সফল যুব সংগঠনকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করেন যুবউন্নয়ন অধিদপ্তর (শেরপুর-বগুড়া)

নূর মোহাম্মদ সম্রাট, বগুড়া প্রতিনিধি: এবারের জাতীয় যুব দিবস – ২০২১ উপলক্ষে শুভেচ্ছা স্মারক পেল জিনাত যুবউন্নয়ন সংস্থা চকধলী, পেঁচিবাড়ী, শেরপুর বগুড়া। সফল যুব সংগঠনকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করেন যুবউন্নয়ন অধিদপ্তর শেরপুর, বগুড়া।

উক্ত সংগঠনের সভাপতি নুর মোহাম্মাদ সম্রাট এর হাতে সম্মাননা স্মরক তুলেদেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ ময়নুল ইসলাম আরো উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বিজয়চন্দ্র দাস এবং শেরপুর উপজেলা আওয়ামিলীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব আম্বিয়া।

ডিজিটাল বাংলা নিউজ/ ডিআর /এমআরবি

পীরগঞ্জে ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে চলছে শ্বশুর-বউমা ভোট যুদ্ধ

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় ১০ ইউনিয়নে তৃতীয় দফা নির্বাচন আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে প্রার্থিতা যাচাই বাছাই প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে।

উপজেলার বৈচুনা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে টেলিনা সরকার হিমু চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন।  একই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে তার বিপরীতে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন তার আপন মামা শ্বশুড় সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী চৌধুরী। নির্বাচনী মাঠে চলছে শ্বশুর- বউমার তমুল ভোট যুদ্ধ, মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন দু’জনই। এলাকার উন্নয়নে দিচ্ছেন নানা ধরণের প্রতিশ্রতি। চেয়ারম্যান পদে শ্বশুর-বউমা’র নির্বাচনী লড়াইয়ে উপজেলায় বেশ সাড়া ফেলেছে।

বিষয়টি এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। শ্বশুর-বউমা প্রার্থী হওয়াটাকে আনন্দ ভরেই গ্রহন করেছেন ইউনিয়নের ভোটাররা।

টেলিনা সরকার হিমুর স্বামী নুরে আলম সিদ্দিকী দুলাল উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশ নিয়ে অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারী দুলালের অকাল মৃত্যু হয়।

এবার চেয়ারম্যান পদে আ’লীগের মনোনীত প্রার্থী করেছেন প্রয়াত নেতা দুলালের স্ত্রী হিমু সরকারকে। হিমু আ’লীগের প্রার্থী হওয়ায় স্থানীয় আ’লীগ ছাড়াও দলের উপজেলা এবং জেলার নেতারা অংশ নিচ্ছেন তার নির্বাচনী প্রচারণায়। দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে ভোটের মাঠ দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।

অপর দিকে আইয়ুব আলী চৌধুরীও সব দল মতের মানুষকে সাথে নিয়ে দিন রাত গনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে এলাকায় তার একটা প্রভাব ও  গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সেটি কাজে লাগাতে চেষ্টা করছেন তিনি।

এবারের তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে বৈরচুনা ইউনিয়নে জমে উঠেছে শ্বশুড়-বউমা’র নির্বাচনী লড়াই । কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না।

বৈরচুনা বাজারের মোটরসাইকেল শো রুমে মালিক ইব্রাহীম খলিল বলেন, তাদের ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে শ্বশুড়-বউমা লড়ছেন। এতে বেশ মজা পাচ্ছি আমরা। এ নিয়ে ভোটারদের মাঝে কৌতুহলের শেষ নেই।

মুদি দোকানদার মোশারফ হোসেন ও আব্দুল হক বলেন, কেউ কম না। লড়াই হচ্ছে বাঘে – বাঘিনীতে।

আ’লীগের মনোনীত প্রার্থী হিমু সরকার বলেন, সুখে-দুঃখে এলাকারবাসীর পাশে থাকতে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আশা রাখি জনগন আমাকেই নির্বাচিত করবে।

অপর দিকে শ্বশুর আইয়ুর আলী চৌধুরী বলেন, আমি এর আগে এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলাম। জনগন আমায় চিনেন। সব সময় জনগনের পাশে ছিলাম এবং আগামীতেও থাকতে চাই।

শ্বশুড়-বউমা ছাড়াও ওই ইউনিয়নে চেয়াম্যান পদে আরো ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার তকদীর আলী জানান ইউপি নির্বাচনে উপজেলার ১০ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫১জন সাধারন সদস্য পদে ৩৩৫ সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১০৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২৮ নভেম্বর পীরগঞ্জ উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ৯০টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ফুলবাড়ীতে ইউপি নির্বাচনে দুই সতীনের লড়াই

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে দুই সতীন পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। জল্পনা- কল্পনা, তর্ক- বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে ভোটারদের মধ্যে। স্বামী এক স্ত্রীর পক্ষ নিলেও অন্যজন প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করায় দুই সতীনের ভোটের লড়াই জমে উঠেছে।

জানা গেছে, ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা বুদারবান্নি গ্রামের ফজলু কসাইয়ের তিন স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী আঙ্গুর বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী নাজমা বেগম ও তৃতীয় স্ত্রী জাহানারা বেগম। প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী স্বামীর সাথেই থাকেন। আর ৩য় স্ত্রী পৃথক বাড়ীতে বসবাস করেন।

৩য় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফশীল ঘোষনা হলে ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে মনোনয়ন সংগ্রহ করেন প্রথম স্ত্রী আঙ্গুর বেগম। অন্যদিকে তৃতীয় স্ত্রী জাহানারা বেগমও মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন। স্বামী ফজলু কসাই প্রথম স্ত্রী আঙ্গুর বেগমের পক্ষ নিলেও তৃতীয় স্ত্রী জাহানারা বেগম নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করে সতীনের সাথে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ন হন। একই পরিবারের দুই বধু প্রার্থী হওয়ায় এলাকার ভোটারদের মাঝেও শুরু হয় মুখরোচক আলোচনা।

এ বিষয়ে ফজলু মিয়া জানান, এবারের নির্বাচনে প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনদের সমর্থনে প্রথম স্ত্রী আঙ্গুর বেগম সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে কলম প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। কিন্তু আমার ৩য় স্ত্রী জাহানারা বেগম আমাদের নিষেধ সত্বেও প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রার্থী জাহানারা বেগম জানান, আমি ২০১৭ সালের নির্বাচনে স্বামীর পরামর্শে প্রথমবার প্রার্থী হয়ে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হই। এবারের নির্বাচনে তালগাছ প্রতীকে আমার জয়ী হওয়ার শতভাগ সম্ভবনা রয়েছে। একারনে আমার সতীন আঙ্গুর বেগম ষড়যন্ত্র করে স্বামীকে ফুসলিয়ে প্রার্থী হয়েছে এবং নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে আমাকে চাপ দিচ্ছে। কিন্তু আমি তাতে ভীত নই। জনগণ আমার সাথে আছে, আমি জয়ী হবোই ইনশল্লাহ।

স্থানীয়রা জানান, ৩য় বিয়ের পর থেকে ফজলু কসাইয়ের পরিবারে অশান্তি চলছে। তারপর চলতি নির্বাচনে দুই সতীন পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ঝগড়া-বিবাদ আরও বেড়েছে । অনেক চেষ্টা করেও ৩য় স্ত্রী জাহানারা বেগমের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়নি। এখন দুই সতীন গোটা উপজেলায় আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আগামি ২৮ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেখা যাক কে বিজয়ী হয়।

নওগাঁয় অবৈধ ইট-ভাটায় অবৈধ কারখানায় সিসা তৈরি, হুমকিতে পরিবেশ

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর প্রভাবশালীদের সহযোগীতায় অবৈধ কারখানা দিয়ে ব্যাটারি পুড়িয়ে ক্ষতিকর সিসা তৈরি করা হচ্ছে। সদর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের নওগাঁ-হাঁসাইগাড়ী আঞলিক সড়কের পার্শ্বে অবৈধ পঞ্চ ভাই ইট ভাটার ভিতরে কারখানাটি স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে দিনে নষ্ট ও পুরোনো ব্যাটারির ভেতর থাকা পাত বের করা এবং রাতে ওই পাত আগুনে গলিয়ে সিসা তৈরী করা হয়। ব্যাটারির অ্যাসিডের প্রকট গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারী ও স্থানীয় কৃষক। কারখানা থেকে নির্গত ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অবৈধ কারখানাটি দ্রুত সরানোর দাবী সচেতন কৃষকের।

জানা গেছে, শিকারপুর ইউনিয়নের প্রভাবশালী আবুল কালাম আজাদ তার পঞ্চ ভাই নামের ইট ভাটার ছত্রছায়ার আড়ালে গত পাঁচমাস থেকে কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়। গাইবান্ধা জেলা হেলাল ইসলাম এর সহযোগীতায় গত ১মাস থেকে নষ্ট ও পুরোনো ব্যাটারির ভেতর থাকা পাত গলিয়ে সিসা তৈরী করা হচ্ছে। যেখানে কাজ করছে ওই জেলার ১৬-১৭ জন শ্রমিক। কারখানায় দুই শিফটে শ্রমিকরা কাজ করেন। এক দল দিনে পুরোনো ব্যাটারির ওপরের অংশ খুলে প্লেট (ব্যাটারির ভেতর থাকা পাত) বের করা, ব্যাটারি থেকে অ্যাসিড সংরক্ষণ এবং ব্যাটারি প্লাস্টিক অংশ আলাদা স্থানে রাখা। আরেক দল রাত ১০টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত চলে ব্যাটারির ভেতর থাকা পাত গলিয়ে সিসা তৈরী করা।

কারখানা স্থাপনের শুরুতে স্থানীয়দের বলা হয়েছিল বরফ (আইস) তৈরীর কারখানা করা হবে। স্থানীয় কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে ব্যাটারির কারখানা করা হয়েছে।

আরো জানা গেছে, ব্যাটারি কারখানায় সিসা তৈরি সময় নির্গত ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। এ ধরনের পদার্থ মানুষের শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগসহ ও ক্যান্সারের মতো কঠিন ও জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। মানসিক বিকৃতি, রক্তশূন্যতা ও মস্তিষ্কের ক্ষতিসাধন হতে পারে। কারখানার আশপাশে ঘাস সংগ্রহ করে গবাদিপশুকে খাওয়ানো হলে পশু অসুস্থ কিংবা মারাও যেতে পারে।

শিকারপুর গ্রামের একরামুল ইসলাম বলেন, কারখানাটি স্থাপনের আগে তাদের নিশেধ করেছিলাম। কিন্তু তারপরও কারখানা চালু করে দিনরাত ব্যাটারি থেকে সিসা তৈরী করা হচ্ছে। এই সিসা ফসল, গাছ, লতা পাতা ও প্রাণি সবার জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর। শ্বাস প্রশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়, মাথা ঝিম ঝিম ভাব হয়। এ অনুমোদনহীনভাবে গড়ে উঠা ওই কারখানার কারণে এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া কারখানার আশপাশের ঘাস গরু-ছাগল খেতেও চায় না। পরিবেশের ভারস্যম্য রক্ষায় যুব সমাজের পক্ষ থেকে উকিল নামে এক যুবক কারখানাটি সেখান থেকে দ্রুত সরানোর দাবী জানিয়েছেন।

কারখানার শ্রমিক ইমদাদুল ইসলাম বলেন, চুল্লির মধ্যে কাঠ ও কয়লায় অ্যাসিড মিশ্রিত ব্যাটারির বর্জ্য বা প্লেট সাজানো হয়। এরপর আগুন ধরিয়ে দিলে তা গলতে থাকে। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক পাখা থেকে বাতাস দেওয়া হয়। এভাবে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সিসা তৈরি হয়। গলিত অংশ লোহার কড়াইয়ে সংরক্ষণ করা হয়। আগুনে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া চারদিকে ছড়িয়ে পরে। ক্ষতিকর জেনেও অভাবের তাড়নায় কাজ করছি।

নওগাঁর স্থানীয় বাসিন্দা দাদা নামে সবাই চিনে। তিনি ওই কারখানার ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, এর আগে এই এলাকায় এমন কারখানা ছিল না। তাই এর ক্ষতিকর দিক আমার জানা নেই। এছাড়া কারখানার কাগজপত্র সম্পর্কে কিছুই বলতে পারব না। এসব কিছু মালিকই বলতে পারবেন। গত ১ মাস থেকে কারখানা চালু হয়েছে। সপ্তাহে দুই ট্রাক ব্যাটারি নিয়ে আসা হয়।

কারখানার মালিক গাইবান্ধা জেলার হেলাল ইসলাম বলেন, পরিবেশের কোনো ছাড়পত্র বা কোনও দপ্তর থেকেই অনুমোদন নেওয়া নেই। সারা দেশে এভাবেই এসব কারখানাগুলো চলে। তবে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরাধ করেন তিনি। পঞ্চ ভাই ইট ভাটার মালিক আবুল কালাম আজাদের সাথে মুঠোফোনে গত দুইদিন থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করছেন না। বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার বাড়ি গেলেও পাওয়া যায়নি।

নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মির্জা ইমাম উদ্দীন ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ নাহারুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফুলবাড়ীতে আওয়ামীলীগের তিন বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ ৩য় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নিবার্চনে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে নৌকা মার্কার বিপক্ষে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় তিন বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে উপজেলা আওয়ামীলীগ।

অব্যাহতি প্রাপ্তরা হলেন, কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এবং স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মনিরুজ্জামান মানিক, উপজেলা আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং শিমুলবাড়ী ইউনয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী শরিফুল আলম মিয়া সোহেল ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য এবং বড়ভিটা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী খয়বর আলী মিয়া।

গত সোমবার উপজেলা আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে সভাপতি আতাউর রহমান শেখের সভাপতিত্বে এক জরুরী সভায় এ সিদ্বান্ত নেয়া হয়।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আতাউর রহমান শেখ, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় তিনজনকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ৪ প্রার্থীকে জরিমানা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায় ইউপি পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ৪ প্রার্থীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর)  রাত ৮টার পর নির্বাচন আচরণবিধি তদারকিতে উপজেলার বরমচাল ও ভাটেরা ইউপি’তে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম সজল ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল ইসলাম এই মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় কুলাউড়া থানা পুলিশের একটি দল তাদের সঙ্গে থেকে সহযোগিতা করেন।

নির্বাচনী আচরণবিধি (দেয়ালে পোস্টার ও স্টিকার লাগানোর) লঙ্ঘনের দায়ে বরমচালে ইউপি’র নৌকার প্রার্থী আবুল হোসেন খসরুকে ৩ হাজার টাকা, স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান খোরশেদ আহমদ খাঁন সুইট (চশমা) কে ৩ হাজার টাকা, ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী অজিত মদক (ফুটবল প্রতীক) ২ হাজার টাকা ও ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী আব্দুল কাইয়ুমকে (ফুটবল) ২ হাজার টাকা জরিমানা করা ও তা আদায় করা হয়।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম সজল বলেন, জেলা প্রশাসক স্যার ও ইউএনও স্যারের নির্দেশে নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে প্রথম দিনে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। আজ বুধবার থেকে আরো কঠোরভাবে আচরনবিধি প্রতিপালনে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালিত হবে জানান।

নওগাঁয় এইচ এস সি পরীক্ষার্থীদের করোনা প্রতিষেধক টিকা প্রদান করা হয়েছে

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁয় অনুষ্ঠিতব্য এইচ এস সি পরীক্ষাথীদের করোনা প্রতিষেধক টিকা দেয়া হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টা থেকে নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দিনব্যপী এই কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ রফিকুল ইসলাম।

উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানে টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সময় নওগাঁ সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ নাজমুল হাসান, সিভিলসার্জন ডাঃ এবিএম আবু হানিফ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর্জা ইমাম উদ্দিন, ডেপুটি নসিভিলসার্জন ডাঃ মঞ্জরু এ মোর্শেদ সহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যপী এই কর্মসূচীতে ১ হাজার ৪শ শিক্ষার্থীকে টিকা প্রদান করা হবে। সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্বতঃস্ফুর্ত শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভীড় পরিলক্ষিত হয়েছে।

জেএসসি ও এসএসসির ফলাফলই নির্ধারণ করছে কুবিতে ভর্তি!

মানছুর আলম, কুবি প্রতিনিধিঃ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আগামী ২০ নভেম্বর দুপুর ১২টা থেকে ৩০ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভর্তির ক্ষেত্রে মোট ২০০ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো হবে। যার ১০০ নম্বর গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা থেকে। আর বাকী ১০০ নম্বর বিবেচনা করা হবে এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলের উপর ভিত্তি করে। অর্থাৎ এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলের উপরই শিক্ষার্থীদের মেধা তালিকা নির্ভর করছে।

বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, ‘এ’ ইউনিটের শিক্ষার্থীরা সব ইউনিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আর ‘বি’ ইউনিটের শিক্ষার্থীরা ‘বি’ ও ‘সি’ ইউনিটে এবং ‘সি’ ইউনিটের শিক্ষার্থীরাও ‘বি’ ও ‘সি’ ইউনিটে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০০ টাকা। এর মাধ্যমে সব ইউনিটে আবেদন করা যাবে।

শিক্ষার্থীরা মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ, রকেট) অথবা কার্ডের মাধ্যমে (ভিসা কার্ড, কিউ-ক্যাশ বা ফাস্ট ক্যাশ) অথবা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আবেদন ফি জমা দিতে পারবেন।

বিস্তারিত জানতে www.couadmission.com লিংকে ক্লিক করতে হবে। এছাড়া যেকোনো তথ্যের জন্য ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট হেল্পলাইনে ০১৫৫৭৩৩০৩৮১ ও ০১৫৫৭৩৩০৩৮২ নম্বরে সকাল নয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত যোগাযোগ করতে হবে।

উল্লেখ্য, এবারই দেশে প্রথমবারের মতো করোনা মহামারী বিবেচনায় জেএসসি ও এসএসসি ফলের উপর নির্ভর করে শিক্ষার্থীদের এইচএসসিতে অটোপাশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এইচএসসিতে অটোপাশ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসি জিপিএ এর উপর ১০০ মার্কস নির্ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। যেখানে মূলত জেএসসি ও এসএসসিকে পরোক্ষভাবে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। তাই বলা চলে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলই নির্ধারণ করছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি।

বিমানবন্দর পরিদর্শনে বেবিচক প্রতিনিধি দল

নূর মোহাম্মদ সম্রাট, বগুড়া প্রতিনিধিঃ বাণিজ্যিকভাবে বগুড়া বিমানবন্দর চালুর লক্ষ্যে সোমবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) একটি প্রতিনিধি দল বগুড়া বিমানবন্দরের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেছেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দল বগুড়া বিমানবন্দরের জমি, রানওয়ে, বিদ্যুৎ সরবরাহ, অফিস ও আবাসিক ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত অব্স্থা অবগত হন।

বাণিজ্যিকভাবে বিমানবন্দর চালু করতে জমি ও কিছু অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন প্রতিনিধিরা।

বেবিচক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন উপসচিব ইশরাত জাহান পান্না। এছাড়া সদস্য হিসেবে ছিলেন উপ-পরিচালক (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) মো: মাসুদ রনা, নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) মো: আমিনুল হাসিব, সহকারী পরিচালক (সিএনএস) প্রশান্ত কুমার সাহা, সিনিয়র ড্রাফটম্যান কবির হোসেন।

বগুড়া জেলা প্রশাসক মো: জিয়াউল হক জানান, বগুড়া বিমানবন্দর বাণিজ্যিকভাবে চালু করার বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সোমবার বগুড়া বিমানবন্দরের প্রাথমিক বিষয়গুলো পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে তারা ঢাকায় ফিরে গেছেন।

প্রতিনিধি দলের প্রধান উপসচিব ইশরাত জাহান পান্না বলেন, প্রাথমিক পরিদর্শন করা হয়েছে। বগুড়ার বিমানবন্দরে কী কী আছে সেটা নোট করা হয়েছে। বিমানবন্দরের জন্য আরো জমি প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।

বগুড়া-৭ আসনের (স্বতন্ত্র) সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু জানান, পরিদর্শনকালে তিনি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ছিলেন। পরিদর্শক দল ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। বগুড়া বিমানবন্দরটি যেন বাণিজ্যিকভাবে চালু করা হয় সে বিষয়ে তিনি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করছেন।

তিনি আরো জানান, বগুড়া বিমানবন্দর চালু করতে কয়েকবার তিনি সংসদে কথা বলেছেন। পরে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে বিমানবন্দর চালু করার বিষয়ে তিনি দেখা করে এর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন।

তিনি বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কাছে বগুড়া বিমানবন্দর বাণিজ্যিকভাবে চালু করতে একটি লিখিত প্রস্তাবনা পাঠান। তারই প্রেক্ষিতে প্রতিনিধি দল পরিদর্শন করেন।

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার লালপাড়া-পৈঁসাওতা খাল পূনঃখনন করায় কৃষকের মূখে সোনালী হাঁসি

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁর আত্রাইয়ে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী (এলজিইডির) টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পাদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় লালপাড়া-পৈঁসাওতা (এসপি-২৫৩২৭) উপ প্রকল্পের খাল পূনঃখনন করা হয়েছে। এই খাল পূনঃ খনন হওয়ায় উপ প্রকল্প এলাকার কৃষক-সমিতির সদস্য উপকৃত হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষ ও সমিতির সদস্যর উপকৃত হয়েছে। খালটির দৈর্ঘ চার কিঃ মিঃ।

জানা গেছে আত্রাইয়ে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সার্বিক তত্বাবধানে,টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খাল পূনঃখনন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে লালপাড়া-পৈঁসাওতা(এসপিনং ২৫৩২৭) পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিঃ। খাল খনন শুরু হয় চলতি বছরের মার্চ মাসে আর শেষ হয় ৩১ শে এপ্রিলের মধ্যে। খালটি উপজেলার মনিয়ারী ইউনিয়নের লালপাড়া স্লুইজগেট থেকে শুরু হয়ে পৈঁসাওতা ব্রীজের পূর্ব প্রান্তে গিয়ে শেষ হয়েছে।খালটি পূনঃখনন হওযায় পৈঁসাওতা, বাহাদুরপুর, দমদত্ত বাড়িয়া, হিঙ্গলকান্দি, উলুবাড়িয়া, লালপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় আট হাজার মানুষ বিভিন্ন উপায়ে সুবিধা ভোগ করছেন।

খালটি পূনঃ খনন করায় বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে শুস্ক মওসুমে খাল তীরবর্তী আট শত হেক্টর জমিতে সেচ কাজ সহজসাধ্য হয়েছে। সুবিধাভোগী হিঙ্গলকান্দি গ্রামের কৃষক বাবলু বলেন,লালপাড়া-পৈঁসাওতা উপ-প্রকল্প খালটি পূনঃ খনন করায় এলাকার কৃষকরা নতুন করে সোনালী স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।আগে বন্যার পানি উপচে ফসল ডুবে যেত খাল পূনঃখনন করায় এখন আর এ সমস্যা নেই। খালের পানি ব্যবহার করে আমরা বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষবাদ শুরু করেছি।

খালের তীরবর্তী দমদত্তবাড়িয়া গ্রামের কৃষাণী জাহানার বলেন,শুস্ক মওসুমে খালের পানি সংরক্ষন করায় এ পানিতে আমিসহ অনেকে হাঁস পালন করে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন এবং অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

লালপাড়া-পৈঁসাওতা(এসপিনং ২৫৩২৭) পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিঃ সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ বলেন, খালের পানি ব্যবহার করে ইরি-বোরো ধানের চারা রোপন এবং বীজতলা বপন সহজ হবে। তাছাড়া এ পানি ব্যবহার করে রবি মওসুমে গম, সরিষা, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি উৎপাদন হবে। যার ফল একদিক যেমন কৃষকেরা লাভবান হবে পাশাপাশি বেকারত্ব দূর হবে। বর্ষা মওসুমে পানি নিস্কাশন সহজ হওয়ায় এ পানিতে জেলেরা মাছ আহরণে প্রচুর আর্থিক সচ্ছলতা ফিরে পাচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ পাভেজ নেওয়াজ খাঁন বলেন, আমি আমার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আলতাব হোসেন এর মাধ্যমে উক্ত কাজটি ডিজাইন অনুযায়ী বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা তদারকি করেছি।আমি উক্ত খাল পূনঃ খনন কাজ সরেজমিনে তদন্ত করে সন্তুষ্ট। খালের মাটি খাল সংলগ্ন রাস্তায় ব্যবহার করে রাস্তা প্রায় ৪.৫ ফিট উচুঁ করা হয়েছে এবং প্রায় ১১০০মিঃ রাস্তার শোল্ডার তৈরি করা হয়েছে। আমি মনে করি খালটি পূনঃখননে ফলে সকল শ্রেনী পেশার মানুষ উপকৃত হয়েছে। আত্রই-

রাণীনগরের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন হেলাল বলেন,লালপাড়া-পৈঁসাওতা খাল পূনঃ খননের উদ্বোধন সময় আমি প্রধান অতিখি ছিলাম এবং খালটির পূনঃখননের উদ্বোধন করি। বর্ষাকালে অতিবৃষ্টর ফলে রাণীনগর ও রক্তদহ বিলে যে রুপ বন্যা সৃষ্টি হয় তা নিস্কাশনের একমাত্র পথএই খালটি পূনঃ খননের মাধ্যমে বন্যার পানি নিস্কাষন সহজ হবে। আমি মনে করি এ গুরুত্বপূর্ণ খালটি পূনঃখননের ফলে বিভিন্ন মৌসুমে কৃষকসহ সকল শ্রেনী পেশার মানুষ সুবিধা ভোগ করবে। এ কালটি খনন করায় সমিতির প্রায় দুই শতাধিক সদস্যরা প্রত্যক্ষ্ ও পরোক্ষ ভাবে উপকৃত হচ্ছেন। এ খালকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের কৃষকরা সংগঠিত হয়েছে। তারা এখন সমবায় ভিত্তিক উন্নয়ন মূলক অনেক কাজ করছে।

এ ব্যপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তোফায়েল আহম্মেদ জানান, সমিতির সদস্যরা খাল খননের জন্য একটি রেজুলেশন তৈরি করে উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে আমার দপ্তরে জমা দেন। তারই প্রেক্ষিতেই খালটি পূনঃ খনন করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সমিতির সদস্যদের নিয়ে গঠিত এগারোটি এলসিএস গ্রুপের মাধ্যমে কাজ সম্পাদন করা হয়।খাল খননের ফলে ওই এলাকার কৃষির প্রসার ঘটনো ইরি-বোরো ধানের চারা রোপন সহজ হবে। তাছাড়া মৎস্য চাষ ও হাঁস পালন সহ অন্যান্য সুবিধা পাবে। এত করে সমিতির সদস্যের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে অপর দিকে খালের উভয় পাড়কে সুরক্ষিত এবং মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করার একটি রাস্তা হয়েছে।এ ছাড়া খালের সৌন্দয্য বেড়েছে। খালের পানিতে মিলছে নানা প্রজাতির মাছ আর জলজ-উদ্ভিদ। বারো মাসে সেচ সুবিধা পাওয়ায় খালের তীরবর্তী কৃষি জমি গুলো চাষাবাদের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে।