নওগাঁয় ‘সেক্স ফেরোমন’ ফাঁদ ব্যবহার করে বিষমুক্ত সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁয় ‘সেক্স ফেরোমন’ ফাঁদ ব্যবহার করে বিষমুক্ত সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। এই পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে সবজি ক্ষেতে একদিকে কমছে কীটনাশকের ব্যবহার, অন্যদিকে দিকে উৎপাদিত হচ্ছে
স্বাস্থ্যসম্মত কীটনাশক মুক্ত সবজি। এতে কম খরচে উৎপাদিত হচ্ছে বিষমুক্ত সবজি।

এ পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলার কৃষি বিভাগ।

নওগাঁর সবজির ক্ষেতগুলোতে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে বসানো হয়েছে প্লাস্টিকের কৌটায় ফেরোমন ফাঁদ (ট্র্যাপ পদ্ধতি)। ঝুলানো এসব ফাঁদের কৌটায় কম খরচে মেশানো হয় বিভিন্ন জাতের ক্ষতিকর স্ত্রী পোকার ঘ্রান সমৃদ্ধ ঔষধ। এতে ছুটে
এসে ফাঁদের পানিতে পড়ে মারা পড়ছে ক্ষতিকর পুরুষ পোকা। এ পদ্ধতিতে ফসলের জন্য ক্ষতিকর পোকা দমন হওয়ায়, বাড়তি খরচ করে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হচ্ছে না কৃষকদের। চলতি বছর ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহারে লাভবান হয়েছেন অনেক সবজি চাষী।

sex pheromon trape

ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়ায় বিষমুক্ত বেগুন, শসা, করলা, চিচিংগা, বরবটি, চাল কুমড়া, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি বিষমুক্তভাবে উৎপাদনে ব্যবহার হচ্ছে ফেরোমন ফাঁদ। একদিকে কীটনাশকের ব্যয় কম ও অন্যদিকে উৎপাদিত বজি স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় ন্যায্য দাম পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

নওগাঁ সদর উপজেলার বর্ষাইল ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন বলেন, হামার ৫বিঘা জমিত কয়েক রকমের সবজির আবাদ করছি। বেগুন, শসা, করলা, চিচিংগা, বরবটি আর চাল কুমড়া। কৃষি অফিসের স্যারেকেরে পরামর্শে এই প্রথম ফেরোমন পদ্ধতিত সবজি চাষে হামার বিঘাপ্রতি দেড় হাজার টেকার ওষধ খরচ হচ্ছে।

sex pheromon trape1

এর আগে কীটনাশক দিয়া বিঘাপ্রতি খরচ পড়িচ্ছিলো ৫ থেকে ৭ হাজার টেকা। এতে করিয়া হামার উৎপাদন খরচ বাড়া যাচ্ছিল। এখন হামার খরচ মেলা কম হচ্ছে। আর বিষমুক্ত টাটকা সবজি পাচ্ছি।

একই এলাকার বর্ষাইল গ্রামের কৃষক রমজান আলীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, হামার দুই বিঘা জমিত বেগুন আর মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করিছি। আগে কীটনাশক দিয়া সবজির আবাদে ৫ থ্যাকা ৬হাজার টেকা করা খরচ হচ্ছিল। এখন ফেরোমন পদ্ধতির ফাঁদ ব্যবহার করা মেলা খরচ কুমা গেছে। এতে করা হামি ফ্রেস সবজি বাজারোত বিক্রি করবার পারিচ্ছি। সাথে দামও ভালো পাচ্ছি।

স্থানীয় আমজাদ আলী নামের কৃষক জানান, হামি তিন বিঘা জমিত সবজির আবাদ করিছি। ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করা বিষমুক্ত সবজি পাচ্ছি। ফেরোমন ফাঁদের জনন্নি একটা প্লাস্টিকের কৌটা, বাঁশের খুঁটি, ফেরোমন লিউর, সাবান বা হুইল পাউডার
ও পানি লাগে সব মিলা প্রতিডা ফেরোমন ফাঁদের জন্নি ১০০ টেকার মত খরচ হয়। এক বিঘা জমিত ৮টা বা ১০ ফেরোমন ফাঁদ করা হয়। পোকারা আসা কৌটার ভিতর পড়া মরা যায়। যার কারনে সবজির ক্ষতি করবার পারোনা। এই পদ্ধতি ব্যবহার করা একদম বিষমুক্ত সবজি হামরা পাচ্ছি। সেই সবজি নিজেরা খাই এবং বাজারে পাইকারি হিসেবে বিক্রি করবার পারি। আর বাজারে বিষমুক্ত সবজির কদরও বেশি। তাই ভালো দামও পাই হামরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি নওগাঁর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শামছুল ওয়াদুদ
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি নওগাঁর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শামছুল ওয়াদুদ

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি নওগাঁর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শামছুল ওয়াদুদ এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘সেক্স ফেরোমন’ ফাঁদে ১০০টাকার মত খরচ হয়। সেক্স ফেরোমন ফাঁদ তৈরির জন্য ফেরোমন লিউর, প্লাষ্টিক কৌটা, তার, সাবান গুড়া, পানি এবং বাঁশের খুটি লাগে। প্লাষ্টিক বৈয়ামের ত্রিকোনাকার ভাবে কাটা অংশের মাঝ বরাবর তার দিয়ে ফেরোমন লিউর বা টোপটি ঝুলিয়ে দিতে হবে। ফেরোমন ফাঁদটি দুটি খুটির সাহায্যে শক্তভাবে বেধেঁ দিতে হয়। তবে যেহেতু ক্ষতিকর
পোকা ফল ও ডগা ছিদ্র করে সেজন্য ফুল ও ডগার কাছাকাছি বক্সটিকে রাখতে হবে। বক্সটির বা কৌটার ভিতরে কর্তিত অংশ( ২-৩ সে.মি.) পর্যন্ত গুড়া সাবান বা হুইল জাতীয় পাউডার মিশ্রিত পানি দিতে হবে। কৌটার অংশ উত্তর – দক্ষিন মুখ করে
ঝুলাতে হবে। এছাড়া ফেরোমন লিউর বা টোপটি যাতে সাবানের পানিতে না ভিজে যায় সেজন্য পানির কিছুটা উপরে রাখতে হবে।

sex pheromon trape2

তিনি আরো বলেন, বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে ফেরোমিন ফাঁদসহ জৈব বালাইনাশক বিভিন্ন পদ্ধতি জেলার কৃষকের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। এরই আলোকে বেশকিছু প্রকল্পের আওতায় ‘সেক্স ফেরোমন’ ফাঁদ ব্যবহারে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এতে করে কৃষকরা এই পদ্ধতি ব্যবহারে সুফল পাচ্ছেন। স্বাস্থ্যসম্মত, পরিবেশবান্ধব, উৎপাদন খরচ কম হওয়াসহ নানাবিদ সুবিধার কারনে এসব পদ্ধতি ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা। জেলায় ১৩হাজার হেক্টর জমিতে সবজির চাষ হয়েছে। এর মধ্যে চলতি মৌসুমে জেলার প্রায় ১৪০বিঘা জমিতে ‘সেক্স ফেরোমন’ ফাঁদ ব্যবহার করছে কৃষকরা। আগামীতে এ পদ্ধতির ব্যবহার বৃদ্ধিতে কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি
বিভাগ।

রাণীশংকৈলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ সার ও অর্থ প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে  দুপুর পর্যন্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার পাট বীজ,পেঁয়াজ বীজ ও অর্থ প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

এ উপলক্ষে এদিন উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা  মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শেফালি বেগম।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপ সহকারী কৃষি অফিসার সাদেকুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত: এ কর্মসূচির আওতায় মোট ১৮০ জন কৃষককে ২০ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার এবং ৫০০ গ্রাম সুতলি ১৫০ বর্গমিটার পলেথিন ১ কেজি পেঁয়াজ বীজ দেওয়া হয় ।

২০ জন কৃষককে ৫০০ গ্রাম নাবী পাট বীজ, ডিএপি ১০ কেজি ও এমওপি ১০ কেজি ইউরিয়া ১০ কেজি সার প্রদান করা হয় । এছাড়াও পরিচর্যা বাবদ পেঁয়াজ চাষীদের এককালীন প্রতি জনকে মোবাইল বিকাশের মাধ্যমে ২৮০০ টাকা এবং নাবী পাট চাষিদের ২৬৩০ টাকা প্রদান করা হবে ।

তালেবানদের ক্ষমতা দখলের পর কাবুল বিমানবন্দরে নামলো প্রথম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ফ্লাইট

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ তালেবানদের ক্ষমতা দখলের পর আজ সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রথমবারের মতো কাবুল বিমানবন্দরে একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ফ্লাইট অবতরণ করেছে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের (পিআইএ) ওই ফ্লাইটে হাতেগোনা কিছু যাত্রী ছিলেন। খবর-আল জাজিরার।

ইসলামাবাদ থেকে ছেড়ে যাওয়া ওই ফ্লাইটে বার্তা সংস্থা এএফপি’র একজন সাংবাদিক ছিলেন। তিনি বলেন, ফ্লাইটে হাতেগোনা কয়েকজন আরোহী। প্রায় ১০ জনের মতো যাত্রী হবে। সম্ভবত যাত্রীর চেয়ে ক্রু সংখ্যাই বেশি ছিল। পিআইএ’র ওই ফ্লাইটটি নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট নাকি বিশেষ বাণিজ্যিক চার্টার ছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পিআইএ’র একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, আমরা নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু ব্যাপারে আগ্রহী আছি। তবে দুই দেশের মধ্যে কতবার ফ্লাইট চলাচল করবে তা এখনই বলা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। এএফপি’কে পিআইএ’র হেড অব অপারেশন্স জাওয়াদ জাফর বলেন, কাবুলে সরকার পরিবর্তনের দীর্ঘ সময় পর এটি আমার জন্য একটি দারুণ মুহূর্ত।

বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করতে পারা তালেবানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ যাদের যথাযথ কাগজপত্র আছে তারা অবাধে দেশ ছাড়তে পারবে বলে বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তালেবান। গত সপ্তাহে কাতার এয়ারওয়েজ বেশ কয়েকটি চার্টার ফ্লাইট চালায় কাবুল থেকে। এসব ফ্লাইটে মূলত আটকে পড়া বিদেশি এবং আফগানদের উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, মার্কিন বাহিনী গত ৩০ আগস্ট আফগানিস্তান ছেড়ে যায়। তার আগে তারা দেশটি থেকে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করে। এই প্রক্রিয়া চলাকালে কাবুল বিমানবন্দরের মারাত্মক ক্ষতি হয়। বিমানবন্দরের প্যাসেঞ্জার হল, এয়ার ব্রিজ এবং কারিগরি অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়। তালেবানরা গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করে নেয়ার আফগানিস্তান ছাড়তে কাবুল বিমানবন্দরে জড়ো হয় হাজার হাজার মানুষ। এরপরই এসব স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হয়। তবে মার্কিন বাহিনী দেশ ছাড়ার পর থেকেই বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল তালেবান। বিশেষ করে এজন্য কাতার এবং অন্যান্য দেশের সহায়তা নেয় তারা।

২০২৩ সাল থেকে এসএসসিতে থাকছে না বিভাগ, বিলুপ্ত হচ্ছে পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা

শিক্ষা ডেস্কঃ আগামী ২০২৩ সাল থেকে এসএসসিতে আর কোন বিভাগ থাকবে না। অর্থাৎ দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ আর থাকছে না। আর সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার আগের কোনও পাবলিক পরীক্ষা থাকছে না। ফলে বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা।

আজ সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা উপস্থাপন শীর্ষক প্রেস কনফারেন্সে একথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মণি। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, নতুন শিক্ষাক্রমের রূপরেখায় নবম-দশম শ্রেণিতে বিজ্ঞান, মানবিক, বাণিজ্য বিভাগ থাকবে না। সবাইকে একই বিষয় পড়তে হবে। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনও বার্ষিক পরীক্ষা থাকছে না।

ডা. দীপু মণি জানান, পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমের পাইলটিং চলবে ২০২২ সালে। আর শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হবে ২০২৩ সাল থেকে। ২০২৫ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রম বাস্তায়ন করা হবে। নবম ও দশম শ্রেণিতে মানবিক, বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা নামে বিভাগ তুলে দেওয়া হচ্ছে। একটি সমন্বিত পাঠ্যক্রম থাকবে এই পর্যায়ে। দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১০টি বিষয় ঠিক করা হয়েছে। সেগুলোই সবাই পড়বে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে গিয়ে ঐচ্ছিক বিষয়গুলো পড়বে শিক্ষার্থীরা। অর্থাৎ বিজ্ঞান, মানবিক, বাণিজ্যে বিভাজন হবে উচ্চ মাধ্যমিক থেকে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দক্ষতা অর্জনের বিভিন্ন কৌশল এই পরিমার্জিত কারিকুলামে বলা আছে। শিখন সময় প্রাথমিকে কতটা, মাধ্যমিকে কতটা হবে তা বলা আছে। আমরা সামষ্টিক মূল্যায়নের পাশাপাশি ধারাবাহিক মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্তিমূলক যে বিষয়টি এনেছি, সেখানে ফ্লেক্সিবিলিটি নিয়ে আসা হয়েছে। শারীরিক, মানসিক, সুবিধাবঞ্চিত, প্রান্তিক শিক্ষার্থী সবাইকে নিয়ে আসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আসন্ন নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন সম্পর্কে দীপু মণি বলেন, ২০২৩ সালে পরিমার্জিত নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু করতে পারবো। ২০২৩ সালে প্রাথমিকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এটি চালু হবে এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে করবো। ২০২৪ সালে প্রাথমিকের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি এবং অষ্টম ও নবম শ্রেণি। ২০২৫ সালে পঞ্চম শ্রেণি ও মাধ্যমিকের দশম শ্রেণিতে বাস্তবায়ন করবো।

 

“মায়া” (পর্ব-৪)

কলমে- মোঃ আবু শামা (শ্যামা)

একসময় অনুভব করলাম কেউ আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর ডাকছে, মায়া, মায়া এই মায়া, চোখটা খোলো ময়না, আত্মারে আত্মা চোখটা খোলো, একটা বার চোখ মেলে দেখো আমি কতোটা অনুতপ্ত, আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি, আমি নিজের অজান্তেই এমনটা করেছি, আর কখনো এমন করবো না, কথা দিচ্ছি, একটাবার চোখ টা খুলে আমাকে ক্ষমা করো, নইলে যে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না। মায়া, মায়া, এই মায়া, আমি চোখ টা খুলে তাকিয়ে দেখি অন্তর আমার মুখের উপর ঝুকে আছে, আর অসহায়ের মতো কাকুতি মিনতি করছে। আমি চোখ খুলতেই অন্তর দুহাত জড়িয়ে ধরে বলছে, মায়া, মায়া আমাকে ক্ষমা করে দাও, আমি আর কখনো তোমাকে কষ্ট দিবো না। আমাকে মাফ করে দাও মায়া। আমি কিছু না বুঝে বলে ফেললাম ঠিক আছে। তারপর উঠে ওয়াশরুমে চলে গেলাম।

ওয়াশরুমের দরজা বন্ধ করে দিয়ে ভাবছিলাম অন্তর কি মানুষ নাকি এ্যালিয়েন? তার কি কোন রাগ নেই! যদিও সে আমার উপর কোন দিন রাগ করেনি, এমনকি কখনো ধমকের সুরেও কখনো কথা বলেনি। আমার সামান্য মাথা ব্যথাহলেও সারারাত আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে ঘুম পারিয়ে দিত আর সারারাত জেগে থাকতো। কখনো মাঝরাতে আমার ঘুম ভেঙে গেলেও আমি যতক্ষণ পর্যন্ত না ঘুমাতাম ততক্ষণ পর্যন্ত আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতো।

সেদিনের পর আর কোন দিন আমার মুখে তুলে খাবার খাইয়ে দেয় নি। আমি মনে মনে চাইতাম, আমাকে একবার যদি মুখে তুলে খাবার খাইয়ে দিতো। অন্তর সেটা যখন বুঝতে পারতো, তখন মৃদু হেসে বলতো, মায়া তুমি কিন্তু নিজের হাতে খাওয়া টা বেশ ভালোই শিখেছো, পুরোপুরি শিখলেই তোমার ছুটি। আমি আসলে এই ছুটি টা কি তা ঠিক বুঝতে পারতাম না। তারপর এভাবেই কেটে গেলো আরো একটি বছর।

আমার ইউনিভার্সিটির বন্ধুকে নিয়ে কখনো কোনদিন একটিবারের জন্যও কোন খারাপ কথা বলেনি। তবে আমাকে অনেক ভাবে বুঝানোর চেষ্টা করেছে। আমার ভালো মন্দ নিয়ে বুঝিয়েছে। শুধু বলেছে মায়া ভালো মন্দ তুমি সবকিছুই বুঝো, আর নিজের ভালো টা যদি না বুঝো স্বয়ং খোদাও তোমাকে বুঝাতে পারবে না।

তবে একদিন মনে অনেক চাপা কষ্ট নিয়ে বলেছিলো, শুন মায়া হয়তো আমি একদিন থাকবো না, সেদিন যদি তুমি ভালো না থাকো তবে আমার সব কষ্টই বৃথা, আর যদি ভালো থাকো তো আমার জীবনকোন আফসোস থাকবে না। বরং নিজেকে ধন্য মনে করবো।

তারপর একদিন রাতে আমি বাসায় ফিরতে পারলাম না। যদিও মাঝে মধ্যেই গভীর রাতেও বাসায় ফিরেছি, কিন্তু সেদিন আমার বন্ধুটা আমাকে জোর করে বাসায় ফিরতে দেয়নি। সে বললো, কিছুক্ষণপর তো সকালই হবে একটু রেশ নিয়েই যাও। একরাত বাসায় না ফিরলে ক্ষতি কি?

আমিও বন্ধুর কথায় সায় দিয়ে বললাম, তাই তো কি আর এমন হবে একরাত বাসায় না ফিরলে। বাসায় ফিরে দেখি দরজা খোলা, সকাল হয়ে গেছে। আমি ঘরের ভিতরে ঢুকতেই দেখি অন্তর নাস্তা রেডি করছে। আমি বললাম, বাহ, অনেক কিছু নিয়ে নাস্তা করেছো দেখছি। দাও, খুব খিদে পেয়েছে।

অন্তর অন্যদিকে তাকিয়েই বলে উঠলো, না, নাস্তা তোমার জন্য না, আমি বললাম তবে কার জন্য? অন্তর বললো, এটা শুধু আমার জন্য। আমি বললাম, অন্তর তুমি কি বলছো একবার ভেবে দেখেছো? আমাকে তুমি খেতে নিষেধ করছো।

অন্তর এবার চিৎকার করে বলে উঠলো হাঁ ঠিকই বলছি, তোমার ছুটি হয়ে গেছে, সেই ছুটিটা তুমি নিজেই নিয়েছো মিনু।

আমি এই প্রথম অন্তরের মুখে আমার আসল নাম শুতে পেলাম। বিয়ের পর সে একবারো এ নামে ডাকেনি, তার পছন্দের নাম শুধুই মায়া বলেই ডাকতো। আমি অনেক রেগেমেগে বকাঝকা করলাম, যদিও অনেক বার বকাঝকা করেছি কোন দিন প্রতিউত্তর দেয় নি। কিন্তু সেদিন যেন আমাকে কোন কথা বলার সুযোগই দিতে চাইলো না। সরাসরি বলে দিলো এ বাসার ভাতের বরাত আজ থেকে শেষ তোমার। মানে তোমার ছুটি, চিরদিনের জন্য তোমাকে মুক্তি দিয়ে দিলাম।

আমি বললাম, অন্তর তোমার এতবড় সাহস তুমি আমাকে ভাতের খোটা দিচ্ছো? এবার বুঝতে পারছি তোমার ছুটির মানে কি।ঠিক আছে তুমি থাক তোমার ভাত নিয়ে, আমি তোমার ভাতের নিকুচি করি।

আমি সেই অবস্থাতেই বাসা থেকে বের হয়ে সোজা আমার বন্ধুব ফ্ল্যাটে চলে এলাম। বেশ কিছু দিন ভালোই কাটলো বন্ধুর সাথে।

হঠাৎ একদিন সন্ধায় আমাকে নিয়ে ঢাকার বাইরে চলে এলো একটা বাংলোয়। তারপর দিন কাজের কথা বলে বেড়িয়ে গেলো। রাত হয়ে গেলো অথচ তার ফেরার নাম নেই। আমার বন্ধুর কেয়ারটেকার এসে জানালো, কিছু গেস্ট এসেছে আপনার সাথে কথা বলতে চায়। আমি কিছু না ভেবেই ভিতরে বসতে বললাম। তারা ভিতরে ঢুকেই আজেবাজে কথা বলতে শুরু করলো।

আমি বললাম, আপনারা কারা? অসভ্যের মত কথা বলছেন। সে জানতে পারলে আপনাদের রক্ষে নেই। সাবধান। বাজে লোক গুলো বলতে লাগলো ভয় নেই সুন্দরী সে আর কোনদিন আসবে না। তোমার নাগর তোমাকে আমাদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। এতদিন তোমার পিছনে ইনভেস্ট করেছে, আজ তা সুদে আসলে মিটিয়ে নিয়ে চলে গেছে। এসো সুন্দরী এসো।

আমার উপর ঝাপিয়ে পরার চেষ্টা করলো। আমি সাবধান করে বললাম, দাড়ান আমি ওকে ফোন করছি, সাথে সাথে আমি ওকে ফোন করছিলাম। কিন্তু তার ফোন বন্ধ, আমি অনেক চেষ্টা করেও একদল হায়েনাদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারলাম না।

এভাবেই কেটে গেল ৩/৪ মাস। দিনরাত হায়েনার দল আমার শরীরের মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছিল। একটা দিনের জন্যও সূর্যের মুখ দেখিনি। একদিন হায়েনার দলের একজন বলছিলো শালির মাগিকে জংগলে ফেলে দিয়ে আয়। আর রেখে লাভ নাই, রাখলে বিপদ বাড়বে। কারণ ততদিনে আমার শরীরের মধ্যে আরেকজনের বসবাস শুরু হয়ে গেছে। আমার শরীরের মাংস ছিঁড়ে খেতে তারা আর মজা পাচ্ছে না, শরীর টা ভারি হয়ে পঁচে যাচ্ছে।

একদিন নিজেকে আবিষ্কার করলাম একটা কুড়ে ঘরে। আমার সাথে একজন বুড়ি মা বসে আছে, আমাকে ডেকে বলছে তুমি কে গো মা, এই জঙ্গলে কিভাবে এলে? আমি কিছুই বলতে পারলাম না। কিছু দিন পর কিছু টা সুস্থ হলাম একদিন ভাবছিলাম কি করবো কোথায় যাব, বুড়ি মার বোঝা হয়ে আর কতদিন থাকবো। কারণ বুড়ি মা ভিক্ষে করে খায়।

হঠাৎ মনে পড়লো অন্তরের কথা। ঠিক করলাম ঢাকায় ফিরে যাবো। যে মানুষ টা কে এতো ঠকিয়েছি তবুও আমাকে বুকে আগলে রেখেছে, তার কাছেই ফিরে যাবো, সে আমাকে ফেলতে পারবে না। তাকে বলবো আমি তোমার সন্তানের মা, হাঁ তার ঘরে থাকতেই আমার পেটে তার সন্তান এসেছে। তাকে জানাইনি, কারণ আমি সন্তান নষ্ট করতে চাইছিলাম। কিন্তু সেই সুযোগই পেলাম না। আমার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতেই দিন শেষ হয়ে গেলো। এবার তার কাছেই যাবো তার কাছে মাফ চাইবো, তার পা পরে ক্ষমা ভিক্ষা চাইবো। একটু আশ্রয় চাইনি, তার সন্তানের কথা জেনে অন্তত আমাকে আশ্রয় দিবে। তার সন্তানের জন্য আমাকে একটা শেষ সুযোগ দিবেই দিবে। আমি তো তাকে চিনি, আমার চোখের পানি সে সইতে পারবে না। আমার জন্য জীবনের সব কিছু করেছে, আমাকে পৃথিবীর সব চেয়ে বেশি ভালোবাসে।

বুড়ি মা আমাকে ঢাকায় ফেরার ব্যবস্থা করে দিলো তার ভিক্ষার টাকা দিয়ে। আমি বাসার গেটে পৌঁছালাম। গেটে দারোয়ান চাচা আমাকে দেখে চমকে উঠলেন। আমার সামনে এসে বললেন আহারে আমার মায়ের সোনার মত মুখ খানি কি মলিন কালো হয়ে গেছে। আমি বললাম, চাচা আমাকে একটু উপরে নিয়ে যাবেন, অন্তর কি বাসায় আছে?

অন্তরের নামটা মুখে আনার সাথে সাথে দারোয়ান চাচা অঝোরে চোখের পানি ফেলতে লাগলেন। আমি বললাম, চাচা অন্তরের কি হয়েছে? চাচা ঠাঁই দাড়িয়ে রইলেন পাথরের মত, ঠোঁট দুটা থরথর করে কাঁপছে, অনেক কিছু বলতে চাইছেন।

অবশেষে আমি ধৈর্য হাড়িয়ে ফেললাম। চাচাকে ধরে চিৎকার করে বলতে লাগলাম, কিছু বলছেন না কেন, অন্তরের কি হয়েছে?

তখন চাচা শুধু বললেন, মাগো সাহেব নাই । আমি বললাম নাই মানে কোথায় গেছে? আমাকে ঠিকানা দেন, আমি তার কাছে যাব। আমার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতেই এসেছি, আমাকে বলেন সে কোথায় গেছে। বলেন চাচা আমি না আপনার মেয়ে মত, তার কাছে আমাকে নিয়ে চলেন। আজ আমি বড় অসহায়, সে ছাড়া আজ আমার আর কেউ নাই চাচা, বলেন সে কোথায় গেছে?

তারপর চাচা বললো মাগো আপনাকে সাহবের কাছে নিয়ে যাবার মত সামর্থ আমার নেই, কারোই নেই রে মা। সাহেব মরে গেছে।

আমি যেন বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। চাচা কিভাবে হলো আমাকে খুলে বলুন। চাচা বললো, মাগো আপনি যেদিন সকালে রাগ করে সাহেবের বাসা থেকে চলে গেলেন, সেই দিন রাতে স্টোক করেছিলো দুইদিন পর হাসপাতালে মারা গেছে।

আমি আর মানতে পারলাম না, চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লাম। জানলাম একদিন পর আমার জ্ঞান ফেরার পর আমি দারোয়ান চাচার ঝুপড়ি ঘরে। আমার পাশে চাচা বসে আছে। আমি চোখ মেলে তাকানোর সাথে সাথে চাচাকে চাচি ডাক দিয়ে বললেন, এই যে শুনছেন তারাতাড়ি আসেন মা জননীর জ্ঞান ফিরছে।

তারপর আমি চলে যাবার পর কি ঘটেছিলো জানতে চাইলাম। চাচা বললেন, সেদিন সন্ধ্যায় সাহেব আমার কাছে এসে বললো,  চাচা আমি আপনাকে অনেক বিশ্বাস করি, আপনার কাছে একটা আমানত রেখে যাবো আমার বিশ্বাস আপনি আমার আমানত রক্ষা করবেন। বলেই আমারে একটা এই চিঠির খাম আর এই ডাইরিটা দিয়ে বলছে, যদি মায়া কোন দিন আসে এই দুইটা জিনিস তাকে দিয়ে বলবেন, এটা আমার জীবন শেষ সম্বল। মায়া ছাড়া কাউকে এই আমানত দিবেন না। এটা আমার শেষ অনুরোধ।

তারপর চাচার কাছ থেকে আমার আমানত গ্রহন করলাম। তারপর কি ঘটেছে জানতে চাইলাম।

চাচা বললো, আনুমানিক রাত দুইটা বাজে আমি একটা শব্দ শুনতে পারলাম, মনে হলো আপনাদের ঘর থেকে শব্দ টা আসলো। আমি তাড়াতাড়ি আপনাদের বাসায় গেলাম। দেখি সাহেব মেঝেতে পড়ে ছটফট করছে। বুকের উপর দুটা হাত দিয়ে চেপে ধরে আছে, নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। দুরে পানির গ্লাস আর জগটা পড়ে আছে। সে পানি খাইতে চাইছিলো। খেতে পারেনি, আমি দৌড়ে কাছে দিয়ে বললাম সাহেব আপনার কি হইছে, দেখলাম জ্যোগের পানিতে মেঝে ভিজে গেছে। আমি তাড়াতাড়ি আবার পানি নিয়ে এসে খাওয়ানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু একফোঁটা পানিও খেতে পারলো না। শেষ কথাটা শুধু বলেছিলো, চাচা আমার আমানতের খিয়ানত করবেন না। আমার মায়া যদি কোন দিন ফিরে আসে তাকে আপনার হেফাজতে রাখবেন। আর বলবেন আমাকে যেন মাফ করে দেয়, আমি আমার মায়ার উপর অনেক অন্যয় করেছি। মায়া তোমাকে সুখী করতে পারলাম না।

তারপর সে নিস্তেজ হয়ে গেলো, আমি তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। দুইদিন পর ডাঃ বললো আইসিইউ তে রেখেছি অনেক টাকা বিল হয়েছে, তাড়াতাড়ি বিল পরিশোধ করেন। আমরা আপনার বাসার সব জিনিস পত্র বিক্রি করে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করলাম। যদি টাকা পয়সা থাকতো তবে সাহেব কে বাচনো যেত রে মা, বাচনো যেত। টাকার অভাবে সাহেবের ঠিকমত চিকিৎসা হলো না। বিনা চিকিৎসায় সাহেব মারা গেলো। কি ভালো মানুষ আসিল রে মা, মানুষ না একটা ফেরেস্তা আছিলো।

আমার চোখে আর একফোঁটা পানিও এলো না। চাচা বললো, মাগো আপনি তাও এসেছেন, আপনার আমানত বুঝাইয়া দিলাম, আমি এখন মরেও শান্তি পাব রে মা। তারপর আমি চিঠির খামটা খুলতেই একটা চিরকুট বেড়িয়ে এলো, তাতে লেখা শুধু –

“মায়া আমার শেষ সম্বল টুকু তোমার জন্য রেখে গেলাম, যদি তোমার এতটুকুও কাজে লাগে, তাহলে আমাকে শেষ বারের মত ক্ষমা করে দিও, আমার ব্যর্থতা তোমাকে সুখী করতে পারলাম না।”

 “অন্তর”

 

চলবে……………………………………………………

ফুলবাড়ীতে ১৬৮ বোতল মাদক সহ কুখ্যাত মাদক কারবারি আটক

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে পুলিশ মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৫২ বোতল নেশা জাতীয় ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ ও ১৬ বোতল ফেনসিডিল সহ ৬টি মাদক মামলার আসামী কুখ্যাত মাদক কারবারি রহিদুল ইসলাম ওরফে অহিদুল (৩৫) কে আটক করেছে। রবিবার রাত আটটার দিকে উপজেলার যতিন্দ্রনারায়ন গ্রামে তার বসতবাড়ী তল্লাশি করে ওই মাদকগুলো উদ্ধার করে তাকে হাতেনাতে আটক করে ফুলবাড়ী থানা পুলিশের একটি অভিযানিক দল।  আটক অহিদুল ওই গ্রামের মৃত ছোলদার আলীর ছেলে।
ফুলবাড়ী থানার ওসি রাজীব কুমার রায়  জানান, আটক মাদক কারবারির বিরুদ্ধে রবিবার রাতেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। সোমবার সকালে তাকে কুড়িগ্রাম জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের মনিপুরী পাড়া স্কুলের বাচ্চাদের খাতা-কলম দিয়ে বরন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর রবিবার তালা খুলেছে স্কুল-কলেজের। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে সশরীরে পাঠদান শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কলতানে মুখর হয়ে উঠছে বিদ্যাপীঠগুলোর আঙিনা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। শ্রীমঙ্গলে আশিদ্রোন ইউপি মনিপুরী পাড়া স্কুল টি তার বাহিরে নয়। ক্ষুদ্রনি গোষ্ঠীর ছেলে, মেয়ে গুলোর আনাগুনা বেশি এ স্কুলটির। এর অংশীদারীত্ত্বে বাচ্চাদের মুখে হাঁসি ফুটাতে মনিপুরী পাড়া সরকারী বস্তি স্কুলের বাচ্চাদের খাতা ও কলম দিয়ে বরন করে নেন বিপুল সিংহ, আশিদ্রোন ইউপি আওয়ামী লীগ ৪নং ওয়ার্ড সম্পাদক,আরো উপস্থিত ছিলেন এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা বিজিবি সদস্য ফুরকান মিয়া , বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নিভা রানী দেবী সহ সকল শিক্ষক, শিক্ষিকাও কর্মচারী বৃন্দ।

নেত্রকোণায় শিম ক্ষেত কেটে ফেলার অভিযোগ

নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণা জেলার সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের বাশাটি গ্রামের রাজ আলী শিম ক্ষেত কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
গত সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) কতিপয় দুষ্কৃতিকারী শিম কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া যায়।
জানা যায় সদর উপজেলার বাশাটি গ্রামের মাহাবুবুর রহমান পিতাঃ আব্দুর রাশিদ, নুরুল ইসলাম পিতা মৃত আমির উদ্দিন ও আব্দুর রাশিদ পিতা মৃত আব্দুল আজিজ তাদের সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। তারই জের ধরে রাতের আঁধারে শিম বাগানটি কেটে ফেলে।
পরে গত মঙ্গলবার রাজ আলী বাদী হয়ে নেত্রকোণা মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে নেত্রকোণা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের খন্দকার শাকের আহমেদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, অভিযোগ পাইনি, পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নওগাঁর আত্রাইয়ে বড়-সাঁওতা উচ্চ বিদ্যালয়ের নব-নির্মিত দ্বিতল ভবনের শুভ উদ্বোধন

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ ১২ সেপ্টম্বর-২০২১ইং রোবার সকাল সাড়ে এগারো ঘটিকার সময় নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বিশা ইউনিয়নের বড়-সাঁওতা উচ্চ বিদ্যালয়ের নব-নির্মিত দ্বিতল ভবনের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি নওগাঁ-৬ আসন (আত্রাই-রাণীনগর সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার হোসেন হেলাল।

বড়-সাঁওতা উচ্চ বিদ্যালয়ের নব-নির্মিত দ্বি-তলভবনের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে দুপুর বারো ঘটিকায় বড়-সাঁওতা উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে করোনা ভাইরাস সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এক মতবিনিময় সভায় বড়-সাঁওতা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শামিম-উল ইসলামের সভাপতিত্বে বিদ্যালয়ের (ভার-প্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক বিধু ভূষন দাস এর সঞ্চলনায় বড়-সাঁওতা উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর)আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার হোসেন হেলাল।

মত বিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আত্রাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ এবাদুর রহমান এবাদ।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মোল্যা, নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম শফিক, নওগাঁ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুজাউদ্দিন সরদার, আত্রাই উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেথ হাফিজুর রহমান হাফিজ, আত্রাই থানা অফিসার ইনচার্জ  (ওসি) মোঃ আবুল কালাম আজাদ।

মত বিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আত্রাই উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শ্রী নৃপেন্দ্র নাথ দত্ত দুলাল,সহ-সভাপতি চৌধুরী গোলাম মোস্তফা বাদল, সাধারণ সম্পাদক ও আহসান গঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আক্কাছ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলে রাব্বী জুয়েল, নওগাঁ জেলা পরিষদের মহিলা সদস্য ফেরদৌসী ইয়াসমিন ডেজি, বিশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, শাহজাহান আলী,ইউপি সদস্য কামরুজ্জান শিপন প্রমূখ।

বড়-সাঁওতা উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বি-তল ভবনের প্রাক্কলিত ব্যায় এক কোটি ছয় লাখ টাকা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইউ. আর এন্টার প্রাইজ প্রোঃ মোঃতৌহিদুল আলম (উজ্জল)চক এনায়েত ,নওগাঁ।

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা

অলিউর রহমান মেরাজ, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বীরমুক্তিযোদ্ধা, সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি,রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,ব্যবসায়ী সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় করেছেন জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মাদ জাকী।

গেল শনিবার সকাল সাড়ে ১২টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের হলরুমে  উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ সোম এর  সভাপতিত্বে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আতাউর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আঃ রাজ্জাক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পারুল বেগম, বীরমুক্তিযোদ্ধা ইউনুছ আলী তালুদার,  উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শাহাজান আলী, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তোফাজ্জল হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রেজাউল করিম, উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান মানিক, বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ প্রমুখ। এছাড়া জেলা প্রশাসক উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিশ্রামাগারে উদ্বোধন, জাতীয় উদ্যানের আশুড়ার বিল ও আশ্রয়ন প্রকল্প সহ বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কাজ পরিদর্শন করেন।