আফগানিস্তানের পাঁচ প্রদেশে মেয়েদের লেখাপড়ার অনুমতি দিয়েছে তালেবান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আফগানিস্তানের পাঁচটি প্রদেশে মেয়েদের মাধ্যমিক স্কুলগুলো খুলে দিয়েছে তালেবান সরকার।

এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের মেয়ে শিক্ষার্থীরা যাতে স্কুলে যেতে পারে, সে লক্ষ্যে তালেবান সরকার একটি ‘কাঠামো’ ঠিক করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী দু-এক মাসের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন হলে সব আফগান মেয়েশিক্ষার্থী স্কুলে যেতে পারবে। তালেবানের শিক্ষামন্ত্রীর বরাত দিয়ে জাতিসংঘের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা-ইউনিসেফের উপনির্বাহী পরিচালক ওমর আবদি গত শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বলেন, তালেবানের শিক্ষামন্ত্রী তাঁকে জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের মোট ৩৪ প্রদেশের মধ্যে পাঁচটি প্রদেশের মেয়েদের মাধ্যমিক স্কুলগুলো খুলে দিয়েছে তালেবান সরকার। এই পাঁচ প্রদেশ হচ্ছে-উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বালখ, জুজজান ও সামানগান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কুন্দুজ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উরুজগান।

এছাড়া, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের মেয়েরা যাতে স্কুলে যেতে পারে, সে লক্ষ্যে তালেবান সরকার একটি ‘গঠনকাঠামো’ ঠিক করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন হলে সব আফগান ছাত্রী স্কুলে যেতে পারবে।

তবে ইউনিসেফ উপ-প্রধানের সাম্প্রতিক বক্তব্য সম্পর্কে তালেবানের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, তালেবান সেপ্টেম্বর মাসে আফগানিস্তানে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করার ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো দেশ তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। যেসব গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেখিয়ে আন্তর্জাতিক সমাজে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না, সেগুলোর অন্যতম হচ্ছে-মেয়েদের লেখাপড়া করার অনুমতি না দেওয়া।

২০২১ সালে বাংলাদেশ মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে : আইএমএফ

অনলাইন ডেস্কঃ সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি ২০২১ সালে চলতি মূল্যে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হবে ২ হাজার ১৩৮ দশমিক ৭৯৪ ডলার। আর একই সময়ে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি হবে ২ হাজার ১১৬ দশমিক ৪৪৪ ডলার। এর ফলে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ভারতকে আবারও ছাড়িয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

আইএমএফ জানিয়েছে, করোনার প্রভাব কাটিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত- উভয় দেশই বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। এর মধ্যে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে বেশি, ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, আর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। ভারতের প্রবৃদ্ধি বাড়লেও আগের বছর ভারতের অর্থনীতি বেশি মাত্রায় সংকুচিত হয়েছিল। এ কারণেই আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছে বাংলাদেশের সামনে।

ঠিক এক বছর আগে আইএমএফ এবারের মতোই ডব্লিউইও প্রকাশ করে জানিয়েছিল, ২০২০ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, আর ভারতের প্রবৃদ্ধি কমে হবে ঋণাত্মক, অর্থাৎ (-) ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। এর ফলে ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হবে ১ হাজার ৮৮৮ ডলার ও ভারতের হবে ১ হাজার ৮৮৭ ডলার। সুতরাং গতবার বাংলাদেশ ছিল ঠিক এক ডলারে এগিয়ে।

আইএমএফ অবশ্য এখন এসে বলছে, ২০২০ সালে প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে ভারতের প্রবৃদ্ধি ছিল ঋণাত্মক, (-) ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে শেষ পর্যন্ত তাদের হিসাবে ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হয় ১ হাজার ৯৬১ দশমিক ৬১৪ ডলার এবং ভারতের ১ হাজার ৯২৯ দশমিক ৬৭৭ ডলার। সুতরাং আসলে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি বেশি হয়েছিল ৩১ দশমিক ৯৩৭ ডলার।

মূলত এবার রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি অর্জন করার কথা বলা হলেও আগের বছরের উচ্চ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির প্রভাবেই এখনো পিছিয়ে আছে ভারত। এমনকি আগামী বছরও ভারত পিছিয়ে থাকবে বলে আইএমএফ মনে করে। চলতি বছরের পূর্বাভাসে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি বেশি হবে ২২ দশমিক ৩৫ ডলার।

মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ এগিয়ে গেলেও আকারের দিক থেকে ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় অর্থনীতির দেশ। বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের অর্থনীতি ১০ গুণ বড়। একটি দেশের নাগরিকেরা আসলেই কতটুকু সম্পদশালী, সেটা বোঝার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো তাঁদের ক্রয়ক্ষমতা কতটুকু, তা নির্ধারণ করা। অর্থাৎ যে অর্থ আয় করেন, তা দিয়ে তিনি কী কী কিনতে পারেন। এ কারণেই বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিকে তুলনার জন্য ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটির (পিপিপি) ভিত্তিতে জিডিপির আকার হিসাব করা হয়। আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে পিপিপির ভিত্তিতে জিডিপির হিসাবে বিশ্বে ভারতের অংশ ৭ দশমিক শূন্য ৩৯ শতাংশ, আর বাংলাদেশের অংশ মাত্র শূন্য দশমিক ৬৫৯ শতাংশ।

তবে জিডিপিতে বাংলাদেশ পরপর দুই বছর ছাড়িয়ে গেলেও বেশ কিছু সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশটিকে ছাড়িয়ে গেছে আরও সাত বছর আগে। যেমন ভারতের মেয়েদের তুলনায় বাংলাদেশের মেয়েদের শিক্ষার হার বেশি ও নারীপ্রতি জন্মহার কম। আবার ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে নবজাতকের ও পাঁচ বছরের নিচে শিশুমৃত্যুর হারও কম।

নিউইয়র্কের ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে বাংলাদেশি নিহত

প্রবাস ডেস্কঃ নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ফুড ডেলিভারি করতে গিয়ে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন সালাহ উদ্দিন বাবলু নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি। স্থানীয় সময় শনিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে ম্যানহাটনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যান তিনি। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জানা যায়, নিহত বাবলুর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার ২ নং নদনা ইউনিয়নের হাটগাঁও এলাকায়। জীবিকার তাগিদে ৪ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন তিনি এবং দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্কে নগরীর ব্রুকলিনে বসবাস করে আসছিলেন।

গত ১৫ অক্টোবর (শুক্রবার) রাতে নিউইয়র্ক নগরীর ব্যস্ততম এলাকা ম্যানহাটন ডাউনটাউনের ক্রিস্টি ও ইস্ট হাউস্টনের কর্নারে অবস্থিত রুজভেল্ট পার্কের কাছে ছিনতাইয়ের কবলে পড়েন এই বাংলাদেশি। ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে ক্ষত-বিক্ষত বাবলুকে প্রশাসনের সহায়তায় নিয়ে যাওয়া হয় ম্যানহাটনের বেলভিউ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে লাইফ সাপোর্টে স্থানান্তর করেন। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শনিবার দুপুর ২টায় মারা যান তিনি। তার মুখে ও পেটে ছুরির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

এনওয়াইপিডি পুলিশ জানায়, কেবল বাংলাদেশিকেই নয়, আরও একটি ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশি সালাহউদ্দিন বাবলুকে ছুরিকাঘাতের ঠিক ১২ ঘণ্টা পর আরেকজনকেও আহত করে দুর্বৃত্তরা। এ সময়ে একটি বাইকও চুরি করে নিয়ে যায় তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানায়, ম্যানহাটনের রুজলেভেল্ট পার্কের কাছে একটি ই-বাইকের গতিরোধ করে দুর্বৃত্তরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ফুড-ডেলিভারি করায় তার কাছে টিপসের (বকশিস) নগদ অর্থের সন্ধান করেছিল ছিনতাইকারীরা। কয়েক মিনিটের মধ্যেই হামলাকারী একটি ব্লেড দিয়ে ভিকটিমকে ছুরিকাঘাত করে। ঘটনার শিকার বাংলাদেশি বাইকের উপর বসেই লড়াই করেছিলেন। মারাত্মক জখম অবস্থায় বাবলু পার্কের দিকে ছুটে যান এবং সিটি পার্ক বিভাগে কর্মকর্তাদের কাছে সহযোগিতা চান।

পুলিশ আরও জানায়, ভুক্তভোগীর বাইকের পেছনে একটি ফুড ডেলিভারি ব্যাগ সংযুক্ত ছিল। হামলার শিকারের সময় কোনো পণ্য ডেলিভারি দিচ্ছিলেন কিনা তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।

ফুলবাড়ি উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের শত শত বিঘা জমির আমন ক্ষেত মাটিতে হেলে পড়েছে

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ ভারী বৃষ্টিপাত ও দমকা বাতাসে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের শতশত বিঘা জমির আমন ক্ষেত মাটিতে হেলে পড়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতে জমিতে পানি জমে থাকায়  হেলে পড়া ধানের শীষ পঁচে নষ্ট হওয়ার আশংকা করছেন কৃষকরা।

রবিবার উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে ধানক্ষেত হেলে পড়ার চিত্র দেখা যায়।

শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের তালুক শিমুলবাড়ী গ্রামের কৃষক সহির আলী (৪৫) নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের পুর্ব ফুলমতি গ্রামের কৃষক শ্যামল চন্দ্র (৪২) জানান, শনিবার রাতে ভারী বৃষ্টির সাথে দমকা বাতাসে অনেক কৃষকের আমন ক্ষেত মাটিতে হেলে পড়ে। হেলে পড়া ধানের অধিকাংশ শীষ নষ্ট হওয়ার আশংকা রয়েছে। কারন ধানের জমিতে পানি জমে আছে। আর কয়দিন বাদে ধান পাকতো। এ অবস্থায় ক্ষেত হেলে পড়ায় আমাদের বিরাট ক্ষতি হলো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আশফিয়া শারমিন জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১১ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ হয়েছে। গত রাতের  বৃষ্টিপাত ও দমকা বাতাসে উপজেলায় মোট ১৫০ হেক্টর আমন ধান মাটিতে হেলে পরেছে। মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি অফিসারগণ গিয়ে কৃষকদেরকে হেলে পড়া ধান গাছগুলো ছোট করে আঁটি বেঁধে তুলে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। এতে ক্ষতি পরিমাণ কিছুটা কম হবে।

রাশিয়ায় বিষাক্ত মদ পানে ১৮ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ রাশিয়ায় বিষাক্ত মদ পান করে ১৮ জন মারা গেছেন। দেশটির উরাল পর্বতমালার পূর্বে অবস্থিত ইয়েকাতেরিনবার্গ শহরে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে রুশ ইনভেস্টিগেটিভ কমিটি। খবর রয়টার্স।

রুশ ইনভেস্টিগেটিভ কমিটির বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, মৃত ওই ব্যক্তিরা প্রাণহানির আগে মিথেনলযুক্ত মদ পান করেছিলেন। বিষাক্ত এই অ্যালকোহলটি মূলত শিল্প-কারখানাগুলোয় উৎপাদন সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিষাক্ত এই মদ পানের কারণেই ওই ১৮ জন মারা গেছেন। রাশিয়ার এই কমিটি সাধারণত বড় বড় অপরাধের তদন্ত করে থাকে।

উল্লেখ্য, এর আগে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাশিয়ায় বিষাক্ত মদ পান করে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

তদন্ত করে দেখা যায়, গত ৭ থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে ইয়েকাতেরিনবার্গের এসব মানুষ ওই মদ কিনে এনেছিলেন। এ ছাড়া বিষাক্ত মদ বিক্রেতাদের দুজনকেও আটক করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সুত্রঃ রয়টার্স।

৬ দিন পর আজ রোববার হিলিতে আমদানি-রফতানি শুরু

দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দুর্গাপূজা উপলক্ষে দিনাজপুরে হিলি স্থলবন্দর ৬ দিন বন্ধ থাকার পর আজ থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। রবিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক হিলি বন্দরে প্রবেশের মধ্যে দিয়ে দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু হয়।

হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জামিল হোসেন চলন্ত জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১১-১৬ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ছয় দিন দুদেশের ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পূজার ছুটি শেষে রোববার সকাল থেকে পুনরায় এই বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু হয়েছে।

তিনি আরো জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকলেও বন্দরের ভেতরে সব ধরনের কার্যক্রম চালু ছিল।

আজ মাস্কাটে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্কঃ এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যাত্রাটা জয় দিয়ে শুরু করতে চায় বাংলাদেশ। আর আজ রোববার আসরের বাছাই পর্বে ওমানের মাস্কাটে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। ওমানের আল আমেরাত ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে বাংলাদেশ ও স্কটল্যান্ড নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামছে। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হবে ম্যাচটি। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে গাজী টিভি ও টি-স্পোটর্স।

১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বাছাই পর্বের খেলা হবে। পয়েন্ট টেবিলের সেরা দুই দল পরের পর্বে খেলবে। বাছাই পর্বের ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ। র‍্যাঙ্কিংয়ের‌ বিচারে ফেভারিট বাংলাদেশই। শক্তি ও সামর্থ্যের বিচারে স্কটল্যান্ডের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে লাল-সবুজের দল। প্রথম রাউন্ডে বাংলাদেশ আরও দুটি ম্যাচে নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়ার মুখোমুখি হবে।

এর আগে ২০১২ সালে বাংলাদেশ ও স্কটল্যান্ড মুখোমুখি হয়েছিল। অবশ্য সেবার জিতেছিল স্কটল্যান্ড। কিন্তু, দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে হার বাংলাদেশের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কার কাছে ৪ উইকেটে এবং আয়ারল্যান্ডের কাছে ৩৩ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ।

এছাড়া টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আশানুরূপ ফল নেই বাংলাদেশের। ১১৩ ম্যাচে অংশ নিয়ে ৪১ ম্যাচ জিতেছে তারা। ৭০ ম্যাচে হেরেছে তারা। দুটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। টাইগাররা এখন পর্যন্ত ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণের বিশ্বকাপে ২৫টি ম্যাচ খেলেছে, মাত্র পাঁচটিতে জিতেছে। এর মধ্যে বাছাই পর্ব থেকেই চারটি জয় এসেছে। বাছাই পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র একটি ম্যাচ জিতেছে তারা।

বাংলাদেশ দল : মাহমুদুল্লাহ (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, আফিফ হোসেন, নাঈম শেখ, নুরুল হাসান সোহান, শামীম হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, রুবেল হোসেন, শরিফুল ইসলাম, মাহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ ও তাসকিন আহমেদ।

সৌদি হামলায় ১৬০ হুতি বিদ্রোহী নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইয়েমেনের আবেদিয়া অঞ্চলে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক অভিযানে ১৬০ হুতি বিদ্রোহী নিহত হয়েছেন। এছাড়াও তাদের ১১টি সামরিক যান ধ্বংস করা হয়েছে। খবর আল-আরাবিয়ার।

গতকাল শনিবার (১৬ অক্টোবর) সৌদি জোট জানায়, গেল ২৪ ঘণ্টায় মারিবের আবেদিয়া জেলায় হুতিদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ৩২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদিয়া অঞ্চলটি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এতে বেসামরিক লোকজনের চলাচল ও মানবিক সহায়তা ব্যাহত হচ্ছে।

এর আগে বুধবার মারিবের দক্ষিণাঞ্চলে সৌদি জোটের বিমান হামলায় শতাধিক বিদ্রোহী নিহত হয়েছেন। এছাড়া সোমবার ১৫৬ জন ও মঙ্গলবার ১৩৪ জনের বেশি বিদ্রোহীর প্রাণহানি ঘটেছে।

চলতি সপ্তাহে অঞ্চলটিতে প্রায় ৫০০ বিদ্রোহী নিহত হয়েছেন। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, সেখানে বিদ্রোহীদের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। শিয়া হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি বাহিনীকে বিমান হামলার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কীভাবে তারা এই হতাহতের সংখ্যা নির্ধারণ করেছে, তা স্পষ্ট করে উল্লেখ করেনি।

ইয়েমেনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারের সর্বশেষ ঘাঁটি মারিবে তীব্র লড়াইয়ে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটছে। গেল মাস থেকে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিতে অভিযান শুরু করেছে হুতিরা।

গত মঙ্গলবার এক ভিডিও বার্তায় শিয়া বিদ্রোহীরা জানায়, তারা শহরের প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যাডম বারোন বলেন, হুতিরা উল্লেখযোগ্য ভূখণ্ডগত বিজয় অর্জন করেছে। কৌশলগত ও মানসিকভাবে এটা গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। বছরখানেক আগেও অঞ্চলটিকে অনেক নিরাপদ ভাবা হয়েছিল।

সাত বছরের যুদ্ধে ইয়েমেনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। ২০১৪ সালে মারিবের ১২০ কিলোমিটার পশ্চিমে রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেয় হুতিরা। এরপর থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বিমান হামলা শুরু করেছে। এতে হাজার হাজার ইয়েমেনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন কয়েক লাখ। দেশটি এখন দুর্ভিক্ষের কিনারে গিয়ে ঠেকেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সুত্রঃ আল-আরাবিয়া।

বর্ণাঢ্য আয়োজনে মুরাদনগর উপজেলার ৫০তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি: যথাযোগ্য মর্যাদা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে ৫০তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন করেছে মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সকল শ্রেনীপেশার মানুষ।

বৃহস্পতিবার প্রভাতে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ চত্তরে তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়।সকাল ৬টা ২০ মিনিটে মুরাদনগর কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পন করে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন(এফসিএ), উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আহসানুল আলম কিশোর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিষেক দাশ, সহকারি কমিশনার (ভূমি) সুমাইয়া মমিন, কুমিল্লা উত্তর জেলা আ’লীগের সভাপতি ম. রুহুল আমিন, উপজেলা আ’লীগ ও বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, উপজেলার সকল কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ।

সকাল ৮টায় মুরাদনগর ডি.আর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের মঞ্চে উপজেলা শিল্পকলার আয়োজনে জাতীয় সংগীতের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন, এসময় মুরাদনগর থানা পুলিশ, বিএনসিসি, আনসার ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, রোভার স্কাউটসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহনে সমাবেশ, কুচকাওয়াজ, অভিবাদন গ্রহন, শরীরচর্চা প্রদর্শন ও পুরস্কার বিতরন করা হয়।

এ সময় আরোও উপস্থিত ছিলেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন আল রশিদ, সৈয়দ আবদুল কাইয়ুম খসরু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ তমাল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সানোয়ারা বেগম লুনা, জেলা পরিষদের সদস্য ভিপি জাকির হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ নাজমুল আলম, মুরাদনগর থানার (ওসি) মোঃ আবুল হাসিম, বাঙ্গরা বাজার থানার (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার, কৃষি কর্মকর্তা মাঈনুউদ্দিন আহাম্মেদ, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফিউল আলম তালুকদার ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সূফি আহাম্মদসহ সকল কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শণ শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহনকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন করা হয়। এছাড়াও সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধণা দেয়াসহ সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা, খেলাধূলা, হাসপাতাল ও এতিমখানায় উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়।

পাত্র দেখানোর কথা বলে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ

নূর মোহাম্মদ সম্রাট, বগুড়াঃ বগুড়ার শিবগঞ্জে এক কলেজছাত্রীকে বিয়ের জন্য পাত্র দেখানোর কথা বলে কৌশলে অপহরণ করে তিন দিন ধরে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে শাহিনুর রহমান নামের একজন ঘটকের বিরুদ্ধে। থানা পুলিশ অপহৃত কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত ঘটককে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল শনিবার (১৬ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে ঘটককে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ঘটক শাহিনুর রহমান (৪৩) শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নের করতকোলা গ্রামের মৃত মোবারক প্রাং-এর ছেলে।

জানা গেছে, গ্ৰেপ্তারকৃত শাহীনুর ঘটক পেশার মাধ্যমেই জীবিকা নির্বাহ করেন। একই উপজেলার মোকামতলা মহিলা কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের এক ছাত্রীর বাবার সঙ্গে ঘটক শাহিনুরের পরিচয় হয়। সেই সূত্র ধরে ভালো ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য পাত্র দেখানোর কথা বলে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন স্থানে ঘটক শাহিনুর নিয়ে যায়।

গত ১৩ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে ওই ছাত্রী কলেজে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যা পার হলেও বাড়ি না ফেরায় তার পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায় ঘটক শাহীনুরের বাড়িতে গিয়ে ঘটককে না পেয়ে তাদের মনে সন্দেহ হয়। ঘটককে ফোন দিলে ফোন রিসিভ করেননি।

ঘটক এবং ওই ছাত্রীর সন্ধান করতে গিয়ে ছাত্রীর পরিবার জানতে পারে শিবগঞ্জ থানার একটি এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে ঘটক এবং মেয়েটি আত্মগোপন করে আছে। শনিবার রাতে ওই ছাত্রীর পরিবারের লোকজন সেখানে গেলে ঘটক পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণধোলাই দেয়।

পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে ঘটক শাহিনুরকে গ্রেপ্তার এবং কলেজ ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। ঘটক শাহিনুর ভালো ছেলের সঙ্গে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ইতোপূর্বে আরও তিনজনকে নিজেই বিয়ে করেছিল। কিন্তু পরে কেউ তার সংসার করেননি।

শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, অপহৃত কলেজছাত্রীকে ঘটক শাহিনুরের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া শাহিনুরের বিরুদ্ধে কলেজছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন।