সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে ফুলবাড়ীতে গণঅবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুমিল্লা, নোয়াখালী, রংপুর ও কুড়িগ্রামের উলিপুরসহ সারাদেশে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে গণঅবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ফুলবাড়ী কুড়িগ্রাম শাখার আয়োজনে এ গণঅবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। শনিবার সকাল ১১ টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে কেন্দ্রীয় মন্দিরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রবিন্দ্র নাথ রায়ের সভাপতিত্বে সভায় কানাইনাল সরকার, শুশীল চন্দ্র রায়, সুনীল চন্দ্র রায়, কার্ত্তিক চন্দ্র সরকার, ভারত চন্দ্র রায়, শংকর চন্দ্র সেন প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

স্বাধীনতাবিরোধী ও বিএনপি-জামাত পরিকল্পিত ভাবে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার জন্য সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে

সিএনবিডি ডেস্কঃ স্বাধীনতাবিরোধী ও ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বেনিফিশিয়ারি বিএনপি- জামাতের নেতাকর্মীরা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে কুমিল্লা, রংপুর সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে।

গতকাল শনিবার ২৩ অক্টোবর বিকাল ৩ টায় কদমতলী থানা আওয়ামীলীগ এর উদ্যোগে ডঃ মোঃ আওলাদ হোসেন এর নেতৃত্বে জুড়াইন রেলগেট সংলগ্ন খোলা চত্বর থেকে দোলাইরপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য (প্রস্তাবিত) গোল চত্বর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মিছিল শেষে কদমতলী থানা আওয়ামীলীগ এর সভাপতি মোহাম্মদ নাছিম মিয়ার সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ডঃ মোঃ আওলাদ হোসেন বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের সম্প্রীতির বাংলাদেশে কুমিল্লায় মন্দিরে উদ্দেশ্যমুলকভাবে যে ঘটনা ঘটানো হয়েছে তা নিন্দনীয়। স্বাধীনতা বিরোধী বিএনপি জামাতের সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিত ভাবেই দেশটাকে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার জন্যই এই কাজটি করেছে। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মী ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের সকল শক্তিকে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা পরিষদ সদস্য, মোঃ আলমগীর হোসেন, ঢাকা মহানগর যুবলীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ আহমেদ, শ্যামপুর থানা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক শরীফ মোহাম্মদ শাহজাহান, হাজী মহব্বত হোসেন, কদমতলী থানা মহিলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সাজেদা বেগম, শ্যামপুর থানা শ্রমিক লীগ সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বাবু, কদমতলী থানা শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, শ্যামপুর থানা মৎস্য লীগ সভাপতি উজহ, সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন, কদমতলী থানা আওয়ামীলীগ সদস্য শহীদ মাহমুদ হেমী, রোখসানা বেগম পারুল, কাজী জাহিদ, আওয়ামী লীগ নেতা কাজী মামুন, আরিফ হোসেন, মনিরুজ্জামান মনিরসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

নবাবগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউপিতে নৌকার মাঝি হলেন যারা

অলিউর রহমান মেরাজ, নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর প্রতিনিধি :  আগামী ২৮ নভেম্বরের ইউপি নির্বাচনে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। গেল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবন ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ- এর সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়।

যারা মনোনীত হয়েছে তারা হলেন-১নং জয়পুরে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আইনুল হক ,২নং বিনোদনগরে ছনোয়ার রহমান, ৩নং গোলাপগঞ্জে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, ৪নং শালখুরিয়াতে মুশফিকুর রহমান, ৫নং পুটিমারাতে সরোয়ার হোসেন, ৬নং ভাদুরিয়াতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আহসানুল কবির শামীম, ৭নং দাউদপুরে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্ল হেল আজিম সোহাগ, ৮ নং মাহমুদপুরে আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আমির হোসেন মন্ডল এবং ৯নং কুশদহে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সায়েম সবুজ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদ শিবলী সাদিক এমপি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শ্রীমঙ্গল পৌর নির্বাচনে নৌকার মাঝি সৈয়দ মনসুরুল হক

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: বহু আলোচনা সমালোচনা মুখোমুখি হয়ে অপেক্ষার ১০ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌরসভা নির্বাচন। আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে পৌর মেয়র। এই নির্বাচনে সরকারি দল আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী (নৌকা মার্কা) প্রতিক নিয়ে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ ও দ্বারিকা পাল মহিলা কলেজের সৈয়দ মনসুরুল হক।

মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এ বিষয়ে আমার সাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নানক ভাই (জাহাঙ্গীর কবির নানক) ও দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব দা (বিপ্লব বড়ুয়া) কথা হয়েছে। তারা সৈয়দ মনসুরুল হককে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে শ্রীমঙ্গল আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয়ভাবে শ্রীমঙ্গল থেকে ৩ জনের নাম আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে পাঠানো হয়।

সৈয়দ মনসুরুল হক ছাড়াও অন্য দু’জন হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকরাম খান এবং সদ্য বিএনপি থেকে সরকারি দলে আসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কদর আলী।

কুড়িগ্রামে নি‌খোঁজের ২ দিন পর কৃষ‌ক বদিউজ্জামানের মৃতদেহ উদ্ধার

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কু‌ড়িগ্রা‌মের উলিপু‌রে তিস্তা নদীতে নি‌খোঁজের ২ দিন পর কৃষ‌ক বদিউজ্জামানের (৫৫) মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। গতকাল শ‌নিবার সকালে ‌থেতরাই ইউনিয়নের চর জুয়ান সতরা এলাকা থেকে এক কিলোমিটার দুরে তিস্তা নদী‌তে মাছ ধরার সময় জে‌লেরা এক‌টি মৃতদেহ দেখ‌তে পান। খবর পেয়ে তার স্বজনরা ব‌দিউজ্জামা‌নের মৃতদেহ শনাক্ত ক‌রেন। প‌রে সকাল সাড়ে ১০টার দি‌কে পা‌রিবা‌রিক কবরস্থা‌নে তার লাশ দাফন করা হয়।

নিহত কৃষক উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের নগর পাড়া গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার দুপু‌র আড়াইটার‌ দি‌কে চর জুয়ান সতরা থে‌কে গরুর জন্য ঘাস নি‌য়ে বা‌ড়ি ফেরার প‌থে তিস্তা নদীর তীব্র স্রো‌তে ডু‌বে যান কৃষক ব‌দিউজ্জামান। প‌রে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সা‌র্ভি‌সের ডুবুরি দল অভিযান চা‌লালেও তার সন্ধান মেলেনি। অবশেষে নি‌খোঁজের ২ দিন পর ঘটনাস্থল থে‌কে প্রায় এক কি‌লো‌মিটার ভা‌টিতে তার মৃতদেহ ভে‌সে ওঠে।

উলিপুর থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির নিখোঁজ কৃষকের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নওগাঁ সাহিত্য পরিষদের সভাপতি হাবিব রতন ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল নয়ন

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধি: সৃষ্টি সুখের উল্লাসে শ্লোগান নিয়ে গঠিত নওগাঁ সাহিত্য পরিষদ এর দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে হাবিব রতন সভাপতি ও আশরাফুল নয়ন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছে। গেল শুক্রবার দুপুরে শহরের মুক্তির মোড় মৃত্তিকা এ্যাডফার্মে সংগঠনের উপদেষ্টামন্ডলী ও সদস্যদের নিয়ে এ কমিটি গঠিত হয়।

গঠিত কমিটির অন্যান্যরা হল সহ-সভাপতি সাহিত্য বিষয়ক ছোটকাগজ পালকি সম্পাদক কবি অরিন্দম মাহমুদ, লিটলম্যাগ রূপান্তর সম্পাদক কবি রবিউল মাহমুদ, সলক সম্পাদক কবি অনিন্দ্য তুহিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাকতাড়ুয়া সম্পাদক কবি রিমন মোরশেদ, কবি এস এইচ নীর, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয় শহিদুল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মারিয়া নুর, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আসলাম হোসেন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সুস্মিতা সাহা, সহ-সাহিত্য ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক প্রনব কুমার, আসর পরিচালনা বিষয়ক সম্পাদক আরাফাত হিমেল, সহ-আসর পরিচালনা বিষয়ক সম্পাদক হোসাইন নাসির, দপ্তর সম্পাদক গুলজার রহমান, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নিশাত রত্নাসহ-তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক কনক সাহা, কার্যনিবাহী সদস্য, সিরাজুল ইসলাম মন্টু, রবিউল আলম ফিরোজ, রফিক বকুল, আবু সাইদ, আক্কাস আলী।

সম্মেলনে দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা কবি সুমন সৈকত, গল্পকার টগর মেহেদি, কবি রাজা বর্ণিলসহ প্রমূখ। পরে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষাণা করেন উপদেষ্টা শূন্য দশকের স্পষ্টবাদী কবি শাহীন খন্দকার।

রাণীশংকৈলে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের উত্তর মন্ডলপাড়া গ্রামে একটি পুকুরের পানিতে ডুবে রোহান (৫) নামের এক শিশু মারা গেছে। গত ২১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মৃত রোহান ওই গ্রামের আকবর আলী মাস্টারের ছেলে।
রাণীশংকৈল ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেলে রোহান খেলতে খেলতে বাড়ির অদূরে একটি পুকুরের কাছে যায়। ইতোমধ্যে সে বাড়িতে ফিরে না এলে বাড়ির লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজি করতে করতে ওই পুকুর পাড়ে যায়। রোহান ওই পুকুরে পড়ে ডুবে গেছে সন্দেহ করে তারা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে পুকুর থেকে সোয়া ছয়টায় রোহানের মৃতদেহ উদ্ধার করেন। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা নাসিম ইকবাল এ মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেন।

অসময়ের বন্যায় কুড়িগ্রামে ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ গত ৩-৪ দিনের ভারী বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার ঘড়িয়াল ডাঙ্গা ইউনিয়নের চর খিতাব খাঁ,চর গতিয়াশাম, বুরির হাটের চর, বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের পাড়ামৌলা মন্দির, চতুরা, শিয়াল খাওয়ার চর, গাবুরহেলান, তৈয়ব খাঁন এবং নাজিমখাঁন ইউনিয়নের চর রতিদেব, সোমনারায়ন সহ এসব এলাকার নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে রোপা আমন, আগাম সবজি, আলু সহ নানান ফসলের ক্ষেত। পানিতে ডুবে গেছে রাস্তা ঘাট,বাজার সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরে তাসনিম সহ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাগন।কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদ সীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, বন্যা দুর্গতদের জন্য ২০ মেট্রিকটন চাউল, নগদ ৪ লক্ষ টাকা ,পূর্বের ১০ মেট্রিকটন চাউল, শিশু খাদ্য ও গবাদী পশু খাদ্য সামগ্রী দ্রুত বিতরনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ছোট্ট শিশু শেখ রাসেল‘র জীবনের অন্তিম মূহুর্তগুলো

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রত্যূষে স্বাধীনতাবিরোধীদের প্ররোচনায় একদল বিপদগামী তরুণ সেনা কর্মকর্তা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য এবং তাঁর ব্যক্তিগত কর্মচারীদের সাথে ছোট্ট শিশু শেখ রাসেলকেও হত্যা করে। শেখ রাসেলকে হত্যা করার পূর্বে ব্যক্তিগত কর্মচারী আব্দুর রহমান রমাসহ তাকে খুনীরা আটক করে । আতঙ্কিত হয়ে শিশু শেখ রাসেল কান্নাজড়িত কণ্ঠে একথাগুলো বলেছিলেন, বাঁচার জন্য আকুতি মিনতি করেছিলেন।

শেখ রাসেল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র। রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বঙ্গবন্ধু ভবনে ১৮ অক্টোবর, ১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন ।

ভাই-বোনের মধ্যে অন্যরা হলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর অন্যতম সংগঠক শেখ কামাল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা শেখ জামাল এবং শেখ রেহানা। বেঁচে থাকলে আজ ২২ অক্টোবর ২০২১ শেখ রাসেলের বয়স ৫৭ বছর ৪ দিন হতো । কিন্তু তিনি চিরদিন ১০ বছরের শিশু রাসেল হয়েই বেঁচে থাকবেন ইতিহাসের পাতায় ।

কনিষ্ঠ পুত্র হিসেবে পরিবারে শেখ রাসেলের আদর একটু বেশিই ছিল। বাবা শেখ মুজিব তাকে ভালোবাসতেন খুব। বাসায় ফিরে ঘরে ঢুকে বঙ্গবন্ধু প্রথমেই খুঁজতেন রাসেলকে। রাসেল, রাসেল বলে ভরাট কণ্ঠে ডাক দিতেন আদরের ছোট্ট ছেলেকে। স্বাধীনতার পূর্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রাজনৈতিক কারনে বেশীরভাগ সময়ই কারাগারে বন্দী থাকতেন। ফলে শেখ রাসেল বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। শেখ রাসেল মা‘র সাথে কারাগারে যেতেন। সেখানে বাবার সাথে দেখা হতো। তার ধারনা ছিল, ধানমন্ডির ৩২ নং রোডের বাড়ীটি পরিবারের  সকলের বাড়ী, কারাগার তার বাবার বাড়ি। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু রাসেলকে সময় বেশ দিতেন। রাসেলও বাবাকে কাছে পাওয়ার জন্য, বাবার কোলে চড়ার জন্য অপেক্ষায় থাকত সব সময়। বাবার ডাক শোনার সাথে সাথেই এক দৌঁড়ে ছুটে আসত বাবার কাছে। বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠতেন একজন প্রিয় পিতা। পিতা-পুত্রের আনন্দঘন আড্ডায় পুরো বাড়ি যেন স্বর্গ হয়ে উঠত।

১৯৭২ সালে জাপানী চলচ্চিত্রকার Nagisa Oshima নির্মিত `Rahman, Father of Bengal` স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে জাপানি সাংবাদিক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাক্ষাতকার গ্রহণের সময় প্রশ্ন করেছিলেন, ‘লক্ষ্য করছি একটি ছোট্ট ছেলে সবসময় আপনার চারপাশে ঘুরঘুর করে । ছেলেটি কে? কেন সে সবসময় আপনার চারপাশে থাকে?’

উত্তরে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘ছেলেটির বাবা জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কারাগারে থাকতো। ফলে সে তার বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে । আমি তার বাবা, তাই সে সবসময় আমার চারপাশে ঘুরঘুর করে’।

শেখ রাসেলের হাসু আপু ১৫ আগস্টের ভয়াবহ কালরাতের মাত্র কয়েকদিন পূর্বেই (৩১ জুলাই) অনিচ্ছাসত্ত্বেও সুদূর জার্মানীতে স্বামীগৃহে চলে গেছেন, সাথে আরেক বোন শেখ রেহানাও । “শেখ হাসিনা জার্মানীতে যাওয়ার সময়, ‘আমি হাসু আপুর সাথে যাবো, দেনা আপুর সাথে যাবো’ বলে খুব কেঁদেছিল রাসেল । শেখ রাসেল শেখ রেহানাকে ‘দেনা আপু’ বলে ডাকতেন”, শেখ রাসেল দিবস ২০২১ উদযাপন উপলক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ওয়াহিদা আক্তার একথাগুলো বলেন। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তেও সেই হাসু আপুর কাছে যাওয়ার জন্যেই আকুতি-মিনতি করছিল, মায়ের পর হাসু আপাকেই নিরাপদ আশ্রয় মনে করেছিলেন তিনি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাত দিয়ে  মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব  কৃষিবিদ ওয়াহিদা আক্তার আরও বলেন, ‘শেখ রাসেল এর হাসু আপু (শেখ হাসিনা) স্বামীর কর্মস্থল জার্মানে গিয়ে ছোট ভাই রাসেলের পছন্দের খেলনা কিনেছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজও ঐসকল খেলার সামগ্রী আগলে রেখেছেন‘।

২০১৯ সালে শেখ রাসেলের জন্মদিনের আলোচনা সভায় বড়বোন শেখ হাসিনা স্মৃতিচারণ করে বলেছেন, ‘বন্দিখানায় থাকা অবস্থায় যখন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, সেই যুদ্ধের সময় যখন আক্রমণ হতো, রাসেল পকেটে সব সময় একটু তুলা রাখতো। নিজের কানে দেওয়ার পাশাপাশি ছোট্ট জয়ের কানেও তুলা দিয়ে দিতো, যেন ওই আওয়াজে জয়ের কোনও ক্ষতি না হয়। রাসেল জয়ের প্রতি খুব খেয়াল রাখতো । সব সময়ই তার সেদিকে বিশেষ নজর ছিল।’

অপর এক আলোচনায় শেখ রাসেলের জীবনের ইচ্ছে এবং তার কোমল হৃদয়ের চাওয়া নিয়ে বলতে গিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাসেলের খুব শখ ছিল সে বড় হয়ে আর্মি অফিসার হবে এবং সেভাবে কিন্তু সে নিজেকে তৈরি করতো । ছোট ছোট গরিব শিশুর প্রতি তার দরদ ছিল, যখন সে গ্রামে যেতো গ্রামের অনেক শিশুকে সে জোগাড় করতো । সে কাঠের বন্দুক বানাতো । শিশুদের জন্য মাকে বলতো কাপড় কিনে দিতে হবে। মা ঠিকই কিনে দিতেন । বাচ্চাদের সে প্যারেড করাতো।’

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তি জীবনের অজানা-অদেখা গল্প নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘হাসিনা: অ্যা ডটারস টেল’-এ বড়বোন শেখ হাসিনা ছোট ভাই রাসেল সম্পর্কে বলেছেন, ‘রাসেল হওয়ার (জন্মের) পরে আমরা ভাইবোনেরা খুব খুশি হই । যেন খেলার পুতুল পেলাম হাতে। ও খুব আদরের ছিল আমাদের। একটা ব্যক্তিত্ব নিয়ে চলতো। ওইটুকু একটা মানুষ, খুব স্ট্রং পার্সোনালিটি ।’

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রচিত ‘আমাদের ছোট রাসেল সোনা’ বইয়ে স্মৃতিচারণ করে তার ছোট ভাই সম্পর্কে লিখেছেন, ‘আমাদের পাঁচ-ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট রাসেল। ছোট্ট রাসেল আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে। মা রাসেলকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে সংসারের কাজ করতেন, স্কুল বন্ধ থাকলে তার পাশে শুয়ে আমি বই পড়তাম । আমার চুলের বেণি ধরে খেলতে খুব পছন্দ করতো ও। আমার লম্বা চুলের বেণিটা ওর হাতে ধরিয়ে দিতাম। ও হাত দিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে হাসতো। কারণ, নাড়াচাড়ায় মুখে চুল লাগতো তাতে খুব মজা পেতো।’

বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকলের এতো আদরের ছোট্ট রাসেল ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের কালো রাতের শেষ প্রহরে মৃত্যু ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে বাচার জন্য মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য কাকুতি মিনতি করতে থাকলে নরপিশাচরা, মায়ের কাছে নিয়ে যাবে বলে, গৃহকর্মী ও খেলার সাথী আব্দুর রহমান রমার হাত থেকে হেঁচকা টান দিয়ে শেখ রাসেলকে ছিনিয়ে নেয়। এরপর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত পরবর্তি সময়টুকু তাঁর কেমন কেটেছিল, কতটুকু মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক হয়েছিল তা ঐ ঘাতকেরাই জানে । তবে বাহ্যিক চোখ বন্ধ করে হৃদয়ের চোখ দিয়ে যদি দেখি বা অনুমান করি তবে হয়তো এইভাবে বলা যায়, ‘মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার পথে দেখলো সিঁড়িতেই পরে আছে তার বাবার লাশ । হতভম্ব শিশু শেখ রাসেল । নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিল না। এ কি করে হয়? তাঁর বাবা,   যিনি বাঙালি জাতির পিতা ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃতদেহ পরে আছে সিঁড়িতে?  কিছু বুঝে ওঠার আগেই টেনে হেঁচড়ে তাঁকে নিয়ে গেল মায়ের কাছে । মায়ের লাশ দেখে মায়ের বুকে আছড়ে পড়েছিল- মা, মা বলে বুক ফাটিয়ে চিৎকার করে আর্তনাদ করেছিল । মায়ের কোন সাড়া পায়নি । মা তাকে বুকে জড়িয়ে আদর করে বলেনি, ‘ভয় নাই বাবা। কিচ্ছু হবে না । আমি আছি তোমার কাছে’। মায়ের নিথর দেহ পরে আছে মাটিতে । মা-বাবার পর ঐ ছোট্ট শিশু দেখলো সদ্যবিবাহিত তার বড় ভাই, মেঝ ভাই, বড় ভাবী, মেঝ ভাবীর লাশ’। কি বেদনাদায়ক এই দৃশ্য।

আমরা পরিবারের একজন নিকটাত্মীয়ের মৃত্যতে ভেঙ্গে পরি, চাপা ব্যথা অনুভব করি, জ্ঞান হারিয়ে ফেলি,  আর্তনাদ করি । অথচ ছোট্ট শিশু শেখ রাসেল অল্পক্ষণের মধ্যে বাবা-মাসহ নিজ পরিবারের এতজন সদস্যের মৃত্যু এবং তাঁদের সারিসারি লাশ দেখার অসহনীয় যন্ত্রণা সহ্য করেছেন । তখন হয়তো ভেবেছেন, হাসু আপু, দেনা আপুর সাথে বেড়াতে গেলেই ভালো হতো । হয়তো ভেবেছেন, হাসু আপু আমাকে নিয়ে গেল না কেন? ঐ মূহুর্তে শেখ রাসেলের মনের অবস্থা অনুভব করার বোধশক্তিও আমার নাই । শেখ রাসেলের মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সে এই যন্ত্রণা ভোগ করেছিল । এমনি অবস্থায় হঠাৎ গর্জে উঠলো ঘাতকের আগ্নেয়াশ্র, ঝাঁঝড়া হয়ে গেল শেখ রাসেলের বুক, ঘাতকেরা বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে সাঙ্গ করে দিল তাঁর স্বজন হারানোর অসহনীয় বেদনা।

পরম করুনাময় মহান আল্লাহ শেখ রাসেলসহ ১৫ আগস্টের সকল শহীদদের জান্নাতবাসী করুন। আমিন।

ড. মোঃ আওলাদ হোসেন
ভেটেরিনারীয়ান, পরিবেশবিজ্ঞানী, রাজনৈতিক কর্মী ও কলামিস্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ।

কুমিল্লায় কোরান অবমাননার ঘটনায় সহিংসতার প্রতিবাদে রাণীশংকৈলে র‍্যালি ও সভা

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পৌর শহরের চৌরাস্তা মোড়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা আ’লীগের উদ্যোগে সম্প্রতি দুর্গাপুজায় কুমিল্লায় কোরান অবমাননার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার প্রতিবাদে মিছিল ও সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আ’লীগ সভাপতি অধ্যক্ষ সইদুল হকের সভাপতিত্বে সভায় সভাপতি ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ইয়াসিন আলী, আ’লীগ সম্পাদক তাজউদ্দিন, আ’লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম, ফরিদা ইয়াসমিন, সুকুমার মোদক, ছবিকান্ত দেব, রেজাউল ইসলাম, অনিল বসাক, প্রশান্ত বসাক, মৌলানা আব্দুল হাকিম, মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান, আবু শাহানশাহ ইকবাল, আহমেদ হোসেন বিপ্লব, অমল কুমার রায়, মহাদেব বসাক, তারেক আজিজ, প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সভাপতি প্রাণ গোবিন্দ সাহা বাচ্চু, সম্পাদক সাধন বসাক, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেফালী বেগম, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাহাফুজা বেগম ও ওয়ার্কার্স পার্টি নেতা সাদেকুল ইসলাম প্রমুখ।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে সকলকে সজাগ থাকার আহবান জানান এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পরে আ’লীগ সভাপতি অধ্যক্ষ সইদুল হককে সভাপতি করে একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি ও শান্তি রক্ষা কমিটি গঠন করা হয়।