং দেখা যায় স্থানীয়রা মাছ সংগ্রহ করার জন্য হুমড়ি খাচ্ছে নদীতে মাছ মজুদ করতে।

স্থানীয় সূত্রে মতে জানা যায়, কে বা কারা নদীতে বিষ প্রয়োগের ফলে অনেক মাছ মারা গেছে। এতে নদীর তলদেশ থেকে মাছ মরে ভেসে উঠছে। আর এসব মরা মাছ সংগ্রহ করতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে স্থানীয় লোকজন।

স্থানীয়রা লোকজন জানায়, সোমবার রাতের আঁধারে একশ্রেণির মৎস্য শিকারি ধলাই নদীর উজানে বিষ প্রয়োগ করে। আর এতে মঙ্গলবার সকাল থেকে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মরা মাছ ভেসে উঠতে দেখা গেছে। এসব মরা মাছ বিষাক্ত জানার পরও লোকজন তা ধরতে মশারি জাল নিয়ে নদীতে নেমে পড়েছে। প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকায় নদীর মাছ ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্য মরে ভেসে উঠেছে।

কমলগঞ্জের বাসিন্দা পরিতুষ শর্মা বলেন, প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে ধলাই নদীতে বিষ ঢেলে মাছ শিকার করা হয়। কিন্তু যারা এসব কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা না নেওয়ায় দুর্বৃত্তরা প্রতিবছর বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মাছ ধরেই যায়।

বিষ মেরে ভেসে উঠা মাছ ধরে নিয়ে রান্না করে খেলেও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এম, মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া।

তিনি আরো বলেন, মাছ মারা শাস্তিযোগ্য একটি অপরাধ। আর বিষে মরা মাছ রান্না করে খেলেও পেটের পীড়াসহ নানা রোগও হতে পারে। কারণ বিষ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর একটি উপাদান। আর এ উপাদান দিয়ে মারা মাছ খেলেতো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতি হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শহিদুর রহমান বলেন, আমার বিষয়টি জানা ছিল না, কেউ আমাকে এমন তথ্য দিয়েও সহযোগিতা করেনি। সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। তবে সরেজমিন তদন্ত করে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও মৎস্য বিভাগ মিলেই ধলাই নদী বিষ ছাড়া বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, এটি একটি কঠিন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ধলাই নদীর পানিতে বিষ ছাড়ার বিষয়ে তিনি জানেন না। তবে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে সরেজমিন তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের তিনি নির্দেশ দিবেন বলে জানান।

“রণাঙ্গনে বীরাঙ্গনা”বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন জেলা প্রশাসক

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক সভাকক্ষে গত মঙ্গলবার ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঠাকুরগাঁওয়ের মহিলা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান শেষে ঠাকুরগাঁও জেলার ১৮ জন মহিলা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে হাতে একটি করে বইয়ের সৌজন্য কপি তুলে দিয়ে ”রণাঙ্গনে বীরাঙ্গনা” বইটির  মোড়ক উন্মোচন করেন জেলা প্রশাসক মো. মাহাবুবুর রহমান।

এসময় ওই বইয়ের লেখিকা ডাঃ নাসিমা আক্তার জাহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জনাব, মোঃ মামুন ভুইয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) জনাব, মির্জা আহম্মেদ বেগ। জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী ও পৌর কাউন্সিলন জনাব, ধ্রোপদি আগারওয়ালা, জেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বদরুদ্দোজা বদর, জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম স্বপন, রাণীশংকৈল উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ শেফালি বেগম, বিটিভি জেলা প্রতিনিধি মাসুদ রানা পলকসহ জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই আজ আমাদের মাঝে নেই। এই মহিলা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তাদের বীরত্বগাথা তুলে ধরার প্রয়াসে এই বইটির বহি:প্রকাশ এমনটিই জানান, লেখিকা ডাঃ নাসিমা আক্তার জাহান।

বর্তমান সরকার বীরঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধার সম্মান প্রদান করে গ্রেজেট করে ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা করে দিয়েছেন বলে বক্তরা জানান।

প্রসঙ্গত: বইয়ের লেখিকা ডা: নাসিমা জাহান বর্তমানে সহকারী পরিচালক(সিসি) ও ডিস্ট্রিক্ট কনসালটেন্ট (এফপিসিএস-কিউআইটি) হিসেবে ঠাকুরগাঁও জেলায় কর্মরত আছেন।

আমরা কি ঐক্যবদ্ধ হতে পারিনা?

নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবং সংগঠন তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাব করেছে সার্চ কমিটির কাছে। কয়েকটি দল আগেই বলে দিয়েছে তারা কোন নাম প্রস্তাব করবেনা। কারন তারা এই সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনেই অংশ নিবেনা। তারপরেও মাত্র ৩২২ জনের নাম জমা পরেছে সার্চ কমিটির কাছে। এই ৩২২ জনের মধ্য থেকে সার্চ কমিটি ১০ জনের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি একজনকে প্রধান করে ৪ অথবা ৫ জনের একটি নির্বাচন কমিশনের ঘোষনা দিবেন। কিন্তু ৫ জনের এই কমিশন গঠনের জন্য ৩২২ জনের নাম প্রস্তাব করতে হল কেন?

যারা স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন দাবী করে আসছেন তারা সকলেই শিক্ষিত এবং গুনিজন। প্রত্যেকেই সার্চ কমিটির কাছে নিজ নিজ পছন্দের ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করেছেন। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের পর এরাই আবার অভিযোগ করবেন। বলবেন কমিশন সরকারের অনুগত এবং পুর্বনির্ধারিত। বি এন পি এখন থেকেই অভিযোগ করছে। টেলিভিশনে টক’ শো’র নতুন উপাদান যুক্ত হবে, বিভ্রান্ত হবে মানুষ। এভাবে আর কতদিন? জাতীয় প্রয়োজনে অন্তত একটিবার আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারিনা?

আজিজুর রহমান প্রিন্স, কলামিস্ট, টরন্টো, কানাডা।

ঠাকুরগাঁওয়ে বালিয়াডাঙ্গীতে প্রাণী প্রদর্শনী মেলা অনুষ্ঠিত

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলাতে দিনব্যাপি উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর ও ভেটেনারী হাসপাতালের উদ্যোগে গবাদি পশু ও পাখি প্রাণীর প্রদর্শনী মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকালে লাহিড়ী বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বালিয়াডাঙ্গী  উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ যোবায়ের হোসেনের সভাপতিত্বে গবাদি পশু প্রাণী প্রদর্শনী মেলার উদ্বোধন করা হয়। বালিয়াডাঙ্গী প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর ও ভেটেনারী হাসপাতালের উদ্যোগে এ মেলায় অর্ধশতাধিক স্টল বসে। মেলায় দেশী ও বিদেশী জাতের গবাদি পশু ছাড়াও হাঁস মুরগি সহ নানা জাতের পাখি নিয়ে ষ্টলে অংশ নেয় খামারিরা।

এসময় শ্রেষ্ঠ খামারিদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আমিষের চাহিদা পুরনের পাশাপাশি বাণিজ্যিক প্রসার ঘটাতে প্রদর্শনী মেলার মাধ্যমে খামারিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ নাসিরুল ইসলাম জানান,সাধারণ মানুষ গবাদি পশু পালনে বিভিন্নি প্রযুক্তি সমন্ধে জানতে পারবে, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান বাড়বে।নিরাপদ প্রাণীজ আমিষ ও পুষ্টির চাহিদা পূরনে ভূমিকা রাখবে। এ থেকে খামারিরা উদ্ভুদ্ধ হবেন এবং খামারের প্রসার ঘটবে।

প্রাণী প্রদর্শনী উদ্বোধনী মেলায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার যোবায়ের হোসেন, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা নাসিরুল ইসলাম, ভেটেনারী সার্জন ডাঃ জাহাঙ্গীর আলম,প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নিয়ামুল শাহাদাত, উপজেলা কৃষি অফিসার সুবোধ চন্দ্র রায়, উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম, উপজেলা সমবায় অফিসার নাজমুল হুদা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুর রহমানসহ প্রাণী সস্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেরপুরে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীর উদ্বোধন

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (রাজশাহী প্রতিনিধি) : ’প্রাণিসম্পদে সমৃদ্ধ দেশ শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার প্রাণিসম্পদ আয়োজনে ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের সহযোগিতায় প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী ২০২২ উদ্বোধণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা: মোঃ রায়হান পিএএ সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য বগুড়া-০৫ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মোঃ হাবিবর রহমান।

উপজেলা কৃষিবিদ সানজিদা হকের সঞ্চালনায় ও ডা: মোঃ গাউসুর রহমান আলাল এর প্রাণি উন্নয়ন তথ্যচিত্র উপস্থাপনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ডিরেক্টর জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র বগুড়ার ডা: সাজেদুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহজামাল সিরাজী, শেরপুর থানা অফিসার্স ইনচাজ মোঃ শহিদুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সনাতন চন্দ্র সরকার, কৃষিবিদ কল্পনা রায়, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো: মাসুদ রানা সরকার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসা: জান্নাতুল ফেরদৌস, ডেইরি ওলাম এসোসিয়েশন সভাপতি বদরুল ইসলাম পোদ্দার ববিসহ প্রাণীসম্পদ অফিসের কর্মকর্তা বৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও গ্রাণিসম্পদের বিভিন্ন শ্রেনির উদ্যোক্তা বৃন্দ।

প্রদর্শনীতে ছোট বড় প্রায় ৫০টি স্টল অংশগ্রহণ করেন। বিচারক কমটির মূল্যায়নের ভিত্তিতে ৩ ক্যাটেগরিতে ৯জন ও একটি বিশেষ স্টল কে সম্মানী চেক, সম্মাননা সনদ, ক্রেস্টসহ সকল অংশ গ্রহনকারীদের সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

প্রথমবারের মতো মদ নিয়ে বিধিমালা করলো সরকার

সিএনবিডি ডেস্কঃ প্রথমবারের মতো অ্যালকোহল বা মদ উৎপাদন, কেনাবেচা, পান করা, পরিবহন, আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে নিয়মনীতি স্পষ্ট করে বিধিমালা করেছে সরকার। এই বিধিমালায় ২১ বছরের কম বয়সীদের জন্য মদ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। একই সঙ্গে অ্যালকোহল বা মদ সেবন এবং ব্যবহারের জন্য সরকারের অনুমতি নিতে হবে।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’ এর আওতায় ‘অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২২’ জারি করা হয়েছে।

এর আগে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’, ‘অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ (লাইসেন্স ও পারমিট ফিস) বিধিমালা ২০১৪’, ‘মুসলিম প্রহিবিশন রুল ১৯৫০’ ও ‘এক্সাইজ ম্যানুয়াল (ভল্যুম-২)’ ও বিভিন্ন নির্বাহী আদেশ দিয়ে অ্যালকোহল সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়মের আওতায় আনা হতো। এতে অনেক ক্ষেত্রে ছিল অস্পষ্টতা। বর্তমান বিধিতে জটিলতা মুক্তভাবে আইন প্রয়োগ করা যাবে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, কোথাও কমপক্ষে ১০০ জন মদের পারমিটধারী থাকলে ওই এলাকায় অ্যালকোহল বিক্রির লাইসেন্স দেওয়ার অনুমতি পাওয়া যাবে। এছাড়া বার বা মদের দোকান খোলার সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তবে শুক্রবার, মহররম, শবে বরাত, ঈদে মিলাদুন্নবী, শবে কদরসহ মুসলমানদের ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে বন্ধ রাখতে থাকবে মদের দোকান। অপর দিকে ২১ বছরের কম বয়সের ব্যক্তিকে মদ্যপানের লাইসেন্স দেওয়া হবে না। আর যে সব এলাকায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী থাকবে সেখানে চোলাইমদের মহালের সংখ্যা ও অবস্থান নির্ধারণ থাকবে। এর বাইরে চা বাগানের শ্রমিকদের মদ্যপানের অনুমতি থাকবে।

তবে বিধিমালায় নতুন করে বেঁধে দেওয়া হয়েছে লাইসেন্স ও অনুমোদন ফি এবং এগুলোর নবায়ন ফি। সর্বনিম্ন ফি ১৫০ টাকা, আর সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা। ডিস্টিলারি স্থাপনের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। দেশি মদ্যপানের অনুমোদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা। বিলাতি মদ্যপানের অনুমোদন ফি তিন হাজার টাকা।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন বলেন, লাইসেন্সিং, অ্যালকোহল উৎপাদন, বিক্রি, ব্যবহার, পরিবহন, আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা ছিল এতদিন, এবার তা স্পষ্ট করা হয়েছে। অ্যালকোহলের ক্ষেত্রে অনেক ফি আপডেট করা হয়েছে। এতে ব্যবস্থাপনাটা সহজ হবে, দূর হবে অনিয়ম। যারা লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ তাদের কাজেও সুবিধা হবে। সবগুলো বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে বিধিমালায়।

তিনি বলেন, এই বিধিমালার কাজ অনেক দিন আগেই শুরু হয়েছিল। ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী এই বিধিমালা করা হয়েছে। কার কী দায়িত্ব, কী ভূমিকা, কে কী করতে পারবে, না পারবে- সবকিছু বিস্তারিতভাবে বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন বিধিমালায় বলা হয়েছে, অ্যালকোহল আমদানি ও রপ্তানি; অ্যালকোহল উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ; অ্যালকোহল সরবরাহ, বিপণন ও ক্রয়-বিক্রয় এবং অ্যালকোহল সংরক্ষণ, গুদামজাত করণের ক্ষেত্রে লাইসেন্স নিতে হবে।

এছাড়া বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া দোকান, বার বা অ্যালকোহল ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত স্থানে বিনোদনমূলক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না। বিধিমালা অনুযায়ী, বার বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। তবে লেট ক্লোজিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে রাত ২টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।

মৌলভীবাজারে বোরো চাষে সাফল্য দেখছে কৃষি বিভাগ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে গেল বছর জুড়ে ধানের ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় চলতি মৌসুমে ব্যাপকভাবে বোরো আবাদে নেমেছেন কৃষকরা। বোরো চাষাবাদকে ঘিরে মাঠে মাঠে চলছে চারা রোপনের কাজ।

মৌলভীবাজারে বসবাসকারীদের সিংহভাগ জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার একমাত্র উপায় কৃষিকাজ। আধুনিকায়ন ও যান্ত্রিক নির্ভর হয়ে পূর্ব পুরুষের এই পেশাকে ধরে রেখে সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখছেন কৃষি নির্ভর মানুষ গুলো। গেল বছর ধানের দাম ভালো পাওয়ায় এ বছরও অনেকেই আগের চেয়ে বেশী জমি আবাদ করছেন। উৎপাদন খরচ কমাতে অনেক স্থানে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে চারা রোপনের কাজ চলছে।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আজমেরু এলাকায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাজী লুৎফুল বারী রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষক ও খামারী সৈয়দ উমেদ আলীর জমিতে চারা রোপনের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি অফিসার সুব্রত কুমার দত্ত, স্থানীয় কৃষক ও রাইস ট্রান্সপ্লাটার মালিক সৈয়দ হুমায়েদ আলী শাহীন, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার নিরোজ কান্তি রায় প্রমুখ।

স্থানীয় কৃষক ও খামারী সৈয়দ উমেদ আলী জানান, গত বছর ৪০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেন। ভালো ফলন ও ধানের ভাল দাম পাওয়ায় চলতি বোরো মৌসুমে ৮০ বিঘা (কেয়ার) জমিতে ব্রি ধান ৮৯, ৯২ ও হাইব্রিড জাতের ধানীগোল্ড, সিনজেন্টার ১২০৩ ধান চাষ করেছেন। রাইস ট্রান্সপান্টারের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলক ভাবে ২০ থেকে ৩০ দিনের চারা রোপন করছেন। এতে করে শ্রমিক কম লাগায় একারনে উৎপাদন খরচ কমে যাবে। অবশিষ্ট জমিতে পূর্বের পদ্ধতিতে হাতে চারা রোপন করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী জানান, মৌলভীবাজার জেলায় এ বছর ৫৬ হাজার ৮শত হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৩৭৭ হেক্টর বেশী। ৯০ ভাগ চারা রোপন কাজ শেষ হয়েছে। তিনি আশা করছেন এবছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী আবাদ ও ফসল ভাল হবে।

এ অঞ্চলে শ্রমিকের সংকট রয়েছে, সে কারণে কৃষি বিভাগ ভর্তুকি মূল্যে রাইস ট্রান্সপান্টার অর্থাৎ যন্ত্রের সাহায্যে চারা রোপনের যন্ত্র ভর্তুকি মূল্যে দেয়া হয়েছে। উৎপাদন খরছ কমাতে অনেক স্থানে রাইস ট্রান্সপান্টারের মাধ্যমে চারা রোপনের কাজ চলছে। যেখানে ১ বিঘা জমিতে হাতে চারা লাগাতে ২০০০ টাকা লাগে। সেখানে ১ বিঘা জমি মাত্র ৫‘শ টাকা খরচে চারা লাগানো সম্ভব হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ধানের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে কৃষকদের। পাশাপাশি তারা মানসম্পন্ন খুচরা কৃষি যন্ত্রাংশ সুলভ মূল্যে পাওয়ারও দাবী করেন কৃষকরা।

নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়ছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। নতুন কয়েকজন ডাক্তারকে পদায়ন করা হলেও কেউ কেউ চলে গেছেন মৌলিক প্রশিক্ষণে। অনেকে আবার যোগদানের কয়েক মাসের মধ্যেই আছেন প্রেষণে। যেসব ডাক্তার আছেন তারা হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসা সেবা দিতে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে,  চিকিৎসকের ২১টি পদের মধ্যে  আছে মাত্র ৯ জন। তার মাঝে ৩ জন মৌলিক প্রশিক্ষণ কোর্সে আর মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। ৫ জন ডাক্তার দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে চিকিৎসা ব্যবসা। কনসালটেন্ট, গাইনী, সার্জারী, অর্থোপেডিক্স, মেডিসিন সহ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন যাবৎ খালি। জুনিয়র কনসালটেন্ট পদে ২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পদায়ন করা হয় ডাক্তার ফৌজিয়া মমতাজকে।  তিনিও প্রেষণে জেলা সদর হাসপাতালে চলে গেছেন।

এছাড়া প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও সার্জনের অভাবে বন্ধ হয়ে আছে অপারেশন থিয়েটার। যার ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নাসিরনগর সহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলা থেকে আসা সাধারণ রোগীরা। হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে রোগীর দীর্ঘ লাইন। অনেকেই ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসা না নিয়েই চলে যাচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার অভিজিৎ রায়ের সাথে যোগাযোগ করে চিকিৎসক সংকট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ একরামুল্লাহর সাথে যোগাযোগ করে চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ হাসপাতালের সেবার মান অনেক ভাল। নতুন করে দ্রুত চিকিৎসক পদায়ন করে সংকট সমাধানের  ব্যাপারে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।