ঘর পেলে কদিন বেঁচে থাকতে পারবো

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার সদর ইউনিয়নের গৃহহীন এক অসহায় বৃদ্ধা হলেন মানোদা মালাকার (৮০)। যার নেই কোনো ঘরবাড়ি। জীর্ণশীর্ণ একটি অস্থায়ী ভাড়াটে কুঁড়েঘরে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছেন তিনি। স্বামী মারা যাওয়ার পর ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনোমতে জীবন চলছে তাঁর।

বৃদ্ধা মানোদার পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার রাজু। সম্প্রতি মানোদাকে ভিক্ষাবৃত্তির সময় দেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান প্রটোকল অফিসার-২ আবু জাফর রাজু। খোঁজ নিয়ে সেই গৃহহীন মানোদার পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসলেন আবু জাফর রাজু।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে ওই বৃদ্ধার অস্থায়ী ঘরে গিয়ে তাঁর হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার তুলে দেন আবু জাফর রাজু। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ওই বৃদ্ধা মানোদাকে একটি ঘর তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন আবু জাফর রাজু।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মানোদা মালাকার উপজেলার কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত জগেন্দ্র মালাকারের স্ত্রী। ৩০ বছর আগে তাঁর স্বামী মারা যান। তাঁর তিন ছেলে সন্তান রয়েছে। বড় দুই ছেলে মায়ের কোনো খোঁজ না রাখায় ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নেন তিনি। বর্তমানে কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের নাজিরের চক গ্রামে একটি ভাড়াটে ঘরে থাকেন ছোট ছেলে রশু মালাকারের পরিবারের সঙ্গে। বছর খানেক আগে ছোট ছেলে রশু মালাকার মারা যাওয়ায় বিপাকে পড়ে যান মানোদা ও রশু’র স্ত্রী সন্তানরা। মৃত্যুর আগে বৃদ্ধার ছোট ছেলে রশু মালাকার রিকশা চালিয়ে নিজের পরিবার ও তার মায়ের ভরণপোষণ চালাতেন।

মানোদার বড় ছেলে বারিন্দ্র মালাকার পার্শ্ববর্তী জুড়ী উপজেলায় ও ২য় ছেলে নৃপেন্দ্র মালাকার কুলাউড়ার পৌর শহরের শিবির এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। কিন্তু তাঁরা নিজের মা মানোদার কোনো খোঁজ নেন না। অসহায় বৃদ্ধা মানোদাকে ভিক্ষাবৃত্তির সময় দেখতে পান প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ আবু জাফর রাজু। খোঁজ নিয়ে সেই অসহায় বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ালেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দুইটি শাড়ি, তিনটি কম্বল ও নগদ কিছু টাকা উপহার হিসেবে তুলে দেন। এসময় তিনি ওই বৃদ্ধা মহিলাকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি ঘর তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

বৃদ্ধা মানোদা মালাকার বলেন, বার্ধক্যজনিত কারণে শরীরে নানা রোগ বাসা বেঁধেছে। মানুষের কাছ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে কোনোমতে চলি। তার ওপর ‘নিজের একটি ঘর নাই। অন্যের জায়গায় ভাঙা বেড়ার ঘরে থাকি। বৃষ্টি ও শীতের মাঝে খুব কষ্ট হয়।’ এখন একটি ঘর পেলে মরার আগে কিছুদিন শান্তিতে থাকতো পারবো।

বৃদ্ধার পুত্রবধূ ও ছোট ছেলে মৃত রশু’র স্ত্রী জয়ন্তী মালাকার জানান, স্থানীয় এক ব্যক্তির জায়গায় একটি জরাজীর্ণ ঘরে তিন শ টাকা মাসিক ভাড়ায় বসবাস করছি। স্বামী মারা যাওয়ার পর আমার দুই মেয়ে মানুষের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার ও এক ছেলে বাজারের একটি চা-দোকানে কাজ করে কোনোমতে বেঁচে থেকে পরিবার চালাচ্ছেন। অসুস্থ শাশুড়ির ভরণপোষণ ও চিকিৎসা খরচ চালানো অনেক কষ্টের। সরকারের পক্ষ থেকে যদি একটি স্থায়ী ঘর পাওয়া যায় তাহলে মাথা গুজার ঠাঁই হবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ মো. আবু জাফর রাজু বলেন, ‘সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে স্থানীয় কুলাউড়ার জনতাবাজার হয়ে যাচ্ছিলাম। এমন সময় এক বৃদ্ধা মহিলাকে রাস্তায় বসে থাকতে দেখি। বয়সের ভারে ন্যূব্জ ওই নারী রাস্তায় দাঁড়িয়ে সাহায্য চাচ্ছেন। বিষয়টি আমার কাছে খুব হৃদয়বিদারক। তাৎক্ষণিক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কিছু উপহার উনার জন্য নিয়ে যাই। ওই মহিলার পুনর্বাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মুজিববর্ষে একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

রাণীশংকৈলে বীর মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পৌরশহরের ঈদগাঁও পাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোবারক আলী (৭৮) বুধবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় দিনাজপুর আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহে…রাজেউন)  ভোরে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত তাঁকে ওই হাসপাতালে নেয়া হয়।

তিনি স্ত্রী ও ৫ ছেলেসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। এদিন বিকাল ৩ টায় তার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা সম্পন্ন হয়।

এ সময় সাবেক সাংসদ অধ্যাপক ইয়াসিন আলী, উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না, ইউএনও সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিভ, আ’লীগ সভাপতি অধ্যক্ষ সইদুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান ও থানা পুলিশসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

পরে জানাযা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে আরএসডিও’র উদ্যোগে করোনা প্রতিরোধ সামগ্রী বিতরণ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ সারাদেশে নতুন করে করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ের বেসরকারি সংস্থা রুর‌্যাল স্যোশাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (আরএসডিও’র) উদ্যোগে বিনামূল্যে মাস্ক, স্যানিটাইজার ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

বুধবার (১৯ জানুয়ারী) দুপুরে শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌরাস্তায় ঘন্টাব্যাপী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামুলক প্রচারণা ও বিনামূল্যে মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইকলিমা খাতুন মিনা। এসময় সংস্থার ভলেন্টিয়ার টিম ও অফিস স্টাফরা উপস্থিত ছিলেন।

সচেতনতামুলক প্রচারাভিযানকালে আরএসডিও’র নির্বাহী পরিচালক ইকলিমা খাতুন মিনা বলেন, সারা দেশে নতুন করে করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাব দেখা দিয়েছে। দিন দিন করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। কাজের জন্য বাসা থেকে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পড়তে হবে, সঠিক নিয়মে হ্যান্ড স্যানিটাইজ করতে হবে। আমরা সকলে মিলে যদি সচেতন হই তবেই নিজেদের করোনার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবো। এতে ভালো থাকবো আমরা, ভালো থাকবে দেশ।

ঠাকুরগাঁওয়ে বিশ্ব প্রিন্টার্স প্রেসের উদ্বোধন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে বুধবার ১৯ জানুয়ারি বিকেল বিশ্ব প্রিন্টার্স নামক প্রেসের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের রামবাবুর ভবনে পিভিসি, প্যানা ফ্ল্যাক্স, ষ্টিকার, ফেষ্টুন ও ব্যানার ডিজিটাল মেশিনে তৈরীর প্রতিষ্ঠান বিশ্ব প্রিন্টার্স এর শুভ উদ্বোধন করেন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার।
এ সময় প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বিশ্বনাথ রায়। একইসাথে পৌর শহরের বিভিন্ন কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও প্রেসের মালিক কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দুপুরে এ উপলক্ষে এক মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

দেশে হু হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ

সিএনবিডি ডেস্কঃ দেশে চলমান মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘন্টায় আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ১৭৬ জনে। আর একই সময়ে নতুন করে আরও ৯ হাজার ৫০০ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এতে করে দেশে করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৪২ হাজার ২৯৪ জনে।

আজ বুধবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে, মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয় ও নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৪০৭ জন। গত সোমবার ৬ হাজার ৬৭৬ জন রোগী শনাক্ত ও মৃত্য হয় ১০ জনের।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয় ৩৭ হাজার ৮৩০ জনের। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২৫ দশমিক ১১ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪৭৩ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ২৬৮ জন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের  ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ঠিক ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

স্পেনে বৃদ্ধাশ্রমে অগ্নিকাণ্ডে ৫ জনের মৃত্যু, উদ্ধার ২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ স্পেনের একটি বৃদ্ধাশ্রমে আগুন লেগে পাঁচ জনের মৃত্যু এবং আরও কয়েক জন আহত হয়েছে। আজ বুধবার (১৯ জানুয়ারী) ভোরে দেশটির জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, এই অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এক টুইট বার্তায় জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার মধ্যরাতে ভ্যালেন্সিয়ার মনকাডার ওই বৃদ্ধাশ্রমে আগুন লাগে। দমকল বিভাগের ছয়টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ওই বার্তায় জানানো হয়েছে, ৫ জন মারা গেছে আর শ্বাসনালীতে ধোঁয়া প্রবেশ করায় ১৫ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

দমকলকর্মীরা অগ্নিকাণ্ড থেকে ২৫ জনকে উদ্ধার করে আর বৃদ্ধাশ্রমের বাকি ৭০ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দমকলকর্মীদের সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয় বৃদ্ধাশ্রমের কর্মী এবং পুলিশ সদস্যরা। দ্বিতল ভবন থেকে বয়স্ক বাসিন্দাদের সরিয়ে আনেন তারা।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে একটি অক্সিজেন ইউনিটে শর্ট সার্কিট তেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

সূত্র: এএফপি।

প্লাস্টিকের সুতার সূত্র ধরেই শিমু হত্যার রহস্য উদঘাটন

বিনোদন ডেস্কঃ একটি প্লাস্টিকের সুতার (দড়ি) সূত্র ধরেই উদঘাটিত হয়েছে অভিনেত্রী শিমু হত্যার মূল রহস্য বলে জানিয়েছে ঢাকা জেলা পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনে কলহ থাকায় শিমুকে হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেছেন এই অভিনেত্রীর স্বামী নোবেল। আর হত্যার পর লাশ গুমের জন্য বন্ধু ফরহাদের সহযোগিতা নেন তিনি।

পুলিশের তদন্ত সূত্র জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পর তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে শিমুর পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। এরপর ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে ও শিমুর বাসায় গিয়ে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে। এ সময় একটি প্লাস্টিকের সুতার (দড়ি) সূত্র ধরে উদঘাটিত হয় হত্যার মূল রহস্য। লাশ গুম করতে বস্তা দুটি যে প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে সেলাই করা হয়েছিল, সেই দড়ির হুবহু এক বান্ডিল শিমুর স্বামী নোবেলের গাড়িতে পাওয়া যায়। দুর্গন্ধ দূর করতে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে গাড়িটি ধোয়া হয়।

জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে শিমুকে হত্যা করেছে স্বামী। গত রোববার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে ৮টার দিকে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। এরপর বন্ধুকে মুঠোফোনে কল করে ডেকে আনেন শিমুর স্বামী।

মরদেহ গুমের বিষয়ে পুলিশের ওয়েবসাইটে বলা হয়, পরিকল্পনা করে বাইরে থেকে বস্তা এনে শিমুর লাশ লম্বালম্বিভাবে দুটি পাটের বস্তায় ভরে প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে সেলাই করেন স্বামী ও তার বন্ধু। বাড়ির দারোয়ানকে নাশতা আনতে বাইরে পাঠিয়ে দেন তারা। এরপর নিজের ব্যক্তিগত গাড়ির পেছনের আসনে অভিনেত্রীর লাশ নিয়ে বেরিয়ে যান। প্রথমে মিরপুরের দিকে গিয়েছিলেন দুই আসামি। কিন্তু সেখানে লাশ গুমের উপযুক্ত পরিবেশ না পেয়ে বাসায় ফেরেন তারা। ১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় আবার লাশ নিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, বছিলা ব্রিজ হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কদমতলী এলাকার আলীপুর ব্রিজ যান। সেখানে ৩০০ গজ দূরে সড়কের পাশে ঝোপে লাশটি ফেলে চলে যান শিমুর স্বামী ও তার বন্ধু। তখন বাজে রাত সাড়ে ৯টা।

পুলিশ জানিয়েছে, দুই আসামিই মাদকাসক্ত ও বেকার। তবে অভিযুক্ত বা তাদের পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) তাদের আসামি করে নিহতের বড় ভাই শহীদুল ইসলাম খোকন বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া নোবেল ও ফরহাদকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। পরে আদালত তাদের দুইজনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

কক্সবাজারের টেকনাফে ২২ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদীর জালিয়ার দ্বীপ এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ কেজি আইস (ক্রিস্টাল মেথ) ও ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা।

আজ বুধবার (১৯ জানুয়ারি) ভোরে ওই এলাকা থেকে এসব মাদক উদ্ধার করা হয়। এ সময় কাউকে আটক করা যায়নি।

অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার বলেন, আজ বুধবার ভোরে মাদকের একটি চালান পাচারের সংবাদ পেয়ে টেকনাফের উত্তরে মায়ানমার সীমান্ত এলাকায় জালিয়ার দ্বীপে একটি দল অভিযান চালায়।

তিনি আরও বলেন, তল্লাশি চালিয়ে একটি প্যাকেটের ভেতর থেকে ৪ কেজি ক্রিস্টাল মেথ ও ৫০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। যার বাজার মূল্য ২২ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে এসব মাদক বিজিবির সদর দপ্তরে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ধ্বংস করা হবে।

মৌলভীবাজারে করোনা সংক্রমনের হার বেড়ে চলেছে

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক ভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ জেলায় ২৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) জেলা সিভিল সার্জন চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ, এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার জেলার ৯৭ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে করোনা পজেটিভ হয়েছেন ২৯ জন। পরীক্ষার বিপরীতে আক্রান্তের হার ২৯ শতাংশ।

এর আগে সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে মৌলভীবাজার জেলার ১০৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সে সময় করোনা পজিটিভি আসে ২৬ জনের।

এর আগের দিন রোববার (১৬ জানুয়ারি) ৭০ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮ জনের। সে সময় সংক্রমণের হার ছিল ১১ শতাংশ।

সিভিল সার্জন জালাল উদ্দিন মুর্শেদ বলেন, বর্তমানে মৌলভীবাজারে নমুনা সংগ্রহ বেড়েছে। করোনা শনাক্তের হারও বাড়ছে। জনসাধারণকে সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মৌলভীবাজারে গত কয়েকদিনে কয়েকটি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভিড়ের কারণে করোনার সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে।

দেশের যে ১২ জেলা করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে

জাতীয় ডেস্কঃ দেশে চলমান মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের ১২টি জেলা। এ ছাড়া মধ্যম ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের আরও ৩২টি জেলা।

আজ বুধবার (১৯ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ১২ জেলা হলো- ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, বগুড়া, দিনাজপুর, রাঙামাটি, লালমনিরহাট, খাগড়াছড়ি ও পঞ্চগড়।

এ ছাড়া মধ্যম ঝুঁকিতে থাকা ৩২ জেলা হলো- সিলেট, ফেনী, নারায়ণগঞ্জ, নোয়াখালী, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার, ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, শরীয়তপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, রংপুর, জামালপুর, নওগাঁ, ঝিনাইদাহ, নাটোর, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, বাগেরহাট, মাগুরা, নড়াইল, পটুয়াখালী, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, শেরপুর, ঝালকাঠি ও ঠাকুরগাঁও।

অধিদপ্তরের করোনাবিষয়ক ড্যাশবোর্ডে দেশের ৬৪ জেলাকে পাঁচটি রঙে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে শনাক্তের হার ৩০- ৩৯ শতাংশ হলে অধিকতর গাঢ় লাল রঙ। শনাক্তের হার ২০- ২৯ শতাংশ হলে গাঢ় লাল রঙ। শনাক্তের হার ১০- ১৯ শতাংশ হলে লাল রঙ। শনাক্তের হার ৫-১০ শতাংশের নিচে হলে কমলা রঙ। শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে হলে সবুজ রঙে চিহ্নিত করা হয়েছে।