প্রাচীন নিদর্শন ৬০০ বছরের পুরোনো তিন গম্বুজ মসজিদ

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁওঃ ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও প্রত্নসম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি সনগাঁও তিন গম্বুজ মসজিদ। এই তিন গম্বুজ মসজিদটি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নে অবস্থিত। স্থানীয়দের মতে  এই মসজিদটি কোন আমলে তৈরি তার সঠিক বর্ণনা নেই। তবে তাঁরা বংশপরম্পরায় জেনে এসেছেন যে প্রায় ৬০০ বছর আগে মোঘল সম্রাট শাহ আলমের সময়ে মুসল্লিদের ধর্ম প্রচার ও নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মসজিদটি নির্মাণের পর সুধিবাদ নামে এক পীর ধর্মচর্চা ও প্রচারের জন্য সনগাঁও এলাকায় আসেন। সেখানে তিনি নামাজ আদায় এবং ধর্ম প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরে তাঁর মৃত্যু হলে মসজিদটির পাশেই দাফন করা হয়, যে সমাধি এখন পর্যন্ত রয়েছে। তবে সুধিবাদ পীর কোন দেশ থেকে এদেশে এসেছিলেন তা জানা যায়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মসজিদটিতে ৩টি গম্বুজ ও ৩ টি দরজা রয়েছে। মসজিদটিতে পোড়ামাটির ফলকে বিভিন্ন নকশার প্রতিকৃতি ছিল। তবে বর্তমানে সেগুলো প্রায় বিলুপ্ত। মসজিদের দক্ষিণ পাশে রয়েছে একটি পাকা কূপ। কূপের গায়ে পোড়া মাটির অস্পষ্ট বাংলা লিপি খোদাই করা রয়েছে। তবে কূপটিতে মাটি ভরাট থাকায় কূপের গায়ে বাংলা লিপিতে পোড়া মাটির অস্পষ্ট খোদাই করা লেখা পড়া যায়নি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মসজিদটি এখনো সুরক্ষিত রয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পাঠদান কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

মসজিদটিতে মুয়াজ্জিনের দায়িত্বে থাকা ইয়াকুব আলী জানান, মসজিদটিতে একটি কাতার থাকার কারণে অনেক মুসল্লির নামাজ আদায়ে সমস্যা হচ্ছিল। এ জন্য বারান্দায় টিনের ছাউনি দিয়ে কাতার বাড়ানো হয়েছে। তবে পুরোনো মসজিদটির কাতার ও অন্যান্য ব্যবস্থা আগের মতোই রাখা হয়েছে। কিন্তু গম্বুজগুলোর ওজন বেশি হওয়ার কারণে ধীরে ধীরে মাটির নিচে দেবে যাচ্ছে মসজিদটি এবং পোড়ামাটির ফলকে বিভিন্ন নকশার যেসব প্রতিকৃতি ছিল, বর্তমানে সেগুলো প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার পথে।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মশিউর রহমান বলেন, শুক্রবার জুম্মার নামাজে তিন শতাধিক মুসল্লি মসজিদটিতে আসে। দেখাশোনার দায়িত্বে একজন মুয়াজ্জিন, দুজন ইমাম রয়েছেন।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোবায়ের হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে প্রাচীন নিদর্শন ও প্রত্নসম্পদগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সনগাঁও তিন গম্বুজ মসজিদটিও তালিকায় রয়েছে।

কেউ যদি প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে সনগাঁও মসজিদ দেখতে যেতে চান তবে যেভাবে যাবেন: ঠাকুরগাঁও জেলা শহর হয়ে ২৩ কিলোমিটার দূরে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় যাবেন। এরপর সেখান থেকে চার কিলোমিটার দূরে কালমেঘ বাজারে যাবেন। সেখান থেকে দুই কিলোমিটার উত্তর দিকে সনগাঁও গ্রামে ভ্যান বা রিকশা দিয়ে অতি সহজেই এই মসজিদে যেতে পারবেন।

নওগাঁয় ১৫৬ কোটি ৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৭টি পৃথক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত বিভাগ

একে এম কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধি : গণপূর্ত বিভাগ নওগাঁ জেলায় ১৫৬ কোটি ৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে মোট ১৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব পকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে জেলা সদরে একটি এবং জেলার ১১টি উপজেলায় আরও ১১টিসহ মাট ১২টি মডেল মসজিদ নির্মান, পুলিশ বিভাগের ৪টি এবং জেলা রেজিষ্ট্রার অফিস নির্মানের একটি প্রকল্প।

নওগাঁ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আল মামুন হক জানিয়েছেন, ১৩৯ কোটি ৩৩ লাখ ৪৩ হজার টাকা ব্যয়ে ১২টি মডেল মসজিদ, ১১ কোটি ৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ব্যয়ে পুলিশ বিভাগের ৪টি পৃখক প্রকল্প এবং ৫ কোটি ৬১ লাখ ১৬ হাজার টাকা ব্যয়ে জেলা রেজিষ্ট্রার অফিস ভবন নির্মান প্রকল্প।

সূত্রমতে, বাংলাদেশের “প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ৫৬০টি মডেল মসজিদ এবং ইসলামিক কালচারাল সেন্টার নির্মান” প্রকল্পের আওতায় নওগাঁ জেলায় জেলা পর্যয়ে একটি এবং জেলার ১১টি উপজেলার প্রত্যেকটিতে একটি করে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক কালচারাল সেন্টার নির্মান কাজ চলছে। এসব মসজিদে মহিলা ও পুরুষদের পৃথক নামাজ আদায়ের স্থান, ইমাম ও হাজীদের প্রশিক্ষন কক্ষ, লাইব্রেরী, মৃতদেহ ধৌত করার স্থানসহ জানাজার স্থান, অতিথিশালা সংযুক্ত থাকবে।

এ ছাড়াও উপজেলা মসজিদগুলোতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করার মত ব্যবস্থাও সন্নিবেশিত থাকবে বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন।

তিনি জানান, জেলা পর্যায়ে ৪ তলা বিশিষ্ট এবং উপজেলাসমূহে ৩ তলা বিশিষ্ট মসজিদ নির্মিত হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক মডেল মসজিদ নির্মানের বিবরন হচ্ছে ১৪ কোটি ৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ব্যয়ে জেলা পর্যায়ে, ১০ কোটি ৯৬ লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যয়ে মহাদেবপুর উপজেলা মডেল মসজিদ, ১২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে রানীনগর উপজেলা মডেল মসজিদ, ১১ কোটি ১৪ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে আত্রাই উপজেলা মডেল মসজিদ, ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে পোরশা উপজেলা মডেল মসজিদ, ১১ কোটি ১৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয়ে সাপাহার উপজেলা মডেল মসজিদ, ১১ কোটি ৮০ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে নওগাঁ সদর উপজেলা মডেল মসজিদ, ১১ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে পত্নীতলা উপজেলা মডেল মসজিদ, ১১ কোটি ২২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ব্যয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা মডেল মসজিদ, ১১ কোটি ৮৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ব্যয়ে মান্দা উপজেলা মডেল মসজিদ, ১১ কোটি ৩৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ধামইরহাট উপজেলা মডেল মসজিদ, ১০ কোটি ৭৭ লাখ ৫১ হাজার টাকা ব্যয়ে বদলগাছি উপজেলা মডেল মসজিদ।

অপরদিকে পুলিশ বিভাগের পৃথক ৪টি প্রকল্প হচ্ছে ২ কোটি ৩৪ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা ব্যয়ে পত্নীতলা থানা ভবনে ৬ তলা ভিত্তির উপর ৪ তলা বিশিষ্ট জুনিয়র অফিসার্স ডরমেটোরী যাতে স্বস্থ্য সম্মত শৌচাগার এবং বৈদ্যৃতিক ব্যবস্থা সম্পৃক্ত থাকবে। একইভাবে ধামইরহাট থানা ভবনে ৬ তলা ভিত্তির উপর ৪ তলা বিশিষ্ট জুনিয়র অফিসার্স ডরমেটোরেী যাতে স্বস্থ্য সম্মত শৌচাগার এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা সম্পৃক্ত থাকবে। ৪ কোটি ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৬ তলা ভিত্তির উপর পত্নীতলা থানা ভবনের তৃতীয় তলা ও চতুর্থ তলা নির্মান এবং ২ কোটি ৪৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে ধামইরহাট থানা ভবনে ৬ তলা ভিত্তির উপর ৪ তলা বিশিষ্ট ষ্টুডিও এ্যাপার্টমেন্ট নির্মান কাজ।

এ ছাড়াও জেলা রেজিণ্ট্রার অফিস ডিআরও এন্ড সাব-রেজিণ্ট্রার অফিস এসআরও প্রজেক্ট দ্বিতীয় ফেজ-এ নওগাঁ জেলা সদরে ৫ কোটি ৬১ লাখ ১৬ হাজার টাকা ব্যয়ে জেলা রেজিণ্ট্রারের অফিস ভবন নির্মান কাজ এগিয়ে চলেছে। এর অবকাঠামোতে রয়েছে মেইন অফিস ভবন, অভ্যন্তরীন পানি সরবরাহ, বাহ্যিক পানি সরবরাহ , বৈদ্যুতিক সংযোগ, আভ্যন্তরীন ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং আভ্যন্তরীন সড়ক নির্মান।

খুলনায় ইটভাটা গিলে খাচ্ছে নদী, বিপণ্ণ পরিবেশ

খুলনা প্রতিনিধিঃ খুলনার বিভিন্ন উপজেলায় ক্ষমতা, অর্থ ও আধিপত্যের মাধ্যমে প্রভাবশালীরা নদীর তীর ও খাসজমি দখলসহ ঘনবসতি এলাকা এমনকি হাসপাতাল- স্কুলের পাশবর্তী স্থানে গড়ে তুলেছে প্রায় অর্ধশতাধিক অবৈধ ইটভাটা। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত ১০০ বৈধ ইটভাটা থাকলেও অধিকাংশতেই যথাযথ নীতিমালা মানা হচ্ছে না।

এসব ইটভাটায় বিনষ্ট হচ্ছে চির চেনা প্রকৃতি ও পরিবেশ, হারিয়ে যেতে বসেছে জীব বৈচিত্র। এছাড়া কালো ধোয়া, গ্যাস ও ধুলায় মারাত্নক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকার মানুষ। তাছাড়া সংকুচিত হচ্ছে নদী, পাল্টে যাচ্ছে এর গতিপথ। চোখের সামনে এসব ইটভাটা চালু থাকলেও অজানা কারণে নিরব রয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। তবে মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করতে দেখা গেলেও বন্ধ হয়নি এসব অবৈধ ভাটা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বসতবাড়ির পাশে ইট ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় প্রায় সর্দি কাঁশি এবং শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। গাছের ফল-ফলাদিও কমে যাচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী খুলনা জেলার নয় উপজেলার মধ্যে বৈধ ইটভাটা রয়েছে রূপসায় ৬৩টি, ডুমুরিয়ায় ২০টি, বটিয়াঘাটায় ৫টি, তেরখাদায় ৯টি ও দিঘলিয়ায় ৩টি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে দুইশ’ মিটারের মধ্যে ঘনবসতি এলাকায় গড়ে তোলার পরেও পরিবেশ অধিদপ্তরের বৈধ তালিকায় থাকার অভিযোগ রয়েছে ইটভাটা।

তাছাড়া খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই ৫টি উপজেলাসহ পাইকগাছা, ফুলতলা ও কয়রায় অবৈধভাবে অর্ধশতাধিক ইটভাটা গড়ে উঠেছে। যা পরিবেশ অধিদপ্তরের তালিকা বহির্ভূত হওয়ার পরেও স্থানীয় প্রশাসন সেগুলো বন্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

পাইকগাছার এআরবি ব্রিকস, যমুনা ব্রিকস, এসকেবি ব্রিকসসহ ১৪টি ভাটায় ইট পোড়ানো হচ্ছে। এগুলোর কোনটিই পরিবেশ অধিদপ্তরের তালিকায় নেই। যার অধিকাংশই ঘনবসতি এলাকায় ও কৃষি জমির ওপর। যদিও উপজেলা প্রশাসন বলছে ৭টির লাইসেন্স রয়েছে। তবে চলতি বছরে এ উপজেলায় ৬ টি ইট ভাটা মালিককে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ফুলতলার সুপার ব্রিকস, জেবি ব্রিকস, ইউনাইটেড ব্রিকস, প্রিন্স ব্রিকস, একতা ব্রিকস, খানজাহান আলী ব্রিকসসহ বেশ কয়েকটি ভাটা চালু রয়েছে। রূপসা, ডুমুরিয়া ও তেরখাদার অধিকাংশ ইট ভাটা গড়ে তোলা হয়েছে নদীর কিনারায়।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৫শ’ মিটারের মধ্যে ঘনবসতি এলাকায় রয়েছে কয়রার এবিএম নামের ভাটা। খুলনার এসব অবৈধ ভাটা পরিবেশের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সচেতনমহল জানিয়েছে।

অপরদিকে পাউবো সূত্রে জানা যায়, খুলনার ভদ্রা, হরি, শৈলমারী, আতাই ও আঠারোবেকি নদীর দুই তীর দখল করে গড়ে উঠেছে ৫০টি ইটভাটা। এর মধ্যে রূপসা উপজেলায় রয়েছে ১৮টি, ডুমুরিয়ায় ১৮টি, তেরখাদায় ১১টি ও দিঘলিয়ায় ৩টি। অভিযোগ রয়েছে, মালিকরা নদীতীরের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী খাসজমিও দখলে নিয়েছেন। চরের মাটি কেটে ভাটায় তৈরি করা হচ্ছে ইট। অবৈধ দখলের কারণে নদীর গতিপথ পাল্টে যাচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হলেও উচ্ছেদ কার্যক্রম থমকে গেছে। এদিকে ডুমুরিয়া উপজেলার ভদ্রা ও হরি নদীর জায়গা দখল করে স্থাপন করা ১৪টি ইটভাটা উচ্ছেদে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৪ ডিসেম্বর এ আদেশ দেন।

আদেশে আগামি ৬০ দিনের মধ্যে ১৪ টি ইট ভাটার অবৈধ স্হাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া আগামী ২২ ফেব্রুয়ারী পরবর্তি দিন ধার্য্য করেছেন আদালত। ওই সকল ইটভাটা গুলোতে নদীর জায়গা অবৈধভাবে দখল করে ভাটা পরিচালনা করায় জনস্বার্থে গেল বছরের ২২ ফেব্রুয়ারী রীটটি দায়ের করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ।

আদালতের নির্দেশে কার্যকরের বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো মোঃ আবদুল ওয়াদুদ বলেন, আমরা নদীর খাস জমিতে লাল পতাকা দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছি। ওই সীমানার মধ্যে তাদের কাজ না চালানোর জন্য ভাটামালিকদের বলা হয়েছে । এছাড়া চলতি বছরে ৪টি ভাটায় সাড়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তেরখাদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবিদা সুলতানা বলেন, আমি নতুন, এসি (ল্যান্ড) নেই। তাছাড়া পাট, সারসহ নানাবিধ কাজে ব্যস্ত থাকা ইটভাটাগুলোর খোঁজ নিতে পারিনি। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ মারুফ বিল্লাহ জানান, বৈধ ইটভাটার তালিকা ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। অবৈধগুলো নির্মূলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজ চলমান রয়েছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ঘনবসতি এলকায় অবৈধ ইট ভাটার ক্ষতিকর ধোয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট, হার্টের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্কদের মধ্যে চর্মরোগের প্রবণতাও দেখা যায়। ধোয়ার কারণে ফসল, গাছপালা বিনষ্ট হচ্ছে। জলাশয়ের মাছের ক্ষতি হয়। সর্বোপরি ঘটিত বায়ু দুষণ মানুষসহ পুরো ইকোসিস্টেমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, ইতোমধ্যে অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তারা নিজেরা স্থাপনা সরিয়ে না নিলে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পর্যায়ক্রমে সকল অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া বিআইডব্লিউ দখলদারদের উচ্ছেদে কাজ করছে।

আমি ভয় পেয়েছিলাম, তাই আল্লাহু আকবার বলেছিলাম : মুসকান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের বিজেপিশাসিত কর্ণাটকের একটি কলেজে হিজাব পরিহিতা মুসলিম ছাত্রী মুসকানকে দেখে হিন্দুত্ববাদী যুবকরা ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে উত্যক্ত করার সময় ছাত্রীটি পাল্টা জবাব দেন ‘আল্লাহু আকবর’ শ্লোগান এর মাধ্যমে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমনি দৃশ্যপট নিয়ে ধারণকৃত একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

ওই ভিডিওটিতে দেখা গেছে, হিজাব পরে মুসকান যখন তার স্কুটি পার্কিং করে ক্লাসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, তখন বেশ কিছু মানুষ তাকে অনুসরণ করছেন। গেরুয়া রঙের স্কার্ফ পরিহিত একদল ব্যক্তি ‘জয় শ্রী রাম’ শ্লোগানে মুসকানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আর চিৎকার করছে। মুসকানও তখন ভিড়ের দিকে ফিরে হাত তুলে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে চিৎকার করতে থাকেন।

বিবিসি বাংলায় এক সাক্ষাৎকারে কর্নাটকের মান্ডা জেলার প্রি-ইউনিভার্সিটি কলেজের বি.কম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মুসকান খান বলেন, আমি আগে থেকে কিছুই জানতাম না। সব সময় যেভাবে কলেজে যাই, সেভাবেই গেলাম। বাইরে থেকে আসা একদল লোক সেখানে বলল যে বোরকা পরে কলেজের ভেতরে যাবে না। কলেজে যেতে হলে বোরকা ও হিজাব খুলে ভেতরে যেতে হবে। তুমি যদি বোরকা পরে থাকতে চাও, তবে বাড়ি ফিরে যাও। আমি ভিতরে এলাম। ভেবেছিলাম চুপচাপ চলে যাব। কিন্তু সেখানে অনেক শ্লোগান উঠছিল। ‘বোরকা কাদ’, ‘জয় শ্রী রাম’-এর মতো শ্লোগান। আমি ভেবেছিলাম আমি ক্লাসে যাব, কিন্তু ছেলেগুলো আমাকে এমনভাবে অনুসরণ করছিল যেন তারা সবাই আমাকে আক্রমণের চেষ্টা করছে। তারা ছিল ৪০ জনের মতো। আমি ছিলাম একা। কারও মধ্যে আমি মনুষ্যত্ব লক্ষ্য করিনি। হঠাৎ তারা আমার কাছে এসে চিৎকার করতে লাগল। কারও কারও হাতে ছিল কমলা রঙের স্কার্ফ। আর আমার মুখের সামনে এসে স্কার্ফ দোলাতে দোলাতে বলতে লাগল – জয় শ্রী রাম, চলে যাও, বোরকা খুলে ফেলো। তারা আমাকে ক্যাম্পাসে ঢুকতেও দিচ্ছিল না। তারা অনেক বহিরাগত ছিল এবং কলেজের ছাত্র ছিল কম। বেশির ভাগই ছিল বহিরাগত।

মুসকান আরো বলেন, আমার সামনে চার মেয়ে এসেছিল। গেট তালাবদ্ধ ছিল। তারপর কোনোমতে প্রিন্সিপাল এলেন। অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা আমাকে রক্ষা করেন। ছেলেরা তাদের সঙ্গে কথা বলতে ভেতরে গিয়েছিল। কিন্তু বেরিয়ে এসে একই কাজ করল। আমি কাঁদিনি। আমি এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। আমি ভয় পেয়েছিলাম, তাই আল্লাহু আকবার বলেছিলাম। ভয় পেলে আমি আল্লাহর নাম নিই। আল্লাহর নাম নিলেই আমার সাহস বেড়ে যায়।

এর আগে গত জানুয়ারিতে কর্ণাটকের উদুপির একটি সরকারি কলেজে মুসলিম ছাত্রীরা হিজাব পরে আসায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়। কর্তৃপক্ষ থেকে ওই ছাত্রীদের হিজাব পরতে নিষেধ করলেও তারা হিজাব পরে ক্লাসে আসেন। এ সময়ে তাদেরকে ক্লাস করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এরপর থেকে রাজ্যে হিজাব নিয়ে তোলপাড় শুরু হয় এবং অনেক জায়গায় তা পড়াশোনায় প্রভাব ফেলেছে।

সুত্রঃ বিবিসি বাংলা।

লোহাগাড়ার ৬ ইউপি নির্বাচনে সাধারণ ও সংরক্ষিত পদে নব নির্বাচিত মেম্বারদের শপথ অনুষ্ঠান

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ৬ইউপি নির্বাচন যথাক্রমে পদুয়া,চুনতি, বড়হাতিয়া,চরম্বা,চুনতি ও পুটিবিলা ইউপির নির্বাচনে সাধারণ সদস্য ও সংক্ষিত আসনের নব নির্বাচিত মেম্বারদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোট ৭১ জন নব নির্বাচিত মেম্বার-মহিলা মেম্বার গণ এ শপথ গ্রহণে অংশগ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।
১০ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলা পাবলিক হলে সাধারণ সদস্য ও সংক্ষিত আসনের নব নির্বাচিত মেম্বারদের শপথ বাক পাঠ করেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আহসান হাবীব জিতু।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ও ফুলের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে পাবলিক হলে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুল।

দুর্গাপুরে ট্রাক ও সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

মোঃ কামরুজ্জামান, নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ট্রাক ও সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে চাঁন মিয়া (৪০) নামে এক সিএনজি যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার(৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরন করেন।

মৃত চান মিয়া দুর্গাপুর পৌর এলাকার বালিকান্দি গ্রামের মৃত রশিদের ছেলে।

বুধবার(৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিরিশিরি- শ্যামগঞ্জ সড়কের পলাশকান্দি নামক স্থানে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় আহত সিএনজি চালক নুরু আলম (৩০) ময়মনসিংহ মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে ও অপর একজন সিএনজি যাত্রী হলুদ মিয়া (৩৫) কে ময়মনসিংহ থেকে বুধবার রাতেই ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরন করা হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,ময়মনসিংহ থেকে যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজি দুর্গাপুরের দিকে আসছিলো। আসার পথিমধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় বিরিশিরি- শ্যামগঞ্জ সড়কের পলাশকান্দি নামক স্থানে দুর্গাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় সিএনজি দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং সিএনজিতে থাকা দুই যাত্রী সহ চালক গুরতর আহত হয়। স্থানীয়রা ৩ জনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ৩ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে প্রেরন করে।

দুর্গাপুর থানার তদন্ত ওসি মীর মাহাবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। আইন আনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

তাপমাত্রা বেড়ে আবারও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: তাপমাত্রা বেড়ে কেটেছে কয়েকটি জেলায় চলা মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। হালকা বৃষ্টির পর তাপমাত্রা আবার কমে বাড়তে পারে শীতের প্রকোপ। আজ বৃহস্পতিবার দেশের ছয় বিভাগ ও দুই জেলায় বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। এ সময় তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তারপর আবার তাপমাত্রা কমতে থাকবে।’

বৃষ্টির পর রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশের ৭ জেলা ও এক উপজেলায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। একদিনের ব্যবধানে শৈত্যপ্রবাহের আওতা কমে ৪ জেলা ও এক উপজেলায় নেমে আসে। রোববার নীলফামারী, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, পাবনা, মৌলভীবাজার জেলা এবং সীতাকুণ্ড উপজেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছিল। সোমবার রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, নওগাঁ জেলা ও সীতাকুণ্ড উপজেলাসহ রংপুর বিভাগে ছিল মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। মঙ্গলবারও দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, রাজশাহী, পাবনা, মৌলভীবাজার জেলা ও সীতাকুণ্ড উপজেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছিল। কিন্তু বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দূর হয়েছে শৈত্যপ্রবাহ।

কয়েক দিনের তুলনায় মঙ্গলবার রাত থেকে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। তবে এখনো রয়ে গেছে উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রকোপ। বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল সন্ধ্যায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানিয়েছে, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলসহ রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেটে বিভাগের দুই এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশের রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তবে উত্তরাঞ্চলের দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং অন্যেত্র দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আদিতমারীতে ২২ ওয়ারেন্ট ও ৩ মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার

ঈশাত জামান মুন্না লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের আদিতমারী থানা পুলিশ ২২টি ওয়ারেন্ট ও ৩ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আব্দুস সাত্তার শাহীনকে (৪০) গ্রেফতার করেছে। বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এসব তথ্য নিশ্চিত করেন আদিতমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাম্মেল হক।

গ্রেফতার আব্দুস সাত্তার শাহীন আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ি ইউনিয়নের কুমড়িরহাট ভেটেশ্বর গ্রামের আবু তাহের ওরফে তাহের নেতার ছেলে।

পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান, গাজীপুরে ‘গ্রামো ফার্মাসিউটিক্যাল’ নামে একটি নকল যৌন উত্তেজক ওষুধ প্রস্তুত করে বাজারজাত করতেন আব্দুস সাত্তার শাহীন। ২০১১ সালের ৯ মার্চ ওই কারখানায় ম্যাজিস্ট্রেটসহ যৌথ অভিযান চালায় ওষুধ প্রশাসন, বিএসটিআই ও র্যাব। এ সময় কারখানাটি সিলগালাসহ দুজনকে আটক করে। কিন্তু পালিয়ে রক্ষা পান কারখানার মালিক আব্দুস সাত্তার শাহীন। সেই থেকে আত্মগোপনে থাকেন শাহীন।

এ মামলাসহ তার বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় ২২টি মামলার ওয়ারেন্ট ও ৩টি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তিনি। যার একটিতে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড, অপরটিতে এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডসহ ৮ লাখ ৪৭ হাজার টাকা অর্থদণ্ড রয়েছে। এসব মামলা সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে করা হয়।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা আব্দুস সাত্তার শাহীনকে গ্রেফতার করতে বিভিন্ন সময় একাধিক অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ হয় পুলিশ। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে ময়মনসিংহের ভালুকা পৌরসভা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেন আদিতমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জয়নাল আবেদীন।

জাল দলিল করে ২কোটি টাকা আত্মসাতের চেষ্টা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায় ভাগ্নির জামাতা কর্তৃক জাল দলিলে নামজারী করে যুক্তরাজ্য প্রবাসীর দুই কোটি টাকা মূল্যের ভূমি আত্মসাতের চেষ্টায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওই প্রবাসীর দলিল ও নামজারী যাচাই করে জালিয়াতির বিষয়টি টের পেয়ে আব্দুল মুনিমকে (৫৬) আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। আব্দুল মুনিম যুক্তরাজ্য প্রবাসী আহমদুর রহমানের স্ত্রী ছালেমা খাতুনের বড়বোনের কন্যার জামাতা।

এ ঘটনায় আব্দুল মুনিম ও তাঁর আরেক সহযোগি নজির হোসেন সুরমানকে অভিযুক্ত করে ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তাকিন বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার কার্যালয় ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়া শহরের স্টেশন চৌমুহনীতে পূর্ব মনসুর মৌজায় ১১৭৯ নং খতিয়ানের ২০৬৮ নং দাগে মৌলভীবাজারের বাসিন্দা, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আহমদুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী ছালেমা খাতুনের নামে ৬ শতাংশ ভূমি রয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য দুই কোটি টাকা। সেই ভূমির তত্ত্বাবধায়ক জয়চন্ডী ইউনিয়নের কামারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মৃত মবশ্বির আলীর ছেলে ও হিসেবে প্রবাসীর ভাগ্নি জামাতা মুনিম প্রতারণা করে জাল দলিল তৈরি করে নিজের নামে নামজারী রেকর্ডভুক্ত করেন।

এদিকে ওই ৬ শতাংশ ভূমি থেকে ৩ শতাংশ ভূমি ক্রয় করেন পৌর শহরের উত্তরবাজারের বাসিন্দা মৃত হাজী মো. আব্দুস ছাত্তারের ছেলে জুবায়ের আহমদ সোহেল। তিনি ভূমিটি নামজারী করার জন্য উপজেলা ভূমি অফিসে আবেদন করতে গেলে তখনই তিনি দেখতে পান সেই ভূমিগুলো আব্দুল মুনিমের নামে নামজারি করা হয়েছে। তখন তিনি জাল দলিল ও ভূয়া নামজারীর বিরুদ্ধে উপজেলা ভূমি অফিসে একটি মিসকেইস আবেদন করেন।

পরে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে আব্দুল মুনিমের নামে ৩২৫২/১৯৯০ ও ৫৯২২/২০০২ ইং রেজিস্ট্রি দলিল জেলা রেকর্ডরুম থেকে যাচাই করা হয়। যাচাইয়ে দেখা যায় দলিল দুটি ভিন্ন মৌজা ও ভিন্ন এলাকার। আব্দুল মুনিমের নামীয় দলিলের সাথে রেকর্ডরুমের ভলিউমে লিপিবদ্ধ দলিলের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। তখনই জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।

বিষয়টি নিয়ে বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা ভূমি অফিসে এক শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজল মোল্লা জাল দলিলের বিষয়ে আব্দুল মুনিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি তাঁর অপরাধ স্বীকার করেন। এসময় মুনিম জানান তাঁর এই কাজের সাথে উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের নর্তন গ্রামের বাসিন্দা নজির হোসেন সুরমান জড়িত। তাঁর সহযোগিতায় তিনি জাল দলিল তৈরি করেছেন।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) বিনয় ভূষণ রায় বলেন, এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বাদী হয়ে দু’জনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা করেছেন। আটক আব্দুল মুনিমকে আদালতের মাধ্যমে আজ বৃহস্পতিবার জেলহাজতে প্রেরণ করা হবে। তাঁর সহযোগী নজির হোসেনকে আটকের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজল মোল্লা বলেন, আব্দুল মুনিম প্রতারণা করে একজনের ভূমি তাঁর নামে রেকর্ড করে নেন। বিষয়টি জানতে পেরে আমার কার্যালয়ে শুনানী করি। শুনানীতে সে তার অপরাধ স্বীকার করেছে। তাকে আটক করে কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত দু’জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কুলাউড়ায় পাহাড় ধ্বসে চা শ্রমিক নারীর মৃত্যু

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা চাতলাপুর বসত ঘর লেপতে পাহাড়ি ছড়ার পারের টিলার নিচের সাদা মাটি সংগ্রহকালে মাটির ধ্বসে নারী চা শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টায় চাতলাপুর ৬নং বাউরি টিলার কড়ইতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাউরি টিলার চনু বাউরির স্ত্রী শেফালী বাউরি (৪৮) ঘর লেপার কাজে সাদা মাটি আনতে ১৯ নং সেকশনের গিয়েছিলেন। সেখানে হঠাৎ টিলা ধ্বসে মাটির নিচে চাপা পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত মহিলা দুই সন্তানের জননী।

চাতলাপুর চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সাধন বাউরী জানান, নারী চা শ্রমিকরা পাহাড়ি ছড়ার পারের টিলার নিচ থেকে সাদা মাটি বসত ঘর লেপার কাজে সংগ্রহ করেন। পাহাড়ি ছড়া পারের টিলার নিচ থেকে কাজ থেকে ফেরার পথে সাদা মাটি সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় টিলায় ধ্বসে মাটি চাপা পড়েন। পরে চা শ্রমিকরা এসে মাটি সরিয়ে তাকে উদ্ধার করে চাতলাপুর হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়েছে।

শরীফপুর ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিণয় ভূষন রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুসারে বিহিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।