রাজনীতি:

বর্তমান সরকারের মেয়াদ পূর্ন হবে এ বছরেই। তার পরেই অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন। খুব বেশি সময় বাকি নেই। ইতিমধ্যেই নির্বাচনী গল্প শুরু হয়ে গেছে। সবারই ভাবনা কেমন হবে আগামী নির্বাচনটি এবং কোন দল সরকার গঠন করবে। যে যত ভাবেই ভাবুক বর্তমানে কোন বিরোধী দল বাংলাদেশে সরকার গঠন করার মত অবস্থানে রয়েছে মনে হয় না। আবার একই দল বার বার ক্ষমতায় থাকাও সঠিক নয়। একই দল বার বার সরকারে গেলে পার্থক্যটি বোঝা যায় না। সুযোগটি অবশ্য বিরোধী দলই করে দিয়েছে। ১৫ বছর ধরে বি এন পি ব্যর্থ রাজনীতি করে আন্দোলন জমাতে পারেনি। বরং সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল করেছে। নির্বাচন বর্জন করায় সংসদের প্রতিনিধিত্বটিও নেই তাদের। এবার ৭ জন সাংসদ ভালোই সবাক ছিল কিন্তু, কোন পরিকল্পনায় কার পরামর্শে পদত্যগ করেছে তা বোধগম্য হয়নি। সরকার পতনের ডাক দিলেও বি এন পি তাদের লক্ষ্যে পৌছাতে পারেনি। কারন জনগনের সম্পৃক্ততা ছিলনা। যারা আন্দোলনে নেমেছে তারা দলের কর্মী এবং কিছু ভাড়া করা দিনমজুর। ফলে দাবীটি জোরদার হয়নি সফলতাও আসেনি। এ নিয়ে দলের অভ্যান্তরে প্রশ্নের মুখে পরেছে নেতারা।

সরকারের বিরুদ্ধে জনমনে অনেক অভিযোগ রয়েছে কিন্তু, বি এন পি সে সব ইস্যুকে দাবী আকারে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই জনগন সারা দেয়নি। এই আন্দোলনে বি এন পি শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার দাবী উত্থাপন করেছে। সরকার তাদেরকে সুযোগই দেয়নি আন্দোলন জমাতে। সরকার প্রতিপক্ষকে ঠেকাতে তাদের কৌশল ব্যবহার করবেই। কিন্তু বি এন পি সেই কৌশলের কাছে ধরাশায়ী হয়েছে। বি এন পি’র দাবী ছিল তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ (তাদের মত) নির্বাচন অনুষ্ঠানের। আন্দোলন দুর্বল হওয়ায় সরকার তাদেরকে পাত্তাই দেয়নি। দলটি এখন যেকোন ভাবেই হউক ক্ষমতার যেতে চায়। কিন্তু জনগন তাদেরকে কেন ভোট দিবে- নির্বাচিত করবে? বি এন পি’ সরকারের দু:শাসন জনগন ভুলেনি তা বি এন পি’র নেতারাও জানে। সেই জন্যই অবস্থা অনুমান করে বি এন পি এখন বিদেশীদের সাহায্য চাইছে। জনগন ছেড়ে বিদেশী দুতাবাসে দৌড় ঝাপ শুরু করছে।

অন্যদিকে জাপা সরকারের সঙ্গে জোট করে তাদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিকরে ফেলেছে। আগামী নির্বাচনে বি এন পি’র অনেক নেতা লাঙ্গল প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে যাবে যদি দল নির্বাচন বর্জন করে। সংসদে জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের আসনটি ধরে রাখবে এবারও। বি এন পি’কে চাপে রাখতে সরকারও জাপা’ কে সুযোগ করে দিবে নির্বাচনে। তাই নির্বাচন বর্জন করলে বি এন পি দল ভেঙ্গে যাবে তাই, দলে চাপ রয়েছে নির্বাচনে যাওয়ার। কিন্তু কি নিয়ে বি এন পি জনগনের কাছে ভোট চাইতে যাবে? সরকার কোথায় কি ভুল করেছে জনগন তা জানে। এসব অভিযোগে সরকারী দলের নেতারাও নিরাপদে নেই। কিন্তু শুধু সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেই ভোট পাওয়া যাবে না। সুনির্দিষ্ট কর্মসূচী দেখাতে হবে জনগনকে। বি এন পি’র নেতাদের কাছে সেই কর্মসূচী নেই।

দলের নেতৃত্ব নিয়েও দ্বন্দ্ব পরিস্কার। কোন সিদ্ধান্তেই একমত হতে পারছে না নেতারা। খালেদাপন্থী এবং তারেকপন্থীর বিভাজন দলকে দুর্বল করেছে। মহাসচীব ফখরুল এখন দলে কোন ঠাসা। দলের এমন অবস্থা নিয়ে নির্বাচনে যাওয়া বা ক্ষমতার স্বপ্ন দেখা আত্নঘাতি হবে। তাই বি এন পি বিদেশী বন্ধুদের দুতালীতে সরকারকে দুর্বল করতে চায়। অনেকের মতে বি এন পি’র এই সিদ্ধান্তটিও ভুল। কারন নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়ার অন্য কোন উপায় নেই। অবস্থা এখন এমন হয়েছে যে, কট্টর বি এন পি পন্থী নীতিনির্ধারক এবং সমর্থকরাও দলের নীতির সঙ্গে একমত হতে পারছে না। দেশের উন্নয়ন এতটাই বাস্তব যে তা অস্বীকার করার উপায় নেই কারোই। বি এন পি’র সমর্থকরাও সরকারের প্রশংসা করছে।

দীর্ঘদিন সরকারে থাকা আওয়ামী লীগের অনেক নেতা, এম পি, মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। অনেক নেতা পুনরায় নির্বাচন করলে দলের বিপর্যয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারন শুধু উন্নয়নই ভোট নিশ্চিত করেনা। এলাকাবাসি এম পি মন্ত্রীদের কাছে ভাল সম্পর্কটিও প্রত্যাশা করে। সেই বিবেচনায় সরকারী দলের সবাই নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে ভাবা যাবে না। তবে সরকার যে সাফল্য দেখিয়েছে তা নিয়ে ভিন্নমত পোষন করেনা কেউ। কৃতিত্বটিও দেয় শুধু শেখ হাসিনাকে। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ শেখ হাসিনাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসাবে চায়। বি এন পি’তে শেখ হাসিনার মত একজন নেতা নেই। শুধু বি এন পি নয় আওয়ামী লীগের মধ্যেও শেখ হাসিনা পরবর্তী নেতৃত্ব গড়ে উঠেনি। এমন সব বিবেচনায় পরিস্কার করেই বলা যায় আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে। বি এন পি’র উচিৎ হবে সরকার পতনের আন্দোলন বাদ দিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া। না হয় আম ছালা দুটোই যাবে বি এন পি’র। বি এন পি নির্বাচনে অংশ নিলে গনতন্ত্রের জন্য এবং দেশের জন্য মঙ্গল হবে।


আজিজুর রহমান প্রিন্স, কলামিস্ট ও আওয়ামীলীগ নেতা, টরন্টো, কানাডা


আরও পড়ুন:


ডিবিএন/এসডিআর/মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান

৭ই মার্চ ‘জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস’

আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ, জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অনন্য দিন। সুদীর্ঘকালের আপোষহীন আন্দোলনের একপর্যায়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তদানীন্তন রেসকোর্স ময়দান) বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে এক ভাষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। যে ভাষণের মূলে ছিল এদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা।

৭ই মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণের পটভূমিঃ ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠী এই দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বিলম্ব করতে শুরু করে। প্রকৃতপক্ষে তাদের উদ্দেশ্য ছিল, যে-কোনভাবে ক্ষমতা পশ্চিম পাকিস্তানী রাজনীতিবিদদের হাতে কুক্ষিগত করে রাখা। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ৩রা মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশন আহ্বান করেন। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে ১লা মার্চ এই অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি ঘোষণা করেন। এই সংবাদে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ২রা মার্চ ঢাকায় এবং ৩রা মার্চ সারাদেশে একযোগে হরতাল পালিত হয়।

বঙ্গবন্ধু ৩রা মার্চ পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় সমগ্র পূর্ব বাংলায় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই পটভূমিতেই ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় বিপুল সংখ্যক লোক একত্রিত হয়। পুরো ময়দান পরিণত হয় এক জনসমুদ্রে। সেদিন বিকাল আড়াইটা বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত হন। এই জনতা এবং সার্বিকভাবে সমগ্র জাতির উদ্দেশ্যে শেখ মুজিবুর রহমান তার ঐতিহাসিক ভাষণটি প্রদান করেন।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অসীম সাহসিকতার সাথে রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উদ্দেশে বজ্রকণ্ঠে যে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন তা ছিল মূলত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ।

এদিন বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠে ধ্বনিত হয়, “ যদি এদেশের মানুষকে খতম করার চেষ্টা করা হয়, বাঙালিরা বুঝে শুনে কাজ করবেন। প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোল এবং তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্ত্তত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দিব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ্। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা। জয় বাংলা।  ”

একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর এই উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিক-নির্দেশনা। এরপরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর এই বজ্র-নিনাদে আসন্ন মহামুক্তির আনন্দে বাঙালি জাতি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। যুগ যুগ ধরে শোষিত-বঞ্চিত বাঙালি ইস্পাত-কঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় কাঙ্ক্ষিত মুক্তির লক্ষ্যে। ১৯৪৭ সালে ধর্মীয় চিন্তা, সাম্প্রদায়িকতার মানসিকতা ও দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ২৩ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যদিয়ে বাঙালি জাতিসত্তা, জাতীয়তাবোধ ও জাতিরাষ্ট্র গঠনের যে ভিত রচিত হয় তারই চূড়ান্ত পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর ছাত্র-কৃষক-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনের জন্য মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে বাঙালি জাতি। এই বিজয়ের মধ্যদিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চের  ১৮ মিনিট স্থায়ী এই ঐতিহাসিক ভাষণটি বিশ্বের ১২টি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে ৷ বিশ্বের যে কয়েকটি রাজনৈতিক ভাষণ উল্লেখযোগ্য তার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অন্যতম।  এই ভাষণের ভাষা ও শব্দের অলংকারে মুগ্ধ হয়ে বিশ্বের স্বনামধন্য পত্রিকা নিউজউইক ম্যাগাজিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির কবি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

আর ২০১৭ সালের ৩০শে অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণকে বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ইউনেস্কো’র মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে নিবন্ধন করে নিয়েছে। এবং এটিই প্রথম কোনো বাংলাদেশি দলিল, যা আনুষ্ঠানিক ও স্থায়ীভাবে পৃথিবীতে সংরক্ষিত হবে। ইউনেস্কো’র মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড  রেজিস্টারে এ পর্যন্ত ৫২৭টি ডকুমেন্ট রেজিস্টার করা হয়েছে।

এছাড়া লেখক ও ইতিহাসবিদ এফ ফিল্ডের বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা ‘উই সেল ফাইট অন দ্য বিস: দ্য স্পিচ দ্যাট ইন্সপায়ার্ড হিস্ট্রি’ গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ স্থান পেয়েছে। এতে বিশ্ব দরবারে জাতির পিতা ও বাঙালি জাতির মর্যাদা এক অনন্য স্থানে পোঁছে গেছে সে বিষয়ে কোন সন্দেহর অবকাশ নেই।

রাষ্ট্রপতির বাণীঃ রাষ্ট্রপতি বলেন, “বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ শুধু আমাদের জন্য নয়, সারা বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে। একটি ভাষণ কীভাবে সমগ্র জাতিকে জাগিয়ে তুলতে পারে, স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে পারে, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ তার অনন্য উদাহরণ।”

প্রধানমন্ত্রীর বাণীঃ “জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের বিশ্ব স্বীকৃতি আজ বাঙালি জাতির জন্য সম্মান ও গৌরবের স্মারক। আমি বিশ্বাস করি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান এবং জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ আমাদের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে অনুপ্রাণিত করবে।”

৭ই মার্চ উপলক্ষে কর্মসুচিঃ দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সরকারি-বেসরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দেশজুড়ে মাইকে বাজানো হবে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ। এ উপলক্ষে সরকারিভাবে ক্রোড়পত্র প্রকাশ ও বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সরকারি দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের পাশাপাশি দেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, রেডিও স্টেশন ও জাতীয় দৈনিকগুলোতে দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের স্মরণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালনের লক্ষ্যে মন্ত্রিসভা ২০২০ সালের ৭ই অক্টোবর ৭ মার্চকে ‘জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস’-এর পরিবর্তে ‘ঐতিহাসিক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে।

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিধসে ১৫ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইন্দোনেশিয়ায় প্রবল বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসে ১৫ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। গতকাল সোমবার (৬ মার্চ) দক্ষিণ চীন সাগরের তীরবর্তী ইন্দোনেশিয়ার নাতুনা অঞ্চলের এ ঘটনা ঘটে। খবর আলজাজিরা।

দেশটির জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা (বিএনপিবি) থেকে পাওয়া ছবি এবং ভিডিওতে দেখা জায়, সেরাসান দ্বীপের বনাঞ্চল এলাকায় ভূমিধস হচ্ছে এবং ঘরবাড়িতে মাটি ও ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে।

বিএনপিবি টুইটারে জানায়, ভূমিধস কবলিত এলাকাটি দুর্গম এবং সেখানে প্রবল বৃষ্টি হওয়ায় উদ্ধারকাজ চালানো জটিল। ওই অঞ্চলটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

নাতুনা সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এজেন্সির প্রধান আবদুল রহমান বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘১৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং ৫০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।’

রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র জুনাইনাহ বলেন, ‘আবহাওয়ার অবস্থা বদলাচ্ছে। এখনও জোরে বাতাস বইছে। জোয়ারের ঢেউয়ের উচ্চতা বেশি।’

ভূমিধসের কারণে এলাকার প্রধান সড়কটিও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও ব্যাহত করছে।

ইতোমধ্যে ৬০ জনের একটি উদ্ধারকারী দল দ্বীপটিতে পাঠানো হয়েছে। বিএনপিবির মুখপাত্র আবদুল মুহারি বলেন, দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালাতে মঙ্গলবার একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হবে।

ইন্দোনেশিয়ায় বর্ষাকালে ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকে এবং দীর্ঘ সময়ের বৃষ্টিতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশটির প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভবনা আরও জোরালো হচ্ছে।

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় ৪টি প্রতিষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন বিভাগের অভিযান

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায়  জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বিভিন্ন ব‍্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ১৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। পৃথক চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাজার অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার দুপুরে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্বে দেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নওগাঁর সহকারী পরিচালক মো: রুবেল আহমেদ।

সহকারী পরিচালক মো: রুবেল আহমেদ জানিয়েছেন ধামইরহাট উপজেলা সদরের কিসমতিয়া হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্টের পণ‍্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার জন‍্য ৩৮ ধারায় ১ হাজার টাকা, প্রতিশ্রুত পণ‍্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রয় বা সরবরাহ না করার জন‍্য ৫৪ ধারায় ৪ হাজার টাকা, ভাই ভাই মিষ্টিঘর -এর বিরুদ্ধে পণ্যের মোড়ক ব্যবহার না করায় ৩৭ ধারায় ১ হাজার টাকা ও অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরনের জন্য ৪৩ ধারায় ২ হাজার টাকা, আব্দুর রহমান মুরগি ঘরে পণ‍্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ৩৮ ধারায় ১ হাজার টাকা ও প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা বিক্রয় বা সরবরাহ না করায় ৪৫ ধারায় ১ হাজার টাকা এবং নর্থ বেঙ্গল ভ‍্যারাইটিজ ষ্টোরে পন্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার কারনে ৩৮ ধারায় ৩ হাজার টাকা জরিমান করেন।

বিশ্বে করোনায় আরও ৩১২ জনের মৃত্যু

স্বাস্থ্য ডেস্কঃ করোনায় বিশ্বব্যাপী গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯ হাজার ৯৭৭ জন। সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৩৪ জন। আজ মঙ্গলবার (৭ মার্চ) সকালে করোনার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তাইওয়ানে। দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৪৫ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ৮০ জন। একইসময়ে বিশ্বে বেশি আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে রাশিয়ায়। এ সময়ে দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছে ১১ হাজার ১৬৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ৩৩৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের। ফ্রান্সে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৫৩ জন এবং মারা গেছেন ৪৩ জন। জাপানে আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ২৬৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের। দক্ষিণ কোরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৩০০ জন এবং মারা গেছেন ৯ জন। রাশিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ১৬৩ জন এবং মারা গেছেন ৩৮ জন। ইরানে আক্রান্ত হয়েছে ৫১১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।

একইসময়ে চিলিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৩১ জন এবং মারা গেছেন ১৭ জন। থাইল্যান্ডে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। ফিলিপাইনে আক্রান্ত হয়েছেন ১১৭ জন এবং মারা গেছেন ৭ জন। রোমানিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৭০৪ জন এবং মারা গেছেন ৩২ জন। সার্বিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ৯৫৩ জন এবং মারা গেছেন ৯ জন। ক্রোয়েশিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ৩৩৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। পানামায় আক্রান্ত হয়েছে ৪৫৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের।

বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৮ কোটি ৭ লাখ ৪২ হাজার ১২৯ জন। এরমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬৮ লাখ ৫ হাজার ৬৪৯ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৬৫ কোটি ৩৬ লাখ ৪৩ হাজার ৯০১ জন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে।

একাদশে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন শুরু

শিক্ষা ডেস্কঃ একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২০ মার্চ পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন চলবে বলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়।

এতে বলা হয়েছে, দেশের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ভর্তির ওয়েবসাইটে (www.xiclassadmission.gov.bd) ‘কলেজ লগইন’ প্যানেলে লগইন করে আগামী ২০ মার্চ বিকেল ৫টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে উদ্ভূত জটিলতার জন্য শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।

এর আগে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান চলছে।

পাকিস্তানে বোমা হামলায় পুলিশকে হত্যার দায় স্বীকার আইএসের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে ৯ পুলিশকে হত্যার দায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে সাইট ইন্টেলিজেন্স। গতকাল সোমবার (৬ মার্চ) স্থানীয় সময় সকালে প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পূর্বে সিব্বি শহরে হামলার ওই ঘটনা ঘটে। এতে আরও ১৩ পুলিশ সদস্য আহত হন। খবর রয়টার্সের।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এদিন এক আত্মঘাতী বোমারু মোটরসাইকেলে করে এসে পুলিশ ভ্যানে ধাক্কা দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়।

এদিকে, হামলার এ ঘটনার পর সাইট ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক রিটা কাটজ এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, বেলুচিস্তানের সিব্বিতে আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএসআইএস (আইএস)।

পাকিস্তানে প্রায়শই বোমা হামলার ঘটনা ঘটলেও এসব ঘটনার দায় নেয় তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান তথা টিটিপি। তবে এবারই আইএসের দায় স্বীকারের ঘটনা ঘটল।

জানাযা নামাজে লাঞ্ছিতের ঘটনায় রাণীশংকৈলে জাপা নেতার সংবাদ সম্মেলন

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ জানাযা নামাজ শেষে মানুষ মাটি দিতে গিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক কমিটির সদস্য, জেলা জাতীয় হকার্স পার্টির আহবায়ক ও সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম গত রবিবার ৫ মার্চ রাউতনগরের ব্যবসায়ী জাফর আলী ও তার লোকজনের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। প্রেক্ষিতে তিনি সোমবার ৬ মার্চ সন্ধ্যায় পৌরশহরের সিমলা ইন্টারন্যাশনাল (লিঃ)অফিসে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।

এতে রাণীশংকৈল প্রেসক্লাব (পুরাতন) সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির, সাবেক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম শিল্পি, সহ-সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সুজন,সদস্য মাহবুব আলমসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এই সাথে ঘটনার সাক্ষী ও অন্যতম অভিযোগকারি মহিলা কলেজের শরীর চর্চা শিক্ষক মঈনউদ্দীন বিশ্বাসও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সিরাজুল ইসলাম তার লিখিত বক্তব্যে গত ৫ মার্চ রাউতনগরের মঈনউদ্দীন বিশ্বাসের মায়ের জানাজা অনুষ্ঠানে একই এলাকার ব্যবসায়ী জাফর আলী ও তার ছেলেদের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনার বর্ণনা দেন। সিরাজুল অভিযোগ করেন তাকে বিনাকারণে উদ্দেশ্যমূলকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।

তিনি গণমাধ্যমে প্রচারপূর্বক এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। সিরাজুলের অভিযোগ সমর্থন করে মঈনউদ্দীনও তার মায়ের যানাজায় মারধরের ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করেন।

নওগাঁর আত্রাই পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাই পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এসএসসি-২০২৩ পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংর্বধনা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৬ মার্চ) প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোঃ আফছার আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আত্রাই পাইট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আজিমুদ্দীন প্রামানিক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক কামাল উদ্দিন টগর, অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য ও পাঁচুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল হাকিম শেখ, মোঃ এনামূল হক, দুদু মিঞা, শিক্ষিকা ফৌজিয়া বেগম প্রমূথ।

বিকাল তিনটায় বিদ্যালরয়ের শিক্ষার্থীদের সমন্নয়য়ে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

জাতীয় ডেস্কঃ আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। আজ মঙ্গলবার (৭ মার্চ) যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করছে জাতি। ১৯৭১ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে মুক্তিকামী বাঙালীকে স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।

সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সবস্তরের মানুষ। সেসময় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা জানান বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রাদোয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি। পরে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, বিএনপি স্বাধীনতায় বিশ্বাস না করায় সাতোই মার্চ পালন করে না।

এ সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, শাজাহান খান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুবু-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ দলটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সারাদেশে নানা আয়োজনে ঐতিহাসিক এই দিনটি উদযাপিত হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একাত্তরের ৭ মার্চ দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ পরবর্তীতে স্বাধীনতার সংগ্রামের বীজমন্ত্রে রূপ নেয়। এ ভাষণ শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলিলই নয়, জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয় বিধানের একটি সম্ভাবনাও তৈরি করে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। এছাড়াও এ ভাষণটি পৃথিবীর অনেক ভাষায় অনুদিত হয়েছে।