ঠাকুরগাঁওয়ে সড়কের কাজে অনিয়ম; কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয়রা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে সড়কের কাজে অনিয়মের অভিযোগে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় জনগণ। সদর উপজেলার জগন্নাথপুরের ঐতিহ্যবাহী বড়খোচাবাড়ী হাটের সবজিবাজারের ভিতর দিয়ে নির্মাণাধীন  সড়কের কাজে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে গত শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সড়কের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিলে শুক্র ও শনিবার রাস্তা নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকে, কিন্তু ১৯ সেপ্টেম্বর রবিবার পুনরায়  নির্মাণ কাজ শুরু করেন নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোন রকম টেন্ডার ছাড়ায় ৯ লক্ষ ১৪ হাজার টাকার সড়ক নির্মাণ কাজ পান জগন্নাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: আলাল মাষ্টার।এবং তিনি  চরম অনিয়মের মধ্য দিয়ে কাজটি দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করেন। যাতে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার, ইস্টিমেটে উল্লেখিত নির্দেশনা না মানাসহ নানা অভিযোগ তুলেন স্থানীয়রা ।

জানা গেছে, সদর উপজেলার খোচাবাড়ী হাটের সবজিবাজারের মধ্য দিয়ে একটি সড়ক তিন দফায় নির্মাণ করছেন জগন্নাাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলাল মাষ্টার। প্রথম ও দ্বিতীয় দফার কাজ সন্তোষজনক হলেও তৃতীয় দফার ৪২০ মিটার রাস্তার কাজ নির্মাণে চরম অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

কাজের ইস্টিমেটে বেডে ৬ ইঞ্চি বালু দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে দেওয়া হয় এক থেকে দেড় ইঞ্চি বালু, ১ নম্বর ইটের খোয়ার স্থলে ব্যবহার করা হয় ৩ নম্বর ইটের খোয়া, রডের ডিসটেন্স ৮ ইঞ্চি পরপর দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও সেখানে রডের ডিসটেন্স দেয়া হয় ১২ ইঞ্চি।

এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি মো: রায়হান জানান, হাটের ভিতর দিয়ে নির্মাণাধীন সড়কটি অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়রা বন্ধ করে দিয়েছে।এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অনিয়মের সত্যতা পাই। তিনি আরো বলেন, খোচাবাড়ী হাট জেলার একটি ঐতিহ্যবাহি হাট, প্রতি সপ্তাহে এই হাটে বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়।নিম্নমানের কাজ হলে তা বেশিদিন স্থায়ী হবে না।ফলে আবারও দুর্ভোগে পড়বে জনগণ।আমি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে সদর উপজেলা প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন রবিবার সকালে কাজের ঠিকাদার ইউপি চেয়ারম্যান আলালকে রাস্তার নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। কিন্তু তার নির্দেশ উপেক্ষা করেই রাস্তার নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখা হয়।

প্রকৌশলী জানান অভিযোগ পেয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি, তারপরও যদি কাজ অব্যাহত রাখে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে পুনরায় সে কাজ করিয়ে নেওয়া হবে।

সড়ক নির্মাণ কাজের ঠিকাদার ও জগন্নাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলাল মাস্টার সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোন ধরনের অনিয়ম হয়নি। বাজেট স্বল্পতার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসিই সড়কের নির্মাণ কাজ বন্ধ করেছে, আবার তারাই দাঁড়িয়ে থেকে সড়কের কাজ সমাপ্ত করেছে।

ঠাকুরগাঁও সদর ইউএনও আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খোচাবাড়ী হাটে রাস্তা নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিতে উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পরবর্তীতে সরেজমিন পরিদর্শন পূর্বক দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

নেত্রকোণার আটপাড়ায় সৌজন্যের মাস্ক শিক্ষার্থীদের নিতে হল টাকার বিনিময়ে

নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার জেলার আটপাড়া উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জেলা প্রশাসন থেকে দেওয়া সৌজন্যের “জীবন রক্ষাকারী মাস্ক” টাকার বিনিময়ে। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিবাবকদের মাঝে চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, মহামারি করোনা শুরুর পর থেকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা প্রতিরোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জেলার সর্বত্র সচেতনতামূলক প্রচারণা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক বিতরণ করা হয়। জেলা সদরসহ জেলা ১০ উপজেলায় সমাজের নানা শ্রেণি পেশার মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য বিনামূল্যে পর্যাপ্ত পরিমান মাস্ক দেওয়া হয়।

জেলার আটপাড়া উপজেলায়ও দেওয়া হয়। ব্যতিক্রম হয় জেলার আটপাড়ায়। উপজেলায় ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ওই সমস্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জেলা প্রশাসনের দেওয়া সৌজন্যের মাস্ক টাকার বিনিময়য়ে নিতে হয়েছে। প্রতিটি মাস্কের মূল্য ধরা হয়েছে ১৭ টাকা করে। এরই মধ্যে উপজেলার প্রায় ৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টাকার বিনিময়ে মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের কথায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মাস্ক সংগ্রহ করেছেন।

নেত্রকোণার আটপাড়ার দেওগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মেঘারকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সবহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের মূখে লাগানে রয়েছে সবুজ রঙের মাস্ক। ওই সমস্ত মাস্কের গায়ে লেখা রয়েছে ‘নেত্রকোণা জেলা প্রশাসন সৌজন্যে আটপাড়া উপজেলা প্রশাসন।

দেওগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাজা মজিবুর রহমান জানান, তার বিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ১০০ মাস্ক নিয়েছেন। প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ১৭ টাকা করে। একই ধরনের কথা বলেন মেঘারকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃনাল চন্দ্র পন্ডিত ও ষ¦ল্প শুনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজমুল হক। তারা উভয়েই বলেন, আমরা ৫০ পিস করে মাস্ক নিয়েছি। প্রতি পিস মাস্কের দাম ধরা হয়েছে ১৭ টাকা করে। আটপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও মল্লিকপুর শুনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি রাহাত বিশ্বাস বলেন, শুনেছি মাস্ক দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। সৌজন্যের ওই মাস্ক দিতে কে টাকা নেওয়া হয়েছে বলতে পারব না।

আটপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেলিমা আক্তার খাতুনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনও রিসিভ করেন নি।

আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজা সুলতানা বলেন, বিদ্যালয় খোলার পর শিক্ষার্থীরা সার্জিকেল মাস্ক ব্যবহার করছিল। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হয় কাপড়ের মাস্ক ব্যবহারের। উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে কাপড়ের মাস্ক তৈরী করা সম্ভব নয়। তাই জেলা প্রশাসন থেকে দেওয়া আমার কাছে মওজুদ থাকা মাস্ক দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরও  যে মাস্ক দেওয়া হবে তখন টাকা নেওয়া হবে না।

আটপাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী খায়রুল ইসলাম বলেন, করোনা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষার জন্য আমরা কাজ করছি। শিক্ষার্থীদের মাঝে সৌজন্যের মাস্ক টাকার বিনিময়ে দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে কেউ আমার সাথে কোন ধরনের আলোচনা করে নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু মাস্ক ইউএনওর কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আমাকে জানিয়েছে। তবে কিভাবে সংগ্রহ করেছে তা বলেনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, মহামারি করোনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নানা শ্রেণি পেশার মানুষকে বিনামূল্যে মাস্ক দেওয়া হয়েছে। টাকার বিনিময়ে মাস্ক দেওয়ার জন্য বলা হয়নি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যদি টাকা নেওয়া হয়ে থাকে তা ঠিক হয়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

“চোখের প্রেমে”

“চোখের প্রেমে” -শ্যামা

জীবনে অনেক বার প্রেমে পড়েছি,
কিন্তু কখনো চোখের প্রেমে পড়েছি ঠিক মনে পড়ছে না।

মানুষের চোখে এমন মায়া মমতা,
আর সম্মোহনী শক্তির ধৃষ্টতায় সম্মোহিত করে এতটা উতালপাতাল করে তোলে বুকে বাঁম পাশটায়!
সম্মোহনী শক্তির যাদুতে আমাকে আঁকড়ে পিষ্টে না ধরলে এ জীবনে বুঝি হয়তো জানাই হতো না!

যে চোখ দেখেছি মাত্র কয়েক সেকেন্ড,
আর তাতেই আমার ভেতরটা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়ে আকাশে মিলিয়ে গেল নিমিষেই!

এখন মনে হচ্ছে সেতো শুধু চোখ নয়!
আস্ত একটা নীল আকাশ-
যে আকাশে ডানা মেলে উড়া যায় নিমিষেই,
মেঘের ভেলায় ভেসে ভেসে দোল খাওয়া যায় মনের আনন্দে।

তারপর যখন মেঘের ভেলা গুলো বড্ড অভিমানে ,
বৃষ্টি হয়ে আমার সারা গাঁ ভিজিয়ে,
আমাকে নগ্ন পায়ে নৃত্যে মাতাবে,
আমাকে স্পর্শ করবে স্বর্গীয় সুখানুভূতি।
চোখে তার নেশায় মাতল!

এ চোখ নদীর ঢেউয়ের মত!
নদীর ঢেউয়ের তালে তালে নৌকায় পাল তুলে ভেসে বেড়ানো বর্ষায়।

অতৃপ্ত আত্মার আর্তনাদ জ্বলন্ত উনুনে আমায় ফেলে গেছে ,
মাত্র কয়েক সেকেন্ড দর্শন দিয়ে!
অনুভূতির চাদরে ছটফটিয়ে মরছি সারাবেলা!

কবি সত্তার সমস্ত কাল্পনিক অস্তিত্ব দিয়ে ,
ঐ চোখের সৌন্দর্য প্রকাশ করা কি আদৌও সম্ভব?
অন্তত আমার বিশ্বাস বলে কখনোই সম্ভব নয়!

কবি সত্তা তোমার চোখের পদতলে আজ নতজানু!
কেবল সৃষ্টিকর্তাই তার এই অপরুপ সৌন্দর্যের মহিমান্বিত মহিমা প্রকাশ করতে পারে।
কোন সৃষ্টির পক্ষে সম্ভব নয়!

আমি তো অতি ক্ষুদ্র জীব-
শুধু এই মায়াবী চোখের দিকে তাকিয়ে কল্পনার জগতে সৃষ্টি করতে পারি তোমার আমার পৃথিবী।

যাহোক, এই তেত্রিশে কি থমকে গেলাম নাকি শুধুই একটা চোখের প্রেমে পড়লাম ভেবে পাই না?

 

সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে উলিপুরে বাড়ি ভিটে দান করে দিতে চান এক পরিবার

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের উলিপুরে ভূমি দখলবাজ ও সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে বাড়ি ভিটে ছাড়া হয়েছেন এক অসহায় নারী। সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে নিজ বসতভিটায় থাকতে না পেরে তা সরকারের উন্নয়ন মূলক কোন কাজে বা সামাজিক মহৎ কোন কাজে দান করে দিতে চান ওই নারীর পরিবার। এ ঘটনায় নির্যাতিত পরিবারটি রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ আকুতি জানান।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব নুর জাহান মোরসালিন সীমা (৪৩) জানান, ২০১২ সালের ২৯ মে উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের নতুন অন্তপুর গ্রামের মামা শ্বশুর আমিরুল ইসলাম চাঁদ ও মহিউল ইসলাম সাজুর কাছ থেকে তিনি ২৬ শতক জমি ক্রয় করেন। এরপর নিয়ম অনুযায়ী ওই জমি খারিজ করে নিজ নামে নেন। তারপর থেকে বসবাস করে আসছেন।

২০১৮ সালে এসে অপর এক মামা শ্বশুর আজিজুল ইসলাম মুকুল ওই জায়গায় তার অংশ আছে বলে দাবী করেন। ঘটনার সূত্রপাত এখান থেকেই শুরু। তিনি বলেন, এরপর আজিজুল ইসলাম মুকুল বিষয়টি মিমাংসা করে দেয়ার জন্য ধাপে ধাপে প্রায় ২ লাখ টাকা সীমার কাছ থেকে নেন।

এরপর নানা তালবাহনা করে মামা শ্বশুর মুকুল, সাজু ও সামছুল গং বিভিন্নভাবে ভূক্তভোগী পরিবারের উপর অত্যাচার চালাতে থাকেন। সীমার স্বামী ঢাকায় চাকুরীর সুবাদে তিনিসহ পরিবারের লোকজন ঢাকায় অবস্থান করাকালীন সময়ে মুকুল গং বসতভিটার দখল নিতে বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে সেখানে থাকা একাধিক গাছ কেটে ফেলেন এবং ভূক্তভোগীর বসতঘর দখল করে নেন।

এ ঘটনায় মামলা করায় মুকুল ও সামছুল গং আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ২০২০ সালের আগষ্টে সীমার উপর হামলা চালিয়ে আহত করাসহ শ্লীলতাহানী করেন।

এ ঘটনায় সীমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এছাড়া নুর জাহান মোরসালিন সীমা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং থানার ওসির কাছে লিখিত ভাবে অভিযোগ করেন।

এ ঘটনায় উভয় পক্ষকে নিয়ে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে মিটিং করে থানা পুলিশ বিষয়টি মিমাংসা করে দেন। মুকুল ও সামছুল গং পুলিশের সামনে মিমাংসা মেনে নিলেও পরবর্তীতে তারা তা রক্ষা করেনি। এরপর প্রশাসনের পরামর্শে ভূক্তভোগী সীমা আদালতে মামলা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর মুকুল ও সামছুল গং আমাকে (সীমা) মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকেন।

এদিকে মামলার কাজে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে কুড়িগ্রামে গেলে সেখানে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নিকুঞ্জ স্কুলের গেটের সামনে রিক্সার জন্য অপেক্ষা করাকালীন সময়ে তিনজন সন্ত্রাসী এসে তাকে পিস্তল দেখিয়ে গুলি করার হুমকি দেন এবং মামলা নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করাসহ ওই বসত ভিটা ছেড়ে দিতে বলেন। সেই থেকে জীবনের নিরাপত্তা না থাকায় বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন তিনি।

রোববার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে নুর জাহান মোরসালিন সীমা কান্না জড়িত কন্ঠে আকুতি জানিয়ে বলেন, আপনারা সবাই মিলে হয় ওই জায়গাটি বিক্রি করে দেন।

না হলে সরকারের উন্নয়ন মূলক কোন কাজে বা সামাজিক কোন মহৎ কাজে দান করে দেয়ার ব্যবস্থা করে দেন, এতেও আমি শান্তি পাব। তবুও মামা শ্বশুর মুকুল ও সামছুল গংদের হাত থেকে আমাদের পরিবারকে রক্ষা করেন।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, নুর জাহান মোরসালিন সীমার স্বামী গোলাম সরোয়ার মোরসালিন টুটুল, জমি বিক্রেতা অপর এক মামা শ্বশুর আমিরুল ইসলাম চাঁদ।

মুরাদনগরে মৃত্যুর ৯ মাস পর কবর থেকে গৃহবধূ শাহিনুরের মরদেহ উত্তোলন

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দক্ষিন ত্রিশ গ্রামে মৃত্যূর ৯ মাস পর কবর থেকে তোলা হয়েছে গৃহবধূ শাহিনুর (২৮) এর লাশ।

রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টায় মুরাদনগর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ও মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি(নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট) সুমাইয়া মমিনের উপস্থিতিতে কবর থেকে লাশ তুলে ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়া হয়।

গত ৯ মাস আগে মুরাদনগর উপজেলার দক্ষিণ ত্রিশ গ্রামে গভীর রাতে কিস্তির টাকার জের ধরে স্ত্রী শাহিনা আক্তারকে (২৮) খুন করার অভিযোগ উঠে দক্ষিণ ত্রিশ গ্রামের মতিন মিয়ার ছেলে শাহিনা আক্তারের স্বামী এনামুল মিয়া(৩২) এর বিরুদ্ধে।

স্থানীয়রা জানায়, লাশ দাফনের সময় নিহতের গলায় ও শরীরের একাধিক স্থানে কালো দাগঁ দেখা গেছে। তারই ভিত্তি করে পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের ভাই মামুন মিয়া বাদী হয়ে নিহতের স্বামী এনামুলকে প্রধাণ আসামী করে কুমিল্লা জেলা নারী শিশু দমন ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের করা হয়৷

নিহত শাহিনুরের ভাই মামুন মিয়া বলেন, আমি আমার বোনের হত্যার বিচার চাই৷ গভীর রাতে আমার বোনকে তার স্বামী এনামুল পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে৷ মামলা হওয়ার ৯ মাস অতিক্রম হলেও মামলার এজাহারে বর্ণিত প্রধান আসামী এনামুল ও তার সহযোগিরা ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছে ৷

বাঞ্ছারামপুরের বুধাইর কান্দি প্রতিযোগিতা ও বিনোদন মূলক কুস্তি খেলা অনুষ্ঠিত

মো.নাছির উদ্দিন, বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা উজানচর ইউনিয়নে বুধাইর কান্দি গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে যুব সমাজের উদ্যোগে ১৮ সেপ্টেম্বর রোজ শনিবার  বিরাট কুস্তি খেলা অনুষ্ঠিত  হয়।

উজানচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. তফাজ্জল হোসেন তাজ মিয়ার সভাপতিত্বে  প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী জাদিদ আল-রহমান জনি।

উক্ত খেলায় সহ-সভাপতি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ৫ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো.আক্কাছ আলী, ৪নং ওয়ার্ড মো.আব্দুর রশিদ, উজানচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.খালেক কমান্ডার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো.শহিদুল ইসলাম সরকার।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্হিত ছিলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী সদস্য মো.জালাল উদ্দিন সজিব, উজানচর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মো.তাজুল ইসলাম ছোটতাজ, উপজেলা যুবলীগ মো.হুমায়ুন কবির, ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমানসহ-সভাপতি মো.হেলাল খাঁন।

খেলাটি পরিচালনায় ছিলেন উজানচর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো.ইলিয়াস সরকার ও সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি মো.দুলাল শাওন।

সার্বিক তত্বাবধানে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মো.জাকির হোসেন সরকার ও ছাত্রলীগের সভাপতি মমিন রেদোয়ান তোফায়েল।

এলাকার পুরানো খেলোয়াড়সহ হাজার হাজার নারী পুরুষ গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে উক্ত খেলা উপভোগ করেন।

কুস্তি বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা,প্রতিযোগিতা ও বিনোদনমূলক একটি খেলা, প্রতিযোগিতায় দু’জন প্রতিযোগী অংশ নেয়,এ খেলায় তারা দু’জনই তাদের নিজেদের শারীরিক ক্ষমতার শ্রেষ্ঠত্ব দেখানোর চেষ্টা করে।

শনিবার সন্ধ্যা ৬ ঘটিকা হইতে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দর্শক অধির আগ্রহে টিপ টিপ বৃষ্টির মধ্যে ও খেলা উপভোগ করে।  দাউদকান্দি, মেঘনা, তিতাস, কম্পানিগঞ্জ, হোমনা, আড়াইহাজার, সোনারগাঁ, নবীনগরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে খেলোয়াড় ও শত শত দর্শক ঐতিহ্যবাহী খেলা দেখতে ও খেলতে উপস্থিত হোন। কুস্তি খেলা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরুস্কার বিতরণ করা হয়।

প্রথম স্থান অধিকার করেন হোমনা উপজেলার বাঘা শরীফ পুরস্কার হিসাবে একটি ফ্রিজ কাজী কমিউনিকেশন্স ডিস্ট্রিবিউটর উপায়  সৌজন্যদাতা কাজী জাদিদ আল-রহমান জনি।

দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কাপাস কান্দির সাদ্দাম হোসেন পুরুস্কার হিসাবে একটি টিভি  তিতাস এন্টারপ্রাইজ সৌজন্যদাতা মো.তাজুল ইসলাম ছোট তাজ।

তৃতীয় স্থান অধিকার করেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কালিকাপুরের সাদ্দাম, পুরুস্কার হিসাবে একটি মোবাইল সেট তানজিল ক্যাবল নেটওয়ার্ক সৌজন্যদাতা মো.হুমায়ুন কবির।

হোমনায় বিয়ে বাড়িতে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে দু’দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে আহত-২০

মো.নাছির উদ্দিন, হোমনা-বাঞ্ছারামপুর, প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার হোমনায় বিয়ে বাড়িতে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ ২৪ জন আহত হয়েছে। গতকাল রবিবার উপজেলার ঘারমোরা বাজারে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বর্তমানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

উভয় পক্ষের আহতরা হলেন,  রাজিব মিয়া, শাহ আলম,, জিলানী, অজিত, শাহ আলম, নজরুল মিয়া, কবির হোসেন, ইকবাল মিয়া, আশাবুদ্দিন, ইকবাল হোসেন, কেটা মায়া, আজগর আলী, সানাউল্লাহ, আরিফ, শুভ, জিলানি, জুয়েল, তানভীর, সাইদুল, মোমেন, বাদশা মিয়া, হৃদয়। এদের মধ্যে রাজিব মিয়া ও শাহ আলম, আলী আকবর, সাব মিয়া  শুভও মোমেন মারাত্মক আহত। এদেরকে কুমিল্লা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড় ঘারমোড়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ের বিয়ে ঠিক হয় উপজেলার বাগমারা গ্রামে এক ছেলের সাথে। গত শুক্রবারে বিয়ের দিন নির্ধারিত হয়, গত বৃহস্পতিবার গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে ডিজে মিউজিক চলার সময় রাতে পাশের ফজুর কান্দি গ্রামের রাসেল ইমরান, অন্তর সহ ৮/৯ জন ছেলে গিয়ে মেয়েদের ছবি উঠাতে থাকে এসময় বড়ঘারমোড়া গ্রামের কয়জন ছেলে এসব ছবি ডিলিট করতে বলে এই নিয়ে এদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এর জের ধরে গত শনিবার সকালে বড় ঘারমোরা গ্রামের  মো. সাব মিয়া বাজারে আসলে তার দুধ মাথায় ঢেলে দিয়ে অপমান করে  এবং তাকে মারধর করে হুজুর কান্দি গ্রামের কয়েকজন ছেলে।

এই ঘটনায় সাব মিয়ার ভাই জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে হুজুর কান্দি গ্রামের ১৫ জনকে আসামি করে  থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ হুজুরকান্দি গ্রামের বকুল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। এই নিয়ে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল‌। রবিবার সকাল ৮টার দিকে দুই গ্রামের লোকজন ঘাড়মোড়া বাজারে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এ ২০ থেকে ২৪ জন আহত হয় এদের মধ্যে ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বড় ঘারমোরা গ্রামের আউয়াল মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার হুজুর কান্দি গ্রামের কয়েকজন বখাটে ছেলে আমাদের বাড়িতে এসে মেয়েদের ছবি উঠায় এসকল ছবি ডিলেট করা নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। শনিবার বাজারে গেলে হুজুর কান্দি গ্রামের লোকজন  মো. সাব মিয়া নামের একজন মুরুব্বীকে মারধর করে এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে।

রবিবার সকালে হুজুর কান্দি গ্রামের লোকজন  ইয়ারগান সহ দেশীয় অস্ত্রনিয়ে আমাদের গ্রামের লোকজন উপর হামলা করে তাদের গুলিতে দুইজন সহ ১৫ জন আহত হয়েছে ।

এ দিকে হুজুর কান্দি গ্রামের গোলাম মোস্তফা জানান, ছেলেপেলেদের মধ্যে সমস্যার ঘটনা আমরা মিটমাট করার জন্য চেষ্টা করছিলাম এই সময় বড় ঘারমোরা গ্রামের লোকজন আমাদের গ্রামের লোকজন ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এতে  ১০/১২ জন আহত হয়েছে। কোন গুলির ঘটনা ঘটেনি। এদের ইটের আঘাতে আমাদের লোকজন আহত হয়েছে।

ঘারমোড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মোল্লা জানান, বৃহস্পতিবার বিয়ে বাড়িতে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে ছেলেদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে গত শনিবার একজনকে মারার ঘটনায় থানায় মামলা হলে একজন গ্রেফতার হয়।  আজকে  বিষয়টি মিটমাট করার জন্য বসারর কথাছিল।  কিন্ত এর মধ্যেই  ফজুরকান্দি ও বড় ঘারমোরা গ্রামবাসি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে । আমাদের নিয়ন্ত্রণের  বাইরে চলে যাওয়ায় থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে নিয়ন্ত্রণ করে। পরিবেশ শান্ত রয়েছে।

হোমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.আবুল কায়েস আকন্দ জানান, বড় ঘাড়মোয় একটি বিয়ে বাড়িতে ফজুর কান্দি গ্রামের  কয়েকজন ছেলে ছবি তুললে ঐ গ্রামের লোকজন বাধা দেয় এ ঘটনার জের ধরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে গত শনিবার একজনকে মারধর করে হুজুর কান্দি গ্রামের লোকজন এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে একজন গ্রেপ্তার হয়েছে।এই ঘটনার জের ধরে রবিবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিবেশ নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে দুই রোহিঙ্গা আটক

ঈশাত জামান মুন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের বহুল আলোচিত পাটগ্রামের দহগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ভারত হয়ে নেপাল যাওয়ার চেষ্টাকালে দুই রোহিঙ্গাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। আটকৃত ওই দুই রোহিঙ্গার নাম হলো, সেতুফা বেগম (১৮) ও আনস (২২)। তারা সর্ম্পকে মামাত ভাই ও ফুপাত বোন। গতকাল রোববার দুপুরে দহগ্রাম থেকে তাদের  উদ্ধার করে পাটগ্রাম থানা পুলিশ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাটগ্রাম থানার ওসি মোঃ ওমর ফারুক জানান, আটক ওই দুই রোহিঙ্গা সেতুফা বেগম (১৮) ও আনস (২২) কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকায় মুন্সিপাড়া ২২ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মা-বাবা ও ভাই-বোনদের সাথে থাকেন। আনসের বড় ভাই নেপালে থাকেন। নেপাল যাওয়ার উদ্দেশ্যে গত ২দিন আগে কক্সবাজার হতে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে আসে তারা। দালালের মাধ্যমে শনিবার রাতে দহগ্রাম দিয়ে ভারত সীমান্তে প্রবেশও করেন। ওই সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদের আটক করে মারপিট করে আবারও বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেয়। রোববার দুপুরে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করেন।

পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। তাদের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে বলে জানান ওসি ওমর ফারুক।

ঠাকুরগাঁওয়ে একঘন্টার ব্যবধানে আপন দুই ভায়ের মৃত্যু!

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানার আখানগড় ইউনিয়নের ঝারগাঁও গ্রামে এক ঘন্টার ব্যবধানে আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর শনিবার দিবাগত রাত ১০ টা ২০ মিনিটে আখানগড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ হাসান রেজা (৬৬)  হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে মৃত্যু বরন করেন।

 হাসান রেজার আপন বড় ভাই আলহাজ্ব আব্দুল বাতেন (৭৫) ঠাকুরগাঁও শহরে বাস করে। ভাইয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে শহর থেকে এম্বুলেন্স নিয়ে যাওয়ার সময় দুরামারি নামক জায়গায় ছোট ভাইয়ের মুত্যুর খবর শুনে বড় ভাই মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে এবং তিনিও  হৃদরোগে আক্রান্ত হন। সাথে সাথে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ১১ টা ২০ মিনিটে তিনি মারা যান। দুই ভায়ের এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

আখানগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ঐ দুই ভায়ের আকষ্মিক মৃত্যুর বিষটি নিশ্চিত করেছেন।

আফগানিস্তানে মেয়েদের বাদ দিয়ে শুধু ছেলেদের জন্য খুললো মাধ্যমিক স্কুল

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আফগানিস্তানে তালেবানরা মেয়ে শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে শুধু ছেলেদের জন্য মাধ্যমিক বিদ্যালয় খুলেছে। শুধু ছেলে এবং পুরুষ শিক্ষকরাই শ্রেণীকক্ষে ফিরে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছে।

স্কুলছাত্রীরা বিবিসিকে বলেছে, তারা না ফিরতে পেরে ভেঙ্গে পড়েছে। সবকিছু খুব অন্ধকারাচ্ছন্ন লাগছে বলে মন্তব্য করেন এক স্কুলছাত্রী।

গত মাসে ক্ষমতার দখল নেয়া তালেবান কর্মকর্তারা বলেছেন যে, তারা এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য কাজ করছেন।

অনেকেই আশঙ্কা করেন ১৯৯০-এর দশকের তালেবান শাসন ফিরে আসবে যখন তারা মেয়ে এবং নারীদের সব ধরনের অধিকারকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছিল।

তাদের নতুন সরকারের অধীনে, তালেবান কর্মকর্তারা বলেছিলেন যে, শরিয়া আইনের আওতায় নারীরা পড়াশোনা এবং কাজ করার অনুমতি পাবে। কিন্তু কর্মজীবী নারীদের নিরাপত্তার অবস্থার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। সেই সাথে গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা সব পুরুষদের নিয়ে গঠিত অন্তর্র্বতী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী নারীদের মারধর করেছে।

শুক্রবার, ইসলামি গোষ্ঠীটি নারী বিষয়ক মন্ত্রণালয় বন্ধ করে দিয়েছে এবং সেখানে এমন একটি বিভাগ খোলা হয়েছে যা একসময় কঠোর ধর্মীয় মতবাদ প্রয়োগ করত।

শনিবার আফগান স্কুলগুলো নতুন করে খোলার আগে জারি করা একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সব পুরুষ শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া উচিৎ।

মাধ্যমিক স্কুলগুলো সাধারণত ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য এবং বেশিরভাগই আলাদা।

আফগানিস্তানের সংবাদ সংস্থা বাখতার নিউজ এজেন্সি তালেবান মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদকে উদ্ধৃত করে বলেছিল যে, মেয়েদের স্কুল খুলবে। তিনি বলেছিলেন, কর্মকর্তারা বর্তমানে স্কুল খোলার ‘প্রক্রিয়া’ এবং শিক্ষকদের বিভাজনসহ নানা বিষয় নিয়ে কাজ করছেন।

এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন যে, কর্মকর্তারা বয়স্ক স্কুলছাত্রীদের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছেন।

কাবুলের বাসিন্দা ১৬ বছর বয়সী আরেক স্কুলছাত্রী বলেন, এটি একটি ‘দুঃখজনক দিন। আমি একজন ডাক্তার হতে চেয়েছিলাম! সেই স্বপ্ন এখন শেষ হয়ে গেছে। আমার মনে হয় না যে, তারা আমাদেরকে আবার স্কুলে যেতে দেবে। এমনকি তারা আবার উচ্চ বিদ্যালয় খুললেও, তারা চায় না যে নারীরা শিক্ষিত হোক।’

এই সপ্তাহের শুরুতে, তালেবান ঘোষণা করেছিল যে নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার অনুমতি দেওয়া হবে, কিন্তু তারা পুরুষদের পাশাপাশি পড়াশোনা করতে পারবে না এবং এর জন্য একটি নতুন ড্রেস কোড মানতে হবে।

অনেকে মনে করেন যে, নতুন নিয়ম কানুনের আওতায় নারীদের শিক্ষা থেকে বাদ দেয়া হবে কারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে আলাদা শ্রেণীকক্ষের সুযোগ করে দেয়ার সক্ষমতা নেই। মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মেয়েদের বাদ দেওয়া মানে হচ্ছে তারা কেউই শিক্ষায় পরবর্তী ধাপে যেতে পারবে না।

২০০১ সালে তালেবানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর, আফগানিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নতি হয়েছে বিশেষ করে মেয়ে এবং নারীদের স্কুলে ভর্তি এবং সাক্ষরতার হার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের সংখ্যা প্রায় শূন্য থেকে ২৫ লাখে উন্নীত হয়েছে। এ ছাড়া এক দশকে মেয়েদের সাক্ষরতার হার প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ৩০% হয়েছে। যাই হোক, শহরগুলোরও অনেক উন্নতি হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক মুখপাত্র নরোরিয়া নিঝাত বলেন, আফগান নারী ও মেয়েদের শিক্ষার ক্ষেত্রে এটি একটি ধাক্কা। নব্বইয়ের দশকে তালেবানরা যা করেছিল এটি তা সবাইকে মনে করিয়ে দিলো। এর ফলশ্রুতিতে আমরা নিরক্ষর এবং অশিক্ষিত নারীদের একটি প্রজন্ম পেয়েছিলাম।

ক্ষমতায় আসার কিছু পরেই তালেবান বলেছিল যে, ‘ইসলামি আইনের কাঠামোর মধ্যে’ থেকেই আফগানিস্তানে নারীদের অধিকার সুরক্ষিত করা হবে।

খবর বিবিসি।