নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের ৭৩তম জন্মদিন আজ

সিএনবিডি ডেস্কঃ আজ ১৩ নভেম্বর নন্দিত কথাসাহিত্যিক হ‌ুমায়ূন আহমেদের ৭৩তম জন্মদিন।  ১৯৪৮ সালের আজকের এই দিনে তিনি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের দৌলতপুর গ্রামের নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। কথার জাদুকর হ‌ুমায়ূন আহমেদ একাধারে ছিলেন নাট্যকার, চলচ্চিত্র পরিচালক, কবি ও গীতিকার।

বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজ। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা, আর মা গৃহিণী। তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। হ‌ুমায়ূন আহমেদের ডাকনাম কাজল। তার অন্য দুই ভাইও বরেণ্য ও প্রতিভাবান। কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল তার ছোট ভাই। সবার ছোট ভাই আহসান হাবীব নামকরা কার্টুনিস্ট ও রম্যলেখক।

নেত্রকোনার এই সন্তানটি লেখার জাদুতে যেমন আলোড়ন তুলেছেন, তেমনি সৃজনশীলতার সব শাখাতেই পাঠক ও দর্শকদের নিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগের এই অধ্যাপক ‘নন্দিত নরকে’ এবং ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘বাদশা নামদার’সহ দুই শতাধিক উপন্যাস লিখেছেন। তার বইয়ের সংখ্যা তিনশ’রও বেশি। তার রচিত ‘হিমু’, ‘শুভ্র’, ‘মিসির আলি’র মতো অনবদ্য চরিত্র। আশির দশক থেকে শুরু করে তার নির্মিত ‘বহুব্রীহি’, ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘কোথাও কেউ নেই’-এর মতো নাটকগুলো বর্তমান প্রজন্মের কাছেও এখনো একইভাবে জনপ্রিয়।

‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শ্যামল ছায়া’, সর্বশেষ ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক `একুশে পদক` লাভ করেন। এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কার (১৯৮৮) লাভ করেন।

তিনি আমাদের ছেড়ে যান ২০১২ সালের ১৯ জুলাই। মরণব্যাধি ক্যানসারের চিকিৎসায় যুক্তরাষ্ট্রে যাবার পর সেখানেই তিনি মারা যান। মাত্র ৬৪ বছর বয়সেই তিনি চলে যান না ফেরার দেশে। সেখান থেকে মরদেহ ঢাকায় আনার পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে লাখো মানুষের অশ্রু পুষ্পতে সিক্ত হন তিনি। ২৪ জুলাই নুহাশপল্লীর লিচুতলায় চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। সেদিন গভীর শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল তার লাখো ভক্ত অনুরাগী।  হ‌ুমায়ূন আজো বেঁচে আছেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে হৃদয়ে।

হ‌ুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে হিমু পরিবহনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। শনিবার বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির শহীদ মুনীর চৌধুরী অডিটোরিয়ামে হ‌ুমায়ূন আহমেদ নির্মিত চলচিত্র ‘৯ নম্বর বিপদ সংকেত’ এর প্রদর্শন। এরপর সন্ধ্যা ৬টায় হ‌ুমায়ূন আহমেদ নিয়ে আড্ডা ও আড্ডা শেষে হ‌ুমায়ূন আহমেদের গান।

এদিকে হুমায়ূন আহমেদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নুহাশপল্লীতে প্রতিবারের মতোই আয়োজন রয়েছে। রাতে মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়েছে। এছাড়া দিবসটি পালনের লক্ষে কেককাটা, শিল্পকর্ম প্রদর্শন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ দিনব্যাপী নানা আয়োজন রয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় রায়পু‌রের দুই বোন নিহত, প‌রিবা‌রে শো‌কের মাতম

‌মোঃ জ‌হির হো‌সেন, লক্ষ্মীপুরঃ লক্ষ্মীপুর জেলার পা‌লেরহাট বাজার সড়‌কে ট্রা‌কচাপায় দুই বোন নিহত হে‌য়ে‌ছে। নিহ‌তের প‌রিবা‌রে চল‌ছে শো‌কের মাতম। নিহত দুইজন স্কুল ছাত্রী ব‌লে জানান প‌রিবা‌রের লোকজন।

ঘটানা‌টি ঘ‌টে শ‌নিবার (১৩ ন‌ভেম্বর) আনুমা‌নিক  সকাল ১০ টায়। নিহত‌দের একজনের নাম সান‌জিদা আক্তার এবং আ‌রেকজ‌নের নাম ফাহ‌মিদা আক্তার। সান‌জিদা মধ্য কে‌রোয়া গ্রা‌মের আ‌রিফুর রহমা‌নের মে‌য়ে এবং ফাহ‌মিদা আলম‌গীর হো‌সে‌নের মে‌য়ে।

সান‌জিদা লক্ষ্মীপুর বা‌লিকা উচ্চ‌বিদ্যাল‌য়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী এবং ফাহ‌মিদা ঢাকার সেগুনবা‌গিচা গার্লস হাইস্কু‌লের  এসএস‌চি পরীক্ষার্থী। নিহত দুইজন মামা‌তো-ফুফা‌তো বোন ব‌লে জানা যায়।

আ‌রিফুর রহমান লক্ষ্মীপুর থে‌কে মোটরসাই‌কে‌লে সান‌জিদা এবং ফাহ‌মিদা‌কে নি‌য়ে কে‌রোয়া নিজ বা‌ড়ি আসার প‌থে পা‌লেরহাট বাজার নামক স্থা‌নে আস‌লে মোটরসাই‌কে‌লের পেছন থে‌কে দুইজন প‌ড়ে যায়, রামগঞ্জ থে‌কে আগত দ্রুতগামী ট্রাক দুজন‌কে চাপা দি‌য়ে পা‌লি‌য়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা ঘাতক ট্রাক এবং চালক‌কে আটক ক‌রে পু‌‌লি‌শের হা‌তে তু‌লে দেয়।

ঠাকুরগাঁওয়ে ট্রাক্টর চালাতে গিয়ে কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় গত শুক্রবার ১২ নভেম্বর মেরামত শেষে ট্রাইল দেয়ার জন্য ট্রাকটর চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে উলতে পড়ে দুলাল চন্দ্র সিংহ (১৭) নামে এক কিশোরের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদিন সকালে উপজেলার বালিয়াডাঙ্গী-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের দুওসুও ফিলিং স্টেশন  সংলগ্ন রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।

দুলাল উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের জাউনিয়া মালিপাড়া গ্রামের হরজীবন সিংহের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বালিয়াঙ্গী থানা পুলিশ জানায়, সকালে ট্রাক্টর মেরামত শেষে সেটি চালিয়ে দেখার জন্য বালিয়াডাঙ্গী-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের দুওসুও পেট্রলপাম্প এলাকায় যায় দুলাল। গাড়ি ঘুরিয়ে গ্যারেজে ফেরার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে পানিতে ডুবে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুলালের মরদেহ উদ্ধার করে।

বালিয়াডাঙ্গী থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক আব্দুস সোবহান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘কিশোর দুলাল স্থানীয় একটি গ্যারেজে গাড়ি মেরামত কাজ শিখছিল। কারও কোনো অভিযোগ না থাকায় নিহতের মরদেহ সৎকারের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হাসপাতালে রোগী দেখে ফেরার পথে নৈশকোচ চাপায় ৪ জন নিহত

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ নাগেশ্বরী উপজেলায় ঢাকা অভিমুখী নৈশ কোচের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক ও একই পরিবারের কন্যা শিশুসহ মোট ৪ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ৩ যাত্রী। নাগেশ্বরী-সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কের আলেপের তেপতি এলাকায় গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ ইমন মিয়া ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ভূরুঙ্গামারী থেকে ঢাকা অভিমুখী রিজভী পরিবহনের নৈশকোচটি বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দিলে চালক আব্দুল জলিল (৫৫) ও যাত্রী সুমাইয়া (৪) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন নিহত সুমাইয়ার বাবা শহিদুল ইসলাম (২৬), মা শাহনাজ বেগম (২২) ও দাদী সুফিয়া বেগম (৭০)। তাদের প্রথমে নাগেশ্বরী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরে, অবস্থার অবনতি হলে নিহত সুমাইযার পিতা শহিদুল ইসলাম এবং দাদী সুফিযা বেগমকে গুরুতর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে দুজনই মারা যান। একই পরিবারের ওই ৪ জন নাগেশ্বরীতে রোগী দেখে অটোরিকশায় চড়ে রায়গঞ্জ ইউনিয়নের বড়বাড়ী গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন।

নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নবীউল ইসলাম জানান, নৈশকোচের চাপায় অটোরিকশার চালক ও এক শিশুসহ মোট ৪ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও ৩ যাত্রী আহত হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ঘাতক নৈশকোচ এবং চালককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

নবাবগঞ্জে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রান গেল বাবা-ছেলের

অলিউর রহমান মেরাজ, দিনাজপুর প্রতিনিধি :  দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বালুবাহী ট্রাক্টর ও ব্যাটারী চালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে কাওসার আহমেদ (১১) নামে এক শিশু ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছে তাঁর বাবা কবিরুল ইসলাম। নিহতেরা উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের বল্লবপুর (জামবাড়ি) গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় অটোচালক মেহেরুল ইসলাম কে মুমুর্ষ অবস্থায় দিনাজপুর এম আ. রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার গাজীপুর সড়কে উপজেলা সদর হতে বালুবাহী ট্রাক্টর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাঠানগঞ্জ বাজার হতে আগত ব্যাটারী চালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

কবিরুল ইসলামের আরো দুই সন্তান ও স্ত্রী শাহানাজ পারভিনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মোছা. মাসুমা খাতুন জানান, আশংকাজনক অবস্থায় দুইজনকে দিনাজপুর আ. রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, ঘটনাস্থল থেকে ট্রাক্টর ও অটোরিকশা উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

রায়পুরে আওয়ামীলীগের ৩ চেয়ারম্যানসহ ১৪ মেম্বার নির্বাচিত

মোঃ জ‌হির হো‌সেন, লক্ষ্মীপুরঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগেই আওয়ামী লীগের মনোনীত ৩ চেয়ারম্যান ও ১১ ইউপি সদস্য প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে-৭টি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী সহ জাপা-বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন অংশগ্রহন করবেন বলে জানান রির্টানিং কর্মকর্তা। গতকাল শুক্রবার (১২ নভেম্বর) সকল প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্ধ দেয়া হয় বলে জানান নির্বাচন কর্মকর্তা।

গত ১১ নভেম্বর বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৫১ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন বিনা ভোটে চেয়ারম্যান হয় ও ১৯ জন প্রত্যাহার করেন। সংরক্ষিত আসনে ১০০ জনের মধ্যে ১০ জন প্রত্যাহার ও ৪ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত। সাধারন সদস্য ৪৬০ জনের মধ্যে ৬৮ জন প্রত্যাহার ও ৭ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত।

রায়পুরের নির্বাচন কর্মকর্তা হারুন মোল্লাসহ চার রির্টানিং কর্মকর্তা জানান- উত্তর চরআবাবিল, সোনাপুর, চরপাতা, কেরোয়া, বামনী, দক্ষিন চরবংশি, দক্ষিন চরআবাবিল ইউনিয়ন। উত্তর চরবংশি আবুল হোসেন, রায়পুর ইউনিয়নে সফিউল আযম চৌধুরী সুমন ও চরমোহনা ইউনিয়নে সফিকুর রহমান পাঠান আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত ৪ ও সাধারন ইউপি সদস্য ৭ জন-বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে।

উল্লেখ্য-ইউপি নির্বাচনে ২০১৬ সাল থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে ভোট হচ্ছে। বিএনপি ও জামায়াত কয়েকটিতে অংশ নিয়েছে। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দলেরই বিদ্রোহী প্রার্থীরা। এতে সংঘাত ও প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হবে। এ জন্য নির্বাচনে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে ভবিষ্যতে আর নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হতে পারবেন না-দলের কেন্দ্র থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। তারপরও ১০টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নেতারা বিদ্রোহী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন এবং বহিষ্কৃত হয়েছেন।

বগুড়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন যারা

নূর মোহাম্মদ সম্রাট, বগুড়া প্রতিনিধিঃ  বগুড়ার শেরপুরে ১১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন-

১ নং কুসুম্বী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম পান্না (মোটর সাইকেল),

৩ নং খামারকান্দি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মোমিন মহসিন (নৌকা),

৪ নং খানপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. পিয়ার হোসেন (ঘোড়া),

৫ নং মির্জাপুর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম (আনারস),

৬ নং বিশালপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জাকির হোসেন খান (ঘোড়া),

৭ নং ভবানীপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ (নৌকা),

৮ নং সুঘাট ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মনিরুজ্জামান জিন্নাহ (নৌকা),

৯ নং সিমাবাড়ী ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী গৌরদাস রায় চৌধুরী (নৌকা)

ও ১০ নং শাহবন্দেগী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মাও. আবুল কালাম আজাদ (আনারস)।

বগুড়া শেরপুরে ইউপি নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

আঠারো কোটি জনগণের ভোগান্তি নিরসনে শেখ হাসিনাই শেষ ভরসা

সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ভাড়া বাড়ানোর দাবীতে বাস-ট্রাক-লঞ্চ মালিক সমিতির ডাকা ধর্মঘটের রেশ না কাটতেই, সম্প্রতি দেশের বেসরকারি টেলিভিশন ওনার্স এসোসিয়েশন (অ্যাটাকো) বিদ্যমান বিজ্ঞাপনের মূল্য ৩০ ভাগ দর বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বাস-ট্রাক-লঞ্চ মালিক সমিতি লঞ্চ ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়ে ধর্মঘট ডেকেছিল। কিন্তু অ্যাটকো কোন্ কারনে কি যুক্তিতে বিজ্ঞাপনের ৩০ ভাগ দর বাড়ালো? পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে তেমন কোন কারন দেখানো হয়নি। বাস-ট্রাক-লঞ্চ মালিক সমিতি, অ্যাটকো সকলেই একই পর্যায়ের। ওনাদের কারও কোন দায়বদ্ধতা আছে বলে মনে হয় না। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে যে সকল পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, ঐ সকল পণ্য প্রস্তুতকারক বা বিপননকারী প্রতিষ্ঠান এই ৩০ ভাগ বর্ধিত দরের পুরো খরচটা পণ্যের উপর ধার্য্য করবে। এই বর্ধিত খরচটা সাধারণ মানুষের পকেট থেকেই যাবে। শেষ ভোগান্তি হবে জনগণের।

একটি স্থানীয় জনভোগান্তির বিবরণ দেই। একই সমস্যায় দেশের অন্যান্য স্থানের জনগণেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কিনা জানিনা। ঢাকার পোস্তগোলা এলাকায় (ঢাকার শ্যামপুর-কদমতলী) বুড়ীগঙ্গা নদীর উপরে চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু-১ অবস্থিত। ইদানিং এই সেতু পারাপারে টোল দ্বিগুণ করা হয়েছে। যদিও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়কে (ঢাকা-মাওয়া সড়ক) ধলেশ্বরী নদীর উপরে অবস্থিত জোড়া সেতু পারাপারে টোল পূর্বের অবস্থায়ই রয়েছে।

এছাড়া বাবুবাজার এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর উপরে অবস্থিত চীন-বাংলাদশ সেতু-২ পারাপারে কোন টোল আদায় করা হয় না। ইতিমধ্যে চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু-১ এ টোল আদায় করা নিয়ে সৃষ্ট মারামারিতে মানুষ খুন হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এক সময় এর টোল আদায় অল্প কয়েক দিন বন্ধ করা হয়ে ছিল। অযৌক্তিক টোল আদায়ের ফলে পোস্তগোলা থেকে মাওয়াগামী যাতায়াতকারী সিএনজি চালিত অটোরিকশা বা ছোট ছোট পরিবহনের শ্রমিকরা নিজেদের ইচ্ছামত বর্ধিত ভাড়া আদায় করে। ভোগান্তির শিকার হয় জনগণ।

শুনেছি ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য মহোদয় এব্যাপারে অনেক চেষ্টা করেও টোল আদায় বন্ধ করতে পারেন নাই। টোল আদায়কারী অত্যন্ত প্রভাবশালী (!), এ ছাড়া অন্য ব্যাপারও আছে।

সরকারের জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিঃ, LPG, SAOCL, ECBL সহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করে। তথ্যমতে বিপিসি গত সাত বছরে ৪৩, ১৩৭ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি হলেও বাংলাদেশে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি না করে বিপিসির অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের লাভ-লোকসান ব্যালেন্স করে আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন ছিল। সরকার তো ব্যবসায়ী না, সেবক।

প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতাদের মুখে শুনেছি, ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম সাহেব একদা বঙ্গবন্ধুর কাছে জাতীয় সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। প্রত্যুত্তরে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আপনি ব্যবসায়ী। আপনি মুনাফা করবেন। ক্ষমতা পাইলে ১০ টাকা মূল্যের পণ্য বেশি মুনাফায় ১৫ টাকা বিক্রয় করবেন। আমার জনগণের কষ্ট হবে। আমি চাই ব্যবসায়ীরা সহনীয় মুনাফায় পণ্য বিক্রয় করবেন। জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করা যাবে না। সুতরাং নির্বাচন করার প্রয়োজন নেই। ব্যবসা করুন’।

ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ডিজেল চালিত বাস-ট্রাক-লঞ্চ মালিক সমিতি ভাড়া বাড়ানোর দাবী জানিয়ে ধর্মঘট ডেকেছিল। ওনারা কিন্তু ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি না করার দাবি জানান নাই। জনগণের ভোগান্তি বিবেচনায় সরকার দ্রুত সময়ে দাবী মেনে নিল। যদিও ডিজেলের ২৩% মূল্যবৃদ্ধিতে বাস ও লঞ্চ ভাড়া বৃদ্ধি করলেন যথাক্রমে ২৭% ও ৩৫%। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সকল ধরনের পরিবহন মালিকরা আরও বেশি লাভবান হলো। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বেশীরভাগ বাস CNG  চালিত। ডিজেল চালিত যানবাহনের পাশাপাশি CNG চালিত বাসগুলোতেও বর্ধিতহারে ভাড়া দিতে হবে। জনগণেরই ভোগান্তি বাড়লো। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে আপাতদৃষ্টিতে সরকারের যে পরিমাণ লোকসান হতো, তারচেয়ে বেশি পরিমাণ টাকা যাবে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে। সড়ক ও সেতুমন্ত্রী মহোদয় CNG চালিত বাসে বর্ধিত হারে ভাড়া আদায়ে শাস্তি দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কিন্তু মন্ত্রী মহোদয়ের হুঁশিয়ারি বাস্তবায়নে বাসের ভিতরতো পুলিশ বসানো সম্ভব নয়। কে শোনে কার কথা।

কৃষি মন্ত্রনালয়ের সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে কৃষিসেচ কাজে ১৩ লক্ষ ৭২ হাজার ডিজেল চালিত পাম্প ব্যবহার করা হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভাষ্যমতে সেচ কাজ ছাড়াও চাষাবাদের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে ডিজেলের ব্যবহার রয়েছে, কৃষিপণ্য পরিবহনেও ডিজেল চালিত যানবাহন ব্যবহার করা হয় বিধায় কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরনে মূল্যবৃদ্ধি হবে। ফলে বাজারে শাক-সবজি, মাছ-মাংসের মূল্য বৃদ্ধি পাবে, জনগণের ভোগান্তি আরো বাড়বে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে বাংলাদেশে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে কিছু লোকের লাভ হলেও এতে জনগণের ক্ষতি হলো, আর পরোক্ষভাবে সরকারেরই বড় ক্ষতি হলো। এর খেসারত দিতে হবে সরকরীদলকে।

বিভিন্ন সময় নানা গোষ্ঠী ধর্মঘট করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে সরকারকে চাপে ফেলে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে, দাবী আদায় করছে। সরকার দাবী না মানলে ভোগান্তি হয়  জনগণের। দাবী মানলেও ভোগান্তি জনগণের। জনগণ বলির পাঁঠা। এ যেন তামাশা। কথা নেই, বার্তা নেই। সরকারের সঙ্গে আলোচনা নেই, যুক্তিতর্ক নেই। হঠাৎ করে ‘ধর্মঘট’ ঘোষণা করে দেয়। সরকারও বেকায়দায় পরে দাবী মানতে বাধ্য হয়। কিন্তু একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল দ্বারা পরিচালিত বর্তমান সরকার। সারাদেশে ওয়ার্ড-ইউনিয়ন পর্যায়ে রাজনৈতিক দলটির কমিটি রয়েছে, নেতাকর্মী রয়েছে। প্রশাসন থেকে শুরু করে পেশাজীবী, শ্রমজীবী সকল ক্ষেত্রেই এই দলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। দলের উপরের পর্যায়ের নেতাদের বিষয়ে জানিনা, তবে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাদের জনগণের মুখোমুখি হতে হয়, জবাবদিহি করতে হয়।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত সরকারের কাছে চাওয়ার আগে পাওয়া যায়। অথচ সেই সরকারের কাছে দাবি আদায়ের নামে ধর্মঘট ডেকে মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টির পিছনে উদ্দেশ্য কি? ডিজেল চালিত বাস-ট্রাক-লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর দাবী জানিয়েছেন। কিন্তু ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে জনগণের ভোগান্তি হবে, এই যুক্তি দিয়ে ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি না করার জন্য সরকারকে কেউ পরামর্শ দেন নাই। দাবী আদায়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ আপনারা কারা? আপনারা সকলেই জনগণের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতা। আপনারা আওয়ামীলীগের পদবীধারী নেতারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, একইসাথে আওয়ামী লীগের হয়ে বিভিন্ন গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সুতরাং উভয় গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা আপনাদের দায়িত্ব। আপনাদের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর কোন সমস্যা থাকলে বিভিন্ন দাবি আদায়ে সাংগঠনিকভাবে নিজদলের পরিচালিত সরকারের সাথে দাবী-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করা যেত।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে আসার পর আলোচনা করতে পারতেন। ধর্মঘট ডেকে জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলে গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় আপনারা কার ক্ষতি করছেন, তা কী ভেবেছেন? ভোগান্তির সৃষ্টি করে জনগণকে ক্ষেপিয়ে তুলছেন, কার স্বার্থে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারছেন? জনগণই মূল শক্তি। জনগণের ভোগান্তি নিরসনে কথা বলবে কে? ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি করার পূর্বে জনগণের ভোগান্তি বিবেচনায় রেখে জনগণের নেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন ছিল। গোষ্ঠীর স্বার্থ আদায়ের জন্য ধর্মঘট ডেকে জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলে দাবী মানতে বাধ্যকারী গোষ্ঠী বিশেষের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার আগে জনগণের একমাত্র আশ্রয়স্থল শেখ হাসিনার সাথে পরামর্শ করা জরুরি ছিল। কারণ তিনিই জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কথা বলবেন। তিনিই ১৮ কোটি মানুষের একমাত্র জনদরদী নেতা।

ড. মোঃ আওলাদ হোসেন, ভেটেরিনারীয়ান, পরিবেশবিজ্ঞানী, রাজনৈতিক কর্মী ও কলামিস্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ। 

রাণীশংকৈলে ৫ ইউপি নির্বাচনে ৪ টিতে নৌকা ১ টিতে স্বতন্ত্র নির্বাচিত

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ৮ ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৫ টিতে বৃহস্পতিবার গত  ১১ নভেম্বর সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা হলেন- ধর্মগড় ইউপিতে আবুল কাসেম (আ’লীগ, প্রতিক নৌকা) পেয়েছেন ৭৪৫৬ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দী লোকমান আলী (স্বতন্ত্র, প্রতিক ঘোড়া) পেয়েছেন ৩১০১ ভোট।

নেকমরদ ইউপিতে আলহাজ্ব আবুল হোসেন (স্বতন্ত্র,মোটরসাইকেল)  পেয়েছেন ৮৪১৮ ভোট। নিকতম প্রতিদ্বন্দী এনামুল হক (স্বতন্ত্র, আনারস) পেয়েছেন ৪৮২৫ ভোট।

লেহেম্বা ইউপিতে আবুল কালাম ( আ’লীগ, নৌকা, পূননির্বাচিত) পেয়েছেন ৬৩০০ ভোট। নিকতম প্রতিদ্বন্দী রওশন আলী (স্বতন্ত্র, ঘোড়া) পেয়েছেন ৫২১৮ ভোট।

কাশিপুর ইউপিতে আতিকুর রহমান বকুল (আ’লীগ, নৌকা) পেয়েছেন ৮৯৫৭ ভোট। নিকতম প্রতিদ্বন্দী হামিদুর রহমান (স্বতন্ত্র, মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ৫৭৪৯ ভোট।

রাতোর ইউপিতে শরৎচন্দ্র রায় (আ’লীগ, নৌকা, পূননির্বাচিত) পেয়েছেন ৭৪২৩ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দী আখতার হোসেন (স্বতন্ত্র, আনারস) পেয়েছেন ৫১৭৯ ভোট।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ইয়াবা সেবনে মগ্ন বিএমডিএ পত্নীতলা জোনের সরকারী কোষাধ্যক্ষ

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) পত্নীতলা জোনের সরকারী কোষাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম (৪১) এর বিরুদ্ধে ইয়াবা সেবনের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি একজন কর্মচারী হয়ে প্রকাশে মাদক সেবন করায় উপজেলা জুড়ে গুঞ্জন চলছে।

রফিকুল ইসলামের বাড়ি রাজশাহী জেলার বোয়ালিয়া থানার শালবাগান এলাকায়। ছবিতে দেখা যায়, মুখে ইয়াবা সেবনের জন্য সিগারেট আকৃতির নল। আর নিচ থেকে একজন ইয়াবা সেবনের র‌্যাং ধরে আছেন। যেখানে লাইটার দিয়ে আগুন দেয়া হচ্ছে। রফিকুল ইসলাম রাতের বেলা একটি বন্ধর ঘরে ইয়াবা সেবন করছেন।

জানা যায়, রফিকুল ইসলাম কৃষি মন্ত্রনালয়ের অধিনস্থ বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পত্নীতলা জোনের সরকারী কোষাধ্যক্ষ হিসেবে প্রায় নয় বছর যাবৎ কর্মরত আছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দপ্তরের কর্মচারীরা বলেন, রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক গ্রহণের সাথে যুক্ত। তাকে দেখলেই বোঝা যায় তিনি একজন নিয়মিত মাদকসেবী। তবে কেন যে তার বিরুদ্ধে দাপ্তরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি সেটা উর্দ্ধতন কর্মকর্তারাই ভালো বলতে পারবেন। অফিসের অনেকেই জানে তিনি মাদক গ্রহণ করে থাকেন। তার চলাফেরাও খুব বেশি স্বাভাবিক নয়।

এ ব্যাপারে সরকারী কোষাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি একসময় মাদক বা ইয়াবা সেবন করতাম। তবে মাদকাসক্ত না। আর এখন ইয়াবা সেবন করি না। আমার মনে হয় আপনার কাছে যে ছবি আছে সেটা কিছুদিন আগের। পরিচিত কয়েকজন এর পাল্লায় পড়েছিলাম। তারা আমাকে এক প্রকার জোর করেই ইয়াবা সেবন করাইছে। গত কুরবানি ঈদে জামিল ও মহসিন সহ কয়েক ব্যক্তি আমাকে জোর করে ইয়াবা সেবন করিয়েছে। তারা জোরাজুরি করায় ২-১টা টান দিয়েছি। ঘটনাস্থানটি উপজেলার নজিপুরের কাশিপুর এলাকার বিলাশ ফকিরের বাড়িতে। বিষয়টি স্যার জানার পর তিনি আমাকে সবসময় গাইডে রাখেন।

তিনি বলেন, পত্নীতলায় দীর্ঘদিন থেকে চাকরি করছি। এখান থেকে বদলি হয়ে রাজশাহীতে যাওয়ার জন্য কয়েকবার চেষ্টা করেছি। আমি চাচ্ছিলাম বদলি হয়ে রাজশাহীতে থাকার জন্য। এ নিয়ে পরিবারের সাথে কয়েকবার দ্বন্দ্বও হয়েছে। এর
আগে দিনাজপুর জেলায় ছিলাম। মানষিক অশান্তিতে থাকায় মাদক সেবন করেছি। তবে এখন মাদক সেবন করিনা।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পত্নীতলা জোনের সহকারী প্রকৌশলী মো. ইন্তেখাফ আলম বলেন, গত চার বছর হলো এই অফিসে যোগদান করেছি। যতদূর জানি রফিকুল ইসলাম এক সময় মাদক গ্রহণ করতো। আমার জানা মতে এখন আর মাদক সেবন করে না। তারমধ্যে সবসময় স্বাভাবিক আচরণ ছিল। এখন পর্যন্ত অফিসে কোন ধরনের সমস্যা হয়নি।

গত কুরবানি ঈদে মাদক সেবন করেছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়টি তো জানা নেই। ভিতরে ভিতরে মাদক সেবন করলে তো আমি বলতো পারবো না। যদি সে মাদক সেবনের সাথে জড়িত থাকে তাহলে উপযুক্ত প্রমাণ পেলে দাপ্তরিক নিয়ম অনুযায়ী
তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নওগাঁ মাদক বিরোধী সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি মাষ্টার হাফিজুর রহমান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে যখন সরকারি, বেসরকারি সংগঠনসহ সমাজের সচেতন মহল এক সাথে কাজ করে যাচ্ছে। তখন সরকারি দপ্তরের কেউ যদি মাদক গ্রহণের সাথে জড়িত হলে সত্যিই চরমভাবে ব্যথিত করে। একজন মাদকসেবী কিভাবে এমন পোষ্টে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে। মাদক গ্রহণ করলে তো তার কাজ-কর্ম বা আচরণ স্বাভাবিক থাকেনা। সেই দপ্তরের যারা প্রধান তারা কি করে বুঝলাম না। এমন মাদকসেবী কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।