নাইজারে খড়ের ক্লাসরুমে আগুনে পুড়ে নিহত ২৬ শিশু

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আফ্রিকার নাইজারে খড় ও কাঠ দিয়ে তৈরি একটি স্কুলে অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ২৬ শিশু নিহত হয়েছে। তাদের সবার বয়স পাঁচ থেকে ছয় বছরের মধ্যে। এতে আহত ১৩ জনের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা বেশ গুরুতর।

স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোমবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় মারাদি শহরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্কুলের শ্রেণিকক্ষগুলো খড়ের তৈরি ছিল বলে আগুন দ্রুত ছড়িয়েছে। পুড়ে ছাই হয়েছে তিনটি শ্রেণিকক্ষ। সে সময় পুরোদমে ক্লাস চলছিল। সে সময় পুরোদমে ক্লাস চলছিল।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) থেকে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছেন মারাদি শহরের মেয়র চাইবো আবু বকর।

এদিকে এক বিবৃতিতে নাইজার সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই দুঃখজনক ঘটনা নাইজারের মানুষকে আবারও শোকের মধ্যে ফেলেছে। খড় এবং কাঠের তৈরি ক্লাসরুম দেশে নিষিদ্ধ করা হবে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ নাইজার। নানান প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশটি খড় ও কাঠের শেড নির্মাণ করে স্কুলভবনের ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। অনেকসময় শিশুদের মাটিতে বসেই পড়ালেখা করতে দেখা যায়।

এর আগে চলতি বছরের শুরুতে দেশটির রাজধানী নিয়ামের একটি স্কুলে আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় ২০ শিশুর। সবাই নার্সারির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুলের বহির্গমন পথ বন্ধ থাকায় অগ্নিকাণ্ডের সময় স্কুল থেকে বের হতে পারেনি তারা। ওই ঘটনায় খড়ের ২৮টি শ্রেণিকক্ষ পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল।

সূত্র: বিবিসি। 

৩৭ লাখ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হলো একটি কাঁকড়া

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ জাপানে এবার বিশাল আকারের একটি পুরুষ তুষার কাঁকড়া বিক্রি হয়েছে পঞ্চাশ লাখ ইয়েনে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৩৭ লাখ ৮১ হাজার ৩৮৫ টাকার মতো। এই মৌসুমে জাপানে প্রথম নিলামে রেকর্ড পরিমাণ দামে বিক্রি হলো কাঁকড়াটি।

গত শনিবার সন্ধ্যায় জাপান সাগরের উপকূলে কানাযাওয়া বন্দরের একটি বাজারে শীতকালীন সুস্বাদু খাবারের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই এই দাম ওঠে তুষার কাঁকড়ার।

ইশিকাওয়ার মৎস্যজীবী সমিতি বিশাল আকৃতির পুরুষ তুষার কাঁকড়া বাছাই করে আকার ও ধরন বিবেচনায়। এরপর নতুন ব্র্যান্ডের নাম দিয়ে বিক্রি করে সেগুলো।

খবরঃ এনএইচকে। 

দেশের বাজারে এসেছে করোনার মুখে খাওয়ার ওষুধ

সিএনবিডি ডেস্কঃ আজ সকালে দেশে করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় মুখে খাওয়ার নতুন ওষুধ ‘মলনুপিরাভির’অ্যান্টিভাইরাল ট্যাবলেট জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। যার প্রেক্ষিতে মহামারি প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে অ্যান্টিভাইরাল ওরাল পিল বা মুখে খাওয়ার ওষুধ ‘মলনুপিরাভির’ দেশের বাজারে এনেছে শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মা। যার জেনেরিক সংস্করণের নাম হবে ‘ইমোরিভির’। আগামী সপ্তাহ থেকে বেক্সিমকোর তৈরি ক্যাপসুল ‘ইমোরিভির’ বাজারের সর্বত্র পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

আজ মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেক্সিমকো ফার্মার চিফ অপারেটিং অফিসার রাব্বুর রেজা।

তিনি বলেন, দেশের ফার্মেসিগুলোতে আজ থেকে দেশে করোনার মুখে খাওয়ার ওষুধ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ১৮ বছরের বেশি বয়সী করোনায় আক্রান্ত রোগীকে ৪০ ডোজ খেতে হবে। প্রতিটি ৭০ টাকা করে ধরলে দাম পড়বে ২ হাজার ৮০০ টাকা। চিকিৎসকের পরামর্শে ১৮ বছরের বেশি বয়সী করোনা আক্রান্ত রোগীকে সংক্রমণ প্রতিরোধে ৪০টি পিল খেতে হবে।

চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথকেয়ার রেগুলেটরি এজেন্সির (এমএইচআরএ) এই ওষুধটি দেয়। সর্দি-জ্বরের চিকিৎসার জন্য তৈরি করা ‘মলনুপিরাভির’বড়ি করোনা আক্রান্ত রোগীর সেবায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করে আশানুরূপ ফল পাওয়া গেছে। এই ঔষধ সেবনে হাসপাতালে ভর্তি বা মৃত্যুর ঝুঁকি ৫০-৬০ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন আজ মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধী খাওয়ার ওষুধ মলনুপিরাভির দেশে উৎপাদন ও ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্কয়ার, বেক্সিমকো, রেনেটা, ইনসেপ্টা, এসকেএফ, জেনারেল, বিকনসহ ৮ থেকে ১০টি ওষুধ প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছে। তবে শুধু বেক্সিমকোকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যদিও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় আরও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এটি দেশেই উৎপাদন করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে এটি এখন দেশে জরুরি ব্যবহার করা যাবে।

উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুই কোম্পানি মার্ক শার্প অ্যান্ড ডোম (এমএসডি) ও রিজেবাক বায়োথেরাপিউটিক যৌথভাবে তৈরি করেছে লাগেভ্রিও (মলনুপিরাভির) নামে মুখে খাওয়ার এই ওষুধ। ওষুধটি সেবন করলে করোনায় আক্রান্তদের মৃত্যু কমবে। ওষুধটি পাঁচদিন আগে যুক্তরাজ্য সরকার অনুমোদন দিয়েছে।

সরকারী প্রজ্ঞাপনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যাত্রীদের থেকে আদায় ৫০ শতাংশ ভাড়া

সিএনবিডি ডেস্কঃ ডিজেলের দাম বাড়ায় ডিজেল চালিত বাস মালিকদের কথা ভেবে সরকার নির্দিষ্ট পরিমাণ বাস ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে। কিন্তু সরকারী প্রজ্ঞাপনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যাত্রীদের থেকে ৫০ শতাংশ ভাড়া বা তার চেয়ে বেশী ভাড়া আদায় করছে বিভিন্ন গণপরিবহণ। সিএনজিচালিত বাসের ভাড়া না বাড়লেও অনেক সিএনজিচালিত পরিবহন নতুন বর্ধিত ভাড়া আদায় করছে। এ নিয়ে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এখন থেকে দূরপাল্লার বাসে এক টাকা ৪২ পয়সার পরিবর্তে প্রতি কিলোমিটারে এক টাকা ৮০ পয়সা ভাড়া নেওয়া হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে এক টাকা ৭০ পয়সার বদলে ভাড়া নেওয়া হবে দুই টাকা ১৫ পয়সা। মহানগরে চলা মিনিবাসের ভাড়া এক টাকা ৬০ পয়সার জায়গায় দুই টাকা পাঁচ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই হিসাবে দূরপাল্লার ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে বাসের ভাড়া বাড়ল ২৭ শতাংশ আর মহানগরে ২৬.৫ শতাংশ।

আগে বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ছিল ৭ টাকা। যা এখন করা হয়েছে ১০ টাকা। মানে বাসে উঠলেই ১০ টাকা ভাড়া দিতে হবে। আর মিনিবাসের এই ভাড়া ৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা করা হয়েছে।

বিআরটিএ’র এক কর্মকর্তা জানান, রাজধানীতে ৫ হাজার বাসের মধ্যে মাত্র ২০০টি বাস সিএনজিতে চলছে এবং সমিতির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সেসব গাড়িচালকদের বর্ধিত ভাড়া আদায় না করতে বলা হয়েছে। আজ আমরা সব সদস্যদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার জন্য কঠোর ভাষায় একটি চিঠি দিয়েছি।

তিনি আরো জানান, গতকাল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের ভ্রাম্যমাণ আদালত ঢাকা ও চট্টগ্রামে মোট ২২০টি বাসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে অন্তত ৬৭টি বাস আটক করে। ২২০টি বাসের মধ্যে ২৯টি সিএনজিচালিত বাস এবং ৩৮টি ডিজেলচালিত বাস যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছিল। যাদের জরিমানার আওতায় আনা হয়।

এদিকে ডিএমপি ও সিএমপি পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, পরিবহন ভাড়া নিয়ে অনিয়ম খতিয়ে দেখতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ জানান, ২০১৩ সালের পর আর বাসের ভাড়া বাড়েনি। অথচ এর মধ্যে সব জিনিসের দাম বেড়েছে। এখন আবার জ্বালানি তেলের দামও বাড়ল। ডিজেলের বর্ধিত মূল্য বিবেচনা করলে ভাড়া খুব বেশি বাড়ানো হয়নি। তবে বেশী ভাড়া আদায়ের ব্যাপারটা খতিতে দেখা হবে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সরকার গণশুনানি ছাড়া অবৈধভাবে একলাফে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়িয়েছে। এই অজুহাতে পরিবহন ধর্মঘটের নামে জনগণকে জিম্মি করেন বাসের মালিকরা। যখন গ্যাসের দাম বাড়ে, তখন বাস মালিকরা বলেন, সব বাস গ্যাসে চলে। আর এখন ডিজেলের দাম বাড়ায় বাস মালিকরা বলছেন, সব বাস ডিজেলে চলে। কোনোভাবেই ১৫ শতাংশের বেশি ভাড়া বাড়ানোর কথা না। যখন ডিজেলের দাম লিটারে ৩ টাকা কমানো হয়েছিল, তখন ভাড়াও প্রতি কিলোমিটারে ৩ পয়সা কমানো হয়। এখন তাহলে কেন এত ভাড়া বাড়বে।

অপরদিকে, লঞ্চেরও সর্বনিম্ন ভাড়া ৩৫% বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে ৬০ পয়সা। বর্তমান ভাড়া এক টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে দুই টাকা ৩০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটা ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রযোজ্য হবে। ১০০ কিলোমিটারের পর প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া হবে দুই টাকা। সর্বনিম্ন যাত্রীপ্রতি ভাড়া ছিল ১৮ টাকা। সেটি বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়েছে। কিন্তু এখানেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন অনেক যাত্রী।

ডিজিটাল বাংলা নিউজ/ ডিআর /এমআরবি

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার ১১ বছরের কারাদণ্ড

সিএনবিডি ডেস্কঃ ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের দায়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহাকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে মানি লন্ডারিংয়ে ৭ আর অর্থ আত্মসাতের মামলায় ৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৪৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) এই ঋণ আত্মসাতের মামলার ১১ আসামির মধ্যে আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত, খালাস পেয়েছেন দুজন। সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে ১১ বছরের এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ৪ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য ব্যাংকারদের মধ্যে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা অনুযায়ী ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমান পদ্মা ব্যাংক) সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান, একই এলাকার বাসিন্দা নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়।

এর আগে দুই দফা রায় ঘোষণার দিন পরিবর্তন হয়। প্রথম দফায় গত ৫ অক্টোবর বিচারক অসুস্থ থাকায় এবং দ্বিতীয় দফায় গত ২১ অক্টোবর রায় প্রস্তুত না হওয়ায় রায় ঘোষণা হয়নি। গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ (দুদক) ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য প্রথম দফায় ৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়।

গেল ২৯ আগস্ট আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে সাত আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে। সাত আসামি হলেন- ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী), ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান ও একই এলাকার বাসিন্দা নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা। এরপর তারা লিখিত বক্তব্য দেবেন বলে আদালতকে জানান।

এ মামলার পলাতক আসামিরা হলেন- এস কে সিনহা, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী। এ ছাড়া আসামি মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ মারা যাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ফারমার্স ব্যাংক থেকে ঋণের নামে ৪ কোটি টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে এস কে সিনহার ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তরের অভিযোগে গত বছরের ১০ জুলাই মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

চট্টগ্রামে ৩৯১ পিস চোরাই মোবাইলসহ সংঘবদ্ধ চক্রের ৬ সদস্য আটক

মোঃ মিনহাজ উদ্দীন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের ফ্রিপোর্ট এলাকা থেকে র‌্যাব-৭ এর এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ চোরাইকৃত মোবাইলসহ সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের ৬ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন- মোঃ গাউস মিয়া (৩২) পিতা- মোঃ শাহ জাহান মিয়া, মোঃ সোহেল (৩৬) পিতা- রহমত আলী, মোঃ তানভির (২৩), পিতা-মোঃ নোয়াব আলী, মোঃ সাইফুল মিয়া (২৫), পিতা- মোঃ মুছন মিয়া এদের সবাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাছিরনগর থানার ফান্দাউক এলাকার। মোঃ সুমন শাহ (২৪), পিতা- মোঃ রইছ শাহ, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া নাছিরনগর থানার বুড়িশ্বরা এলাকার এবং মোঃ ইমন (২০), পিতা নাছির উদ্দিন, তিনি নোয়াখালী জেলার সেনবাগ থানার উত্তর মহম্মদপুর এলাকার। তবে বর্তমানে সবাই ইপিজেড থানার- ব্যারিস্টার কলেজ রোড, মারোয়া ম্যানশন এর বাসিন্দা।

এদিকে গতকাল র‌্যাব জানিয়েছে, চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানাধীন ফ্রি পোর্ট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি চোরাই ও ছিনতাই করা মোবাইল, মোবাইলের ব্যাটারিসহ অন্যান্য চোরাই সামগ্রী বিক্রয় করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাতে অভিযান চালায় র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম। এসময় ৬ জনকে আটক করা হয়। তাদের তল্লাশি করে ৩৯১ পিস চোরাই ও ছিনতাই করা মোবাইল জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ চট্টগ্রাম জেলার ইপিজেডসহ বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই ও চুরি করা মোবাইল কম মূল্যে বিভিন্ন গলির ভিতরে ভাসমান দোকানে পাইকারী ও খুচরা বিক্রয় করে আসছে।

আটককৃতদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান র‌্যাব-৭।

খুলনার পাইকগাছায় কলেজ ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যার পর মুক্তিপণ দাবি, আটক ১

খুলনা প্রতিনিধিঃ খুলনার পাইকগাছায় মুক্তিপনের দাবীতে আমিনুর রহমান (২০)নামে এক কলেজ পড়ুয়া ছাত্রকে হত্যা করা হয়েছে। আগড়ঘাটা কপোতাক্ষ নদের তীরে নিহতের রক্ত পাওয়া গেলেও মৃতদেহ পাওয়া যায়নি। মুক্তিপনের টাকা আদায়কালে অপহরণ চক্রের ফয়সাল নামের এক যুবককে সোমবার বিকেলে জনতা আটক করে পুলিশে দিয়েছে। এখনো নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

নিহত আমিনুর উপজেলার কপিলমুনির কপিলমুনি কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ও একই ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামের ছুরমান গাজীর ছেলে। আটককৃত ফয়সাল সরকার পাইকগাছার গদাইপুর গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়,রোববার রাত ৯ টার দিকে আগড়ঘাটা বাজার থেকে ৪/ ৫ জনের একটি চক্র আমিনুর রহমানকে অপহরণ করে। রাত ১০টার দিকে তাকে খুন করে নদীতে ভাসিয়ে দেয় বলে খুনি ফয়সাল পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তার দেয়া তথ্য মতে পুলিশ রক্তের আলামত সনাক্ত করেন বলে ওসি জিয়াউর রহমান জানান। নিহত আমিনুর শ্যামনগর গ্রামের ছুরমান গাজীর ছেলে ও কপিলমুনি কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র। অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে আমিনুরের ব্যবহৃত ফোন দিয়ে রোববার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে তার পিতা ছুরমান গাজীর কাছে দশ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। যা পাইকগাছা ব্রীজের নীচে রাখতে বলে। কিছু টাকাও সেখানে রাখা হয়। ঐ স্থান থেকে সোমবার দুপুর ১ টার দিকে টাকা নিয়ে চলে আসার সময় চারপাশে মোতায়ন করা লোকেরা অপহরণনকারী ফয়সাল সরদারকে আটক করে পুলিশে দেয়। আটকের সময় ফয়সাল সরদার নিজেকে সেনাবাহিনীর অফিসার বলে পরিচয় দেয়। তার সাথে আরও ৪/ ৫ জন রয়েছে বলে জানিয়েছেন অপহৃত ও নিহতের পিতা।

ওসি জিয়াউর রহমান জানান, গ্রেপ্তার করার পর ফয়সাল হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে হত্যার বর্ণনা দেয়। তার বর্ণনা অনুযায়ী কপোতাক্ষের পাড়ে গিয়ে জমাট বাঁধা রক্ত পাওয়া যায়। তার বাকি সঙ্গীদের আটকের জন্য । নিহত আমিনুরে লাশ উদ্ধারের জন্য পুলিশের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কুষ্টিয়ায় পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ বাণিজ্যের প্রতারক চক্রের সদস্য আটক

কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ায় ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল নিয়োগ বাণিজ্যের প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। আটক প্রতারক চক্রের সদস্য মোঃ আবুল কাশেম (৩২), কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানাধীন সোনাইকুন্ডি মাদ্রাসা পাড়া এলাকার মৃত ফরিদ আলী মন্ডলের ছেলে।

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক লিখিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ খাইরুল আলম।

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার মোঃ খাইরুল আলম জানান, গত ২ নভেম্বর থেকে কুষ্টিয়া জেলায় ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে গত ১ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানাধীন সোনাইকুন্ডি মাদ্রাসা পাড়া এলাকার মৃত ফরিদ আলী মন্ডলের ছেলে মোঃ আবুল কাশেম (৩২) মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জনৈক চাকুরী প্রার্থীকে জানায়, যে টাকা পয়সা খরচ করলে সে তাকে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকুরী দিতে পারবে। এ কথা বলে উক্ত আসামী চাকুরী প্রার্থীকে কুষ্টিয়া ভেড়ামারা থানাধীন ভেড়ামারা বাসস্টান্ডে দেখা করতে বলে। পরে প্রতারক আবুল কাসেমের কথায় সরল বিশ্বাসে চাকুরী প্রার্থী ও তার পিতা গত ১ নভেম্বর বিকাল ৫ টায় ভেড়ামারা বাসস্টান্ডে সাক্ষাত করলে আবুল কাসেম তাদেরকে জানায় পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকুরী পেতে হলে ১০ লক্ষ টাকা লাগবে। এ সময় কুষ্টিয়া জেলার এসপি স্যারের সাথে সরাসরি সাক্ষাত করিয়ে দেয়ার কথা বলে প্রতারক আবুল কাসেম তার মোটর সাইকেলে করে প্রার্থী ও তার পিতাকে কুষ্টিয়া শহরে নিয়ে গিয়ে এসপি পরিচয়দানকারী ও কুষ্টিয়া পু্লিশ লাইন্স স্কুলের শিক্ষক পরিচয়দানকারী দুই অজ্ঞাত নামা ব্যাক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। এ সময় তারা ৩ জনই প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষার পরপরই ১০ লক্ষ টাকা দিতে হবে বলে জানায়।

পুলিশ সুপার মোঃ খাইরুল আলম গত ২ নভেম্বর হতে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন পরীক্ষা চলাকালীন সকালে ও বিকালে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের নিয়োগ বানিজ্যের প্রতারক চক্রের সদস্যদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেন এবং প্রতারক চক্র যোগাযোগ করলে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য আহবান করেন। এ ব্যাপারে তথ্য পাওয়ার সাথে সাথেই স্থানীয় পুলিশ ইউনিটে জানানোর জন্য বলেন।

পুলিশ সুপার কুষ্টিয়া ও নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি মোঃ খাইরুল আলম পরীক্ষার্থীদের বলেন, কনস্টেবল পদের চাকুরি অবশ্যই মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়নেই হবে। পুলিশ সুপার পরীক্ষার্থীদের সাবধান করে আরো বলেন যদি কেউ প্রতারক বা দালালদের সাথে যোগাযোগ করে বা টাকা পয়সা লেনদেন করে তাহলে তিনি জানতে পারলে তার নিয়োগ বাতিল করা হবে মর্মে বারবার উল্লেখ করেন। এই কথায় পরীক্ষার্থীরা বিশ্বাস স্থাপন করেন এবং এরই মাঝে পরীক্ষার্থী ও তার পরিবার বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারে যে কুষ্টিয়ায় চলমান পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে কোন অবৈধ টাকার লেনদেন হচ্ছেনা।

এদিকে প্রতারক আবুল কাশেম পরীক্ষার্থী ও তার পরিবারের লোকজনের সাথে বার বার যোগাযোগ করতে থাকলে এক পর্যায়ে পরীক্ষার্থী ও তার পরিবার বুঝতে পারে যে তারা একটি প্রতারক চক্র। পরে পরীক্ষার্থী বিষয়টি ভেড়ামারা থানাকে অবহিত করে।

এ সময় থানা পু্লিশ পরীক্ষার্থীকে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিতে বললে পরীক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে এসপি মোঃ খাইরুল আলমের নির্দেশে ভেড়ামারা থানার এস আই দীপন কুমারঘোষ বাদী হয়ে প্রতারক আবুল কাশেমসহ আসামীদের বিরুদ্ধে ৬ নভেম্বর ভেড়ামারা থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

তিনি আরো জানান, আইজিপি মহোদয়ের স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে পু্লিশ সুপার কুষ্টিয়া মোঃ খাইরুল আলমের সার্বিক নির্দেশনায় ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইয়াসির আরাফাত এর তত্বাবধায়নে অফিসার ইনচার্জ মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এস আই দীনেশ কুমার ঘোষ ও দৌলতপুর থানার ৭ নং হুগলবাড়ীয়া ইউনিয়নের বিট অফিসার অরুন কুমার দাস এবং সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় প্রতারক আবুল কাশেমকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানাধীন আল্লার দর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে ৬ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭ঃ১৫ ঘটিকায় গ্রেফতার করা হয়।

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার মোঃ খাইরুল আলম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারক আবুল কাশেম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

হাতির আক্রমণে আতংকে কুলাউড়াবাসী

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা সদর হতে গাজীপুর ফুলতলা সড়কে আদাআদি মোকামের পূর্বপাশে ১ম রোববার (৭ নভেম্বর) রাতে একটি হাতি আক্রমন চালিয়ে একটি প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। ঘটনার পর সোমবার (৮ নভেম্বর) থেকে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

জানা যায়, রোববার রাত আনুমানিক ৭টায় ফুলতলা থেকে কুলাউড়া আসার পথে জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউপি পশ্চিম বিটুলী গ্রামের আব্দুল বাহারের প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো থ ১৭-৩২৯২) যাত্রীসহ হাতির আক্রমনের শিকার হয়। এসময় চালকসহ যাত্রীরা কোন রকম প্রান রক্ষা করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরপরই অন্য আরেক মোটরসাইকেল যোগে আসার পথে মিসবাউর রহমান হাতির আক্রমনের শিকার হন। তিনি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

আক্রমনের শিকার ব্যক্তিরা জানান, রাতে তারা হাতির অন্য পরিচালক এনে এবং লোকজন জড়ো হয়ে ঢাকঢোল পিঠিয়ে গাড়ী ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করে নিয়ে যান। এসময় হাতি ঘটনাস্থল থেকে একশ ফুট দুরে অবস্থান নেয়। সোমবার (৮ নভেম্বর) কুলাউড়া-ফুলতলা সড়কে হাতির ভয়ে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ ছিলো।

বনবিভাগের কুলাউড়ার রেঞ্জ অফিসার রিয়াজ উদ্দিন আহমদ জানান, আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। প্রতিবছরই এই সড়কে হাতি আক্রমন চালায়। সংরক্ষিত বনের মধ্য দিয়ে রাস্তায় রাতে হাতি কিংবা অন্যকোন প্রাণী আক্রমণ করতে পারে। এজন্য এলাকার চলাচলের পথে সকল জনসাধারণের সতর্ক অবস্থানে চলাচলের জন্য আহ্বান করা হলো।

বগুড়া জেলার সোনাতলা পৌরসভার নব-নির্বাচিত মেয়র গ্রেফতার

নূর মোহাম্মদ সম্রাট, বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সোনাতলা পৌরসভার নব-নির্বাচিত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নান্নুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৮ নভেম্বর) সকালে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ইনচার্জ সাইহান ওলিউল্লাহ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রবিবার (৭ নভেম্বর) রাতে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সোনাতলা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিনহাদ্দুজামান লিটনসহ চার নেতাকর্মীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় করা মামলায় জাহাঙ্গীর আলম নান্নু প্রধান আসামি ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২ নভেম্বর সোনাতলা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মেয়র নির্বাচিত হন জাহাঙ্গীর আলম নান্নু।

নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে নির্বাচন করায় ভোটের আগের দিন তাকে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

পরদিন ৩ নভেম্বর নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় মেয়রের কর্মীদের হাতে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের চার নেতাকর্মী ছুরিকাহত হয়। এ ঘটনায় নবনির্বাচিত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নান্নুসহ ৩০ জনের নামে মামলা হয়।

ওই রাতেই সোনাতলা থানা পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নান্নু পালিয়ে ঢাকায় আত্মগোপন করেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ তার অবস্থান নিশ্চিত করে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।