কুবিতে ভর্তি শেষ, এখনও ফাঁকা ৫৩৩ আসন!

মানছুর আলম, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ঃ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ৫০৭ শিক্ষার্থীর ভর্তির মাধ্যমে প্রথম মেরিটের ভর্তি সম্পন্ন হয়েছে। এতে মোট আসন খালি রয়েছে ৫৩৩টি। দ্বিতীয় মেরিট লিস্ট প্রকাশ করা হয়েছে আজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট আসন সংখ্যা ১০৪০। এর মধ্যে এ ইউনিটের ৩৫০ টি আসনের বিপরীতে ভর্তি হয়েছে ১৮৬ জন। আসন খালি রয়েছে ১৬৩টি। কোটাতে খালি রয়েছে ১৩টি আসন। বি ইউনিটের ৪৫০ টি আসনের বিপরীতে ভর্তি হয়েছে ১৭৯ জন। আসন খালি রয়েছে ২৭১ টি। কোটাতে খালি রয়েছে ১৪ টি। সি ইউনিটে ২৪০ টি আসনের বিপরীতে ভর্তি হয়েছে ১৪১ জন। এতে মোট আসন খালি রয়েছে ৯৯ টি। কোটাতে খালি রয়েছে ৬ টি আসন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ইউনিটের প্রধান ড. এম এম শরীফুল ইসলাম করীম বলেন, ‘ইতোমধ্যে মাইগ্রেশনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ১০ জানুয়ারী দ্বিতীয় মেরিট লিষ্টের ফলাফল প্রকাশ করা হবে। মোট আসনের চাইতে চারগুণ শিক্ষার্থীকে ভাইবার জন্য ডাকা হবে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব ) অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, আগামীকাল মাইগ্রেশনের ভর্তি শুরু হচ্ছে। ১১ জানুয়ারী পর্যন্ত এ ভর্তি চলবে। এতে দ্বিতীয় সাক্ষাৎকার চলবে ১৬-১৭ জানুয়ারী, দ্বিতীয় সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে ভর্তি শুরু হবে ১৮-১৯ জানুয়ারী, ক্লাস শুরু জানুয়ারী ২৬।

আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সুবর্ণজয়ন্তী

জাতীয় ডেস্কঃ আজ (১০ জানুয়ারী) হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৯৭২ সালের এই দিনে পাকিস্তানি বন্দিদশা থেকে নিজভূমিতে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এর মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে বাঙালির স্বাধীনতার সংগ্রাম। এ বছর জাতির পিতার ‘ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’র ৫০ বছর পূর্তি তথা সুবর্ণজয়ন্তী। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করলে ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পর পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি করে রাখে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে বাঙালি জাতি দখলদার পাকিস্তানি হানাদারবাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করে। বিশ্ব-মানচিত্রে অভ্যুদ্য় ঘটে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটলেও স্বাধীনতার নায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। স্বাধীন দেশে ওই সময় আরেকটি সংগ্রাম শুরু হয়, বঙ্গবন্ধুকে ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধু আদৌ বেঁচে আছেন কি না, কিংবা পাকিস্তান সরকার তাকে ফিরিয়ে দেবে কি না- সেসব নিয়ে চলে নানান জল্পনা-কল্পনা।

বিজয়ের ২৩ দিন পর ১৯৭২ সালের এদিন অর্থাৎ ১০ জানুয়ারি বেলা ১টা ৪১ মিনিটে অবিসংবাদিত নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন।

 

চূড়ান্ত বিজয়ের পর ১০ জানুয়ারি বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা জানানোর জন্য প্রাণবন্ত অপেক্ষায় ছিল। আনন্দে আত্মহারা লাখ লাখ মানুষ ঢাকা বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত তাঁকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানান। বিকেল ৫টায় রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে দেশের মাটিতে পা রাখেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

পরের দিন দৈনিক ইত্তেফাক, সংবাদসহ বিভিন্ন পত্রিকায় বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে এভাবেই লিখা হয়- ‘স্বদেশের মাটি ছুঁয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের নির্মাতা শিশুর মতো আবেগে আকুল হলেন। আনন্দ-বেদনার অশ্রুধারা নামল তার দুই চোখ বেয়ে। প্রিয় নেতাকে ফিরে পেয়ে সেদিন সাড়ে সাত কোটি বাঙালি আনন্দাশ্রুতে সিক্ত হয়ে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে প্রকম্পিত করে তোলে বাংলার আকাশ-বাতাস।’

জনগণ নন্দিত শেখ মুজিব সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে তাঁর ঐতিহাসিক বক্তৃতায় বলেন, ‘যে মাটিকে আমি এত ভালোবাসি, যে মানুষকে আমি এত ভালোবাসি, যে জাতিকে আমি এত ভালোবাসি, আমি জানতাম না সে বাংলায় আমি যেতে পারব কিনা। আজ আমি বাংলায় ফিরে এসেছি বাংলার ভাইয়েদের কাছে, মায়েদের কাছে, বোনদের কাছে। বাংলা আমার স্বাধীন, বাংলাদেশ আজ স্বাধীন।’

১৯৭২ সালের আজকের দিনে লাখ লাখ মানুষ ঢাকা বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত তাঁকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানান। রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন।

সশ্রদ্ধ চিত্তে বঙ্গবন্ধু সবার ত্যাগের কথা স্মরণ করেন এবং সবাইকে দেশ গড়ার কাজে উদ্বুদ্ধ করে বলেন, ‘আজ থেকে আমার অনুরোধ, আজ থেকে আমার আদেশ, আজ থেকে আমার হুকুম ভাই হিসেবে, নেতা হিসেবে নয়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, প্রেসিডেন্ট হিসেবে নয়, আমি তোমাদের ভাই, তোমরা আমার ভাই। এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না পায়, এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মা-বোনেরা কাপড় না পায়, এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি এদেশের যুবক যারা আছে তারা চাকরি না পায়। মুক্তিবাহিনী, ছাত্র সমাজ তোমাদের মোবারকবাদ জানাই তোমরা গেরিলা হয়েছ, তোমরা রক্ত দিয়েছ, রক্ত বৃথা যাবে না, রক্ত বৃথা যায় নাই।’

‘একটা কথা- আজ থেকে বাংলায় যেন আর চুরি-ডাকাতি না হয়। বাংলায় যেন আর লুটতরাজ না হয়। বাংলায় যারা অন্য লোক আছে অন্য দেশের লোক, পশ্চিম পাকিস্তানের লোক বাংলায় কথা বলে না, তাদের বলছি তোমরা বাঙালি হয়ে যাও। আর আমি আমার ভাইদের বলছি তাদের ওপর হাত তুলো না আমরা মানুষ, মানুষ ভালোবাসি। তবে যারা দালালি করেছে, যারা আমার লোকদের ঘরে ঢুকে হত্যা করেছে, তাদের বিচার হবে এবং শাস্তি হবে’ উল্লেখ করে জাতির পিতা বলেন, ‘তাদের বাংলার স্বাধীন সরকারের হাতে ছেড়ে দেন, একজনকেও ক্ষমা করা হবে না। তবে আমি চাই স্বাধীন দেশে স্বাধীন আদালতে বিচার হয়ে এদের শাস্তি হবে। আমি দেখিয়ে দিতে চাই দুনিয়ার কাছে শান্তিপূর্ণ বাঙালি রক্ত দিতে জানে, শান্তিপূর্ণ বাঙালি শান্তি বজায় রাখতেও জানে।’

বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আমায় আপনারা পেয়েছেন। আমি আসছি জানতাম না। আমার ফাঁসির হুকুম হয়ে গেছে, আমার সেলের পাশে আমার জন্য কবর খোড়া হয়েছিল। আমি প্রস্তুত হয়েছিলাম, বলেছিলাম আমি বাঙালি, আমি মানুষ, আমি মুসলমান, মুসলমান একবার মরে, দুইবার মরে না। আমি বলেছিলাম, আমার মৃত্যু আসে যদি আমি হাসতে হাসতে যাব। আমার বাঙালি জাতকে অপমান করে যাব না, তোমাদের কাছে ক্ষমা চাইব না। এবং যাওয়ার সময় বলে যাব জয় বাংলা, স্বাধীন বাংলা, বাঙালি আমার জাতি, বাংলা আমার ভাষা, বাংলার মাটি আমার স্থান।’

প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি-

১০ জানুয়ারি সকালে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশে সংগঠনের সকল কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল সাড়ে আটটায় ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বরের ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ১১ টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করবে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের সদস্য হলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সৈয়দ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এস. এম কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. সিদ্দিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এ বি এম রিয়াজুল করিব কাওছার, উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং, মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে তিনটায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সীমিত পরিসরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এছাড়াও স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য প্রতিটি জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোকে কেন্দ্রীয় কমিটির অনুরূপ কর্মসূচির আয়োজন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের সকল কর্মসূচি যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে পালনের জন্য আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ সংগঠনের সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক

অলিউর রহমান মেরাজ, দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের ৩২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  ও নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক  অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার বিকাল ৩টায় উপজেলার শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যানে (আশুড়ার বিল) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক উপলক্ষে নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হাসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ।

আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা  বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হাসিম উদ্দিন, আমন্ত্রিত অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ সোম,উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা.পারুল বেগম। আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কেক কাটেন।

পরে প্রেসক্লাবের সৌজন্যে অনুষ্ঠানের আমন্ত্রিত অতিথি,উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়াম্যানগণ ও প্রসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটিকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় ।

নওগাঁর আত্রাইয়ে সমবায় সমিতির সদস্যাদের পাঁচ দিন ব্যাপী আইজিএ ব্লক বাটিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর আত্রাইয়ে উপজেলা পর্যায়ে মহিলাদের আয় বর্ধক প্রশিক্ষণ প্রকল্পে (আইজিএ) সমবায় সমিতির সদস্যাদের পাঁচ দিন ব্যাপী স্থানীয় চাহিদা ভিত্তিক আইজিএ ব্লক বার্টিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৯ জানুয়ারী) সকালে উপজেলা জেলা সমবায় কার্যালয়ের আয়োজনে ও জেলা সমবায় কার্যালয়ের পরিচালনায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ নিজাম উদ্দিন।

উক্ত প্রশিক্ষণ কর্মশায় প্রধান অতিথিহিসেবে উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের যুগ্ন-নিবন্ধক মোঃ আব্দুল মজিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকতেখারুল ইসলাম।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আত্রাই উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন টগর,নওগাঁ জেলা সমবায় অফিসার মোঃইমরান হোসেন, পরিদর্শক নওগাঁ জেলা সমবায় অফিস মোঃ শামিম রেজা, আত্রাই উপজেলা সমবায় অফিস পরিদর্শক মোঃ আনোয়ার হোসেন, অফিস সহকারী মোঃ জাকির হোসেন প্রমূখ।

উক্ত প্রশিক্ষন কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে পঁচিশ জন মহিলাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন ভবানীপুর মহিলা সমবায় সমিতি লিঃ সদস্য মোছা কামরুন।

পাকিস্তানে তুষারপাত-বৃষ্টিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বর্তমানে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বেসামাল পাকিস্তান গত কয়েকদিন ধরে চলা তুষারপাত-বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তুষারপাতে আটকে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছিল। রবিবার সকালে সংখ্যাটা বেড়ে ২২ এ দাড়িয়েছে। অন্যদিকে প্রবল বৃষ্টি এবং ঠান্ডা আবহাওয়ায় আরও ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ বহু মানুষ। সবমিলিয়ে নানা দুর্যোগের জেরে পাকিস্তান থেকে এ পর্যন্ত ৪২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে প্রবল তুষারপাতের কারণে পাকিস্তানের উত্তর প্রান্তে পর্বতচুড়োয় অবস্থিত শহর মুরিতে পর্যটকদের হুড়োহুড়িতে শহরের রাস্তায় যানজট তৈরি হওয়ায় গাড়ি আটকে যায়। ফলে গাড়ি সরানো যায়নি। চরম ঠান্ডায় গাড়িতেই ২২ জনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন শিশুও রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গাড়িতে আটকে থাকা পর্যটকদের কম্বল এবং খাবার বিতরণ করছে স্থানীয় প্রশাসন। আগামী দু’ দিন ওই শৈলশহরে পর্যটকদের প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এদিকে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে শুরু হয়েছে প্রবল তুষারপাত। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। যার জেরে ইতিমধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম ১০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে পাঞ্জাব এবং বালুচিস্তান প্রদেশেও প্রবল বর্ষণ চলছে। সেখান থেকে ১১ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। গৃহহীন শতাধিক। স্থানীয় প্রশাসন এবং সেনা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। বহু মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানের হাওয়া অফিস জানিয়েছে, রবিবার রাত পর্যন্ত চলবে এই তুষারপাত এবং বৃষ্টি। যার জেরে পাহাড়ি এলাকায় হড়পা বান বা মেঘভাঙা বৃষ্টির মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনকে তৈরি থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। সেই মতো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সেনা, আধা সমারিক বাহিনী ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের গুজবে কান না দিতে আহ্বান জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

সিএনবিডি ডেস্কঃ দেশের করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার গুজবে কান না দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের করোনার টিকাদান কার্যক্রম জোরেশোরে চলছে। সবাইকে টিকার আওতায় এনে কীভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যায়, আমরা সেই চেষ্টাই করছি। তবে এটাও ঠিক যে, যদি মনে হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখলে সংক্রমণ বাড়বে, তখন আমরা হয়তো বন্ধ করে দেব।

আজ রবিবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে সাভারের আশুলিয়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নবম সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এসময় করোনা পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে আজ (রবিবার) বিকেলে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৈঠক রয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

ডা. দীপু মনি আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুরক্ষিত রেখে সংক্রমণ কীভাবে এড়াতে পারি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে বা হয়ে যাচ্ছে, সব সময়ই এমন গুজব ছড়ানো হয়। আপনারা গুজবে কান দেবেন না। যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতেই হয়, আমরা ঘোষণা দিয়ে বন্ধ করে দেব। যতক্ষণ সে প্রয়োজন অনুভব না হবে, আমরা বন্ধ করব না। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে যাক।

তিনি বলেন, মহামারির সময় নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দাঁড়াতেই পারেনি। সে সময় ভিসি, প্রো-ভিসি, ট্রেজারার নিয়োগ দেওয়া আরেকটি বাড়তি চাপ। যদিও ভিসি ছাড়া থাকতেই হবে, এছাড়া প্রতিষ্ঠান চলবে না। আমরা বারবারই যেখানে যে অভাব আছে তা পূরণে তাগাদা দিচ্ছি। চেষ্টা করছি দ্রুত এ কাজ শেষ করার। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ থেকে আরও বেশি সদিচ্ছা কামনা করছি।

এর আগে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা কি পরীক্ষার সনদের ওপর নির্ভরশীল? যদি তাই হবে তাহলে এত সনদধারী বেকার কেন? নিশ্চয়ই এটা আমাদের কাম্য নয়। সে কারণে একেবারে প্রাক-প্রাথমিক থেকে একটা পরিবর্তন নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। যার মাধ্যমে শিক্ষা শুধু পরীক্ষা আর সনদ নির্ভর হবে না। শিক্ষার্থীরা প্রয়োগের মাধ্যমে শিখবে।

তিন বছর পর মুক্তির স্বাদ পেলেন সৌদি রাজকুমারী বাসমা বিনতে সৌদ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ নতুন বছর ২০২২ সালের শুরুতেই জেল থেকে মুক্ত হয়ে অবশেষে মুক্তির স্বাদ পেলেন সৌদি রাজকুমারী বাসমা বিনতে সৌদ। তবে এ মুক্তির জন্য বিনা কারণে তিন বছর জেল খাটতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর সঙ্গেই মুক্তি দেওয়া হয়েছে তাঁর মেয়ে সুহাউদকে।

শনিবার এক টুইট বার্তায় মানবাধিকার সংগঠন আলকোয়েস্ট এ খবর জানিয়েছে বলে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে মিডল ইস্ট আই। যদিও মুক্তি পাওয়ার পরে রাজকুমারী বাসমা কোথায় গিয়েছেন, সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

রাজ পরিবারের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও পর্দানসীন মেয়েদের অধিকার নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছিলেন ৫৭ বছর বয়সী রাজকুমারী বাসমা। যদিও তার ওই বিপ্লব পছন্দ করেন সৌদির বর্তমান যুবরাজ সলমান। ২০১৯ সালে চিকিৎসার জন্য সুইৎজারল্যান্ডে যায়ার আগেই কোনো কারণ ছাড়া গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। এরপর থেকে আল-হাইর কারাগারে বন্দি ছিলেন তিনি।

২০২০ সালের এপ্রিলে তিনি কিং সালমান এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে কারামুক্তির আবেদন জানান।

খবরে বলা হয়েছে, বাদশা সালমান এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায় রাজকুমারী বাসমা বিনতে সৌদকে মুক্তি দিয়েছেন।

মানবাধিকার সংগঠন আলকোয়েস্ট জানিয়েছে, বাসমাকে কারাগারে যথাযথ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এ কারণে তার মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে বাসমা বিনতে সৌদের শরীরের প্রকৃত অবস্থা জানা যায়নি। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

সূত্র : মিডল ইস্ট আই।

আটটি বিভাগীয় শহরে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ক্যান্সার হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন

জাতীয় ডেস্কঃ দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধীনে ৪৬০ শয্যা বিশিষ্ট সমন্বিত ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ ইউনিটের উদ্বোধন করেছেন দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ রবিবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশে কেন এত ক্যান্সার হচ্ছে, এ নিয়ে গবেষণা করতে হবে। কেন মানুষ এ ধরণের অসুখে ভুগছে, সেগুলো আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। আমরা চাই আমাদের প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন জনশক্তি গড়ে উঠুক। আর এই অতিমারীকে আমাদের যেভাবেই হোক মোকাবেলা করতে হবে। এ জন্য মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিতে চাই আধুনিক, জ্ঞানসম্পন্ন একটি বাংলাদেশ হিসেবে। যে বাংলাদেশের স্বপ্ন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেখেছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, দেশে আশঙ্কাজনকভাবে ক্যান্সার বাড়ছে। ক্যান্সারে প্রতি বছরে এক লাখ মানুষ মারা যায়। ভেজাল খাদ্য, মাদক, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনসহ বেশ কিছু কারণে এসব মৃত্যু হয়ে থাকে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এদিকে দেশের করোনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার ১ নম্বর। ওমিক্রন নিয়ে কাজ করছে সরকার। আসুন সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, যোগ্য সকলে টিকা নেই।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্বিবদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক ভিসি ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, বিএসএমএমইউর ভিসি অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম প্রমুখ।

নারায়ণগঞ্জের ধলেশ্বরীতে ট্রলারডুবি: মা-মেয়েসহ ৪ মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ধলেশ্বরী নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলার ডুবির পাঁচদিনের মাথায় ভেসে উঠলো নিখোঁজ ১০ জনের মধ্যে ৪ জনের লাশ। এদের মধ্যে এক পরিবারের ৪ জন নিখোঁজ হওয়া জেসমিন আক্তার নামে এক নারী ও তার মেয়ের মরদেহ রয়েছে।

আজ রোববার (০৯ জানুয়ারি) সকালে ভেসে ওঠা মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারি পরিচালক আব্দুল্লা আল আরেফিন জানান, সকালে ধর্মগঞ্জ ঘাটের অদূরে ৪টি মরদেহ ভেসে উঠে। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে আরও ছয়জন। ডুবে যাওয়া ট্রলারটি এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। যেখানে ট্রলার ডুবেছে, সেখান থেকে কিছুটা দূরে চারটি মরদেহ ভেসে উঠতে দেখে আমাদের খবর দেয় স্থানীয় লোকজন। আমরা গিয়ে উদ্ধার করি। মরদেহ শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

এদিকে, ট্রলারডুবির ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি সকালে ফতুল্লার বক্তাবলী সিপাইবাড়ি খেয়াঘাট থেকে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি ধর্মগঞ্জ খেয়াঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ধলেশ্বরী নদীর মাঝখানে পৌঁছালে বরিশাল থেকে ঢাকাগামী এমভি ফারহান নামে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কা লাগলে ডুবে যায় ট্রলারটি। এসময় অধিকাংশ যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও একই পরিবারের চারজনসহ আরও ৬ যাত্রী নিখোঁজ হন।  ঘটনার পঞ্চম দিন পার হলেও এখনো কাউকে উদ্ধার করতে না পারায় স্বজনদের আর্তনাদ ক্রমেই বাড়ছে।

শেরপুরে ১২ শত বস্তা সার ও তিনটি ট্রাকসহ আটক ৬

নূর মোহাম্মদ সম্রাট, বগুড়া প্রতিনিধিঃ অবৈধভাবে পাচারকালে বগুড়ার শেরপুরে ১২শ বস্তা ডিএপি সারসহ ৬জনকে আটক করেছে র‌্যাব-৫ নাটোর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের রানীরহাট-মির্জাপুর সড়কের বামিহাল এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এসময় পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত তিনটি ট্রাকও আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় র‌্যাব বাদী হয়ে রাতে শেরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীর একটি আভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে নাটোর থেকে কয়েকটি ট্রাক বোঝাই সরকারী আমদানীকৃত সার অজ্ঞাত স্থানে যাচ্ছে। সারগুলো অবৈধভাবে কালোবাজারীর মাধ্যমে সংগ্রহ করে মজুদের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।

তারা শেরপুর থানার বামিহাল গ্রামের গ্রীনফিল্ড এগ্রো লিঃ এর পাশে একটি চেকপোষ্ট স্থাপন করে তিনটি ট্রাক বোঝাই ১২শ বস্তা ডিএপি সার আটক করে। এসময় ৬ জনকে আটককরা হয়।

আটকৃতরা হলেন, ট্রাক তিনটির চালক মোঃ সবুর হোসনে (২৮), মোঃ রুহুলআমনি (৩০) ও মোঃ তানবির হোসেন (২৩) এবং হেলপার মোঃ ইমরান হোসেন (২৩) মোঃ রাকিব হোসেন (১৯) ও মোঃ বিশু (২২)। এ মামলায় অপর এক আসামী মোঃ তুলামিয়া (৩৮) পলাতক রয়েছেন। আটককৃত সারের আনুমানিক বাজারমূল্য ৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

র‌্যাব-৫ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, একটি চক্র সরকারী আমদানীকৃত সার অবৈধভাবে কালোবাজারীর মাধ্যমে বিক্রয় করে আসছে। আটককৃতরা ওই চক্রের সদস্য বলে তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

এ ব্যাপারে শেরপুর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানান আটককৃত সার, তিনটি ট্রাক ও ছয়জনকে থানায় সোপর্দ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাদের আজ আদালতে প্রেরণ করা হবে।