হাতিবান্ধায় সকালে স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার, বিকেলে পুলিশ হেফাজতে স্বামীর মৃত্যু

ঈশাত জামান মুন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : জেলার হাতীবান্ধায় স্ত্রীর মৃত্যুর কারণ জানতে স্বামী হিমাংশু রায়কে আটক করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানার পুরাতন একটি রুমে একা রাখা হলে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি পুলিশের।

এদিকে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিমাংশুর গ্রামের এলাকাসহ উপজেলা জুড়ে তুমুল আলোচনা সমালোচনাসহ জনমনে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শুক্রবার সকালে হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন এর পূর্ব কাদমা মালদাপাড়া থেকে ছবিতা রানী (৩০) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তার স্বামী হিমাংশু রায়কে মৃত্যুর কারণ জানতে সন্দেহভাজন হিসাবে প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে সন্ধ্যায় পুলিশ হেফাজতে তার স্বামীর মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এরশাদুল আলম বলেন, ওই এলাকার বিশেশ্বর রায়ের পুত্র হিমাংশু রায়ের বাড়িতে তার স্ত্রী ছবিতা রানীর মরদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধারসহ মৃত্যুর কারণ জানতে ওই নারীর স্বামী হিমাংশু রায়কে সন্দেভাজন হিসেবে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানার একটি রুমে রাখা হয়। সেই রুমে হিমাংশু রায় আত্নহত্যার চেষ্টা করেন। টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসপাতালে দায়ীত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন, এবং বলেন হাসপাতালে নিয়ে আসার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়েছে।

উজানচর নুরে মদিনা সুন্নিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার ছাত্ররা বছরের শুরুতে বই পেয়ে আনন্দে মহা খুশি

মো.নাছির উদ্দিন, বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর নুরে মদিনা সুন্নিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নতুন বই হাতে পাওয়ার আনন্দে উল্লাসিত মহা খুশি।

বছরের শুরুতে সারাদেশের ন্যায় উজানচর নুরে মদিনা সুন্নিয়া ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ও এতিমখানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে ১ম শ্রেণী হইতে ৫ম শ্রেণির নতুন বই।

অত্র মাদ্রাসার সভাপতি হাসান মোক্তারের সভাপতিত্বে  প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কল্যাণপুর হাজী আব্দুল হালিম আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবুল কাশেম সালেহী তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে বছরের শুরুতেই সারা দেশে বই বিতরণ সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, জাতি গঠনে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার প্রতি মনোযোগী হওয়ার জন্য তিনি আহবান জানান। তিনি মাদ্রাসার মান বৃদ্ধিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

এসময় আরো উপস্হিত ছিলেন অত্র মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মো.নজরুল ইসলাম, উজানচর কে এন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মুফতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ,অত্র মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ মাওলানা নুরমোহাম্মদ আল-ক্বাদরী,সহকারি শিক্ষক মাওলানা উসমান গণি আল ক্বাদেরী,বাঞ্ছারামপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সানা উল্লা ভান্ডারী,ঝগড়ারচর গ্রামের সমাজ সেবক আব্দুল কাদির জিলানী, ছাত্রদের অভিভাবকগণ ও  এলাকার ব্যাক্তিবর্গ এসময় উপস্হিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে  পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত পাঠ করে ছাত্রদের  সুস্বাস্থ্য কামনা করে সবার জন্য দোয়া করা হয়। পরে ছাত্রদের হাতে  নতুন বই তুলে দেন অতিথিগণ,সকল শিক্ষার্থী নতুন বই হাতে পেয়ে মহা খুশি এবং পরিশেষে সবার মাঝে তাবারুক বিতরণ করে অনুষ্ঠান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

কমলগঞ্জে এক মৃগী রোগীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা বাগান থেকে শুক্রবার সকাল ১০টায় অজয় মুন্ডা (২০) নামের এক মৃগী রোগীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে বাঘিছড়া ফাঁড়ি চা বাগানের চা-শ্রমিক পানিছড়া মুন্ডার ছেলে।

শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা যায়, অজয় মুন্ডা বৃহস্পতিবার বিকেলে বাঘিছড়ায় গোসল করতে নেমে পানিতেই পড়ে থাকে। এর পর ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার সকালে চা শ্রমিকরা বাঘিছড়ায় অজয় মুন্ডার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। এরপর শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক সোহেল রানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে অজয় মুন্ডার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে প্রেরণ করে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শমশেরনগর চা বাগানের রাজভর টিলায় এবার এসএসসি উত্তীর্ণ মনিকা রাজভর (১৫) নামে এক ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছিল। সে শমশেরনগর চা বাগানের রাজভর টিলার মৃত রামস্বামী রাজভরের মেয়ে। সে রান্নাঘরের চালার সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক সোহেল রানা ছড়ায় অজয় মুন্ডা ও গলায় ফাঁস দিয়ে ছাত্রীর আত্মহত্যার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, দুটিই মামলা দায়ের হবে।

তিনি আরও বলেন, অজয় মুন্ডার পরিবার সদস্যরা জানিয়েছেন সে মৃগী রোগী ছিল। অপরদিকে ছাত্রী মনিকার পরিবার সদস্যরাও জানিয়েছেন সে মানসিক রোগী ছিল।

রাণীশংকৈলে বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষ পুর্তিতে অনুষ্ঠান

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কিংবদন্তী বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষ পুর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ৬ জানুয়ারি এক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে ও ইউএনও সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না।

প্রধান আলোচক ছিলেন কবি-গীতিকার- সাংবাদিক অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে পৌর কাউন্সিলর হালিমা আকতার ডলি ও মহিলা লীগ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন প্রেমক্লাব সভাপতি কুসমত আলীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী,শিক্ষক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান আলোচক তার বক্তব্যে নজরুলের বিদ্রোহী কবিতাসহ বিভিন্ন রচনায় বিদ্রোহীতার বহুমাত্রিক দিক তুলে ধরেন। ইউএনও তার বক্তব্যে উপস্থিত সবাইকে বিদ্রোহী কবিতা পড়ার ও তার অর্থ উপলব্ধি করার আহবান জানান।

প্রভাষক প্রশান্ত বসাকের স্বাগত বক্তব্য ছাড়াও আরো বক্তব্য দেন-সহকারী অধ্যাপক সুকুমার চন্দ্র মোদক, প্রভাষক প্রশান্ত বসাক, বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান প্রমুখ।

বিদ্রোহী কবিতার আবৃত্তিতে অংশ নেন প্রভাষক মতিউর রহমান, প্রশান্ত বসাক ও রেজাউল ইসলাম প্রমুখ। নজরুল সঙ্গীতে অংশ নেন, সহ-অধ্যাপক শিউলি মন্ডল, সুকুমার মোদক, ওবায়দুর রহমান, ইতি আকতার প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম।

১৭ নং জাহাপুর ইউনিয়নের কেয়ট গ্রামবাসী উন্নয়নের স্বার্থে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবিএম সিদ্দিকুর রহমানকে সমর্থন

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা জেলা মুরাদনগর উপজেলার ১৭নং জাহাপুর ইউনিয়নবাসী চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায় এবিএম সিদ্দিকুর রহমান কে। সারা দেশে ইউপি নির্বাচনের ৬ষ্ঠ ধাপে আগামী ৩১ জানুয়ারী মুরাদনগর উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ১৭নং জাহাপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ এবং জমা দিয়েছে এবিএম সিদ্দিকুর রহমান। মনোনয়ন সংগ্রহের পর থেকেই তিনি ব্যাপক প্রচার প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

১৭নং জাহাপুর ইউনিয়নবাসী মনে করে এলাকার উন্নয়নে ও কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে এবিএম সিদ্দিকুর রহমানের বিকল্প নেই। শুক্রবার বিকেলে ১৭নং জাহাপুর ইউনিয়নের কেয়ট গ্রামবাসী উন্নয়নের স্বার্থে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবিএম সিদ্দিকুর রহমান কে সমর্থন দেন।মনে করেন তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হবে।

এলাকাবাসীর ধারণা এবিএম সিদ্দিকুর রহমান চেয়ারম্যান নির্বাটিত হলে এলাকা অনেক উন্নত হবে। গরিব দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবিএম সিদ্দিকুর রহমান বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন এর খুব ঘনিষ্ঠজন। সে হিসেবে তার পক্ষেই এলাকার কাক্সিক্ষত উন্নয়ন করা সম্ভব বলে সচেতন মানুষ মনে করে।

এ ব্যাপারে এবিএম সিদ্দিকুর রহমান বলেন,আমি চেয়ার ম্যান হতে চাই জনগণের জন্য। আমি আমার নেতাকর্মীসহ সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে আলোচনা করে এলাকায় উন্নয়ন কাজ করে চলেছি।আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে সব শ্রেণী পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে ১৭নং জাহাপুর ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরিত করব ইনশা আল্লাহ। আমি মানুষের দুঃসময়ে নিজের জীবন বাজি রেখে গরিব দুঃখী মানুষের কাজ করে যাচ্ছি। করোনা মহামারী তে অসহায় পরিবারের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছি। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করে আসছি।

বঙ্গোপসাগরে বিশাল গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান মিলেছে : পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়

জাতীয় ডেস্কঃ বঙ্গোপসাগরে ১৭ থেকে ১০৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস হাইড্রেট বা মিথেন গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স বিভাগ। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ খবর হলো বাংলাদেশের জলসীমায় মিলেছে ২২০ প্রজাতির সামুদ্রিক শৈবালের সন্ধান। সামুদ্রিক শৈবালের মধ্যে মাছ ও পশু খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কসমেটিক উপাদান রয়েছে। এছাড়া ২শ ২০ প্রজাতির সামুদ্রিক শৈবালের সন্ধান মিলেছে সমুদ্র তলদেশে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ২৮ হাজার কোটি টাকা।

গতকাল বুধবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ সুসংবাদ দেয়া হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইমস অ্যাফেয়ার্স গত ৩ বছর ধরে জরিপ চালায় বঙ্গোপসাগরে। সেখানেই সন্ধান মিলেছে ১৭ থেকে ১০৩ ট্রিলিয়ন গ্যাস হাইড্রেট বা মিথেন গ্যাসের।

বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট সচিব মো. খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, গবেষণা অনুযায়ী আমরা নূনতম ১৭ ও সর্বোচ্চ ১০৩ ঘনফুট গ্যাস ক্ষেত্রের সন্ধান পেয়েছি।

যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতায় চালানো এই গবেষনা ২০১২ সালের সমুদ্র বিজয়ের পরে সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেন, আমরা খুবই আনন্দিত যে দুটি গবেষণাই সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। আগামী শতকে জ্বালানি সংকট নিরসনে এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির উৎস হিসেবে গ্যাস হাইড্রেটের এই বিশাল মজুদ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি যুগান্তকারী ঘটনা পরিবেশ বান্ধব জ্বালানির উৎস হিসেবে এরকম বিশাল গ্যাস হাইড্রেট ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে। আমরা আশা করছি অতি দ্রুত এই গ্যাস হাইড্রেট উত্তোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জ্বালানি ক্ষেত্রে নতুন যুগে প্রবেশ করবে। আর সমুদ্রাঞ্চলে গ্যাস হাইড্রেট ও মেরিন জেনেটিক রিসোর্সের বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষ তদারকি করছে সরকার।

ডোমারের ১০ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন যারা

মোঃ মোশফিকুর ইসলাম, নীলফামারীঃ পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ শেষে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র ৭ প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের নৌকার ৩ প্রার্থীর জয় হয়েছে।

বুধবার (৫ই জানুয়ারী) রাতে ডোমার উপজেলা পরিষদ হলরুমে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন যথাক্রমে– উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিছুজ্জামান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা রাকিবুল আহমেদ চৌধুরী।

উপজেলার ১নং ভোগডাবুরী ইউনিয়নে ৬ হাজার ৬৯৭ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রেয়াজুল ইসলাম কালু (আনারস)। তার নিকটতম প্রার্থী চশমা প্রতিকের আবু তাহের পেয়েছেন ৫ হাজার ১৪৮ ভোট। এছাড়া নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. হাফিজুর রহমান বকুল ৫৪২ ভোট পেয়েছেন।

২নং কেতকীবাড়ি ইউনিয়নে ৩ হাজার ৪৬০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রশিদুল ইসলাম রোমান (অটোরিক্সা)। মাত্র ২৩ ভোটের ব্যবধানে ৩ হাজার ৪৩৭ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রার্থী ছিলেন টেবিল ফ্যান প্রতিকের রাকিব হাসান প্রধান। এখানে মাত্র ১৬৮ ভোট পেয়েছেন নৌকার প্রার্থী মো. রবিউল ইসলাম স্বাধীন।

৩নং গোমনাতি ইউনিয়নে ৪ হাজার ৮১৪ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আহম্মেদ ফয়সাল শুভ (মটরসাইকেল)। সেখানে, নৌকার প্রার্থী আব্দুল হামিদ পেয়েছেন ২ হাজার ৯৬৯ ভোট।

৪নং জোড়াবাড়ি ইউনিয়নে ৩ হাজার ৪৩১ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাখাওয়াত হাবিব বাবু (অটোরিক্সা)। তার নিকটতম প্রার্থী নৌকার মো. এহতেশামুল হক পেয়েছেন ৩ হাজার ৩১৩ ভোট। আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী আনারস প্রতিকের মনোয়ার হোসেন পেয়েছেন ৩ হাজার ২০৮ ভোট।

৫নং বামুনিয়া ইউনিয়নে ৩ হাজার ৮৫৩ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোমিনুর রহমান (মটরসাইকেল)। তার নিকটতম প্রার্থী সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান আনারস প্রতিকের ওয়াহেদুজ্জামান বুলেট পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৫৮ ভোট। এখানে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোরঞ্জন রায় পেয়েছেন ৩ হাজার ৪৯৫ ভোট।

৬নং পাঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়নে ৫ হাজার ১৫৪ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম ভুট্টো (চশমা)। তার নিকটতম প্রার্থী নৌকা প্রতিকের মো. এমদাদুল ইসলাম পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৩৩ ভোট। আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী আনারস প্রতিকের আব্দুর রাজ্জাক পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৭৫ ভোট।

সবচেয়ে আলোচিত ৭নং বোড়াগাড়ি ইউনিয়নে ১০ হাজার ২৬৩ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম রিমুন (আনারস)। আরেক প্রার্থী নৌকা প্রতিকের মোছা. জেবুন্নেছা আখতার জেবা পেয়েছেন ৭ হাজার ৮৬০ ভোট।

৮নং ডোমার সদর ইউনিয়নে ৪ হাজার ১৫৪ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত মো. মাসুম আহম্মেদ (নৌকা)। তার নিকটতম প্রার্থী আনারস প্রতিকের হাফিজুল ইসলাম হাফিজ পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৯৪ ভোট। এছাড়া জামায়াত সমর্থিত চশমা প্রতিকের খন্দকার আহমাদুল হক মানিক পেয়েছেন ২ হাজার ৯৪৬ ভোট।

৯নং সোনারায় ইউনিয়নে ৩ হাজার ৭৪০ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী গোলাম ফিরোজ চৌধুরী (নৌকা)। তার নিকটতম প্রার্থী মোটরসাইকেল প্রতিকের ফজলুল করিম সরকার পেয়েছেন ২ হাজার ৮৮৯ ভোট। এছাড়া জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতিকের সার্জেন্ট (অব.) তৌহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ২ হাজার ৭৬২ ভোট।

১০নং হরিণচড়া ইউনিয়নে ৪,২৪৭ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত মো. রাসেল রানা (নৌকা)। তার নিকটতম প্রার্থী সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান আনারস প্রতিকের মো. আজিজুল ইসলাম পেয়েছেন ৪ হাজার ১২৫ ভোট।

নবাবগঞ্জে ইউপি সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত

অলিউর রহমান মেরাজ, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায়  উপজেলা অডিটরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নয়টি ইউনিয়নে নির্বাচিত ১০৮ জন  প্রতিনিধিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ সোম শপথ বাক্য পাঠ করান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ কামরুজ্জামান সরকার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আঃ রাজ্জাক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ পারুল বেগম,কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান,প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোঃ রেফাউল আজম,থানার অফিসার ইন চার্জ মোঃ ফেরদৌস ওয়াহিদ,ওসি তদন্ত মোঃ তাওহীদুল ইসলামসহ  প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ২৮ নভেম্বর  উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সোনার মানুষ গড়ার পাঠশালা

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আমার প্রাণের সংগঠন। ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল গত পরশু। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের সবচেয়ে প্রাচীন এই ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি বাংলাদেশের মহান স্থপতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি এই তিন নীতি নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, `৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, `৬৬-এর ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলন, `৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, `৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, `৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং `৯৬-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনসহ সব প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছে।
বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার মানুষ চাই‘। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সোনার মানুষ গড়ার পাঠশালা।
১৯৭৬ সাল, চারিদিকে দারুণ অনিশ্চয়তা। মানুষের মনে তখন ক্ষোভের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। মাত্র কয়েক মাস পূর্বে ‘ওরা‘ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বাঙ্গালী জাতির পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। বঙ্গবন্ধুকে কখনো কাছাকাছি সশরীরে দেখিনি। ১৯৭৪ সালে ভুটানের রাজা বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। আমন্ত্রিত অতিথিকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু নৌবিহার করতে পাগলাস্থ পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নৌঘাঁটিতে যাওয়ার পথে জুরাইন মাজার এর সম্মুখস্থ রাস্তার ধারে দাঁড়িয়েছিলাম। উদ্দেশ্য সেই মহান বীরকে এক নজর দেখবো, যিনি আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, যার ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলার আবাল বৃদ্ধ বনিতা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে এনেছে। কিন্তু সেদিন বঙ্গবন্ধুকে দেখতে পারিনি। গাড়ীবহর দ্রুত চলে গিয়েছিল।
স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিলো। নৌকা আকৃতির একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। আমি তখন স্কুলের ছাত্র। আমার বাবার সাথে সেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেদিন অনেক দূর থেকে বঙ্গবন্ধুকে আবছা আবছা দেখেছি। বাবার মুখে বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেমের কথা শুনেছি। সেই থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতি যতটুকু ভালবাসা সৃষ্টি হয়েছে। সেইটুকু ভালোবাসার টানেই জাতির পিতার এই নির্মম হত্যাকাণ্ড কোটি কোটি বাঙালির ন্যায় আমার সেদিনের সেই ছোট্ট মনও মেনে নিতে পারেনি। এই চরম প্রতিকূল অবস্থায় শিক্ষা শান্তি প্রগতি নীতির প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়ে তৎকালীন ডেমরা থানা ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত হই। স্কুল ছাত্রাবস্থায় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে (সাবেক) ডেমরা এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের ছাত্রলীগের পতাকাতলে সংগঠিত করেছি। আমার সমবয়সী শিশু রাসেল সহ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার প্রতিবাদে ‘মুজিব হত্যার পরিণাম বাংলা হবে ভিয়েতনাম‘, ‘আমরা সবাই মুজিব হব-মুজিব হত্যার বদলা নেব, এক মুজিবের রক্ত থেকে-লক্ষ মুজিব জন্ম নেবে’ ‘কৃষক বলে শ্রমিক ভাই, মুজিব হত্যার বিচার চাই‘ শ্লোগানে শ্লোগানে প্রকম্পিত করেছি রাজপথ।
স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীতে আজ গর্ব করে বলতে পারি, বঙ্গবন্ধুকে আর ফিরে পাব না, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেদিনের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে।
আমার স্কুল ও কলেজ জীবনে ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের মরহুম বাচ্চু ভাই, কে এম শহিদুল্লাহ-এস এ মান্নান কচি, আশরাফুল আলম মারুফ-মতিউর রহমান মতি ভাই এর নেতৃত্বে স্থানীয় ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলাম। কারণ আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খ্রিস্টান মিশনারি পরিচালিত নটরডেম কলেজে ছাত্র রাজনীতি করার সুযোগ ছিল না। তাই তৎকালীন স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে সাবেক ডেমরা এলাকায় প্রতিটি মহল্লা, অলিগলিতে ছাত্রলীগের কর্মী সংগ্রহে ঘুরে বেড়িয়েছি। ডেমরা এলাকার বেশিরভাগই ছিল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। তখন লুঙ্গি পরে জুতা হাতে করেও যেতে হয়েছে অনেক এলাকায়। প্রতিটি গলিতে বা ছোট আকারের প্রতিটি মহল্লায় একজন করে কর্মী তৈরি করে ঐ গলি বা মহল্লার দায়িত্ব দেওয়া হতো। ঐগলি বা মহল্লায় ছাত্র ছাত্রীদের কে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত, কোনো ছাত্র সংগঠনের সাথে সংযুক্ত কিনা? ইত্যাদি তথ্যাদি সংগ্রহ করে পুরা এলাকায় বসবাসরত ছাত্রছাত্রীদের ডাটাবেজ তৈরি করা হতো। পুরা এলাকায় বসবাসরত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হতো।
বর্তমান ৫৪ নং ওয়ার্ডের আবুল বাসার রিপন পিএইচডি ডিগ্রী শেষে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াতে চাকুরী করে। মাঝে মধ্যে টেলিফোনে আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখে। রিপনের বাবা ডাঃ এম এ হোসেন  আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী। তিনি একটি ফার্মেসীতে বসতেন, নিয়মিত রোগী দেখতেন। ডাক্তার সাহেবের দুঃখ , উনার ছেলে হাইস্কুলের ছাত্র। সকালে ঘুম থেকে দেরীতে উঠে।  আমাকে বললেন, প্রতিদিন সকালে ডেকে নিতে। আমি নিয়মিত সকালে রিপনকে ঘুম থেকে তুলে সাথে নিয়ে প্রাতঃভ্রমণে বের হতাম। ক্রমে ক্রমে তাকে ছাত্রলীগের রাজনীতি বুঝালাম। শেষ পর্যন্ত সে ডেমরা থানা ছাএলীগের সভাপতি হয়েছিল। এমনি প্রক্রিয়ায় কঠিন অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ছাত্রলীগ সংগঠিত করা হয়েছিল।
এরপর আমার ছাত্রলীগের রাজনীতির বিশ্ববিদ্যালয় পর্ব। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য দরখাস্ত জমা দিতে এসে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে মুগ্ধ হয়েছিলাম। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মরহুম কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান এমপি ও প্রদীপ রঞ্জন কর যথাক্রমে তৎকালীন ছাত্র সংসদের ভিপি ও জিএস ছিলেন। মরহুম কৃষিবিদ শওকত মোমেন শাহজাহান এমপি ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। নবাগত শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পতাকাতলে সমবেত করার জন্য বিশাল কার্যক্রম। ভর্তিচ্ছুদের আবেদনপত্র সংগ্রহ করে পূরণ করে জমা দিয়ে দেওয়া, সারাদিনের কার্যক্রম শেষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের বিকালে ফিরতি ট্রেনে তুলে দেওয়া পর্যন্ত সঙ্গ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ব্যস্ত। পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসলে প্রার্থীদের পরীক্ষা গৃহ পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া, পরীক্ষা শেষে নিরাপদে অভিভাবকদের নিকট পৌঁছে দেয়া এবং সবশেষে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রেরণ করার জন্য পোষ্ট কার্ডে ঠিকানা লিখে রেখে ফিরতি ট্রেনে তুলে দেওয়ার কাজও সুচারুরূপে সম্পন্ন করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ভর্তি হওয়ার পর আবাসিক হলে সীট বরাদ্দের ব্যবস্থা করে দেয়া অভিভাবকসুলভ আচরণ করে নিজেদের প্রতি আকৃষ্ট করা। উদ্দেশ্য একটাই, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ঐ সকল ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সংস্পর্শে থাকতে কুণ্ঠাবোধ না করেন এবং ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা ঐ নেতাদের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে তাদের অনুসরণ করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পতাকাতলে সমবেত হয়। আমরা ভর্তি হয়ে পরবর্তীতে ছাত্রলীগের ব্যানারে একই কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করাকালীন সময়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতিদিন প্রতিটি হলে, সম্ভব হলে প্রতিটি ফ্লরে গিয়ে নেতাকর্মীদের সাথে কুশলাদি বিনিময় ও সার্বিক খোঁজখবর নেয়া হতো। এই প্রক্রিয়ায় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় মুগ্ধ হয়ে অনেক নতুন ছাত্র-ছাত্রী ছাত্রলীগের পতাকাতলে যোগদান করতো। শওকত মোমেন শাহজাহান ভাই বলতেন, ‘I want quality, not quantity’. তাই আমাদের সবসময়ই লক্ষ্য  ছিল মেধাবী ছাত্র, ভাল খেলোয়াড়, ভাল বিতার্কিক, ভাল গায়ক, ভাল অভিনেতা, ভাল বক্তা, ইত্যাদি সেলিব্রেটিদের ছাত্রলীগের সদস্য করা। উদ্দেশ্য, সাধারণ ছাত্ররা এইসকল তারকাদের সম্পৃক্ততার কারণে ছাত্রলীগের প্রতি আকৃষ্ট হবে, ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেলে ভোট দিবে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (বাকসু) ৮৮-৮৯ সেশনের নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে জিএস পদে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। সেসময় শুধুমাত্র বাকসু‘তেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পুরো প্যানেলে বিজয়ী হয়েছিল।
মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বৈরাচার ও বিএনপি-জামায়াত উৎখাত করে ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে বিজয় অর্জনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছে, স্বাধীনতাযুদ্ধে মানবতাবিরোধীদের বিচার করেছে। বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।
এশিয়া মহাদেশের অন্যতম গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের দীর্ঘ পথ চলায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী নিজের জীবন অকাতরে উৎসর্গ করেছেন দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রলীগের সমাবেশে বলেছিলেন, ‘দানবের সঙ্গে লড়াইয়ে যে কোনো পরিণতিকে মাথা পেতে বরণের জন্য আমরা প্রস্তুত। ২৩ বছর রক্ত দিয়ে এসেছি। প্রয়োজনবোধে বুকের রক্তে গঙ্গা বহাইয়া দেব। তবু সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও বাংলার বীর শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করব না‘। বঙ্গবন্ধুর কথাতেই তাঁর একান্ত অনুগত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অগণিত নেতা-কর্মী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মাহুতি দিয়েছেন।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এইক্ষনে স্মরণ করছি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আত্মাহুতি দানকারী রাউফুন বসুনিয়া, চুন্নু, মোজাম্মেল, কাঞ্চন, দীপালী সাহাসহ অসংখ্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মিছিলের মধ্যে পুলিশের চলন্ত ট্রাক তুলে দিলে ট্রাকের চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে জীবন দিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতা সেলিম-দেলোয়ার। আজ মনে পড়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিএনপি জামাতের সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত শওকত-ওয়ালী-মোহসীন ও কামাল-রঞ্জিতের নাম। বিএনপির সন্ত্রাসীরা ডাকসু ভবনে রাখা বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর করলে প্রতিবাদকারী ডেমরা থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান মেসের, জুরাইনের সাহসী ছাত্রলীগ কর্মী নওফেল সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়। নওফেল হত্যার প্রতিবাদে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের প্রতিবাদ সমাবেশে মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনাও উপস্থিত হয়েছিলেন। সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়েছেন মনিরুজ্জামান বাদলসহ অসংখ্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।
ইতিহাস, ঐতিহ্য, গৌরব, অহংকার, সোনালী অতীতের ধারক-বাহক হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। শিক্ষা শান্তি প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী হিসেবে বর্তমান নেতাকর্মীদেরদের প্রতি আহ্বান জানাই- আপনাদের কোন কর্মকাণ্ডে যেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল অতীত ঐতিহ্যে আঁচড় না লাগে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি প্রশ্নের সম্মুখীন না হয়। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মী বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার কর্মী। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ছাত্রলীগের সব নেতা-কর্মীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

ড. মোঃ আওলাদ হোসেন, ভেটেরিনারীয়ান, পরিবেশবিজ্ঞানী, রাজনৈতিক কর্মী ও কলামিস্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ। 

রাণীশংকৈলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন উপলক্ষে কর্মীসভা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন আগামী ১৭ জানুয়ারি সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষে বুধবার ৫ জানুয়ারি ধর্মগড় ও কাশিপুর ইউনিয়নের নেতাকর্মিদের নিয়ে এক কর্মিসভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ উপলক্ষে এদিন সন্ধায় ধর্মগড় ডি,কে কলেজ হলরুমে ধর্মগড় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মঈনউদ্দিন কাবুলের সভাপতিত্বে কর্মিসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম সুজন, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, ধর্মগড় ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি ও  ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুন্নাফ হোসেন বাবু, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক ও ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা, জেলা শিশু ও পরিবার কল্যান বিষয়ক সম্পাদক মাহফুজা বেগম পুতুল, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ- সভাপতি খাদেমুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানিক হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজিউল ইসলাম।

আরো বক্তব্য রাখেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া হাবিব ডন, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক রুবেল হক, দপ্তর সম্পাদক আরথান আলী, সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, আনিসুর রহমান, রশিদুল ইসলাম রিপন,রবিউল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম সুজন, ধর্মগড়-কাশিপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক সভাপতি ,সম্পাদক , রবিউল, মাসুদ,নইমুল প্রমুখ।

এছাড়াও কর্মিসভায় ইউনিয়ন, ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতাকর্মিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আগামী সম্মেলনকে সফল করার লক্ষে সকল নেতাকর্মিদের স্বতুসফুত উপস্থতির আহবান জানান।