মণিপুরী নৃত্য দিবস পালিত

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মণিপুরী নৃত্য দিবস উপলক্ষে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বাংলাদেশ মণিপুরী সমাজকল্যাণ পরিষদের আয়োজনে আলোচনা সভা ও নৃত্যানুষ্টান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় উপজেলার আদমপুর ইউপি ঘোড়ামারা এলাকায় পরিষদ প্রাঙ্গনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান তফাদার রিজওয়ানা ইয়াসমিন সুমী।

বাংলাদেশ মণিপুরী সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আনন্দ মোহন সিংহের সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক নির্মল এস পলাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক রাশেদুজ্জামান চৌধুরী, জেলা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মো. হেলাল উদ্দিন, আদমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাব্বির আহমদ ভূঁইয়া, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি বিশ্বজিৎ রায়, মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা প্রভাস কুমার সিংহ, ইউপি সদস্য রুপেন্দ্র কুমার সিংহ প্রমুখ।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মণিপুরী সমাজকল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কমলা কান্ত সিংহ।

নওগাঁর আত্রাইয়ে বহলা কালী মন্দির ছাদ ঢালাই উদ্বোধন

একেএম কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ আত্রাই উপজেলার সাহাগোলা ইউনিয়নের বহলা গ্রামে সার্বজনীন কালী মন্দিরের ছাদ ঢালাই এর উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার সকালে কাজের উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ এবাদুর রহমান প্রামানিক।

উদ্বোধনকালে উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ এবাদুর রহমান বলেন, বহলা সার্বজনীন কালী মন্দির কমিটি ও এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর)সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার হোসেন হেলাল এর সার্বিক সহযোগিতায় ও গ্রামের হিন্দু সনাতন ধর্মালম্বীদের আর্থিক সহযোগিতায় প্রায় আট লক্ষাধীক টাকা ব্যয় বরাদ্দে ছাদ ঢালাইয়ের মধ্য দিয়ে মন্দিরের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হতে চলেছে।

এ সময় মন্দিরের উপস্থিত ছিলেন আত্রাই উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শ্রী নৃপেন্দ্র নাথ দত্ত দুলাল, সহ-সভাপতি মোঃ গহের আলী,সাধারণ সম্পাদক মোঃ আক্কাছ আলী, আত্রাই উপজেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি একেএম কামাল উদ্দিন টগর, ভোঁপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মোঃ আবুল কাশেম,মহিলা নেত্রী সামছুন্নাহার রনি,আত্রাই উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ,খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ সাধারণ সম্পাদক অমরেন্দ্র নাথ সাহা রনি,মন্দির কমিটির ভার প্রাপ্ত সভাপতি অমিত চন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক বাবুন তরফদার,রাজমিস্ত্রী প্রধান মোস্তফা মন্ডল সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এবার গর্ভবতী নারীরাও করোনা টিকা নিতে পারবেন : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ গর্ভবতী নারীদের এবার করোনা টিকা গ্রহণের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিভিন্ন দেশ এরই মধ্যে গর্ভবতী নারীদের করোনা টিকা দেওয়া শুরু করলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এতদিন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়নি। তবে গতকাল রোববার (৭ নভেম্বর) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক টুইট বার্তায় গর্ভবতী নারীরাও টিকা নিতে পারবেন বলে জানিয়েছে।

ওই টুইট বার্তায় বলা হয়, আপনি যদি গর্ভবতী হন তবে করোনাভাইরাসের টিকা গ্রহণ করতে পারবেন। গর্ভবতী নারীরা কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাদের স্বাস্থ্য উচ্চ ঝুঁকিতে পড়ে যায় এবং গর্ভবতী মা অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রিম্যাচিউর শিশুর জন্ম দিতে পারেন যা মা এবং শিশু দুজনের জন্যই বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

শ্রীমঙ্গলে র‍্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত ২

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মাইজদিহি পাহাড়ে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় র‌্যাবের তিন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বসু দত্ত চাকমা জানান, আজ রোববার (৭ নভেম্বর) ভোররাতে  শ্রীমঙ্গল মাইজদিহি পাহাড়ি এলাকায় টহলকালে র‍্যাবের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে তারা। তারপর র‍্যাবের পক্ষ থেকেও পালটা গুলি ছোঁড়া হয়। এসময় র‍্যাবের ৩ সদস্য আহত হন।

র‍্যাব জানায়, গোলাগুলি থামার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে অজ্ঞাত পরিচয় দুই ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। র‍্যাব তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়, দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

মরদেহ দুটি শ্রীমঙ্গল থানার ভেতরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে রাখা হয়েছে বলে জানায় র‍্যাব।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার উপ পরিদর্শক মো. জামাল জানান, ভোরে শ্রীমঙ্গল র‍্যাব ক্যাম্প থেকে লাশ দুটি রেখে গেছে।তোফায়েল এবং শহিদ যারা কমলগঞ্জের চাঞ্চল্যকর ব্যবসায়ী হত্যার পলাতক আসামিদের অন্যতম হত্যাকারী।

“শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নীতি ও আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সকলকে রাজপথের আন্দোলনে থাকতে হবে”…… সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আয়োজনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকাল ১১ টায় দাদামোড়স্থ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জেলা বিএনপির সহ সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু’র সভাপতিত্বে জেলা বিএনপির সিনিঃ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, সাবেক সহ সভাপতি সহিরুজ্জামান সাজু, যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুল হক রুবেল, সহ সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন মোল্লা দুলাল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম লেবু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর বিপ্লব, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলীম, জেলা যুবদল সভাপতি রায়হান কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রজব, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আল হামিদুজ্জামান, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আমিমুল ইহসান, সাংগঠনিক সম্পাদক আরমান হোসেন সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

সভায় জেলা বিএনপির সিনিঃ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, শহীদ জিয়ার নীতি ও আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সকলকে আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে থাকার আহবান জানান।

পরে জেলা ওলামাদলের আহবায়ক মাওলানা মোঃ জামাল উদ্দিনের পরিচালনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

সস্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে যুবলীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

নূর মোহাম্মদ সম্রাট, বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়া জেলা যুবলীগের (প্রস্তাবিত) কমিটির দপ্তর সম্পাদক জাকারিয়া আদিল, যুবনেতা সহিদুল ইসলাম ও পান্না সরকারের উপর সস্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে যুবলীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গেল শনিবার বিকাল ৪টার দিকে সাতমাথার টেম্পল রোড জেলা আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে।

পরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা জেলা যুবলীগের সভাপতি শুভাশীষ পোদ্দার লিটন।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুর ইসলাম ডাবলু, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য মোবাশ্বর হোসেন স্বরাজ, শহর যুবলীগের সভাপতি মাহফুজুল আলম জয়, শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক উদয় কুমার বর্মন,

সদর উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইফতারুল ইসলাম মামুন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসীম কুমার রায়।

আওয়ামী লীগে রাজাকারের অনুপ্রবেশ ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত

সম্প্রতি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপকমিটির এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগে ‘রাজাকার’ ইস্যু নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই এখন একে অন্যের দিকে রাজাকারের তকমা লাগানোর চেষ্টা করছেন।’ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যার সঙ্গে বনবে না তাকে বলবে রাজাকারের ছেলে অথবা বলবে রাজাকারের নাতি বা শান্তি কমিটির সদস্য ছিল তারা।’ জনাব ওবায়দুল কাদের আরও বলেছেন, ‘এসব অভিযোগের স্তুপ হয়েছে আওয়ামী লীগে।’ওবায়দুল কাদের সাহেবের বক্তব্য সময়ের প্রেক্ষিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের যত প্রার্থীর বিরুদ্ধে রাজাকারের অভিযোগ উঠেছে তা যদি সত্যি হয় এবং সকলের বিরুদ্ধে যদি ব্যবস্থা নেয়া হয় তাহলে তা লোম বাছতে কম্বল উজাড়ের মতো ঘটনা হবে। অভিযোগের সবই যে মিথ্যা তা নয়। কারণ ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড বেশ কিছু মনোনয়ন পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় আওয়ামী লীগে ‘রাজাকার’ গোষ্ঠী ঢুকে পড়েছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের মূল সুর অনূধাবন করলে বোঝা যায়, অনেক অভিযোগই অসত্য, প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে করা। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার একটা সস্তা কৌশল। রাজাকার, বিএনপি বা জামায়াত বলে কাউকে কোণঠাসা করার কৌশলটি আওয়ামী লীগের কারও কারও পুরনো অভ্যাস।

তবে বিষয়টি বেশ জটিল এবং উভয় সংকট। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরোধীতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। এই সুযোগে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার প্রার্থীগণ নির্বাচনে বিরোধীতাকারীদের নামের সাথে পরবর্তি নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন সব নেতাদের এবং ঐ নেতাদের সমর্থকদের নামও অভিযোগের তালিকাভুক্ত করলেন। পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীর নামে অভিযোগপত্র জমা হয়েছিল। অভিযোগসমূহ কোনপ্রকার তদন্ত না করে অভিযোগপত্রে তালিকাভুক্ত সকল নেতাকর্মীদের বহিস্কার করার সুপারিশ করা হয়েছিল এবং বহিস্কার করা হয়েছিলো। তন্মধ্যে কিছু দোষী থাকলেও  সবাই যে বহিস্কার হওয়ার মত অপরাধী তাদের নয়।

বেশীরভাগ অভিযোগই প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী নিধন করার জন্য করা হয়েছিল। ঐ ঘটনায় অসংখ্য নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মী বিনাদোষে সংগঠনের কর্মী হিসেবে কাজ করার সুযোগ থেকে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত হয়েছেন। উদাহরণ স্বরূপ, সাবেক ডেমরা থানা (বর্তমান যাত্রাবাড়ী, ডেমরা) আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনাব সফর আলী। তিনি ডেমরা থানাধীন সাবেক দনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতা। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ এর পর সাবেক ডেমরা থানা এলাকায় যখন স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির রাজনীতির দুর্দিন। বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করার সুযোগ ছিল না। তখন দোলাইরপাড় ব্রিজের ঢালে সফর আলী সাহেবের বাড়িতে এক কক্ষ বিশিষ্ট ছাপাখানা (প্রেস) ছিল। সাথেই ছোট একটি টেবিল ও একটি চেয়ার বসানো যায় এমনি ছোট্ট কক্ষে প্রেসের অফিস। সফর আলী সাহেব ভিতরে বসতেন। গ্রাহক বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলতেন। আমরা ছাত্রলীগ কর্মীরা বিকালে ওখানেই ভীড় করতাম। কন্ডেন্সমিল্কের কৌটায় চা এনে স্টিলের কাপে করে সকলেই চা খেতাম। বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির এভাবেই পুনর্জাগরণ শুরু হয়। হাটি হাটি পা পা করে ডেমরা থানা এলাকায় আওয়ামী লীগ সংগঠিত হতে থাকে। সাংগঠনিক আলোচনা করার জন্য দলিল ভাই এর ছবি তোলার স্টুডিও এর গ্রীনরুম ব্যবহার করা হতো।

১৯৯৩ সালে জনাব হাবিবুর রহমান মোল্লাকে সভাপতি ও জনাব সফর আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে ডেমরা থানা আওয়ামীলীগ কমিটি গঠিত হয়। ২০০১ এর জাতীয় নির্বাচনে উনারা দুজনেই প্রার্থী হয়েছিলেন। হাবিবুর রহমান মোল্লা সাহেব মনোনয়ন পেয়েছিলেন। ঐ নির্বাচনে তৎকালীন নির্বাচন কমিশনের সূসূক্ষ্ম কারচুপির কারনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়। কিন্তু অভিযোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়ে প্রতিদ্বন্ধী নেতা সফর আলী সাহেবের  বিরুদ্ধেও অভিযোগ দেওয়া হয়। নিবেদিতপ্রাণ তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতা চিরদিনের জন্য সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে বিদায় হয়ে গেলেন।

এর উল্টো পিঠও রয়েছে। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের গ্রুপিং এর সুবাদে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের বেনিফিশিয়ারি বিএনপি জামাতের নেতাকর্মীরাও সুপরিকল্পিতভাবে আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশ করেছে। ১৯৭১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির দোসররাই ১৯৭৫ এ আঘাত করেছে। ওরা বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা নস্যাৎ করতে চেয়েছিল। কিন্তু মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে অবস্থান করার কারণে প্রাণে বেঁচে যান। শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব হাতে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য আওয়ামীলীগকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন।

ষড়যন্ত্রকারীরাও বসে থাকেনি। ওরা বিভিন্ন সুযোগে সুকৌশলে আওয়ামী লীগে যোগদান করে। মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে গ্রুপিং এর কারণে থানা কমিটি ও ওয়ার্ড-ইউনিয়ন কমিটি গঠন কার্যক্রম বিলম্বিত হয়েছিল। স্বাধীনতা বিরোধী ও ৭৫ এর বেনিফিশিয়ারি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার বিরোধী আন্দোলন শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মাননীয় সভাপতি শেখ হাসিনা ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের থানা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় নির্দেশে কমিটি গঠনে সময়ের সংক্ষিপ্ততায় সকল কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে না পারলেও, কোন যাচাই বাছাই না করে পদ ভাগাভাগি করে কয়েকটি কমিটি গঠন করেন।

প্রবাদে আছে ‘ভাগের মা গঙ্গা পায় না’। পদ ভাগাভাগি করতে গিয়ে নিজ গ্রুপে যোগ্য নেতা না থাকলেও নিজের ভাগে পাওয়া পদে প্রতিদ্বন্দ্বির পক্ষের যোগ্য আওয়ামীলীগ নেতাদের না দিয়ে প্রয়োজনে ভিন্ন দলের লোককে সেই পদ দেওয়ার উদাহরণ রয়েছে। এই পদ ভাগাভাগির সুযোগে স্বাধীনতাবিরোধী, ১৯৭৫ এর বেনিফিশিয়ারিরা, সুবিধাবাদীরা সুপরিকল্পিতভাবে আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশ করেছে। ৭১ ও ৭৫ এর ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের মিশন সম্পন্ন করার জন্য, স্বাধীনতার মূল্যবোধকে নস্যাৎ করার জন্য ছাত্রজীবনে ও কর্মজীবনে জিয়ার সৈনিক এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি দলীয় জনপ্রতিনিধি হয়েও সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করেছে। পরবর্তিতে এই অনুপ্রবেশকারীরা আওয়ামী লীগে বিএনপি জামাতের নেতাকর্মীদের আওয়ামীলীগার বানিয়ে নিজস্ব গ্রুপ তৈরি করেছে। ওরা আওয়ামীলীগ দলীয় সংসদ সদস্য পদ ছাড়াও দলীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।

এখানেই ক্ষ্যান্ত হননি, বিএনপি জামাত থেকে অনুপ্রবেশকৃত তাদের নিজস্ব লোকদের তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত করেছেন। কিন্তু কী পরিকল্পনায় বা কোন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য তারা বিএনপি সরকারের আমলে বিএনপি ছেড়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করলেন এবং সুকৌশলে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হলেন, এটাই রহস্যজনক! এমনি অসংখ্য অনুপ্রবেশকারীর উদাহরণ রয়েছে।

মির্জা আজম এমপি একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তৃণমূল পর্যায় থেকে গড়ে উঠা গণমানুষের নেতা, ছয় বার নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ এর সাধারণ সম্পাদক হিসাবে সারাদেশে ওয়ার্ড-ইউনিয়ন পর্যায়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মনের কথা বুঝতে শিখেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এই অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামীলীগ এর এক কর্মীসভায় বলেছেন, বিএনপি ঘরানার এক শিল্পপতির দুই ছেলে (বয়স ১৯ ও ২১ বছর) মহানগর আওয়ামীলীগের দুইটি থানা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই দুইজন কোনদিন কোথায়ও আওয়ামীলীগ বা  অংগ-সহযোগী সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন না এবং বর্তমান সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের সাথে সখ্যতা বজায় রেখে ভালভাবেই ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। এই সকল অনুপ্রবেশকারীরা দেশের সেবা করার উদ্দেশ্যে সংগঠন করতে আসেন নাই। তারা সরকারী দলের পদ ব্যবহার করে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতেই সংগঠনের পদ ক্রয় করেছেন।

দলের দুঃসময়ে অবদান রেখেছেন এমন সাবেক ছাত্রনেতাদের মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি দলকে সংগঠিত রাখতেই আওয়ামীলীগ এর সাংগঠনিক কাঠামোতে উপ-কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে নির্মম সত্য হলো বিভিন্ন উপায়ে বিভিন্ন ধরনের লোকেরা পায় উপ কমিটির পদ। অতীতে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও সাবেক ছাত্রনেতা পরিচয়ে অনেকেই কেন্দ্রীয় উপ-কমিটিতে জায়গা করে নিয়েছেন।

ক্ষমতাসীন দলের উপ-কমিটিতে থেকে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন শাহেদ, হেলেনার মতো ব্যক্তিরা। আর এসব কারণে শুরু থেকেই কম-বেশি বিতর্কে পড়েছে আওয়ামী লীগের বিষয়ভিত্তিক এসব উপ-কমিটি। ছদ্মবেশে আওয়ামী লীগে প্রবেশ করে সুবিধাবাদীরা সরকার ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছেন। কোন যোগ্যতা না থাকলেও উপকমিটির কর্তাব্যক্তিদের পরিচিত, তাদের নিজ নির্বাচনী এলাকার লোক হিসেবে জায়গা পেয়েছে অনেকে। এইসব উপ কমিটিগুলোতে এমন অনেককেই রাখা হয়েছে, অতীতে যাদের আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল না। তাদের জীবনের প্রথম রাজনৈতিক পদ এই উপকমিটির সদস্য। এরই ফলে উপ কমিটি গঠনে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী না হয়ে বরং দুর্বল হয়েছে। সংগঠন ও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।

প্রশাসনে কোন একজন মেধাবী সরকারি কর্মকর্তা, কারও সাতেপাঁচে নেই। প্রতিপক্ষ তাকে রাজাকারের আত্মীয় বানিয়ে দিল। ব্যস, তার পদোন্নতি বন্ধ হয়ে গেল। কিন্ত এটাওতো ঠিক, বিসিএস অতিক্রম করে যারা প্রশাসনের বিভিন্ন পদে চাকুরী পায়, তারা সকলেই মেধাবী। উনিশ-বিশ হতে পারে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায়। ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ করা একজন নেতা বা কর্মী চাকুরীজীবনে তার দলীয় নির্বাচনী মেন্যুফেস্টো বাস্তবায়নে সোচ্চার থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে এই মুহূর্তে চাকুরীজীবনে তারাই সাতেপাঁচে নেই, যারা ছাত্রজীবনে বর্তমান সরকার বিরোধী নীতি ও আদর্শের অনুসারী ছিলেন। এখন ঐ সকল শান্তশিষ্ট, সাতেপাঁচে নেই কর্মকর্তারা সরকারকে ভাল কোন পরামর্শ দিবে না, কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে না। শুধু জ্বী স্যার, জ্বী স্যার করবে এবং গোপনে নিজের মতাদর্শের লোকদের খুঁজে বেড়াবে, সংগবদ্ধ হবে। সুযোগ পেলেই সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করবে- এমন লোকদের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত করা হচ্ছে। ওরাই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েব করে সরকারকে বিব্রত করছে, রাজপথে আইনের মারপ্যাঁচে সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিদের হেনস্তা করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে। এই নীতিমালা রাজনৈতিক সরকারের জন্য কল্যাণকর  হতে পারে না। রাজনৈতিক সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও একই নীতি আদর্শের অনুসারী হতে হবে। তবেই সরকার দ্বিধাহীনভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারবে, যেটা করা হচ্ছে আমেরিকায়।

কদমতলী থানা আওয়ামীলীগের বর্তমান কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহাম্মদ নাছিম মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মিলে যাচাই বাছাই করে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করেন। উভয়ের স্বাক্ষরিত পুর্নাঙ্গ কমিটি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামীলীগ এর দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। কিন্তু ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত  অনুমোদিত কমিটি ছিল ভিন্নরুপ। প্রস্তাবিত কমিটি থেকে ৩৩ জনের বাদ দিয়ে নতুন নাম সংযোজন করে কমিটি অনুমোদন করেছে। এই ৩৩ জনের মধ্যে বিএনপি  জামাতের অনেক লোক অনুপ্রবেশ করেছে। মির্জা আজম সাহেব একথাই মহানগর আওয়ামী লীগের কর্মীসভায় উল্লেখ করেছেন। এব্যাপারে আওয়ামী লীগ সভাপতির নিকট লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়েছে।

এমন ঘটনা তৃণমূল পর্যায়ে অহরহ ঘটছে। হাইব্রিড নেতারা সংগঠনের মধ্যে নিজস্ব বলয় তৈরী করার জন্য  বিএনপি-জামাতের লোকদের আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করিয়েছে। তৃণমূলের অবস্থা কান পেতে শুনলে বুঝা যায় হাইব্রিডদের জয়জয়কার। কাজেই ‘আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই এখন একে অন্যের দিকে রাজাকারের তকমা লাগানোর চেষ্টা করছেন’-এই কথা বলে বিষয়টি হালকা না করে সংগঠনের স্বার্থে সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারী বিএনপি জামাত রাজাকারদের সংগঠন থেকে বের করে দেওয়া জরুরি। এছাড়া যেসকল কেন্দ্রীয় নেতা, এমপি, মন্ত্রী এই প্রক্রিয়ায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সময় থাকতে সাধু সাবধান!

ড. মোঃ আওলাদ হোসেন,
ভেটেরিনারীয়ান, পরিবেশবিজ্ঞানী, রাজনৈতিক কর্মী ও কলামিস্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ। 

বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি আনভীর সোবহানের হত্যার চেষ্টা কারীকে গ্রেফতারের দাবীতে প্রতিবাদ সভা

মো.নাছির উদ্দিন-বাঞ্ছারামপুর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দুর্গারাম গ্রামের কৃতি সন্তান বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্হাপনা পরিচালক (এমডি) ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরকে হত্যার চেষ্টার পরিকল্পনাকারীকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল সকাল দশটায় দুর্গারামপুর যুব সমাজের উদ্যোগে উপজেলার সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

পৌর সাবেক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান সনেটের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক ও উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী জাদিদ আল রহমান জনি।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম শহিদুল হক বাবুল, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান উজ্জল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি মাহমূদুল হাসান ভূইয়া, উপজেলা ছাত্রলীগ সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন নাছিম, উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক রুহুল আমিন টিপু, উপজেলা ছাত্রলীগ সাবেক সাধারন সম্পাদক সেলিম মিয়া, ছলিমাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আসাদুজ্জামান বকুল, রুপসদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ মহিরুল মেম্বার, কলেজ ছাত্রলীগ যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ইমন আহমেদ, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রাকিম আহমেদ ফাহিম, দূর্গারামপুর ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সামুয়েল আহমেদ প্রমুখ।

মৌলভীবাজারে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রের আত্মহত্যা!

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে সাগর রায় নামে ১৮বছরের এক তরুণের আত্মহত্যার করেছে বলে জানা যায়৷ সে সদর উপজেলার নাজিরাবাদ ইউপি’র দু’ঘর গ্ৰামের হিমাংশু রায়ের ছেলে।

পরিবারে ৩ ছেলে-মেয়ের মধ্যে সবার বড় সন্তান সাগর। স্থানীয় ইউসুফ নগড়ে (রাতগাও) আলহাজ্ব মোঃ মোখলেছুর রহমান ডিগ্ৰি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।

স্থানীয় সূত্রে মতে জানা গেছে, শনিবার (৬ নভেম্বর) ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখে বাড়ির উঠানের পাশে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় সাগরের লাশ দেখতে পান পিতা হিমাংশু রায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশকে খবর দেয়া হলে সদর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মৌলভীবাজার সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসিনুল হক জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে আত্মহত্যা। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে বিস্তারিত সব তথ্য জানা যাবে। তখনি আইনের প্রয়োগ করা সম্ভব হবে বলে নিশ্চিত করেন।

মৌলভীবাজারে অভিন্ন মানদন্ডে ভুমিকা পালনে শ্রেষ্ঠ অফিসারদের পুরস্কৃত করেন পুলিশ সুপার

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক টানা দুইবারের মতো জেলা পুলিশের শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হন। এছাড়া ওসি তদন্ত শ্রেষ্ঠ অফিসার মনোনিত হয় শ্রীমঙ্গল থানার হুমায়ূন কবির ও এস, আই পদে শ্রেষ্ঠ মনোনিত হয় শ্রীমঙ্গল থানার আসাদুর রহমান।

গেল শনিবার জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গত অক্টোবর মাসের অপরাধ মূলক মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হকের হাতে শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জের ক্রেস্ট তুলে দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া।

এছাড়াও শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসার নির্বাচিত হন মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমান জিকো, শ্রেষ্ঠ উপপরিদর্শক হিসেবে পুরস্কার গ্রহণ করেন সদর মডেল থানার জহুরুল ইসলাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সুদর্শন কুমার রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) এ বি এম মুজাহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) সাদেক কাউসার দস্তগীর, সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) মো. শহীদুল হক মুন্সি।

এছাড়াও এসময় ছিলেন জেলার সাত থানার অফিসার ইনচার্জরা এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা।

ওসি ইয়াছিনুল হকের সাথে কথা বললে উনি জানান, সকলের সহযোগিতায় এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। আগামীতেও এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করা হবে।