নেত্রকোণায় ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস ২০২১ পালিত

মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধিঃ ডিজিটাল বাংলাদেশের অর্জন, উপকৃত সকল জনগণ’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে নেত্রকোণায় নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস-২০২১ উদযাপিত হয়েছে।

রবিবার সকাল সাড়ে এগারোটায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস অনুষ্ঠানটি নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে সরাসরি সম্প্রচারের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হয়।

পরে নেত্রকোনা আইসিটি বিভাগের সহযোগীতায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জিয়া আহমেদ সুমনের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হাবিবা রহমান খান শেফালী।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুহেল মাহমুদ, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল আমিন সহ তরুণ উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

ডিজিটালাইজড হওয়ায় বাংলাদেশ উন্নয়নের চরম শিখরে পৌছে গেছেঃ খাদ্যমন্ত্রী

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি : খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি বলেছেন ডিজিটাল দেশ গড়া আওয়ামীলীলীগের নির্বাচনী ইস্তেহার ছিল। এই ইস্তেহার বাস্তবায়নে বাংলাদেশে সম্পূর্নভাবে ডিজিটালাইজড প্রক্রিয়া চালু হওয়ার ফলে দেশ উন্নয়নের চরম শিখরে পৌছে গেছে। তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উপলক্ষ্যে নওগাঁ জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেছেন।

রবিবার বেলা সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোঃ হারুন-অর-রশিদ। এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আই সি টি শিহাব রায়হান। অন্যান্যের মধ্যে নবম শ্রেনীর শিক্ষার্থী সাদিয়া পারভীন বক্তব্য রাখেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের ফলে সরকারের সর্বস্তরে ই-সার্ভিস চালু হওয়ায় এসব ক্ষেত্রে দুর্নীতি কমে গেছে। ডিজিটালাইজড পদ্ধতি সরকারের পুরো প্রক্রিয়াকে পরিবর্তন করেছে। এই পরিবর্তনের ইতিবাচক সুফল দেশের সকল মানুষ ভোগ করতে শুরু করেছেন। শহর থেকে সুদুর গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত সকল মানুষের দোর গোড়ায় ডিজিটাল সুযোগ সুবিধা পৌঁছে গেছে।

তিনি তাঁর খাদ্য মন্ত্রনালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন সরকার ডিজিটাল পদ্ধতিতে এক বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি মিলার এবং কৃষকদের নিকট থেকে ধান চাল ক্রয় কার্যক্রম সম্পাদন করা হচ্ছে। এতে কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের হয়রানী এবং দুর্নীতি দুইই কমে গেছে।

বিশেষ করে করোনা কালে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও অনলাইন ভিত্তিক ক্লাশ পরিচালনার ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা সেশন জটের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে। এটি ডিজিটাল পদ্ধতির একটি সাফল্য।

তিনি আরও বলেছেন এই ডিজিটাল পদ্ধতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন চালু করতে যাচ্ছিলেন তখন অনেকেই এটিকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছিল। তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছিল। অথচ এখন তারাই এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করে সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে। খাদ্যমন্ত্রী এ অনুষ্ঠানে ডিজিটাল দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরন করেন।

এর আগে খাদ্যমন্ত্রী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অনুপ্রেরনার বাতিঘরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন এবং বেলুনসহ ফেষ্টুন উড়িয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

শীতের আগমনে অতিথী পাখি শিকার করতে মরন ফাঁদ তৈরি!

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: প্রতিবছরের মতো এবারও হাকালুকি হাওরে নানা প্রজাতির অতিথি পাখি আসতে শুরু করেছে। এতে মুখরিত হয়ে ওঠেছে হাওর এলাকা। পাখি দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসছেন পর্যটক পাখি প্রেমি মানুষ।

এদিকে, হাওরে পাখি আসা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে তৎপর হয়ে ওঠেছে পাখি শিকারি চক্র। তারা বিষটোপসহ নানাভাবে ফাঁদ পেতে অবাধে পাখি শিকার করছে। কিন্তু পাখি শিকার বন্ধে কার্যকর কোনো উদ্যোগই নিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। ফলে পাখি শিকার কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাখিপ্রেমী ও স্থানীয়রা। তারা পাখি শিকার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন শীতপ্রধান দেশ থেকে হাকালুকি হাওরে নানা প্রজাতির পাখি আসে। এসব পাখির মধ্যে রয়েছে বালিহাঁস, ভুতিহাঁস, গিরিয়া হাঁস, ল্যাঞ্জা হাঁস, গুটি ইগল, কাস্তেচড়া, কুড়া ইগল, সরালি, পানভুলানি, কালিম, সাদা বক, কানি বক, পানকৌড়ি। এরমধ্যে দেশীয় প্রজাতির নানা জাতের পাখি রয়েছে।

রোববার শীতের তীব্রতা যেমন ছিল তেমনি ঘুরে আসার ছলে বিকেলে সরেজমিন হাকালুকি হাওরে গিয়ে দেখা গেছে, হাওরে দল বেঁধে নানা প্রজাতির পাখির অভয়ারণ্য, ওড়াওড়ি করছে। কিছু পাখি বিভিন্ন বিল থেকে খাবার খাচ্ছে। কিছু পাখি খাবার শেষে নীড়ে ফিরছে। হাওরের বিভিন্ন বাড়ির গাছগাছালিতে এসব পাখি বাসা বেঁধেছে। পাখিদের কলকাকলিতে হাওর এলাকা মুখরিত শব্দ আনন্দ ঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়ে ওঠেছে। বিভিন্নস্থান থেকে মানুষজন পরিবার-পরিজন নিয়ে হাওরে পাখি দেখতে আসছেন। হাওড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বন্ধের দিনে পর্যটকের আনাগোনা চোঁখে পড়ার মতো।

স্থানীয়রা জানান, হাওরে অতিথি পাখি আসার সঙ্গে সঙ্গে পাখি শিকারি চক্র তৎপর হয়ে ওঠেছে। চক্রটি রাত-দিন নানা ভাবে ফাঁদ পেতে শিকারিরা হাওরে পাখি শিকার করছে। ধানের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া তাদের বিষটোপ খেয়ে পাখির পাশাপাশি অনেক খামারির হাঁসও মারা যাচ্ছে। শিকারিরা এসব পাখি বিভিন্ন বাজারেও মাঝেমধ্যে প্রকাশ্যে বিক্রি করছে। বিভিন্ন হোটেলে এসব পাখির মাংস বিক্রি হচ্ছে। এমনকি অনেক প্রভাবশালীদেন ঘরেও এসব পাখি যাচ্ছে।

হাওরে বন্ধুদের সঙ্গে পাখি দেখতে আসা ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন বলেন, হাওরে বন্ধুদের সাথে পাখি দেখতে এসেছি। কারণ এখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নানা জাতের পাখি আসে। এখানে এসে পাখিদের ওড়াওড়ি আর কিচিরমিচির শব্দ শুনে মন ভালো হয়ে যায়। তবে, এখানে প্রায় বিভিন্নভাবে ফাঁদ পেতে পাখি শিকার হচ্ছে। এর কারণে আগের তুলনায় পাখির সংখ্যা দিন দিন কমছে। প্রশাসনের উচিত পাখি শিকার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।

হাওরের হাল্লা গ্রামের বাসিন্দা আক্তার আহমদ শিপু ও হিমেল আহমদ বলেন, হাওরে প্রতিবছরের মতো এবারও অতিথি পাখি আসছে। এসব পাখির নিরাপধ আবাসস্থল আমাদের বাড়ি। তারা আমাদের বাড়ির চারপাশে থাকা গাছে বাসা বাধার পাশাপাশি ঘরের টিনেও বসছে। পাখিগুলোকে আমরা তাড়িয়ে দেইনা। যার কারণে বছরজুড়ে পাখিগুলো আমাদের বাড়িতে থাকে। শুধু শীতে দেশের বাইরে থেকে অতিথি পাখি আসে।

তিনি বলেন, পাখি শিকার বন্ধে আমরা অনেক সময় রাতে পাহারা দেই। এরপরও শিকারিরা পাখি শিকার করছে নানাভাবে ফাঁদ পেতে। পাখি শিকারে বাধা দিলে অনেকে হুমকি দেয়। তাই অনেক সময় ভয়ে কথা বলিনা। প্রশাসন যদি এখানে (হাওরে) স্থায়ীভাবে লোকজন দেয় তাহলে হয়তো কেউ পাখি মারতে পারবে না।

স্থানীয় পরিবেশকর্মী সোহেল শ্যাম, খোকন থৌনাউজম- Stand For Our Endangered Wildlife (S E W) বন্যপ্রাণী সুরক্ষা ও সংরক্ষণে কাজ করা সেচ্ছাসেবী সংগঠনের তারা বলেন, হাওরে পাখির সংখ্যা দিন দিন কমছে। এর কারণ হচ্ছে, অবাধে পাখি শিকার, পাখির আবাস্থল ধ্বংস ও খাদ্য সংকট। পাখি শিকার বন্ধ না হলে এখানে পাখি আর আসবে না। তা রোধ করতে হলে প্রশাসনের পাশাপাশি সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। স্থানীয় মানুষকে সচেতন করতে হবে।

বনবিভাগের হাকালুকি বিটের দায়িত্বে থাকা জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তপন চন্দ্র দেবনাথ বৃহস্পতিবার বিকেলে বলেন, পাখি শিকার বন্ধে আমরা কাজ করছি। মানুষকে সচেতন করছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী বলেন, শীতকালে হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন দেশ থেকে অতিথি পাখি আসে। অতিথি পাখি হাওরের জীববৈচিত্র্যের একটা অংশ বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। পাখি শিকার রোধে আমরা জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। এরপর যদি কেউ পাখি শিকার করে তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো এবং অনেক বন্য প্রাণী সংরক্ষণ করেন এমন কিছু সংগঠন আছে উনাদের মাধ্যমে আমরা সহযোগিতা পাই এবং তাদের ভূমিকা অনেকাংশে চোঁখে পড়ার মতো।

মুরাদনগরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার মুরাদনগরে ঘুমের ঘরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মুজাহিদ (১৬) নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। উপজেলার টনকী গ্রামের প্রবাসী ইব্রাহিম সরকারের ছেলে। স্থানীয় স্কুলে দশম শ্রেনিতে পড়াশোনা করত। গত শনিবার দিবাগত রাত বারোটায় বাঙ্গরা বাজার থানাধীন টনকী পশ্চিম পাড়া বড় বাড়ীতে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা জানায় , নিহতের বাবা ইব্রাহিম খলিল সরকার প্রবাসে থাকেন। বড় ছেলে মুজাহিদকে বাসায় রেখে। তার ‘মা’ ছোট ভাই- বোনদের নিয়ে মামার বাড়ি বেড়াতে যান।

গত শনিবার দিবাগত রাত ১২ টার দিকে হঠাৎ তাদের ঘরে আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলে উঠে। তখন পাশের ঘর থেকে লোকজন আগুন দেখে শুর চিৎকার শুরু করে। এসময় এলাকাবাসী এগিয়ে আসে এবং ফায়ার সার্ভিস খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিভানোর আগেই ঘরে মধ্যে একা ঘুমিয়ে থাকা মুজাহিদ ও পুরো ঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার নুরুল হুদা নয়ন বলেন, আধা ঘন্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনি। অন্যথায় পাশের ঘর গুলি সব পুড়ে যেত। এসময় আগুনের ধ্বংসাবশেষ থেকে একটি লাশ উদ্ধার করি। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে বৈদ্যুৎতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিশেক দাশ বলেন, খবর পেয়ে আমি ও বাঙ্গরা বাজার থানা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। এবং জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় আগুনে পুড়ে যাওয়া নিহতের লাশ দাফন কাফন সম্পন্ন করতে পরিবারকে পঁচিশ হাজার টাকা প্রদান করেছি।

রাণীশংকৈলে পঞ্চম জাতীয় “ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস” উদযাপন

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ “সত্য-মিথ্যা যাচাই আগে,ইন্টারনেটে শেয়ার পরে” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখ সারা দেশের ন্যায় ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় রবিবার ১২ ডিসেম্বর “ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস” উদযাপন করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিবসটি উৎযাপন উপলক্ষে এদিন সকালে পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর মূরালে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিভৈর সভাপতিত্বে ও সহকারি কমিশার (ভূমি)ইন্দ্রজিৎ সাহার সঞ্চালনায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহারিয়ার আজম মুন্না। বিশেষ অতিথি ছিলেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শেফালি বেগম, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রাহিমউদ্দিন, পৌর আ’লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবুর রহমান প্রমুখ।

এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, সামাজিক, রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিবর্গ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তাগণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন বিষয় ভাল ভাবে জেনে, সত্যতা যাচাই করে শেয়ার করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

প্রসঙ্গত: “ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস” এটির পূর্ব নাম ছিল আইসিটি দিবস বা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস। ২৭ নভেম্বর ২০১৭ খ্রিঃ বাংলাদেশ সরকার এ দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের ঘোষণা দেয়।২৬ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে আইসিটি দিবসের পরিবর্তে এ দিনকে “ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস” হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতিবছর ১২ ডিসেম্বর জাতীয় ও রাষ্ট্রীয়ভাবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর দিবসটি পালন করে থাকে।

শেষে  কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

বিটিইএস এসোসিয়েশনের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ এসোসিয়েশনের বালিশিরা পশ্চিমাঞ্চলের ৫৭ তম আঞ্চলিক বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রবিবার (১২ ডিসেম্বর) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলস্থ গুহ রোড এ অবস্থিত বিটিইএসএ অফিস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বালিশিরা পশ্চিমাঞ্চলের আঞ্চলিক শাখার সভাপতি সুরঞ্জিত দাশ। বালিশিরা পশ্চিমাঞ্চলের আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. বদরুল আলমের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টি এস্টেট এসোসিয়েশন এর সভাপতি মো. মাহবুব রেজা। প্রধান বক্তা ছিলেন এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাকারিয়া আহমদ। বক্তব্য রাখেন এসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ তালুকদার আমিনুল ইসলাম, বালিশিরা উত্তরের সম্পাদক কামাল হোসেন প্রমুখ।

রায়পু‌রে অ‌বৈধভা‌বে ড্রেজা‌রে বালু উ‌ত্তোলন ব‌ন্ধে ভ্রাম্যমান আদাল‌তের অ‌ভিযানে ৫ লক্ষ টাকা জ‌রিমানা আদায়

মোঃ জ‌হির হো‌সেন, লক্ষ্মীপুরঃ লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পু‌রে অ‌বৈধভা‌বে ড্রেজা‌রে বালু উ‌ত্তোলন ব‌ন্ধে ভ্রাম্যমান আদাল‌তের অ‌ভিজান প‌রিচা‌লিত হ‌য়ে‌ছে। গত শ‌নিবার (১১ ডি‌সেম্বর) রায়পুর উপ‌জেলা‌ধিন চরকা‌চিয়া পা‌নিঘাট এলাকায় নদী থে‌কে বালু উ‌ত্তোলনকা‌লে রায়পুর উপ‌জেলা নির্বাহি অ‌ফিসার আনজন দা‌শের নে‌ত্রি‌ত্বে ভ্রাম্যমান আদলত প‌রিচা‌লিত হয়।

এসময় দিদার মোল্লা না‌মে একজন‌কে অ‌বৈধ ড্রেজা‌রে বালু উ‌ত্তোল‌নের কার‌নে ৫ লক্ষ টাকা জ‌রিমানা আদায় করা হয় এবং এক‌টি অ‌বৈধ ড্রেজার মে‌শিন জব্দ করা হয়।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ‌দিন যাবৎ এক‌টি অসাধু চক্র অ‌বৈধ ভা‌বে নদী থে‌কে বালু উ‌ত্তোলন ক‌রে আস‌ছি‌লো। যার ফ‌লে নদী গ‌র্ভে চ‌লে যা‌চ্ছে ফস‌লি জ‌মি , নদীর পা‌ড়ের মানু‌ষের ঘর বা‌ড়ি। অ‌ভিজান চলাকা‌লে উপ‌স্থিত ছি‌লেন রায়পুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল ইকবাল এবং রায়পুর থানা পুলিশ ও আনসার সদস্যগণ । অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন, রায়পুর কর্তৃক মোবাইল কোর্ট নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

ভয়াবহ খরার কারনে তীব্র পানি সংকটের কবলে আফগানিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার কারনে তীব্র পানি সংকটের কবলে আফগানিস্তান। ইতোমধ্যে দেশটির ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে ২৫টিতে তীব্র খরা দেখা দিয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে খরাসহ পানি সংকটে কাহিল হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। এতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে শিশুদের। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার ইউনিসেফ আফগানিস্তানের দুই কোটি চার লাখ মানুষকে মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। ইতোমধ্যে ২০০ কোটি ডলারের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।

পানির অভাবে শস্য ও গবাদিপশু চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এবার রবিশস্যের ফলন গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ কম হয়েছে। ইতোমধ্যে পানির অভাবে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন ৭ লাখ মানুষ। খরার কারণে আফগান অর্থনীতি একেবারে ভেঙে পড়েছে।

বিশ্ব খাদ্য সংস্থা জানায়, ২০২১ সালের প্রথম দিকে শুরু হওয়া অনাবৃষ্টি ও তুষারপাতের জন্য এ সমস্যা ২০২২ সালের আগে শেষ হবে না বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। খবর দ্য ডিপলোমেট।

টেকনাফে স্ত্রীর যন্ত্রণায় অতিষ্ট হয়ে তিন সন্তানসহ স্বামীর বিষপান, বাবা-মেয়ের মৃত্যু!

চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপে স্ত্রীর যন্ত্রণায় অতিষ্ট হয়ে তিন সন্তানসহ স্বামীর বিষপানের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ঘটনাস্থলে আনোয়ার হোসেন (৪০) ও মেয়ে রাহিনী আক্তারের (৮) মৃত্যু হয়। অপর মেয়ে মাহিমা তানিয়া (৩) ও ছেলে জাবেদ ইকবাল (দেড় বছর) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আজ রোববার (১২ ডিসেম্বর) ভোরে টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ ৯নং ওয়ার্ডের জালিয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এএসআই মিজানুর রহমান।

আনোয়ার হোসেন স্থানীয় মৃত ফোরকান আহমদের ছেলে ও পুরোনো রোহিঙ্গা। রাফি শাহপরীরদ্বীপ জালিয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরে স্ত্রী রেহেনা আক্তারের সঙ্গে আনোয়ারের কলহ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির জেরে কলহ প্রবল হয়। বিকেলে ছোট সন্তান নিয়ে স্ত্রী বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। রাতে আনোয়ার বাড়ি ফিরে দেখেন তিন সন্তান ঘুমাচ্ছে কিন্তু স্ত্রী বাড়িতে ফেরেনি। এ সময় আনোয়ার হোসেন তার তিন ছেলে-মেয়েকে ঘুম থেকে তুলে জোরপূর্বক বিষপান করিয়ে নিজেও বিষপান করেন। এতে আনোয়ার হোসেন ও তার ৯ বছরের মেয়ে সুমাইয়ার মৃত্যু হয়। অপর দুই সন্তানকে মুমূর্ষু অবস্থায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের জালিয়াপাড়ার স্থানীয় মেম্বার আব্দু সালাম জানান, তাদের মধ্যে টুকটাক কলহ চলতো। বারণ করে বেশ কয়েকবার সমাধানও করেছিলাম। শনিবার কলহ সৃষ্টি হলে স্ত্রী ছেলে-মেয়ে রেখে দূর সম্পর্কের চাচার বাসায় চলে যান। এরই প্রেক্ষিতে গভীর রাতে বিষপানের ঘটনা ঘটায় আনোয়ার। স্ত্রীকে পেলে কলহের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যেতো বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নেত্রকোণার পূর্বধলায় শিক্ষার্থী হত্যা মামলার আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলায় ঘাগরা ইউনিয়নের বহুলি গ্রামের নিহত শাহারুল সরকার হত্যার প্রতিবাদে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিল করেছে এলাকাবাসী।
নিহত শাহারুল সরকার ইউনিয়নের বহুলী গ্রামে মৃত মুসলেম উদ্দীন সরকারের ছেলে।
গতকাল বিকেলে বহুলী বাজারে ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই এই শ্লোগান দিতে দিতে মিছিলটি বহুলী বাজারে বিক্ষোভে রূপ নেয়। এ মানববন্ধনে ও প্রতিবাদ মিছিলে এলাকার প্রায় ৩ শতাধিক মানুষ অংশ গ্রহণ করে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ নভেম্বর মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের বহুলী গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে  প্রতিপক্ষের হামলায় শাহারুল সরকার নিহত হয়। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনায় আহতদের পূর্বধলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে শাহারুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
পরে গত বুধবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহরুলের মৃত্যু হয়।