সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমান না ফেরার দেশে

সিএনবিডি ডেস্কঃ বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। আজ শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রফিকুল ইসলাম রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আজ বিকেল ৪টা ৮ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁর লাইফ সাপোর্ট খুলে দেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পীর হাবিবুর রহমান স্ট্রোক করলে তাঁকে ল্যাবএইড হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবরে মুম্বাই জাসলুক হাসপাতালে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লানটেশনের মাধ্যমে ক্যানসার মুক্ত হন পীর হাবিবুর রহমান। এরপর গত ২২ জানুয়ারি তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। করোনামুক্ত হলেও কিডনির জটিলতায় পীর হাবিব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সন্ধ্যায় স্ট্রোক করলে তাঁকে ল্যাবএইড হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

পীর হাবিবুর রহমানের মৃত্যুতে সিএনবিডি পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সিএনবিডি টিভির প্রধান সম্পাদক ইঞ্জিঃ এম হাবিবুর রহমান ও নির্বাহী সম্পাদক মোঃ শাহজালাল।

উল্লেখ্য, বরেণ্য সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট পীর হাবিবুর রহমানের জন্ম ১৯৬৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ শহরে। তাঁর মৃত্যুতে সাংবাদিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় মানুষের মুখে এ কেমন মাস্ক?

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বিশ্বজুড়ে চলমান মহামারি করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় মাস্কের বিকল্প নেই। তাই সর্বদা মাস্ক ব্যবহারে জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু এবার দক্ষিণ কোরিয়া এক নতুন ধরণের মাস্ক আবিষ্কার করে রীতিমত হইচই ফেলে দিয়েছে। গতানুগতিক মাস্কের পরিবর্তে তারা আবিষ্কার করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার আবিষ্কৃত এই মাস্ক ‘কোস্ক’ দিয়ে শুধু নাক ঢাকা সম্ভব, মুখ না। দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘কো’ মানে হল নাক। আর ‘কো’ এবং ‘মাস্ক’মিলে হয়েছে ‘কোস্ক’। এই মাস্কে শুধু নাকের অংশটি ঢাকা থাকে। খোলা থাকে মুখ। তবে এর ভিতরে একটি অংশ রয়েছে, যেটি ভাঁজ করা অবস্থায় থাকে। দরকার হলে সেটি খুলে নিয়ে মুখও ঢেকে রাখা সম্ভব।

সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় এই মাস্কটি খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।এর কারণ হিসেবে ব্যবহারকারীরা বলছেন, এই মাস্কটি পরে থাকা অবস্থায় সহজেই খাওয়া দাওয়া করা সম্ভব। কিন্তু অন্য মাস্কের বেলায় সেটি খুলে খাওয়া দাওয়া করতে হয়।

ইতোমধ্যে ‘কোস্ক’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রকমের মতামত প্রকাশ করছে বিভিন্ন মানুষ। অনেকেই বলছেন আদৌ কি এটি কোনো কাজে লাগে? নাকি পুরোটাই ব্যবসায়িক মনোভাব থেকে করা?

অনেকে বলছেন, কোস্কের মাধ্যমে দুটো কাজই একসঙ্গে সম্ভব। চাইলে মুখ ঢেকে রাখা যায় আবার খাওয়ার সময় শুধু নাক ঢেকে মুখ খুলেও খাওয়া যায়।ফলে তাতে কিছুটা হলেও বাড়তি সুরক্ষা পাওয়া যাচ্ছে, যা অন্য মাস্কের বেলায় সম্ভব না।

আবার অনেকে বলছেন, পুরোটাই ব্যবসা। কারণ এই মাস্কটি পরে অনেকেই সব সময় মুখ খুলে রাখছেন। ফলে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কেউ বলছেন এটি শুধুই ফ্যাশন। কেউ বলছেন নজর কাড়ার জন্য তৈরি হয়েছে এটি।

সূত্র: গার্ডিয়ান।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপঃ ফাইনালে মুখোমুখি ভারত-ইংল্যান্ড

স্পোর্টস ডেস্কঃ আজ শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের অ্যান্টিগার স্যার ভিভ রিচার্ড স্টেডিয়ামেআইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে আজ ভারতের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আফগানিস্তানকে ১৫ রানে হারিয়ে দীর্ঘ ২৪ বছর পর ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। ১৯৮৮ সালের প্রথম শিরোপা জয়ের পর এই আসরে ফাইনাল নিশ্চিত করে।

এদিকে আইসিসি যুব বিশ্বকাপের শেষ ১৩ আসরে সর্বাধিক চারবার শিরোপা জিতেছে ভারত। তিন আসরে ছিল রানার্সআপ। গত আসরে বাংলাদেশের কাছে শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ হলেও এই আসরে নিজেদের সেরা প্রমাণ করে আবারো উঠে এসেছে স্বপ্নের ফাইনালে। ‘বি’ গ্রুপে দক্ষিণ আফ্রিকা, আয়ারল্যান্ড ও উগান্ডাকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ ও সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছেন ভারতীয় যুবারা। আজ ফাইনালে ইংলিশদের বধ করতে পারলেই পঞ্চম শিরোপা উঠবে ইয়াস ধুলদের হাতে।

অন্যদিকে ইংল্যান্ড ১৯৮৮ সালের পর থেকে আর কোনো আসরে ফাইনালে আসতে পারেনি। দীর্ঘ ২৪ বছরের খরা কাটাতে মাঠে নামবে ইংলিশরা, আর পঞ্চম শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবেন ভারতীয় যুবারা।

আগামীকাল থেকে বৃষ্টি কমে বাড়বে শীত, বইতে পারে শৈত্যপ্রবাহ

সিএনবিডি ডেস্কঃ গত ২৪ ঘন্টায় দেশজুড়ে বর্ষাকালের মতো বৃষ্টি ছিল। আজ শনিবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। আগামীকাল রোববার থেকে বৃষ্টি কমে শীত বাড়বে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এছাড়া রোববার থেকে শুরু হয়ে মাঘের শেষ পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় রাতের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যাবে। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সব পর্যায়েই বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময় খুলনায় সর্বোচ্চ ৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। ঢাকায় ১৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

এ ছাড়া মাদারীপুরে ৫৮ মিলিমিটার, দিনাজপুরে ৫২ মিলিমিটার, রাজারহাটে ৫০ মিলিমিটার এবং চাঁদপুরে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আজ সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টি হচ্ছে এবং শনিবারও অব্যাহত থাকতে পারে। রংপুর ও সিলেটের কাছাকাছি ড্রিল করার সুযোগ রয়েছে। তবে রোববার থেকে দেশের কোথাও বৃষ্টি হবে না। শনিবার ঢাকা ও খুলনা এলাকায় বৃষ্টি নাও হতে পারে। তবে মেঘ শূন্য থাকবে। রাজশাহী ও যশোর অঞ্চল মেঘমুক্ত। সেখানে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই।

শাহনাজ সুলতানা বলেন, রাতের তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। বৃষ্টি রাজশাহী ও যশোর অঞ্চলকে মেঘমুক্ত করেছে। মেঘ পরিষ্কার হওয়ার সাথে সাথে ঠান্ডা বাতাস বইবে, তাই এই অঞ্চলে শীত বয়ে যেতে পারে। ১০ফেব্রুয়ারি আবার বৃষ্টি হতে পারে তবে কম হবে তাই এই মুহূর্তে ভারী বৃষ্টি হবে না।

নাহিয়ানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে তৈরি প্রথম রকেট উৎক্ষেপণের অপেক্ষায়

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্কঃ দেশে প্রথম রকেট তৈরি করে দেশজুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছেন নাহিয়ানের নেতৃত্বে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের একদল তরুণ শিক্ষার্থী। দীর্ঘ গবেষণার পর তারা রকেট আবিষ্কারের প্রথম ধাপে সফল হলেও এখন প্রয়োজন সরকারের সহযোগিতা এবং অনুমতি। তবেই উৎক্ষেপণ হবে দেশের আকাশে প্রথম এই রকেট এবং পূরণ হবে একদল তরুণের স্বপ্ন, স্থাপিত হবে তাদের ভবিষ্যৎ পথচলা।

দেশে প্রথম রকেট তৈরির নেপথ্যে এই তরুণদের দলনেতার নাম মো. নাহিয়ান আল রহমান ওরফে ওলি। তিনি ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের ইলেক্টিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্টনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের (বিবিবি) শিক্ষার্থী। গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তার বাড়ি।

নাহিয়ান আল রহমান জানান, ছোটবেলায় টেলিভিশনে রকেট ওড়ানোর দৃশ্য দেখে মনের মধ্যে ইচ্ছে জাগে, রকেট আমরাও তৈরি করতে পারব। সেই ইচ্ছে থেকে ২০১২ সালে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হওয়ার পর প্রথম সেমিস্টার থেকেই কয়েকজন বন্ধু মিলে রকেট তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। এরপর তারা দেশ-বিদেশের পরিচিত বড় ভাই-বন্ধুদের কাছ থেকে রকেট সংক্রান্ত বই সংগ্রহ শুরু করা শুরু করি। এভাবে প্রায় চার শতাধিক বই গবেষণা করে প্রয়োজনীয় যতোসব যন্ত্রপাতি সংগ্রহ শুরু করি। কিন্তু রকেট তৈরিতে অনেক টাকার প্রয়োজন। তাই কাজটি প্রায় ১ বছর বন্ধ ছিল।  ২০১৯ সালে আবার ব্যক্তিগতভাবে টাকা সংগ্রহ করে ২০ জনের দল নিয়ে আলফা সায়েন্স ল্যাবের মাধ্যমে শুরু হয় রকেট তৈরির কাজ। পরবর্তীতে অনেকে কলেজ শেষ করে চাকরিতে যোগ দেন। আমি চাকরিতে যোগ না দিয়ে রকেট তৈরি করতে থাকি। ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে বের হওয়ার পর ২০১৮ সাল থেকে মূলত রকেট তৈরির কাজ শুরু হয়।

ওলি জানান, প্রাথমিকভাবে আমরা ৬ ফুট ও ১০ ফুট উচ্চতার দু’টি করে প্রোটোটাইপ তৈরি করেছি। এরমধ্যে একটির নাম ধূমকেতু-ওয়ান। এর ফোর্স প্রায় দেড়শ নিউটন। ধূমকেতু ওয়ানের রেঞ্জ প্রায় ২০ কিলোমিটার। অপরটির নাম ধূমকেতু-টু। এর ফোর্স ৪০০ নিউটন। এটির রেঞ্জ প্রায় ৫০ কিলোমিটার। আর আয়তনের দিক থেকে বড় রকেট ৬ ইঞ্চি এবং ছোটটি ৪ ইঞ্চি। দুই মডেলের চারটি রকেট তৈরিতে ২০১৮ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৪ বছর সময় লেগেছে।

ওলি  আরো জানান, রকেট উৎক্ষেপণে সফলতার হার খুবই কম। নাসা ১৫ বার রকেট উৎক্ষেপণের পর সফলতা পেয়েছে। সেদিক থেকে আমরা আশাবাদী, আমাদের চারটি রকেট উৎক্ষেপণে সফলতা আসবে। স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপে আছি আমরা। যেদিন সরকারের অনুমতি নিয়ে এই রকেট উৎক্ষেপণ করতে পারবো তখন এই স্বপ্ন সফলতা পাবে বলে আশাকরছি। তবে স্বপ্ন শতভাগ স্বার্থক হবে যদি এই রকেট উৎক্ষেপণের পর সফলভাবে ভূ-পৃষ্ঠেনামাতে পারি। এজন্য সরকারের সহযোগিতা মূখ্য। সেই সঙ্গে বাংলার আকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে আমরা এই স্বপ্নের পূর্ণতা দেখতে প্রত্যাশা করছি।

ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ইলেক্টিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্টনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক মো. আ. ওয়াহিদ জানান, দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টায় এই রকেট আবিষ্কার করেছে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এই রকেট আকাশে উৎক্ষেপণ করতে হলে প্রয়োজন সরকারি বরাদ্দ এবং অনুমতি। অধিদপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন সেখান থেকে অনুমতি পেলে সেই চিঠি যাবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাই মূখ্য। তবে আমরা আশা করছি দেশের স্বার্থে সরকার এই তরুণদের পাশে দাঁড়াবে।

ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলমগীর কবীর বলেন, রকেট আবিষ্কারের বিষয়টি দেশের জন্য আশা জাগানিয়া একটি বার্তা। তবে এখন এটি সফল উৎক্ষেপণের জন্য সরকারের অনুমতি প্রয়োজন। খুব দ্রুত এ সংক্রান্ত চিঠি সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হবে। আশাকরছি এর মধ্য দিয়ে দেশে আবিষ্কারের নতুন অধ্যায় সূচিত হবে বলে আমার বিশ্বাস।

চট্টগ্রামে ও বরগুনায় অগ্নিকান্ড

সিএনবিডি ডেস্কঃ চট্টগ্রাম নগরীর বন্দরটিলা এলাকার বাহাদুর মার্কেটে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ১৪টি দোকান আগুন পুড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আজ শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার সময় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিটের চারটি গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌছে ৩৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক ফরিদ আহম্মদ তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেন, শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার সময় বন্দরটিলাস্থ একটি মার্কেটে আগুন লাগার খবর আসে। দমকল বাহিনীর ৪টি গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। এর আগে মার্কেটের মুদি দোকান ও বেশ কয়েকটি কাপড়ের দোকানসহ মোট ১৪টি দোকান পুড়ে যায়। এ ঘটনায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতি তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।

অন্যদিকে, গতকাল শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারী) দিবাগত রাত সোয়া ১২টায় বরগুনার আমতলীর বাধঘাট (চৌরাস্তা) এলাকায় অগ্নিকান্ডে ফলের দোকানসহ ৭-৮টি দোকান পুড়ে গেছে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের ঘন্টাব্যাপী চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। এ ঘটনায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতি তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো ভারত-আফগানিস্তান-তাজিকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের বেশ কয়েকটি শহরসহ  আফগানিস্তান ও তাজিকিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে। আজ শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ১৫ মিনিট) দিকে আফগানিস্তান-তাজিকিস্তান সীমান্ত এবং জম্মু-কাশ্মীর, দিল্লি, নয়ডাসহ উত্তর ভারতে এ ভূমিকম্প হয়।

মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ২০৯.১ কিলোমিটার। প্রায় ২০ সেকেন্ড ধরে এ কম্পন অনুভূত হয়।

ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি এক টুইটে জানায়, ভূমিকম্পটি রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার হয়েছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিলো আফগানিস্তান-তাজিকিস্তান সীমান্ত এলাকায়। তবে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে ১৮ ট্রলার ডুবি

খুলনা প্রতিনিধিঃ বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে ১৮টি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে বলে জানা গেছে। গতকাল শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টায় বঙ্গোপসাগরের দুবলার চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ দুর্ঘটনায় মো. শাহিনুর ও মো. মোতাচ্ছির নামে দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের বাড়ি বাগেরহাটের রামপালে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন এবং দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত নভেম্বরে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে শুটকি প্রক্রিয়া করতে দুবলায় সামুদ্রিক মাছ ধরতে আসেন প্রায় ৩০ হাজার জেলে। এসব জেলেরা দুবলাসহ প্রায় আটটি চরে অস্থায়ী বসতি গড়ে তোলেন। সেখানে থেকেই তারা সাগরে মাছ ধরেন। শুক্রবারও মাছ ধরতে তারা সাগরে যান। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে ১৮টি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। দুবলায় আটটি এবং তার পাশ্ববর্তী এলাকা আলোরকোল এলাকায় আরও ১০ টি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যায়। পরে অন্য ট্রলারের সাহায্যে ১৫৪ জেলে ফিরে আসতে পারলেও রামপালের দুর্গাপুর গ্রামের মো. ইদ্রিসের ছেলে মো. শাহিনুর ও ইসলামাবাদ গ্রামের মো. ছোট্টোর ছেলে মো. মোতাচ্ছির নিখোঁজ রয়েছেন। জেলেদের উদ্ধারে দুবলার ১০০ ট্রলার অভিযানে নেমেছে। তবে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে এখনও বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি।

বনবিভাগের দুবলা ফরেস্ট স্টেশনের ওসি প্রহ্লাদ চন্দ্র রায় জানান নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে দুবলার ১০০ ট্রলার এবং কোস্টগার্ডের দুটি জাহাজ অভিযানে নেমেছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় দুবলার চরের প্রায় দুই কোটি টাকার শুটকি মাছ নষ্ট হয়েছে বলেও জানান দুবলা ফরেসস্ট ক্যাম্পের ওসি প্রহ্লাদ চন্দ্র রায়।

পাঁচ দিন পর বেনাপোলে শুরু হলো আমদানি-রপ্তানি

যশোর প্রতিনিধিঃ পাঁচ দিন আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকার পর পেট্রাপোল-বেনাপোল বন্দর দিয়ে আজ শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ফের চালু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি। এর ফলে উভয় বন্দর এলাকায় ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। এরই মধ্যে আজ সকাল থেকে এখন পর্যন্ত ৬৮ ট্রাক পণ্য আমদানি এবং ৩২ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

আজ শনিবার বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক আব্দুল জলিল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) আবদুল জলিল জানান, ভারতীয় পেট্রাপোল বন্দরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের সমঝোতা বৈঠকে ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন। আটকে পড়া পণ্য বন্দরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত পণ্য খালাস নিতে পারেন, সেজন্য মাঠ পর্যায়ের সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ভারতের পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্ত্তিক চক্রবর্তী জানান, বন্দর ও বিএসএফের হয়রানির কারণে আমাদের বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলনের ফলে গত সোমবার (৩১ জানুয়ারি) থেকে বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) টানা ৪ দিন বন্ধ থাকে বন্দরের সকল কার্যক্রম। পরে ফলপ্রসু আলোচনা শেষে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল হয়।

পেট্রাপোল স্থলবন্দরের ম্যানেজার কমলেশ সাহানি জানান, সম্প্রতি পেট্রাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি পণ্যবোঝাই ট্রাক থেকে স্বর্ণ, ডলার, গাঁজা, জাল লাইসেন্স জব্দ করে বিএসএফ। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার দেশের স্বার্থে সীমান্তে কিছু শর্ত জুড়ে দিয়ে নির্দেশনা জারি করে। ট্রাকচালকসহ সংশ্লিষ্টদের কমন আইডি কার্ড চালু করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। যেসব গাড়ির কাগজ নবায়ন করা হয়নি, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনায় ট্রাকচালকসহ অন্যদের কমন আইডি কার্ড না হলেও আগামী একমাস আগের নিয়মে আমদানি-রপ্তানি চালু থাকবে। টার্মিনালে ট্রাকচালক ও খালাসিদের প্রবেশে তাঁদের সঙ্গে আপাতত আধার কার্ড বা ভোটারকার্ড সঙ্গে রাখলেই হবে।

প্রসঙ্গতঃ বেনাপোলের ওপারে পেট্রাপোল বন্দরে ভারতের বিএসএফের হয়রানি, বন্দর অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না দেওয়া, ছয় মাস ট্রাকের কাগজপত্র বৈধ করাসহ বিভিন্ন দাবিতে ৩১ জানুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয় শ্রমিক সংগঠনগুলো। পরে বন্দর ব্যবহারকারী ছয়টি শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বিএসএফ ও পেট্রাপোল ল্যান্ড পোর্ট অথরিটির সঙ্গে কয়েক দফা ফলপ্রসূ বৈঠকের পর অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

ফরিদ হত্যার পরিকল্পনাকারীসহ ৩জন গ্ৰেফতার

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: সিলেটের কানাইঘাটে ফিল্মি স্টাইলে খুন হয়েছেন ফরিদ উদ্দিন। পূর্ব শত্রুতার জেরেই তাকে হত্যা করা হয়। আর এ হত্যাকাণ্ড মিশন ‘সাকসেস’ করতে কাজ করে তিন ভাগে তিনটি গ্রুপ। হত্যাকাণ্ডের চারদিনের মাথায় মূল পরিকল্পনাকারী নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৯। রোজ বৃহস্পতিবার (৪ঠা ফেব্রুয়ারি) রাতভর সিলেটের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে তিনজন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‌্যাব-৯ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আবদুর রহমান। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিন, মোস্তাক আহমদ ও কাওছার আহমদ।

সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আবদুর রহমান আরো জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরেই ফরিদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন গ্রেপ্তারকৃতরা। হত্যাকাণ্ড মিশন ‘সাকসেস’ করতে আলাদাভাবে কাজ করে তিনটি গ্রুপ। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী নিজাম ও মোস্তাক।

তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন গ্রুপের সদস্যরা তিন ভাগে তিন জায়গায় অবস্থান করেন। এর মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী নিজাম ও মোস্তাক নিজেদের আড়াল রাখতে ঘটনার দিন সিলেট নগরে থাকেন। মূলত নগরে থেকে তারা অন্য দুটি গ্রুপের কার্যক্রম সমন্বয় করেন।

দ্বিতীয় গ্রুপটি ঘটনার দিন ফরিদের গতিবিধির উপর পর্যবেক্ষণ করে। আর তৃতীয় গ্রুপটি ঘটনাস্থলে ওৎ পেতে থাকে। এদিন বিকেল পৌনে ৪টার দিকে মমতাজগঞ্জ বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন ফরিদ। পথে বড়খেওড় এলাকার এফআইভিডিবি স্কুলের সামনে আসতেই তাকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে তৃতীয় গ্রুপটি। প্রচুর রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই ফরিদ মারা যান।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা আরো জানান, হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব- ৯। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে শুক্রবার ভোর ৫টা পর্যন্ত টানা আট ঘণ্টা অভিযান পরিচালনা করে মৌলভীবাজার জেলার শেরপুর থেকে মূল পরিকল্পনাকারী নাজিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তার দেওয়া তথ্যমতে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থেকে কাওছার আহমদকে ও সিলেট নগরীর বন্দরবাজার থেকে মোস্তাক আহমদকে গ্রেফতার করা হয়। বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানায় র‌্যাব-৯।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, এলাকায় বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাব বিস্তার নিয়ে আগে থেকেই মামলা-হামলার ঘটনা চলছিল দু-পক্ষের মধ্যে। নিহত ফরিদ ও তার শ্যালক কয়েছ উদ্দিন ওরফে কয়ছর আহমদ মিলে একটি পক্ষ আর নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিন ও তার ভাই হেলাল আহমদসহ অন্যান্য ভাই মিলে আরেকটি পক্ষ। এ দুটি পক্ষের বিবাদপূর্ণ সম্পর্ককে ঘিরে এলাকার মানুষ আতঙ্কিত থাকতো।

৩১ জানুয়ারি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের বড়খেওড় এলাকায় প্রকাশ্যে দুর্বৃত্তদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হন ফরিদ উদ্দিন। তিনি ওই ইউনিয়নের খাসাড়ীপাড়া গ্রামের রফিক উদ্দিনের ছেলে। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন সন্ধ্যায় রাতে তার লাশ দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার কানাইঘাট থানায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ নিহত ফরিদের বাবা অজ্ঞাত আরো কয়েকজনের নামে মামলা দায়ের করেন মো. রফিকুল হক।