রানীশংকৈলে প্রেম করে বিয়ে করার কারনে জামাইকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন, মেযের মা গ্রেফতার

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ প্রেম করে বিয়ে করার কারনে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ি গ্রামে জামাই নাসিরুল ইসলাম (২১) কে মধ্যযুগীয় কায়দায় গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মম নির্যাতনের খবর পাওয়া গেছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর সোমবার উপজেলার প্রত্যন্ত ওই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নাসিরুল ওই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে।

ঘটনা ঘটার পর চাপা থাকলেও গত ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২ টার দিকে গন যোগাযোগ ফেসবুক মাধ্যমে  তার ভিডিওচিত্র প্রকাশ হলে তা নেটে ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই তা শেয়ার করে অপরাধিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায়।

এলাকাবাসি সুত্রে জানা যায়, একই এলাকার করিমুল ইসলামের মেয়ে কেয়ামনি (১৮)র সাথে নাসিরুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। দীর্ঘদিন সম্পর্ক চলাকালে গত ৯ সেপ্টেম্বর  দুজনে কোর্টে এফিট এফিট করে গোপনে বিয়ে করে নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করে।

এদিকে মেয়ের পরিবার থেকে ছেলের পরিবারকে মেয়েকে ফিরিয়ে দিতে চাপ সৃষ্টি করে এবং বিয়ে মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। পরবর্তীতে ছেলের বাবা চাচা এবং মেয়ের বাবা ও ফুপা মিলে ছেলে ও মেয়েকে বাসায় নিয়ে আসে। ছেলে ও মেয়ে নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করে। এ অবস্থায় গত ২০ সেপ্টেম্বর নাসিরুল তার শশুর বাড়ির দিকে বেড়াতে গেলে তাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মধ্য বেধড়ক মারপিট করা হয়।

খবর পেয়ে  পুলিশ গিয়ে ঘটনা স্থল থেকে নাসিরুলকে উদ্ধার করে। তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাণীশংকৈল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর বুধবার রোগিকে আশংকাজনক অবস্থায়ন দিনাজপুর আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ নিয়ে নাসিরুলের বাবা খলিলুর রহমান বাদি হয়ে রাণীশংকৈল থানায়  ৪ জনের নামে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে ২৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার মেয়ের মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে থানার ওসি এস এম জাহিদ ইকবাল বলেন, নাসিরুলের বাবার দাযেরকৃত লিখিত এজাহারের প্রেক্ষিতে আজ শুক্রবার মেয়ের মাকে সকাল ১১টায় বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নাগেশ্বরীতে মাধ্যমিক স্তরের ১১৩১ জন শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়েছে

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে অতিমারী করোনার কারণে দারিদ্রতা এবং দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ৫৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩৮টি মাদ্রাসার ১ হাজার ১৩১ জন শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়েছে । এদের অনেকেই বই খাতা তুলে রেখে বাড়িতে থেকেই দরিদ্র পিতামাতাকে সহযোগিতা করতে শ্রম বিক্রি করেছে, আবার কেউ কেউ পিতামাতার কর্মস্থলে সন্তানের গিয়ে কাজে যোগ দিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা জানান, এরজন্য করোনা সৃষ্ট দারিদ্রতাই দায়ী।

করোনার সংক্রমন ছড়িয়ে পড়ায় ২০২০ সালের ১৫ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করা হয়। পরিস্থিতির অবনতিতে ওই বছর কোনভাবেই স্কুল খোলা সম্ভব না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। শিক্ষার্থীরা অটোপাশ পেয়ে পরের ক্লাসে ভর্তি হয় । এরপর কেটে যায় ২০২১ সালের আরো সাড়ে ৮ মাস। অবশেষে দীর্ঘ আঠারো মাসের বেশি সময় পরে ১২ সেপ্টেম্বর সারাদেশের ন্যায় নাগেশ্বরীর ১৯৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫৯ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩৮টি মাদ্রাসাসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হয়। স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দুরত্বসহ বেশকিছু নিয়ম মেনে স্বল্প পরিসরে শ্রেণী পাঠদান শুরু হলেও শ্রেণিকক্ষে ফেরেনি বেশকিছু শিক্ষার্থী।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যানুযায়ী, মাধ্যমিক স্তরের স্কুল ও মাদ্রাসার বিভিন্ন শ্রেনির ১ হাজার ১৩১ জন শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়েছে। যা সচেতন মহলকে উদ্বিগ্ন করেছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো অপ্রাপ্ত বয়সে হাতে মেহেদী রাঙ্গিয়ে বধু বেশে বিয়ের পিড়িতে বসেছে ৫৭৭ জন স্কুল ছাত্রী। শিক্ষকরা হোম ভিজিট করে ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীদের শ্রেনিকক্ষে ফেরানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু সচেতন মহলের ধারনা, অনেক শিক্ষার্থীকে ফেরানো সম্ভব হবে না।

বালাটারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.আমিনুল ইসলাম বলেন, স্কুল খোলার পর দেখি সবকয়টি শ্রেণিতে নিয়মিত অনুপস্থিত থাকছে কিছু শিক্ষার্থী। তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কথা বলে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। তারমধ্যে ৭ম শ্রেণির ছাত্র নাজমুল ইসলামকে বাড়ি গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার পিতা মশিউর রহমানের সাথে মুঠোফোনে কথা বলেও কোন আশাব্যঞ্জক তথ্য মেলেনি। তিনি ঢাকায় যেখানে কাজ করেন, সেখানে ছেলে নাজমুলকে নিয়ে গিয়ে একটি চায়ের দোকানে কাজে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

একই এলাকার সুভাষ চন্দ্র শীল জানান, ভাগ্নে স্বাধীন শীল আমার বাড়িতে থেকেই পড়ালেখা করত। করোনায় উপার্জন কমে যাওয়ায় তাকে ঢাকায় কাজে পাঠিয়েছি। এছাড়াও কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে এরশাদুল হক, সবুর আলীসহ ঝড়ে পড়াদের অনেকেই। পড়ালেখা ছেড়ে পরিবারের প্রয়োজনে এখন অটোরিক্সা চালাচ্ছে কেদার ইউনিয়নের খামার কেদারের হতদরিদ্র নূরুজ্জামানের ছেলে কচাকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মঈন (১৩)। উপজেলার প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একই অবস্থা ।

নাগেশ্বরী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.কামরুল ইসলাম জানান, আমরা মনিটরিং করছি, নিয়মিত শিক্ষার্থী উপস্থিতির তথ্য নেয়া হচ্ছে। হোম ভিজিট করে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে যাতে বিদ্যালয়ে ফেরানো যায় সেজন্য প্রধান শিক্ষকদের বলা হয়েছে। আর যারা একেবারেই ঝড়ে গেছে তাদের বিষয়ে সঠিক কারন অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নুর আহমেদ মাছুম জানান, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফেরাতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিক্ষকরা যেন হোম ভিজিট করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে তাদেরকে শ্রেণীকক্ষে ফেরানোর চেষ্টা করেন সেজন্য জেলা প্রশাসক স্যার সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে ৫ শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত, দুই শ্রেণির পাঠদান বন্ধ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার একটি  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দু’টি শ্রেণির ৫ শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এতে ওই দুই শ্রেণির পাঠদান বন্ধ রেখেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, সদর উপজেলার বাহাদুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঁচ শিক্ষার্থী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারহানা পারভীন। গেল সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চতুর্থ শ্রেণির দুজন ও পঞ্চম শ্রেণির তিনজন ছাত্রীর করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) তাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

করোনায় আক্রান্ত চতুর্থ শ্রেণির দুজন ও পঞ্চম শ্রেণির তিন জনের বয়স ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। তারা সবাই মেয়ে এবং তারা ঠাকুরগাঁও সরকারি শিশু পরিবার বালিকার সদস্য।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহকারি শিক্ষা অফিসার মমতাজ ফেরদৌস বলেন, বাহাদুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আগামী এক সপ্তাহের জন্য ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে।

সদর উপজেলা ইউএনও আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, যেসব বিদ্যালয়ের শ্রেণির শিক্ষার্থীরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেসব শ্রেণির ক্লাস বন্ধ করে দিয়েছি। পাশাপাশি তাদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বেসরকারি সহকারী প্রধান শিক্ষকদের কুমিল্লা জেলার আহবায়ক কমিটি গঠন

মোঃ খোরশেদ আলম, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ মুরাদনগর উপজেলার অজিফা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহঃ প্রধান শিক্ষক খন্দকার শফিকুল ইসলামকে আহবায়ক এবং কুমিল্লা হাইস্কুলের সহঃ প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান ভূইয়া কে সদস্য সচিব করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট কুমিল্লা জেলার আহবায়ক কমিটি গঠন করেছেন বাংলাদেশ বেসরকারি সহঃ প্রধান শিক্ষক সমিতি। এটি বাংলাদেশ সহকারি প্রধান শিক্ষকদের একমাত্র সংগঠন। এই সংগঠনটি বাংলাদেশ সহঃ প্রধান শিক্ষকদের বৈষম্যের ভেড়াজালে আবদ্ধ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিযে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিযেছেন।

এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন যুগ্ম আহবায়ক ১. এম এ ওয়াহেদ মিয়া-সুবরাতি শাহজাদি মেমোরিয়াল উ/বি,আর্দশ সদর ২. জিয়াউল হক ভূঁইয়া -সুধ্রা তৈইযব আলী উ/বি,বরুড়া ৩. আবুল খাযের – জোড্ডা বাজার পাবলিক উ/ বি,নাঙ্গলকোট, ৪ মোঃ হারুনুর রশিদ- আবদুল্লাহপুর হাজী আমির উ/বি,দেবিদ্বার, ৫. মোঃ মোহন মিয়া – রাজাপুর উ/বি, বুড়িচং, ৬. মোসাঃ রাশেদা আক্তার,- হাউজিং এস্টেট স্কুল & কলেজ, আর্দশ সদর, ৭.মোঃ বাহালুল কবির – শ্রীকাইল নজম উদ্দিন ভূঁইয়া বালিকা উ/ বি, মুরাদনগর, ৮ . মোসাঃ তাছমিন আক্তার- শৈল রানী দেবী পৌর বালিকা উ/বি,আর্দশ সদর, ৯. মোঃ রাশেদুল ইসলাম (লিপু মাষ্টার)- সুন্দলপুর উ/বি,দাউদাউ কান্দি, ১০. মোঃ মিজানুর রহমান- গণ উদ্যোগ বালিকা উ/ বি ও কলেজ, লাকসাম ১১. শ্রী নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ- ঈশ্বর পাঠশালা উ/ বি, আর্দশ সদর, ১২. মোঃ খোরশেদ আলম – দোল্লাই নোযাব আহসান উল্লাহ উ/ বি,চান্দিনা, ** সদস্য ১.মোঃ জাহাঙ্গীর আলম-এতবারপুর আজম উ/ বি, চান্দিনা, ২. মোঃ মনিরুল হক- কান্দুঘড় বি,বি,এস উ/বি, বি-পাড়া,৩.মোঃ দেলোয়ার হোসেন – চাঁন্দঘড়া উ/বি,নাঙ্গলকোট, ৪. শাকিলা সুলতানা- চৌদ্দগ্রাম পাইলট উ/বি,চৌদ্দগ্রাম ৫.ফারুক আহম্মেদ – উত্তর হাওলা স্কুল এন্ড কলেজ,মনোহরগঞ্জ, ৬ বেলায়েত হোসেন মজুমদার, বুড়িচং, ৭. মোহাম্মদ শাহ আলম- মানিকারচর এল এল মডেল উ/ বি,মেঘনা, ৮ . মোঃ আক্তারুজ্জামান- দৌলতপুর উ/বি, হোমনা ৯. মোঃ নাছির উদ্দিন-আকবরের নেছা বালিকা উ/বি, মুরাদনগর, ১০. মোঃ নাছির উদ্দিন- বাতাকান্দি উ/বি, তিতাস, ১১. মোঃ মোসলেহ উদ্দিন বিএসসি- হাজতখোলা উ/ বি, লালমাই।

রাজারহাটে তিস্তার ভাঙ্গনের মুখে কমিউনিটি ক্লিনিক

অলিউর রহমান নয়ন, জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রামঃ কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তা নদীর ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে গতিয়াশাম কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন। এছাড়াও ভাঙ্গন হুমকির মুখে রয়েছে নামাভরাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনসহ আরো সহস্রাধিক ঘড়বাড়ী। গত দেড় মাসের তীব্র ভাঙ্গনে বাস্তুহারা হয়েছে প্রায় দেড় হাজার পরিবার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়াল ডাঙ্গা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের গতিয়াশাম গ্রামে অবস্থিত গতিয়াশম
কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনটি বর্তমানে নদী হতে ৫০/৬০ মিটার নিকটেই অবস্থান করছে। তিস্তার তীব্র ভাঙ্গনে যে কোন মুহুর্তে নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে ভবনটি।
স্থানীয়রা জানান, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সাড়ে তেইশ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনটি নির্মান করে। এই কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে এলাকার প্রায় দশ হাজার মানুষ চিকিৎসা সেবা ও সরকারি ঔষধ পায়। প্রতিষ্ঠানটি না থাকলে এ অঞ্চলের মানুষ চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হবে। তাই ভাঙ্গন প্রতিরোধ করে ক্লিনিকটি রক্ষার দাবি জানান তারা।
রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ মুহাম্মদ আশাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, ক্লিনিকটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে বাস্তব অবস্থা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা গৃহিত হবে।

ফুলবাড়ীতে বেড়েই চলছে জ্বর-সর্দির প্রকোপ

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে জ্বর-সর্দির প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে ফুলবাড়ী হাসপাতালে বিভিন্ন বয়সের ১৭ জন জ্বরের রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। এছাড়াও প্রত্যেক পরিবারে ১/২ জন করে জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হয়ে পল্লীচিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ফুলবাড়ী হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৭ জন জ্বরের রোগীর মধ্যে ৬ জন চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসাধীনরা হলেন, কবির মামুদ এলাকার গোলাম মোস্তফা (৬৫), একই এলাকার সাদিয়া আক্তার শাম্মী (০৫) ,চন্দ্রখানা এলাকার শরিয়ত আলী (৫৫),পানিমাছকুটি এলাকার তুলি খাতুন(১১)।
উপজেলার চন্দ্রখানা গ্রামের কৃষ্ণরঞ্জন রায় জানান, তার মেয়ে চারদিন থেকে জ্বরে আক্রান্ত। ডাক্তারের পরামর্শে বাড়িতেই চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন তিনি । শুধু তার মেয়েই নয় আশপাশ প্রায় প্রতিটি পরিবারে কম বেশি ২/১ জন করে জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত বলে তিনি জানান।
বালারহাট বাজারের ঔষধ বিক্রেতা আব্দুল  কুদ্দুছ, পল্লী চিকিৎসক ইয়াকুব আলী জানান, বর্তমানে দোকান খুললেই কাস্টমাররা শুধু জ্বর-সর্দির নিতে আসে। ফলে এ জাতীয়  ওষুধের সংকট রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবুহেনা মোস্তফা কামাল জানান, সারাদেশের মতো এ উপজেলায়ও জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভয়ের কিছু নেই। কেউ জ্বরে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

নওগাঁয় সাড়ে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক নৈশ্যপ্রহরী আটক

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁ সদর উপজেলার চুন্ডিপুর ইউনিয়নের গাঁংজোয়ার এলাকায় সাড়ে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক নৈশ্যপ্রহরী  আটক করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেল ৬ টার দিকে নওগাঁ সদরের গাঁংজোয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ  নৈশ্যপ্রহরী তসলিম উদ্দিন (৪৫) কে আটক করেছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী শিশুটির মা দাবি করেছেন, রবিবার বিকেলে তাঁর মেয়ে বাড়ির পাশে অন্য শিশুদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের মাঠে খেলা
করছিল। বিকেল ৫টার দিকে তিনি গ্রামের মোড়ের দোকানে নিত্য প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস কিনতে যান। এ সময় বিদ্যালয়ের নৈশ্যপ্রহরী তসলিম উদ্দিন ফুসলিয়ে তাঁর মেয়েকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি বুধবার সকালে গাঁংজোয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাছুদা বানু মৌখিক অভিযোগ করলে তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে সদর থানায় জানায়। আমি এই ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই।

নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। শিশুটির স্বজনদের দাবি,নৈশ্যপ্রহরী তসলিম উদ্দিন শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে। আটক ব্যক্তিকে গ্রেফতার দেখিয়ে আজ বৃহস্পতিবার আদালতে নেওয়া হয়েছে।

রাজারহাটে তিস্তা নদীর ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াশাম এলাকায় তিস্তা নদীর ভাঙ্গন কবলিত এলাকা  বুধবার দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শন করেন কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা।

পুলিশ সুপার আসার খবরে ভাঙ্গন কবলিত শত শত নারী পুরুষ জড়ো হন ওই এলাকায়। তারা পুলিশ সুপারকে তাদের সুখ দুঃখের কথা জানান।

এ সময় পুলিশ সুপার এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের দু:খ-দূর্দশা স্বচক্ষে দেখলাম, খুব খারাপ লাগল। আমি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে ভাঙ্গন রোধকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানাবো।

এ সময় তিনি ভাঙ্গন রোধে বাঁশের বান্ডাল তৈরীর জন্য ব্যক্তিগত নগদ কিছু অর্থ সহায়তা করেন।

উল্লেখ্য, এবছর বর্ষায় ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াশাম এলাকায় তিস্তার তীব্র ভাঙ্গন দেখা দেয়। অল্প সময়ে প্রায় ১৬শ পরিবারের বসতভিটা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির ও শত শত একর ফসলি জমি তিস্তাগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানেও এলাকাটিতে ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) উৎপল কুমার রায়, রাজারহাট থানার ওসি মো: রাজু সরকার, ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান সহ: অধ্যাপক রবীন্দ্রনাথ কর্মকার, রাজারহাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামসহ জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

রাণীশংকৈলের মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন ভাতা থেকে বঞ্চিত, ইউএনও’র কাছে আবেদন

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার রাউতনগর কেওটান গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন মন্ডল (৬৮) ৮ বছর ধরে সম্মানী ভাতা বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বিগত দীর্ঘদিন ধরে তিনি অনেক আবেদন-নিবেদন দৌড় ঝাঁপ করে গত ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে যথারীতি মাসিক মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতাভূক্ত হন। কিন্তু তখন তিনি ৬ মাসের ভাতা উত্তোলন করার পর হঠাৎ তার সম্মানী ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। তার গেজেট নং- ৭২২১২ (২০১৩ ইং), জাতীয় তালিকা নং- ৩২, স্থগিত ভাতা বহি বিল নং- ১২৩।

ভাতা বন্ধের কারন হিসেবে একটি স্থানীয় স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্ত কাজ করেছে বলে তিনি ও তার ছেলে পল্লব মন্ডল অভিযোগ করেন। এনিয়ে চিত্তরঞ্জন আবারো দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। সর্বশেষ তিনি ও আরো কয়েকজন বঞ্চিত-প্রতারিত মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা গত ১৯ সেপ্টেম্বর ইউএনও বরাবর একটি স্মারকলিপি দেন।

সম্মানী ভাতা বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জনের বিষয়ে সহানুভূতি প্রকাশ করে সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বিদেশী চন্দ্র রায় ও যুদ্ধকালিন কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন হয়রানির শিকার হয়ে ভাতা বঞ্চিত হয়েছেন। তার এখন আবেদনের প্রেক্ষিতে তিনি ভাতাভূক্ত হলে আপত্তির কিছু নাই।

ইউএনও সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির বলেন, ভাতা বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন সহ কয়েকজনের দেয়া একটি স্মারকলিপি আমি পেয়েছি। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও সহানুভূতি আছে, আমি এ বিষয়টি অবশ্যই পজিটিভলি দেখবো।

নেত্রকোণার সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ভারতীয় গরু আটক

মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধিঃ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) দুর্গাপুর উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী ভবানীপুর এলাকার সুমেশ্বরী নদীর পাড়ে অভিযান চালিয়ে চোরাচালানকৃত ১টি ভারতীয় গরু আটক করেছে।

নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল এ এস এম জাকারিয়া বুধবার দুপুর দিকে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, দুর্গাপুর উপজেলার দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের ভবানীপুর বিওপি’র হাবিলদার মোঃ সেলিম রেজার নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি টিম ২২ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ভবানীপুর সীমান্ত এলাকায় টহল দিচ্ছিল।

এ সময় নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি’র টহল দলটি ভারতের সীমান্ত এলাকা থেকে সুমেশ্বরী নদীর পাড় দিয়ে একটি ভারতীয় গরু এদেশে প্রবেশ করতে দেখে আটক করে। তবে চোরাকারবারীকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

আটককৃত গরুর সিজার মূল্য ৫০ হাজার টাকা। আটককৃত গরু বুধবার বিকালে নেত্রকোনা কাস্টমস্ অফিসে জমা দেয়া হয়েছে।