ঠাকুরগাঁওয়ে বৃষ্টি ও বাতাসে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও জেলায় মধ্যরাত থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও  বাতিস হাওয়ায় ফসলসহ বসতির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বাধাগ্রস্ত হয়েছে কৃষিকাজ। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে প্রাণীকূলেও। বৃষ্টি ও বাতাসে ছিন্নমূল মানুষেরা প্রচন্ড শীতে কষ্টের মধ্যে দিন পার করছে। শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁও জেলার ৫ টি উপজেলায় বিভিন্ন ফসলের ও ঘড়বাড়ীর প্রচন্ড ক্ষতি হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়ন ও আকচা ইউনিয়নে ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, আগাম গমের ক্ষেত ঝড়ো বাতাসের কারণে মাটিতে নুইয়ে পড়েছে। ভুট্টা ক্ষেত বাতাসে ভেঙ্গে পড়েছে। আলু ক্ষেতে বৃষ্টির পানি জমেছে। মাঠে কাজ করতে দেখা যায়নি কোন শ্রমিককে। এছাড়াও সরিষা, ভূট্টা সহ সব ফসলই বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরও দেখা গেছে, দমকা হাওয়ায় উড়ে গেছে দরিদ্র মানুষের টিন চাতাইয়ের ঘর । সেগুলো মেরামত করছেন মানুষজন।

কৃষক আজিজুর রহমান জানান, এবারে ৪  বিঘা জমিতে আগাম গমের আবাদ করেছেন তিনি। তার গম দানা বাঁধতে শুরু করেছে। কিন্তু গত মধ্যরাতের মাঝারি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কারণে তার গমের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। গম মাটিতে নুইয়ে পড়েছে।

স্থানীয় আলুচাষি করিম বলেন, ৭ বিঘা মাটিতে আলু উৎপাদন করেছি। আজ আলু উত্তোলনের কথা ছিলো। এখন বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। দিনমজুর রহমত মিয়া বলেন, আলুর কাজে এসেছিলাম। দেখি আলু ক্ষেতে বৃষ্টির পানি জমে গেছে। তাই কাজ বন্ধ। তাই ফিরে যাচ্ছি।

স্থানীয় মানিকের ঘরও দমকা হাওয়ায় উড়ে গেছে, তিনি ঘর মেরামত করছেন। এসময় তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে এনজিও থেকে লোন নিয়ে টিনের ঘরটি বানিয়েছি। বাতাসে টিন উড়ে গেছে। সেগুলো আবার কুড়িয়ে এনে ঘর মেরামত করছি।

ঠাকুরগাঁও  জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আবু হোসেন বলেন, রাতে ৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে সাথে দমকা বাতাস। এতে আগাম গমের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে এবং কৃষিকাজ ব্যহত হয়েছে। কৃষকরা এখন আলু ক্ষেতে পানি না শুকানো পর্যন্ত আলু উত্তোলন করা থেকে বিরত থাকবে, সেই সাথে সার কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ রাখবে। এখন সবচেয়ে জরুরি জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করা।

প্রেমিকার অনশন, প্রেমিক পলাতক

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: চাচাতো ভাইয়ের সাথে বিগত কয়েক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। পরিবারের অগোচরে সম্পর্ক চালিয়ে গেছেন দু’জনে। বিয়ের প্রলোভনে শারিরিক সম্পর্কেও জড়িয়ে পরেন তারা। কিন্তু শেষ মুহুর্তে পারিবারিক ভাবে জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় বিয়ে ঠিক হয়। তবে ছেলে পক্ষের ১০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবি মেটানোর অনীহায় ভেঙ্গে যায় বিয়ে। শেষে বিয়ের দাবীতে বৃহস্পতিবার (৩রা ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার থেকে ছেলের বাড়িতে অনশন শুরু করছেন এই যুবতী (২১)।

ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের বড়দল গ্রামে। তবে ছেলের পরিবারের দাবী, বুধবার রাতে ছেলে দুবাই চলে যাওয়ায় এব্যাপারে তারা কিছুই করতে পারবেন না।

এলাকাবাসী ও যুবতীর সূত্রে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের বড়দল গ্রামের আশ্বাদ মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়ার (১৯) সাথে দেড় বছর আগে একই গ্রামের তার চাচাতো বোন আপ্তাব মিয়ার মেয়ে সীমা বেগমের (২১) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভনে মেয়েটির সাথে শারিরিক সম্পর্কেও জড়ায় রাসেল। ৭ মাস আগে বিষয়টি জানাজানি হলে পারিবারিকভাবে বিয়ে ঠিক হয়। ছেলের পছন্দ মতো কেনাকাটা শেষ করে মেয়ে পক্ষ। বিয়ের কয়েকদিন আগে ছেলে পক্ষ মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে মেয়ে পক্ষের কাছে ১০ হাজার টাকা যৌতুক দাবী করে। এতে বিয়ে দিতে অনীহা প্রকাশ করেন মেয়ের বাবা-মা পরিবারবর্গ। এরপর থেকে একাধিকবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সমাধানের চেষ্টা করলেও কোনো সুরাহা হয়নি। শেষে বৃহস্পতিবার সকালে বিয়ের দাবিতে ওই ছেলের বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করে ওই যুবতী। ছেলের পরিবারের দাবী, বুধবার রাতে রাসেল মিয়া দেশ ছেড়ে দুবাই চলে গেছে।

তবে মেয়ের দাবী, সে এখনো দেশে পালিয়ে আছে। অনশনরত যুবতী সীমা বেগম বলেন, রাসেল আমার সাথে প্রেম ও প্রলোভন দিয়ে আমার সর্বনাশ করেছে। বিয়ে ঠিক হওয়ার পর তারা ১০ হাজার টাকা যৌতুক চাওয়ায় আমার পরিবার বিয়ে ভেঙ্গে দেয়। তারপরেও আমার সাথে তার সম্পর্ক ছিল। সে আমাকে জোর করে অজ্ঞাত ঔষধ খাইয়ে দেওয়ায় আমার মাথায় ঝিমঝিম করছে। আমি রাসেলের সাথে বিয়ে ছাড়া তার বাড়ি ছেড়ে যাবো না।

রাসেলের নানা দলিল মিয়া বলেন, মেয়ে পক্ষ বিয়ে ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু মেয়ে সকালে এই বাড়িতে এসে বসে আছে। ছেলে দুবাই চলে গেছে। কিন্তু মেয়েকে আমরা বিষয়টি বুঝাতে পারছি না। ছেলে বিয়ে না করলে আমরা কিভাবে তাকে ঘরে তুলব?

এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াংকা পাল বলেন, ঘটনা জানার পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বিষয়টি দেখতে বলেছি। তাদেরকে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে দ্রুত মিমাংসা করতে বলেছি।

রায়পু‌রে প্রধান শিক্ষ‌কের যৌন নি‌পিড়‌নের প্র‌তিবা‌দে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

মোঃ জ‌হির হো‌সেন, লক্ষ্মীপুরঃ লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপ‌জেলা‌ধিন দ‌ক্ষিন রায়পুর  আব্দুর রহমান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের যৌন নি‌পিড়‌নের প্র‌তিবা‌দের শিক্ষার্থী‌ এবং অ‌ভিবাবকরা মানববন্ধন ক‌রে‌ছে। বৃহস্প‌তিবার (০৩ ফেব্রুয়া‌রি ) রায়পুর উপ‌জেলা প‌রিষ‌দের সাম‌নে সকাল ১০ টা থে‌কে  প্রায় ১ ঘন্টা পর্যন্ত চ‌লে।

মানববন্ধ‌নে আগত শিক্ষার্থীরা অ‌ভি‌যোগ ক‌রেন, শিক্ষক আবদুর র‌হিম দীর্ঘ‌দিন থে‌কে সময় সু‌যোগ বু‌ঝে তা‌দের কুপ্রস্তাব দি‌তেন এবং বি‌ভিন্ন প্র‌লোভন দি‌তেন ব‌লে মানববন্ধ‌নে অ‌ভি‌যোগ ক‌রেন। মানববন্ধ‌নে যৌন নি‌পিড়‌নে অ‌ভিযুক্ত শিক্ষ‌কের বিরু‌দ্ধে দৃষ্টান্তমুলক সা‌স্তির দা‌বি জানান।

শিক্ষার্থী‌রা ব‌লেন, এত‌দিন তারা সামা‌জিক ভা‌বে হেয় হ‌বেন ভে‌বে ভ‌য়ে মুখ খো‌লে‌নি সময় এস‌ছে প্র‌তিবাদ কারার, সময় এসেছে চ‌রিত্রহীনদের সমাজ থে‌কে বিতা‌ড়িত করার। মানববন্ধ‌নে বক্তব্য রা‌খেন মেহ‌দি হাসান, উক্ত বিদ্যাল‌য়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষার্থী‌দের অ‌ভিবাবকগন।

মানববন্ধন শে‌ষে উ‌জেলা নির্বাহী অ‌ফিসার এবং শিক্ষা অ‌ফিসা‌রের কা‌ছে স্বারক‌লি‌পি প্রদান ক‌রেন এবং তারা দা‌বি ক‌রেন তদন্ত চলাকালীন সময়ে অ‌ভিযুক্ত শিক্ষককে স্কু‌লের কোন দা‌য়িত্ব না দেওয়ার জন্য ।

এসময় শিক্ষা অ‌ফিসার জানান, তদন্ত ক‌মি‌টি গঠন‌রে স‌ঠিক তদ‌ন্তের মাধ্য‌মে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয় হ‌বে ব‌লে মানবন্ধ‌নে আগ‌তদের আশ্বস্ত ক‌রেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে শীতার্তদের পাশে “আমরাই কিংবদন্তী”

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে অসহায়, দুস্থ ও শীতার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “আমরাই কিংবদন্তী” এসএসসি-২০০০ ব্যাচের সদস্যরা। “বন্ধুরা সব পাশে আছি অসহায়ের মুখে ফুঁটাতে হাসি” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে শুক্রবার ৪ ফেব্রুয়ারি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে সংগঠনের পক্ষ থেকে অসহায় ও দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

“আমরাই কিংবদন্তী” এসএসসি-২০০০ ব্যাচের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার আয়োজনে বিতরণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক সালেহা খাতুন, সংগঠনের সদস্য কলি শারমিন, সাগর, সেলিম, তানিয়া, রিয়াজ, মিজানুর প্রমুখ।

উপস্থিত থাকতে না পেরেও আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন সংগঠনের সদস্য- আসাদ, সানা, সম্রাট, সাগর, মাহবুব, সেলিম, আতিকুর, রুনা, নুরানী, জান্নাত, কামু, খুশি, মিথি, শাওন, আরিফ, প্রিন্স, মাহমুদুল, মনির, পপি, মিন্টু, ইয়াসমিন, সুমিত, হাসি, এ্যানোনা, শিনথু, সাবা, ইয়াসমিন, তানিয়া, মিনি, শিল্পি, মোহিত, শিশির, পপিসহ অনেকে। এ সময় পৌর ও আশপাশের এলাকার শতাধিক গরীব, দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।

প্রসঙ্গত: করোনা প্রতিরোধে অসহায়দের পাশে গিয়ে বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকান্ডে “আমরাই  কিংবদন্তী” এসএসসি-২০০০ ব্যাচ বিভিন্ন কর্মকান্ডে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন।

মৌলভীবাজারের সীমান্তে ভারত-বাংলাদেশ হাটের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: এক হাটে বাজার করবে বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষ। এরই মধ্যে সে প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমাঘাট ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কমলপুর (ধলই) সীমান্তে বর্ডার হাট চালু হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বর্ডার হাট নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এ সময় ত্রিপুরা রাজ্যের বাণিজ্য মন্ত্রী মনোজ কান্তি দেব, মৌলভীবাজার (শ্রীমঙ্গল- কমলগঞ্জ)৪ আসনের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী, ত্রিপুরার বিধায়ক পরিমল দেববর্মন, ধলাই জিলা পরিষদের সভাপতি রুবি গোপ, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া, ত্রিপুরার জেলা শাসক গোবেকার ময়ূর রতিলাল, ত্রিপুরার বাণিজ্য উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান টিংকু রায়, কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমানসহ দুই দেশের উর্ধতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, বর্ডার হাট চালুর মধ্য দিয়ে ব্যবসার চেয়ে দুই দেশের মানুষের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক হৃদ্যতা বাড়বে এবং সোহাদ্ পূর্ন বন্ধুত্ব মৈত্রী তৈরি হবে।

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এখন বাণিজ্যিক সম্পর্কে রূপ নিচ্ছে। যা এই দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।

কুরমাঘাট-কমলপুর সীমান্ত হাট মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে দুই দেশের নোম্যান্স ল্যান্ডে ২.৭২ একর ভূমিতে কুরমাঘাট-কমলপুর বর্ডার হাট নির্মাণ করা হচ্ছে। ভারতীয় রুপী হিসাবে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা। হাটের বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে এবং ভারতের দিকে আরেকটি ফটক থাকবে। সপ্তাহে একদিন মঙ্গলবার বসবে হাট। বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে ১১.৩০টা থেকে বিকেল ২.৩০ পর্যন্ত হাটে বেচাকেনা করা যাবে। এই হাটে তৈরি পোশাক, বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য, শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, মুরগি, শুঁটকি, সুপারিসহ ১৮ টি পন্য বেচাকেনা চলবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক জানান, সীমান্ত হাটের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যরা।

তিনি আরও বলেন, ‘বিজিবি’র যে মূল দায়িত্ব নিরাপত্তা, চোরাচালান প্রতিরোধ তা সার্বক্ষণিকভাবে বিজিবি মনিটর করে থাকবে। সীমান্ত হাটের আশপাশের ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বসবাসরত জনগণ এই হাট থেকে পণ্য সামগ্রী ক্রয় করার সুযোগ পাবেন।’

ঠাকুরগাঁওয়ে দিনব্যাপি পুলিশের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশের আয়োজনে বৃহস্পতিবার ৩ ফেব্রুয়ারি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও পুলিশের বিভিন্ন অভিযান স্বচ্ছতা ও জবাব দিহিতার আওতায় আনতে বডিওয়ার্ন ক্যামেরা’র ব্যবহার, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

এ উপলক্ষে এদিন দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয় কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন। এসময় তিনি, পুলিশের যেকোন ধরণের অভিযানে শরীরে স্থাপিত ক্যামেরার ব্যবহার, কৌশলসহ বিভিন্ন দিক নির্দেশনা মুলক বক্তব্য দেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এই ক্যামেরার মাধ্যমে পুলিশের যেকোন অভিযানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকবে। অত্যাধুনিক ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও এবং ছবি দ্রুত সময়ের মধ্যে পুলিশের হাতে পৌছে যাবে। জেলার গোয়েন্দা ও ট্রাফিক শাখার ৩৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এ প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহণ করেন।

রনি স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২২ উদ্বোধন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় রনি স্মৃতি ক্রিকেট টূর্ণামেন্ট ২০২২এর  উদ্বোধন হয়েছে। ৪ঠা ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) বিকেল ৩ ঘটিকার সময় উপজেলার সদর ইউনিয়নের নয়াগাঁও গ্রামের মাঠে আনবিটেন ক্রিকেট ক্লাবের আয়োজনে রনি স্মৃতি ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট ২০২২ এর উদ্বোধন হয়েছে।

টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রেমসাগর হাজরা। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন পূর্বাশা সমাহার ক্লাবের সাবেক ক্রিকেটার রূপক দত্ত চৌধুরী, সাংবাদিক তিমির বণিক, ডিজিটাল বাংলা নিউজ মৌলভীবাজার প্রতিনিধি, শেখ আঃ ওয়াহিদ সোহেল প্রমুখ।

আনবিটেন ক্রিকেট ক্লাবের পৃষ্ঠপোষক রুহেল আহমেদ জানান,এখেলায় মোট ২৪টি টিম অংশ নিয়েছে। আজ উত্তরা যুবসংঘ ক্রিকেট ক্লাব দ্যা গুরু ক্রিকেট ক্লাবের মধ্যকার খেলা  দিয়ে টূর্ণামেন্ট এর সূচনা হয়। খেলায় চ্যাম্পিয়ন দল ১২ হাজার টাকা ও রানার্স-আপ দল ৬ হাজার টাকা ও ট্রফি প্রদান করা হবে।

এছাড়াও প্রতি দিনের খেলায় ম্যান অব দ্যা ম্যাচ ক্রেষ্ট প্রদান হবে।

রনি স্মৃতি ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট আয়োজন প্রসঙ্গে প্রয়াত রনি’র বড় ভাই তিমির বণিক সংবাদতাকে বলেন, আমার ছোট ভাই রনি ২০১১সালের  ২২শে জানুয়ারী হবিগঞ্জ জেলার নোয়াপাড়ার আলআমীন রেষ্টুরেন্ট এর সামনে এক সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ হারায়। সে একজন ভালো খেলোয়ার হিসেবে শ্রীমঙ্গলে সুপরিচিত ছিল। সে পরিবারের সবার আদরেরে ভাই ছিল। আমি ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট আয়োজকদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই সাথে সাথে আনবিটেল ক্লাব কে অন্তরের অন্তঃস্থল হতে কৃতজ্ঞ এবং আমাদের পরিবার সবসময় সহযোগিতার আগামীতে থাকবে। আমার ভাইয়ের খেলার প্রতি আলাদা একটান ছিল এজন্য তার বন্ধু মহল এ আয়োজনের মাধ্যমে স্মৃতি ধরে রেখেছেন এজন্য ধন্যবাদ।

তুর্কি-গ্রিস সীমান্তে বরফে জমে ১২ অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ গ্রিস সীমান্তবর্তী তুরস্কের ছোট শহর ইপসালা থেকে ১২ অভিবাসন প্রত্যাশীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ব্যক্তির সবাই প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় জমে মারা গেছে। তুরস্কের যে শহর থেকে এসব অভিবাসন প্রত্যাশী ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সেই শহরকে বিশ্বের বহুদেশের অভিবাসন প্রত্যাশী মানুষ ইউরোপে যাওয়ার রুট হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।

নিহত ব্যক্তিদের গায়ে সামান্যই কাপড়-চোপড় ছিল। তাদের লাশ উদ্ধারের পর তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলাইমান সইলু বলেছেন, গ্রিসের সীমান্তরক্ষীরা এসব অভিবাসন প্রত্যাশীকে জোর করে তুরস্কের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সইলু আরো বলেন, গ্রিসের সীমান্তরক্ষীরা মোট ২২ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে তুরস্কের ভেতরে পাঠায় যার মধ্যে ১২ জন মারা গেছে এবং তাদের তিনজনের গায়ে শুধুমাত্র একটি করে টি-শার্ট ছিল। জানুয়ারি মাসের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে ওই এলাকায় তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করে।

তুরস্কের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ বাকি ১০ জনকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে এবং এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

অন্যদিকে গ্রিসের অভিবাসন বিষয়কমন্ত্রী নোতিশ মিতারাসি তুর্কি মন্ত্রীর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তুরস্কের ইপসালা শহরে এসব অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যুর ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন। তার দেশের সীমান্তরক্ষীরা এ ধরনের কোনো ব্যক্তিকে তুরস্কের দিকে ঠেলে পাঠায়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

ফের এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণ

ডিবিএন ডেস্কঃ ফের দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বেসরকারি খাতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের এলপিজি মূসকসহ সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১ হাজার ১৭৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে এখন ১ হাজার ২৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকেই এ দাম কার্যকর হয়েছে।

এর আগে গতকাল বিইআরসি এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম বৃদ্ধির এ তথ্য জানানো হয়।

বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেসরকারি এলপিজির রিটেইলার পয়েন্টে (ভোক্তা পর্যায়ে) মূসক ব্যতীত মূল্য প্রতি কেজি ৯৬ দশমিক ৮৬ টাকা। মূসকসহ মূল্য প্রতি কেজি ১০৩ দশমিক ৩৪ টাকায় সমন্বয় করা হয়েছে। সে অনুযায়ী রিটেইলার পয়েন্টে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজির মূসকসহ মূল্য দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ২৪০ টাকা।

গত বছর টানা পাঁচ দফা এলপিজির দাম বেড়ে সবশেষ ৪ নভেম্বর ১২ কেজি ওজনের একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম মূসকসহ ১ হাজার ৩১৩ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি, যা ছিল গত বছরের সর্বোচ্চ দাম। পরে ৩ ডিসেম্বর দাম কমিয়ে ১ হাজার ২২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। টানা দাম বাড়ার কারণে গেল বছর আলোচনায় ছিল এলপিজি। এ বছর জানুয়ারি মাসে ৫০ টাকা কমিয়ে এলপিজির দাম ১ হাজার ১৭৮ টাকা নির্ধারণ করলেও আবার ৬২ টাকা দাম বাড়ালো সরকার।

উল্লেখ্য, এদিকে টানা দ্বিতীয় মাসে এলপিজির দাম কমিয়েছে ভারত। দেশটিতে ১৯ কেজির সিলিন্ডার প্রতি কমানো হয়েছে ৯১ দশমিক ৫০ রুপি। বছরের শুরুতে দিল্লিতে দুই হাজার ১০১ রুপি থেকে কমে জানুয়ারিতে এলিপিজির দাম হয়েছিল এক হাজার ৯৯৮ রুপি। ফেব্রুয়ারিতে আরও কমে এক হাজার ৯০৭ রুপিতে দাঁড়িয়েছে এলপিজির দাম।

নওগাঁর রাণীনগরে ইরি-বোরো ধান রোপনে ব্যস্ত কৃষকরা

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় ইরি-বোরো মৌসুমে ধান রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে আমন ধানের দাম ভালো পাওয়ায় এবার ইরি-বোরো ধান চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যেই উপজেলাজুড়ে লক্ষ্য মাত্রার প্রায় ৭০ ভাগ জমিতে ধান রোপন করা হয়েছে। শীত উপেক্ষা করে কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোমড় বেঁধে মাঠে কাজ করছেন চাষীরা।

এদিকে বাজারে ডিজেল তেল ও কীটনাশক ঔষধের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান চাষে বিঘা প্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, খাদ্যে উদ্বৃত্ত জেলার রানীনগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে আঠারো হাজার পাঁচ শত আশি হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্দ্ধারন করেছে কৃষি বিভাগ। ইতি মধ্যেই প্রায় ৭০ ভাগ জমিতে ধান রোপন করা হয়েছে। এবার উপজেলা জুঁড়ে জিরা, কাটারী, ৭৫, ৭১, ব্রি-৮১, ৮৯,১০০ ধানসহ অন্যান্য জাতের ধান রোপন করা হচ্ছে।

কৃষকরা জানিয়েছেন,বাজারে আমন মৌসুমের ধানের দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হয়েছেন। আগের বছরের তুলনায় এ বছর আমন ধানের ফলন যেমন ভালো হয়েছে তেমনি বাজারে দামও বেশ ভালো পেয়েছেন চাষিরা। ফলে সব মিলিয়ে এবার ইরি-বোরো ধান চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা।

উপজেলার খট্রেশ্বর গ্রামের সামছুর রহমান,ভাটকৈ গ্রামের কৃষক অনিল চন্দ্র,বেলঘরিয়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম সহ অনেকেই জানান,গত কয়েক বছরের তুলনায় বর্তমানে বাজারে ধানের ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। তাই কৃষকরা ইরি-বোরো ধান চাষে বেশি ঝুঁকছেন।

ইতোমধ্যেই অধিকাংশ জমিতেই ধান রোপন করেছেন কৃষকরা। তারা জানান, বাজারে ডিজেল তেল ও কীটণাশক ঔষধের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় কৃষকদের ধান চাষে বিঘা প্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। এসবের দাম কমে গেলে কৃষকরা ধান চাষে অধিক লাভবান হবেন বলে আশা করছেন তারা।

রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম জানান,ইরি-বোরো ধান চাষে কৃষি বিভাগ কৃষকদের সার্বিক পরামশ ও সহযোগীতা দিয়ে আসছে। এবার চলতি মৌসুমে উপজেলায় আঠারো হাজার পাঁচ শত আশি হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্দ্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার ৭০ ভাগ জমিতে ধান রোপন করা হয়ে গেছে। আশা করছি এবার লক্ষমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ করা হবে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে ধান রোপন শেষ হবে বলেও মনে করছেন তিনি।