‘ভাঙা তরী ছেড়া পাল’ গানের বাউল মডেল; সিরিয়াল কিলার হেলাল গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ‘ভাঙা তরী ছেড়া পাল’ গানের বাউল মডেল সিরিয়াল কিলার হেলালকে গতকাল বুধবার (১৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে হেলাল হোসেনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। হেলাল হোসেন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। এরপর তিনি ছিলেন মুদি দোকানি। পরবর্তী সময়ে হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে এলাকায় তার কুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে হয়ে উঠেন সিরিয়াল কিলার।

আজ বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) কারওয়ান বাজারের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় র‌্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, আনুমানিক ৬ মাস আগে এক ব্যক্তি ইউটিউবে প্রচারিত একটি গানের বাউল মডেল সম্পর্কে র‌্যাবের কাছে তথ্য প্রদান করেন যে, ওই মডেল সম্ভবত বগুড়ার বিদ্যুৎ হত্যা মামলার আসামি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ছায়া তদন্ত শুরু হয়। একপর্যায়ে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে র‌্যাব নিশ্চিত হয়। ফলশ্রুতিতে হেলালকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে র‌্যাব।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, হেলাল ২০০১ সালে বগুড়ার চাঞ্চল্যকর বিদুৎ হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ফেরারি আসামি। পাশাপাশি তার নামে আরও ২টি হত্যা মামলা রয়েছে। এগুলো হলো-১৯৯৭ সালে বগুড়ার বিষ্ণু হত্যা মামলা এবং ২০০৬ সালে রবিউল হত্যা মামলা। এর মধ্যে হেলালের বিরুদ্ধে ২০১০ সালে দায়েরকৃত চুরির মামলায় ২০১৫ সালে জামিন প্রাপ্তির দিনে বিদ্যুৎ হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হলে সে সুকৌশলে এলাকা ত্যাগ করে এবং ফেরারি জীবন যাপন শুরু করে। প্রথমে সে বগুড়া থেকে ট্রেনে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে আসে। পরবর্তী সময় কমলাপুর থেকে ট্রেনে সে চট্টগ্রামে চলে যায় এবং সেখানকার আমানত শাহ মাজারে ছদ্মবেশ ধারণ করে বেশ কিছুদিন অবস্থান করে। সেখান থেকে ট্রেনযোগে সিলেটের শাহজালাল মাজারে চলে যায়। সিলেটে গিয়ে ছদ্মবেশ ধারণ করে আরও কিছুদিন অবস্থান করে।

র‌্যাব জানায়, বিভিন্ন সময়ে হেলাল দেশের বিভিন্ন রেলস্টেশন ও মাজারে ছদ্মবেশে অবস্থান করতেন। তিনি কিশোরগঞ্জ ভৈরব রেলস্টেশনে নাম-ঠিকানা ও পরিচয় গোপন রেখে সেলিম ফকির নাম ধারণ করেন। আনুমানিক ৫ বছর আগে হেলাল নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশনে কিশোর পলাশ ওরফে গামছা পলাশের একটি গানের শুটিং চলাকালে রেললাইনের পাশে বাউল গান গাইছিল। তখন শুটিংয়ের একজন ব্যক্তি তাকে গানের মিউজিক ভিডিওতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিলে বহুল জনপ্রিয় ‘ভাঙা তরী ছেড়া পাল’ শিরোনামের গানের বাউল মডেল হিসেবে তাকে দেখা যায়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, হেলাল ২০১০ সালে বগুড়া সদর থানায় দায়েরকৃত একটি চুরির মামলায় ২০১৫ সালে গ্রেফতার হন। একই সঙ্গে ২০০১ সালের বিদ্যুৎ হত্যা মামলার বিচারকার্যও চলমান থাকে। ২০১৫ সালেই ওই চুরির মামলায় জামিনে মুক্ত হন এবং একই দিনে বিদ্যুৎ হত্যা মামলায় বিজ্ঞ আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। এ ছাড়া ২০১১ সালে তার বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজারের হাইজাবী ইউনিয়নের ইলমদী গ্রামে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে ৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৪-৫টার দিকে উপজেলার ইলমদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

নিহতরা হলেন নারায়ণগঞ্জের রসোনারগাঁ বস্তল এলাকার মো. মফিজুল, জহিরুল ইসলাম জেসলু ও মো. নবী। তাদের সবার বয়স ২০-৩০ বছরের মধ্যে। জেসলু একটি লেগুনার মালিক এবং নবী ও মফিজুল লেগুনার চালক ছিলেন।

আড়াইহাজার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আড়াইহাজার থানার ওসি আনিচুর রহমান জানান, সকাল ৬টায় স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছ থেকে গণপিটুনির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা দেখেন দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে আরেকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ডাকাত সন্দেহে রাতের কোনো এক সময় ওই তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সকালে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে হেডফোন লাগিয়ে মোবাইলে গেম খেলার সময় ট্রেনে কাটা পরে এক কিশোরের মৃত্যু

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের রাজারহাটে কানে হেডফোন লাগিয়ে রেল লাইনে বসে গেম খেলার সময় ট্রেনে কাটা পরে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধায় রাজারহাট উপজেলার দিনোবাজার এলাকায় এ দুঘটনা ঘটে। নিহত কিশোরের নাম রাসেল (১৫)। সে ওই এলাকার  আব্দুল মজিদের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, নিহত রাসেল নিজ বাড়ীর পাশের রেল লাইনে বসে কানে হেডফোন লাগিয়ে মোবাইলে গেম খেলছিল। এমতাবস্থায় ঢাকাগামী রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন আসলেও সে ট্রেনের শব্দ শুনতে পায়নি। পরে ট্রেনে কাটা পরে তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয় ।

রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ রাজু সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত ওই কিশোরের বাড়ি রেললাইনের পাশেই। অসাবধানতা বশত ট্রেনে কাটা পরে তার মৃত্যু হয়েছে।

চিকিৎসা সেবার ব্যপক উন্নতি হওয়ায় সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহীতাদের সংখ্যা বৃদ্ধি

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: চিকিৎসা সেবার উন্নতি এবং বিনামুল্যে পর্যাপ্ত ঔষধ সরবরাহের ফলে নওগাঁয় সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা গ্রহীতার সংখ্যা ব্যপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে গত ২০২১ সালে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে মোট ৩ লক্ষ ৭৩ হাজার ৩শ ২৫ জন রোগি চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। হাসপাতাল থেকে প্রতিদিন ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, ইনজেকশন, আইড্রপসহ প্রায় ৭৫ প্রকারের ঔষধ রোগিদের বিনামুল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।

নওগাঁ ২৫০ শয্য বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০২১ সলের জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে চিকিসা গ্রহিতাদের মধ্যে রয়েছেন আন্তঃবিভাগে ৩৪ হাজার ৯শ ৪৮ জন, জরুরী বিভাগে ৬৩ হাজার ৩শ ৬২ জন এবং বহিঃর্বিভাগে ২ লাখ ৭৫ হাজার ১৫ জন।

সূত্র মোতাবেক ঐ বছর মাসভিত্তিক চিকিৎসা গ্রহিতাদের সংখ্যা হচ্ছে জানুয়ারী’ ২১ মাসে আন্তঃবিভাগে ২ হাজার ৪৫০ জন, জরুরী বিভাগে ৪ হাজার ৬৮৯ জন ও বহিঃর্বিভাগে ১৯ হাজার ৭৫৯ জন। ফেব্রুয়ারী’ ২১ মাসে আন্তঃবিভাগে ২ হাজার ৭৫৪ জন, জরুরী বিভাগে ৫ হাজার ১৪৫ জন ও বহিঃর্বিভাগে ২৪ হাজার ৮৩০ জন। মার্চ’ ২১ মাসে আন্তঃবিভাগে ৩ হাজার ৪৪৯ জন, জরুরী বিভাগে ৬ হাজার ১৪৯ জন ও বহিঃর্বিভাগে ৩০ হাজার ৩৪৬ জন। এপ্রিল’ ২১ মাসে আন্তঃবিভাগে ২ হাজার ৪৬০ জন, জরুরী বিভাগে ৪ হাজার ৪৫৬ জন ও বহিঃর্বিভাগে ১৭ হাজার ১৪৩ জন। মে’ ২১ মসে আন্তঃবিভাগে ৪ হাজার ২৪৪ জন, জরুরী বিভাগে ৪ হাজার ৯৯২ জন ও বহিঃর্বিভাগে ১৪ হাজার ৯৫৮ জন। জুন’ ২১ মাসে আন্তঃবিভাগে ২ হাজার ৫৪৪ জন, জরুরী বিভাগে ৪ হাজার ৬৫৩ জন ও বহিঃর্বিভাগে ১৭ হাজার ৯৯৬ জন। জুলাই’ ২১ মাসে আন্তঃবিভাগে ২ হাজার ৪৪৫ জন, জরুরী বিভাগে ৪ হাজার ৬১১ জন ও বহিঃর্বিভাগে ১৪ হাজার ৬৫৩ জন। আগষ্ট’ ২১ মাসে আন্তঃবিভাগে ২ হাজার ৮৮৪ জন, জরুরী বিভাগে ৫ হাজার ৩৯৭ জন ও বহিঃর্বিভাগে ২৫ হাজার ৪৩৩ জন। সেপ্টেম্বর’ ২১ মাসে আন্তঃবিভাগে ৩ হাজার ২৮০ জন, জরুরী বিভঅগে ৬ হাজার ২১৯ জন ও বহিঃর্বিভাগে ৩০ হাজার ৯০৮ জন। অক্টোবর’ ২১ মাসে আন্তঃবিভাগে ২ হাজার ৪০৮ জন, জরুরী বিভাগে ৬ হাজার ২৮১ জন ও বহিঃর্বিভাগে ২৮ হাজার ৭২৩ জন। নভেম্বর’ ২১ মাসে আন্তঃবিভাগে ৩ হাজার ২৪১ জন, জরুরী বিভাগে ৫ হাজার ৩২১ জন ও বহিঃর্বিভাগে ২৬ হাজার ১৭৫ জন এবং ডিসেম্বর’ ২১ মাসে আন্তঃবিভাগে ২ হাজার ৭৮৯ জন, জরুরী বিভাগে ৫ হাজার ৪৪৯ জন ও বহিঃর্বিভাগে ২৪ হাজার ৯১ জন।

এ বছর হসপাতালে নরমাল ডেলিভারী করা হয়েছে ৬৮১টি, সিজারিয়ান ডেলিভারী করা হয়েছে ৩৯৬টি, মেজর সার্জারী করা হয়েছে ৭২২টি এবং মাইনর সার্জারী করা হয়েছে ১২ হাজার ৮১৫টি।

হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ জাহিদ নজরুল চৌধুরী আরও জানিয়েছেন, এই হাসপাতালে ঔষধ সরবরাহের কোন স্বল্পতা নেই। প্রতিদিন রোগিদের প্রয়োজন অনুসারে প্যারাসিটামল, এন্টাসিড, হিষ্টাসিন, সালবুটামল, বি-কমপ্লেক্স,মেটফো, মন্টিলুকাষ্ট, র‌্যাবিফার্ষ্ট, হাইসোমাইসিন, ডায়াজিপাম, ফেক্সো, এ্যালজিন, জিঙ্ক-বি, ইস্ট্রাজিন, সাইপ্রোক্স, কোট্ট্রিম, রোলাক, ইকোসপ্রিন, জিটিএন, এ্যামোক্সিসিলিন, ডোক্সিনসহ প্রায় ৭৫ প্রকারের ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, সিরাপ ও আইড্রপ বিনামুল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।

রাণীশংকৈলে ২দিনব্যাপি বিজ্ঞান মেলার সমাপনী

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় বুধবার ১২ জানুয়ারি বিকেলে কেন্দ্রীয় হাইস্কুল মাঠে ২ দিন ব্যাপি বিজ্ঞান মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৪৩ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইউএনও সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবিরের  সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শেফালী বেগম, সহকারি কমিশনার (ভূমি) ইন্দ্রজিৎ সাহা, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৈয়ব আলী, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাহিমউদ্দীন, সহকারি মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল জলিল, প্রধান শিক্ষক আবু শাহানশাহ ইকবাল প্রমুখ।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কর্মকর্তা, শিক্ষক – ছাত্র-ছাত্রী ও সাংবাদিকরা  উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিসহ অন্য অতিথিরা বক্তব্য রাখেন। পরে তারা মেলার স্টলগুলো পরিদর্শন করেন। মেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ১৭টি স্টল স্থান পেয়েছে।

প্রসঙ্গত, গতকাল ১১ জানুয়ারি সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইন্দ্রজিৎ সাহার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না।

এ সময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান শেফালী বেগম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৈয়ব আলী, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাহিমউদ্দীন, প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, সহ-মৎস কর্মকর্তা আব্দুল জলিল, প্রধান শিক্ষক আবু শাহানশাহ ইকবাল, প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন  ও ইউপি চেয়ারম্যান জমিরুল ইসলাম প্রমুখ।

কুড়িগ্রামে শীতে ডায়রিয়া বেড়েছে, আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামে শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে বেড়ে চলছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু। হঠাৎ রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। ফলে হাসপাতালের মেঝেতেই গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে  বুধবার বিকালে এ চিত্র চোখে পড়ে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ৫৫ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি ছিল। এদের মধ্যে শিশু ৪২ জন। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আরও ১৭ জন ডায়রিয়া  রোগী ভর্তি হয়েছেন। সূত্র আরও জানায়, গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে দৈনিক গড়ে ৪৭ জন রোগী চিকিসাধীন অবস্থায় ভর্তি ছিল। যা ওই ওয়ার্ডের শয্যা সংখ্যার ৪ গুণ বেশি।

হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের কর্তব্যরত সেবিকা আসমা খাতুন জানান, গত কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এসব রোগীর মধ্যে শিশুই বেশি। ১২ শয্যার এই ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৫৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হন। হঠাৎ রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে শয্যা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

ডায়রিয়া আক্রান্ত ১৮ মাস বয়সের শিশু রাফিয়া মনিকে নিয়ে মঙ্গলবার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা ছালেহা বেগম। শয্যা না থাকায় ডায়রিয়া ওয়ার্ডের মেঝেতে বিছানা পেতে শিশুর চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।  ছালেহা বলেন, সন্তানের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু  ভীড়ের কারণে আমি নিজেই অসুস্থ হওয়ার আশংকা করছি।

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার পুলক কুমার সরকার জানান, ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যার তুলনায় শয্যা এবং ডাক্তার পর্যাপ্ত না থাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ৬০ জন নার্স দিয়ে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে রোগীর স্বজনদের সচেতন থাকার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

নেত্রকোনা জেলায় হাহাকার সুপেয় পানির অভাবে

মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি: বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তর পূর্বে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত ঘেঁষে নেত্রকোনা জেলার অবস্থান। দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় এই জেলা অনেকটাই অবহেলিত। এই দুটি উপজেলা কলমাকান্দা ও দূর্গাপুরে অনেক আদিবাসি ক্ষদ্র নৃ-গোষ্ঠি বসবাস করে, যাদের মধ্যে গারো, হাজং ও খাসিয়া অন্যতম।

দূর্গম এই দুই উপজেলায় সরকারের টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম নেই বললেই চলে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন আজ পর্যন্ত এই এলাকার মানুষের দৃশ্যমান নয়। স্বচ্ছ পানি সরবরাহ এবং সেনিটেশন ব্যবস্থা সরকারের তরফ থেকে আজ পর্যন্ত গড়ে উঠে নি। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ঘোষণা করলেও আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয় নাই।

এই এলাকায় ভূ-অভ্যন্তরে কঠিন শিলা স্থর থাকায় ভূগর্ভস্থ পানি ১০০ থেকে ১৫০ফুট গভীরে বোরিং কার্য সম্পন্ন করা যায় না। ফলে ১০০ থেকে ১৫০ ফুটের মধ্যে ভালো পানির স্থর প্রাপ্তি সম্ভব হচ্ছে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পানির স্থর পাওয়া গেলেও আয়রনের আধিক্যের কারণে পানি পান যোগ্য হচ্ছে না। ফলে উন্নত স্যানিটেশন তো দূরের কথা বেসিক স্যানিটেশন ব্যবস্থাও অনুপস্থিত। সীমান্তের পার্শ্ববর্তী নদী গোলো যেমন সোমেশ্বরী, গয়েশ্বর ইত্যাদি বর্ষাকালে পাহাড়ী ঢলের ফলে নদীগোলোর পানি উপচে যায় এবং ফসলি জমি নষ্ট করে, যা শীতকালে পানি শূন্য হয়ে মরুভূমিতে পরিণত হয়। পাহাড় আর সমতল সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা সুপেয় পানির অভাবে পানির হাহাকার হয়ে যায়।

কিছু কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে অনেক দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। যা সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে খুবই কষ্টকর। এইসব এলাকার সীমান্তবর্তী পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি জনপদের মাথাপিছু আয় দেশের অন্যন্য এলাকার মানুষের তুলনায় খুবই কম। অপরদিকে পানি সরবরাহের এবং বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য ব্যবসা বানিজ্যসহ সকল ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড থেকে উক্ত পাহাড়ী জনপদ বঞ্চিত, ফলে নূতন কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হচ্ছে না। সুপেয় খাবার পানি এবং তার ব্যবহার্য্য পানির তীব্র সংকট দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই দুটি উপজেলায় ৩/৪ টি ইউনিয়ন পর্যটনের জন্য আকর্ষনীয় স্থান হলেও সুপেয় খাবার পানির অভাবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার নাজেহাল অবস্থার কারণে, পর্যটকদের জন্যে যে কোন ধরনের সুযোগসুবিধা গড়ে উঠেনি।

পাহাড়ী জনপদ প্রাণের উচ্ছাস এবং টেকসই পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের উদ্দোগ গ্রহণ প্রয়োজন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের সকল উদ্দোগসমূহ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন নেত্রকোনা এর সমন্বয়ে জনস্বস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কাজ করে যাওয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

২০৩০ সালের মধ্যে নিরাপদ ও স¦ল্পমূল্যে খাবার পানিতে সকলের সার্বজনীন ও সমতা ভিত্তিক প্রবেশাধিকারের লক্ষ্য অর্জন, নারী ও মেয়ে সহ অরক্ষিত পরিস্থিতিতে বসবাসকারী জনগোষ্ঠির চাহিদার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে সকলের জন্য পর্যাপ্ত ও সমতাভিত্তিক পয়ঃনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যবিধি সম্মত জীবনরীতিতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং খোলা জায়গার অবসান ঘটানো, দূষণ হ্রাস করে পানিতে আবর্জনা নিক্ষেপ বন্ধ করা এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ও উপকরনের নির্গমন ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে এসে, অপরিশোধিত বর্জপানির অনুপাত অর্ধেকে নামিয়ে এনে এবং বৈশ্বিকভাবে পুনশ্চক্রায়ন (রিসাইকলিং) ও নিরাপদ পুনর্ব্যবহার উল্লেখযোগ্য পরিমানে বাড়িয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে পানির গুনগত মান বৃদ্ধি করা।

২০৩০ সালের মধ্যে সকল খাতে পানি ব্যবহার দক্ষতার অভাব উন্নয়ন এবং পানি-সংকট সমাধানকল্পে সুপেয় পানির সরবরাহ এবং ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং পানি সংকটের ভুক্তভোগী মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমানে কমিয়ে আনা। এধরনের সরকারী কর্মসূচির কথা থাকলেও বাস্তবে তা মিলছে না।

এ ব্যাপারে নেত্রকোনা জেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমাকে জানান জরুরী ভিত্তিতে উপর্যুক্ত পানিরস্তর অনুসন্ধানের জন্য বেশ কয়েকটি পরিক্ষামূলক গভীর নলকূপ এবং ৪/৫ টি উৎপাদন নলকূপ সহ পাম্পহাউজ ও ওয়াটার কম্পাউন্ড নির্মাণ করে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন থেকে সঞ্চালন পাইপ লাইনের মাধ্যমে পাইপ নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করে পানি সরবরাহের সৃষ্টি করে পানি সরবরাহের লক্ষ্যে চাহিদা পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন গুলির সম্ভাবনাময় পর্যটন আকর্ষণীয় স্থান গুলোতে ওয়াটার এটিএম বুথ ও কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা যেতে পারে। সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় কমিউনিটি পর্যায়ে পানি ব্যবহার এবং পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষনের সক্ষমতা বৃদ্ধি আশু প্রয়োজন।

নওগাঁর আত্রাইয়ে রক্তদহ বিলে সমলয় প্রযুক্তিতে কৃষির সম্ভাবনা

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ ট্রেতে করে পলিথিন মোড়ানো হাউজে বীজতলা তৈরি এবং পরম যত্নে মাত্র ২২ দিনেই রোপনের উপযোগি চারা প্রস্তুত। সেইসব পূর্ণাঙ্গ চারা গুলো এখন রাইস ট্রান্সপ্লান্টারে লাইন লোগো পদ্ধতি ব্যবহার করে রোপন করা হচ্ছে জমিতে। এতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠে ধানের চারা, সুবিধা হয় পরির্চযার। পোকা মাকড়ের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে ব্যবহার করা হবে পাচিং পদ্ধতি, খরচ কমাতে ব্যবহার করা হবে আধুনিক সেচের এডাব্লুডি (পর্যায় ক্রমিক শুল্ক ও ভেজা)পদ্ধতি, সার ব্যবহার যথাযথ ও সীমিত করতে ব্যবহার করা হবে সুষম সার,অনায়াসে আগাছা নিধনে থাকবে উইডার মেশিন আর সর্বোপরি যুগপৎ ভাবে ধান কাটা,মাড়াই এবং প্যাকিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হবে কম্বাইন্ড হারভেস্টার। যাকে বলে সমলয় পদ্ধতিতে ধান চাষ।

এই পদ্ধতি অনুসরণ করে বোরোর চাষাবাদ কেরছেন আত্রাইয়ের রক্তদহ বিলের অন্তত ৫০ জন কৃষক। এ জন্য ১৫০ বিঘা জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে সমলয় চাষাবাদ স্কীম। সরকার এ জন্য প্রায় ১৩ লাখ টাকার প্রণোদনা দিয়েছেন। এই প্রণোদনা কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকের জমি এবং সেচের খরচ বাদে ধানের বীজতলা তৈরি থেকে শুরু করে সমুদয় ব্যয় বহন করবে সরকার।

এবার নওগাঁ জেলায় প্রথম বারের মতো কৃষি মন্ত্রনালয়ের পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় আত্রাই উপজেলার রক্তদহবিলের ভোঁপাড়া ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ি ব্লকে ৫০ একর জমিতে সমলয় পদ্ধতিতে হাইব্রিড ধান চাষ করা হচ্ছে। আত্রাই উপজেলা কৃষি পূর্ণবাসন বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে পাইলট এই স্খীমের কার্যক্রম মনিটরিং করছে কৃষি বিভাগ। এই কার্যক্রম সফল হলে নওগাঁ তথা রাজশাহী অঞ্চলের কৃষির সম্ভাবনায় যুক্ত হবে নতুন দিগন্ত।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছেন, সমলয় চাষাবাদ পদ্ধতি হলো একটি নিদ্দিষ্ট মাঠে একই সময়ে একই জাতের ফসল চাষাবাদের মাধ্যমে ফসলের রোপন ও কর্তনের সময় এবং উৎপাদন খরচ কমানো। একই সঙ্গে কৃষকদের সংগঠিত করে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে কৃষকদের মেলবন্ধন তৈরি করা।যা আগামী দিনের আধুনিক কৃষির এক অপরিহায্য উদ্যোগ।

বুধবার (১২জানুয়ারী) দুপুর থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনে বোরো ধানের আগাম চারা রোপন কার্যক্রম কাশিয়াবাড়ি ধানের মাঠে শুরু হয়েছে।

এ সময় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকতেখারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ শামছুল ওয়াদুদ।

অনুষ্ঠান শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আত্রাই উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ কেএম কাওছার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নওগাঁ জেলাকৃষি প্রর্শিক্ষক মুন্জুরুল এলাহী,কৃষি প্রকৌশলী মাজহারুল ইসলাম, ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নব-নিবাচিত চেয়ারম্যান মোঃ নাজিম উদ্দিন মন্ডল, সফল কৃষক মোঃ শহিদুল ইসলাম তোতা প্রমূখ।

একই সাথে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারে ধানের চারা রোপন কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করতে উপস্থিত হয়েছিলেন বিপুল সংখ্যক সাধারন মানুষ ও প্রান্তিক কৃষকগন।

লক্ষ্মীপুরে সৌ‌দি প্রবাসীর উ‌দ্যো‌গে আল্লাহর ৯৯ না‌মের মিনার উ‌দ্বোধন

মোঃ জ‌হির হো‌সেন, লক্ষ্মীপুরঃ লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পু‌রে সৌ‌দি এক প্রবাসীর উ‌দ্যো‌গে আল্লাহর ৯৯ না‌মের এক‌টি মিনার উ‌দ্বোধন করা হ‌য়ে‌ছে। বুধবার (১২ জানুয়া‌রি) দুপুর ১২ টায় জনকল্যান বহুমু‌খি উচ্চ‌বিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদের সাম‌নে আল্লাহর ৯৯ না‌মের মিনার উদ্বোধন ক‌রেন রায়পুর উপ‌জেলা চেয়ারম্যান আলহাজ অধ্যক্ষ মামুনুর র‌শিদ।
এ সময় উপ‌স্থিত ছি‌লেন  ১০ নং ইউ‌নিয়‌ন প‌রিষ‌দের চেয়ারম্যান স‌ফিউল আজম স‌ুমন চৌধু‌রি, ইউ‌পি সদস্য জামাল হো‌সেন, সাংবা‌দিক বৃন্দ ও এলাকাবাসী।
আল্লাহর ৯৯ না‌মের মিনার‌টির উ‌দ্যোক্তা সৌ‌দি প্রবাসী নোমান খান প্র‌তি‌বেদক‌কে জানান গত ক‌য়েক মাস আ‌গে নিজ উ‌দ্যো‌গে এলাকাবাসী এবং ক‌য়েকজন প্রবাসীর সহ‌যোগীতায় তি‌নি এই  কাজ‌টি সম্পন্ন ক‌রেন এবং আল্লাহর কা‌ছে শুক‌রিয়া আদায় ক‌রেন।
মিনার‌টির তিন পা‌শে তিন‌টি ভাষা বংলা, আর‌বি এবং ইং‌রে‌জি‌তে টাইলসের উপ‌রে আল্লাহর ৯৯ নাম স্থাপন করা হয়। ‌মিনার‌টি তৈরী কর‌তে প্রায় দেড় বছর সময় লে‌গে‌ছে এবং প্রায় দুই লক্ষ টাকা ব্যায় হ‌য়ে‌ছে। মিনার‌টির উচ্চতা ৩৬ ফুট যার তিন পা‌শে তিন ভাষা বাংলা, ইং‌রে‌জি এবং আর‌বি‌তে সাদা টাইল‌সের উপর আল্লাহর ৯৯ নাম স্থা‌পিত হ‌য়ে‌ছে।

কম্বোডিয়ার স্বর্ণপদক জয়ী সেই ‘হিরো’ ইঁদুরের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ অসংখ্য মানুষের প্রাণ রক্ষা করা কম্বোডিয়ার স্বর্ণপদক জয়ী সেই ‘হিরো’ ইঁদুর মাগাওয়া মারা গেছে। পাঁচ বছরের ক্যারিয়ারে শতাধিক ল্যান্ডমাইন এবং অন্যান্য বিস্ফোরক খুঁজে বের করে অসংখ্য মানুষের জীবন বাঁচিয়ে রীতিমতো হিরোর তকমা পেয়েছিল মাগাওয়া।

কম্বোডিয়াজুড়ে আনুমানিক ৬০ লাখ মাইন পুঁতে রাখা আছে বলে ধারণা করা হয়ে থাকে। সেসব মাইন শনাক্তের কাজেই এক সময় আফ্রিকার দেশ তাঞ্জানিয়া থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে নিয়ে আসা হয়েছিল মাগাওয়াকে।

১৯৯০ সাল নাগাদ বেলজিয়ামের দাতব্য সংস্থা অ্যাপোপো-তে অনেক ইঁদুরকে মাইন শনাক্তের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এসব ইঁদুরকে বলা হয় ‘হিরো র‌্যাটস’। আর সেগুলোর মধ্যে মাগাওয়াকে সবচেয়ে সফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। তার ওজন ছিল এক কেজি ২০০ গ্রাম। লম্বায় ছিল ৭০ সেন্টিমিটার।

বেলজিয়ামের দাতব্য প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে ‘শান্তিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে’ মাগাওয়া।

অ্যাপোপো জানিয়েছে, মাগাওয়া নামের ইঁদুরটির স্বাস্থ্য ভালো ছিল। জীবনের শেষ কয়েকটি সপ্তাহের অধিকাংশ সময় সে খেলাধূলা করে পার করেছে। তবে আকস্মিকভাবে তার নড়াচড়া কমে যায়। অনেক সময় নিয়ে ঘুমাতে থাকে। শেষ কয়েক দিন খাবারের প্রতিও তার কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি।

এক লাখ ৪১ হাজার বর্গমিটারের মধ্যে কোনো মাইন থাকলে সেটি খুঁজে বের করার দক্ষতাসম্পন্ন মাগাওয়ার ওজন ছিল ১ কেজি ২০০ গ্রাম।

খবর বিবিসি।