প্রতিবন্ধি ছেলের জন্য হুইল চেয়ার আর নিজের জন্য ভাতা কার্ডের আকুতি এক অসহায় বিধবার!

অলিউর রহমান নয়ন, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : চয়ন মিয়া (১৪)। জন্ম থেকেই দুহাত-দুপা বাঁকা। হামাগুড়ি দিয়েও চলাফেরা করতে পারে না, কথাও বলতে পারে না ঠিকমত। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুটিচন্দ্রখানা গ্রামের মৃত বাবলু মিয়ার ছেলে সে। চয়ন মিয়া বড়ই এতিম। ১০ বছর আগে কাজের সন্ধানে মুন্সিগঞ্জে গেলে গাছের ডাল কাটতে গিয়ে প্রাণ হারান তার বাবা। এরপর চয়ন মিয়া ও ছোটবোন মুক্তা খাতুন (১২) হয়ে যায় এতিম। মা চম্পা বেগম (৪০) সহ তাদের আশ্রয় হয় দাদা মীর হোসেনের বাড়ীতে। মুক্তা ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে। আয় বলতে চয়নের প্রতিবন্ধী ভাতা। ভাতার সামান্য টাকা আর প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকুরী করা চাচার কিছুটা সহযোগীতায় চলছে তাদের জীবন।

দুই বছর আগে ফুলবাড়ী উপজেলা সমাজসেবা অফিস প্রতিবন্ধী চয়ন মিয়াকে একটি হুইল চেয়ার প্রদান করে। বর্তমানে হুইল চেয়ারটির কয়েক জায়গায় ভেঙ্গে গেছে। নতুন চেয়ার কেনার সামর্থ না থাকায় পুরাতন জরাজীর্ণ ও জোড়াতালি দেয়া ওই হুইল চেয়াটিতে বসেই দিন পার করছে চয়ন। আর স্বামী মারা যাবার ১০ বছর পার হলেও আজও বিধবা ভাতা জোটেনি চয়নের মা চম্পা বেগমের কপালে।

চম্পা বেগম বলেন, ছেলেটা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সারাদিন ভাঙ্গা চেয়ারে বসে থাকে। টাকার অভাবে একটা নতুন চেয়ার কিনে দিতে পারছিনা। তাই সমাজের বিত্তবান মানুষ, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে আমার অসহায় প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য একটি নতুন হুইল চেয়ার এবং নিজের জন্য বিধবা ভাতা কার্ডের আবেদন জানাচ্ছি।

এ প্রসঙ্গে ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুণ অর রশিদ-হারুন জানান, চয়নের অসহায়ত্বের কাহিনী শুনে খুব খারাপ লাগলো। খুব দ্রুত চয়নের জন্য নতুন হুইল চেয়ার ও তার মায়ের বিধবা ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে।

শেখ হাসিনাই…..

সরকারের সমালোচনা করা গনতন্ত্রের শিষ্ঠাচার। সব দেশে সব সরকারেরই সমালোচনা হয়। বাংলাদেশে সমালোচনা নয় মিথ্যাচার করে রাজনীতির নামে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতী সংঘের সাধারন পরিষদে বক্তৃতা করতে এসেছেন। সব সদস্য দেশের সরকার প্রধানরাই প্রতি বছর এই সময়ে নিউইয়র্কে আসে। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশ ছাড়ার পর থেকেই বি এন পি নেতারা মরিয়া হয়ে মিথ্যাচার শুরু করে দিয়েছে। তাদের জোটভুক্ত দলের নেতারাও থেমে নেই। আমেরিকার নিউইয়র্কে বি এন পি সমর্থকদের শ্লোগানের ভাষাও ছিল অশালীন। কিন্তু কেন? এত উত্তেজিত হয়ে এমন অশ্রাব্য গালাগালি করতে হল কেন?

বি এন পি যতই দাবী করুক, দলটি রাজনীতি থেকে ছিটকে পরেছে। কোন নেতৃত্বও নেই। ঘরে বসে হুঙ্কার দেওয়া ছাড়া গত ১২ বছর কোন কার্যকর আন্দোলন করতে পারেনি। দলটি নির্বাচন চায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে এবং নির্বাচন কমিশন হতে হবে তাদের পছন্দে। সব জড়িপেই দেখাগেছে বি এন পি ৩০ থেকে ৩৫ টি আসনে ভালভাবে জয়লাভ করতে পারে। চেষ্টা করলে আরও ৪/৫ টি আসন আনতে পারে। জাতীয় পার্টি এবং স্বতন্ত্র এম পি’ দের নিয়ে বি এন পি সংসদে শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। কিন্তু বি এন পি বিরোধী দলে থাকতে চায়না। জোর করে বন্দুক দেখিয়ে হলেও ক্ষমতা চায় দলটি। বিগত নির্বাচনে তাদের ৪০/৪৫ টি আসনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। হঠাৎ করেই তারা নির্বাচন প্রত্যাহার করে বসে পরেছিল। যথারিতি ফলাফল গেছে সরকারী দলের পক্ষে। নিজেদের দুর্বলতা ঢাকা দিতে প্রচার চালিয়েছে আগের রাতে ভোট হয়ে গেছে। ষড়যন্ত্র করে দেশে একটা গন্ডগোল বাধিয়ে সামরিক বাহিনী দ্বারা ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করেছে বি এন পি।

২০০৯ সালের পর থেকে বহুবার ষড়যন্ত্র করেছে দলটি। হেফাজতের আন্দোলনে বি এন পি নেতারা পরদিন সকালে একসাথে নাস্তা খাওয়ার ঘোষনা দিয়ে রেখেছিল। এখনও একের পর এক মিথ্যাচার করে চলেছে। কারন বি এন পি নেতারা জানে পদ্মা সেতু চালু হলে সরকার অর্জন নিয়ে জনতার সামনে দাঁড়াবে। বি এন পি’র হাতে কোন অর্জন নেই ভোট চাওয়ার। তাই পদ্মা সেতু চালু হওয়ার আগেই সরকারের বিরুদ্ধে জনগনকে ক্ষেপিয়ে তুলতে হবে।

হ্যাঁ! বি এন পি’রও জনসমর্থন আছে। যে কোন নির্বাচনেই বি এন পি তাদের সমর্থনের ভোট পাবেই। কিন্তু আসন সংখ্যায় তা সরকার গঠনের মত হবেনা। দলের নেতারাও নিজ এলাকায় কর্মী বাহিনীকে নিরাপত্তা দিতে পারছেনা। ত্যগী কর্মীরা অবহেলিত নেতাদের কারনে। নমিনেশন বানিজ্য কর্মীবাহিনীকে বিদ্রোহী করে তুলেছে। আগামি নির্বাচনেও বি এন পি’র অবস্থান পরিবর্তন হবেনা। তাই বি এন পি নেতারা মরিয়া হয়ে নেমেছে। সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অশালীন মিথ্যাচার করে চলেছে।

কিন্তু আওয়ামী লীগ জনগনের দল। ৭০ বছর ধরে দলটি এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখিয়েছে। জাতির পিতা বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা জাতীর পিতার স্বপ্ন পুরনের ব্রত নিয়ে দেশ গড়ায় আত্ননিয়োগ করেছেন এবং দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে এনে দাড় করিয়েছেন। বাংলাদেশ শিঘ্রই উন্নত দেশের কাতারে পৌছে যাবে ইনশাল্লাহ। শেখ হাসিনাই হবেন উন্নয়নের মডেল।

আজিজুর রহমান প্রিন্স, কলামিস্ট, টরন্টো, কানাডা। 

রাষ্ট্রীয় মার্যাদায় চির নিদ্রায় শায়িত হলেন এএসআই পিয়ারুল ইসলাম

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : রাষ্ট্রীয় মার্যাদায় চির নিদ্রায় শায়িত হলেন কুড়িগ্রামের কৃতিসন্তান পুলিশ কর্মকর্তা পিয়ারুল ইসলাম।

গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১ টায় হারাগাছ উপজেলার সিগারেট কোম্পানির বাজারে এক ব্যক্তি মাদকদ্রব্য ইয়াবা টাবলেট বিক্রি করছেন এমম সংবাদ পেয়ে সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযানে যান রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানার এএসআই পিয়ারুল ইসলাম। ঘটনাস্থল থেকে মাদক বিক্রেতা পারভেজ রহমান পলাশকে আটক করেন। আটক অবস্থায় মাদক ব্যবসায়ী পলাশ তার সাথে থাকা ছুরি দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে এএসআই পিয়ারুল ইসলামের বুকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে গভীর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শনিবার সকাল সোয়া ১১টায় তার মৃত্যু হয়।

পিয়ারুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার চন্দ্রপাড়া গ্রামে। বাবা আব্দুর রহমান মিন্টু একজন স্কুল শিক্ষক মা গৃহিণী। চার ভাইবোনের মধ্যে নিহত পেয়ারুল ইসলাম সবার বড়। বৈবাহিক জীবনে দুই পুত্র সন্তানের জনক নিহত এএসআই পেয়ারুল ইসলাম। বড় ছেলে হাম্মামের বয়স ৬ ছোট ছেলে আব্রাহামের বয়স ২ বছর।

রংপুর মেডিকেল থেকে বিকেল চারটায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে তার মরদেহ নিয়ে আসে। সেখানে তার প্রথম জানাযা নামাজের পূর্বে বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগ তাকে গার্ড অফ অনার প্রদান করেন। গার্ড অফ অনার শেষে তার কফিনে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।

পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ আব্দুল আলীম মাহমুদ, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য, পুলিশ ট্রেনিং কমান্ডেন্ট বাসুদেব বণিক, রংপুর জেলা পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার, পিবিআই পুলিশ সুপার জাকির হোসেন, সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ আরএমপির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগ, রংপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট শাফিয়ার রহমান শফি ও সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি সহ পুলিশ সদস্যবৃন্দ ও সর্ব স্তরের সাধারণ মানুষ।

পরে তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি রাজারহাটের বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। এএসআই পেয়ারুলের মরদেহবাহী এম্বুলেন্স টি তার গ্রামের বাড়িতে আসলে মহুর্তেই শোকের মাতম পড়ে যায় মা-বাবা আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধবদের মাঝে। তার অবুঝ শিশু বাবার নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে। অবুঝ শিশু কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছে না তার বাবা তার সাথে কথা বলছেন না কেন। তার মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। সন্তানের অকাল মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না মা। স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ শুনেই স্ত্রী হাবিবা সুলতানা হয়েছেন শয্যাশায়ী।

চারিদিকে শুধু শোকের মাতম। মরদেহবাহী গাড়িটি বাড়িতে পৌছালে তার বাড়ির পাশে চন্দ্রপাড়া স্কল মাঠে রাত সাড়ে নয়টায় দ্বিতীয় জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ গ্রহণ করেন রাজারহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ সোহরাওয়ার্দী বাপ্পী,রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আলতাফ হোসেন, হারাগাছ থানার ওসি শওকত আলী ও রাজারহাট থানার ওসি রাজু সরকার সহ কয়েক হাজার মুসল্লি।

জানাযা নামাজে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের উদ্দেশ্য হারাগাছ থানার ওসি শওকত আলী নিহত এএসআই পিয়ারুলের বীরত্বের কথা বণর্ণা করেন এবং তার পরিবারের প্রতি গভীর দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। দ্বিতীয় জানাযা নামাজ শেষে গ্রামের মসজিদের পাশেই তাকে সমাধিত করা হয়।

মুরাদনগরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের গ্র্যান্ড ফাইনাল

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার মুরাদনগরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে । রোববার বিকালে উপজেলার আমিননগর যুব সমাজের উদ্যোগে আমিননগর হাইস্কুল মাঠে এ টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়।

এতে মুরাদনগর উপজেলার সাহেবনগর একাদশ ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ একাদশ অংশগ্রহণ করে।

খেলায় উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর আসনের সংসদ সদস্য ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন এফসিএ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ বাঞ্ছারামপুর আসনের সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলাম।

এ সময় বক্তারা বলেন, তরুণ প্রজন্ম ও যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে দূরে রাখতে তাদের খেলাধুলায় আরও বেশি করে সম্পৃক্ত করতে হবে। এছাড়াও খেলাধুলা একজন মানুষের শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি জোগায়। শরীরচর্চা বা ক্রীড়া জ্ঞানচর্চার অবিচ্ছেদ্য অংশ। খেলাধুলা মনের দরজা জানালা খুলে দেয়।

রামচন্দ্রপুর আর কে উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বদরুন নাহার সরকারের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের চিত্রনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ সিদ্দিক (রিয়াজ)।

বিশেষ অতিথি ছিলেন- কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ম. রুহুল আমিন, আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হানিফ সরকার, মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিষেক দাশ, মুরাদনগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ তমাল, মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাদেকুর রহমান, মুরাদনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল হাশেম হাসু, সাবেক মুরাদনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর-রশিদ, সাবেক মুরাদনগর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সরকার, মুরাদনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

খেলায় মুরাদনগর উপজেলার সাহেবনগর একাদশ ১-২ গোলে জয়লাভ করে। খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ফ্রিজ ও রানার্সআপ দলের হাতে এলইডি টিভিসহ ট্রফি তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।

হাতিবান্ধায় নিজ বাড়ির সামনে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

ঈশাত জামান মুন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় আব্দুল মালেক (৪২) নামে এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যার খবর পাওয়া গেছে।

রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮ টার দিকে তিস্তা ব্যারাজের পাশে দোয়ানী এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

লালমনিরহাট সিনিয়ন সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) তাপস সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত আব্দুল মালেক গড্ডিমারী ইউনিয়নের ২ নং ওয়াডের দোয়ানী নামক এলাকায় আব্দুল বারেকের ছেলে বলে জানা গেছে।

লালমনিরহাট সিনিয়ন সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) তাপস সরকার বলেন, আব্দুল মালেক বিদ্যুৎ না থাকায় বাড়ির সামনে একটু অন্ধকারে একা বসে ছিলেন, এ সময় পিছন থেকে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে নিহত আব্দুল মালেকের পরিবারের সাথে কথা বলে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাতিবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এরশাদুল আলম।

ফুলবাড়ীতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাই, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

অলিউর রহমান নয়ন, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাই করে বাজারে মাংস বিক্রি করায় স্বাস্থ্য ঝুকিতে রয়েছে সাধারণ মানুষ। দিনের পর দিন যত্রতত্র পশু জবাই করলেও পশু সম্পদ বিভাগ বা স্যানিটারী বিভাগের নজরদারী না থাকায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে।

সরেজমিনে উপজেলার বালারহাট বাজারে গেছে, মাছ বাজারের নর্দমার পাশে ছাগল জবাই করে ছাল তুলছেন দুইজন কসাই। পাশেই ছাগলের রক্তগুলো খাচ্ছে একটি কুকুর। নর্দমার মধ্যে ফেলা হচ্ছে পশুর মলমুত্র ও নারিভুড়ি। এভাবেই তারা প্রতিদিন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ছাগল জবাই করে আসছেন। বাজারে আরকোন মাংসের দোকান না থাকায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকা সত্বেও বাধ্য হয়ে ক্রেতারা কিনে খাচ্ছেন এসব মাংস। তাছাড়া পরীক্ষা ছাড়াই রুগ্ন ও কংকালসার পশু জবাইয়েরও অভিযোগ করেছেন অনেক ক্রেতা।

বালারহাট বাজারের কয়েকজন মাংস ক্রেতা জানান, কসাইরা প্রতিদিনই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ছাগল জবাই করে মাংস বিক্রি করে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় আমরা অগত্যা স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে এসব মাংস ক্রয় করছি। এরা কয়েকজন মিলে সিন্ডিকেট করায়
দীর্ঘদিন ধরে মাংসে প্রচুর পরিমান পানি দিয়েও বাড়তি দামে বিক্রি করছে বলে তারা জানান। স্বাস্থ্যসম্মত মাংস বিক্রি নিশ্চিত করতে আধুনিক পশু জবাই কেন্দ্র নির্মান এবং পশু জবাইয়ের আগে প্রতিটি পশুর পরীক্ষার দাবী জানান তারা।

বালারহাট বাজারের মাংস বিক্রেতা মাসুদ রানা বলেন, বাজারে পশু জবাইয়ে নির্ধারিত জায়গা না থাকায় দোকানের সামনেই পশু জবাই করি। আগে পশু জবাইয়ের পুর্বে পরীক্ষার জন্য উপজেলা প্রানী সম্পদ ও উপজেলা স্যানেটারী বিভাগের কর্মকর্তারা আসতো। কিন্তু গত কয়েক মাস থেকে তারা আসেন না।

নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বালারহাট বাজার কমিটির সভাপতি মুসাব্বের আলী মুসা জানান, বিষয়টি অনেকেই আমার কাছে অভিযোগ করেছে। এ ব্যাপারে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী হাসপাতালের স্যানিটারী ইন্সপেক্টর শামছুল আরেফিন জানান, কোন অসুস্থ্য বা রোগাক্রান্ত পশু জবাই করছে কি না সে ব্যাপারে আমরা খুবই তৎপর। তবে কোন মাংস বিক্রেতা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাই করলে তার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সোনাতুলা চা বাগান ম্যানেজারের যোগসাজশে অনুমতি বিহীন হাজারও গাছ কেটে বন উজাড়!

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউপি এর আওতাধীন বন বিভাগের অনুমতি বিহীন সোনা তুলা চা বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবৈধ পন্থায় হাজারও গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত কয়েক মাস থেকে বছরের ব্যবধানে এসব গাছ কেটে নিয়ে গেলেও বন বিভাগের কোনো রকম অনুমতি নেই। এ বিষয়ে বন বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। আর বাগান কর্তৃপক্ষ বলছে, গাছ কাটার অনুমতি না নিলেও গাছগুলো ঝড়ে পড়ে গিয়েছে এজন্য ‘স’ মিলে চিরাই করার জন্য বাগান শ্রমিকদের ঘর নির্মাণ কাজে ব্যবহারের যথাযথ উপযোগী প্রক্রিয়ায় জন্য গাড়ি যোগে নেয়া হচ্ছে।

গতকদিনের অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘ দিন থেকে গাছ কেটে অবৈধ ভাবে ব্যবসা চালিয়ে আসছে দেদারসে। কিছু অসাধু কুচক্রী মহলসহ যোগসূত্রে বাগান কর্তৃপক্ষ।

টৈংরা ইউপি সোনাতুলা চা বাগানে (রাগিব আলীর বাগান নামে সুপরিচিত) সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, চা বাগানের বিভিন্ন সেড ট্রি কেটে ম্যানেজারের বাংলোর সামনে দিয়ে প্রত্যেক দিন ৫ থেকে ৬ গাড়ি গাছ কেটে উজাড় করে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত এমন অভিযোগ তুলেছে বাগান চা শ্রমিকগন। কেটে নিয়ে যাওয়া গাছের এর মধ্যে আকাশি, বেনজিয়াম, রাবার , শীল কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। ছোট বড় সব বয়সের গাছ রয়েছে।

বাগান সরেজমিনে অনুসন্ধানীতে বেড়িয়ে আসলো আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য ও চোখে পড়ে যায়, বাগানের বড় বড় বাছাইকৃত গাছ কেটে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সকলের চোখের সামনে দিয়ে যেন কেউ কিছু বলার মত নেই! ঘটনাক্রমে সামনে পড়ে যায় গাছ কেটে গাড়িতে তুলে বাঁধা অবস্থায় তখন সামনে একটু এগিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করি এসব কাটা গাছ গুলো কোথায় নেয়া হচ্ছে ও কার অনুমতিতে এসব কাজ করছেন, গাড়ির চালক জোর গলায় উত্তর দিলেন মাহমুদ ভাই আছেন ওনার সাথে কথা বলেন।

ওই মূহুর্তে গাড়ি চালক শ্রমিকের সাথে কথা বললে জানা যায়, এই রাগিব আলীর বাগানের সব গাছ বিক্রি করে দিয়েছেন ২ বছর হয় আকমল হোসেন নামে এক ব্যক্তির নিকট। আকমল হোসেনের হয়ে আমরা কাজ করি। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, হামিদ মিয়া, হারুন মিয়া গং দের দ্বারা মিলে একসাথে গাছ কাটার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন যদিও সরেজমিনে আকমল হোসেন আসেন না। আমারাই দেখা শুনা করি। তারমধ্যে বাগান শ্রমিকদের সাথে আলাপ কালে তাদের থেকে জানতে পারি প্রত্যেক দিন ৫ থেকে ৬ গাড়ি কর্তনকৃত গাছ যায় বাগান থেকে, এসব কিছু সকলের জানা আছে বলে জানান চা শ্রমিক ক’জন।

এক পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ শেষ করে আসার সময় গাড়ি চালক বললেন, আমার কোন অসুবিধা হবেনা তো, না হলে গাছ ফেলে চলে যাবো। আর অসুবিধা থাকলে বলেন এখানে একজন আছেন মাহমুদ নামে ওনি কথা বলবেন আপনার সাথে নয়তো আপনার ফোন নাম্বার দেন, ঐ মূহূর্তে কারো সাথে দেখা না দিয়ে ফোন নাম্বার দিয়ে স্থান ত্যাগ করি। কিছুক্ষণ পর অপরিচিত একটি মোবাইল নাম্বার থেকে ফোন আসলে তা রিসিভ করার সাথে সাথে নিজেকে বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক জুয়েল আহমেদ পরিচয় দিয়ে বলেন আপনি কে? উত্তরে নিজের পরিচয় দিয়ে কথা বলতে থাকি, একপর্যায়ে বলেন আপনার সাথে দেখা করে একসাথে চা খাবো।

পরবর্তীতে জুয়েল আহমেদের সাথে দেখা না করায় উনি আবারও ফোন দিয়ে বলেন যে কাটা গাছগুলো দিয়ে শ্রমিক কলোনির গৃহ নির্মাণ ও গৃহ মেরামতের কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, আমি আসতেছি আপনি কোথায় আছেন বসে শুধু চা খাবো, চাও কি খেতে পারিনা একসাথে। ততক্ষণে আমার ও বুঝতে দেরী হয়নি বিষয় কি হতে পারে !

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় ঝড়ে এসব গাছ পড়ে গিয়েছিল। মৃত গাছ কেটে নতুন গাছের চারা রোপণ ও করা হচ্ছে। এসব গাছ বেশি সময় ধরে পরে থাকলে চা গাছের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে-এমন আশংকা থেকে এসব গাছ কাটা হয়েছে। তবে গাছ কাটতে বন বিভাগের কোন অনুমতি নেয়া হয়নি স্বীকার করে জুয়েল আহমদ বলেন, গাছ কাটার জন্য বন বিভাগের অনুমতি না থাকলেও স’ মিলে গাছ চিরাই করার জন্য অনুমতি চেয়ে বন বিভাগে আবেদন করা হলেও মিলেনি।

সোনাতুলা চা বাগানের ব্যবস্থাপক মহসিন আহমেদ এর সাথে যোগাযোগ করলে বলেন, বাগানের বিভিন্ন স্থানে ঝড়ের কবলে গাছ পড়ে গেছে সেগুলো কাটা হচ্ছে। ওনাকে প্রশ্ন করি তাহলে এত গাড়ি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সব কি ঝড়ে পড়ছে উত্তরে বলেন এত গাছ কোথায় ৬০ থেকে ৭০ টি গাছ হবে। তখন জিগ্গেস করি তাহলে প্রত্যেক দিন ৬ থেকে ৭ গাড়ি গাছ গাড়িতে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তখন এসব কথা অস্বীকার করেন।

তারপর যোগাযোগ হয় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান টিপু খাঁন এর সাথে কথা বলার পর জানান, এসব গাছ খরিদ করেন আকমল মিয়া নামে এক ব্যক্তি,তবে এসব গাছ কাটার বিষয়ে জানা থাকলে ও অনুমতি আছে কি না তাদের জানা নেই। এসব তো বাগান ম্যানেজার ও কতৃপক্ষের কাজ অনুমতি আছে কি নেই!

তারপর যোগাযোগ করি স্থানীয় ইউপি মেম্বার দিলিপ বাবু নামের ব্যক্তির সাথে তিনি জানান, এসব গাছ কাটার বিষয়ে সকলের জানা কে কিনেছে এবং কে কেটে নিয়ে যাচ্ছে, এক পর্যায়ে এও বলেছেন যে এসব কিছু ম্যানেজার সহ সকলের অনুমতিতে কাটা হচ্ছে,নয়তো বাগান ম্যানেজারের অনুমতি ছাড়া কিভাবে নিয়ে যাবে তাও এক দুদিন থেকে নয় ,প্রায় দুই বছর থেকে চলছে গাছ কাটা।

বন বিভাগের শ্রীমঙ্গলে দায়িত্ব প্রাপ্ত এসিএফ আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, সোনাতুলা চা বাগান কর্তৃক গাছ কাটার বিষয়টি তিনি জানেন না। তিনি বলেন, চা বাগানের গাছ কাটতে বন বিভাগ ছাড়াও চা বোর্ড, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে লিখিত অবহিত করার নিয়ম রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের নিয়ে গঠিত এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন বলেও তিনি জানান এবং তিনি সিলেট আছেন বর্তমানে।

সিলেট বিভাগীয় বন বিভাগের কর্মকর্তা(ডি এফ ও) এস এম সাজ্জাদ হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে এবিষয়ে এস ডিও অবগত না থাকলে বা ছাড়পত্র না থাকলে তা কিভাবে অনুমতি বিহীন গাছ কাটবে তা অবৈধ ও বিভাগীয় ভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।

রাণীশংকৈলে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনকারিদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ি গ্রামে গাছের সঙ্গে বেঁধে নাসিরুলকে নির্যাতনকারিদের গ্রেফতারের দাবিতে গত ২৫ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেলে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ওই গ্রামের ২ শতাধিক লোক উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে এ মানববন্ধন করে। এতে ওই গ্রামের জনাব আলি, হবিবর রহমার, রুবেল হক, রানা ইসলামসহ অনেকেই বক্তব্য রাখেন। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর একটি স্মারকলিপি দেন।

প্রসঙ্গত, ওই গ্রামের করিমুল ইসলামের মেয়ে কেয়ামনিকে(১৮) প্রেম করে বিযে করায় একই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে নাসিরুল ইসলামকে(২১) কেয়ামনির পরিবারের লোকজন গত ২০ সেপ্টেম্বর নাসিরুলকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করে। গুরুতর আহত অবস্থায় নাসিরুল বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন আছে।

এ নিয়ে নাসিরুলের বাবা গত ২১ সেপ্টেম্বর থানায় একটি লিখিত এজাহার করেন। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ করিমুলের স্ত্রীকে গ্রেফতার করে। বাকী আসামিরা এখনও বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

উলিপুরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৪ টি দোকানের ১৪ লাখ টাকার ক্ষতি

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের উলিপুরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৪ টি দোকানের প্রায় ১৪ লক্ষাধিক টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।  ঘটনাটি ঘটেছে, শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার হাতিয়া ভবেশ বাজারে।

জানা গেছে, হাতিয়া ইউনিয়নের হাতিয়ার মেলা বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিমের দোকানে বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্র পাত হয়। মুহুর্তের মধ্যে তা সুলতান মিয়ার কাপড়ের দোকান, মাইদুল ইসলামের টিন ও সিমেন্টের দোকান এবং শ্রী বাহাদুরের সেলুন ভুস্মিভূত হয়। এতে প্রায় ১৪ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
এ প্রসঙ্গে  হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি জানার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অনেকটা নিঃস্ব হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসককে বিষয়টি অবহিত করেছি।

নির্বাচনে সরকারি চাকুরিজীবীদের প্রকাশ্যে প্রচারনার অভিযোগ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন’কে সামনে রেখে নৌকার প্রার্থীর সাথে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সরকারি শিক্ষকরা সহ রেল স্টেশন মাস্টার ও। জনসংযোগ, সভা, সমাবেশে প্রকাশ্যে নৌকার প্রার্থীর জন্য ভোট চাইছেন তারা।

এই শিক্ষকরাই ভোটেরদিন বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রিজাডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাডিং অফিসার বা পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন। একারণে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে তাদের ছবি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সর্বস্তরে। এইসব ছবি ভিডিওতে দেখা গেছে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের। যাদের মধ্যে রয়েছেন- শ্রীমঙ্গল শহরতলীর চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহর তরপদার, উত্তর বরুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অঞ্জন দেব, রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক অলক পাল প্রমুখ বাদ পড়েনি শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশন মাস্টার শাখাওয়াত হোসেন।

সর্বশেষ শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) উত্তর বরুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অঞ্জন দেব উপজেলার গন্ধব্যপুর এলাকায় নৌকার প্রার্থীর সাথে গন সংযোগ ও নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন। গত বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্মে নৌকার নির্বাচনী সভায় অতিথি হিসেবে অংশ নেন জহর তরপদার এবং রেল স্টেশন মাস্টার শাখাওয়াত হোসেন।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বারবার জহর তরফদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। ঠিক একই ভাবে রেল স্টেশন মাস্টার শাখাওয়াত হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ফোন কেটে দিয়েছেন বারংবার।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যোগ দেয়া অন্য প্রার্থীরা। ইতিমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সতন্ত্র প্রার্থী আফজল হক।

আফজল হক জানান, আমরা একটি সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের কাছে বার বার দাবি জানাচ্ছি। আমরা লক্ষ্য করছি শ্রীমঙ্গলের বেশ কিছু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক প্রকাশ্যে নৌকার প্রার্থীর হয়ে ভোট চাইছেন। গনসংযোগ, সভা সমাবেশ করছেন, এরাই আবার নির্বাচনে প্রিজাডিং কর্মকর্তা ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন। আমি এই বিষয় টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এটি সুষ্ঠ নির্বাচনে বাধা হচ্ছে।

সতন্ত্র প্রার্থী প্রেমসাগর হাজরা বলেন, নির্বাচনে যেহেতু সরকারি চাকুরিজীবীরা কারো পক্ষ হয়ে প্রচারে অংশ নিতে পারে না, সেহেতু বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে দেখতে হবে। এভাবে সরকারি কর্মচারী ও কর্মকর্তারা এক পক্ষের হয়ে প্রচারণা চালাতে পারেন না। এর মানে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে।

অন্য আরেক প্রার্থী, মিজানুর রব তিনি বলেন,এমন ভাবে যদি সরকারী চাকুরী জীবিরা নির্বাচনে জরিয়ে প্রচারনা চালিয়ে যান তাহলে আমরা কিভাবে ভেবে নিতে পারি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে ! নিরপেক্ষতার প্রশ্নটি থেকেই যায় !!অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কিভাবে সম্ভব এমন আলামত দেখার পর?

শ্রীমঙ্গল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো.জাফর আল সাদিক বলেন, শিক্ষক শুধু নয়, নির্বাচনী প্রচারণায় রাষ্ট্রের কোন সরকারি চাকুরিজীবী অংশ নিতে পারবে না। কোন শিক্ষক যদি এমনটা করে থাকেন, আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের উপ নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তপনজ্যোতি অসিম বলেন, আমি একটু বাইরে আছি তাই অভিযোগের কপি এখনো দেখিনি। ঘটনা সত্য হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, কোন সরকারি কর্মচারী কর্মকর্তা প্রচারে অংশ নিতে পারেন না। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সরকারি যে কোন কর্মস্থলে থাকুন তা কখনো গ্ৰহনযোগ্যে নহে।