নওগাঁয় ৩ লক্ষ ৬৪ হাজার ৭শ ৯ শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধি : আজ ১১ ডিসেম্বর থেকে ১৪ ডিসেম্বর’২০২১ তারিখ পর্যন্ত জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন
কর্মসূচীর আওতায় নওগাঁ জেলায় মোট ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৭শ ৯ জন শিশুকে ভিাটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়স পর্যন্ত ৩২ হাজার ৯শ ৯ জন শিশুকে ১ লক্ষ আই ইউ ক্ষমতা সম্পন্ন নীল ভিটামিন ক্যাপসুল এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়স পর্যন্ত বয়সের ৩ লাখ ৩১ হাজার ৮শ শিশুকে ২ লক্ষ আই, ইউ লাল ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

সিভিল সার্জন ডাঃ এ বি এম আবু হানিফ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন, জেলার মোট ২ হাজার ৪শ ৩টি কেন্দ্রে পর্যায়ক্রমে এসব শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এ ব্যাপারে ব্যপক
প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। জেলায় এই দুই বয়সের শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর উপজেলা ভিত্তিক সংখ্যা হচ্ছে-

নওগাঁ সদর উপজেলায় নীল ভিটামিন ৩৪৩০ জন শিশুকে ও ৩৬ হাজার ১৮১ শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন, রানীনগর উপজেলায় নীল ভিটামিন ২১৪৯ জনকে ও লাল ভিটামিন ২২ হাজার ১৩৮ জনকে, আত্রাই উপজেলায় নীল ভিটামিন ২০৫১ জনকে ও লাল ভিটামিন ২২ হাজার ৯৬৩ জনকে, মহাদেবপুর উপজেলায় নীল ভিটামিন ৩৭২৫ জন ও লাল ভিটামিন ৩৪ হাজার ৬৭১ জনকে, মান্দা উপজেলায় নীল ভিটামিন ৩৮০০ জনকে ও লাল ভিটামিন ৩৭ হাজার ৯২৫ জনকে, বদলগাছি উপজেলায় নীল ভিটামিন ২৮৯৫ জন ও লাল ভিটামিন ২৩ হাজার ১৫৭ জনকে,
পত্নীতলা উপজেলায় নীল ভিটামিন ৩৫৩৮ জন ও লাল ভিটামিন ২৭ হাজার ৫০ জনকে, ধামইরহাট উপজেলায় নীল ভিটামিন ২১০২ জন ও লাল ভিটামিন ১৭ হাজার ৮৭৪ জনকে, নিয়ামতপুর উপজেলায় নীল ভিটামিন ২৭৮৯ জন ও লাল ভিটামিন ২৬ হাজার ২৪০ জনকে, সাপাহার উপজেলায় নীল ভিটামিন ২০৯৯ জন ও লাল ভিটামিন ১৯ হাজার ৯৪১ জনকে, পোরশা উপজেলায় নীল ভিটামিন ২০৯৯ জন ও লাল ভিটামিন ১৬ হাজার ৯৮৭ জনকে এবং নওগাঁ পৌরসভায় নীল ভিটামিন ২২৩২ জন ও লাল ভিটামিন ১৯ হাজার ৯৫৭ জনকে।

এ জন্য ইতিমধ্যে নীল রঙের ভিটামিন ৩৪ হাজার ৬শ এ্যাম্পুল এবং লাল রঙের ভিটামিন ৩ লক্ষ ৫ হাজার ৯৪ এ্যাম্পুল সরবরাহ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।

কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল ইউপি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল সম্পন্ন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় আগামী ৫ জানুয়ারি  অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। পঞ্চম ধাপের এই নির্বাচনে ৯টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৩৭ জন, মেম্বার পদে ৩৩৩ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা পদে ১০৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। গেল বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীরা উপজেলা নির্বাচন অফিসে তাদের মনোনয়ন পত্র জমা দেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার জানান, উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন পর্যন্ত মোট ৪৭৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। এদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩৭ জন প্রার্থীর মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৯ জন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের ১জন, খেলাফত মজলিসের ১ জন ও সতন্ত্র ২৬ জন।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, নয়টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র দাখিলকৃত প্রার্থীরা হলেন- ১ নং রহিমপুর ইউপি’তে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দাখিল করেন আওয়ামী লীগের মনোনীত দলীয় প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ বদরুল, স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জুনেল আহমেদ তরফদার।

২ নং পতনঊষার ইউপি’তে আওয়ামী লীগ মনোনীত দলীয় প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার তওফিক আহমেদ বাবু, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা সেলিম আহমেদ চৌধুরী, অলি আহমদ খাঁন, খেলাফত মজলিসের সামছুল ইসলাম লিয়াকত, আমিনুর রসিদ চৌধুরী, মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান।

৩ নং মুন্সীবাজার ইউপি’তে মনোনয়ন দাখিল করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত দলীয় প্রার্থী রনেন্দু ভট্টাচার্য্য, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা শফিকুর রহমান  চৌধুরী, নাহিদ আহমেদ তরফদার, সালাম মিয়া ও মুকুল মিয়া।

৪ নং শমশেরনগর ইউপি’তে মনোনয়ন দাখিল করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত দলীয় প্রার্থী আব্দুল মালিক বাবুল,স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ জুয়েল আহমেদ, আব্দুল গফুর, এবিএম আরিফুজ্জামান অপু,এনায়েত হোসেন মুমিন,তানিয়া তারিন।

সদর ৫ নং কমলগঞ্জ ইউপি’তে মনোনয়ন দাখিল করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত দলীয় প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া শফি, মৌরীন কিবরিয়া, মামুনুর রসিদ, সফিকুল ইসলাম সুফি।

৬ নং আলীনগর ইউপি’তে মনোনয়ন দাখিল করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত দলীয় প্রার্থী ফজলুল হক বাদশা, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাংবাদিক শাহীন আহমেদ, যুবলীগ নেতা নিয়াজ মুর্শেদ রাজু।

৭ নং আদমপুর ইউপি’তে মনোনয়ন দাখিল করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত দলীয় প্রার্থী সাব্বির আহমদ ভূঁইয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন, জাহাঙ্গীর মুন্না রানা।

৮ নং মাধবপুর ইউপি’তে মনোনয়ন দাখিল করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত দলীয় প্রার্থী আসিদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী পুস্প কুমার কানু, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মো. মোহন মিয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাহবুব চৌধুরী আবদাল।

৯ নং ইসলামপুর ইউপি’তে মনোনয়ন দাখিল করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত দলীয় প্রার্থী সুলেমান মিয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান, মোস্তাফা মিয়া।

অপরদিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে, ৯টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৫ শ ৬৯ জন প্রার্থী। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তপন জ্যোতি অসীম।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং ভুনবীর, আশীদ্রোন ও কালীঘাট ইউনিয়নের রিটার্নিং অফিসার তপন জ্যোতি অসীম জানান, “আজ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে, বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়ন জমা পরেছে মোট ৫৬৯ জন প্রার্থীর। এর মধ্যে ৯ টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন মোট ৪৬ জন।
এছাড়া শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের ৮১ টি ওয়ার্ডের জন্য মেম্বার পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৩ শত ৯৩ জন। আর সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১ শত ৩০ জন।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার জনী খাঁন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো, সাইফুল ইসলাম তালুকদার ও কুলাউড়া নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আহসান ইকবাল উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ১২ ডিসেম্বর, প্রত্যাহার ১৯ ডিসেম্বর ও প্রতীক বরাদ্দ ২০ ডিসেম্বর।

বাংলামোটরে আরকে টাওয়ারে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর বাংলামোটর আরকে টাওয়ার ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ৪ ইউনিট কাজ করছে।

আজ শনিবার (১১ ডিসেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার।

তিনি বলেন, আজ দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে আগুন লেগেছে বলে জানা গেছে। বাংলামোটর এলাকার আশপাশে আমাদের একটি টহল টিম ছিলো। সেই ইউনিটটিসহ আরো ৩ ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করছে। এর বেশি তথ্য এখন আমাদের কাছে নেই।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুন লাগার কারন ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে এখনো জানা যায়নি।

পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় আগামীকাল দিল্লিতে বিপিন রাওয়তের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ তামিলনাড়ুতে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ভারতের প্রতিরক্ষাপ্রধান বিপিন রাওয়াত ও তার স্ত্রী মধুলিকার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে দিল্লিতে। আগামীকাল শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে তাদের শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) বিকেলে তামিলনাড়ুর সুলুর বিমানঘাঁটি থেকে বিশেষ বিমানযোগে জেনারেল রাওয়াত ও তার স্ত্রী মধুলিকার মরদেহ দিল্লিতে নেওয়া হবে এবং দুজনের মরদেহ রাখা হবে তাদের বাড়িতে।

দেশটির সেনা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়, শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রয়াত সেনা সর্বাধিনায়কের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন তার অনুরাগীরা। এরপর কামরাজ মার্গ (পথ) থেকে শুরু হবে শেষযাত্রা। দিল্লি সেনাছাউনির ব্রার স্কোয়ার অন্ত্যেষ্টিস্থলে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় হবে শেষকৃত্য।

বুধবার (৮ ডিসেম্বর) সেনা হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান ৬৩ বছর বয়সী জেনারেল বিপিন রাওয়াত, তার স্ত্রী, প্রতিরক্ষা সহকারী, নিরাপত্তা কমান্ডো, বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাসহ ১৩ জন।

বিপিন রাওয়াত ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ভারতের প্রথম চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। মিলিটারি অ্যাফেয়ার্সের নতুন বিভাগের প্রধান হিসেবেও তিনি নিয়োগ পেয়েছিলেন।

সূত্র: আনন্দবাজার।

রাজশাহীতে ছাত্রলীগ নেতা হত্যায় ৯ জনের ফাঁসি

রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ রাজশাহীতে ছাত্রলীগ নেতা শাহিন শাহ হত্যা মামলায় ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ২২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক ও এইচ এম ইলিয়াস হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।

সুত্রে জানা গেছে, শাহিন শাহ রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-২ ও এক নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রজব আলীর ছোট ভাই। ২০১৩ সালের ২৮ আগস্ট দুপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন শাহিন শাহ। শিক্ষানবিশ আইনজীবী শাহিন শাহ রাজশাহী কোর্ট কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাকে হত্যার ঘটনায় তার ভাই যুবলীগ নেতা নাহিদ আক্তার নাহান বাদী হয়ে পর দিন মহানগরীর রাজপাড়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক মনিরুজ্জামান সিটি করপোরেশনের তৎকালীন ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুনসুর রহমানসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, তারা আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছেন।

দেশ ও জাতির স্বার্থে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী প্রয়োজন

এ সপ্তাহের ‘টক অব দি টাউন‘ ছিল তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। সদ্য সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও জামালপুরের এই সাংসদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন, গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিস্তর সমালোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সিনিয়র সাবেক নেতার সাথে দেখা হতেই ডাঃ মুরাদ হাসানের সমালোচনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন। গায়ের ঘাম শুকিয়ে  সাদা লোনা ধরা মলিন পোশাক পরিহিত ১/১১ এর সময়ে কারা নির্যাতনভোগী ঐ সম্মুখ সারির ঐ তুখোড় ছাত্রনেতা সংস্কারবাদীদের প্রলোভন ও হুমকির কথা বর্ণনা করে বললো, আজ বিএনপি-জামায়াত এর লোকেরা সুকৌশলে টাকার পাহাড় তৈরি করেছে, দলীয় পদ দখল করেছে, এমপি-মন্ত্রী হয়েছে। আমি রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছি। ১/১১ এর পর যে সকল সংস্কারবাদীরা ধমক দিয়েছে, তাদের সাথে মিশে যেতে প্রলোভন দেখিয়েছে, তারা এখন এমপি-মন্ত্রী-দলীয় উচ্চ পদে আসীন‘। আমি নিরুত্তর, কি উত্তর দিব। আমারওতো প্রশ্ন আছে? যারা সেদিন শেখ হাসিনাকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, তারা সরকার ও সংগঠনের উচ্চ পর্যায়ে আসীন। যাদের বক্তব্য সেসময়ের পত্রিকায় শিরোনাম হয়েছিল, তখন যারা বলেছিলেন শেখ হাসিনার রাজনীতি করা উচিত নয়, তারা আজ বড় মন্ত্রী, সংগঠনের বড় বড় পদবীধারী।
ডাঃ মুরাদের ভাইরাল হওয়া অডিও-ভিডিও দেখে প্রথমদিকে অবাক হয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী আওয়ামী লীগের একজন নেতা, যিনি জাতীয় সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রী, এহেন কর্মকাণ্ড করতে পারেন না।
বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্ব ও নেতাকর্মীদের ত্যাগ-তিতিক্ষায় টানা তৃতীয় বারের মতো দেশ পরিচালনা করছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে  সরকার পরিচালিত হচ্ছে। সারাবিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কপ-সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানরা আগ্রহী হয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, এক সাথে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। বাংলাদেশে বিরাজমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সুধীজনেরা শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করছেন। এমনি পরিস্থিতিতে সরকারের মাননীয় তথ্য ও সম্প্রচার  প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মুরাদ হাসান এর কর্মকাণ্ড সত্যিই বিব্রতকর। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকেরা দুঃখিত, লজ্জিত।
কিন্তু ৭ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার দ্বিতীয় সংস্করণে  ‘ছাত্রদল নেতা থেকে আওয়ামী লীগের (সরকারের) প্রতিমন্ত্রী‘ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে সম্বিৎ ফিরে পেয়েছি। মনে হয়েছে ডাঃ মুরাদের ঘটনাটা অস্বাভাবিক নয়। গত ১৪ অক্টোবর ২০২১, বাংলাইনসাইডার পোর্টালে প্রকাশিত  ‘অনুপ্রবেশকারীরা কখনই সংগঠনের শুভাকাঙ্ক্ষী নন, ক্ষতির কারণ‘ শিরোনামে আমি লিখেছিলাম, ‘যে কোন রাজনৈতিক দলের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে নতুন কর্মীরা যোগদান বা প্রবেশ করবে এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু বুঝতে হবে কোনটি প্রবেশ, কোনটি অনুপ্রবেশ। এক্ষেত্রে অনুপ্রবেশ শব্দটি ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। ইংরেজি শব্দ Infiltrate এর সমার্থক শব্দ ‘Penetrate’। বাংলা অর্থ:  ‘অনুপ্রবেশ করা‘বা ‘গোপন এবং অবৈধ প্রবেশ‘। এই শব্দের ব্যাখ্যা: বিশেষ করে গোপন তথ্য অর্জন বা ক্ষতির কারণ হিসাবে কোনও সংস্থা বা স্থানটিতে গোপনীয়তার সাথে প্রবেশ বা প্রবেশের ক্রিয়া।
রাজনীতিতে ‘অনুপ্রবেশকারী’ শব্দটি বিতর্কিত টার্ম। কে কখন কীভাবে একটি দলে প্রবেশ করেন এবং কখন তার এই প্রবেশকে অনুপ্রবেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে—সেটি পারিপার্শ্বিক অনেক কিছুর উপরে নির্ভর করে। এটা চিহ্নিত করার সর্বজন গ্রহণযোগ্য কোনো মানদণ্ড নেই।
অনুপ্রবেশকারীরা নিজেদের আদর্শের কৌশলী জাল বিস্তারের জন্য দলে প্রবেশ করে। বিএনপি-জামায়াত থেকে আসা ঐ সকল নব্য আওয়ামী লীগাররা নিজেদের উদ্দেশ্য গোপন রেখে আওয়ামী লীগের তথ্য সংগ্রহ করে অথবা দলের রাজনীতি নিজেদের আদর্শিক পন্থায় প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। উনারা দলের নাম ভাঙিয়ে অঢেল সম্পদ বাগিয়ে নেন, দলের সংকটে পাশে থাকেন না, তারা দলের জন্য ক্ষতিকর বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ডাঃ মুরাদ হাসানের মত বিএনপি জামাতের আদর্শের অনুসারী আওয়ামী লীগ দলীয় অনেক সংসদ সদস্যই বিএনপি জামাতের অনুসারীদের ‘নৌকা‘র মনোনয়ন দিতে প্রভাবিত করছে, সংগঠনে গ্রুপিং সৃষ্টি করছে, বিভিন্ন অপকর্ম করছে, যাহা সরকারের ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। কারণ, ওরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক না। অপকর্ম করার সময় তাদের মানসপটে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ভেসে উঠে না। ওরা চিন্তা করে না, উনাদের অপকর্মের কারণে সরকারের ইমেজ বিনষ্ট হবে, সরকারের অর্জন ক্ষুণ্ণ হবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অবমাননা হবে।
প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নির্দিষ্ট আদর্শ ও কিছু নীতিমালাসহ গঠনতন্ত্র থাকে। সেই আদর্শ ও নীতিমালা মেনে যে কোনো লোকই সংগঠনের সদস্য হতে পারেন বা প্রবেশ করতে পারেন। কিন্তু একসময় যিনি মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সংগঠন জামাতের অনুসারী ছিলেন বা ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বেনিফিশিয়ারি জিয়ার আদর্শে গঠিত সংগঠন করতেন, বা জিয়ার আদর্শের অনুসারী ছিলেন, তিনি নিশ্চয়ই মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারে না, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী হতে পারে না।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক বলে গলা ফাটানো ডাঃ মুরাদ হাসানের মত অনেকেই  ছাত্রজীবনে জিয়ার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ছাত্রদলে নেতৃত্ব দিয়েছেন, পরবর্তীতে বিএনপি দলীয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন, তারা এখন ভোল পাল্টে  আওয়ামী লীগের উপরে পর্যায়ে স্থান করে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, ওরা প্রশাসনিক বিভিন্ন পদ-পদবীসহ সরকারের নীতি নির্ধারণী পদ জাতীয় সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নীতিনির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির পদও দখল করে নিয়েছেন। শ্রদ্ধেয় ওবায়দুল কাদের সাহেবের ভাষায় ‘কাউয়া’ নেতা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করেছে।
এখন প্রশ্ন, ডাঃ মুরাদের মতো আরও কতশত বিএনপি-জামায়াত করা ‘কাউয়া নেতা‘আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করেছে?
ইদানীং লক্ষ্য করা যাচ্ছে, স্বাধীনতা বিরোধী ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বিরোধী ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বদানকারী নেতারা স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারীদের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।
কিন্তু এ কথাতো ঠিক যে, একজন মানুষ ছাত্র জীবন থেকে এক আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনৈতিক চর্চা করে বিকশিত হয়ে নেতা হলো, ভোল পাল্টে অন্য আদর্শের অনুসারী হতে পারে না। তারা আসলে নিজের স্বার্থ হাসিল করার জন্য ভিন্ন আদর্শের অন্য একটি সংগঠনে অনুপ্রবেশ করে।
রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে দলীয় আদর্শহীন একজন মানুষ বিশেষ যোগ্যতায় সরকারের মন্ত্রী হতে পারে, কিন্তু আদর্শভিত্তিক একটি সংগঠনের নীতিনির্ধারক হতে পারেন না, কেন্দ্রীয় নেতা হতে পারেন না। একজন চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় একজন রোগী মারা যায়, একজন নেতার ভুল সিদ্ধান্তে একটি দেশ, একটি জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসেই এমন উদাহরণ রয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো, জামাত-বিএনপির লোক কি কারণে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন আওয়ামী লীগে যোগদান করেন?
একটু পিছনে ফিরে তাকাই। আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন বক্তৃতা-বিবৃতিতে প্রায়শই বলে থাকেন, জিয়াউর রহমান দেশ স্বাধীন করার জন্য নয় অনুপ্রবেশকারী হিসেবে, পাকিস্তানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছে। সকল ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি থেমে থাকেনি। পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পরিচালিত সরকারে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে স্বাধীনতা বিরোধীদের স্বার্থ উদ্ধারে জিয়াউর রহমান গুপ্তচরবৃত্তি চালিয়ে যান। সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপন করেন। খন্দকার মোশতাক, মাহবুবুল আলম চাষী ও তাহেরউদ্দিন ঠাকুরদের সাথে সম্পৃক্ত হয়। জিয়াউর রহমানের সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে তৎকালীন সরকার জিয়াকে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব দিয়ে দেশের বাইরে পাঠানোর আদেশ জারি করে। কিন্তু কয়েকজন সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধুকে ভুল বুঝিয়ে সেই আদেশ বাতিল করিয়েছিলেন। জিয়ার নেতৃত্বে অনুপ্রবেশকারীরা সুযোগ বুঝে খন্দকার মোশতাকদের সাথে নিয়ে উচ্চাভিলাসী কয়েকজন পথভ্রষ্ট সেনাকর্মকর্তাদের দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের মূল বেনিফিশিয়ারি জিয়াউর রহমান, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে। দল গঠন করে। জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত দল বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে স্বাধীনতা বিরোধীদের মূল নেতা গোলাম আজমকে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিয়ে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনে এবং সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ৫ শতাধিক মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের কর্মকর্তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। এসবই ছিল স্বাধীনতাবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ। জিয়ার উত্তরসূরি বেগম খালেদা জিয়া ও তার পুত্র স্বাধীনতা বিরোধী ষড়যন্ত্রের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য ২০০৪ সালে শেখ হাসিনাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে গ্রেনেড হামলা করে। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে শেখ হাসিনা আহত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। এসবই স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে নির্মুল করা ও স্বাধীনতার মূল্যবোধকে নস্যাৎ করার জন্য।
তারপর দীর্ঘ ১৮ বৎসর আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় অগনিত শহীদের রক্তের বিনিময়ে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী ও ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বেনিফিশিয়ারি বিএনপি- জামাতের ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়নি। ওরা অতি সুকৌশলে ‘ক্ষমতা’র খুব কাছাকাছি থেকে পূর্বসূরিদের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তকরনে সক্রিয় রয়েছে।
বিএনপি জামাত থেকে অনুপ্রবেশকৃতরা তাদের নিজস্ব লোকদের তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত করেছেন। কিন্তু কী পরিকল্পনায় বা কোন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য তারা বিএনপি সরকারের আমলেই বিএনপি ছেড়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করলেন এবং সুকৌশলে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হলেন, এটাই রহস্যজনক! এমনি অসংখ্য অনুপ্রবেশকারীর উদাহরণ রয়েছে।
ডাঃ মুরাদ হাসান এর মত জিয়ার আদর্শের অনুসারী অন্যান্য যে সকল অনুপ্রবেশকারীরা এখনও আওয়ামী লীগ ও সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থেকে সংগঠন ও সরকারের অনিষ্ট করছেন, দেশ ও জাতির স্বার্থে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া জরুরী বলে মনে করছেন রাজনৈতিক সচেতন জনগোষ্ঠী।
ড. মোঃ আওলাদ হোসেন, ভেটেরিনারীয়ান, পরিবেশবিজ্ঞানী, রাজনৈতিক কর্মী ও কলামিস্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ। 

রাণীশংকৈলে বেগম রোকেয়া দিবস পালন উপলক্ষে আলোচনা ও ক্রেস্ট প্রদান

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ “শেখ হাসিনার বারতা, নারী পুরুষ সমতা, নারী নির্যাতন বন্ধ করি কমলা রঙের বিশ্ব গড়ি” এ শ্লোগানকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় বৃহস্পতিবার ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবস পালিত হয়। এ উপলক্ষে এদিন সকাল ১১ টায়

উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা কনফারেন্স রুমে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

ইউএনও সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিফের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঠাকুরগাঁও- ৩ সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শেফালী বেগম ও প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম।

এ ছাড়াও সভায় রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক নেতাকর্মী, কর্মকর্তা, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। আরো বক্তব্য দেন- সাংস্কৃতিক সংগঠক প্রভাষক প্রভান্ত বসাক,তথ্য ও পরিসংখ্যান কর্মকর্তা হালিমা বেগম, মহিলা লীগ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, পৌর আ’লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান, এস আই মমিনুল ইসলাম ও সমাজসেবক আব্দুল খালেক।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বেগম রোকেয়াকে ‘ নারী জাগরণের অগ্রদূত” হিসেবে উল্লেখ করে নারীদের অগ্রগতিতে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানে সমাজ উন্নয়নে সফলতা অর্জনের জন্য ৫ জনকে জয়িতা সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। তারা হলেন- উপজেলা পর্যায়ে নিতানি পাহান, আমেনা বেগম ও পিরিনা মারডি এবং জেলা পর্য়ায়ে সুজতি টুডু ও ফুলমতি পাহান।

ফুলবাড়ীতে গাঁজাসহ অটোরিকশা চালক কাম মাদক ব্যবসায়ী আটক

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সদস্যদের অভিযানে এক মাদক ব্যবসায়ী কাম অটোরিকশা চালক আটক হয়েছে। এসময়  তার সহযোগী কৌশলে পালিয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের পুর্ব ফকিরপাড়া এলাকায় বালারহাট – ফুলবাড়ী সড়কে অটোরিকশা তল্লাশি করে তাকে আটক করা হয়।
আটক মাদক ব্যবসায়ী কাম অটোরিকশা চালক হলেন,  উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গজেরকুটি (বাদশা বাজার) গ্রামের আজিমুদ্দিনের ছেলে মাজহারুল ইসলাম মিলন (২২)। পলাতক আসামী হলেন, একই ইউনিয়নের খলিশা কোটাল গ্রামের   নুর ইসলামের ছেলে বদিউজ্জামান বাদল (২০)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক তরুণ কুমার রায় জানান, বুধবার সকালে লালমনিরহাট গামী ওই অটোরিকশাটি তল্লাশী করে সাড়ে আট কেজি গাজা উদ্ধার করা হয়। এসময়  চালক আটক হলেও তার সহযোগী পালিয়ে যায়। পরে ফুলবাড়ী থানায় দুইজনের বিরুদ্ধে  মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের আটক আসামী জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

মুরাদনগরে অসহায় মনু মিয়ার ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি ৮০ বছর বয়সেও

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ “দুঃখে যাদের জীবন গড়া তাদের আবার দুঃখ কিসের” হা বলছি কুমিল্লা জেলা মুরাদনগর উপজেলার ৪নং পূর্বধৈইর পূর্ব ইউনিয়নের ৭নং ওর্য়াডের হীরাপুর গ্রামের মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে মনু মিয়ার কথা। তিনি ৪১ বছর ধরে কলা বিক্রি করে সংসার চালায় ৮০ বছর বয়সের অসহায় মনু মিয়া। ১৯৮০ সালে কলার বোঝা যে কাঁধে নিয়েছিলেন আশির (৮০) বেশি বয়স হলেও নামেনি এখনও কাঁধ থেকে সেই কলার বোঝা। বয়স এবং কলার বোঝার ভারে বাঁকা হয়ে গেছে তার মেরুদণ্ড। কি আর করার আছে জীবনতো টিকিয়ে রাখতে হবে। নিম্নআয়ের দেশ থেকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে পরিবর্তন হলেও ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি মনু মিয়ার।

মনু মিয়া জানান তার চার ছেলে ২ মেয়ে। বড় ৪ ছেলে ঢাকা থাইকা রিকশা চালায়।তাদের আলাদা সংসার।তারাই চলতে কষ্ট হয়।আমারে কিভাবে সাহায্য করবে। আমি আর আমার স্ত্রী(৭৫) একসাথে আছি। ১৯৮০ সালে থেকে ফেরী করে কলা বিক্রি শুরু করি। প্রথম দিকে চিটাগাং ছিলাম। রোদ-বৃষ্টি ঝড় কোন কিছুতেই বসে থাকতে পারিনা। কোম্পানীগঞ্জের পাইকারী আড়ৎ থেকে কলা নিয়ে হেটে রাস্তায় রাস্তায় বিক্রি করি এবং বিক্রি শেষে বাড়ি যাই। দিন শেষে যা পাই তা দিয়া জীবনটা চালাই।রোগের তাড়নায় বাঁচিনা।দেহ মন কোনটাই চলে না তবুও বসে থাকতে পারিনা। কে দিবে ওষুধের টাকা আর কে চালাবে সংসার।

মনু মিয়া দুঃখের সাথে জানান কাপড় ছাড়াই চলছি সারা জীবন এই লুঙ্গি, আর ছেড়া গেঞ্জি পরে জীবনটা কাটাইয়া দিলাম।ছোট সময় বাবা মারা গিয়েছিল সেই থেকে ভাই বোন আর মায়ের ভরণ পোষণের যে দায়িত্বটা ঘাড়ে তুলে নিয়েছিলাম সেই দায়িত্বের বোঝাটা আজও ঘাড় থেকে নামাতে পারেননি। তিনি জানেন না এর শেষ কোথায়?জায়গা জমি বলতে বাপের ভিটায় দুটি ঘর আছে এছাড়া আর কিছু নাই। জীবনের এই অন্তিম মূহর্তে সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিরা এগিয়ে আসলে হয়তো বাকি সময়টা তার আর কষ্ট করা লাগতো না একটু স্বস্তির নিশ্বাস নিতে পারতো মনু মিয়া।

নেত্রকোণায় ইউপি নির্বাচনের ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার পূর্বধলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করে অযৌক্তিক দাবীর মাধ্যমে একটি মহলের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার দুপুরে উপজেলার হুগলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আকন্দ নিজ বাড়ীতে এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
এ সময় এলাকাবাসীর পক্ষে হিরা মিয়া, জাহাঙ্গীর সরকার, আবুল কাসেমসহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও জেলার প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এতে উপস্থিত ছিলেন।
পরে সড়কে দাঁড়িয়ে বিশাল মানববন্ধন করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান এলাকাবাসী।