দেশের যেসব অঞ্চলে অব্যাহত থাকতে পারে শৈত্যপ্রবাহ

সিএনবিডি ডেস্কঃ সারাদেশ জুড়ে চলমান শৈত্য প্রবাহ বেশ কিছু জেলা ও বিভাগে আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ সোমবার (৩১ জানুয়ারি) আবহাওয়া অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সীতাকুন্ড অঞ্চলসহ গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, ফেনী, মৌলভীবাজার, রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও বরিশাল জেলাসমূহ এবং রংপুর বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারী ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

এছাড়া,  সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও নদী-অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র কোথাও কোথাও হালকা মাঝারি ধরনে কুয়াশা পড়তে পারে। আর আগামী ৩ দিনের শেষের দিকে বৃষ্টি হতে পারে বলেও পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

চাচার মৃত্যু শোকে ভাতিজির মৃত্যু

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: চাচার মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা গেলেন ভাতিজি সুজন আক্তার (৩০)। রোজ রবিবার (৩০জানুয়ারী) বাদ জোহর জানাজা শেষে তাঁদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মৃত চাচার নাম হানিফ উদ্দিন (৭০)। তিনি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপির কাঁঠালতলী গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা জানা গেছে, হানিফ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগসহ নানান বয়স্ক জনিত শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। রোজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হৃদরোগ আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। চাচার মৃত্যুর শোক সইতে পারেননি ভাতিজি সুজন আক্তার। তিনি চাচার জন্য কাঁদতে কাঁদতে একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে রাত সাড়ে ৮ টার দিকে তাঁকে বড়লেখা পৌর শহরতলীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত হানিফ উদ্দিনের ছেলে হোসাইন আহমদ রবিবার বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে বলেন, ‘আমার বাবা চাচাতো বোন সুজন আক্তারকে আদর-স্নেহ করতেন। তাঁরও (সুজন) বাবা নেই। অনেক আগে মারা গেছেন। সে জন্য তিনি বাবার মৃত্যুর শোক মানতে পারছিলেন না। কাঁদতে কাঁদতে হাঁপিয়ে উঠেছিল শোক সইতে পারেননি। কাঁদতে কাঁদতে একসময় হৃদরোগ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।’
বড়লেখার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন চাচা-ভাতিজির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হানিফ উদ্দিন খুব ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি হৃদরোগ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুর কিছুক্ষণ পর পরেই ভাতিজিও কাঁদতে কাঁদতে হৃদরোগ আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এই ঘটনা সত্যি আমরাও মর্মাহত।

মেক্সিকোতে একই পরিবারের ৬ সদস্যকে গুলি করে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মেক্সিকোতে একই পরিবারের ৬ সদস্যকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ এবং ২ জন নারী।

গতকাল স্থানীয় সময় রোববার (৩০ জানুয়ারি) দেশটির গুয়ানাজুয়াতো প্রদেশের প্রত্যন্ত একটি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো থেকে জানা গেছে, নিহত ওই ছয়জনকে একটি ভবনের মধ্যেই পাওয়া যায় এবং সকলের শরীরেই গুলির চিহ্ন ছিল। নিহতদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে বলে প্রাথমিক খবরে জানা গেলেও পরে তা নিশ্চিত করা হয়নি।

উল্লেখ্য, মেক্সিকোর গুয়ানাজুয়াতো প্রদেশটি তেল বিশুদ্ধকরণ শিল্পের কারণে খুই বিখ্যাত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মাদক কারবারিদের দ্বন্দ্বের কারণে এটি মেক্সিকোর সবচেয়ে সহিংস প্রদেশগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। সেখানকার দুটি গ্রুপ মাদক পাচার ও তেল চুরি করাসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত। সূত্র: এনডিটিভি।

চাঁদপুরে ডাকাতিয়া নদীতে বাল্কহেড-ট্রলার সংঘর্ষে ৫ শ্রমিক নিহত

অনলাইন ডেস্কঃ চাঁদপুরের মমিনপুর এলাকার ডাকাতিয়া নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড ও মাটিবাহী ট্রলারের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ৫ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ সোমবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক শাহেদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে একই দিন ভোর ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শ্রমিকরা হলেন, কুমিল্লার মুরাদনগরের মো. আউয়াল মাঝি (৬৫), একই এলাকার মো. মোবারক হোসেন (৫৫), তিতাস উপজেলার মো. নাসির উদ্দিন (৩৫), রঘুনাথপুর এলাকার নজরুল (৪০) ও মুরাদনগরের পুকুরিয়া এলাকার আল-আমিন (৩৫)।

কোস্টগার্ডের কন্টিজেন কমান্ডার মো. নাসির উদ্দিন জানান, সকালে বালুভর্তি বাল্কহেড ও মাটিভর্তি ট্রলারের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। এর পর ৬ জন সাঁতরে তীরে উঠলেও ৫ জন নিখোঁজ হন। কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লেফট্যানেন্ট মাশহাদ উদ্দিন নাহিয়ানের নির্দেশে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছি। আমরা একজনের মরদেহ এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

দুর্ঘটনাকবলিত ট্রলার থেকে সাঁতরে তীরে ওঠা শ্রমিকদের একজন ফরিদ হোসেন বলেন, মাটিভর্তি ট্রলার নিয়ে আমাদের সাইট দিয়েই যাচ্ছিলাম। মোমিনপুর এলাকায় পার হওয়ার সময় কুয়াশায় কারণে উল্টো দিক থেকে আসা এমভি ইকবাল হোসেন-১ নামে একটি বালুবাহী বাল্কহেড ট্রলারে ধাক্কা দেয়। এতে আমাদের ট্রলার ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা ১১ জনের মধ্যে পাঁচ জন মারা গেছে।

চাঁদপুর নৌথানার ওসি মো. মুজাহিদুল ইসলাম, জানান, আজ সোমবার ভোরে ঘন কুয়াশার কারণে দেখতে না পেয়ে বাল্কহেড ও ট্রলারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় নিখোঁজ হন ১১ জন। পরে ছয় জন সাঁতরে তীরে উঠলেও ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিপুল পরিমাণ ইয়াবা সহ আটক ১জন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: র‌্যাব-৯ এর হাতে শীর্ষ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হয়েছেন। র‌্যার-৯ এর শ্রীমঙ্গল আঞ্চলিক ক্যাম্পের মৌলভীবাজারে একটি আভিযানিক দল শনিবার (২৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে গোপন তথ্য ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ১ হাজার ৬ পিস ইয়াবাসহ কুলাউড়া জুড়ী এলাকা থেকে ওই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাবু মুন্ডা (৩০) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যার-৯ এর এএসপি (গণমাধ্যম) সোমেন মজুমদার।
তিনি জানান, বাবু মুন্ডা মৌলভীবাজারের জুড়ী এলাকার এলভিন টিলার মৃত মাংরে মুন্ডার ছেলে। মাংরী মুন্ডাকে আটকের পর তার দেহ তল্লাশি করে প্যান্টের পকেট থেকে ৫ টি নীল রঙের পলিপ্যাকে থাকা ১ হাজার ৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
র‌্যার-৯ সূত্র আরো জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবু মুন্ডা দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। জব্দকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটের ওজন ১০০.৬ গ্রাম, যার মূল্য আনুমানিক ৪ লাখ ২ হাজার ৪শ টাকা। বাবু মুন্ডার বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় মাদকদ্রব্য আইনে মামলা করেছে র‌্যার। আজ রবিবার (৩০ জানুয়ারি) আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত আসামীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।

ব্রাজিলের সাও পাওলোতে বন্যা-ভূমিধসে অন্তত ১৯জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ব্রাজিলের সাও পাওলো রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্টি হওয়া বন্যা ও ভূসিধসে ৭ শিশুসহ অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার থেকে টানা বৃষ্টি হচ্ছে দক্ষিন আমেরিকার দেশটিতে। দেশটির জন নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মকর্তারা রবিবার (৩০ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছেন।

সাও পাওলো রাজ্যের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার কবলে পড়ে দুর্ঘটনাজনিত কারণে আহত হয়েছেন আরও নয়জন। এখন পর্যন্ত রাজ্যটিতে নিখোঁজ রয়েছেন আরও চারজন। রাজ্যের পাঁচশ মানুষ অস্থায়ী কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়। এখনও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। ব্যাপক বৃষ্টিপাতের জেরে সৃষ্ট এই দুর্যোগের কারণে প্রায় ৫০০ পরিবার বাড়িঘর হারিয়েছে।

এ ছাড়া বৃহত্তর সাওপাওলোর বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে- আরুজা, ফ্রান্সিসকো মোরাতো, এমবু দাস আর্তেস এবং ফ্রাঙ্কো ডা রোচা। ঝড়ের কবলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে- ভার্জিয়া পাউলিস্তা, ক্যাম্পো লিম্পো পাউলিস্তা, জাউ, কাপিভারি, মোন্তেমোর এবং রাফার্ড এলাকা।

এদিকে সাও পাউলোর গভর্নর জোয়াও ডোরিয়া ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২৭ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর থেকে প্রবল বৃষ্টির কারণে ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলজুড়ে বহু এলাকায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে করে এসব এলাকার কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বন্যার কারণে মিনাস গেরাইস প্রদেশের খনি সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডও স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। সূত্র: রয়টার্স, এবিসি নিউজ।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব করোনায় আক্রান্ত

জাতীয় ডেস্কঃ করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। গত বুধবার তার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

আজ সোমবার সংবাদমাধ্যমকে এ খবর জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিবের একান্ত সচিব (পিএস) মাহমুদ ইবনে কাসেম।

তিনি বলেন, ‘গত বুধবার স্যারের (মন্ত্রিপরিষদ সচিব) করোনা শনাক্ত হয়। তিনি বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি শারীরিকভাবে ভালো আছেন।’

এর আগে শনিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির স্বামী বিশিষ্ট আইনজীবী ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য ড. তৌফিক নেওয়াজ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। এ কারণে আইসোলেশনে রয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের জানান, শিক্ষামন্ত্রীর স্বামীর (ড. তৌফিক নেওয়াজ) কোভিড উপসর্গ ছিল। টেস্ট করানোর পর শনিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে করোনা পজিটিভ আসে। তিনি এখন নার্সদের তত্ত্বাবধানে আছেন। স্বামীর করোনা শনাক্ত হওয়ার খবরে শনিবার রাত থেকে মন্ত্রী আইসোলেশনে আছেন।

বিআরটিএর উদাসিনতায় নওগাঁয় রুট পারমিট বিহীন ট্রাক্টর রাস্তায় যেন মরন ফাঁদ

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ বিআরটির উদাসিনতায় নওগাঁয় রুট পারমিট ও ফিটনেস বিহীন গাড়িতে রাস্তায় যেন মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির এ সময়ে জমি চাষাবাদের জন্য অত্যাধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির প্রয়োজনীয়তা থাকলেও ট্রলি, ট্রাক্টর এবং ভুটভুটির যথেচ্ছা অপব্যবহার হচ্ছে। কৃষি কাজে সহায়ক যন্ত্রপাতিগুলোকে যানবাহনে রূপান্তরিত করে কোন প্রকার নিয়ম নীতি না মেনেই গ্রামীণ সড়কগুলোতে অবাধে চলছে ওই সব যানবাহন। নওগাঁ জেলায় বিভিন্ন সড়কে দেখা মিলেছে খড়,ইট,বালু ও মাটি বহনকারী ট্রলি, ট্রাক্টর ভুটভুটি’র। দিনদিন বেড়েই চলেছে ওই সব অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্য।

অপরদিকে বেপরোয়া চলাচলের কারনে প্রতিনিয়তই ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। সড়ক গুলোতে অকালে ঝরছে তাজা প্রাণ। অনেককেই বরন করতে হচ্ছে পঙ্গুত্ব। কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্য পূরনে এসব যান বিদেশ থেকে আমদানি করার অনুমতি প্রদান করে থাকে সরকার। কৃষি কাজের জন্য এসব পাওয়ারট্রিলার ট্রাক্টর মেশিন ক্রয় করা হলেও অসাধু ব্যবসায়ীরা বডি লাগিয়ে ব্যবহার করছে ইট, বালু, মাটি ,বাঁশ, কাঁচামাল ও সকল প্রকার পণ্যসহ যাত্রী পরিবহনের কাজে। এসকল যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলার কারনে যেমন ঘটছে দুর্ঘটনা ঠিক তেমনি পরিবেশ ও শব্দ দূষনের সাথে সাথে
দ্রুতই নষ্ট হয়ে পরছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট গুলো।

দূষণের কারণে সব ধরনের ট্রাক্টর ও ট্রলি চলাচল অবৈধ ঘোষণা করে সরকার এবং ট্রাক্টর ও ট্রলি আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় কিন্তু সেই আইনের কোন তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের সামনেই অবাধ বিচরণ করছে লাইসেন্স বিহীন চালক দ্বারা চালিত ভয়ংকর এই বাহনগুলো। এসব গাড়ির নেই কোন ফিটনেস ও রেজিষ্ট্রেশন , নেই কোন হর্ণ ও গতি নিয়ন্ত্রক। এসব গাড়ির বিকট শব্দে পথচারী সহ এলাকাবাসীও অতিষ্ঠ। এসব গাড়ি চালাতে লাগছেনা কোন প্রকার ড্রাইভিং লাইসেন্স। যার দরুন প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলছে।

এ বিষয়ে পথচারীরা বলেন, ইট বালু মাটি ভর্তি এসব ট্রাক্টর গাড়ির পেছনে রাস্তায় চলাচল অসম্ভব বিপদজনক। বেপরোয়া গতি ও বিকট শব্দে পরিবেশ ও সড়কগুলোর মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে এবং প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। গ্রামীণ রাস্তাঘাট গুলো চলাচলের জন্য অনুপযোগী হয়ে পরেছে এসব যানবাহনের কারনেই। আর সবসময় প্রশাসনের সামনে দিয়েই চলাচল করছে এ ধরনের যানবাহন। এসব গাড়ির অবিরত চলাচলের কারনে দুর্বিষহ হয়ে উঠছে পথিকের জীবন। অবৈধ এই যানবাহন গুলো বন্ধে প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপ দাবী করেন পথচারী ও সচেতন মহল ।

এ সব ট্রাক্টর চলাচল করার কারণে অনেক রাস্তার কার্পেটিং উঠে গেছে। কোথাও কোথাও খোয়া-বালুর আস্তরণ পর্যন্ত নেই। সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দ। মাঝে মধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। দুই পাশ ভেঙে সঙ্কুচিত হয়ে গেছে রাস্তা। তার পরেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলার কিছু রাস্তা দিয়ে এখন আর যানবাহন চলাচল করছে না। দুর্ঘটনা এড়াতে বিকল্প রাস্তায় চলাচল করছে এলাকার মানুষ। বেহাল এ রাস্তাটি নওগাঁর মান্দা উপজেলার ফেরিঘাট থেকে পাঁঠাকাটা-শিবগঞ্জ হয়ে সংযুক্ত হয়েছে মহাদেবপুর উপজেলা সদরের সঙ্গে। আত্রাই নদীর পূর্বতীরের বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ এটি। প্রয়োজনে কিছু লোক পায়ে হেঁটেই চলাচল করছেন। অথচ একসময় এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ট্রাক, ট্রাক্টর, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, চার্জারভ্যান ও ভটভটিসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করত। নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত হওয়ায় মান্দা-মহাদেবপুর যাতায়াতের জন্য এ রাস্তাটি ব্যবহার করতেন বেশির ভাগ পথচারী।

এলাকাবাসীদের অভিযোগ, নষ্ট হওয়া রাস্তা রক্ষার জন্য বালুবাহী ট্রাক্টর ও ট্রাক বন্ধের দাবিতে একাধীক মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনও হয়েছে। ইটভাটা ও বালুমহালের ইজারাদারগণ অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় ট্রাক্টর গুলো বন্ধ হচ্ছে না। রাস্তাটি সংস্কারের দাবিতেও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেই চলেছে এলাবাসী। বর্তমানে জেলার একাধীক উপজেলায় ট্রাক্টর গুলো মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। রুট পারমিট ও ফিটনেস বিহীন গাড়ি তীব্র যানজটের। ট্রাক্টর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অবৈধ ভাবে রাস্তার দুইপাশে এলোমেলো ভাবে গাড়ি গুলো দাড় করিয়ে রেখে সরু রাস্তাকে আরো সরু করে ফেলেছে তারা। এছাড়া শহরের যানযট থেকে মুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে আছে নগরবাসী। শত চেষ্টা করেও যানযট নিরসন করতে যেন ব্যর্থ হচ্ছে জেলার ট্রাফিক বিভাগ।

নওগাঁ জেলা ট্রাফিক ইনেন্সপেক্টর (টিআই) রেজাউল বলেন, ট্রাক্টর কৃষিকাজে ব্যাবহার করার কথা কিন্তু ট্রলি লাগিয়ে রাস্তা নামিয়েছে। রাস্তা রক্ষার জন্য বালুবাহী ট্রাক্টর ও ট্রাক মেইন রোড়ে চলাচল বন্ধের জন্য আমারা চেষ্টা করছি। চলতি মাসেও ৬০ থেকে ৭০টি মামলা দিয়েছি। ট্রাক্টরের কোন রোডপারমিট না থাকায় পরতে হচ্ছে বেকায়দায়।

বিআরটিএ নওগাঁ উপ-সহকারী পরিচালক স্বদেশ কুমার দাশ জানান, ট্রাক্টর গুলো কৃষিকাজে ব্যাবহার করার জন্য সরকার আমদানি করিয়েছে। সেখানে সরকারি কোন নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে ট্রলি লাগিয়ে রাস্তা নামিয়ে মাটি বহণ করছে। আমরা প্রতিমাসে বিভিন্ন রকম মোবাইকোর্ট পরিচালনা করেও প্রতিকার হচ্ছে না।

রাণীশংকৈলে ১৭ জন বীরাঙ্গনা শীতবস্ত্র পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার ১৭ জন বীরাঙ্গনাকে শীতবস্ত্র দিলেন উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান শেফালী বেগম ও ডাঃ নাসিমা জাহান। রবিবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে পৌরশহরের নিজ বাসায় তারা বিরাঙ্গনাদের হাতে শীতবস্ত্র হিসাবে একটি করে উন্নত মানের চায়না কম্বল তুলে দেন। সেইসাথে বীরাঙ্গনাদের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করেন।

এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিবার ও পরিকল্পনার ডিস্ট্রিক্ট কনসালটেন্ট ডা.নাসিমা আক্তার জাহান । এছাড়াও সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান, বিটিভি জেলা প্রতিনিধি মাসুদ রানা পলক, এশিয়ান টিভি প্রতিনিধি আশরাফুল আলম, দাবানল প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম সুজনসহ স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ডাঃ নাসিমা বলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী সেনাদের অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে যারা এদেশের মানুষের জন্য স্বাধীনতা এনে দিয়েছে তারা কোনভাবেই সমাজের ছিন্নমূল মানুষের মতো জীবন যাপন করতে পারে না। তাদের পাশে আমি সর্বদা আছি । এরই প্রেক্ষিতে ভাইস-চেয়ারম্যান শেফালীর সহায়তায় ১৭ জন বিরাঙ্গনাকে শীতবস্ত্র উপহার দিতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।

এবিষয়ে মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান শেফালী বেগম বলেন, আমি আমার সবটুকু দিয়ে বীরাঙ্গনাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। প্রথম থেকেই তাদের খুঁজে বের করে তাদের তালিকাভুক্ত করেছি। তাদের বিভিন্ন সময় সব ধরনের সহযোগিতা করেছি। তাদের জীবনের ইতিহাস শুনেছি এবং সরকারের সব ধরনের সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমি তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দিয়ে যেতে চাই এবং তাদের জীবনের ইতিহাস শুনে একটি বই প্রকাশ করতে চাই। আমি ইতোমধ্যে ডাঃ নাসিমা আপার সাথে কথা বলেছি এবং তিনি বই প্রকাশ করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন খুব শীঘ্রই তাদেরকে নিয়ে বই প্রকাশ করা হবে।

শীতবস্ত্র পেয়ে বীরাঙ্গনারা ডাঃ নাসিমা ও ভাইসচেয়াম্যান শেফালী বেগমের প্রতি ধ্যন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মৌলভীবাজারে ৬০ ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে নির্দেশনা অমান্য করে মাস্ক পরিধান না করা স্বাস্থ্যবিধি লংঘন ও অমান্য করার জন্য ৬০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ও আদায় করা হয়।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে তদারকি জেলাব্যাপী অভিযানে প্রত্যেক উপজেলায় নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার(ভূমি) ও জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ কর্তৃক অভিযান পরিচালিত মোবাইল কোর্টে স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ করে নির্দেশনা অমান্য করায় রবিবার (৩০ জানুয়ারি)  ৬০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ১৮ হাজার ৭ শত টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।এ অভিযানে সহযোগিতা করেন প্রত্যেক থানার পুলিশের একটি করে দল।

জেলা প্রসাশন সবাইকে সর্তক হওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। স্বাস্থ্যবিধি অমান্যকারীগণকে অর্থদন্ড এবং কারাদন্ড প্রদান করা হবে বলে ও জানায়। জেলা প্রসাশন।