চলন্ত বাসে যৌনহয়রানি, অভিযুক্ত যুবক জেলে

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম থেকে সিলেট উদ্দেশ্য আসা সৌদিয়া পরিবহনের একটি বাস। মৌলভীবাজেরর শেরপুরে আসার পরই হঠাৎ হৈ-হুল্লোড় শুরু হয় বাসের ভেতর। হল্লা শুনে বাসের ভেতরে প্রবেশ করে পাশেই থাকা হাইওয়ে পুলিশ।

পুলিশ গিয়ে দেখতে পায়, বাসের ভেতরে এক তরুণী ও এক যুবক উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করছেন। তাদের বাদানুবাদে যুক্ত হয়েছেন আরও কয়েকজন যাত্রী এবং বাসের চালক-সুপারভাইজারও।

ওই মেয়েটির অভিযোগ, পর্ণো ভিডিও দেখিয়ে তাকে যৌন হয়রানি করেছেন সামনের সিটে বসা পুরুষ যাত্রীটি।

পুলিশের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে যান মৌলভীবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি দুই পক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য শুনে এবং ছেলেটির মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে মেয়েটির অভিযোগের সত্যতা পান।

পরে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ওই যুবককে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থ দণ্ড প্রদান করেন। টাকা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম  কারাদণ্ড প্রদান করে আদালত।

সাজাপ্রাপ্ত মো. মাহবুবুর রহমান সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা। আর হয়রানির শিকার তরুণী সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার সকালে শেরপুরের মুক্তিযুদ্ধা চত্ত্বর এলাকায় এই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে সিলেট হাইওয়ে পুলিশ শেরপুরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নবীর হোসেন বলেন, সামনের সিটে বসে নিজের মোবাইল ফোনে পর্ণ ভিডিও দেখিয়ে পেছনের সিটে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে উত্যক্ত করছিলেন মাহবুব। তিনি যখন শেরপুরে নেমে যেতে উদ্যোত হন তখন মেয়েটি আপত্তি জানায়। তিনি চালক ও সুপারভাইজারকে ডেকে ওই যুবককে সিলেট পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। এ নিয়েই বাদানুবাদ শুরু হয়।

ওসি বলেন, গাড়ির ভেতর থেকে চিৎকার শুনে পুলিশ সেখানে গিয়ে বিস্তারিত জানতে পারে। পরে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ওই যুবককে আইন অনুযায়ী দণ্ড প্রদান করা হয়।

কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক না ফেরার দেশে

সিএনবিডি ডেস্কঃ বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক চলে গেছেন না ফেরার দেশে। গতকাল সোমবার (১৫ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। প্রায় দুই মাস ধরে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই কথাসাহিত্যিক। তার চিকিৎসা চলছিল বাসাতেই। তাছাড়া বার্ধক্যজনিত সমস্যার পাশাপাশি তার হার্টে সমস্যা ও ডায়াবেটিস ছিল।

কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের জন্ম ১৯৩৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে। জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি রাজশাহীতে কাটিয়েছেন। ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে দর্শনে সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬০ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। কর্মজীবনে হাসান আজিজুল হক ১৯৬০ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত রাজশাহী সিটি কলেজ, সিরাজগঞ্জ কলেজ, খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ এবং সরকারি ব্রজলাল কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। ১৯৭৩ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। একনাগাড়ে ৩১ বছর অধ্যাপনা শেষে ২০০৪ সালে অবসরে যান। এরপর থেকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে চৌদ্দপা আবাসিক এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন।

ষাটের দশকে আবির্ভূত এই কথাসাহিত্যিক তার সুঠাম গদ্য ও মর্মস্পর্শী বর্ণনাভঙ্গির জন্য প্রসিদ্ধ। জীবনসংগ্রামে লিপ্ত মানুষের কথকতা তার গল্প-উপন্যাসের প্রধানতম অনুষঙ্গ। গল্প, উপন্যাস ছাড়াও প্রবন্ধ, নাটক, শিশুসাহিত্য, স্মৃতিকথা, আত্মজীবনী রচনায়ও তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন। তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য (১৯৬৪), আত্মজা ও একটি করবী গাছ (১৯৬৭), জীবন ঘষে আগুন (১৯৭৩), নামহীন গোত্রহীন (১৯৭৫), পাতালে হাসপাতালে (১৯৮১), নির্বাচিত গল্প (১৯৮৭), আমরা অপেক্ষা করছি (১৯৮৮), রাঢ়বঙ্গের গল্প (১৯৯১), রোদে যাবো (১৯৯৫), হাসান আজিজুল হকের শ্রেষ্ঠগল্প (১৯৯৫), মা মেয়ের সংসার (১৯৯৭), বিধবাদের কথা ও অন্যান্য গল্প (২০০৭) তার উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ। এছাড়া- আগুনপাখি (২০০৬), সাবিত্রী উপাখ্যান (২০১৩), শামুক (২০১৫) এবং বৃত্তায়ন (১৯৯১) তার আলোচিত উপন্যাস।

বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য হাসান আজিজুল হক ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদক এবং ২০১৯ সালে তাকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়।

ডাকাতির প্রস্তুতির সময় দেশিও অস্ত্র সহ ৬ জন গ্রেফতার

নূর মোহাম্মদ সম্রাট, বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ায় ডাকাতির প্রস্তুতির সময় দেশিও অস্ত্র সহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

জেলার সদর থানার ষ্টেশন রোডের জান-ই সাবা হাউজিং কমপ্লেক্স এলাকায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ডাকাতির পরিকল্পনাকালে গত ১৪ নভেম্বর রাত্রী আনুমানিক ৮ ঘটিকার সময় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

ঐ এলাকার সানমুন নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এর রাস্তার পাশে অভিযান পরিচালনা করে (১) মোঃ সাদ্দাম (২৪), পিতা- মোঃ রাজ্জাক,(২) মোঃ আজিদ (২০), পিতা- মোঃ রাখাল, (৩) মোঃ তছলিম (৪০),পিতা- মোঃ ছলিম উদ্দীন, (৪) মোঃ বিল্পব (২০) পিতা- মোঃ মনজু মন্ডল (৫) মোঃ বিজয় (২২),পিতা- মনজু মন্ডল , (৬) মোছাঃ নুরি (২০) পিতা- মোঃ নুর ইসলাম,

সর্বসাং-উত্তর চেলোপাড়া , থানা ও জেলা-বগুড়াদের‘কে ০১ টি চাপাতি, ০২ টি চাকু এবং ০১ টি রশিসহ গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত ডাকাতির প্রস্তুতিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বগুড়া জেলার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল আদালতে তাদের প্রেরণ করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার সদর ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রত্যাশী ৪৬ জন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার সদর ইউপি পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী দলীয়ভাবে ৪৬ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রের কাছে মনোনয়নপত্র প্রত্যাসী সবার নামই পাঠানো হয়েছে।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালিক তরফদার সুয়েব বলেন, সদর ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে ৪৬ জনের জীবন বৃত্তান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ৪৬ জনের নামই জেলা থেকে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে যোগ্য ভেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে মনে করবেন, তাকেই মনোনয়ন দেবেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার সদর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেতে সদর উপজেলার ১২টি ইউপি খলিলপুর, মনুমুখ, কামালপুর, আপারকাগাবলা, আখাইলকুড়া, চাঁদনীঘাট, একাটুনা, আমতৈল, কনকপুর, নাজিরাবাদ, গিয়াসনগর, মোস্তফাপুর ইউপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে জীবন বৃত্তান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলা নির্বাচন সূত্রে জানা যায়, মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে আগামী ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২৯ নভেম্বর এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় ৬ ডিসেম্বর।

আগামী ২৩ ডিসেম্বর তৃতীয় ধাপে মৌলভীবাজার সদর ইউপি পরিষদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এখানে ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৬১ হাজার ১১৫ জন।

নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন

অলিউর রহমান মেরাজ, দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার  (১৫ নভেম্বর) দুপুর ১২ টায়  নবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবে  এক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ শেষে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলিমুল আল রাজী । নির্বাচনে মোঃ হাসিম উদ্দিনকে সভাপতি  ও আতিকুল ইসলাম কে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

এ ছাড়াও যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোঃ আজিনুর রহমান রাজু ও সাংগঠনিক সম্পাদক দীপক কুমার মহন্ত কে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করা হয়।

এসময় নির্বাচন কমিশন প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন বিপ্লব কুমার সাহা, সুলতান মাহমুদ ও মোঃ রেজাউল করিম স্বাধীন প্রমুখ।

আলেশা মার্টের উধাও হবার খবর বিভ্রান্তিমুলক

সিএনবিডি ডেস্কঃ আলেশা মার্টের উধাও হবার খবর বিভ্রান্তিমুলক বলে দুঃখ প্রকাশ করেছে ই-কমার্স প্লাটফর্ম আলেশা মার্ট ডটকম। গ্রাহকদের জন্য তারা সোমবার (১৫ নভেম্বর) রাত ১২টার পর প্রতিষ্ঠানটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘বিশেষ ঘোষণা’ দিয়ে পোস্ট করেছে। এছাড়া আজ সকালেও আরেকটি পোস্ট করা হয়।

ওই পোস্টে তারা বলেন, সম্প্রতি টিভি ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত সংবাদটি ভুল। আলেশা মার্টের সকল অফিস খোলা আছে এবং সকল কার্যক্রম অফিস চলাকালীন সময়ে পরিচালিত হচ্ছে। এরকম বিভ্রান্তিকর সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সকল গ্রাহকদের অনুরোধ করা হচ্ছে।

আলেশা মার্ট ইতোমধ্যে অত্যন্ত সফলভাবে বাইক ডেলিভারি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। কিন্তু রিফান্ড প্রক্রিয়া পরিচালনা করার সময় বিগত এক সপ্তাহ ধরে আলেশা মার্ট-এর বনানীস্থ কার্যালয়ে বিভিন্ন গোষ্ঠীর দ্বারা অফিস স্টাফদের ওপরে অতর্কিতে হামলা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার কারণে অফিস কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল।

পোস্টে আরো বলা হয়, এছাড়া হামলাকারীরা কেউই আলেশা মার্ট-এর গ্রাহক নয়। তাই আমাদের সব সম্মানিত গ্রাহককে সুন্দরভাবে সেবা প্রদান ও আলেশা মার্ট-এর অফিস কার্যক্রম পুনরায় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কাস্টমারদেরকে কোনো প্রকার রেফারেন্স ব্যবহার না করার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। আমাদের কাছে সব কাস্টমার সমান।

আলেশা মার্ট গেল কয়েক দিনের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে গ্রাহকদের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ জানিয়ে বলে, আপনাদের অর্ডার এবং রিফান্ডজনিত বিষয় নিয়ে যেকোনো তথ্য জানার জন্য শুধু আপনারা (গ্রাহক নিজে) সশরীরে আমাদের অফিসে উপস্থিত থাকবেন। গ্রাহক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি কোনোভাবেই অফিসে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং গ্রাহকদের যেকোনো সেবা প্রাপ্তির জন্য অবশ্যই নিজ নিজ জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে আসার অনুরোধ করছি। সময় ও সহযোগিতা পেলে আলেশা মার্ট সফলভাবে রিফান্ড প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করবে- এই প্রতিশ্রুতিতে বদ্ধ পরিকর।

এই ক্রান্তিকালে সবাই মিলে একত্রিত হয়ে আলেশা মার্টকে দেশের বৃহত্তম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে পারব বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন। <<<লিংক>>>

বায়ু দূষণে প্রতিবছর ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে মারা যায় তিন লাখ মানুষ : রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আজ (সোমবার) ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবেশ বিষয়ক তথ্য প্রদানকারী স্বাধীন সংস্থা ইউরোপীয় এনভায়রনমেন্ট এজেন্সির নতুন এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, বায়ু দূষণে প্রতিবছর ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে তিন লাখ মানুষ মারা যায়। ২০১৯ সালে বায়ু দূষণের কারণে তিন লাখের বেশি মানুষ মারা গেছে। বায়ুর সাথে নানা ধরনের অতিক্ষুদ্র কণা মেশার কারণে ইউরোপের বায়ু সেখানকার মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে।

ইউরোপীয় এনভায়রনমেন্ট এজেন্সির রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বায়ুদূষণের গ্রহণযোগ্যমাত্রা সম্পর্কিত যে দিকনির্দেশনা দিয়েছিল তা মেনে চলার ব্যাপারে যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো সবাই এক মত হতো তাহলে এই মৃত্যুর শতকরা ৫৮ ভাগ এড়ানো যেত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দিক নির্দেশনা অনুযায়ী- প্রতি ঘনমিটার বায়ুতে সর্বোচ্চ ৫ মাইক্রোগ্রাম দূষণ থাকতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জার্মানিতে বায়ু দূষণে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। এক বছরের সেখানে বায়ু দূষণের ফলে অকালে মৃত্যুবরণ করেছে ৫৩ হাজার ৮০০ মানুষ।

এর পরেই রয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে বায়ু দূষণের ফলে অকালে ৪৯ হাজার ৯০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

বায়ু দূষণে মৃত্যু হারের দিক দিয়ে ইতালি তৃতীয় এবং স্পেন চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। ইতালিতে এক বছরে মারা গেছে ২৯ হাজার ৮০০ এবং স্পেনে মারা গেছে ৩০ হাজার ৩০০ মানুষ।

তবে জনসংখ্যার মাথাপিছু হারে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে পোল্যান্ডে। সেখানে বায়ুদূষণে এক বছরে মারা গেছে ৩৯ হাজার ৩০০।

উল্লেখ্য, গত ২০১৮ সালে বায়ু দূষণের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নে মারা গেছে তিন লাখ ৪৬ হাজার মানুষ।

রাণীশংকৈলে ইউপি নির্বাচনের ভোট কেন্দ্রে সহিংসতা মামলায় গ্রেফতার-৪

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় গত ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ভোট কেন্দ্রে সহিংসতার  মামলায় ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার ১৪ নভেম্বর গভীর রাতে এসআই বদিউজ্জামানসহ সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান চালিয়ে আবুল হোসেন (৪০), শাহ আলম (৬০), আব্দুল হালিম (৩৩) ও মো. হানিফ (৫০) কে তাদের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

আসামী আবুল হোসেন ও শাহ আলম মৃত সবদর আলীর ছেলে এবং আব্দুল হালিম মো. হানিফ ও রবিউল্লাহ’র ছেলে। তাদের সকলের বাড়ি নেকমরদ ঘনশ্যাম পুর গ্রামে।

থানা সুত্রে জানা গেছে, ইউপি ভোটের দিন নেকমরদ ইউনিয়নের জি কোকিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে ভোট চলাকালে এবং গননার সময় ওই ৪ জন আসামিসহ আরো অনেকে রাতে  ভোট কেন্দ্র চত্বরে আগুন জালিয়ে ও রাস্তা কেটে সহিংসতা সৃষ্টি করে। এতে প্রিজাইডিং অফিসারসহ সংশ্লিষট সকলেই চরম বিপদের সম্মুখীন হন। পরে আইন শৃংখলা বাহিনীর সহায়তায় তারা ভোট কেন্দ্র থেকে আসতে সক্ষম হন।

এ ঘটনায় ওই ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার হেলালউদ্দিন ১৪ জনকে এজাহারভুক্ত আসামী  করে রাণীশংকৈল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আরো অজ্ঞাত ৩৫০ জনকে আসামি করা হয়। মামলা নং ৬।

রাণীশংকৈল থানা ওসি এস এম জাহিদ ইকবাল বলেন, নির্বাচনে সহিংসতার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রেক্ষিতে  গতকাল রাতে ওই ৪ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ (সোমবার ১৫ নভেম্বর) তাদের জেলা জেলা হাজতে পাঠানো হয়েছে।

নওগাঁয় ভুল চিকিৎসার কারনে সাংবাদিকের স্ত্রী’র মৃত্যু, তদন্ত কমিটির মনগড়া রিপোর্ট

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁয় প্রবীন সাংবাদিক প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক করতোয়া পত্রিকার স্থানীয় সাংবাদিক মোঃ নবির উদ্দিনের স্ত্রী নিলুফা বেগম (৬০) এর মৃত্যু হয়েছে বলে পারিবারিকভাবে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ব্যপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গঠিত মনগড়া তদন্ত কমিটি কর্তৃক অসত্য বাখ্যা বিশ্লেষন সম্বলিত একটি রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে যা মৃতের পক্ষ থেকে পারিবাকিভাবে প্রত্যাখান করা হয়েছে। সেই সাথে একটি নিরপেক্ষ কমিটির দ্বারা বিষয়টি নিষ্পত্তি করার দাবী জানানো হয়েছে।

পারিবরিক ভাবে এবং হাসপাতালের বিভিন্ন দলিলপত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকাল অনুমান আড়াইটার দিকে প্রবীন সাংবাদিক মোঃ নবির উদ্দিনের স্ত্রী নিলুফা বেগমের সামান্য শ্বাসকষ্ট অনুভুত হয়। শ্বাসকষ্ট যাতে আর বেশী না হয় তার সতর্কতার কারনে সাথে সাথে হাসপাতালে অক্সিজেন দেয়ার জন্য নেয়া হয়। অত্যন্ত স্বাভাবিক অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়। ভর্তির পর রোগি নিজেই একা বাথরুম পর্যন্ত যান। সেখান থেকে ফিরে এসে তাকে অক্সিজেন দেয়া হয়। তখনও তার অবস্থা স্বাভাবিক ছিল। মোঃ নবির উদ্দিন এবং তাঁর একমাত্র জামাই কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক
মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন অক্সিজেন দেয়ার পর সিনিয়র ষ্টাফ নার্স জবা রানী বাড়ৈ পরবর্তীতে সার্জেল এবং ল্যাসিক্স নামের দু’টি ইনজেকশন একসাথে করে সরাসরি ভ্যানে পুশ করেন। ইনজেকশন পুশ করার সাথে সাথেই রোগির অবস্থা সংকটাপন্ন হয় এবং মাত্র ২/৩ মিনিটের মধ্যে রোগির মৃত্যু ঘটে।

চিকিৎসক এবং নার্সরা তরিঘড়ি করে মৃত্যু সনদপত্র দিয়ে মৃতদেহ হাসপাতাল তেকে সরিয়ে নেয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে। মৃতদেহ সৎকার করার কাজে ব্যস্ত থাকার কারনে সে সময় বিষয়টি নিয়ে পরিবারের লোকজনের ভাবনার অবকাশ না থাকলেও পরবর্তীতে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।

পরবর্তীতে এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করলে চিকিৎসক ও নার্সদের অসংলগ্ন কথাবার্তা নানা সন্দেহের অবকাশ সৃষ্টি করে। নার্সদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সার্জেল এবং ল্যাসিক্স দু’টি ইনজেকশন পৃথক পৃথক ভাবে ক্যানোলার মাধ্যমে পুশ করা হয়েছে। আবার কোন নার্স বলেছেন একটি মাত্র ইনজেকশন করা হয়েছে। চিকিৎসক এবং সেবিকাদের বিভিন্ন অসংলগ্ন কথাবার্তা এবং রোগির আপনজন ও পাশ্ববর্তী রোগীদের পর্যবেক্ষন পর্যালোচনা করে রোগির পারিবারিকভাবে নিশ্চিত দাবী করেছেন যে অপ-চিকিৎসা বা ভুল চিকিৎসার কারনেই মৃত্যুর এই ঘটনা ঘটেছে।

সাইবার হামলার শিকার হলো এফবিআইয়ের ই-মেইল সার্ভার

সিএনবিডি ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইর ইমেইল সার্ভার সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। শনিবার, সংস্থাটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয় এ তথ্য। একটি হ্যাকার চক্র গত শুক্রবার রাতে এফবিআই ইমেইল সার্ভার থেকে কমপক্ষে এক লাখ ব্যক্তিকে স্প্যাম ইমেইল পাঠিয়েছে। একটি ইমেইল স্প্যাম ওয়াচডগ গ্রুপ ব্যাপারটি জানতে পারে। এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ।

এফবিআই এর বরাতে এনবিসিএন নিউজ জানায়, শুক্রবার রাতে হ্যাকিংয়ের শিকার হয় ইমেইল সিস্টেমটি। সার্ভার থেকে অন্তত এক লাখ স্প্যাম মেইল পাঠায় হ্যাকার গ্রুপটি। পরে বিষয়টি একটি ইমেইল স্প্যাম ওয়াচডগের নজরে এলে এফবিআইকে সতর্কবার্তা পাঠায় তারা। হ্যাকারদের উদ্দেশ্য কি তা জানা যায়নি। হ্যাকার কতক্ষণ এফবিআইয়ের ইমেইল সিস্টেমে অবস্থান করেছিল তাও তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি। ইমেইল বার্তাটি ছিল একটি উদ্ভট ও প্রযুক্তিগতভাবে একটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ সতর্কতা। যাতে সাইবারসিকিউরিটি লেখক ভিনি ট্রোয়া এবং সেইসাথে দ্য ডার্ক ওভারলর্ড নামে একটি সাইবার অপরাধী গ্রুপের তথ্য উল্লেখ ছিল। ট্রোয়ার কোম্পানি নাইট লায়ন সিকিউরিটি জানুয়ারিতে দ্য ডার্ক ওভারলর্ডের ওপর গবেষণা প্রকাশ করে।

শনিবার এক বিবৃতিতে এফবিআই বলেছে, তারা সকালের ভুয়া ইমেইল সম্পর্কে অবগত আছে যেটা @ic.fbi.gov অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো হয়েছে।

সংস্থাটির দাবি, সমস্যাটা ধরতে পারার সঙ্গে সঙ্গে যে হার্ডওয়্যারটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেটি অফলাইন করা হয়েছে এবং জনগণকে বলা হয়েছে তারা যেন অজানা কোনো সেন্ডারের কাছ থেকে ইমেল পেলে সতর্ক থাকে।

রবিবার এক বিবৃতিতে এফবিআই এর একজন মুখপাত্র বলেছেন, হ্যাকার একটি এজেন্সি মেসেজিং সিস্টেম কীভাবে কনফিগার করা হয় তাতে একটি ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে এবং এরই মাধ্যমে সার্ভারে প্রবেশ করেছে এবং তবে তারা এফবিআই এর ফাইলগুলি অ্যাক্সেস করতে সক্ষম হয়নি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি নোবেলিয়াম নামে রাশিয়ার একটি হ্যাকার দলের বিরুদ্ধে সাইবার হামলার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল এফবিআইকে।

সুত্রঃ এনবিসি নিউজ।