বাঞ্ছারামপুরে ৪১ টি পূজা মন্ডপে চলছে শারদীয় আনন্দ উৎসব

মো.নাছির উদ্দিন, বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ৪১টি পূজা মন্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সনাতন ধর্মলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। মন্ডপে মন্ডপে চলছে আনন্দ উৎসব।

গতকাল ১১ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে শুরু হইয়েছে দেবী পূজার আনুষ্ঠানিকতা। ১৫ অক্টোবর শেষ হবে, ৫দিন ব্যাপী চলবে। এদিকে দূর্গা পূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দেবীদুর্গা শক্তি ও সুন্দরের প্রতীক। প্রতি বছর অশ্বরের বিনাশ কল্পে মা দেবী দূর্গা এই ধরাধামে আবির্ভুত হয়। তাই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মনে করেন সমাজ থেকে অন্যায় অবিচার গ্লানি দূর করার জন্যই এই পূজার আয়োজন।

এবছর দেবী দুর্গা আসছেন ঘোড়ায় চড়ে যাবেন দোলায় চড়ে। দেবীর আগমনে বিশ্ব হবে শান্তিময়, অশুভ শক্তিকে বিনাশ করে উদয় হবে শুভ শক্তির এমনটাই প্রত্যাশা সনাতন ধর্মালম্বীদের।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির  সভাপতি মিন্টু রঞ্জন সাহা বলেন  গত বছর উপজেলার ১ টি পৌরসভা ও ৭ টি ইউনিয়নে ৪১ টি পূজা মন্ডপে অনুষ্ঠিত হয়েছিল দুর্গাপূজা।

তারই ধারাবাহিতায় এ বছর ও পৌর সভায় ৬ টি, উজানচর ইউনিয়নে ৫ টি, দরিয়াদৌলত ৩ টি, ছলিমাবাদ-৩ টি, রুপসদী ৬টি, তেজখালি-২ টি, ফরদাবাদ ইউনিয়নে-১২টি এবং মানিকপুর ইউনিয়নে ৪টি পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন,দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম(অব.) এমপি, তালিকা অনুযায়ী ৪১টি পূজা মন্ডপে নগদ ২০ হাজার টাকা করে ৮ লাখ ২০ টাকা অনুদান দিয়েছেন। সরকারি ও পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা উদযাপন করা হবে।

এছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ব বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজাকে ঘিরে উপজেলা প্রশাসন,বাঞ্ছারামপুর পৌর সভা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পূজা উদযাপন কমিটিকে নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সহ শান্তিপূর্ণ ও জাঁকজমক পরিবেশে পূূজা উদযাপনে সার্বিক সহযোগীতা করে যাচ্ছে।

বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজু আহমেদ বলেন সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ন ভাবে সম্পুন্ন করার লক্ষে আইন শৃংখলা বাহিনী সজাগ দৃষ্টি রাখছে। আইন শৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সকল স্হরের  নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা শমসাদ বেগম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এবারের পূজা সরকারী নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

নওগাঁয় শ্রমিকলীগের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁয় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে শ্রমিকলীগের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় এ উপলক্ষ্যে সকালে জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন উত্তোলন করা হয়।

অন্যান্য কর্মসূচীর মধ্যে ছিল বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, স্বাধূনতা যুদ্ধসগ সকল আন্দোলন সংগ্রামে শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধ নিবেদন করে ১ মিনিট নিরবতা পালন, কেক কাটা এবং সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা।

এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন।

জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি মোঃ আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনসভায় বক্তব্য রাখন জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নির্মল কৃষ্ণ সাহা, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম রফিক, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপত পারভীন আকতার, জেলা শ্রমিক লীগের সাধারন সম্পাদক মামুনুজ্জামান মামুন বক্তব্য রখেন।

এ সময় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ,মহিলা আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সৌদিতে গ্রেপ্তার হলো ৭ বাংলাদেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সৌদি আরবে রেসিডেন্সি পারমিট (ইকামা) বিধি লঙ্ঘন করার অভিযোগে ৭ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে সে দেশের পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৪৬১টি সিমকার্ড, চারটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার এবং বেশ কিছু রিয়াল উদ্ধার করা হয়।

রাজধানী রিয়াদের পুলিশের মুখপাত্র মেজর খালেদ আল-ক্রেইদিস এ কথা জানিয়েছেন। সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

মেজর খালেদ আল-ক্রেইদিস বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা রেসিডেন্সি পারমিট (ইকামা) বিধি লঙ্ঘন করছেন। সাইবার ক্রাইম মোকাবিলায় পুলিশের নিরাপত্তা শাখা তাদের গ্রেপ্তার করেছে।

তিনি বলেন, অবৈধ সিমকার্ড বিক্রির সঙ্গে ওই সাত বাংলাদেশি জড়িত ছিলেন। রিয়াদ শহরের বিভিন্ন দোকান থেকে ওই সিমকার্ডগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল।

মেজর খালেদ বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। প্রাথমিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পর তাদের সরকারি কৌঁসুলির অফিসে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সুত্রঃ সৌদি গেজেট।

২০২১ সালের নোবেল বিজয়ীদের বিস্তারিত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ এবার ২০২১ সালের নোবেল পুরস্কারটি গত ৪ অক্টোবর থেকে প্রকাশ করা শুরু হয়েছে। মোট ৬ টি বিষয়ের উপর নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়ে থাকে। আজকে (১১ অক্টোবর) সর্বশেষ অর্থনীতিতে যৌথভাবে তিনজন নোবেল পুরস্কার পাওয়ার ঘোষণার মাধ্যমে নোবেল-২০২১ এর বিজয়ীদের তালিকা চুড়ান্ত হলো।

নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তদের তালিকা ২০২১ঃ

পদার্থবিজ্ঞানঃ এবছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী ২০২১ হলেন- সাইকুরো মানাবে, ক্লাউস হাসেলম্যান এবং জর্জিও পারিসি।

পৃথিবীর জলবায়ু পরিস্থিতির ফিজিক্যাল বা ভৌত মডেল তৈরি, পরবর্তনশীলতা পরিমাপ এবং বৈশ্বিক উষ্ণতার বিষয়টি নির্ভরযোগ্যভাবে অনুমানের জন্য পুরষ্কার পেয়েছেন সাইকুরো মানাবে মানাবে এবং ক্লাউস ক্লাউস হাসেলম্যান। তারা দুজনে এ বছরের নোবেল পুরষ্কারের অর্ধেক পেয়েছেন।

পদার্থবিজ্ঞান নোবেল বিজয়ী সাইকুরো মানাবে, ক্লাউস হাসেলম্যান এবং জর্জিও পারিসি

নোবেল পুরষ্কারের বাকি অর্ধেক জর্জিও পারিসি পেয়েছেন পারমাণবিক ও গ্রহীয় পরিসরে ভৌত ব্যবস্থা বা ফিজিক্যাল সিস্টেমের বিশৃঙখলা ও ফ্লাকচুয়েশন পরষ্পরের ওপর কী প্রভাব ফেলে তা আবিষ্কারের জন্য।

রসায়নঃ রসায়ন নোবেল বিজয়ী ২০২১ হলেন-জার্মান বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন লিস্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রেরডেভিড ম্যাকমিলান।

রসায়নে নোবেল বিজয়ী বেঞ্জামিন লিস্ট এবং ডেভিড ম্যাকমিলান

অপ্রতিসম অর্গানোক্যাটালাইসিস বা জৈব-অনুঘটন আবিষ্কারের জন্য এ পুরস্কার পান এই দুই বিজ্ঞানী।

চিকিৎসা শাস্ত্রঃ এবছর চিকিৎসা শাস্ত্রে নোবেল পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিড জুলিয়াস ও আরডেম পটাপৌটিয়ান।

চিকিৎসা শাস্ত্রে নোবেল পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিড জুলিয়াস ও আরডেম পটাপৌটিয়ান
চিকিৎসা শাস্ত্রে নোবেল পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিড জুলিয়াস ও আরডেম পটাপৌটিয়ান

ডেভিড জুলিয়াস চিকিৎসা শাস্ত্রের শরীরতত্ত্বে এবং আর্ডেম পটাপৌটিয়ান মেডিসিনে বিশেষ অবদান রাখায় এ পুরস্কার পেলেন। মানবদেহে তাপমাত্রা ও স্পর্শের রিসিপটর আবিষ্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তারা।

অর্থনীতিঃ চলতি বছর অর্থনীতিতে যৌথভাবে তিনজন নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। এরা হলেন, কানাডার ডেভিড কার্ড, যুক্তরাষ্ট্রের যশুয়া ডি অ্যাগ্রিস্ট এবং নেদারল্যান্ডসের গুইদো ডব্লিউ ইমবেন্স।পুরস্কারের মোট অর্থের অর্ধেক পাবেন ডেভিড কার্ড। আর বাকি অর্ধেক ভাগাভাগি করে নেবেন অ্যাগ্রিস্ট ও গুইদো ইমবেন্স।

কানাডার ডেভিড কার্ড, যুক্তরাষ্ট্রের যশুয়া ডি অ্যাগ্রিস্ট এবং নেদারল্যান্ডসের গুইদো ডব্লিউ ইমবেন্স

প্রাকৃতিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনীতিবিদ ডেভিড কার্ড শ্রমবাজারে ন্যূনতম মজুরি, অভিবাসন এবং শিক্ষার প্রভাব বিশ্লেষণ করে অর্থনীতির এই নোবেল পেয়েছেন। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি কর্মের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে সে বিষয়ে প্রাকৃতিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অনুসন্ধান চালিয়েছেন তিনি।

সাহিত্যঃ সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী ২০২১ হলেন – তানজানিয়ার নাগরিক আবদুলরাজাক গুরনাহ।

সাহিত্য নোবেল বিজয়ী আবদুলরাজাক গুরনাহ

তানজানিয়ার নাগরিক আবদুলরাজাক গুরনাহ যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। লেখেন মূলত ইংরেজিতে। তার বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে প্যারাডাইস (১৯৯৪), বাই দ্য সি (২০০১), এবং ডেজারশন (২০০৫)। সুইডিশ অ্যাকাডেমি বলেছে, উপনেবেশিকতার প্রভাব শরণার্থীদের ভাগ্যের বিষয়ে আপোষহীন থেকেছেন এই লেখক।

শান্তিঃ শান্তি নোবেল বিজয়ী ২০২১ হলেন – যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পেলেন ফিলিপাইনের মারিয়া রেসা ও রাশিয়ার দমিত্রি মুরাতভ।

ফিলিপাইনের মারিয়া রেসা ও রাশিয়ার দমিত্রি মুরাতভ

ফিলিপিন এবং রাশিয়ায় মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে “সাহসী লড়াই”-এ অবদান রাখার জন্য এই দুটি দেশের সাংবাদিক মারিয়া রেসা আর দিমিত্রি মুরাতফকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়া হয়েছে।তাদের বিজয়ী নির্বাচন করা হয়েছে বাছাই করা ৩২৯ জনের তালিকা থেকে।

র‍্যাব-৯ এর অভিযানে ১০ কেজি গাঁজাসহ ২ জন আটক

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে বিপুল পরিমাণে গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রবিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৯ এর শ্রীমংগল ক্যাম্প কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বসু দত্ত চাকমার নেতৃত্বে শহরের ঢাকা বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজাসহ ২ জনকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন জাহাঙ্গীর আলম (২৫) ও শাহআলম (১৯)।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা উদ্ধারকৃত গাঁজা চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ হতে বিক্রির জন্য মৌলভীবাজার নিয়ে এসেছে বলে স্বীকার করে।

এ বিষয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার সদর থানায় মাদক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের ও গাঁজা সহ মৌলভীবাজার সদর থানায় হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষ হয়েছে। র‌্যাবের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে রিপোর্ট পেশ করে জানিয়ে দেয়া হয়।

কুড়িগ্রামের চিলমারী নৌ-বন্দর পরিদর্শন করলেন নৌ-পরিবহন সচিব

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের চিলমারী নৌ-বন্দর পরিদর্শন করেছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরি। গতকাল রবিবার দুপুর ২টায় কেবিন ক্রুজার-৩ তে সচিব নৌবন্দর পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করেন।

পরিদর্শনকালে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সাংসদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাকির হোসেন এমপি, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, চিলমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক, নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগের পরিচালক মোঃ শাহজাহান, চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুর রহমান, ড্রেজিং বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ছাইদুর রহমান, চিলমারী নদীবন্দর প্রকল্প পরিচালক শফিউল্লাহ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে সাড়ে তিন মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ মৃত্যুর সাড়ে তিন মাস পর ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার গাঙ্গুয়া গ্রামে মৃত্যুর সাড়ে তিন মাস পর হোসেন আলীর( ৭৮) এর গলিত মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। গতকাল ১০ অক্টোবর রবিবার সোয়া ১১টায় সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার( সার্কেল) তোফাজ্জল হোসেন, সহকারি কমিশনার (ভূমি) ইন্দ্রজিৎ সাহা, রাণীশংকৈল থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল লতিফ শেখ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ ফির জ আলম স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে এ মরদেহ উত্তোলন করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন দুপুর ১টায় গাঙ্গুয়া গ্রামের হোসেন আলি তার নাতি রুহুল আমিনের বাড়ির বারান্দায় অসুস্থ অবস্থায় মারা যান। তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরে তার মেয়ে মাহমুদা খাতুন এ নিয়ে গত ৩ জুলাই ঠাকুরগাঁও জেলা আদালতে বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

ওসি(তদন্ত) আব্দুল লতিফ শেখ জানান, উত্তোলনকৃত লাশ ময়না তদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নেত্রকোণায় ৭টি পরিবারের বসতঘর ভাংচুর ও লুটপাট

মোঃ কামরুজ্জামান, নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের বহুলী গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন একটি নিরীহ এমদাদুলের বাড়িতে হামলা,ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় এমদাদুল ও তার পরিবারের লোকজন বাঁধা দিতে গেলে এমদাদুল (৩৬), মমতা বেগম (৫৫), মিলন মিয়া (৪০), লিটন মিয়া (৪৮) ও মানিক মিয়া (৩৫) নামের ৫ জন আহত হয়।

এদের  মধ্যে ৩ জন গুরুতর আহত হয়। গুরুতর আহত এমদাদুল, মিলন মিয়া ও মমতা বেগমকে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। মিলন ও মমতা বেগম পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক, এমদাদুলের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন ঐখানে চিকিৎসা করে পূর্বধলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে এমদাদুল হক পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন ।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, হামলা ও ভাংচুরের ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার (০৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টা ও শনিবার (০৯ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের বহুলী গ্রামে। এ ঘটনায় পুলিশ শুক্রবার রাতেই গণি মিয়া (৪৫) ও মঞ্জুরুল হক (৩৫) নামের দু’পক্ষের দুইজনকে আটক করেছে। তবে এমদাদুল হকের ২ টি পা ভেঙ্গে দিয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে আরো জানা যায়, বহুলী গ্রামের আমিরুল হকের ছেলে গণি মিয়া ও গণি মিয়ার ভগ্নিপতি একই গ্রামের জামাল মিয়ার সাথে তাদের পাশের বাড়ির ইয়াকুব আলীর ছেলে ছালাম গংদের সাথে দীর্ঘদিন যাবত জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল।

এ নিয়ে শুক্রবার বিকালে দুই পক্ষের কথা কাটাকাটি হয়। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা তা মিমাংসা করে দেয় ।

পরে রাত দেড়টার দিকে ছালাম গংদের ওয়ারেছ খাঁ, মিরাজ খাঁ, সুজন খাঁ ও ছালামসহ ৪০/৫০জন ধারালো অস্ত্র ও লাটি-শোটা নিয়ে গণি মিয়া, মানিক মিয়া, জামাল খাঁ, এমদাদুল, লিটন মিয়া ও মিলন মিয়ার টিন সেটের ৭টি বসত ঘরে হামলা চালিয়ে ঘর, ঘরের আসবাব ও তৈজসপত্র ভাংচুর করে নগদ আড়াই লক্ষ টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।

এ সময় বাঁধা দিতে গেলে এমদাদুল, মমতা বেগম, মিলন মিয়া, লিটন মিয়া ও মানিক মিয়াকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

এ ঘটনায় আহত মানিক মিয়া জানান, শনিবার সকালে তারা থানায় মামলা করতে গেলে এমন খবরে প্রতিপক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে আবারও তাদের বাড়ি-ঘরে হামলা করে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এবং তাদেরকে মেরে ফেলার হুমকিও দিচ্ছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছালাম গংদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, খবর পেয়ে শুক্রবার রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে দুই পক্ষের দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। শনিবার বিকালে আবারও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ দিকে আটককৃত দুইজনকে ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কোর্ট এ প্রেরণ করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে সুজন মিয়া নামের আরও ১ জনকে আটক করা হয়েছে।

কুড়িগ্রামে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে দলিল সম্পাদন, সাব-রেজিস্ট্রারসহ দুজন কারাগারে

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ প্রায় ৩৫ বছর আগে মারা যাওয়া নারীকে জীবিত দেখিয়ে অন্যের নামে করে জমি দলিল সম্পাদনের  অভিযোগে কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারসহ দুজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার ১০ অক্টোবর দুপুরে মামলার চার্জশিট গ্রহণ করে কুড়িগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন।

আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) প্রদীপ রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আসামীরা হলেন– নজরুল ইসলাম (৫৭) ও জহুরা খাতুন (৬০)। নজরুল ইসলাম রাজীবপুর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার এবং জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙা গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে। জহুরা রাজীবপুর উপজেলার বদরপুর গ্রামের মজিবর রহমান খাজার স্ত্রী।

এর আগে আদালতে রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১৫ মার্চ রাজীবপুর থানায় আব্দুল করিম নামের ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি এ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের নহর শেখের স্ত্রী ও মামলার বাদী আব্দুল করিমের দাদি দৌলতন নেছা ৩৫ বছর আগে মারা যান। এরপর তার নামে থাকা ৫৪ শতাংশ জমি তার ওয়ারিশরা ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু উপজেলার গোল্ডেন লাইফ একাডেমি নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ইসমাঈল হোসেন তার মা জহুরা খাতুনকে দৌলতন নেছা সাজিয়ে দলিল লেখক নুরুন্নবী সরকারসহ কয়েকজনের সহযোগিতায় ২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি জমিটির ৫০ শতাংশ গোল্ডেন লাইফ একাডেমির নামে দানপত্র দলিল রেজিস্ট্রি করেন। সাব-রেজিস্ট্রার নজরুল ইসলাম সঠিকভাবে যাচাই না করেই জহুরা খাতুনকে দৌলতন নেছা হিসেবে জীবিত দেখিয়ে দলিল সম্পাদন করেন। এরপর একই বছর ৭ ফেব্রুয়ারি গোল্ডেন লাইফ একাডেমির পরিচালক ইসমাঈল হোসেন জমিটি দখল নিতে গেলে বাদী আব্দুল করিম বাধা দেন। তখন ইসমাঈল হোসেন জাল দলিলটি প্রদর্শন করলে আব্দুল করিম বিষয়টি জানতে পেরে আদালতের শরণাপন্ন হন।

আদালত বাদীর আবেদন আমলে নিয়ে রাজীবপুর থানা পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ হেড কোয়ার্টারের নির্দেশে সিআইডিকে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়।

সিআইডি মামলাটি তদন্ত করে সাব-রেজিস্ট্রার নজরুল ইসলাম, দলিল লেখক নুরুন্নবী সরকার, মৃত দৌলতন নেছা হিসেবে পরিচয় দানকারী জহুরা খাতুন ও গোল্ডেন লাইফ একাডেমির পরিচালক ইসমাঈল হোসেনসহ সাত জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

জিআরও প্রদীপ রায় জানান, আসামিরা এতদিন অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে ছিলেন। রবিবার তারা আদালতে হাজির হয়ে স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপর আসামিরা এখনও জামিনে রয়েছেন বলে জানান জিআরও।

রাজনীতি

হঠাৎ করেই রাজনীতি উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। নির্বাচনের বাকী আরও দুই বছর কিন্তু নির্বাচনী আলোচনা চলছে প্রতিদিন। বি এন পি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে। দলও সংগঠিত নয়। বেগম খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে(এখন জামিনে তবে মূক্ত নয়)। তারেক জিয়াও অভিযূক্ত আসামী এবং বিদেশে। দল চালাচ্ছে সিনিয়র নেতারা। তারেক বিদেশে বসে যেভাবে আন্দোলনের নির্দেশ দিচ্ছে দল সেভাবে আন্দোলন করতে পারছেনা। এসব নিয়ে তারেকের সাথে সিনিয়র নেতাদের মতবিরোধ হয় প্রায়ই। ২০ দলীয় জোটের শরিকরাও সরে যেতে শুরু করেছে। জামাত ইস্যুতে বিরোধ আছে দলের ভিতরেও। দলের নেতারা কেউ কেউ চান বি এন পি একা পথ চলবে কিন্তু, মতবিরোধ আছে সেখানেও।

বচেয়ে বেশী আলোচনা এখন আগামী নির্বাচনে বি এন পি’র অবস্থান কি হবে! ইতিমধ্যে শির্ষ নেতারা বলে দিয়েছে, তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া বি এন পি আর কোন নির্বাচনে যাবেনা। বি এন পি যদি নির্বাচনে না যায় তাহলে এককভাবে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে আবারও! সেই ক্ষেত্রে যতই চিৎকার করুক ক্ষতিটি হবে বি এন পি’ রই। এমনটি হলে বি এন পি’র রাজনীতি অস্তিত্ব সঙ্কটে পরবে। বিপদ আরও আছে। বেগম জিয়া এবং তারেক জিয়া দুজনেই সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় নির্বাচনে অযোগ্য। জেলে থাকায় বেগম জিয়া প্রচারনায় যেতে পারবেননা এবং তারেক বিদেশ থেকে দেশে আসতে পারবেনা। নেতৃত্বে যারা রয়েছে তাদের যোগ্যতা আছে বেগম জিয়ার মত গ্রহনযোগ্যতা নেই। নির্বাচনে গেলে কিছু আসনত বি এন পি পাবেই তবে, সরকার গঠনের মত জনসমর্থন বি এন পি’র নেই। নির্বাচন বর্জনের আগাম ঘোষনা দিয়ে দলটি এখন বিপদে। যে কারনে নতুন করে সংলাপের প্রস্তাব দেওয়া শুরু করেছে।

বি এন পি’র এই সমস্যাটি ২০০৮ সালের পর থেকেই দেখা দিয়েছে। কোন বিষয়েই দলটির অবস্থান স্থির রাখতে পারেনি। তাদের দাবীটিও সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেনি। রাজনীতিতে এই দুর্বলতার লক্ষনটি ভালনা। বি এন পি’র অবস্থা এখন” আরেকবার সাধিলেই খাইবো”।

আজিজুর রহমান প্রিন্স,

কলামিস্ট, টরন্টো, কানাডা।