৭০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে ফিরে পেলেন শতবর্ষী মা

মো.নাছির উদ্দিন, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ১০ বছর বয়সে একমাত্র ছেলে হারিয়ে যাওয়ার ৭০ বছর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে ফিরে পেয়েছেন শতবর্ষী মা মঙ্গলের নেছা,১০ বছর বয়সে হারিয়ে যায় একমাত্র ছেলে কুদ্দুছ মিয়া।

বিধবা মা দুই মেয়ে ঝরনা বেগম ও রওশনআরাকে নিয়ে ছেলেকে ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন বরাবর। তার সে স্বপ্ন আজ পূরণ হলো। ১ ভাই ২ বোনের মধ্যে কুদ্দুছ মিয়া বড় ছেলে। হারিয়ে যাওয়া ১০ বছরের শিশু গতকাল দীর্ঘ ৭০ বছর পর ৮০ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে কুদ্দুছ মিয়াকে ফিরে পেয়েছেন।

শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আশ্রাফবাদ গ্রামের বোন ঝরনা বেগমের বাড়িতে মা ছেলের এই দেখা হয়। ছেলেকে ফিরে পেয়ে ১০২ বছর বয়সী মা আবেগে আপ্লুত হয়ে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ছেলে ও মাকে ফিরে পেয়ে মাকে জড়িয়ে কাঁদতে থাকেন। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত শতাধিক নারী পুরুষের চোখের পানি চলে আসে।

মা বিলাপ করে বলতে থাকেন, কুদ্দুছ তুই একদিন ফিরে আসবি এটা আমি বিশ্বাস করতাম, আল্লার কাছে এই দোয়াই করেছি। আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করেছেন।

দশ বছরের কিশোর কুদ্দুছ মুন্সি এখন ৮০ বছর বয়স প্রবীণ। তার তিন ছেলে ও ৫ মেয়ে রয়েছেন। তার গ্রামের বাড়ি পাশ্ববর্তী নবীনগর উপজেলার বাড্ডা গ্রামে। তবে গ্রামে কেউই বাস করেননা। মা মেয়ের সাথে থাকেন। ৭ বছর বয়সে কুদ্দুছ মুন্সির বাবা কালু মুন্সি মারা গেলে মা মঙ্গলের নেছা ছেলেকে লেখাপড়া করাতে ১০ বছর বয়সী ছেলেকে পাশের বাড়ির জামাই নবীনগর উপজেলার দীর্ঘশাইল গ্রামের পুলিশ সদস্য আব্দুল আউয়ালের সাথে ছেলেকে রাজশাহী জেলার আত্রাই উপজেলায় পাঠায়, সেখানে গিয়ে সে হারিয়ে যান। অনেক খোজাখুজি করেও তাকে আর খোজে পায়নি আউয়াল মিয়া।

একই উপজেলার নিঃসন্তান সিংশাইর গ্রামের সাদেক মিয়ার স্ত্রী তাকে লালন পালন করেন। ৩০ বছরে বয়সে বাগমারা উপজেলার সবেদ মিয়ার মেয়ে শুরুজ্জাহানকে বিয়ে করে শশুর বাড়িতেই বসবাস করতে থাকেন। তার ৩ ছেলে ও ৫ মেয়ে। বড় ছেলে রাজ্জাক মুন্সি ইরাকে ও দ্বিতীয় ছেলে জান্নান মুন্সি সৌদি আরব থাকেন। ছোট ছেলে হাফেজ সোহেল মুন্সি বাড়িতেই থাকেন। ৫ মেয়ের সকলেরই বিয়ে হয়ে গেছেন।

আত্রাই উপজেলার সিংশাইর গ্রামে এমকে আইয়ূব এক ব্যক্তির তার ফেসবুক আইডিতে কুদ্দুছ মিয়ার হারিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে একটি ভিডিও আপলোড করেন গত ১২ এপ্রিল। দেশে বিদেশে ভাইরাল হয় ভিডিওটি। এই ভিডি সূত্রধরে কুদ্দুছ মিয়ার নিজ গ্রাম নবীনগর উপজেলার কয়েকজন যোগাযোগ করে আইয়ূবের সাথে গত ৫ সেপ্টেম্বর, তারা সেখানে যান এবং মায়ের সাথে কথা বলিয়ে দেন ভিডিও কলে। ছেলের হাতে কাটা চিহ্ন দেখে মা সনাক্ত করে তার ছেলেকে। শনিবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে কুদ্দুছ মিয়া, ছেলে এবং ছেলের বউরা মায়ের সাথে দেখা করতে বোনের বাড়ি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আশ্রাফবাদ গ্রামে আসেন।

বাড্ডা গ্রামের সফিকুল ইসলাম জানান, ফেসবুকে একটি পোস্ট দেখে আমরা কয়েকজন রাজশাহীতে যোগাযোগ করি ও সেখানে যাই। মা ছেলের মধ্যে ভিডিও কলে কথা বলাই। ছেলের হাতের কাটা দাগ আছে এমন কথা কলার পর আমরা মিলিয়ে দেখি এবং তাকে আজ মায়ের কাছে নিয়ে এসেছি।

আত্রাই উপজেলার এমকে আইয়ূব জানান, কুদ্দুছ মুন্সি হারিয়ে যাওয়ার গল্প শুনে আমি আমার ফেসবুকে একটি ভিডিও আপলোড করি। সে ভিডিও সূত্র ধরে কুদ্দুছ মিয়ার বাড়ির কিছু লোকজন আমার সাথে যোগাযোগ করে এবং হাতের কাটা দেখে তাকে সনাক্ত করে তার মায়ের কথামত। আমার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের কারণে ৭০ বছর পর মা তার ছেলেকে ফিরে পেয়েছে, তাতে আমার অনেক আনন্দ লাগছে।

কুদ্দুছ মিয়ার ছেলে হাফেজ সোহেল মুন্সি জানান, কোনদিন ভাবিনি আমার দাদীকে দেখতে পাবো। আমার বাবা তার মাকে ফিরে পাবে। আল্লাহ আমাদের সহায় হয়েছে, আল্লার কাছে শুকরিয়া।

কুদ্দুছ মিয়ার বোন ঝরনা বেগম জানান, আমার মা সব সময় বলতেন একদিন আমার ছেলে ফিরে আসবে। আল্লাহ আমার মায়ের ডাক কবুল করেছেন। আমরা আমার ভাইকে ফিরে পেয়েছি।

কুদ্দুছ মিয়ার জানান, হারিয়ে যাওয়ার পর রাজশাহী জেলার আত্রাই উপজেলার সিংশারা গ্রামের সাদিক মিয়ার স্ত্রী আমাকে ছেলের মত লালন পালন করে। পরবর্তীতে বিয়ের পর আমার শশুর বাড়িতে বসবাস করে আসছি। কিন্তু মনে মনে আমার মা ও বোনদের খোজার চেষ্টা করেছি। আমার বিশ্বাস ছিল একদিন আমার মার সন্ধান আমি পাবো। মায়ের বুকে ফিরতে পেরে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ আমার আমাকে মনে হচ্ছে। বাকী জীবনটা মার সাথেই থাকবো।

কুড়িগ্রামে মন্দিরে মন্দিরে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের চিলমারীতে মন্দিরে মন্দিরে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। করোনা আতঙ্ক থাকলেও আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমায় প্রতিমা তৈরির কাজে নেমে পড়েছেন তাঁরা।

হিন্দুদের কাছে সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরির জন্য মৃৎশিল্পীদের কাছে চাহিদা আসতে শুরু করেছে।এ জন্য সময় মতো প্রতিমা সরবরাহের জন্য কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় মৃৎশিল্পীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও বাড়তি ৩ থেকে ৪ জন শ্রমিক নিয়েরাতদিন করছেন মৃৎশিল্পীরা। অন্য সময় মালাকরেরা কৃষি কাজসহ বিভিন্ন কাজ করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন।

উপজেলার রমনা ইউনিয়নের বেলেরভিটা এলাকার মৃৎশিল্পী উজ্জল চন্দ্র মালাকার ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইন্দ্র চন্দ্র মালাকার বলেন, ‘বাপ-দাদার পেশা আঁকড়ে ধরে আছি। মৃৎশিল্পীদের কেউ খোঁজখবর নেয় না। প্রতিবছর দুর্গা উৎসব আসলে কিছু টাকার মুখ দেখি।’ তারা দুজনেই এ বছর ৬টি প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। প্রতিমার মূল্য ১৪ হাজার থেকে ১৭ হাজার টাকা করে নেবেন।

চিলমারী উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি সলিল কুমার বর্ম্মণ বলেন, ‘১১ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে চিলমারীতে সম্ভাব্য ৩১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় উৎসব পালন করব। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ার কারণে আমরা বড় দুশ্চিন্তায় ছিলাম। ঈশ্বরের কৃপায় করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু কমায় পূজার আয়োজন চলছে। শারদীয়া দুর্গা উৎসব যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় সে জন্য প্রশাসনের কাছে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুর রহমান জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছরও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালন করার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

কমলগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ১জন নিহত

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তাজ উদ্দীন (২৫) নামের এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার চিৎরিয়া গ্রামের শামছু মিয়ার ছেলে। গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে যোগীবিল চৌমুহনা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।তাজ উদ্দীন আলীনগর চা-বাগানের ফাঁড়ি বাগান সুনছড়ার একজন ব্যবসায়ী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্যবসায়ী তাজ উদ্দীন তার মোটরসাইকেল নিয়ে যোগীবিল গ্রামে বাড়ি যাচ্ছিলেন। যোগীবিল চৌমুহনা এলাকায় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারালে মোটরসাইকেলটি একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে স্থানীয় মানুষ জন উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

আলীনগর ইউপি পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও নিহত তাজ উদ্দীনের চাচা সাইফুল ইসলাম এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নেত্রকোণায় ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৩

মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণায় ট্রাকের সাথে মাছবাহী পিকআপের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছে। গতকাল শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের বাগড়া নামক স্থানে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এ সময় একজন আহত হয়েছে।

নিহতরা হচ্ছেন- সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের গাছতলা গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী রনি মিয়া ও তার চাচাত ভাই জনি মিয়া এবং পিকআপ চালক আবুচান। এ সময় গাড়ীতে থাকা অপর একজন আহত হয়।

নেত্রকোণা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোর্শেদা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার ভোর রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের গাছতলা থেকে মাছ বহনকারী একটি পিকআপ ভ্যান ঢাকার উদ্যেশে ছেড়ে আসে।

নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ সড়কের সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের বাগড়া নামক স্থানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপ ভ্যানটি দাড়িয়ে থাকা একটি বিকল ট্রাকের সাথে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই মাছ ব্যবসায়ী রনি মিয়া ও তার চাচাত ভাই জনি মিয়া মারা যান। গুরুতর আহত পিকআপ চালক আবুচানকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অপরজনকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে।

পুলিশ আরো জানায়, নিহত দুইজনের লাশ শ্যামগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়েছে ও অপর লাশটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। ময়না তদন্তের পর নিহতদের নিজ নিজ স্বজনদের নিকট বুঝিয়ে দেয়া হবে।

রাজারহাটের নদী ভাঙ্গন এলাকা ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব এবিএম সারওয়ার ই আলম সরকার জীবন

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ রাজারহাটের কৃতি সন্তান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ  হাসিনার প্রেসসচিব এবিএম সারওয়ার ই আলম সরকার জীবন, রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াসাম গ্রামের ভাঙ্গণ কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

গতকাল শনিবার দুপুরে তিনি তিস্তার গোকুন্ডা ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াসাম, বগুড়া পাড়ার বিলীন হয়ে যাওয়া বসতবাড়ী, আবাদী জমি সহ গোটা এলাাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি স্থানীয়দের সাথে ভাঙ্গনরোধে স্বল্পমেয়াদী ও স্থায়ী সামাধান নিয়ে খোলামেলা আলোচনার পাশাপাশি বাঁশের বান্ডাল দিয়ে নদীর গতিপথ বদলানোর স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

এছাড়াও শুকনো মৌসুমে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও সচিবদের নিয়ে এসে তিস্তানদীর ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিন্দ্রনাথ কর্মকারকে বাশের বান্ডাল নির্মাণে স্থানীয়দের পাশে থাকার নির্দেশ দেন।

এসময় রাজারহাট মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হাকিম সবুজ, যুগ্ন সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম আলম সবুজ, প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রুকুনুজ্জামান রোকন, বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বসুনিয়া, চাকিরপশার ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি অজয় কুমার সরকার, রূপালী ব্যাংকের সহকারী ম্যানেজার সাজু উপস্থিত ছিলেন।

রাণীশংকৈলে আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজা উদযাপন কমিটির সাথে থানা পুলিশের মতবিনিময়

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহােৎসব আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২১ উদযাপন উপলক্ষে করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎসব উদযাপন ও পূজা মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে হিন্দু নেতা ও মণ্ডপের সভাপতি- সাধারণ সম্পাদকদের সাথে মত বিনিময় সভা করেছে রাণীশংকৈল থানা পুলিশ ।

এ উপলক্ষে গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে ওসি এস এম জাহিদ ইকবালের সভাপতিত্বে মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহকারি পুলিশ কমিশনার (সার্কেল) তোফাজ্জুল হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন (ওসি) তদন্ত আব্দুল লতিফ সেখ, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ছবিকান্ত রায়, সাধারণ সম্পাদক সাধন কুমার বসাক, সাবেক প্রসক্লাব সভাপতি ফারুক হোসন প্রমুখ।

এছাড়াও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নের্তৃবৃন্দ, প্রতিটি মন্ডপের সভাপতি-সম্পাদকসহ গণমাধ্যমকর্মিরা উপস্থিত ছিলেন। এ বছর এ উপজেলায় মোট ৫৪ টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: সিলেট মহানগর শ্রমিকলীগের সাবেক সহ সভাপতি মরহুম মাদারিছ আহমেদ তরফদারের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প হয়েছে।

প্রধান অতিথি হিসেবে ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব উপাধ্যক্ষ ড.মো.আব্দুস শহীদ এমপি।

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিনে কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার ইউপি পরানধর গ্রামে মাদারিস-মোক্তাদির তরফদার ফাউন্ডেশন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ফাউন্ডেশনের প্রধান মুরব্বি আব্দুল মোক্তাদির তরফদারের সভাপতিত্বে ও রুহুল কদ্দুছ বাবুলের উপস্থাপনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এম. মোসাদ্দেক আহমেদ (মানিক), উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া, মুন্সীবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালিব তরফদার, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব তানভীর আহমেদ তরফদার (জুম্মন)।

পরে প্রধান অতিথি চিকিৎসা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। দিনব্যাপী ফ্রি চিকিৎসায় রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, ঔষধ, ডায়বেটিস, ডেন্টাল, শিশুরোগ ও খাৎনা ইত্যাদি চিকিৎসা করা হয় এবং ফ্রি ঔষধ দেওয়া হয়। ৩৫জন চিকিৎসক সহস্রাধিক রোগীকে চিকিৎসা প্রদান করেছেন বলে জানা যায়।

ছুরিকাঘাতের শিকার রাজারহাটের বাসিন্দা এএসআই পেয়ারুল মারা গেছেন

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ মাদক ব্যবসায়ীর ছুরিকাঘাতের  শিকার কুড়িগ্রামের রাজারহাটের বাসিন্দা হারাগাছ থানার এএসআই পেয়ারুল ইসলাম মারা গেছেন। শনিবার সকাল  সোয়া ১১টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি ২০১১ সালে বাংলাদেশ পুলিশে কনেস্টবল পদে যোগদান করেন। পরে ২০১৮ সালে এএসআই (নিঃ) পদে পদোন্নতি পান।

পেয়ারুল রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক মিন্টু মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাতে এএসআই পেয়ারুল ইসলাম হারাগাছ থানাধীন সাহেবগঞ্জ এলাকায় পারভেজ রহমান পলাশ (২৬) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে মাদকসহ গ্রেফতার করেন। এ সময় পলাশ তার হাতে থাকা চাকু দিয়ে এএসআই পেয়ারুলের বাম পাঁজরে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।গভীর রাতেই পেয়ারুল কে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল সোয়া এগারোটার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে তার পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

নওগাঁ কোলা রক্তদান সংস্থার এক দল যুবকের নেশাই হলো রক্ত জোগাড় করে দেওয়া

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁ সদর উপজেলার কোলা রক্তদান সংস্থা “এসো করি রক্ত দান হাসবে রুগী বাঁচবে প্রাণ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এক দল যুবক মানুষের জীবন বাঁচাতে রক্ত জোগাড় করে দেওয়াই এখন তাদের
নেশা। এলাকার কয়েকজন তরুণকে নিয়ে গড়ে তোলেন “কোলা রক্তদান সংস্থা”।

গত আড়াই বছরে পাঁচশতর বেশী রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহ করে দিয়েছে নওগাঁর এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। রক্তের প্রয়োজনে অনলাইনে অথবা অফলাইনে ০১৩১২৮৪১২০০ ও ০১৩০২৫৫৪২৮৭ এই দুই মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করলে রক্ত জোগাড় করে দেওয়া হয়। এই সংগঠনে এখন স্বেচ্ছাসেবী রয়েছেন শতাধিক। তাঁরা শুধু নিজেরাই নিয়মিত রক্ত দেন না, অন্যদের রক্তদানে উৎসাহিত করেন। প্রয়োজনের সময় নানাভাবে চেষ্টা করে রক্তের ব্যবস্থা করে দেন। এভাবে মানুষের জীবন বাঁচাতে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন এই রক্তযোদ্ধারা।

কোলা রক্তদান সংস্থার পরিচালক শাহিদ হোসাইন নিয়ল বলেন, কোলা রক্তদান সংস্থা প্রতিষ্ঠাতা মো. নাছিবুল হাসানের হাত ধরে আমরা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করি। ঈদের ছুটিতে মানুষজন স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটান। অনেকে হাসপাতালে অসুস্থ স্বজনকে রেখে বাড়িতে ঈদ করতে চলে যান। আমরা এমন রোগীর পাশে দাঁড়াই। রক্তের ব্যবস্থা করে দিয়ে তাঁর সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করি।

অনেক সময় গভীর রাতে অনেকে রক্তের জন্য ফোন করেন। তখন রক্তদাতা সংগ্রহ করে দিতে হয়। রক্ত পাওয়ার পর রোগীকে যখন সুস্থ হতে দেখি, তখন সব কষ্ট ভুলে যাই।

চীনে নিষিদ্ধ হলো ক্রিপ্টোকারেন্সি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্রিপ্টোকারেন্সির সংশ্লিষ্ট সব ধরনের আর্থিক লেনদেনকে বেআইনি ঘোষণা করেছে। গতকাল শুক্রবার এক অনলাইন বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

চীনা বিধিনিষেধের কারণে বিটকয়েনসহ ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্য গত বছর উঠানামা করেছে। অর্থ পাচার ঠেকাতে ক্রিপ্টোকারেন্সির বিরুদ্ধে বিভিন্ন নীতিমালা আরোপ করে আসছিল বেইজিং।

পিপলস ব্যাংক অব চায়নার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভার্চুয়াল মুদ্রা সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বেআইনি আর্থিক কর্মকাণ্ড। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে তদন্ত ও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

এর ফলে ক্রিপ্টোকারেন্সি সংশ্লিষ্ট সবধরনের আর্থিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হলো। যেমন ক্রিপ্টো কেনাবেচা, টোকেন বিক্রি, ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেন ইত্যাদি।

সুত্রঃ হিন্দুস্তান টাইমস।