ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান পরিচালনায় অর্থদণ্ড

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চতকরণে এবং ভোক্তা অধিকার আইন প্রতিপালনে কাজ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সেই লক্ষ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: আল-আমিন এর নেতৃত্বে র‌্যাব-৯ এর একটি দল সহযোগিতায় রবিবার (৫ ডিসেম্বর) সদর উপজেলার কোর্ট রোড, সেন্ট্রাল রোড, এম সাইফুর রহমান রোড, চৌমুহনাসহ বিভিন্ন স্থানে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর প্রতিষ্ঠান, খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, হোটেল-রেষ্টুরেন্ট, ফার্মেসীসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যেও অন্যান্য দোকানে তদারকি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

উক্ত তদারকি অভিযানে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রয় করা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য পণ্য তৈরি ও সংরক্ষণ করা, অস্বাস্থ্যকর তৈল ব্যবহার করা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ না করা, একই ফ্রিজে রান্না করা ও কাঁচা খাদ্য পণ্য সংগ্রহ করা, রান্নাঘর স্যাঁতস্যাঁতে থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অপরাধে কোর্ট রোডে অবস্থিত মামার বাড়ি রেষ্টুরেন্টকে ২০ হাজার টাকা, এম সাইফুর রহমান রোডে অবস্থিত ভাই ভাই সুইটস এন্ড বিরিয়ানী হাউজকে ৫ হাজার টাকা, চৌমুহনাতে অবস্থিত পারুল মেডিকেল ষ্টোরকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও তা আদায় করা হয়। আজকের অভিযানে মোট ৩ টি প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ২৯ হাজার টাকা জরিমানা ও তা আদায় করা হয়। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী ন্যায্য মূল্যে বিক্রয় এবং নিরাপদ খাদ্য পরিবেশেন নিশ্চিতকরণে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকি পরিচালিত হয়।

আগামীতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান জেলা সহকারী পরিচালক।

ভয়ংকর ওমিক্রন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১১ অঙ্গরাজ্যে শনাক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মহামারি করোনার ভয়ংকর ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি রাজ্যে এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে। নতুন করে নিউ জার্সি, ম্যারিল্যান্ড, মিসৌরি, নেব্রাস্কা, পেনসিলভানিয়া ও ইউটাহ রাজ্যে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে।

এর আগে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, মিনেসোটাসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে মিলেছে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টটি। বিশ্বে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রভাব শেষ না হতেই ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাবে করোনা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে এমন আশঙ্কা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের পরিচালক রচেল ওয়ালেনস্কি।

এদিকে ভারতে এখন পর্যন্ত ৪ জন আক্রান্ত হয়েছে ওমিক্রনে। দেশটিতে তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ব্রিটেনে যাত্রা শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে করোনা পরীক্ষার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৬০ জনের ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ।

এ ছাড়া নাইজেরিয়া থেকে আসা ভ্রমণকারীদের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ওমিক্রন আতঙ্কের মধ্যেই আবারও করোনার বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নেমেছে ইউরোপের কয়েকটি দেশের হাজার হাজার মানুষ। নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ায় চলছে বিক্ষোভ।

সুত্রঃ ইউএসএ টুডে।

নাটোরে যুবকের পায়ুপথ থেকে ১০ লাখ টাকার হেরোইন উদ্ধার

রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ নাটোরে পায়ুপথে ১০ লাখ টাকার হেরোইন লুকিয়ে রেখে পাচারের সময় ইব্রাহিম নামে এক যুবককে আটক করেছে র‌্যাব। আটক ইব্রাহিম রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার কাজিহাটা এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে।

আজ রবিবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে নাটোর র‌্যাব ক্যাম্প সিপিসি-২ এ এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব বাগাতিপাড়া উপজেলার সামনে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিল ইব্রাহিম নামে এক যুবক। তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় তার পায়ুপথ থেকে ৯৬ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মুল্য ১০ লাখ টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, কালো রঙের টেপ দিয়ে বিশেষ কৌশলে হেরোইন পায়ুপথে প্রবেশ করিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিবহণ করা হচ্ছিল। এ ছাড়া এমন কাজ সে আগেও বহুবার করেছে বলে স্বীকার করেছে আটক যুবক।

আটক যুবককে নিকটস্থ থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।

কমলগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস আজ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: স্বাধীনতার শুচনালগ্নে ১৯৭১ সালের ৫ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত হয় মৌলভীবাজার জেলার সীমান্তবর্তী কমলগঞ্জ উপজেলা। কমলগঞ্জের মাটিতে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন হয়। মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের মুখে বিপর্যস্ত হয়ে কমলগঞ্জের দখলদারিত্ব ছেড়ে পালিয়ে যায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর শত্রু মুক্ত হয় কমলগঞ্জের মাটিতে স্বাধীনতার পতাকা ওড়ায় বাঙালিরা।

কমলগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার জয়নাল আবেদীন জানান, প্রকৃতপক্ষে ৫ ডিসেম্বরই কমলগঞ্জ হানাদারমুক্ত হয়। পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কমলগঞ্জে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর থেকেই এখানে শুরু হয় সশস্ত্র প্রতিরোধের প্রস্তুতি। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অনুগত ৬০ জনের একটি দল তৈরি করে উপজেলার শমসেরনগর বিমানঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ চলতে থাকে। ১০ মার্চ ক্যাপ্টেন গোলাম রসুলের নেতৃত্বে এক দল পাকিস্তানি সেনা মৌলভীবাজারে অবস্থান নেয়। ২৩শে মার্চ পাকিস্তান দিবসে তৎকালীন ছাত্রনেতা নারায়ণ পাল ও আব্দুর রহিম পাকিস্তানি পতাকা পোড়ানোর দায়ে গ্রেফতার হন। পরে জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। তিনি জানান, কমলগঞ্জ ছিল বামপন্থিদের সুদৃঢ় ঘাঁটি। তারা মওলানা ভাসানী ও হক-তোহায়া গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনালগ্নে বাকশালপন্থিদের নির্মূল করার অজুহাতে মেজর খালেদ মোশাররফকে কমলগঞ্জে পাঠানো হয়। তিনি ছিলেন বাঙালি সেনা কর্মকর্তা। ২৫ মার্চ রাতে ঢাকা গণহত্যা শুরু হলে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে জনতার কাতারে শামিল হন।

ঢাকায় এ গণহত্যার প্রতিবাদে ২৬ মার্চ কমলগঞ্জে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে মিছিল বের হয়। পাকিস্তানি সেনারা সেই মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালালে সিরাজুল ইসলাম নামে এক বৃদ্ধ শহীদ হন। এই হত্যাকাণ্ডে উপজেলাবাসীর মনে জ্বলে ওঠে প্রতিশোধের আগুন। স্থানীয় বাঙালি ইপিআর ও পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরাও একাত্মতা ঘোষণা করে সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে। ২৮ মার্চ শমসেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির সব অস্ত্র উঠিয়ে আনা হয়। মালগাড়ির বগি দিয়ে ভানুগাছ-শমসেরনগর-মৌলভীবাজার রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়া হয়। ২৯ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী খবর পেয়ে আবারও কমলগঞ্জে আসে। সন্ধ্যায় পাকিস্তানি সেনারা ভানুগাছ থেকে শমসেরনগরে এলে মুক্তিসেনাদের অতর্কিত আক্রমণে ক্যাপ্টেন গোলাম রসুলসহ নয়জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। স্বাধীনতার শুচনালগ্নের এই প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধে প্রচুর অস্ত্র-গোলাবারুদসহ পাকিস্তানিদের দুটি গাড়ি মুক্তিযোদ্ধাদের হস্তগত হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বপ্রথম এই বিজয় লাভের পরদিনই কমলগঞ্জে মুক্তিপাগল জনতার এক বিরাট সমাবেশে গঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা পরিষদ। এরপর থেকেই নিয়মিত চলতে থাকে দলে দলে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ। ২৮ মার্চের পর পাকিস্তানি বাহিনী জল, স্থল ও আকাশপথে কমলগঞ্জে ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে। মুক্তিবাহিনী তাদের অত্যাধুনিক অস্ত্র মোকাবিলায় অসীম সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করে।

এ উপজেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তিনটি ঘটনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো হচ্ছে- পাত্রখোলা বাগান, ধলাই বাগান ও ভানুগাছের যুদ্ধ। ন্যাপের নেতা মফিজ আলী, ক্যাপ্টেন মোজাফফর আহমদ, আওয়ামী লীগ নেতা এমএ গফুর, ময়না মিয়া, ক্যাপ্টেন সাজ্জাদুর রহমান প্রমুখের সাহসী নেতৃত্বে কমলগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধারা অসীম সাহসিকতার সঙ্গে লড়েন। এখানকার বিভিন্ন রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেন মুক্তিবাহিনী ও সেনাবাহিনী প্রধান এমএজি ওসমানী, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমান, মেজর খালেদ মোশাররফ, ব্রিগেডিয়ার আমিন আহম্মদ ও মেজর জিয়াউর রহমানসহ অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা। উপজেলার বিভিন্ন রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছেন বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমান, ল্যান্স নায়েক জিল্লুর রহমান, সিপাহি মিজানুর রহমান, সিপাহি আবদুর রশিদ, সিপাহি শাহজাহান মিয়াসহ নাম না জানা অনেকেই। ক্যাপ্টেন মোজাফফর আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন গেরিলা অপারেশনের লোমহর্ষক পর্যায়গুলো শুধু দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকাসহ বিভিন্ন বেতার মাধ্যম থেকে তার ওপর মন্তব্যও করা হয়েছে বহুবার। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে শমসেরনগর মুক্ত করেছেন তিনি। শমসেরনগর যুদ্ধের আরও এক অগ্রসেনানি ছিলেন সৈয়দ মতিউর রহমান। ডিসেম্বরের ৩ তারিখ শমসেরনগর মুক্ত হওয়ার প্রাক্কালে তার অসম সাহসী যুদ্ধ পরিচালনা দেখে চমৎকৃত হয়েছিলেন শমসেরনগর ডাকবাংলোয় অবস্থানকারী তৎকালীন সময়ের মিত্রবাহিনীর ক্যাপ্টেন চাতওয়াল সিং।

মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ৩ ডিসেম্বর শমসেরনগর এলাকা শত্রুমুক্ত করে ৫ ডিসেম্বরে ভানুগাছ এলাকায় মুক্তি বাহিনী ও হানাদার বাহিনীর মধ্যে প্রচণ্ড যুদ্ধের পর কমলগঞ্জ সদর থেকে পাকিস্তানিরা পিছুহটে মৌলভীবাজারের দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। কামুদপুরসহ গোটা কমলগঞ্জ উপজেলা হানাদারমুক্ত হয়।

নেত্রকোণায় সুশাসনের লক্ষ্যে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাঃ আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণায় সুশাসনের লক্ষ্যে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাঃ আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রবিবার (০৫-১২-২০২১) সকাল সাড়ে ১১টায় নেত্রকোনা পৌরসভার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস আলী খান স্মৃতি মিলনায়তনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নেত্রকোনা জেলা শাখা এই কর্মশালার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই গণতন্ত্রের মানষ পুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস আলী খানের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়।
সুজনের নেত্রকোণা জেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পালের সভাপতিত্বে সাংবাদিক আলপনা বেগমের সঞ্চালনায় এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নেত্রকোণা পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম খান, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি  বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী, নেত্রকোণা পৌরসভার প্যানেল অব মেয়র এস এম মহসীন আলম।
কর্মশালায় আন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আব্দুল্লাহ, প্রেসক্লাবের সাবেক সম্পাদক ম কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম, সাংবাদিক মনিরুজ্জামান মহসিন, সাংবাদিক কবীর হোসেন চাঁন মিয়া, ভজন দাশ, মনোরন্জন সরকার, হাঙ্গার প্রজেক্টের ময়মনসিংহ অঞ্চলের স্বমন্বয়কারী এ এন এম নাজমুল হোসাইন, সাংবাদিক সুজাদুল ইসলাম ফারাস ও সোহান আহমেদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে  অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরনের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন এবং দেশ ও জনগনের স্বার্থে সকল প্রকার লোভ লালসা এবং ভয় ভীতির উর্ধ্বে উঠে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

রানীশংকৈলে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় রবিবার ৫ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন ও মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ উপলক্ষে এদিন দুপুরে উপজেলা কনফারেন্স রুমে সহকারী কমিশনার (ভুমি) ইন্দ্রজিৎ সাহার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা আ’লীগ সভাপতি অধ্যক্ষ সইদুল হক, পৌর মেয়র আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শেফালী বেগম, উপজেলা আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহম্মেদ, ওসি তদন্ত আব্দুল লতিফ সেখ, বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান, পৗের আ’লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর উদযাপন ও ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস সফলভাবে পালনের সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

ইন্দোনেশিয়ায় ফের অগ্ন্যুৎপাতে ১৩ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা প্রদেশে মাউন্ট সেমেরু আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ১৩ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এ ঘটনায় আটকা পড়া ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আজ স্থানীয় সময় রোববার (৫ ডিসেম্বর) দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এজেন্সি (বিএনপিবি) ১৩ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এজেন্সির কর্মকর্তা আব্দুল মুহারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, অগ্ন্যুৎপাতে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজনকে শনাক্ত করা গেছে। দুর্ঘটনায় ৯৮ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজন অন্তঃসত্তা নারীও রয়েছেন। এ পর্যন্ত ওই অঞ্চল থেকে ৯০২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ছড়িয়ে পড়া ছাইয়ে ঢেকে গেছে গ্রামগুলো। সেখানকার মানুষকে ছাই ও ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে।

বিএনপিবি আরও জানিয়েছে, ৩৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আগ্নেয়গিরির কাছাকাছি এলাকা লুমাজাং জেলার উপপ্রধান ইন্দাহ আম্পেরওয়াতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অগ্ন্যুৎপাতের কারণে দগ্ধ হন ৪১ জন। ইন্দাহ আম্পেরওয়াতি আরও বলেন, কাদা ও ভেঙে পড়া গাছে রাস্তা আটকে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকটি গ্রামে পৌঁছাতে পারেনি।

বিএনপিবির প্রধান মেজর জেনারেল টিএনআই সুহারিয়ান্তো বলেন, সেনাবাহিনীকে সব ধরনের সহায়তার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আগ্নেয়গিরিটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তিন হাজার ৬৭৬ মিটার ওপরে অবস্থিত। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও সেখানে অগ্ন্যুৎপাত হয়। মাউন্ট সেমেরু ইন্দোনেশিয়ার প্রায় ১৩০টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির মধ্যে একটি।

মুজিব শতবার্ষিকী উপলক্ষে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কর্মশালা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মুজিববর্ষ শতবার্ষিকী উপলক্ষে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ৩য় পর্যায়ে গৃহ নির্মাণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণের সমন্বয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে মৌলভীবাজারে।
শনিবার (৪ঠা ডিসেম্বর) কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোঃ তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন।
এ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোঃ আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকি, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারবৃন্দ, আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপ-পরিচালক, সিলেট বিভাগের চার জেলার জেলা প্রশাসকবৃন্দ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বৃন্দ, নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) বৃন্দ, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাবৃন্দ, উপজেলা নির্বাহী অফিসারবৃন্দ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) বৃন্দ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাবৃন্দ ও উপজেলা প্রকৌশলীবৃন্দ।
এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা মুজিববর্ষ শতবার্ষিকী উপলক্ষে গৃহহীনদের জন্য ৩য় পর্যায়ে গৃহ নির্মাণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

দুই মেয়েকে হত্যা করে মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ গাজীপুর মহানগরের পশ্চিম জয়দেবপুর মোক্তারটেক এলাকায় দুই কন্যা শিশুকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ নিহত দুই শিশু কন্যার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে এবং মাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে নিহত শিশুদ্বয়ের বাবা।

নিহতরা হলো ৪ বছর বয়সী শিশু তাসনিহা জাহান তারিহা ও তার ৭ মাস বয়সী ছোটবোন তাসমিম জাহান বুশরা। তারা কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার বড় আলমপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে। আহত লিজা আক্তার নিহত শিশুদুটির মা ও বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী। বিল্লাল হোসেন গাজীপুরে বাসা ভাড়া থেকে ভবন নির্মাণের সয়েল টেস্টের মিস্ত্রির কাজ করতেন।

বিল্লাল হোসেন জানান, তিন মাস আগে ওই এলাকার নাসরিন মঞ্জিলের সামসুল হকের তিনতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়ায় ওঠেন বিল্লাল হোসেন। দুদিন আগে বিল্লাল গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা থেকে স্ত্রী এবং দুই শিশু সন্তানকে ভাড়া বাসায় নিয়ে আসেন। শনিবার সন্ধ্যার কিছু পর বিল্লাল শিশুদের খাবার আনার জন্য দোকানে যায়। বাসায় এসে ঘরের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করা দেখেন। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বাড়িওয়ালা ও আশপাশের লোকদের ডাক দিলে তারা ভবনের বাইরে দিয়ে গিয়ে জানালা দিয়ে দেখতে পান তিনজন বিছানায় পড়ে আছে।

পরে তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দুই শিশুকে মৃত অবস্থায় এবং তাদের মাকে অজ্ঞান অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়রা তাদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু দুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। তাদের মাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ) জাকির হাসান জানান,  বিল্লালের স্ত্রী লিজা বেগম মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন বলে তার স্বামী বিল্লাল জানিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

চাপে ফেলে বিয়ের উদ্দেশ্যে শিশু অপহরণ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: ওমান প্রবাসী এক তরুণকে চাপে ফেলে বিয়ে করতে ওই প্রবাসীর ২২ মাস বয়সী ভাতিজাকে কৌশলে অপহরণ করান পাত্রী। কিন্তু তার উদ্দেশ্য সফল হয়নি। পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে পাত্রী রুহেনা আক্তার রিয়াকে (২১)। ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায়।

পুলিশ জানিয়েছে, উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের কেশরপাড়া গ্রামের প্রবাসী জুবেল আহমদের সাথে বিয়ের কথাবার্তা চলছিল সিলেটের ওসমানীনগর থানার পশ্চিম রুকনপুর গ্রামের মৃত কনাই মিয়ার মেয়ে রুহেনা আক্তার রিয়ার। কিন্তু অভিভাবকদের সমঝোতা না হওয়ায় তাদের বিয়ের আলোচনা আর সামনে এগোয়নি।

এ পর্যায়ে, প্রবাসী জুবেল আহমদকে বিয়ে করতে এই কৌশল নেন রিয়া। তিনি পরিচিত কয়েকজনের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে জুবেলের ভাতিজা ২২ মাস বয়েসী শিশু সাইফকে কৌশলে অপহরণ করান।

রাজনগর পুলিশকে শিশুটির অভিভাবকরা অপহরণের ব্যাপারে জানালে, পুলিশ অপহরণকারীদের ফোন নম্বর, সর্বশেষ কল আদান-প্রদানের রেকর্ড ও লোকেশন ট্র্যাক করে শনিবার (৪ ডিসেম্বর) শিশুটিকে উদ্ধার করে। ঘটনায় মূল আসামি হিসেবে ওই তরুণীকে গ্রেফতার করা হয়।

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. জিয়াউর রহমান জানান, গত বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে জুবেলের ভাই প্রবাসী জায়েদের বন্ধু পরিচয়ে জুবেলের আরেক ভাই জাবেদ আহমদের বাড়িতে যান দুই অজ্ঞাত যুবক। চা-নাস্তা খাওয়ার পর জাবেদ আহমদের শিশুপুত্র সাইফকে কোলে নিয়ে মোবাইল রিচার্জ করার কথা বলে বের হন তারা। পরে তাদের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারে শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যান। কয়েক ঘন্টা পর শিশুর দাদির মোবাইল ফোনে কল করে জানানো হয়, শিশুটিকে ফিরে পেতে হলে ওই তরুণীর সাথে জুবেলের বিয়ে দিতে হবে।

পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে, প্রথমে অপহরণকারীদের ফোন নম্বর, অবস্থন এবং তারা অপহরণের পর কখন কার সাথে যোগাযোগ করছে তা নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে পাওয়া যায়, এই অপহরণ নাটকের মূল হোতা রিয়ার খোঁজ। রোজ শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেটের ওসমানীনগর থানার তাজপুর বাজারের কদমতলী এলাকা থেকে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় রিয়াকে। পালিয়ে গেছে তার অপর দুই সহযোগী। পুলিশ জানিয়েছে তাদেরকে গ্রেফতারের উদ্দেশে অভিযান চলছে।

এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রাজনগর থানায় মামলা হয়েছে।