কুড়িগ্রামে ডিএনসি’র অভিযানে সাড়ে চার লাখ টাকার ফেনসিডিল ও মোটরসাইকেল জব্দ, আটক-২

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক তরুণ কুমার রায় ও উপ- পরিদর্শক মোকসেদ আলীর নেতৃত্বে সদস্যদের পৃথক অভিযানে ৯১ বোতল ফেনসিডিল সহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক হয়েছে । এসময় ফেনসিডিল পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার  দুপুর  সাড়ে ১২ টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কুমরপুর এলাকায় নাগেশ্বরী-কুড়িগ্রাম সড়কে পৃথক দুটি মোটরসাইকেলের গতিরোধ  করে ফেনসিডিল সহ তাদেরকে আটক করা হয়। জব্দকৃত ফেনসিডিল ও মোটরসাইকেলের আনুমানিক মুল্য সাড়ে চার লাখ টাকা ।

আটককৃতরা হলেন, জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নেওয়াশী ইউনিয়নের কাঙ্গালটারী গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে জাহিদ হাসান আঙ্গুর (২৩) এবং ফুলবাড়ি উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ঘগোয়ারপাড় গ্রামের মাসুদ রানা মুকুলের ছেলে মোরশেদ কামাল পলাশ (২০)।

এ প্রসঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক তরুণ কুমার রায়  জানান, কুড়িগ্রাম সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি  মামলা দায়ের করে আটককৃতদের কুড়িগ্রাম জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

রাণীশংকৈলে কালের কন্ঠের শুভ সংঘের পক্ষ থেকে কম্বল বিতরণ

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় দৈনিক কালের কন্ঠের পক্ষ থেকে শুক্রবার ১৮ ডিসেম্বর বিকেলে শতাধিক গরিব-দুস্থ ব্যক্তির মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়।

এ উপলক্ষে এদিন অফিসার্স ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএনও সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির ও রাণীশংকৈল প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিনিধি আনোয়ারুল ইসলাম।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে কালের কন্ঠের জেলা প্রতিনিধি পার্থ সারথী দাস, রাণীশংকৈল  প্রেসক্লাব পুরাতনের সভাপতি কুসমত আলী, সম্পাদক সফিকুল ইসলাম শিল্পী, সহ-সম্পাদক হুমায়ুন কবিরসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অতিথিরা তাদের বক্তব্যে এ শীতকালে দেশের উত্তরাঞ্চলে শুভ সংঘের কম্বল বিতরণের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান ও কালের কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তারা, শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম আরো বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবস পালিত

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে জেলার রাজনগরে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুর ১২ টায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা পালের সভপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউনুছ, বিআরডিবি কর্মকর্তা মো. গোলাম রব্বানী খাঁন, সাবেক ডেপুটি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কুতুবুর রহমান প্রমুখ।

সফল এক ছাত্রলীগ কর্মী নবারুণ দাস রিপন

তিমির বনিক : ছাত্রলীগ নেতার আত্মজীবনী আত্মপ্রচারবিমুখ সুধুর প্রবাসে পাড়ি জমায় সেই ২০০৬ সালে জীবন ও জীবিকার তাগিদে সে নেতা আর কেউ নন মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার সুযোগ্য রাজ পথ কাপানো পড়ালেখার জীবন অজপাড়া গাঁয়ে থেকে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুজিব আদর্শের সৈনিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ও মেধা সম্পন্নতার পরিচয় প্রকাশ পায় পড়ালেখার পাশাপাশি রাজনৈতিক জীবনে ও একধাপ এগিয়ে নবারুণ দাস রিপন। সেই নবারুণ দাস রিপন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষতার সাথে পড়ালেখার পাশাপাশি রাজনৈতিক জীবনে এগিয়ে অজপাড়া গাঁয়ের ছেলে ২০০১-২০০২ইং সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বন পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে তাকে তার দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে স্থান করে নেয় নবারুণ দাস রিপন।
বর্তমান রাজনৈতিক, পাশাপাশি ব্যবসায়ী হিসেবে ও সুপরিচিত সনামধন্য মুখ এই মূজিব আদর্শের সফল সৈনিক। যুক্তরাজ্য নিউ হাম আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সততার ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। সেই পরিক্ষীত মুজিব আদর্শের সৈনিক ৫০ বছর বিজয়ের, সুবর্ন জয়ন্তীতে সকলকে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং এরি সাথে মুজিব সৈনিক সুবর্ন জয়ন্তীতে আবেগ আপ্লুত হয়ে দেশের টানে বিজয় দিবস খুশির মুহুর্তে আনন্দ ভাগাভাগি করতে সেই যুক্তরাজ্য থেকে নারীর টানে বঙ্গবন্ধু স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের এক ঝলক সরিক হতেই পাড়ি দিয়েছেন নিজ মাতৃভূমিতে।
গতকাল শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। আজ শনিবার উনার নিজ বাসস্থান মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আসার কথা রয়েছে। জীবন যুদ্ধ মুজিব আদর্শের সৈনিক আজ সফলতার সাথে রাজনৈতিক ও জীবন জীবিকা একাধারে একজন সফল ব্যবসায়ী ও নবারুণ দাস রিপন।

বিজয়ের ৫০ বছর: বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ ‘উন্নয়নের রোল মডেল’

১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। ত্রিশ লক্ষ বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার তৎকালীন রমনা রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রায় ৯১,৬৩৪ সদস্য বাংলাদেশ ও ভারতের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামে একটি নতুন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে তার আজীবন লালিত স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা‘ গড়ে তুলতে বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু করেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালো রাতে কতিপয় বিপথগামী তরুণ সেনা কর্মকর্তাদের হাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন।
শেখ হাসিনা ১৫ আগস্টের ভয়াবহ কালরাতের মাত্র কয়েকদিন পূর্বেই (৩০ জুলাই) জার্মানিতে স্বামীগৃহে চলে গিয়েছিলেন, সাথে বোন শেখ রেহানাও। ফলে মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় তাঁরা দুজন প্রাণে বেঁচে যায়। দীর্ঘ ২১ বছর আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়নের অগ্রযাত্রায় নেতৃত্ব দেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে  বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে, অর্থনীতির আকারের দিক থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ৪৩তম, আর ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় বিশ্বের ৩৪তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় ২,৫৬৩ মার্কিন ডলার। ২০৩০ সালে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় হবে ৫ হাজার ৪৭৯ মার্কিন ডলারেরও বেশি। ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। দারিদ্র্যের হার নেমে যাবে শূন্যের কোঠায়। বর্তমানে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (Least developed countries, LDCs) থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নীতি সংক্রান্ত কমিটি (সিডিপি) এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।
বাংলাদেশের গ্রামগুলো মিনি শহরে পরিণত হচ্ছে। গ্রামীণ রাস্তাঘাট শহরের মতই অনেক উন্নত হয়েছে। প্রতিটি গ্রামেই আধুনিক শহরের সব সুবিধাদি হাতের নাগালে। সুপেয় পানি, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও সুচিকিৎসা, মানসম্পন্ন শিক্ষা, উন্নত পয়ঃনিস্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কম্পিউটার, দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা, জ্বালানীর জন্য এলপিজি বোতল, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও মানসম্পন্ন ভোগ্যপণ্যের বাজার সবকিছুই রয়েছে গ্রামে। গ্রামে বসেই মানুষ ভোগ করছে সকল নাগরিক সুযোগ-সুবিধা।
২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জন্মের ৫০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মতো সফলতা দেখিয়েছে। দেশমাতৃকার নিরাপত্তায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সমুদ্রতলে সাব-মেরিন এর সংযোজন করেছে।
আগুনে পুড়ে যাওয়া মানুষের জন্য আধুনিক বিশেষায়িত হাসপাতাল ‘শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন  অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্সটিটিউট‘ সহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে অত্যাধুনিক হাসপাতাল স্থাপন ও গ্রামে-গঞ্জে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে ঘরে ঘরে চিকিৎসা সুবিধা পৌঁছে গেছে। তৃণমূল পর্যায়ের দরিদ্র মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গড়ে তোলা হয়েছে ১২ হাজার ৭৭৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক। ৩১২টি উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা হয়েছে। মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যা দুই হাজারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার হ্রাস পেয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবার লক্ষ্যকে সামনে রেখে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন ১২টি মেডিকেল কলেজ, নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৪৭ হাজারেও বেশি জনশক্তি।
বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ এখন এক অনন্য নাম। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তি মিশনে প্রথম যোগদানের পর এ পর্যন্ত বিশ্বের ৩৯টি দেশের ৬৪ শান্তি মিশনে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা, খ্যাতি ও সফলতার সাথে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। শান্তি রক্ষার সাথে চিকিৎসা, শিক্ষা ও মানবিক সেবা সহায়তা করে হিসেবে বাংলাদেশ এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এ যাবৎকালে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী ১১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা এখন সকলের পছন্দ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার তাচ্ছিল্য করে বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি‘ হিসাবে আখ্যায়িত করেছিল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের ‘ইমার্জিং টাইগার‘ হিসাবে আখ্যায়িত, সমাদৃত। বাংলাদেশের উন্নয়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার কাছে অনেক কিছু শেখার আছে’।
আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে অপরিহার্য পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্ব ব্যাংক, জাইকা, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করলে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন। পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা। পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হবে সারা বাংলার অর্থনীতি। ক্ষুধামুক্ত দারিদ্রমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে কৃষি নির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্নই দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তারই ধারাবাহিকতায় জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে এক সুতায় গেঁথে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশে পরিণত হয়েছে। কৃষকের ঘাম, কৃষিবিদদের চিন্তার ভাঁজ, কৃষি কর্মকর্তা কর্মচারীদের সমগ্রদেশে নিভৃত ভূমিকায় আজ দেশের চাহিদা মিটিয়ে খাদ্য রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মমতাময়ী শেখ হাসিনা ২০১৮ সালে মায়ানমারে সেনাবাহিনীর দ্বারা নির্যাতিত ও গণহত্যার শিকার হয়ে নিজভূমি থেকে বিতাড়িত প্রায় ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মুসলমানদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে, খাদ্য ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে আন্তর্জাতিক সমস্যায় মানবিক ও রাষ্ট্রনায়কোচিত পদক্ষেপ নিয়ে  বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা রেখে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে একটি  ‘মানবতাবাদী দেশ’ হিসেবে পরিচিত করেছেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনা গোটা বিশ্বের বিবেককে জাগিয়ে তুলেছেন। ব্রিটিশ মিডিয়া শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানটি (Mother of Huminity)’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর মোহনীয় স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এ ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার আজ দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শহরের সর্বত্র বিরাজমান। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে  e-governance, e-banking, e-commerce, e-learning, e-agriculture, e-health,  ইত্যাদি প্রতিষ্ঠিত করে জনগণকে সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
সারাবিশ্বে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সফলতার তালিকায়ও রয়েছে বাংলাদেশ। আশ্রয়হীনদের আশ্রয়, ভূমিহীনদের ভূমি, ঠিকানাবিহীনদের চাকুরীর নিশ্চয়তা, শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রযুক্তি, বাসস্থান, নাগরিক সুযোগ-সুবিধার দিয়ে বাংলাদেশে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শেখ হাসিনা।
সরকার ২০২১ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে বাংলাদেশে ২০০৯-২০১৯ সময়ে দেশে মেট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা ২৭ থেকে বাড়িয়ে ১৩৮টিতে উন্নীত করেছে, গ্রাহক সংখ্যা ১ কোটি ৮ লক্ষ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩.৮৭ কোটিতে উন্নীত হয়েছে, সঞ্চালন লাইন ৮ হাজার থেকে ১২,২৯৩ সার্কিট কিলোমিটার এ উন্নীত হয়েছে, বিতরণ লাইন ২ লক্ষ ৬০ হাজার থেকে ৫ লক্ষ ৮৮ হাজার সার্কিট কিলোমিটার হয়েছে, সেচ সংযোগ ২ লক্ষ ৩৪ হাজার থেকে ৩ লক্ষ ৬২ হাজারে উন্নীত হয়েছে। আর বর্তমানে দেশের মেট ৯৮ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে।
পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গভীর সমুদ্র বন্দর, ঢাকা মেট্রোরেলসহ দেশের মেগা প্রকল্পসমূহ  বাস্তবায়ন করে অচিরেই বাংলাদেশ আধুনিক বিশ্বের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে ইনশাআল্লাহ।
বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ এখন ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে একসময়ের ভঙ্গুর অর্থনীতির বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক উন্নয়নে অপ্রতিরোধ্য। সারাবিশ্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কপ-সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানরা আগ্রহী হয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করে, এক সাথে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। বাংলাদেশে বিরাজমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সুধীজনেরা শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করছেন।
যেই পাকিস্তানের শোষণের যাঁতাকল থেকে মুক্তির জন্য আন্দোলন সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু তার জীবনের স্বর্ণ সময় অতিবাহিত করেছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ সেই পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহ অন্যান্য সকল সূচকে এগিয়ে গেছে। রক্তাক্ত যুদ্ধের মাধ্যমে যে বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে গেল, জন্মের ৫০ বছরের আগেই সেই বাংলাদেশকে এখন রোল মডেল ভাবছে পাকিস্তানের মানুষ। পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘ডন’-এ সে দেশের অন্যতম পরমাণু বিজ্ঞানী পারভেজ হুদভয় লিখেছেন, ’৫০ এবং ’৬০-এর দশকে পাকিস্তানিরা বাঙালিদের হেয় করত শারীরিক গঠনের কারণে। তারা মনে করত, কেবল ধান ফলাতে আর মাছ ধরাতেই বাঙালির কর্মদক্ষতা সীমাবদ্ধ এমনকি,……. বাংলাদেশ কখনই অর্থনৈতিকভাবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। অথচ সেই পাকিস্তানের জনগণ, বুদ্ধিজীবী গন, প্রচার মাধ্যম সকলেই উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশকে ‘রোল মডেল‘ হিসাবে বেছে নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থনীতি, মানবিক উন্নয়ন সূচক, সামাজিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি সবক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে পাকিস্তানের টকশোর পরিচিত মুখ, উন্নয়ন পরামর্শক জাইঘাম খান বলেন, ‘বাংলাদেশই হওয়া উচিত পাকিস্তানের উন্নয়নের মডেল। আমাদের যদি শেখার কিছু থাকে, সেটা বাংলাদেশের কাছে’।
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায়, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করছে বাঙ্গালী জাতি। এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিজয়ের ৫০ বছরের এই দিনে মুজিব তোমায় মনে পড়ে। শাবাশ শেখ হাসিনা।
ড. মোঃ আওলাদ হোসেন, ভেটেরিনারীয়ান, পরিবেশবিজ্ঞানী, রাজনৈতিক কর্মী ও কলামিস্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ। 

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত যুবকের মৃত্যু

ঈশাত জামান মুন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : জেলার হাতীবান্ধায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত এক যুবক নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে হাতীবান্ধা উপজেলার চৈতাপাড়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি জেলা রেলওয়ে পুলিশ। 

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সুত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি বুড়িমারীর দিকে যাচ্ছিল। পরে চৈতাপাড়া নামক স্থানে পৌঁছালে ওই যুবক ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

লালমনিরহাট রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ বাহারুল ইসলাম বলেন, ওই যুবকের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ট্রেনের ধাক্কায় নাকি অন্যভাবে মারা গেছে সেটা পরিস্কার ভাবে বোঝা যাচ্ছে না এবং বলাও যাচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, নিহত যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা গেলে বিষয়টি বোঝা যাবে।

মৌলভীবাজারে ব্যবসায়ীদের উপর শত কোটি টাকার মামলা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের আদালতে ৯ শত ২৪ টি  মামলায় অন্তত ১ শত কোটি টাকার মামলা হয়েছে। এ মামলা গুলো দায়ের করা হয়েছে জুলাই-২০ থেকে জুন-২১ এর সময়ের ব্যবধানে। অধিকাংশ মামলা দায়ের হয়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।

মামলায় তালিকায় আসামী আছেন কৃষক, প্রান্তিক নারী, খেটে খাওয়া বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রমজীবি মানুষ। মামলা দায়ের করায় শীর্ষে রয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি, সরকারি ব্যাংক, এনজিও এবং গ্রাম শহরের সুদের (দাদন) কারবারিরা।

মৌলভীবাজার আদালত সূত্রে জানা যায়, জুলাই-২০ থেকে জুন-২১ পর্যন্তু মোট ৯ শত ২৪ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এনআই এ্যাক্ট ১৩৮ ধারায়। এরমধ্যে ৭৮ টি মামলার নিষ্পত্তি সূত্রে বিচাররিক কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। আদালত বদল হয়েছে ৪ শত ৪২ টি ও বিচারাধীন রয়েছে ৪ শত ৪ টি মামলা।

মৌলভীবাজার আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ফারুক আহমদ ভিজিটার বাংলা নিউজের প্রতিবেদক’কে জানিয়েছেন, এনআই এ্যাক্টের ১৩৮ ধারার মামলার ক্ষেত্রে টাকার পরিমাণের হিসেব নিদিষ্ট করে মোট করা হয় না। তাই মামলার বিপরীতে সঠিক টাকা পরিমাণ বলা যায় না।

তিনি আরো জানান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে যে মামলা গুলো হয়ে আসছে তা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একজন ব্যক্তি মামলার বাদী হন তাই কোন প্রতিষ্ঠান কতটি মামলা করেছে সেটাও তারা বলতে পারেন না।

তবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ৯ শত ২৪ টি মামলার বিপরীতে টাকার পরিমাণে অন্তত কয়েক শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। ফৌজদারি ও অর্থ ঋণ আদালত মিলিয়ে এর পরিমাণ অন্তত ১ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।

এ ব্যাপারে আদালত প্রাঙ্গনে কথা হয় মামলার আসামী অনেক ভোক্তভোগীদের সাথে। তারা কেউ এসেছেন ব্যাংকের মামলায়, কেউ এনজিওর মামলায় কেউ এসেছেন সুদ কারবারিদের হাতে নাজেহাল হয়ে।

তাদের অধিকাংশের দাবী মহামারি কোভিড-১৯ এর আগে থেকেই ব্যবসা মন্দা যাচ্ছিলো পরবর্তীতে তাদের ব্যবসা ভেসে গেছে কোভিড-১৯ ভয়াল থাবায় কিন্তু কোন ধরনের সুযোগ সুবিধা তারা পাননি। উল্টো প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে উপেক্ষা এ সময়ে এ খাতের ক্ষুদ্র ঋনকে খারাপ লোনে পরিনত করে হয়রানি করার উদ্দেশ্য  মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে একাধিক ব্যাংক এনজিওর উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় তবে তারা কোন বক্তব্য দিতে তারা রাজি হননি । এ ব্যাপারে কথা হয় মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মিজানুর রহমান মিজানের সাথে। তিনি মনে করেন,ব্যাংকের পাওনা টাকা আদায় করার খাতিরে ব্যাংক মামলা করতে বাধ্য হয়। তিনি জানান, গত মাসে দুই চেকের বিপরীতে ব্যাংকের পাওনা ৪০ লাখ টাকা আদায়ের জন্য তিনি দুই মামলার আইনজীবী হয়েছেন।

মানবাধিকার কর্মী এ্যাড.পংকজ সরকার এর মতে আইনের দৃষ্টিতে সকলের অধিকার সমান কিন্তু অনেকেই স্বাক্ষী প্রমাণধির অভাবে এ জাতীয় মামলায় পরাজিত হয়ে যান।

মৌলভীবাজার আদালতের একজন বিচারক বলেন, অধিকাংশ ব্যক্তি লোভে পরে আর্থিক প্রতিষ্ঠান-কে অগ্রিম চেক দিয়ে রাখেন। সেই চেকই পরবর্তীতে প্রমাণ হিসেবে হাজির করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান। আদালতে মামলা হয়। সেই হিসেবে বিচার করা হয়। তাই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের এ ব্যাপারে আরো সর্তক হতে হবে। নয়তো বা এজাতীয় মামলা হয়রানির জন্য নিজেদের সতর্ক হতে হবে।

নওগাঁয় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে নওগাঁ হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ ১৮ ডিসেম্বর নওগাঁ হানাদার মুক্তদিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে স্থানীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করা হয়।

আজ শনিবার বেলা এগারো টায় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরের“এটিম মাঠে আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান মালা শুরু হয়।

নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান মালার উদ্বোধন করেন।

পরে এ উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য শোভা যাত্রা বের হয়ে প্রধান সড়ক ধরে বাজার, বাটার মোড়, কেডির মোড়, মুক্তির মোড় হয়ে পুনরায় এটিম মাঠে এসে শেষ হয়।পরে সেখানে ঐতিহ্যবাহি ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ প্রতিযোগিতায় নওগাঁ এবং পার্শ্ববর্তী জেলা সমূহ থেকে কমপক্ষে বিশটি ঘোড়া সওয়ার অংশ গ্রহন করে।

একুশে পরিষদের সভাপতি এ্যাড. ডিএম আব্দুল বারীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর্জা ইমাম উদ্দিন, সংগঠনের উপদেষ্ঠা সাবেক এমপি ওহিদুর রহমান,অবসর প্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃশরিফুল ইসলাম খান সহ কার্যনির্বাহী পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যবৃন্দ, সাধারণ সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেনী পেশা বয়সের হাজার হাজার মানুষ এদিন মাঠে উপস্থিত থেকে ঘোড়াদৌড় প্রতিযোগীতা উপভোগ করেন।

মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে, আহত ৫জন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার জুড়ীতে নদীতে কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরাতে বাঁধা দেয়াকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) দুই গ্রামবাসীর মধ্যে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ৭ জন আহত হয়েছেন। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে সিলেট ওএমজি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের উত্তর ভবানীপুর মোকামটিলা গ্রামের লোকজন পার্শ্ববর্তী পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ধামাই জুড়ীরপার গ্রাম সংলগ্ন জুড়ী নদীতে নৌকা যোগে কারেন্ট জাল দিয়ে নদীতে মাছ ধরেন। এতে গ্রামের লোকজন বাঁধা দেন। এই বাঁধা দেয়াকে কেন্দ্র করে শুক্রবার জুমা’র নামাজের পর মোকামটিলা গ্রামের ১৫/২০ লোক দলবদ্ধ ভাবে দা, লাঠিসোটা নিয়ে জুড়ীরপার জামে মসজিদের সামনে গিয়ে মুসল্লীদের উপর হামলা চালায়।

হামলায় মোয়াজ্জিন আব্দুস সামাদ, আব্দুল কালাম রুনু, আব্দুল খালিক ও আইজুল ইসলাম আহত হন। পরে গ্রামবাসী পাল্টা হামলা চালালে আক্রমনকারী দুলাল ও রিপন আহত হন।

খবর পেয়ে জুড়ী থানার পুলিশ অফিসার মান্নান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন এবং নৌকা ও কারেন্ট জাল জব্দ করেন। পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে ৫০ শয্যা জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। আহত সামাদ, খালিক ও আইজুলকে সেখানে চিকিৎসা দেয়া হলেও গুরুতর আহতাবস্থায় আব্দুল কালাম রুনুকে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এদিকে সন্ধ্যার পর জুড়ীরপার গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মিয়া কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে জুড়ী শহরের বাস স্ট্যান্ড এলাকায় প্রতিপক্ষের লোকজন তার উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান। একই সময় উত্তর ভবানীপুর মোকামটিলা জামে মসজিদের মাইকে প্রতিপক্ষের উপর হামলার জন্য অস্রশস্র নিয়ে জড়ো হবার ঘোষণা দেয়া হয়। এতে জুড়ীরপারসহ আশপাশে জনমনে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ সঞ্জয় চক্রবর্তী, পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আনফর আলী ও পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান রুয়েল উদ্দিন অকুস্থলে ছুটে যান এবং পরিস্খিতি স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসেন।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজমান। আতংক বিরাজ করছে এলাকাজুড়ে।

জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ সঞ্জয় চক্রবর্তী ডিজিটাল বাংলা নিউজের প্রতিবেদক’কে জানান, জুড়ী নদীতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহত ৫ জনকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। একজনকে সিলেট পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ জযা আসেনি লিখিত ভাবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে সতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মজিবরের সংবাদ সম্মেলন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়ার আনারস প্রতিকের সতন্ত্র চেয়ারম্যান  প্রার্থী মজিবর রহমান সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তার কর্মী ও সমর্থকদের ওপর হুমকির প্রতিবাদে তিনি এ সংবাদ সম্মেলন করেন।

শুক্রবার ১৭ ডিসেম্বর দুপুরে  রুহিয়া থানাধীন ভেলারহাটের আনারসের নির্বাচনী অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আনারস প্রার্থী আলহাজ্ব হাফেজ মজিবর রহমান লিখিত বক্ত্যবে বলেন, “নির্বাচন প্রচারণা শুরু করার পূর্বে নৌকার প্রার্থী রোমান বাদশার ছোট ভাই রেজভী ও ওবাইদুরসহ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাকে প্রকাশ‌্য দিবালকে নির্বাচনী কার্যক্রম না চালাতে হুমকি দিয়ে আসছে। আমার নির্বাচনী প্রচরনা চালালে মিথ‌্যা মামলা, গুম ও ভয়-ভীতির সহ ভোট কেন্দ্র থেকে ভোট বাক্স তুলে নিয়ে যাবে বলে প্রচারণা  চালাচ্ছে।

গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে নৌকার প্রার্থীর ছোট ভাই রেজভী আলমের নেতৃত্বে আনারস মার্কার মোটরসাইকেল শো-ডাউন প্রচারণায় পথরোধ করে। আমার সমর্থকদের মারধর সহ গাড়ি ভাঙ্গচুর করে। এদিকে, ১৫ ডিসেম্বর রাতে আবারো কিছু ভাড়াটিয়া সন্ত্রাস বাহিনী দিয়ে দেশীয় অস্ত্র রামদা, ছুড়ি ও লাঠিসোটা নিয়ে আনারস সমর্থকদের বিভিন্ন কৌশলে ভয় ভীতি সহ আনারস নির্বাচনী অফিস ভাঙ্গচুর, বেনার ফেষ্টুন ও পোস্টার নষ্ট করেন। নৌকা সমর্থক ২০-৩০টি মোটরসাইকেল শো-ডাউন চালিয়ে ইউনিয়ন ব‌্যাপি তান্ডব চালায়।

তিনি আরো বলেন, এতে জনগণ ভয়ে আতঙ্কিত হচ্ছে ফলে নির্বাচনীয় পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। তিনি জানান ২নং আখানগড় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন -২০২১ নিরপেক্ষ করার লক্ষে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আখানগর ইউনিয়নের আনারস মার্কার সমর্থক ও সকল নেতা কর্মিগণ উপস্থিত ছিলেন।