মুরাদনগরে সাজাপ্রাপ্তসহ বিভিন্ন মামলার ১৪ আসামী আটক

এম শামীম আহম্মেদ, কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধি : কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় সাজাপ্রাপ্ত, ওয়ারেন্ট ভূক্ত, ডাকাতি ও মাদকসহ বিভিন্ন মামলার ১৪ জন আসামীকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত আসামী হলো ৬ জন,  ডাকাত ২ জন, মাদকসহ মাদক মামলায় ৪ জন ও ওয়ারেনট ভূক্ত ২জন রয়েছে।
শনিবার বিকেলে আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা জেল হাজতে প্রেরণ করে মুরাদনগর থানা পুলিশ।
আটককৃতদের মধ্যে ৭ বছর সাজাপ্রাপ্ত আসামী উপজেলার দারোরা গ্রামের আ: রশিদের ছেলে জসিম, ২ বছর সাজাপ্রাপ্ত আসামী উপজেলার বোরারচর গ্রামের সিরু মিয়ার ছেলে কামাল উদ্দিন, ১ বছর ১০ মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামী মধ্যনগর গ্রামের মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে জালাল, ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামী ভূনঘর গ্রামের সামাদ মিয়ার ছেলে এরশাদ ও নোয়াগাঁও  উত্তর পাড়া গ্রামের মৃত তফাজ্জল হোসেনের ছেলে বকুল হোসেন, ১ মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামী উৎরাই গ্রামের রোছমত আলীর ছেলে মোবারক হোসেন, ওয়ারেন্ট ভূক্ত আসামী কদমতলি উত্তর পাড়া গ্রামের জারু মিয়ার ছেলে সামছুল হক (২৮) ও বাখরনগর গ্রামের মহরম আলীর ছেলে আ: করিম (৩২), ডাকাতি মামলায় আটক বোরারচর গ্রামের মৃত শহিদ হোসেনের ছেলে কবির হোসেন ও ধামঘর গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে ইব্রাহীম (২৫), ৩ কেজি গাজাঁসহ আটক রহিমপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে হাবিব (২৪), ১ কেজি গাজাঁসহ আটক ঢাকার মুগদা থানার মান্ডা এলাকার আব্দুল আজিজের ছেলে আবুল বাসার রাসেল (২০), একই এলাকার রুস্তম আলীর ছেলে মাহিদ হাসান(১৯) ও মৃত মোমিন মিয়ার ছেলে আব্দুল মজিদ (২০)।
এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আবুল হাসিম বলেন, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত চট্টগ্রামসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেও আটক করা হয়। সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়।
আটককৃত সকল আসামীদের শনিবার বিকেলে কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

প্রতিবন্ধীকে ঘর তৈরি করে দিলো টিকটকার

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: সামাজিক অবক্ষয়ের আরেক নাম টিকটক। ছোট ভিডিও তৈরির জন্য তরুণ-তরুণীদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় এই অ্যাপসের কারণে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও অনেক ক্ষেত্রে এই এপসের কারণে হচ্ছে কল্যাণও। টিকটকে যারা ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করে তাদের বলা হয় টিকটকার৷ সমাজে টিকটকারদের বখে যাওয়া বাজে দৃষ্টি ভঙ্গিতে তরুণ-তরুণী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়৷ তাদের অনেক কুরুচিপূর্ণ ও বিতর্কিত কন্টেন্টের কারণে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যার ফলে এই টিকটকাররা অনেক সময় পত্রিকার নেতিবাচক খবরের শিরোনাম হন দেখা মিলে৷
তবে সমাজের চোঁখে বখে যাওয়া টিকটকারদের কারনে হচ্ছে সমাজের কল্যাণও ৷ তেমনি এক কল্যাণজনক কাজ করছেন মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার টিকটকাররা। তাদের সহযোগিতায় পাকা ঘর পাচ্ছে মৌলভীবাজারের বড়লেখার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মুন্না নামের এক অসহায় যুবক৷ তারা নিজেরা দেশ বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তাকে দুই রুমের একটি পাকা ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন। নিজেদের তথ্যাবধানে তৈরি হচ্ছে সেই ঘর।
সংলিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বড়তল গ্রামের মৃত মজম্মিল আলীর ছেলে মুন্না ৷ পুরো নাম মুন্না আহমদ। জন্মের পর থেকেই মুন্না বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। টিকটক মুন্না হিসাবে যার পরিচিত সবখানে। টিকটক মুন্না নাম বললেই মোটামুটি অনেক মানুষেই কাছে পরিচিত এবং সবাই তাকে চিনেন। টিকটকের কল্যাণে রাতারাতি যার পরিচিত ছাড়িয়ে গেছে দেশ বিদেশে। মুলত টিকটকাররা তার সাথে ভিডিও তৈরি করে টিকটক অ্যাপে আপলোডের মাধ্যমে তার পরিচিত বৃদ্ধি পায় ৷ তার অগোছালো মজার মজার সংলাপ মানুষকে বিনোদিত করে৷ যার ধরুন তার ভিডিও গুলো সহজেই টিকটকে ভাইরাল হয়৷ বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিনিয়ত টিকটকাররা তার সাথে টিকটক ভিডিও বানাতে তার বাড়িতে ছুটে আসেন। তবে সবার প্রিয় এই টিকটক মুন্নার পারিবারিক অবস্থা করুন। সদা হাস্যোজ্জ্বল মুন্নার থাকার নেই নিজের কোন ঘর। থাকেন ছোট ভাইয়ের সাথে। আর তাই মুন্নার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তাকে নিয়ে টিকটক ভিডিও তৈরি করা টিকটকাররা৷ নিজেরা অর্থ সংগ্রহ করে তৈরি করে দিচ্ছেন পাকা বাড়ি ৷ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে মুন্নার পাকা ঘর তৈরির কাজ।
সরেজমিনে মুন্নার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, রাজমিস্ত্রীরা কাজ করছেন। বর্তমানে ঘরের বেজমেন্টের কাজ চলছে। পাঁচ ছয়দিন থেকে কাজ শুরু হয়েছে। এক সাথে তিনজন মিস্ত্রি কাজ করছেন৷ দুই রুম, রান্না ঘর এবং একটি বাথরুম তৈরি করা হবে ৷ ঘরের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে তিন লক্ষ টাকা ৷
এসময় কথা হয় মুন্নার বড় ভাই আলতাফ হোসেনের সাথে তিনি বলেন, মুন্নার সাথে যারা টিকটক ভিডিও তৈরি করেন তারা মুন্নাকে একটি ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন। পাঁচ ছয়দিন থেকে কাজ শুরু হয়েছে৷ আমি টিকটকারদের ধন্যবাদ জানাই। তারা আমার ভাইয়ের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তারা বলেছে ঘর বানানোর পর মুন্নাকে তারা বিয়েও দিয়ে দিবে।
বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মুন্না বলেন, আমার ঘরের কাজ চলছে ৷ রাজমিস্ত্রীরা কাজ করছেন ৷ আমার ঘর তৈরি করতে দেশ বিদেশের ভাই বন্ধুরা যারা সহযোগিতা করছেন আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই ও দোয়া করি।
এ বিষয়ে ৮নং সুজানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদরুল ইসলাম বলেন, মুন্নাকে টিকটকাররা ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন এটা নিসন্দেহে ভালো কাজ৷ তার নিজের কোন ঘর নেই এবার তার নিজের একটি ঘর হবে এজন্য ধন্যবাদ তাদেরকে যারা তাকে সহযোগিতা করছেন৷
তিনি আরও বলেন, আমি শুনেছি মুন্নাকে দিয়ে অনেক কুরুচিপূর্ণ সংলাপ বলানো হয় ৷ এটা খুব খারাপ জিনিস। সে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী, কি বলছে তার নিজের কোন খেয়াল নেই ৷ তাকে দিয়ে যা বলানো হচ্ছে তাই সে ঠিক ভুল না ভেবে বলে যাচ্ছে। তাকে নিয়ে যারা কুরুচিপূর্ণ ভিডিও বানায় তাদেরকে অনুরোধ করবো এমন ভিডিও যেনো তারা না তৈরি করে ৷ এতে সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের ক্ষতি হয়।

ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের নবগঠিত কমিটির সভাপতি- এমদাদুল হক মিলন ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বেলাল

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের নুতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ টায় ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে দৈনিক সকালের সময় ও দৈনিক প্রথম খবর পত্রিকার ফুলবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ এমদাদুল হক মিলন কে সভাপতি এবং দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার ফুলবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ রবিউল ইসলাম বেলালকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই বছর মেয়াদী ০৯ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সহ- সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (দি নিউ নেশন), যুগ্ন সম্পাদক মোঃ নবিউল ইসলাম (আলোকিত বাংলাদেশ), সাংগঠনিক সম্পাদক অনীল চন্দ্র রায (দৈনিক ইত্তেফাক), কোষাধ্যক্ষ মোঃ ফরহাদ হোসেন টুকু (দৈনিক জনতা), দপ্তর সম্পাদক এইচ এম বাবুল (এশিয়ান এক্সপ্রেস), ক্রীড়া সম্পাদক লুৎফর রহমান বাবু (সংবাদ),  এবং কার্য নির্বাহী সদস্য মোঃ সিরাজুল ইসলাম হিরু (দৈনিক কুড়িগ্রাম খবর)।

জঙ্গলে ফিরে গেলো ঠাকুরগাঁওয়ে জীবিত উদ্বারকৃত রেড কুরাল কুকরি

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বালিয়া গ্রাম  থেকে রেড কোরাল কুকরি সাপটি জীবিত উদ্ধারের পর জঙ্গলে অবমুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ শিংড়া বনে (শালবন) সাপটি ছেড়ে দেয় জেলা বনবিভাগ।

ঠাকুরগাঁও বনবিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাদেকুর ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বনবিভাগ সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বালিয়া গ্রামের স্থানীয় জয়নাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি জালের ফাঁদ পেতে রেড কোরাল কুকরি সাপটি ধরেন। পরে বন বিভাগকে খবর দেওয়া হয়। আজ দুপুরে জঙ্গলে সাপটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বনে অবমুক্ত করার সময় সাপটি স্বাভাবিক ছিল বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও বনবিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাদেকুর ইসলাম।

এর আগেও এ জেলায় একটি মৃত রেড কোরাল সাপ পাওয়া গিয়েছিল। কোদালের কোপে ওই সাপটি দ্বিখণ্ডিত হয়ে গিয়েছিল । তবে এই প্রথম জীবিত অবস্থায় রেড কোরাল কুকরি সাপ উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করলো বনবিভাগ।

মৌলভীবাজার থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৩জন গ্ৰেফতার

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার সদর থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন সহ শীতকালীন চুরি, ডাকাতি রোধকল্পে এবং গ্রেপ্তারী ও সাজা পরোয়ানা ভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্তে বিশেষ অভিযান উপলক্ষ্যে মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া এর নির্দেশক্রমে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইয়াছিনুল হক এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে, সদর মডেল থানা পুলিশের ২ (দুই)) টি সাদা পোশাকের দল বিশেষ আভিযানিক দল সহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সহায়তায় থানা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় অদ্য শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিশেষ অভিযান পরিচালানা করে ৬জন সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানাভুক্ত আসামী মোস্তাক আহমদ, পিতা-মৃত রফিক বক্স, মোঃ ফারুক আহমদ, পিতা-মৃত আব্দুল জব্বার, আব্দুল হান্নান, পিতা-মৃত আব্দুল গনি, মোঃ ফয়জল হক, পিতা-মোঃ মোজাম্মেল প্রকাশ মোঃ মোজাম্মেল হক, মোঃ সিরাজুল ইসলাম শিপন, পিতা-আব্দুর রাজ্জাক, মোঃ সিরাজুল ইসলাম শিপন, পিতা-আঃ রাজ্জাক, আসামিদের মৌলভীবাজারসহ ৫জন গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ভুক্ত আসামী নুরুল ইসলাম, পিতা-আব্দুল বশির, আফতাব মিয়া, পিতা-মৃত রমজান মিয়া, মোঃ ইব্রাহিম মিয়া, পিতা-আব্দুর রহিম, মহসিন মিয়া, পিতা-তাহির উল্লাহ, ইবাদুল মিয়া, পিতা-ফুল মিয়া, সহ ১১ (এগার) জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাছাড়াও ধর্ষন মামলার আসামি সৈয়দ মাহির জামিল রাহি (২৫), কুলাউড়া থানার গুপ্তগ্রামের সৈয়দ রজব আলীর ছেলে। এদিকে মাদক ব্যবসায়ী মোঃ ইব্রাহিম মিয়াকে ২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ গ্ৰেফতার করা হয়। ব্যবসায়ী মোঃ ইব্রাহিম মিয়া, গুলবাগ ,বেরিরচর আব্দুল রহিম এর ছেলে।
আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। সাজাও পরোয়ানাভুক্ত আসামী সহ সর্বমোট ১৩জন আসামীকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শীতকালীন চুরি, ডাকাতি প্রতিরোধ ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার নিমিত্তে “টিম মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা” পুলিশ বদ্ধপরিকর। বিশেষ অভিযান পরিচালনা অব্যাহত আছে।

প্রতিনিয়ত অত্যাচারের শিকার এক পিতার আর্তনাদ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় সন্তানের হাতে প্রতিনিয়ত অত্যাচারের শিকার কৃপাময় চক্রবর্তী (বেনু ঠাকুর)। তাঁর বয়স ৮৫ বছর। তাঁর ছেলে কৃষ্ণপদ চক্রবর্তী (সুমন) দ্বারা নির্যাতিত হয়ে তিনি এখন পর্যন্ত জনপ্রতিনিধি এবং থানাতে গিয়ে মামলার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন রকম প্রতিকার পাননি।

কৃপাময় চক্রবর্তী আরো বলেন, আমার সন্তান সুমন ১৯৯৯ সন থেকে শুরু করে এস সি পরীক্ষার ৬ বার দেন ৩ বার বুরুঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ও ,বাংলা বাজার উচ্চ বিদ্যালয় ৩ বার দিয়ে ও পাশ করতে পারে নি। তার পর নিজ অর্থে দোকান ইত্যাদি ভেরাইটিজ ষ্টোর নামক প্রতিষ্ঠান দিয়ে দেই। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই গাফলা নামক (জুয়া) খেলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুইয়ে দেয়। তার পর আবারো ব্যবসার জন্য চাপ দিতে থাকে। পরিবারে নিয়মিত মা বাবার উপর শারীরিক নির্যাতন প্রতিনিয়ত করে আসছে। এমন নির্যাতন, জ্বালা সহিতে না পেরে নিজ অর্থে আবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করে দেই। জনপ্রতিনিধি দের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ও কোন ফল পচ্ছিনা। বৃদ্ধ বয়সে আর সইতে পারছি না, সুমনের পেছনে অদৃশ্য শক্তি ও একজন শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে এজন্য আমার বিষয়ে কেউ পাত্তা দেয় না। আমার সন্তান তার মধ্যে নেশা করা শুরু করে দেয়। এজন্য আরো বেশী টাকার জন্য শারীরিক নির্যাতন বেশি করে। এখন মৃত্যু হলে ভালো মনে করি।

কাজিপুরে বালুবাহী ট্রাক চাপায় নারীর পা দ্বিখণ্ডিত

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (রাজশাহী প্রতিনিধি) : সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে বালুবাহী ট্রাক চাপায় রুনা আক্তার নামের এক নারীর পা দ্বিখন্ডিত হয়েছে। রুনা উপজেলার আলমপুর গ্রামের আবু কাউসার রিপনের স্ত্রী। শুক্রবার (১১ ফ্রেবুয়ারি) দুপুরে পৌরসভার আলমপুর চৌরাস্তা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আলমপুর চৌরাস্তায় সোহানা মটর সাইকেল মেকারের দোকানের সামনে দ্রুতগতির বালুবাহী একটি ট্রাক (নম্বর- ঢাকা মেট্রো ট ২০-৭৭২৪) রাস্তার পাশে দাঁড়ানো ওই নারীকে চাপা দেয়। এতে তার ডান পা গোড়ালী থেকে আলাদা হয়ে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে ঘাতক ট্রাকের চালক ট্রাকটি রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা মারাত্মক আহত ওই নারীকে উদ্ধার করে কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে যায়। এসময় সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে সেবার পরামর্শ দেন। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে যায় স্বজনরা।

ঠাকুরগাঁওয়ে বাবার হাতে শিশু কন্যা খুন

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলায় জান্নাতুল ফেরদৌস নামে আড়াই বছরের এক কন্যা শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবা জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ঘাতক জাকির হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের সরকার পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুর রহমান জানান, চার বছর আগে বিয়ে করে কৃষক জাকির হোসেন। এরপর তাদের সংসারে জান্নাতুল ফেরদৌস জন্ম নেয়। কয়েক মাস থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। সেই সূত্র ধরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

তিনি আরো জানান জাকির হোসেন নিজের মেয়ের পেটে কাঁচি ঢুকিয়ে হত্যা করেছে। হত্যার ঘটনা নিজে স্বীকার করেছে জাকির।

এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এবং নিহত শিশুর লাশ ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আরও সত্য বেরিয়ে আসবে।

মুরাদনগরে এবার সরিষায় বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ মুরাদনগর উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ উন্নত জাতের বীজ চাষ হওয়ায় সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। কুমিল্লার মুরাদনগরে অধিকাংশ সরিষাক্ষেতে ফুল ফুটেছে। সুন্দর বীজও আসতে শুরু করেছে। এতে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন চাষিরা। লাভের আশায় তাদের মুখে এখন হাসি। বিভিন্ন উপজেলায় জমির পর জমিতে সরিষার আবাদ দেখা গেছে। মাঠের পর মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য। ফুলে মধু আহরণে ভিড় করছে মৌমাছি। আমন ফসল ঘরে তোলার পর স্বল্প সময়ে সরিষা একটি লাভজনক ফসল হওয়ায় এখন বাণিজ্যিকভাবে সরিষা চাষ অতিরিক্ত ফসল হিসেবে সরিষা চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ২৪ হাজার হেক্টর চাষাবাদি জমির মধ্যে গত বছর সরিষা চাষ হয়েছিল ৩ হাজার ৫শত হেক্টর জমিতে। এ বছর উপজেলা কৃষি অফিসের ৪ হাজার ৭’শ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের টার্গেট থাকলেও চাষের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৬১৭ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছর কৃষকরা উপজেলা সদর, করিমপুর, ইউছুফনগর, দিলালপুর, নেয়ামুতপুর, নোয়াগাও, কামাল্লা, রামচন্দ্রপুর, শ্রীকাইল, রোয়াচালা, কুড়াখাল, বড়িয়াচরা, মোহাম্মদপুর, দিঘিরপাড়, রগুরামপুর, পুষ্কনিরপাড়, চৈনপুর, মোচাগড়া, দেওরাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে টরি ৭, বারি ৯, ১৪, ১৫, ১৭, ১৮ ও বিনা ৪, ৯, ১০, ১৪, ১৫, ১৭, জাতের সরিষা চাষ করেছে। হেক্টর প্রতি সরিষা উৎপাদন হবে প্রায় ৭/৮ টন। প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সরিষা চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে করে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে ফুটেছে হাসির ঝিলিক।

করিমপুর মাঠের কৃষক লতু মিয়া বলেন, কয়েক বছর আগে তাদের জমি পরিত্যক্ত থাকতো, কিন্তু বর্তমানে উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে তারা এখন বোরো ধানের আগে জমিতে সরিষা চাষ করছেন। সরিষার ফুল মাটিতে পড়ে জমির উর্বরতা শক্তি বাড়ায়। তিনি আরও বলেন, আমি ১০ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। এত বিঘা প্রতি ৪/৫ হাজার টাকা খরচ করেছি। আশা করি তা থেকে প্রায় বিঘা প্রতি ৮ মন সরিষা পাওয়া যাবে, যার বাজার মূল্য হবে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। কম খরচ ও অল্প দিনের পরিচর্যার মাধ্যমে অধিক লাভবান হওয়া যায় সরিষা চাষে। তাই অন্যান্য সবজি চাষের পাশাপাশি কৃষকরা জমিতে সরিষা চাষ করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাইন উদ্দিন আহমেদ জানান, কৃষকদের যথার্থ পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য বছর ‘বারি ১৪’, ‘বিনা-৯ ও ‘বিনা-৪ জাতের সরিষা বেশি চাষ হতো। এ বছর চাষিরা যেন অধিক লাভবান হতে পারে সেজন্য ‘বারি ১৭’ এর পাশাপাশি প্রায় ৩শ জন চাষিকে সুপার কোয়ালিটি ‘বারি ১৮’ জাতের সরিষার বীজ দেওয়া হয়েছে। সারা দেশের ন্যায় কৃষকের মাঝে তেল ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় ৫৯টি ও ডাল, তেল, মসলা বীজ উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় ৯টি প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। অপর দিকে কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ সেবা দিয়েছেন। সরিষা কৃষকের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি ভোজ্য তেলের ঘাটতি পূরণেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে। কৃষকদের পরিশ্রম আর সরকারি কৃষি অফিসের সমন্বয়ে এ বছর সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

লাঠিটিলায় বৈদ্যুতিক তারে জরিয়ে চশমাপরা হনুমানের মৃত্যু

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলা বনের পাশের রাস্তায় বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে একটি চশমাপরা হনুমান বৈদ্যতিক শর্ট সার্কিটে মারা গেছে। বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এই খবর বনবিভাগ জানতে পেরেছেন। বুধবার রাতে কোনো এক সময় প্রাণীটি মারা যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এই বৈদ্যতিক তারে জড়িয়ে এর আগেও একটি চশমাপরা হনুমান ও একটি লজ্জাবতী বানর মারা গেছে বলে জানিয়েছেন বানর গবেষক তানভীর আহমদ সৈকত। তিনি বলেন, এখানে বৈদ্যুতিক তারে প্রলেপ দেওয়া প্রয়োজন। না হলে পৃথিবীব্যাপী বিপন্ন ও দেশে মহাবিপন্ন এসব প্রাণীর অপমৃত্যু থামানো যাবে না।

তিনি আরো জানান, সিলেটের বিভিন্ন বনে সর্বশেষ জরিফে প্রায় ৪০০ টি চশমাপরা হনুমান আমরা পেয়েছিলাম। আমাদের অভজারবেশনেও ছিল বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া বৈদ্যতিক তারের কারণে বানর মারা যাচ্ছে এবং বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া সড়ক পথে। তবে ২০১৮-১৯ সালের সংক্ষিপ্ত জরিপে ৮ টি গ্রুপে প্রায় ৭০ টি চশমাপরা হনুমান পাওয়া গিয়েছিল এই লাঠিটিলা বনে।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, আমি একটু আগে জেনেছি। বিস্তারিত খবর নিচ্ছি। এইবনে আরও প্রানী আছে যারা বৈদ্যতিক তারের উপর দিয়ে চলাচল করে। আমরা বিদ্যুৎ বিভাগকে সব সময় বলি বনের ভেতরের লাইনে রাবারের কাভার দিতে। আজ লাঠিটিলা নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে লিখিত দেব এবং এর জন্য একটি তরিত গতিতে কিছু একটা সমাধান প্রয়োজন।