শ্রীমঙ্গলে হাজার লিটার চোলাইমদসহ আটক ২জন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৯ এর অভিযানে ১ হাজার ২০ লিটার দেশীয় চোলাই মদ উদ্ধারসহ ২ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৯, সিপিসি-২, (শ্রীমঙ্গল ক্যাম্প) এর একটি আভিযানিক দল অতিঃ পুলিশ সুপার বসু দত্ত চাকমা এর নেতৃত্বে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানাধীন মির্জাপুর ইউনিয়নের বৌলাছড়া চা-বাগান হাসপাতাল শ্রমিক লাইন এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় শ্রমিক লাইনের জনৈক মনো সাঁওতাল-এর বসত বাড়ীর ভিতর হইতে বেশ কয়েকটি প্লাস্টিকের ড্রামে রক্ষিত অবস্থায় ১ হাজার ২০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। র‍্যাবের  সদস্যরা এসব মাদকদ্রব্য রাখার দায়ে  ওই এলাকার বাসিন্দা অমল গোয়ালা (৩০) ও জয় সাঁওতাল (২০) নামে ২ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পরস্পর যোগসাজসে একত্রে দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় চোলাই মদ তৈরি ও ব্যবসা করে আসার কথা স্বীকার করেছে। গ্ৰেফতার পূর্বক আসামীদের ও চোলাই মদসহ জব্দ করে তাদের বিরুদ্ধে র‍্যাব কতৃক আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্থানীয় শ্রীমঙ্গল থানায় রাতে সোপর্দ করা ও মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়েরের মাধ্যমে আজ রোববার (১৬ জানুয়ারি) আদালতে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

শান্তিপূর্ণভাবে চলছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সম্প্রতি সময়ে দেশের আলোচিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আজ (১৬ জানুয়ারী) সকাল ৮টা থেকে ইভিএমে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। এবারই প্রথম প্রতিটি কেন্দ্রেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে চললেও সকাল ৮ থেকে ১১ পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি খুবই কম ছিলো। তবে বেলা বাড়ার সাথে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে দেখা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,  সিদ্ধিরগঞ্জের ৩নং ওয়ার্ডের বদরুন্নেছা স্কুলে ও ১নং ওয়ার্ডের রেকমত আলী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এ সব কেন্দ্রে সময়ের আগেই বেশ কিছু ভোটার কেন্দ্রে এসে উপস্থিত হন। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ কেন্দ্রসহ অন্য কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের উপস্থিত বাড়তে দেখা যায়।

এদিকে ভোটাররা ইভিএমে ভোট দিতে গিয়ে কিছুটা বুঝতে সময় লাগার কারণে ভোটগ্রহণে ধীরগতি হচ্ছে। পরে ভোটারদের লাইন দীর্ঘ হতে দেখা যায়।

সকাল সাড়ে ৮টায় ইসলামিয়া কামিল (এম এ) মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার। এই কেন্দ্র মোট ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ২’শ ৮৭ জন। কিন্তু সকাল পৌনে ৯টায় এ কেন্দ্রে মাত্র ২০ থেকে ২৫ জন ভোটারকেকে ভোট দিতে আসতে দেখা গেছে।

তবে দুপুর ১২টায় বিবি মরিয়ম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে সরেজমিনে দেখা গেছে, এই কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি খুবই বেশি। ভোট দেয়ার জন্য দীর্ঘসারি করে ভোটাররা দাঁড়িয়ে আছেন।

কয়েকজন ভোটার জানান, ইভিএমের মাধ্যমে ভোট হবে। বেশ কয়েক বছর ধরে টেলিভিশনে শুধু শুনে আসছি। আজ এসে নিজের ভোট নিজেই দিতে পেরে খুশি। অনেক ভালো লেগেছে।

৫নং ওয়ার্ডে রেবতীমোহন উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে হাসান আলী (৮১) নামে একজন ভোটার জানান, গত কয়েক বছরের মধ্যে আমি প্রথম ভোট দিলাম। ভোট দিতে পেরে খুশি।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগের শিশুবাগ স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট হলে বিজয় নিশ্চিত।

তিনি বলেন, কিছু কিছু জায়গায় ইভিএম মেশিনে সমস্যা হচ্ছে শুনেছি। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, এবার সিটি নির্বাচনের মোট ভোটার ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৬১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৩৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫১৮ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটগ্রহণ সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে। চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচনে মোট ৭টি দল অংশগ্রহণ করেছে। মেয়র পদে নির্বাচন করছেন ৭জন। সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪৮ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৪ জন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।

গাঁজা সহ মাদক কারবারি ডিবি পুলিশের জালে

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: শনিবার (১৫ জানুয়ারী) রাত ৯টা ৩৫ মিনিটের সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই আজিজুর রহমান নাইম ও  এএসআই রাজিবসহ এদের একটি দল জেলার রাজনগর উপজেলার ২ নং উত্তরবাগ ইউনিয়নের কামালপুর গ্রাম থেকে ১কেজি গাঁজা সহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারি মোঃ আলী আছকর (৫৯) আটকের পর ১কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। সে রাজনগর উপজেলার ২নং উত্তরবাগ ইউনিয়নের কামলপুর গ্রামের মৃত মুজিবুর রহমানের ছেলে।

মাদক কারবারি আলী আছকর দীর্ঘ দিন হতে বিভিন্ন স্থান থেকে মাদক সংগ্রহ করে জেলার বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিল। তার কাছ থেকে যে পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয় তার গাঁজার মূল্য আনুমানিক ১৬ হাজার টাকা।

এ তথ্য নিশ্চিত করতে যোগাযোগ করা হলে মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ বদিউজ্জামান ডিজিটাল বাংলা নিউজ প্রতিবেদক’কে বলেন, ১কেজি গাঁজাসহ মোঃ আলী আছকর নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সে দীর্ঘ দিন থেকে এ অবৈধ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত।

তিনি আরো জানান যে, মৌলভীবাজার জেলাকে মাদক মুক্ত রাখতে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে এবং আগামীতে ও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আলু নিয়ে চরম বিপাকে ঠাকুরগাঁওয়ের চাষীরা

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে চলতি মৌসুমে প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫-৭ টাকা দরে। তবুও মাঠে ক্রেতা নেই। তাই উৎপাদিত আলু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন আলু চাষীরা। গতবছর অধিক দামে আগাম আলু বিক্রি করে লাভবান হওয়ায় এবারও লাভের আশায় আগাম আলু চাষে ঝুঁকেছিলেন কৃষকেরা। কিন্তু আগাম আলুর বাজারে ধস নামায় লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

গতবছর চাষীরা এই সময় প্রতি কেজি আলু মাঠেই বিক্রি করেছিলেন ২৮-৩২ টাকা দরে আর এবার সেই আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫-৭ টাকা দরে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি আলু চাষের জন্য বেশ উপযোগী। মুন্সিগঞ্জের পরেই আলু চাষে ঠাকুরগাঁওয়ের অবস্থান। সে হিসেবে দেশে আলু উৎপাদনে ঠাকুরগাঁওয়ের অবস্থান দ্বিতীয়। প্রতি বছরই এ জেলায় আলু চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে অন্য জেলাতে সরবরাহ করা হয় এখানকার আলু।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলার পাঁচ উপজেলায় এবার ২৭ হাজার ৬৪৭ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে ২ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমির আলু তোলা হয়েছে। আলু উৎপাদন ধরা হয়েছে প্রতি হেক্টরে ২৩ মেট্রিক টন। বর্তমান বাজার দরে আলু বিক্রি করে প্রতি হেক্টরে (২৪৭ শতক) চাষীরা দাম পাচ্ছেন ৯০-৯৫ হাজার টাকা। আর প্রতি হেক্টর আলুর উৎপাদন খরচ হয় প্রায় দুই লাখ টাকা।

গত বছর জেলায় ২৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। আর উৎপাদন হয়েছিল ৭ লাখ ৪১ হাজার ২৯৭ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগ বলছে- গত বছরের কিছু আলু মজুদ থাকায় বাজার দর কম। পুরাতন আলু শেষে হলে দাম কিছুটা বাড়তে পারে।

আলুর মাঠে বর্তমান সময়ে গ্র্যানোলা জাতের সাদা ও এস্টারিক্স জাতের লাল আলু পাওয়া যায়। স্থানীয় বাজারে লাল আলুর চাহিদা বেশি থাকায় লাল আলুর দাম কিছুটা বেশি। আর সাদা আলুর বাজার রাজধানীসহ অন্য জেলায় হওয়া কারণে অন্য জেলার চাহিদার উপর নির্ভর করে দাম পায় চাষীরা। বর্তমানে সাদা আলু ৫ টাকা ও লাল আলু ৯-১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণত মাটিতে এক বার আলু রোপণ করলে এক বার ফলন পাওয়া গেলেও এবারের চিত্র ছিল ভিন্ন। চাষীরা এবার দুই বার আলু রোপণ করে ফলন পাচ্ছেন মাত্র এক বার। আগাম আলু রোপণের কয়েকদিন পরেই বৃষ্টি হয়, তাই রোপণকৃত আলু মাঠেই পঁচে যায়। আবারও লাভের আশায় সেই জমিতে আলু ২য় বার রোপণ করেন চাষীরা। সে কারণে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে চাষীদের। তাছাড়া বাজার অবস্থা ভালো না থাকায় লোকসানে পড়েছেন চাষীরা।

সদর উপজেলার রহিমানপুর ও রাণীশংকৈল উপজেলার বনগাঁও এলাকার  আলু চাষী রহতম ও দুলাল হোসেন বলেন, গত বছর আলুর দাম বেশি ছিল, ফলে কম ফলনেও ভালো লাভ হয়েছিলো। এবার বেশি ফলনেও লোকশান হচ্ছে। লাভ তো দূরের কথা, আসলও তুলতে পারছি না। কম দামে আলু বিক্রি করে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তার পরেও নগদ টাকার ক্রেতা নেই।

সদর উপজেলার পটুয়া এলাকার আরেক আলু চাষী মোঝারুল ইসলাম বলেন, সাড়ে ৪ একর জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। খরচ হয়েছে প্রায় ৪ লাখ টাকা। ৬ টাকা দরে আলু বিক্রি করে দাম পাচ্ছি ২ লাখ টাকা। এই টাকায় লাভ তো নয়, আসল টাকাও আসে না। আলু চাষ করে আরও ধার-দেনায় পড়ে গেলাম।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর এলাকার আলু চাষী আলাউদ্দীন বলেন, ‘প্রথমবার ২ একর জমিতে আলু লাগানোর কয়েকদিন পরে বৃষ্টির কারণে বীজ আলু মাটিতেই পঁচে যায়। আবারও সেই জমিতে আলু লাগায়। আলুর ফলন ভালো হয়েছে। ব্যবসায়ীরা ৬ টাকা কেজি বলছে, বিক্রি করিনি। কারণ এই দামে বিক্রি করলে অনেক টাকা লোকসান হবে।

ঠাকুরগাঁও রোড এলাকার আলু ব্যবসায়ী আলম বলেন, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন জেলার আলু এক সঙ্গে বাজারে আসায় চাহিদা কিছুটা কম। রাজধানীর আড়ৎ থেকে কোনো অর্ডার পাচ্ছি না। সে কারণে বাজারে দাম নেই। অনেক আলু বেশি দামে কেনা আছে, কিন্তু দাম কমে যাওয়ার কারণে বিক্রি করতে পারছি না।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক আবু হোসেন বলেন, গত বছরের বাড়তি আলুর মজুত শেষ হলে বাজার অবস্থা ঠিক হবে। সেই সঙ্গে আলুর ফলন ভালো হলে চাষিদের লোকসান পুষিয়ে যাবে। চাষকৃত আলু এখন পর্যন্ত ভালো অবস্থায় আছে। চাষীদের যে কোনো পরামর্শের জন্য কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে রয়েছে।

গৃহবধূকে আটকে ৭ দিন পালাক্রমে ধর্ষণ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় এক গৃহবধূকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে (৩০) ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। শনিবার (১৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন বন্দর থানার কলসী দিঘীরপাড় এলাকা থেকে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে রাসেল আহমদকে (২৫) গ্রেপ্তার করে কুলাউড়ায় নিয়ে আসা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়ার এক গৃহবধূকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার আলতা মিয়ার পুত্র রাসেল গত ৫ জানুয়ারি পালিয়ে যায়। রাসেল ওই গৃহবধূকে চট্টগ্রামে কলসী দিঘীরপাড় এলাকায় একটি বাসায় রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।

এদিকে গৃহবধূর ভাসুর এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিম ও অভিযুক্তের অবস্থান চট্টগ্রামে শনাক্ত করেন। পরে কুলাউড়া থানা পুলিশ চট্টগ্রামের কলসী দিঘীরপাড় এলাকায় একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে রাসেলসহ ওই গৃহবধূকেও উদ্ধার করেন।

শনিবার বিকেলে ভিকটিম গৃহবধূ থানায় বাদি হয়ে রাসেলকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় রাসেলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মৌলভীবাজার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিনয় ভূষণ রায় এর সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রাসেল ওই গৃহবধূকে পালিয়ে নিয়ে যায় এবং পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ওই গৃহবধূ বাদি হয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করলে আটক রাসেলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার বিকেলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নওগাঁর আত্রাইয়ে ঐতিহ্যবাহী শীতাতলার মাছের মেলা

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর আত্রাইয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে আত্রাইয়ে ভোঁপাড়া ইউনিয়নের জামগ্রামে ঐতিহ্যবাহী শীতাতলা মাছের মেলা। তিনদিন ব্যাপী এ মেলা গত বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারী) থেকে শুরু হয়। প্রকৃত একদিনের মেলা হলেও মেলার আগের দিন সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় এবং পৌষ মাসের শেষ দিন হয় পৌষ সংক্রান্তির মেলা পরের দিন বৌ মেলা হিসেবে কেনা বেঁচা হয়। প্রতি বছর এ মেলা পৌষ মাসের শেষ ও মাঘের শুরুতে অনুষ্ঠিত হয়।

মেলাটি অনুষ্ঠিত হয় উপজেলার ভোঁপাড়া ইউনিয়নের জামগ্রাম মাঠে একটি বটগাছের নীচে। যুগ যুগ ধরে সাজ সাজ রবে অনুষ্ঠিত হয় এ মেলা। তবে এ বছর একটু ভিন্ন চিত্র। করোনা ভাইরাস কারনে মেলাতে উৎসুক জনতার বা মেলা দর্শনাথীদের আগমন অন্যআন্য বছরের তুলনায় এ বছর অনেক কম লক্ষ্য করা গেছে। তবে মাস্ক পরিহিত দর্শনাথীদের সংখ্যায় ও কম ছিল।

জনশ্রুতি রয়েছে কয়েক যুগ আগে নারায়ন চন্দ্র তার স্ত্রী শীতাকে জামগ্রামের এ মাঠে বনবাস দিয়ে ছিলেন। আর এ বনবাসে শীতা আশ্রয় নিয়েছিলেন এ বটগাছের নীচে। এখানে প্রাচীন যুগের একটি ইন্দরা(কুয়া) স্মৃতি হিসেবে আজোও বিদ্যমান।আর এ ইন্দারায় (কুয়া) জ্বলে নাকি শীতা স্নান (গোসল) করতেন।তারই স্মরণে হিন্দু সম্প্রদায় পরবর্তীতে এই জামগ্রামে মেলা বসিয়ে পুঁজা অর্চনার মধ্য দিয়ে এই দিনটিকে স্মরন করে আসছে। ইতি পূর্বে এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবব্ধ থাকলেও এখন এটি আর হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমা বদ্ধ নাই। এ মেলাতে এখন হিন্দু মুসলিম সকলেই অংশ গ্রহন করেন।

এ ছাড়াও মেলাটি এ অঞ্চলে উৎসবে পরিনত হয়েছে।মূলত এটা জামাই মেলা। কিন্তু সবাই এটাকে বলে মাছের মেলা। মেলাকে ঘিরে এখনে দিন ব্যাপী চলে আনন্দ উৎসব। এ ছাড়া মেলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আনন্দের বাতাস বইতে শুরু করেছে। জামাই মেরেয় ও আত্নীয়-স্বজন সহ বন্ধু-বান্ধবদের মিলন মেলায় পরিনিত হয়।জামগ্রাম সহ আশে-পাশের গ্রাম গুলোর প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই আপ্যায়িত অতিথিদের সন্মানে পিঠা-পুলি, মিঠাই- মিষ্টান্ন সহ রকমারী খাবারের ধুম পড়ে যায়। এবার তবে একটু ভিন্ন চিত্র।প্রতিটি বাড়িতে জামাই-মেয়ে ও আত্নীয় স্বজনদের আগমন কম দেখা গেছে। এই দিন টির জন্য সারাটি বছর অপেক্ষায় থাকেন উপজেলা বাসী।

এ মেলায় আছে একের ভিতর দুই। এক কথায় রথ দেখা আর কলা বেঁচা। কারণ এটা জামাই মেলা হলেও এখানে বসে মাছের বিরাট মেলা। জামগ্রামের আশ-পাশের গ্রামে যারা বিয়ে করেছেন, সে সব জামাই হচ্ছে ওই মেলার মূল ক্রেতা ও দর্শনাথী।তা ছাড়া এই মেলাকে ঘিরে চলে এলাকার জামাইদের মধ্যে এক নীরব প্রতিযোগীতা। আর এই প্রতিযোগীতাটি হচ্ছে কোন জামাই সব চেয়ে বড় মাছটি কিনে শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে যেতে পারে। একটা মাছকে ঘিরে ক্রেতা জামাইদের ভীষন জটলা। মাছের নাম চিতল বিক্রেতা দাম হাঁকান বারো শ’ টাকা কেজি একটি মাছের ওজন প্রায় ছয়/শাত কেজি।আজ শুক্রবার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জাম গ্রামের শীতাতলার মাছের মেলায় গিয়ে দেখা যায় এ দৃশ্য।মেলায় বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন তো এসেছেন। এছাড়া পার্শ্ববতী জেলা বগুড়া, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট থেকে এ মেলা উপলক্ষেই আত্রাই জামগ্রাম শীতাতলার মেলায় এসেছেন।

এবারও মেলায় প্রায় শতাধীক মাছ ব্যবসায়ীরা বাহির থেকে মাছেরপসরা সাজিয়ে বসেছেন। মেলায় মাছ ছাড়াও আসবাবপত্র,খেলনা, মিষ্টান্ন ইত্যাদিরদোকান বসেছে। মাছের মেলায় চিতল, কাতল, রুই, বোয়াল, সিলভারকাপ, মাছ সহ বিভিন্ন রকমের দেশীয় মাছ।

জাম গ্রাম শীতা তলা মেলার আয়োজকরা জানান,এ মেলাটি প্রথম অনুষ্ঠিত হতো খুবই ক্ষুদ্র পরিসরে। এটি অগ্রাহায়নের ধান কাটা শেষে পৌষ-সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসবে আয়োজন করা হতো। প্রায় এক শ’ বছর ধরে মেলাটি আয়োজন হয়ে আসছে। সময়ের সাথে সাথে এ মেলাটি একটি সার্বজনীন উৎসবে রুপ নিয়েছে।

মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি বীর মুক্তি যোদ্ধা মোঃ সিরাজুল ইসলাম জনান, বৃটিশ শাসনামল থেকে শুরু হওয়া জমগ্রামের শীতাতলার মেলা এখন ঐতিহ্যবাহী মেলা হিসেবে রুপ নিয়েছে।এ মেলা আত্রাই উপজেলার মধ্যে সব চেয়ে বড় মেলা হিসেবে স্বীকৃত।

জাতিসংঘে ইরানের ভোটাধিকার স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে জাতিসংঘে বকেয়া অর্থ দেয়া সম্ভব না হওয়ায় জাতিসংঘে ইরানসহ ৮ দেশের ভোটাধিকার স্থগিত হয়ে গেছে।

এদিকে, ইরানের নির্ধারিত অর্থ বকেয়া পড়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদে। তিনি বলেছেন, দুঃখজনকভাবে আমেরিকার অবৈধ ও নিপীড়নমূলক নিষেধাজ্ঞার কারণে পরপর দুই বছর জাতিসংঘের ইরানের প্রদেয় অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বুধবার তেহরানে আরো বলেন, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদেশ হিসেবে ইরান সব সময় এই সংস্থাকে নির্ধারিত অর্থ সময়মতো পরিশোধ করে এসেছে। এমনকি জাতিসংঘের অধীনস্ত অন্যান্য সংস্থার কোনো অর্থও কখনো বকেয়া পড়েনি।

খাতিবজাদে আরো বলেন, আমেরিকার নিষেধাজ্ঞর কারণে ইরানে অর্থসংকট থাকা সত্ত্বেও জাতিসংঘকে প্রদেয় অর্থ প্রস্তুত রয়েছে কিন্তু ওই নিষেধাজ্ঞার কারণেই ব্যাংকিং লেনদেন সম্ভব না হওয়ায় প্রস্তুতকৃত অর্থ পরিশোধ করা যাচ্ছে না। তবে জাতিসংঘের কাছে ওই অর্থ পৌঁছে দেয়ার জন্য ইরান প্রয়োজনীয় স্থানগুলোতে দেনদরবার চালাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

খাতিবজাদের এ বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে পশ্চিমা সংবাদ সংস্থাগুলো খবর দিয়েছে, সময়তো সদস্যপদের ফি পরিশোধ না করায় ইরানসহ আটটি দেশের ভোটদানের ক্ষমতা স্থগিত করেছে জাতিসংঘ। দেশগুলো হল-ইরান, সুদান, ভেনিজুয়েলা, আন্তিগুয়া, বারবুডা, কঙ্গো, গিনি এবং পাপুয়া নিউ গিনি।

তবে ইরানের ক্ষেত্রে বিষয়টিকে আমেরিকার ইরানবিরোধী অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদের কুফল বলে বর্ণনা করেছেন পর্যবেক্ষকরা।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ফের ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলার ছাড়াল

ডিবিএন ডেস্কঃ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ফের ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আজ বৃহস্পতিবার রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে। এদিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৮২ ডলার ১৮ সেন্টে বিক্রি হচ্ছে। আর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দর উঠেছে ৮৪ ডলার ২৮ সেন্টে। এই দর গত দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন আতঙ্কে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম কমতে কমতে ৬৬ ডলারে নেমে গিয়েছিল। ব্রেন্ট তেলের দর কমে হয়েছিল ৬৮ ডলার।

তিন-চার দিন ওই একই জায়গায় স্থির ছিল তেলের বাজার। কিন্তু ওমিক্রন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়লেও করোনার নতুন ওই ধরনে আক্রান্ত হয়ে মানুষ খুব একটা মারা না যাওয়ায় এই ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক বেশ খানিকটা কেটে যায়। এতে বিশ্বে তেলের চাহিদা বাড়বে-এ সম্ভাবনাকে সামনে রেখে আবার বাড়তে শুরু করে দাম। সেই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরবরাহ কম এবং ওমিক্রন করোনভাইরাস নিয়ে সম্ভাব্য আতঙ্ক-উদ্বেগ কমার কারণে বুধবার তেলের দাম দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে।

ইউএস ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল মঙ্গলবার বলেছেন, ‘মার্কিন অর্থনীতি ওমিক্রন ঢেউ সহ্য করতে পারবে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এবং বিশ্বের বৃহত্তম তেল ভোক্তাদের খুব সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে। আর এই প্রভাব মোকাবেলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কঠোর মুদ্রানীতি শুরু করার জন্য প্রস্তুত আছে।’

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। করোনা মহামারির মধ্যেও টানা বেড়েছে তেলের দাম। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় তা আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ কোম্পানি ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্সও মাস চারেক আগে তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছিল, কোভিড-১৯ এর কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় যে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছিল তা দূর হচ্ছে। পাশাপাশি দেশে দেশে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে গত বছরের জানুয়ারি মাসে জ্বালানি তেলের দাম ছিল গড়ে প্রতি ব্যারেল ৪৯ ডলার। এরপর থেকে গড়ে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ফেব্রুয়ারি মাসে ৫৩ ডলার, মার্চে ৬০, এপ্রিলে ৬৫, মে মাসে ৬৪, জুনে ৬৬, জুলাইয়ে ৭৩ এবং আগস্টে ৭৪ ডলার। অক্টোবর মাসে এই দাম ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছিল, শিগগিরই তা ১০০ ডলার হয়ে যেতে পারে।

খবরঃ রয়টার্স। 

নওগাঁর আত্রাইয়ে ফেইসবুকে প্রচারিত রাস্তার নিম্নমানের কাজের অভিযোগ ভিত্তিহীন

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর আত্রাইয়ে রাস্তা পাকা করণের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে নিন্মমানের কাজের অভিযোগ প্রচারের প্রেক্ষিতে এলজিইডির ল্যাব যন্ত্র দ্বারা তা পরীক্ষা করা হয়েছে। রাস্তার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে নির্মিত রাস্তা পরীক্ষা করে কাজের গুনগতমান যর্থাথ বলে প্রতিয়মান হয়েছে।

জানা যায়, আত্রাই উপজেলার সদরের সন্নিকটে সাহেবগঞ্জ সরদারপাড়া থেকে বিলগলিয়া পর্যন্ত রাস্তাটি খুবই জন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সহজেই বাজারজাত করে ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করনের লক্ষে স্তানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি)পক্ষ থেকে। সে অনুযায়ী এক কোটি এক লাখ আঠান্ন হাজার এক শত আটাশ টাকা চুক্তি মূল্য নির্দ্ধারণ করে নওগাঁ সদরের মের্সাস দিদারুল এন্টারপ্রাইজ, মুক্তির মোড়, নওগাঁ,নামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়।

এদিকে ঠিকাদার সম্প্রতি এ রাস্তার কার্পেটিংয়ের কাজ সমাপ্ত করেন। রাস্তার কার্পেটিং সমাপ্ত হতে না হতেই সরদার পাড়া মসজিদ সংলগ্ন রাস্তার একধার থেকে কে বা কারা কার্পেটিং উঠিয়ে ফেলে। উঠে যাওয়া কার্পেটিংয়ের ছবি দিয়ে ফেইসবুকে দেয়া হয়“ রাস্তার কাজ শেষ করে চব্বিশ ঘন্টা না হতেই রাস্তার বেহাল দশা” এমন প্রচারণা চোখে পড়তেই পুরো রাস্তা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা নিরিক্ষার ব্যবস্থা গ্রহন করেন উপজেলা প্রকৌশলী জোনায়েত আলম।

এ বিষয়ে উপজেলার পারকাসুন্দা গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, ওই স্থান দেখে বুঝা যাচ্ছে লোহার শাবল বা কোন অস্ত্র দ্বারা সেখানকার কার্পেটিং উঠিয়ে ফেলানো হয়েছে।।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জোনায়েত আলম বলেন, রাস্তাটির কাজের গুণগতমান ভালো হয়েছে। সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দানকারী এক ব্যক্তির আইডি থেকে এমন বিভান্তিকর সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। এ প্রচারণায় আমাদের ডিপাটমেন্টের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। কোন অসৎ উদ্দেশ্যেই এমনটি করা হয়েছে বলে মনে হয়।

চীনে ধাতব বাক্সে কোভিড আক্রান্তদের বন্দি রাখা হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বিশ্বজুড়ে চলমান করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবেলায় চীন সরকার শুরু থেকেই জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে কোয়ারেন্টিন, লকডাউনসহ কঠোর বিধিনিষেধ দেওয়ার পরও সংক্রমণ আয়ত্তে না আসায় এবার নতুন পথ বেছে নিল চীন সরকার। কোভিড সংক্রমিত ব্যক্তিদের ধাতব বাক্সে বন্দি করে রাখা শুরু করেছে চীন সরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাক্সে বন্দির একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, কোভিড সংক্রমিত ব্যক্তি বা তাদের সংস্পর্শে আসা সকলকে ধাতব বাক্সের মতো ঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ মাধ্যম মেইল জানায়, সামনের মাসেই দেশটি শীতকালীন অলিম্পিকের আয়োজন করতে যাওয়া সত্ত্বেও করোনাবিষয়ক কঠোর অবস্থান বহাল রেখেছে দেশটি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে এসেছে এমন সন্দেহে দেশটি লাখ লাখ মানুষকে কোয়ারেন্টিন করেছে। দেশটির কোনো স্থানের একজন ব্যক্তিও যদি করোনায় আক্রান্ত হন তাহলে ওই এলাকার অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশু ও বয়স্কদের ধরে এনে বাক্সগুলোতে দুই সপ্তাহ থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। সেখানে রয়েছে একটি খাট, পানির বোতল ও একটি শৌচাগার।

মধ্য চীনের শাংচি প্রদেশের জিআন শহরে খোলা হয়েছে এই বাক্সের ক্যাম্প। যা নিয়ে বিতর্কও দানা বেঁধেছে।সংক্রমণ বাড়তে থাকায় জিয়ান শহরের প্রায় দু’কোটি বাসিন্দাকে বাড়িতেই থাকতে বলা হয়েছে। খাবার কিনতে বাইরে বেরোনোর ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা জানায়, মধ্যরাতে তাদের জানানো হয়েছে, এখনই তাদের ঘর ছাড়তে হবে ও কোয়ারেন্টিন সেন্টারে থাকতে হবে।

চীনে করোনার প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর থেকে ট্রেস অ্যান্ড ট্র্যাক নামে একটি অ্যাপ চালু করে দেশটি। প্রতিটি নাগরিকের জন্য ওই অ্যাপটি ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করে দেয় চীন। মূলত এই অ্যাপের সাহায্যেই করোনা রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করছে সরকার।