আর্জেন্টিনায় কোকেন সেবনে ১৭ মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আর্জেন্টিনায় দূষিত মাদক সেবন করে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৭ জন। এ ঘটনায় মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আরও অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। অসুস্থদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির বুয়েন্স আয়ার্স প্রদেশে এ ঘটনা ঘটে।

আর্জেন্টিনার কর্মকর্তা ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বুধবার জানায়, কোকেন সেবনের পর দেশটিতে ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের সেবন করা ওই কোকেনে দূষিত কোনো কিছু ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বুয়েন্স আয়ার্স প্রদেশের বেশ কয়েকটি শহরজুড়েই প্রাণহানির এ ঘটনা ঘটেছে।

আর্জেন্টাইন সরকারের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বিষাক্ত মাদক সেবনের পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে আরও ৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মূলত বুয়েন্স আয়ার্স প্রদেশের আটটি শহরেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।

সরকারি ওই সূত্রটি আরও জানিয়েছে, মাদক সেবনের পর মারা যাওয়া ব্যক্তিরা মূলত হুরলিংগম, সান মার্টিন এবং ট্রেস দে ফেবরেরো শহরের। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুয়েন্স আয়ার্স আর্জেন্টিনার সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির জাতীয় রাজধানীর নামও একই। রাজধানী শহরের ঠিক বাইরে অনেক শহরতলিতে বহু মানুষ বসবাস করেন।

খবর বিবিসি। 

নায়ক রিয়াজের শ্বশুরের আত্মহত্যার ঘটনায় থানায় মামলা

বিনোদন ডেস্কঃ বাংলা চলচ্চিত্রের নায়ক রিয়াজের শ্বশুর ব্যবসায়ী আবু মহসিন খান (৫৮) বুধবার রাত সোয়া নয়টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ বাসায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের লাইভে এসে নিজের মাথায় গুলি করে আত্নহত্যা করেন। তার এই আত্মহত্যার ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরাম আলী মিয়া আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

মরদেহের পাশে চিরকুট নিয়ে তিনি বলেন, চিরকুটটি কম্পিইটারে টাইপ করা। নিচে মহসিন সাহেবের নামে স্বাক্ষর রয়েছে। মামলাটি আমরা তদন্ত করছি। তদন্তে চিরকুট ও ভিডিওতে বলা কথা এবং স্বাক্ষরটি উনার কিনা, তা যাচাই করা হবে।

আত্মহত্যার আগে ফেসবুক লাইভে এসে বার্ধক্যের নিঃসঙ্গতা নিয়ে কথা বলেন ব্যবসায়ী মহসিন। এক নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি ক্যানসারে আক্রান্ত। আমার ব্যবসা এখন বন্ধ। আমি বাসায় একাই থাকি। আমার এক ছেলে থাকে অস্ট্রেলিয়ায়। আমার ভয় করে যে আমি বাসায় মরে পড়ে থাকলে, লাশ পচে গেলেও কেউ হয়তো খবর পাবে না। পিতামাতা যা উপার্জন করে তার সিংহভাগ সন্তানদের পেছনে খরচ করে। প্রকৃত বাবারা না খেয়েও সন্তানদের খাওয়ানোর চেষ্টা করে, ফ্যামেলিকে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ফ্যামেলি অনেক সময় বুঝতে চায় না। নিজেকে আর মানিয়ে নিতে পারলাম না। যারা দেখছেন, তাদের সাথে এটাই শেষ দেখা। সবাই ভালো থাকবেন।

এরপর নিজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে কালেমা পড়তে পড়তে গুলি করেন মহসিন। তার আগে পিস্তলের লাইসেন্স দেখিয়ে বলেন, আমি যেটা দিয়ে আত্মহত্যা করছি সেটি ইলিগ্যাল কিছু না। এটির লাইসেন্স আছে। সেটি নবায়নও করা হয়েছে। আমি চলে যাবো। আত্মীয়-স্বজন যারা আছো, যেহেতু বাবাও আমাকে জায়গাটা দেয়নি, আমি যে কবরস্থানটা করেছি সেখানে আমাকে দাফন করো না। মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধে একটি কবরস্থান হয়েছে, সেখানে তোমরা আমাকে দাফন করে দিও। প্রত্যেকটা লোক আমার সাথে প্রতারণা করেছে। আমার বাবা, মা, ভাইরা, প্রত্যেকটা লোক, এভরিওয়ান।

এদিকে, ব্যবসায়ী আবু মহসিন খানের আত্মহত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে দ্রুত অপসারণ করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। কারন এতে সমাজে মানুষের মনে বিরুপ প্রভাব পড়ার আশু সম্ভাবনা রয়েছে।

বান্দরবানে গোলাগুলিতে সেনা কর্মকর্তা ও ৩ সন্ত্রাসী নিহত

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় গোলাগুলির ঘটনায় সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা এবং তিন সন্ত্রাসী (জেএসএস সদস্য) নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আরও এক সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।

নিহত সেনা কর্মকর্তা হলেন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাবিবুর রহমান। এ ছাড়া আহত সেনা সদস্য হলেন সৈনিক ফিরোজ।

গতকাল (বুধবার) রাত সাড়ে ১০টায় বান্দরবানের রুমা উপজেলার রুমা-রাঙামাটি সীমান্তবর্তী দুর্গম বথিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

সেনাবাহিনী বলছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি এসএমজি, তিনটি দেশীয় তৈরি বন্দুক, সেনাবাহিনীর আদলে  তিনটি পোশাক, ২৮০টি গুলিসহ বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার করা করেছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকাগুলোতে সেনা টহল জোরদার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযানে থাকা বান্দরবান সেনা রিজিওনের মেজর এরশাদ উল্লা ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের একটি দল’ রুমা উপজেলার বথিপাড়া এলাকায় চাঁদাবাজি জন্য জড়ো হচ্ছে খবর পেয়ে রাইং খিয়াং লেক আর্মি ক্যাম্প থেকে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাবিবের নেতৃত্বে একটি টহল দল সেখানে যায়। রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলের একটি জুম ঘর থেকে সন্ত্রাসীরা সেনা সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে সেনা সদস্যরাও পাল্টা গুলি করে। গোলাগুলির এক পর্যায়ে জেএসএসের (পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি-সন্তু লারমা) তিন সন্ত্রাসী এবং সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থলে মারা যান।

আইএসপিআরের সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়।

আইএসপিআর-এর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) মূল দলের সদস্য। পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ী সব অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দেওয়ার শর্ত থাকলেও জেএসএস সেই শর্ত ভঙ্গ করে চুক্তির পরবর্তী সময় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী লালন করছে। অথচ জেএসএসের প্রধান সন্তু লারমা সরকারের বিরুদ্ধে শান্তিচুক্তির শর্ত ভঙ্গ ও চুক্তি বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ করেন। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে চারটি আঞ্চলিক দল হত্যা, গুম, চাঁদাবাজিসহ দুষ্কৃতিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। তবে এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত জনসংহতি সমিতির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ডিআর কঙ্গোয় মিলিশিয়াদের হামলায় অন্তত ৬০জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক (ডিআর) অব কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয় শিবিরে মিলিশিয়া গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার স্থানীয় সময় ভোরের দিকে এই হামলা হয়েছে বলে স্থানীয় একটি মানবাধিকার গোষ্ঠীর প্রধান ও শিবিরটির একজন বাসিন্দা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ কথা জানান।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে ওই দুজন জানান, ইতুরি প্রদেশের বুলের কাছে সাভো শিবিরে স্থানীয় সময় ভোররাত ৩টার দিকে হামলাটি চালানো হয়। এ হামলার জন্য কোডেকো (সিওডিইসিও) মিলিশিয়াদের দায় দিয়েছেন তারা।

ইতুরি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জুলস নগোঙ্গো জানান, হামলাটি কোডেকো চালিয়েছে এবং প্রায় প্রাথমিকভাবে ২০ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে কঙ্গোর সেনারা ওই মিলিশিয়াদের খোঁজ পেয়েছিল, কিন্তু হামলাকারীরা ওই শিবিরে পৌঁছতে দিক পরিবর্তন করে তাদের পাশ কাটিয়ে যায়।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে কোডেকো যোদ্ধারা হামলা চালিয়ে দেশটির শত শত বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে। স্থানীয় এই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর হামলায় বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আরো হাজার হাজার মানুষ।

শিবিরের বাসিন্দা লোকানা ব্যালে লুসসা বলেন, ‘আমি বিছানায় থাকাকালীন প্রথমে কান্নার শব্দ শুনতে পেয়েছি। তারপর কয়েক মিনিট ধরে গোলাগুলি হয়েছে। আমি পালিয়েছি। সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। লোকজন সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করেছে। পরে আমি বুঝতে পারি যে, কোডেকো মিলিশিয়ারা আমাদের এলাকায় হামলা চালিয়েছে। আমরা ৬০ জনেরও বেশি মৃত এবং (আরো) গুরুতর আহতদের হিসেব করেছি।

বাহেমা-নর্থ এলাকার স্থানীয় একটি দাতব্য সংস্থার প্রেসিডেন্ট চ্যারিতে ব্যানজা বাভি বলেছেন, মিলিশিয়াদের হামলায় মোট ৬৩ জন নিহত হয়েছেন।

নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল (এনআরসি) এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলো থেকে প্রায় ৫৯ জন বেসামরিক নিহত ও ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ওই অঞ্চলে এনআরসির পরিচালিত একটি স্কুলের দুই শিক্ষার্থীও রয়েছে এবং হামলাকারীরা বন্দুক ও চাপাতি ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে তারা।

উল্লেখ্য, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছে। এখানে তৎপর বেশ কয়েকটি মিলিশিয়া গোষ্ঠীর মধ্যে কোডেকো (সিওডিইসিও) অন্যতম। তাদের আগের হামলায় বাস্তুচ্যুত লোকজন এসে যেসব উদ্বাস্তু শিবিরে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছে সম্প্রতি তারা সেই শিবিরগুলোকে লক্ষ্যস্থল করতে শুরু করেছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটিসহ বিধি নিষেধ ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

ডিবিএন ডেস্কঃ দেশে চলমান মহামারি করোনা ভাইরাসের বিস্তাররোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে চলমান ছুটি আর জনসমাগমে বিধিনিষেধের মেয়াদ আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাব এবং বাংলাদেশে এখনকার সংক্রণ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আগের জারি করা সব বিধিনিষেধ ও নির্দেশনার সঙ্গে দুটি শর্ত সংশোধন করে সার্বিক কার্যাবলি/চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হল। এই বিধিনিষেধ আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

নতুন বিধিনিষেধ সমুহঃ 

# উন্মুক্ত স্থানে ও ভবনের ভেতরে সামাজিক/রাজনৈতিক/ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ১০০-র বেশি জনসমাবেশ করা যাবে না। এসব ক্ষেত্রে যারা যোগ দেবেন তাদের অবশ্যই কোভিভ টিকা সনদ অথবা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর সার্টিফিকেট আনতে হবে।

# সব স্কুল, কলেজ এবং সমপর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কক্ষে পাঠদান বন্ধ থাকবে।

আগের বিধিনিষেধ সমুহঃ 

# দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে। অন্যথায় তাকে আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

# অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে ব্যত্যয় রোধে সারা দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে।

# রেস্তোরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ এবং আবাসিক হোটেলে থাকার জন্য অবশ্যই করোনা টিকার সনদ প্রদর্শন করতে হবে।

# ১২ বছরের ঊর্ধ্বের কোনো ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত তারিখের পরে টিকার সনদ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

# স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দরসমূহে স্ক্রিনিং-এর সংখ্যা বাড়াতে হবে। পোর্টসমূহে ক্রু-দের জাহাজের বাইরে আসার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করতে হবে। স্থলবন্দরগুলোতেও দেশের বাইরে থেকে আসা ট্রাকের সঙ্গে শুধু ড্রাইভার থাকতে পারবে। কোনো সহকারী আসতে পারবে না। বিদেশগামীদের সঙ্গে আসা দর্শনার্থীদের বিমানবন্দরে প্রবেশ বন্ধ করতে হবে।

# ট্রেন, বাস ও লঞ্চে সক্ষমতার অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নেওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকারিতার তারিখসহ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে। সর্বপ্রকার যানবাহনের চালক ও সহকারীদের আবশ্যিকভাবে কোভিড-১৯ টিকার সনদধারী হতে হবে।

# বিদেশ থেকে আগত যাত্রীসহ সবাইকে বাধ্যতামূলক কোভিড ১৯ টিকার সনদ প্রদর্শন এবং র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করতে হবে।

# স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন এবং মাস্ক পরিধানের বিষয়ে দেশের সব মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় ইমামরা সংশ্লিষ্টদের সচেতন করবেন। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা এ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

# সর্বসাধারণের করোনার টিকা এবং বুস্টার ডোজ গ্রহণ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রচার ও উদ্যোগ নেবে। এক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহায়তা গ্রহণ করবে।

# কোভিড আক্রান্তের হার ক্রমবর্ধমান হওয়ায় উন্মুক্ত স্থানে সর্বপ্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা সমাবেশসমূহ পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে।

# কোনো এলাকার ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সেক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

২০২২ সালের একুশে পদক পাচ্ছেন যারা

জাতীয় ডেস্কঃ দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ২৪ বিশিষ্ট নাগরিককে ২০২২ সালের একুশে পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারী) সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এ বছর ভাষা আন্দোলনে দুজন, মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে ৪ জন, শিল্পকলায় ৭ জন, ভাষা ও সাহিত্যে দুজন, সমাজসেবায় দুজন, গবেষণায় ৪ জন (দলগতভাবে তিনজন) একুশে পদক পাচ্ছেন। এ ছাড়া সাংবাদিকতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষায় একজন করে একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

২০২২ সালের একুশে পদক যারা পাচ্ছেনঃ ‘ভাষা আন্দোলন’ ক্ষেত্রে  মোস্তফা এম. এ. মতিন (মরণোত্তর) ও মির্জা তোফাজ্জল হোসেন (মুকুল) (মরণোত্তর)।

‘শিল্পকলা’য় পদক পাচ্ছেন জিনাত বরকতউল্লাহ (নৃত্য), নজরুল ইসলাম বাবু (মরণোত্তর) (সংগীত), ইকবাল আহমেদ (সংগীত), মাহমুদুর রহমান বেণু (সংগীত), খালেদ মাহমুদ খান (খালেদ খান) (মরণোত্তর) (অভিনয়), আফজাল হোসেন (অভিনয়), মাসুম আজিজ (অভিনয়)।

‘মুক্তিযুদ্ধ’ ক্যাটাগরিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান, সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী (মরণোত্তর), কিউ এ বি এম রহমান, আমজাদ আলী খন্দকার পদক পাচ্ছেন।

‘সাংবাদিকতা’য় এম এ মালেক, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’তে মো. আনোয়ার হোসেন, শিক্ষায় অধ্যাপক ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ একুশে পদক পাচ্ছেন।

‘সমাজসেবা’য় একুশে পদক জিতে নিয়েছেন এস এম আব্রাহাম লিংকন ও সংঘরাজ জ্ঞানশ্রী মহাথের। কবি কামাল চৌধুরী ও ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ ‘ভাষা ও সাহিত্য’ ক্ষেত্রে পদক পাচ্ছেন।

এ ছাড়া ‘গবেষণায়’ ড. মো. আবদুস সাত্তার মন্ডল এবং উচ্চফলনশীল জাতের ধান আবিষ্কারের জন্য দলগতভাবে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ড. মো. এনামুল হক (দলনেতা), ড. সহানাজ সুলতানা ও ড. জান্নাতুল ফেরদৌস একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, প্রতিবারের একুশে পদকের জন্য নির্বাচিত প্রত্যেককে এককালীন নগদ ৪ লাখ টাকাসহ ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।

বানিজ্য মন্ত্রীর সফর এবার মৌলভীবাজারে

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে সরকারি সফরে এসেছেন বাংলাদেশ সরকারের বানিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সি এমপি।

বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড় টার দিকে মন্ত্রীর বাসভবন থেকে মৌলভীবাজারের উদ্দেশে রউনা দেন। মৌলভীবাজারে এসে পৌঁছান সন্ধ্যা অব্দি। তার পর রাতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী, টিপু মুনশি এমপি এর সাথে মতবিনিময় সভা মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজের মুন হলে অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসানের সভাপতিত্বে এ আয়োজনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সহধর্মিণী আইরীন মালবিকা মুনশি।

মতবিনিময় সভা শেষে উপস্থিত অতিথিবৃন্দকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান ও তার সহধর্মিণী কবিতা ইয়াসমীন।

আজ বৃহস্পতিবার (৩রা ফেব্রুয়ারি) দুই দেশের মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে কুরমা সীমান্তে, সীমান্তবর্তী বর্ডার হাট নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন বানিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সি এমপি।

আগামীকাল শুক্রবার (৪ঠা ফেব্রুয়ারি)  সকালে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন চা- বাগান পরিদর্শন করবেন। শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) শ্রীমঙ্গল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রউনা দেবেন। এতে বাণিজ্যেরও উন্নতি হবে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সীমান্তবর্তী মানুষ হাতের নাগালে পাবে। সীমান্তে চোরাচালান কমে আসবে। স্থানীয়রা নানা পণ্য হাট থেকে কিনতে পারবে। এতে দু-দেশের মধ্যে ভ্রাতৃত্বও বাড়বে। এছাড়া পর্যটনের ক্ষেত্রেও প্রসারতা লাভ করবে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে দুই দেশের নোম্যান্স ল্যান্ডে ২ একর ভুমিতে কুরমাঘাট-কমলপুর মোড়াছড়া বর্ডার হাট নির্মাণ করা হচ্ছে। ভারতীয় রুপী হিসাবে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা।

আজ বৃহস্পতিবার (৩রা ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই বর্ডার হাটের নিমার্ণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর ফলক স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের বানিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সি এমপি ও ভারতের ত্রিপুরা সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব যৌথভাবে দুটি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) আসনের সংসদ সদস্য ও অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ, জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান সহ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এসময়ে সাথে থাকবেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্র পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কমলগঞ্জের ইসলামপুর কুরমা সীমান্তের ১৯০৩/৩৩ এস পিলারের কাছে এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ধলই জেলার কমলপুর মোড়াছড়া এলাকার নোম্যান্স ল্যান্ড উভয় দেশের সমপরিমাণ ২ একর জায়গায় বর্ডার হাট নির্মাণ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন ও সীমান্ত এলাকায় বৈধ বাণিজ্য নিশ্চিতে ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করেছিল সীমান্ত হাট কার্যক্রম। সীমান্ত হাটের প্রথম যাত্রা শুরু হয় ২০১১ সালের জুলাই মাসে কুড়িগ্রাম জেলার বালিয়ামারি সীমান্তে সোনাভরি নদের তীরে। উদ্দেশ্য ছিল সীমান্তের দুই পাড়ের মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকা’কে চাঙ্গা করে একদিকে তাদের জীবিকার সংস্থান করা এবং অন্যদিকে তাদের জীবন যাত্রার মানের উন্নয়ন। এর অন্য আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল দু’দেশের মানুষের মধ্যে সপ্রীতি, ভালোবাসা এবং ভাতৃত্ববোধ সৃষ্টি করাই মুল লক্ষ্য।

ঠাকুরগাঁওয়ে বিশ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮টি স্কুলের একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে ৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নব-নির্মিত চারতলা একাডেমিক ভবনের  উদ্বোধন করা হয়। বুধবার ২ ফেব্রুয়ারি  দুপুরে  ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভার মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে নব-নির্মিত একাডেমিক ভবনের শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ২০ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এ ৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নব-নির্মিত চারতল ভবন নির্মিত হবে।

জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুহাম্মদ সাদেক কুরাইশী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায়, ত্রাণ ও সমাজক্যালণ বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম স্বপন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি মনসুর আলী, ঠাকুরগাঁও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী ইকবাল প্রমুখ।

উদ্বোধনকৃত বিদ্যালয় সমূহ হলো, পুলিশ লাইন উচ্চ বিদ্যালয়, দৌলতপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ভুলি­ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, লাউথুতি এসসি উচ্চ বিদ্যালয়, কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয়, মহাদেবপুর জলেশ্বরী  বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বালাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও পুরাতন ঠাকুরগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়। এই কাজটি বাস্তবায়ন করবেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর।

অনুষ্ঠানের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষার কার্যক্রম আরও ব্যাপক আকারে প্রসারিত করার জন্য কাজ করছে। এ সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার হিসেবে শিক্ষা সহায়ক সকল প্রকল্প হাতে নিয়েছে। শিক্ষার উন্নয়নে বাজেটে সর্বাধিক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরমধ্যে প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। যাতে শিক্ষার্থীরা সুন্দর পরিবেশে পাঠদান গ্রহণ করতে পারে।

তিনি বলেন, যেমন দেখুন বছরের প্রথম দিন নতুন বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে; যা এই সরকারের কারণেই। নতুন বইয়ের পাশাপাশি উপবৃত্তিসহ সকল প্রকার শিক্ষা উপকরণও বিতরণ করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে যেসব দৃশ্যমান কাজ করেছে যা বিগত কোন সরকার করতে পারেনি।

রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, বিশ্বে করোনা ভাইরাস মহামারিতে প্রায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই শিক্ষা অর্জনে পিছিয়ে পড়েছে। এরপরেও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা করোনা মোকাবেলায় বিশেষ অবদান রেখেছেন। তিনি শিক্ষা, স্বাস্থসহ সর্বোপরি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে অর্থনৈতিক জোন ও শিল্পপার্ক গড়ে তোলার পদক্ষেপ গ্রহণ করে দেশের বেকারত্ব দূর করাসহ বিশ্ববাণিজ্য ক্ষেত্রে অবদান রাখবে। এজন্য শিক্ষার্থীদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরিশিক্ষা গ্রহণের কথা বলেন।

গোপন ভিডিও তথ্য ফাঁস করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পুকুরঘাটে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে তরুণীর গোসলের দৃশ্য ধারণ করা হয়। তারপর সেই দৃশ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৯।

গত মঙ্গলবার (১লা ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে মৌলভীবাজার জেলা সদরের চৌমুহনা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাবের -৯ এর একটি দল। গ্রেপ্তার হওয়া যুবক শেখ মো. শাহেদ সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার আতাশন মোল্লাপাড়া গ্রামের শেখ মো. আব্দুল রকিবের ছেলে।

র‍্যাব-৯ জানায়, ভুক্তভোগী ওই তরুণী ও অভিযুক্ত শাহেদ একে অপরের প্রতিবেশী। বিভিন্ন সময় শাহেদ ওই তরুণীকে প্রেমের প্রস্তাব দিতেন। রাজি না হওয়ায় শাহেদ ওই তরুণীর বাড়ির পুকুরঘাটে গোপন ক্যামেরা লাগিয়ে গোসল করাসহ কাপড় পরিবর্তনের ভিডিও ধারণ করেন। সেই ভিডিও ভিকটিমকে দেখিয়ে শাহেদ একাধিকবার ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে ওই তরুণী শাহেদকে ভিডিও ডিলিট করার কথা বললে তিনি টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে ওই তরুণী নিরুপায় হয়ে বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। মঙ্গলবার রাতে বালাগঞ্জ থানায় ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের ৩ ঘণ্টার মধ্যে আসামীকে মৌলভীবাজার জেলা সদরের চৌমুহনা থেকে শাহেদকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাবের-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের একটি দল। বুধবার (২রা ফেব্রুয়ারি) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

ফুলবাড়ীর এক পুলিশ সদস্যের ব্যতিক্রমী বিদায়ী সংবর্ধনা

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার পূর্ব-ফুলমতি গ্রামের মো.মনিরুজ্জামান মনির। বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগ দেন ১৯৮৪ সালের ৩০ ফেব্রুয়ারী । ৩৯ বছর চাকরিজীবন শেষে বুধবার (২ ফেব্রুয়ারী) ছিলো তার অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার দিন। প্রবীণ এই পুলিশ সদস্যের চাকরি জীবনের শেষ মূহুর্তটি স্মরণীয় করতে বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করে  লালমনিরহাট পুলিশ লাইন। বিদায়ী সংবর্ধনা শেষে ফুল, বাহারী বেলুন ও রঙিন কাগজ দিয়ে সাজানো সরকারি গাড়িতে তাঁকে পৌঁছে দেওয়া হয় তার গ্রামের বাড়ী কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্বফুলমতি গ্রামে। চাকরি জীবনের শেষ দিনে সহকর্মীদের কাছে থেকে এমন সম্মান পাওয়াতে অভিভূত এই প্রবীণ পুলিশ সদস্য।

বুধবার (২ ফেব্রুয়ারী) বিকাল সাড়ে ৩ টায় লালমনিরহাট পুলিশ লাইনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মনিরুজ্জামান মনিরকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মনিরুজ্জামানের হাতে বিদায়ী উপহার তুলে দেওয়া হয়। বিদায় অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্য দেন পুলিশ লাইনের আর,আই কামরুজ্জামান। এ সময় লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতিকুর রহমান, পুলিশ লাইনের আর, ওয়ান ফরহাদ হোসেনসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

বিদায়বেলায় লালমনিরহাট পুলিশ লাইন প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন মুহুর্তের সৃষ্টি হয়। সহকর্মী সবাই মনিরুজ্জামানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। সহকর্মীদের ভালোবাসা ও সম্মানে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পুলিশ সদস্য মনিরুজ্জামান।

মনিরুজ্জামান মনির চাকুরি কালীন সময়ে রাজশাহী, বগুড়া, বান্দরবন, সৈয়দপুর, নীলফমারী, রংপুরসহ পুলিশের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত ছিলেন এবং সবশেষে তিনি লালমনিরহাট জেলা আদালতে কর্মরত ছিলেন।

লালমনিরহাট পুলিশ লাইনের আর,আই মো:কামরুজ্জামান বলেন, সত্যিকার অর্থে বিদায় বেলাটা খুব কষ্টের। তাঁর বিদায় মুহুর্তকে স্মরণ করে রাখতেই মূলত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

আবেগাপ্লুত হয়ে মনিরুজ্জামান মনির বলেন, চাকরি জীবন শেষে সম্মানের সঙ্গে বিদায় নেওয়া অনেক আনন্দের। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতিকুর রহমান ও আই,আই কামরুজ্জামান স্যারসহ অন্যান্য সহকর্মীরা আমাকে অনেক সম্মান জানিয়েছেন। স্যারের গাড়িতে করে আমাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন। বিদায় বেলার এতো বড় সম্মান আমার আজীবন মনে থাকবে।