শেরপুরে ৯ লাখ টাকা মূল্যের ভোজ্যতেল সহ দুই প্রতারক আটক

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (রাজশাহী প্রতিনিধি): শেরপুরে প্রতারণার মাধ্যমে নেয়া ৯ লাখ টাকার ভোজ্যতেলসহ প্রতারকচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। ২৮ জানুয়ারী (শুক্রবার ) রাতে শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বিরইল এলাকা থেকে ৩শ ১৬ কার্টুন সয়াবিন তেল এবং ১শ কাটুর্ন কয়েলসহ তাদেরকে গ্রেপ্তার করে শেরপুর থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ভাদাইশপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে কাউসার (২৬) এবং কাজিপুর উপজেলার চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নের হাজরাহাটি গ্রামের মৃত কামাল হোসেনের ছেলে শাহীন (২৫)।

শেরপুর থানা সুত্রে জানা যায়, কাউসার ঢাকা উত্তরার দক্ষিণখানে কনক্রিট সোর্সিং এ চেক দিয়ে ১০ লাখ ৩ হাজার ১শ ৭৮ টাকার সয়াবিন, সরিয়ার তেল ও কয়েল কিনে কৌশলে শেরপুরে নিয়ে আসে। আসার পর টাকা পরিশোধ না করতে মালামালগুলো আত্মসাত করতে নানা তালবাহানা শুরু করলে বিষয়টি পুলিশ জেনে যায়। পরবর্তিতে পুলিশ মালামাল উদ্ধার করে এবং তাদেরকে গ্রেপ্তার করে।

শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ওই প্রতিষ্ঠানের ডেলিভেরী ভ্যান রোকনুজ্জামান (৩২) বাদী হয়ে শেরপুর থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।

ফুলবাড়ীতে সোনালী ব্যাংকের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে সোনালী ব্যাংক ফুলবাড়ী শাখা,কুড়িগ্রামের উদ্যোগে দুঃস্থ, শীতার্ত ও দরিদ্র মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
রবিবার সকাল ১১ টার সময় উপজেলা খাদ্য গুদাম চত্বরে এ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানী সরকার।
বিশেষ অতিথি ছিলেন কুড়িগ্রাম প্রিন্সিপাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ইনচার্জ) মোঃ ওয়াহেদুননবী ফুলবাড়ী শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ শাহিন ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সুধীজন ও সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ছুটির দিনে ঘরেই তৈরি করুন লোভনীয় স্বাদের চিংড়ি মাশরুম

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ চিংড়ি এবং মাশরুম আলাদা আলাদাভাবে খেতে প্রায় সবাই পছন্দ করেন। তবে এই দুইটি একসঙ্গে রান্না করলে অসাধারণ এক লোভনীয় স্বাদের আমেজ পাওয়া যায়। কোভিডকালীন অনেকেই রেস্টুরেন্টে গিয়ে এই আইটেমটি খেতে চাইলেও এখন বাইরে না খাওয়াই ভালো। কিন্তু খেতে তো হবে। তাই চিন্তা করবেন না চাইলে আপনি ঘরেই তৈরি করে নিতে পারবেন চিংড়ি মাশরুম।

আসুন আজ এই রেসিপিটি জেনে নিই-

প্রয়োজনীয় উপকরণঃ মাশরুম- ২০০ গ্রাম, চিংড়ি- ২০০ গ্রাম, পেঁয়াজ- ১০০ গ্রাম আদা, রসুন, জিরা বাটা- ২ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ- ৮ টি, লবণ- স্বাদমতো, সয়াবিন তেল-পরিমাণমতো।

প্রস্তুত প্রনালীঃ প্রথমে চিংড়িগুলো পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। এরপর মাশরুমগুলো টুকরা করে নিন। এবার কড়াইতে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ দিয়ে হালকা ভেজে নিন। এবার তাতে অন্যান্য মসলা দিয়ে নাড়ুন। মসলা কষানো হলে তাতে চিংড়ি দিয়ে দিন। চিংড়ি সেদ্ধ হয়ে গেলে তাতে যোগ করুন টুকরা করে রাখা মাশরুম। এবার তার সঙ্গে মেশান পরিমাণমত পানি, লবণ ও কাঁচা মরিচ। কিছুক্ষণ ঢেকে জ্বালিয়ে নিন। এবার পানি কমে গেলে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন মজাদার স্বাদের চিংড়ি মাশরুম।

স্বাদে অতুলনীয় আত্রাইয়ের নারীদের তৈরি কুমড়ো বড়ি

একেএম কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে শীতের মৌসুম এলেই উপজেলার প্রতিটি গ্রামের নারীরা খাবারে বাড়তি স্বাদ আনতে কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করেন। আর তাই শীত জেঁকে বসায় নওগাঁর আত্রাইয়ের প্রতিটি গ্রামে গ্রামে কুমড়ো বড়ি তৈরির যেন ধুম পড়েছে।

কুমড়ো বড়ি তৈরির উপযুক্ত সময় শীতকাল।শীতের সময় গ্রামের নারীদের কর্ম ব্যস্ততা বেড়ে যায়। তারপরও নিত্যদিনের ছোট কাজও বেশি থাকে। এরই মধ্যেই সব কাজের আগে সকাল বেলা কুমড়ো বড়ি তৈরি করেন গ্রামের নারীরা বেশি ভাগ।কুমড়ো বড়ি তরকারীর একটি মুখ রোচক খাদ্য। এতে তরকারীর স্বাদে যোগ হয় নতুন মাত্রা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা মিলে, উপজেলার শত শত নারীরা কুমড়ো বড়ি তৈরির কাজে জড়িত রয়েছেন। শীতের আগমনের সাথে সাথে কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব্যস্ততা বেড়ে যায় তাদের মাঝে।বর্ষাকাল বাদে বাঁকি মাস গুলোতে কম বেশি কুমড়ো বড়ি তৈরি করা হয়। আশ্বিন মাস থেকে ফ্লাগুন এই ছয় মাস কুমড়ো বড়ি তৈরির ধুম পড়ে যায়। শীতকালে কুমড়ো বড়ি তৈরির ভরা মৌসুম। এ সময় গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে কম বেশি কুমড়ো বড়ি তৈরি করা হয়। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাঁকিটা বাজারে বিক্রি করেন। শীতের সময় কুমড়ো বড়ির চাহিদা থাকে বেশি,আর গ্রামাঞ্চলের নারীরা বাড়তি আয়ের জন্য কুমড়ো বড়ি তৈরি করেন।

কুমড়ো বড়ি তৈরির প্রধান উপকরণ মাসকলাইয়ের ডাল আর চাল কুমড়া এর সঙ্গে সামান্য মসলা। বাজারে প্রতি কেজি মাসকলাই একশত থেকে এক শত বিশ টাকা আর চাল কুমড়া পনের থেকে বিশ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সাইজ হিসাবে চালকুমড়া পঞ্চাশ টাকা থেকে সত্তর টাকার মধ্যে ক্রয় করা যায়। পাঁচ কেজি চালকুমড়ার সঙ্গে দুই কেজি মাসকলাইয়ের ডাল মিশ্রণে কুমড়ো বড়ি ভালো হয়। প্রথমে মাসকলাই রৌদ্রে শুঁকিয়ে যাতায় ভেঙ্গে পরিস্কারকরে বা না ভেঙ্গে পানিতে ভিজিয়ে রেখে খোসা ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টা মাসকলাই পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। তার পর ঢেঁকি বা শিল-পাটায় পিষে নিয়ে কুমড়ো বড়ির মিশ্রণ তৈরি করা হয়।

তবে এখন অধুনিকের ছোঁয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুমড়ো বড়ি তৈরির মেশিন স্থাপনের পর থেকে সকলেই মেশিনে মাড়াই করে মাসকলাই ও কুমড়ার মিশণ করা হচ্ছে। এরপর দুইটির মিশ্রণে কুমড়ো বড়ির উপকরণ তৈরি করা হয়। রৌদ্রউজ্জ্বলফাঁকা স্থান, বাড়ির আঙ্গিনা, ছাদ বা খোলা জায়গায় ভোর থেকে বড়ি তৈরি করা শুরু হয়।পাতলা কাপড়ে সারি সারি বড়ি বসানো হয়। কুমড়ো বড়ি বসানোর পর দুই-তিন দিন পর্যন্ত একটানা রৌদ্রে শুকানো হয়। সূর্যের আলো কম হলে তিন-থেকে চার দিন পর্যন্ত শুকাতে সময় লেগে যায়। শুকানোর পর কাপড় থেকে বড়ি উঠিয়ে পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়।

গ্রামের পিছিয়ে পড়া অনেক নারীরা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে শ্রমদিয়ে অনেক বছর ধরে এ কুমড়ো বড়ি তৈরির কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ পালপাড়া গ্রামের ত্রিশ-চল্লিশটি পরিবার।

ওই গ্রামের নারী কারিগর সুমতিরানী মহন্ত বলেন, আগে কুমড়ো বড়ি ব্যবসায়ী পরিবার গুলো প্রথম অবস্থায় তেমন স্বচ্ছল ছিল না। এখন অনেকেই কুমড়ো বড়ির ব্যবসা করেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। তিনি আরো বলেন, পাঁচ কেজি কুমড়ার সাথে দুই কেজি মাসকলাইয়ের কুমড়ো বড়ি ভালো তৈরি হয়। আগে মাসকলাই পানিতে ভিজিয়ে পরিস্কার করা হয়, আর ঢেঁকিতে বা পাটায় বেটে বড়ি তৈরি করতে প্রচুর পরিশ্রম হতো সেই সঙ্গে অনেক সময় লাগতো। এখন খোসা ছাড়ানো মাসকলাই বাজারে ক্রয় করতে পাওয়া যায়।মাসকলাই পানিতে ভিজিয়ে মেশিনের সাহায্যে মাড়াই করতে অল্প সময়ে বড়ি তৈরি করা খুব সহজ হয়েছে। এতে করে অল্প সময়ে প্রচুর পরিমান কুমড়ো বড়ি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এক কেজি কুমড়ো বড়ি তৈরি করতে প্রায় একশত বিশ টাকার মতো খরচ হয়। আর বাজারে দুই শত থেকে দুই শত পঞ্চাশ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি আয় করা সম্ভব হচ্ছে।

উপজেলার সাহাগোলা ইউনিয়নের মির্জাপুর পালপাড়া গ্রামের কুমড়ো বড়ির ব্যবসায়ী নারায়ন চন্দ্র ও ভোঁপাড়ার তিলাবাদুরী গ্রামের কুমড়ো বড়ি ব্যবসায়ী সুশান্ত কুমার বলেন, এখানকার কুমড়ো বড়ি খুব সুস্বাদু হওয়ায় এ অঞ্চলের বড়ি এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ জেলায় পাঠানো হয়। বিশেষ করে ঢাকায় ও চট্রগ্রাম, বরিশাল, নারায়নগঞ্জ এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

এছাড়াও কুমড়ো বড়ি ব্যবসায়ীরা আরো জানান, এটি সারা বছরজুড়ে তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু শীতকালে এর কদর বেশি হয়। কারণ শীতের সময় রান্না করে খেতে এরমজাই আলাদা। তাদের কুমড়ো বড়ি বানানো থেকে শুরু করে সব কাজ বাড়ির মেয়ে বা নারী শ্রমিকরা করে থাকেন। কুমড়ো বড়ি তৈরি করতে নারী শ্রমিকদের মজুরীও কম।

উপজেলার কৃষি অফিসার কৃষিবিদ কে এম কাওছার হোসেন জানান, শীত মৌসুমে গ্রামের নারীরা কুমড়ো বড়ি তৈরি করে বাড়তি আয় করছে। গ্রামীণ নারীরা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

ঘোড়া দিয়ে হাল চাষ করে দিব্যি সংসার চালাচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের ভূষণ রায়

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ধন্দোগাঁও গ্রামের কৃষক ভূষণ চন্দ্র। বর্তমানে তিনি ঘোড়া দিয়ে হালচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

এক সময় গরু দিয়ে অন্যের জমিতে হাল চাষ করতেন ভূষণ চন্দ্র। পারিবারিক সমস্যার কারণে একটি গরু বিক্রি করে দেওয়ায় হাল চাষ করা বন্ধ হয়ে যায় তার৷ পরে তিনি অপর গরুটি বিক্রি করে দুটি ঘোড়া ক্রয় করেন ৷ বর্তমানে ঘোড়া দিয়ে দিব্যি হালচাষ করছেন তিনি ৷

কৃষক ভূষণ বলেন, আমি গত এক বছর থেকে ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ করে আসছি৷ শুরুতে ঘোড়াগুলোকে হালের কসরত শেখাতে অনেক কষ্ট হয়েছে। বউকে সাথে নিয়ে আমি ঘোড়াগুলোকে আয়ত্ত করার চেষ্টা করেছি৷ ঘোড়ার কাধের উপর  লাঙল-জোঁয়াল জুড়ে দিয়ে অনেকবার চেষ্টা করার পর আয়ত্তে আসে। এই ঘোড়ার হাল দিয়ে নিজের যেটুকু আছে সেই জমির পাশাপাশি অন্যের জমি বেশী চাষাবাদ করছি ৷ প্রতি বিঘা জমি চাষ করতে নিচ্ছি ৫০০ টাকা ৷ এতে যা আয় হয় তা  দিয়ে পরিবার  চালাই। বৃহস্পতিবার ২৭ জানুয়ারি সরেজমিনে গিয়ে ভূষণের ঘোড়া দিয়ে হাল চাষের এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।

ওই এলাকার কৃষক রমজান বলেন,আগে আমি মহেন্দ্র দিয়ে জমিতে হালচাষ করতাম। এখন ঘোড়া দিয়ে হালচাষ করাছি। এতে করে চাষ করার সময় জমির অনেকটা গভির থেকে চাষ হচ্ছে এবং সাশ্রয়ী। আমি আশা করছি ফলনও ভাল হবে ৷

কৃষক মনসুর আলী বলেন, আমরা এর আগে গরু দিয়ে হালচাষ করতাম৷ এখন আমরা ঘোড়া দিয়ে হালচাষ করাছি। হাল অধিক গভির হওয়ায় মাটির উর্বরতা বাড়বে বলে আশা করছি ৷ এছাড়াও ঘোড়া দিয়ে হাল চাষ করায় একটি আলাদা অনুভূতির সৃষ্টি হচ্ছে এবং আনন্দ লাগছে৷ বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজনও দেখতে আসছে।

এলাকার ধনেশ্বর রায় বলেন, আগে ঘোড়া ব্যবহার করা হত মালামাল টানার জন্য। আর আধুনিক যন্ত্রাংশ দিয়েই মূলত হালচাষ করা হয়৷ কিন্তু ধন্দোগাঁও গ্রামের কৃষক ভূষণ চন্দ্র রায় ঘোড়া দিয়ে হাল চাষ করে চমক সৃষ্টি করেছেন। আমার জানামতে এটি ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম ঘোড়া দিয়ে হাল চাষ৷ যেখানে বর্তমানে হালচাষে এক জোড়া গরুর দাম ১ লাখ টাকার উপরে সেখানে এক জোড়া ঘোড়া হাল ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। যেটি অনেক সাশ্রয়ী ও জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে উপকারী। আর সাধারণ মানুষ উৎসুক হয়ে এটি দেখতে আসছে ৷ এবং বিরল প্রকৃতির হওয়াতে কৃষকের চাহিদাও প্রচন্ড।

থাইল্যান্ডে বসতবাড়িতে গাঁজা চাষের অনুমোদন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে গত মাসে মাদকের তালিকা থেকে গাঁজাকে বাদ দিয়েছে থাইল্যান্ড। এবার বসতবাড়িতে এটি চাষের অনুমোদন দিয়েছে দেশটি। এর আগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে ২০১৮ সালে চিকিৎসা ও গবেষণাকার্যের স্বার্থে মারিজুয়ানা ব্যবহারের বৈধতা দিয়েছিল দেশটি। খবর-সিএনএন’র।

থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আনুতিন চরনভিরাকুল সাংবাদিকদের জানান, নতুন আইন অনুযায়ী গৃহস্থালিতে গাঁজা চাষ করা যাবে। কিন্তু যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছাড়পত্র না নিলে বাণিজ্যিক উদ্দেশে গাঁজা ব্যবহার করা যাবে না।

তবে আইনটি এখনও গেজেট আকারে প্রকাশ হয়নি। রাজকীয় গেজেটে প্রকাশের ১২০ দিন পর বাড়িতে গাঁজা চাষ করা যাবে বলে আইনে উল্লেখ আছে।

এদিকে, থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চলতি সপ্তাহে সংসদে আরেকটি পৃথক বিলের খসড়া উত্থাপন করেছে। পৃথক এ খসড়া বিলে গাঁজার ব্যবহার, বাণিজ্যিক চাষ ও বিক্রি সম্পর্কে নির্দেশনা রয়েছে।

খসড়া বিলটিতে বলা হয়েছে, সরকারকে না জানিয়ে বাড়িতে গাঁজা চাষ করলে ২০ হাজার থাইমুদ্রা জরিমানা দিতে হবে। এছাড়া লাইসেন্স ছাড়া গাঁজা বিক্রি করলে ৩ বছরের জেল বা ৩ লাখ থাইমুদ্রা বা উভয়দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

সুত্রঃ সিএনএন।

চট্টগ্রামে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ৪

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের জোড়ারকুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আশিক গণমাধ্যমকে বলেন, সাতকানিয়া থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ৪ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সাতকানিয়া সার্কেল এএসপি মোহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় নৌকার প্রার্থী আক্তার হোসেন ও মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জসিম উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সংসদে নির্বাচন কমিশন গঠন আইন পাস

জাতীয় ডেস্কঃ আজ বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) একাদশ জাতীয় সংসদের ষোড়শতম অধিবেশনে বহুল আলোচিত নির্বাচন কমিশন গঠন আইন পাস হয়েছে। এ বিলটি পাসের ফলে স্বাধীনতার ৫০ বছর পর নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত আইন পেল জাতি। প্রথমে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিলটির সংশোধনী উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পাস হয়।

এদিন আইন, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয় সকালে। বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক সংবিধানের ১১৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে, সংসদে উত্থাপিত এ বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটি উত্থাপিত বিলে দুটি সংশোধনী এনে পাসের সুপারিশ করলে ধারা দুটি সংশোধন করে।

বিলে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের শূন্যপদে নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতি এ আইনে বর্ণিত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নাম সুপারিশের উদ্দেশ্যে ছয় সদস্যের সমন্বয়ে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করবেন। কমিটিতে থাকবেন- প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক, যিনি এর সভাপতিও হবেন। প্রধান বিচারপতি মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রপতি মনোনীত দুজন বিশিষ্ট নাগরিক।

বিলে বলা হয়, অনুসন্ধান কমিটি তাদের সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করবে। অন্যূন তিন সদস্যের উপস্থিতিতে অনুসন্ধান কমিটির সভার কোরাম হবে। কমিটির সভায় উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী সদস্যের দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকবে। অনুসন্ধান কমিটি গঠনের ১০ কার্যদিবসের মধ্যে এর সুপারিশ রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করবে।

অনুসন্ধান কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলীতে বলা হয়েছে, অনুসন্ধান কমিটি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করবে এবং এ আইনে বর্ণিত যোগ্যতা, অযোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, সততা ও সুনাম বিবেচনা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগদানের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে।

অনুসন্ধান কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের উদ্দেশ্যে এ আইনে বর্ণিত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অনুসন্ধান করবে এবং এজন্য রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবী সংগঠনের কাছ থেকে নাম আহ্বান করতে পারবে। অনুসন্ধান কমিটি প্রতিটি শূন্যপদের বিপরীতে রাষ্ট্রপতির কাছে দুজন ব্যক্তির নাম সুপারিশ করবে।

এছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারের যোগ্যতায় বলা হয়েছে- তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। তার বয়স হতে হবে ন্যূনতম ৫০ বছর। কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধা-সরকারি বা বেসরকারি পদে অন্যূন ২০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

রাস্তায় চলবে, উড়বে আকাশে গাড়ি!

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ এখন থেকে রাস্তায় চলার পাশাপাশি আকাশেও উড়বে গাড়ি। না শুনতে সায়েন্সফিকশন টাইপ লাগলেও সম্প্রতি নতুন একটি গাড়ি আকাশে ওড়ার অনুমতি দিয়েছে স্লোভাকিয়া সরকার। একটি বিশেষ সুইচ চাপলেই সড়কে থেকে আকাশে উড়াল দেবে এই গাড়িটি। এ জন্য সময়ও লাগবে মাত্র দুই মিনিট ১৫ সেকেন্ড।

‘এয়ার কার’ নামে এই উড়ন্ত গাড়িটি তৈরি করেছেন স্টেফান ক্লেইন। গাড়িটি ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ৭০ ঘণ্টা আকাশে ওড়ার পাশাপাশি ২০০ বার উড্ডয়ন ও অবতরণ করেছে। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সফলভাবে আকাশে ওড়ার স্বীকৃতিও পেয়েছে উড়ন্ত গাড়িটি।

স্টেফান ক্লেইন জানান, নিজের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করতে উড়ন্ত গাড়িটি তৈরি করেছেন তিনি। এ জন্য নিজে প্রতিষ্ঠা করেছেন ক্লেইন ভিশন নামে প্রতিষ্ঠান। গত বছরের জুনে পরীক্ষামূলকভাবে ৩৫ মিনিট এটি নিয়ে আকাশে উড়েছিলেন তিনি। স্লোভাকিয়ার পরিবহন কর্তৃপক্ষের এ স্বীকৃতি ভবিষ্যতে তাকে বাণিজ্যিকভাবে এই উড়ন্ত গাড়ি তৈরিতে সহায়তা করবে বলে আশা করেন।

স্পোর্টস কারের আদলে তৈরি উড়ন্ত গাড়িটি সর্বোচ্চ আট হাজার ফুট উঁচুতে ১৬০ কিলোমিটার (১০০ মাইল) গতিতে চলতে পারে। পুরোদস্তুর উড়োজাহাজের মতোই ওঠানামা করতে সক্ষম হলেও গাড়িটির জ্বালানি পেট্রোল পাম্প থেকেই নেওয়া যাবে। তবে চালকের প্রয়োজন হবে পাইলটের লাইসেন্স।

উল্লেখ্য, উড়ন্ত গাড়ির প্রদর্শনী বিশ্বে এটিই প্রথম নয়। ২০১৮ সালে ড্রোনের মতো দেখতে একটি ফ্লায়িং-ট্যাক্সির প্রোটোটাইপ সামনে এনেছিল উবার। তবে এখনও চূড়ান্ত সম্মতির ধাপ পার হতে পারেনি তারা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রেও টেরাফিউজিয়া নামে একটি প্রতিষ্ঠানের উড়ন্ত গাড়ি এয়ারওর্দিনেস সনদ পেয়েছে।

সূত্র: ডয়েচে ভেলে, সিএনএন, বিবিসি।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলার ছুঁয়েছে

সিএনবিডি ডেস্কঃ বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবার নতুন এক মাইলফলক ছুঁলো। ২০১৪ সালের পর অপরিশোধিত তেলের দাম এই প্রথম প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলার ছুঁয়েছে। যদিও বুধবার দিন শেষে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ দশমিক ৯৬ ডলারে স্থির ছিল। এদিন ব্রেন্টের দাম বেড়েছে ২ শতাংশ বা ১ দশমিক ৭৬ ডলার।

এছাড়া, ২ শতাংশ দাম বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটেরও (ডব্লিউটিআই)। বুধবার ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১ দশমিক ৭৫ ডলার বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮৭ দশমিক ৩৫ ডলারে বিক্রি হয়েছে।

এদিকে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমাদের উত্তেজনা বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে আশঙ্কায় তেলের দাম বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় আগে থেকেই সংকটে থাকা জ্বালানি তেলের বাজারে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মাসিক তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে ওপেক প্লাস। যুক্তরাষ্ট্রে আগের রেকর্ডের তুলনায় দৈনিক প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল কম উৎপাদন হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ১০০ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। এর আগের দুই বছর ব্যারেলপ্রতি গড় দাম ছিল ১১০ ডলার। সূত্র: রয়টার্স।