ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করবে তালেবান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে আফগানিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করার প্রত্যয় জানিয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন তালেবান।

তালেবানের মুখপাত্র জবিহউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, ইরানের সঙ্গে তালেবানের নেতৃত্বাধীন আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো মতবিরোধ নেই এবং তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করতে চায় কাবুল।

জবিহউল্লাহ মুজাহিদ তালেবান মুখপাত্রের পাশাপাশি বর্তমান আফগান সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপমন্ত্রীরও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি শুক্রবার কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, তালেবানের নেতৃত্বাধীন সরকার রাশিয়ার সঙ্গে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

রাশিয়া জাতিসংঘের সঙ্গে মধ্যস্থতা করে তালেবান গোষ্ঠীর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী দায়েশ (আইএস) নিয়েও কথা বলেন তালেবান মুখপাত্র। তিনি দাবি করেন, আফগানিস্তানে আইএসের সামান্য কিছু সন্ত্রাসী রয়েছে এবং তাদেরকে খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলছে। মুজাহিদ বলেন, আমেরিকা আফগানিস্তানের মাটিতে আর কোনো হামলা চালাবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

উল্লেখ্য, তালেবান গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের ক্ষমতা গ্রহণ করে। আর এর মাধ্যমে দেশটিতে আমেরিকার ২০ বছরের সামরিক উপস্থিতির চরম অপমানজনক অবসান ঘটে।

সুত্রঃ পার্সটুডে।

আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি

সিএনবিডি ডেস্কঃ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে আজ শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে যাচ্ছে বলে সতর্ক করে দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার পর এর নাম হবে ‘গুলাব (গোলাপ)’। এটি পাকিস্তানের দেওয়া নাম।

ঢাকায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মোটামুটি নিশ্চিত যে নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে যাচ্ছে। এটি আজ সন্ধ্যার দিকে অথবা রাতে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে।

তিনি বলেন, এটা হবে একটি স্বল্প শক্তির ঘূর্ণিঝড়, যার গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এটি মূলত ভারতের উড়িষ্যায় আঘাত হানবে। বাংলাদেশে ঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

শনিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাঠানো আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ কথা জানানো হয়েছে। এদিন সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার এ পূর্বাভাসে আরও জানানো হয়, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।

সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আজ ঢাকায় বাতাসের গতি ও দিক ছিল দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার এবং সকাল ৬ টায় বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতা ছিল ৮৯ শতাংশ। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ৫২ মিনিটে এবং আগামীকাল রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৪৯ মিনিটে।

আগামী ৪৮ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, একই সময়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং শনিবার দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকবে গোপালগঞ্জে ২৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়েছে নোয়াখালীর মাইজদীকোর্টে ৩০ মিলিমিটার।

ক্রমেই ডলারের বিপরীতে কমছে টাকার মান

সিএনবিডি ডেস্কঃ বাংলাদেশ সাধারণত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করে মার্কিন ডলারে। কিন্তু টাকার বিপরীতে বেড়ে চলছে মার্কিন ডলারের দাম। রপ্তানি কম হওয়া এবং রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার কারণে আগের তুলনায় বেড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা। ডলারের দাম অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকার কারণে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি এবার উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে বৈদেশিক মুদ্রার ডিলার হিসেবে কর্মরত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে জানা গেছে, দেশের ব্যাংকগুলোতে এখন নগদ মার্কিন ডলারের মূল্য ৮৭ টাকা। আমদানি পর্যায়ে ডলারের দর উঠেছে ৮৪ টাকা ৭৫ পয়সা। অর্থাৎ যারা ভ্রমণ করতে বিদেশে যাচ্ছেন, তাদের ৮৭ টাকা দরে ডলার কিনতে হচ্ছে। এ যাবৎকালে ডলারের সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান ছিল গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে। সেসময় আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দর ৮৪ টাকা ৯৫ পয়সায় উঠেছিল। গত বৃহস্পতিবার সে রেকর্ড ভেঙে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকাকে দুর্বল করে দিয়ে ডলার হয়েছে আরো শক্তিশালী। এদিন আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের দাম উঠেছে ৮৫ টাকা ৫০ পয়সায়। খোলা বাজারে ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৮৭ টাকা ৮০ পয়সা।

বাংলাদেশে ডলার ও টাকার বিনিময় হার স্বাধীনতার পর থেকে সরকার নির্ধারণ করে দিত। টাকাকে রূপান্তরযোগ্য ঘোষণা করা হয় ১৯৯৪ সালের ২৪ মার্চ। আর ২০০৩ সালে এই বিনিময় হারকে করা হয় ফ্লোটিং বা ভাসমান। এরপর থেকে আর ঘোষণা দিয়ে টাকার অবমূল্যায়ন বা পুনর্মূল্যায়ন করা হয় না। তবে টাকার বিনিময় হার ভাসমান হলেও পুরোপুরি তা বাজারভিত্তিক থাকেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব সময়ই এতে পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ রেখে আসছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে অনুসরণ করে আসছে ম্যানেজড ফ্লোটিং রেট নীতি।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় দেশে চাপ বেড়েছে আমদানিতে। ফলে এর দায় পরিশোধে লাগছে বাড়তি ডলার। এ কারণে বাড়ছে  ডলারের দর। তবে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা মজুত রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যাংকগুলোর চাহিদার বিপরীতে ডলার বিক্রি করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে নিজেদের মধ্যে ৮৫ টাকা ৩০ পয়সা দরে ডলার লেনদেন করছে ব্যাংকগুলো। গত ২ সেপ্টেম্বর এ দর ছিল ৮৫ টাকা ২০ পয়সা। আগের মাসের শুরুতে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম ছিল ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা। এ হিসাবে ডলারের বিপরীতে ৩৪ কর্মদিবসের ব্যবধানে ৫০ পয়সা দর হারিয়েছে টাকা। এর আগে ২০২০ সালের জুলাই থেকেই ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা স্থিতিশীল ছিল ডলার।

ব্যাংকগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, আমদানি দায় মেটাতে ব্যবসায়ীদের থেকে দেশি ও বিদেশি খাতের বেশিরভাগ ব্যাংক প্রতি ডলারে ৮৫ টাকা ৩৫ পয়সা পর্যন্ত নিচ্ছে। তবে নগদ ডলারের মূল্য বেশিরভাগ ব্যাংকে ৮৭ টাকার উপরে রয়েছে। কয়েকটি ব্যাংকে ৮৮ টাকা ছাড়িয়ে গেছে নগদ ডলারের মূল্য।

জানা গেছে, ব্যাংকগুলোর মতোই বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে মানি এক্সচেঞ্জ কমিশনগুলো। মতিঝিল পাইওনির এক্সচেঞ্জের এক কর্মকর্তা জানান, তারা ডলার কিনছেন ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায় আর বিক্রি করছেন ৮৭ টাকা ৭০ পয়সায়।

এদিকে, খোলাবাজারেও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে ডলারের দাম। খোলা বাজারে আজকের ডলার বিক্রি হচ্ছে ৮৭ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ৮৯ টাকা পর্যন্ত এবং কিনছে ৮৭ টাকা থেকে ৮৭ টাকা ৩০ পয়সা।

অন্যদিকে ডলারের বিপরীতে টাকা অবমূল্যায়িত হওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ব্যবসায়ীরা। রপ্তানিকারকরা বলছেন, টাকার মূল্যমান কমায় তারা খুশি। কারণ এতে আগের তুলনায় বেশি আয় হচ্ছে তাদের। কিন্তু এই রপ্তানিকারকদের একটি অংশ যখন আমদানিকারক, তখন আবার বিষয়টি নিয়ে তারা নাখোশ। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, বাংলাদেশে রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হচ্ছে। আবার প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের বড় অংশই আমদানিনির্ভর। তাই টাকার মূল্যমান কমে যাওয়ায় খুব বেশি লাভবান হতে পারছেন না এসব ব্যবসায়ী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতিসহ সব ধরনের পণ্যের আমদানি বাড়ছে। ইউরোপ-আমেরিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। বাংলাদেশে করোনার মধ্যেই পুরোদমে উৎপাদন কর্মকাণ্ড চলছে। সব মিলিয়ে আমদানি বাড়াটাই স্বাভাবিক। আর এটা অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক।

চিলমারীতে প্রতারক চক্রের ২ সদস্য আটক

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ত্রাণের গরু,ছাগল ও ঘর দেয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার দায়ে প্রতারক চক্রের দুই জনকে আটক করেছে চিলমারী থানা পুলিশ। গতকাল রাতে অভিযান চালিয়ে উপজেলার রমনা ও কুষ্টারী এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন রমনা মিস্ত্রিপাড়া এলাকার কায়ছার আলীর ছেলে সেকেন্দার আলী শিপুল (২৫) ও বেলাল পানাতির ছেলে ফজলু পানাতি (৫০)।

জানা গেছে, সেকেন্দার আলী শিপুলের নেতৃত্বে একটি প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণের গরু,ছাগল, ঘর ও চাকুরী দেয়ার প্রলোভনে সাধারন মানুষের কাছ থেকে গরুর জন্য ৫ হাজার, ছাগলের জন্য ১ হাজার ও ঘরের জন্য ১০ হাজার টাকা করে ৩/৪শ জনের নিকট হতে প্রায় ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। তারা প্রাথমিকভাবে মানুষের বিশ্বাস অর্জনের জন্য কয়েকজন কে গরু, ছাগল, রড-সিমেন্টের তৈরী খুঁটি ও ঢেউটিন দেয় । এক সময় প্রতারনার শিকার ভূক্তভোগীদের চাপে শিপুল আত্নগোপন করে। কয়েকদিন আগে শিপুল বাড়ীতে আসলে পাওনাদাররা ভীড় করতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে সন্ধায় বাড়ী থেকে পালিয়ে থানাহাট কুষ্টারী এলাকায় বোনের বাড়ীতে আশ্রয় নেয় শিপুল।সেখানেও শতাধিক পাওনাদার বাড়ী ঘেরাও করে। এসময় পাওনাদাররা চিলমারী মডেল থানায় খবর দিলে পুলিশ শিপুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। রাতে শিপুলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফজলু পানাতি নামে প্রতারক চক্রের অপর সদস্যকে আটক করে পুলিশ।

এদিকে পুলিশ ফজলু পানাতিকে আটক করায় ফজলু পানাতির স্ত্রী আরফিনা ও শ্যালক মুকুল মিয়া মিলে শিপুলের বাবা কায়ছার আলীকে বাড়ীতে তুলে নিয়ে যান। স্থানীয়রা বিষয়টি ৯৯৯ এ জানালে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আরফিনা ও মুকুল মিয়াকে আটক করে।

পরে ভুক্তভোগী ওমেদ আলী বাদী হয়ে প্রতারনার মামলা করলে শুক্রবার বিকেলে সেকেন্দার আলী শিপুল ও ফজলুল হক পানাতিকে প্রতারনার মামলায় এবং আরফিনা ও মুকুল মিয়াকে ১৫১ ধারায় কুড়িগ্রাম জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

চিলমারী মডেল থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম জানান, গরু, ছাগল ও ঘর দেয়ার নামে প্রতারনা করে ৩/৪শ জনের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ায় প্রতারনার মামলায় ২ জনকে এবং ১৫১ ধারায় ২ জনকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

রাণীশংকৈলে বৈদ্যুতিক শক লেগে মা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ধান ক্ষেতের সেচ পাম্পে বৈদ্যুতিক শক লেগে বলিদ্বারা গ্রামের মনু মিয়ার স্ত্রী  আফরোজা বেগম (৫৫) ও ছেলে আব্দুল কাদের (৩২) এর  মৃত্যু হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধায় উপজেলার বলিদ্বারা গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা  ঘটে।
জানা গেছে, ঘটনার দিন সন্ধাায় কাদের তার বাড়ির অদূরে ধান ক্ষেতে সেচ দিতে যায়। সেচ ঘরে পাম্পের সুইচ দিতে গিয়ে সুইচে হাত আটকে গিয়ে সে বিদ্যুতে জড়িয়ে যায়। সে বাড়িতে ফিরে না গেলে ঘন্টা খানেক পরে তার মা নাতিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাদেরকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখেন। তাকে ছাড়াতে গিয়ে তিনিও বিদ্যুতে জড়িয়ে যান। তার নাতি বাড়িতে গিয়ে এ খবর জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এবং পুলিশের সহোযোগিতায় লোকজন মা ও ছেলের লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জমিরুল ইসলাম বিদ্যুতের শকে মা ও ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কুড়িগ্রামে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস পালিত

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : ‘ফার্মেসী সবসময় আপনার স্বাস্থ্যের জন্য বিশ্বস্ত’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে কুড়িগ্রামে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস পালিত হয়েছে।

বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট এসোসিয়েশন (বিডিপিএ) ও বাংলাদেশ বেকার ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট এসোসিয়েশন (বিবিডিপিএ) এর আয়োজনে দিবসটি উপলক্ষে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে র‌্যালি ও আলোচনা সভার অনুষ্ঠিত হয়।

আজ শনিবার সকাল ১১টায় র‌্যালি শেষে ডক্টরস ক্লাবে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিভিল সার্জন ডা: মো. হাবিবুর রহমান। জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: পুলক কুমার সরকারের সভাপতিত্বে এ সময় তত্বাবধায়ক ডা: মো. শহীদুল্লাহ লিংকন ফার্মাসিস্ট মো. মমিনুল হক, ফার্মাসিস্ট মাসুদ রানা, মো. মোজাম্মেল হক, নার্সিং সুপারভাইজার শোভা বিশ্বাস বক্তব্য রাখেন।

লক্ষ্মীপু‌রে ডাকা‌তির প্রস্তুতিকালে ৩ ডাকা‌ত গ্রেফতার ও ডাকাতির সরঞ্জাম উদ্ধার

মোঃ জ‌হির হো‌সেন, লক্ষ্মীপুরঃ লক্ষ্মীপুর ডাকাতির প্রস্তুতি কালে এসআই মোঃ সোহেল মিয়া কর্তৃক ৩ জন ডাকাত গ্রেফতার ও ডাকাতির সরঞ্জাম উদ্ধার লক্ষ্মীপুর থানা পু‌লিশ।
শুক্রবার (২৪ সে‌প্টেম্বর) দিবাগত রাত অনুমান ০২.৪৫ টায় ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন দক্ষিন পাশে ঝোপের ভিতর ১০/১৫ জন ডাকাত ডাকাতির করার প্রস্তু‌তি নি‌চ্ছে গোপন সংবা‌দের মাধ্য‌মে জান‌তে পা‌রেন। লক্ষ্মীপুর জেলার  পুলিশ সুপার, জনাব ড. এএইচএম কামরুজ্জামান, পিপিএম (সেবা) র দিক নির্দেশনায় এবং লক্ষ্মীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব, জসীম উদ্দীনের নের্তৃত্বে  এসআই মোঃ সোহেল মিয়া সঙ্গীয় ফোর্স সহ অ‌ভিজান প‌রিচালনা ক‌রেন। এ সময়  ০৩ জন ডাকাতকে ডাকা‌তির সরঞ্জাম সহ আটক কর‌তে সক্ষম হন।
আটকৃত ডাকাতরা হ‌লো  ১। মোঃ শাহীন (২৫), পিতা-শাহজাহান, মাতা-শুকুরী বেগম, সাং-চরপাগলা (মমিন উল্যা চেয়ারম্যান বাড়ী), ৯নং ওয়ার্ড, চরপাগলা ইউপি, ২। মোঃ সোহেল (৩৪), পিতা-আব্দুল মতিন, মাতা-মোরশেদ বেগম, সাং-চরলরেঞ্চ (আব্দুল মতিন ডুবাই ওয়ালাগো বাড়ী), ৪নং ওয়ার্ড, ২নং চরলরেঞ্চ ইউপি, উভয় থানা-কমলনগর, জেলা-লক্ষ্মীপুর, ৩। মোঃ আরিফ হোসেন (২৮), পিতা-আমানত উল্যা, মাতা-জোসনা বেগম, সাং-কামারগাঁও (জল কদর কাজী বাড়ী), ৪নং ওয়ার্ড, ৪নং ভাগ্যকুল ইউপি, থানা-শ্রীনগর, জেলা-মুন্সিগঞ্জ।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের নিকট হইতে ডাকাতির সরঞ্জাম ১টি লোহার তৈরী ছোরা, যাহা কাঠের বাট সহ লম্বা অনুমান ১৬ইঞ্চি, ২টি লোহার তৈরী ছোরা, যাহা কাঠের বাট সহ লম্বা অনুমান ১২ ইঞ্চি ,  ১টি লোহার তৈরী কোরাবারি, যাহা লম্বা অনুমান ২২ ইঞ্চি,  ১টি স্কু-ড্রাইভার, হাতলসহ লম্বা ১০ ইঞ্চি, ১টি এসএস স্টীল পাইপ, লম্বা অনুমান ২৪ ইঞ্চি, ১টি লোহার তৈরী চাপাতি, হাতলসহ লম্বা অনুমান ১২ ইঞ্চি, ৩টি কাপড়ের তৈরী কালো মাক্স জব্দ করা হ‌য়ে‌ছে।
এ বিষয়ে এসআই মোঃ সোহেল মিয়া বাদী হইয়া ধৃত আসামীসহ অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জনের ডাকাতদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করিলে লক্ষ্মীপুর থানার মামলা নং-৫৪, তারিখ-২৪/০৯/২০২১ খ্রিঃ, ধারা-৩৯৯/৪০২ পেনাল কোড রুজু করিয়া আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়ে‌ছে।

অনন্য দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা শতবর্ষে একবারই জন্ম নেয়

সারা বিশ্বের অপার বিস্ময়ের নাম শেখ হাসিনাহাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেষ্ঠ্যকন্যা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের চারবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। মমতাময়ী এবং মানবকল্যাণে ব্রতী এক অনন্য দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক তিনি। অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা, মেধা, বিচক্ষণতা, আত্মপ্রত্যয় ও দূরদর্শিতার কারণে জননেত্রী শেখ হাসিনা এখন বিশ্বনেত্রী

মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মের মাধ্যমে-বয়সের বিচারে নয়। নশ্বর এ পৃথিবী থেকে সবাইকে একদিন চলে যেতে হবে। কর্মের গুণে কাউকে মানুষ মনে রাখবে, কেউ হারিয়ে যাবে মারা যাবার সাথে সাথেই। শেখ হাসিনা এমনই একজন মানুষ যার কর্মই তাঁকে অমরত্ব দান করবে। মায়ানমারের সামরিক বাহিনী কর্তৃক নির্যাতিত এবং নিজ মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা মুসলমানদের আশ্রয় দিয়ে মায়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। সে সময় জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছিলেন, ‘শেখ হাসিনার কাছে অনেক কিছু শেখার আছে’।

মমতাময়ী মায়ের মত নিজের আঁচলে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মুসলমানদের আশ্রয় দেওয়ার কারণেই  ব্রিটিশ মিডিয়া শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি (Mother of Humanity)’ মানবতার মা হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা খালিজ টাইমসপ্রাচ্যের নতুন তারকা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইন্ডিয়া টুডে তাদের দীর্ঘ এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘শেখ হাসিনার হ্রদয় বঙ্গোপসাগরের চেয়েও বিশাল, যেখানে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ে কার্পণ্য নেই’ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান শেখ হাসিনাকে ‘বিরল মানবতাবাদী নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেন।

২০১৬ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হোসে ম্যানুয়েল সান্তোস শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বমানবতার বিবেক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ভারতীয় আরেক নোবেলজয়ী কৈলাস সত্যার্থী শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বমানবতার আলোকবর্তিকা’ হিসেবে তুলনা করেছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেন, ‘বাবার মতোই বিশাল হৃদয় তাঁর।’

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নিউজ এজেন্সি ‘দি ইন্টার প্রেস সার্ভিস (আইপিএস) এবং নিউইয়র্ক, জুরিখ ও হংকং ভিত্তিক তিনটি অলাভজনক ফাউন্ডেশনের নেটওয়ার্ক গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন ২০১৮ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে দায়িত্বশীল নীতি ও তার মানবিকতার জন্য ‘আইপিএস ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ ২০১৮ এবং ‘স্পেশাল ডিসটিংশন অ্যাওয়ার্ড ফর লিডারশিপ’এ দুটি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে।

শান্তি, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক মানবিক উন্নয়ন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি এবং উন্নয়নে অনন্য অবদানের জন্য চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবেন তিনি। বিশ্বশান্তির অগ্রদূত শেখ হাসিনা অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন করতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি সমৃদ্ধির পথে তাঁর অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে শেখ হাসিনা দুটি পুরস্কারে ভূষিত হন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে যুগান্তকারী উদ্যোগের জন্য ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’।

ক্ষুদ্র আয়তনের জনবহুল একটি উন্নয়নশীল দেশ হয়েও শেখ হাসিনার দুরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সারা বিশ্বের নিকট প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিবিড় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবহার এবং দারিদ্র দূরীকরণে তার ভূমিকা, বৃক্ষরোপণ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকের ইতিবাচক পরিবর্তন প্রভৃতি ক্ষেত্রে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন নিয়ে নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইউএন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্কের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্ট উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ জেফ্রি স্যাক্স বলেছেন, ‘পৃথিবীর দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের অগ্রগতি বিশ্লেষণ করি, যা প্রতি বছর জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সমাধান নেটওয়ার্ক করে থাকে, ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অগ্রগতিতে বিশ্বে প্রথম হয়েছে’।

এ বছর, ২০২১ সাল, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় `SDG`s Progress Award` এ ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর্থ ইনস্টিটিউট, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গ্লোবাল মাস্টার্স অফ ডেভেলপমেন্ট প্র্যাকটিস এবং ইউএন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্ক শেখ হাসিনাকে ‘ক্রাউন জুয়েল’ আখ্যায়িত করেছে।

স্বাধীনতার পর আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরী কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে ব্যঙ্গোক্তি করেছিল। দূরদর্শী ভিশনারী নেতৃত্বের যাদুকরি স্পর্শে সে সময়ের ব্যঙ্গোক্তিকে মিথ্যা প্রমান করে বাংলাদেশকে আজ বিশ্বের উন্নয়নের ‘রোল মডেল’ এ পরিনত করেছেন শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) ক্ষুধার বিরুদ্ধে আন্দোলনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৯ সালে শেখ হাসিনাকে সম্মানজনক ‘সেরেস’ (CERES) মেডেল প্রদান করে।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার কারণেই বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে আসীন হয়েছে। বিশ্বের বড় বড় পরাশক্তির শত বাধার মুখে সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা নদীর বুকে পাঁচ কিলোমিটারের অধিক দীর্ঘ সেতু আজ দৃশ্যমান বাস্তবতা। ২০২০ সালে বৈশ্বিক মহামারি করোনা সংকটকালে ‘খাদ্যসংকট’ হবে বলে ডব্লিউএফপির ভবিষ্যত বানি ভুল প্রমাণিত করে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন, ‘করোনা ও বন্যা যাই হোক না কেন, বাংলাদেশে খাদ্য সংকট হবে না’। প্রকৃত পক্ষে তাই হয়েছে ।

সারাবিশ্বে প্রান্তিক, দরিদ্র ও বিপর্যস্ত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন শেখ হাসিনা, তিনি পরিণত হয়েছেন হতদরিদ্র, বঞ্চিত মানুষের একক নেতায়। আর এভাবেই নিজেকে বিশ্ব নেতা হিসেবে আলোকিত করেছেন। জঙ্গিদমনে শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ ‘জিরো টলারেন্স‘ নীতি সারাবিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা আজ জাতিসংঘ তথা বিশ্ব পরিমণ্ডলে শান্তি ও ন্যায়ের এক মূর্তপ্রতীক। ত্যাগ, দয়া-মায়া, ক্ষমা ও সাহসের মহিমায় শেখ হাসিনা আজ বিশ্বের এক অপার বিস্ময়।

শেখ হাসিনার সঠিক নির্দেশনায় এবং মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে কৃষিক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয়। কৃষিজমি কমতে থাকা, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও বৈরী প্রকৃতি ইত্যাদির মধ্যেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ। ধান, গম ও ভুট্টা বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে ক্রমেই এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সবজি উৎপাদনে তৃতীয় আর চাল ও মাছ উৎপাদনে এখন বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে। বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও দুর্যোগ সহিষ্ণু শস্যের জাত উদ্ভাবনেও শীর্ষে বাংলাদেশের নাম।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি ও গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি করে নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার বাস্তবস্মমত প্রকাশ ঘটান শেখ হাসিনা। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির জন্য ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো তাকে ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কার দেয়। তারই নেতৃত্বে বাঙালি জাতির আবেগ জড়ানো একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গৌরব অর্জন করেছে। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে নারীকে সহায়তা ও নারীকল্যাণ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাসহ অনেক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছেন যা শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।

নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইতিমধ্যে শেখ হাসিনা ‘গ্লে`বাল উইমেন্স লিডারশিপ’, ‘প্ল্যানেট ফিফটি ফিফটি চ্যাম্পিয়ন’, এবং ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ’ সহ নানাবিধ আন্তর্জাতিক সম্মান অর্জন করেছেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে শেখ হাসিনাকে ‘লাইফটাইম কন্ট্রিবিউশন ফর উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করেছে ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান উইমেন।

২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘গ্লোবাল সামিট অব ওমেন’ বাংলাদেশে নারী শিক্ষা ও উদ্যোক্তা তৈরিতে অসামান্য নেতৃত্বদানের জন্য শেখ হাসিনাকে “গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ এওয়ার্ড ” প্রদান করেন।

বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও গণতন্ত্র প্রসারে অবদানের জন্য শেখ হাসিনাকে মহাত্মা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ফাউন্ডেশন, নরওয়ে `গান্ধী পদক` প্রদান করেন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক একাডেমিক কমিউনিটি ও যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম এবং ভারতের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় আইন, সাহিত্য, লিবারেল আর্টস এবং মানবিক বিষয়ে তাঁকে অসংখ্য সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় শেখ হাসিনার দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং সাফল্যের জন্য আন্তর্জতিকভাবে তিনি আরও অনেক সম্মানসূচক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। বর্তমানে শেখ হাসিনা শুধু জাতীয় নেতাই নন, তিনি আজ তৃতীয় বিশ্বের একজন বিচক্ষণ বিশ্বনেতা হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন। অসাম্প্রদায়িকতা, উদার প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক বিজ্ঞানমনস্ক জীবন দৃষ্টি তাঁকে এক আধুনিক, অগ্রসর রাষ্ট্রনায়ক করে তুলেছে। একবিংশ শতাব্দির অভিযাত্রায় তিনি দিন পরিবর্তন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাণ্ডারি। এ অভিযাত্রায় তিনি বাঙালির জাতীয় ঐক্যের প্রতীক এবং ভরসাস্থল।

বাংলাদেশের পরম সৌভাগ্য যে, এমনি একজন মহিয়সী নারী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আমরা গর্বিত। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। সারা বিশ্বে বাংলাদেশ ও বাঙালী জাতির সম্মান বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

গোপালগঞ্জ জেলার বুকে বহমান মধুমতি নদীর তীরে অবস্থিত টুঙ্গিপাড়ায় ১৯৪৭ সালে জন্ম নিয়েছিল শেখ হাসিনা। ইরাক থেকে এই উপমহাদেশে ইসলাম ধর্ম প্রচার করার জন্য আসা শেখ আব্দুল আউয়াল এর বংশধর শেখ হাসিনা। এমনি শত গুণে গুণান্বিত একজন শেখ হাসিনা শতবর্ষে একবারই জন্ম নেয়।

ড. মোঃ আওলাদ হোসেন
ভেটেরিনারীয়ান, পরিবেশবিজ্ঞানী, রাজনৈতিক কর্মী ও কলামিস্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ।

মুরাদনগরে বিরল প্রজাতির মেছো বাঘ উদ্ধার

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার মুরাদনগরে বিরল প্রজাতির একটি মেছো বাঘ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপজেলার গোকুলনগর গ্রাম থেকে মেছো বাঘটিকে উদ্ধার করে মুরাদনগর থানা-পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়া আহত মেছো বাঘটিকে গকুলনগর গ্রামের মতিন মেম্বারের ছেলে আনিছ মিয়া নিজ বাড়িতে নিয়ে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে মুরাদনগর থানার পুলিশ উপপরিদর্শক আবদুল হামিদের নেতৃত্বে পুলিশ এসে বাঘটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

আহত বাঘটিকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন মুরাদনগর থানার এসআই হামিদ।

মেছো বাঘটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কুমিল্লা বন বিভাগে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. ইসরাত জেরিন।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা বন বিভাগের ফরেষ্টার ফজলে রাব্বী বলেন, মেছো বাঘ কোন হিংস্র প্রাণী নয়। তাই আতঙ্কের কিছু নেই। আহত বাঘটিকে চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম-কুমিল্লা মহাসড়কের পাশে কোন এক বনে ছেড়ে দেওয়া হবে।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট নওগাঁ জেলা শাখার কমিটি ঘোষণা

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট নওগাঁ জেলা শাখার ২০২১-২৩ সালের কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করেছে জোটের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদ।

০৮ সেপ্টেম্বর  জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী সহ-সভাপতি আহসান সিদ্দিকী, সমন্বয়কারী সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ মিলন স্বাক্ষরিত কমিটিতে মো. হাসমত আলি সভাপতি, মোছা. লিজা প্রামানিক সাধারণ সম্পাদক এবং শাহ্ জালাল রাজ সাংগঠনিক সম্পাদক, সাংবাদিক মেহেদী হাসান অন্তর কে প্রচার সম্পাদক করে ৮১ সদস্য বিশিষ্ট জোটের নওগাঁ জেলা শাখার কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে জোটের জেলা শাখার কার্যকরী সংসদের সাধারণ সম্পাদক লিজা প্রামানিক এর ফেসবুক পোষ্টের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত কমিটির ঘোষণা দেন।