বন্ধ থাকা রেল লাইনের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে: মন্ত্রী শাহাবুদ্দিন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: করোনা সংক্রমণের কারণে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল লাইনের কাজ বন্ধ ছিলো। অতি শীঘ্রই রেল লাইনের কাজ শুরু হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে পুরোদেশে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

আওয়ামীলীগ সরকার ২০৪১ সালের পূর্বে দেশে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আজ দেশের যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে তা সবাইকেই অকপটে স্বীকার করতে হবে। জুড়ী-কুলাউড়া সড়ক আলোকিত হয়েছে শীঘ্রই বড়লেখা- চান্দগ্রাম সড়কে স্ট্রিট লাইট লাইট স্থাপন করা হবে। বড়লেখায় আওয়ামী লীগের নবনির্মিত কার্যালয় উদ্বোধনকালে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পৌর সুপার মার্কেটের নিচ তলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের নব-নির্মিত দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় আওয়ামী লীগের কোনো কার্যালয় না থাকায় নেতারা অস্থায়ীভাবে বিভিন্ন জায়গায় বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন হওয়ায় নেতাকর্মীরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন। গত শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫ ঘটিকায় প্রধান অতিথি হিসেবে ফিতা কেটে দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন করেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আলহাজ্ব মোঃ সাহাব উদ্দিন এমপি।

এ উপলক্ষে কোরআন তেলাওয়াত ও গীতাপাঠের মধ্যদিয়ে আলোচনা সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) রফিকুল ইসলাম সুন্দরের উপস্থাপনায় ও সহ সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর মেয়র আবুল ইমাম মোঃ কামরান চৌধুরী।

এসময় আরোও বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এ.কে.এম হেলাল উদ্দিন, বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজের সাবেক ভি.পি ও সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য জাকির হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি প্রণয় কুমার দে প্রমুখ।

এছাড়াও সকল ইউপি পরিষদের চেয়ারম্যানদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সদর ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন। এসময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগসহ অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ সূধী শুভাকাঙ্ক্ষীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বেহাল দশায় কুড়িগ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

সাকিব আল হাসান, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কুড়িগ্রামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বেহাল দশা হয়েছে। ধুলোর আস্তরণ আর মাকড়সার জ্বালে ঢাকা পরেছে ক্লাসরুমগুলো। মরিচা ধরেছে কল-কবজা আর দরজার তালায়। অযত্ন আর অবহেলায় প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র ও বইপত্রগুলো নোংরা হয়ে গেছে। মাঠ জুড়ে লম্বা ঘাস, আগাছা, আবর্জনা আর পচে যাওয়া লতাপাতাসহ ভাঙা গাছের ডালে ভরে গেছে। সরকারি নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকায় এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ যত্ন না নেয়ায় এমন ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি অভিভাবকদের।

বিষয়টি নিয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, কুড়িগ্রামে ১ হাজার ২৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বিদ্যালয়গুলো সার্বক্ষণিক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা হয় এজন্য পরিদর্শন কর্মকর্তা নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন করছেন। এই বিষয়ে শিক্ষকদেরও অনুপ্রাণিত করা হচ্ছে। এরপরেও যদি কোনো বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে তা তদন্ত সাপেক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, জেলায় নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৩৭৪টি। এরমধ্যে নিম্ন মাধ্যমিক ৮৯টি, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১০টি, বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২৫৪টি এবং স্কুল এন্ড কলেজ ২১টি। এছাড়াও ২২২টি মাদ্রাসা ও ৬১টি কলেজ রয়েছে। এরমধ্যে সরকারি ১০টি এবং বেসরকারি ৫১টি।

সরজমিনে জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ঘুরে দেখা যায়, দুর্যোগে টিনসেড বেঁকে গেছে। মাকড়সার জ্বাল, ধুলো, পোকা-মাকড়ে ছেয়ে গেছে শ্রেণীর কক্ষগুলো। কক্ষের দরজার তালায় মরিচা ধরেছে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার পরিবেশ বিপন্ন হয়েছে। ক্লাস রুমে বৃষ্টির পানি পড়ে বেঞ্চ, মেঝে নষ্ট হয়ে গেছে। অপরিষ্কার অবহেলায় পড়ে আছে সবকিছু। ক্লাস রুমের মধ্যে গাছের গুড়ি পালা করে রাখা হয়েছে। 

এই স্কুলের শিক্ষার্থীর বাবা মজিবর রহমান ও তমেজ আলী জানান, সরকার স্কুলের উন্নয়নে প্রতিবছর বাজেট দেয়। কিন্তু শিক্ষকরা সেটি ঠিকভাবে কাজে লাগান না। ফলে এমন করুণ দশা হয়েছে।

অন্যদিকে সদরের কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের চেরেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের নোংরা অবস্থার পাশাপাশি ওয়াশব্লক পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। টয়লেট ও বেসিন ময়লা আবর্জনায় ভরে গেছে। মনে হয় দীর্ঘদিন এখানে কোনো মানুষের পা পড়েনি।

এই স্কুল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা শিল্পী রানী জানান, সরকারের স্কুল খোলার সিদ্ধান্তে আমরা খুশি। কিন্তু স্কুলের ক্লাস রুম, টয়লেটের যে অবস্থা তাতে করে বাচ্চারা আরও অসুস্থ হয়ে পড়বে। স্কুল খোলার আগে সবকিছু ঠিকঠাকভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা দরকার।

এ ব্যাপারে ওই স্কুলের সহকারি শিক্ষক আবুল হোসেন জানান, আমরা নিয়মিতভাবে স্কুলে আসি। পরিস্কার পরিচ্ছন্নও করা হয়ে থাকে। তারপরও স্কুল খোলার পূর্বে আমরা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে শ্রেণী কক্ষগুলো পড়াশুনার উপযোগী করে তুলবো।

জেলা শিক্ষা অফিসার শামছুল আলম জানান, সরকারের দেয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিদ্যালয় খোলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সরকারের নির্দেশনা পেলেই বিদ্যালয় খোলার এক সপ্তাহ আগেই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে পাঠদান উপযোগি করে তোলা হবে।

নওগাঁয় গলায় ফাঁস দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁয় গলায় ফাঁস দিয়ে আফরোজা নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। গত শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার খাগড়া গ্রামের পুকুরপাড় নামক স্থান থেকে ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আফরোজা ফতেপুর পৃর্বপাড়া গ্রামের সজীব হোসেন এর স্ত্রী।

নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, সকালে গলায় ফাঁস দিয়ে আফরোজা নামে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায়। এরপর ৮ টার দিকে নিজ ঘড়ে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ওসি আরও বলেন, আত্মহত্যার বিষয়টি রহস্যজনক। তবে কখন আত্মহত্যা করেছে তা জানা যায়নি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

নেত্রকোণায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণা জেলা সদর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গেল শনিবার সকাল ১১ টায় জেলা সদর হাসপাতালের তত্তাবদায়কের কার্যালয় ইপিআই ভবনে সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরু সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, হাবিবা রহমান খান শেফালী (এমপি), কামরুন্নেছা আশরাফ দীনা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ,  নেত্রকোণা সিভিল সার্জন সেলিম মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফখরুজ্জামান জুয়েল, জেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আলাল উদ্দিন, গাজী মোজাম্মেল হোসেন টুকু, জেলা প্রেসক্লাব সম্পাদক এম মোখলেছুর রহমান, জেলা সদর হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্মকর্তা সহ আরো অনেকে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, হাবিবা রহমান খান শেফালী (এমপি), কামরুন্নেছা আশরাফ দীনা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ,  নেত্রকোণা সিভিল সার্জন সেলিম মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফখরুজ্জামান জুয়েল, জেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আলাল উদ্দিন, গাজী মোজাম্মেল হোসেন টুকু, জেলা প্রেসক্লাব সম্পাদক এম মোখলেছুর রহমান, জেলা সদর হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্মকর্তাসহবৃন্দ।

এ সময় বক্তারা বলেন, জেলায় হাসপাতালের ভাল সেবা দেয়ার কথা ব্যাক্ত করেন।

আজ ১৩ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানার জন্মদিন

সিএনবিডি ডেস্কঃ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন হলেন শেখ রেহানা। আজ ১৩ সেপ্টেম্বর তার শুভ জন্মদিন। ১৯৫৭ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কোল আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যার সময় বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। দুই বোন সেই হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে বড় বোন শেখ হাসিনার স্বামী ড. এম ওয়াজেদ মিয়ার কর্মস্থল জার্মানিতে বেড়াতে যান। হত্যাকাণ্ডের রাতে তারা ছিলেন বেলজিয়ামে। নৃশংস সেই হত্যাকাণ্ডের পর সেখান থেকে জার্মানি হয়ে ভারতে আসেন তাঁরা। পরে লন্ডনে গিয়ে বসবাস শুরু করেন শেখ রেহানা। শেখ রেহানা সরাসরি রাজনীতি করেননি। তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে ‘ছোট আপা’ হিসেবেই পরিচিত তিনি। শেখ রেহানার স্বামী শফিক আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। বড় ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক আওয়ামী লীগের গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) ট্রাস্টি। বড় মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটেনের লেবার পার্টি থেকে পরপর দুবারের নির্বাচিত পার্লামেন্ট মেম্বার। আর ছোট মেয়ে আজমিরা সিদ্দিক রূপন্তী লন্ডনে গ্লোবাল রিস্ক অ্যানালাইজার হিসেবে বর্তমানে কাজ করছেন।

রাণীশংকৈলে নারী অবয়বে তামার তৈরী মূর্তির অর্ধখন্ড উদ্ধার

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় গাজিগড় থেকে গত মঙ্গলবার ৭ সেপ্টেম্বর ভোরে থানা পুলিশ একটি নারী অবয়বে তামার তৈরী অর্ধখন্ড মূর্তি উদ্ধার করেছে।

থানা সূত্রমতে  গাজিগড় গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে আব্দুল মজিদ তার নিজ জমি চাষ করতে গিয়ে মূর্তিটি পায়। খবর পেয়ে রাণীশংকৈল থানার এস আই হাফিজ ও সঙ্গীয় ফোর্স স্থানীয়দের সহোযোগিতায় এটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে এদিন দুপুর ২ টায় ইউএনও বরাবরে জমা করেন।

জানা গেছে, মূর্তিটির উচ্চতা ৩ ইঞ্চি, প্রস্থ ২ ইঞ্চি এবং ওজন আনুমানিক ২০০ গ্রাম।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিফ কবির জানান, উদ্ধার করা অর্ধখন্ড নারী অবয়বে তামার তৈরী মূর্তিটি জেলা প্রশাসকের ট্রেজারিতে সংরক্ষণের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।

বিদেশি মদসহ ডিবি পুলিশের জালে ১জন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৬নং আশিদ্রোন ইউপি অর্ন্তগত বিলাসছড়া চা বাগানে গত শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০ ঘটিকায় গোপন তথ্য অনুযায়ী এক অভিযান পরিচালনা করে বিদেশী মদসহ ১জনকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা শাখা। বিলাসছড়া চা বাগানস্থ কাঠালবাড়ী ৩নং সেকশনে রাঙ্গিছড়া বর্ডার এলাকার যাওয়ার পথে ২নং ব্রিজের উপর থেকে ১০ (দশ) বোতল বিদেশি মদ জব্দ করে জকেশ দেববর্মাকে (২২) আটক করা হয়।

জানা যায়, হারপাছড়ার শম্বু রাম দেববর্মার ছেলে জকেশ দেববর্মা।

এর সত্যতা নিশ্চিত করতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ বদিউজ্জামান জানান, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া এর নির্দেশনায় অভিযান পরিচালনা করে আসামিকে বিদেশি মদ সহ গ্ৰেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বি:দ্র: মৌলভীবাজার জেলাকে মাদক মুক্ত রাখতে ডিবি টিমের অভিযান আছে এবং অব্যাহত থাকবে।

নওগাঁ’র পত্নীতলা উপজেলায় লেট ভ্যারাইটির গৌরমতি জাতের আম চাষে সফলতা

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলায় সবচেয়ে বিলম্বিত জাতের গৌরমতি আম চাষ করে সফলতা অজন করেছেন দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী নামের একজন আমচাষী তাঁর এই গৌরমতি জাতের আম চাষ করে সফলতা অজন করেছেন দোলোয়ার হোসেন চৌধুরী নামের একজন আমচাষী। তাঁর এই গৌরমতি আম চাষের সফলতা দেখে এলাকার অনেক চাষী এই আমের বাগানগড়ে তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

জেলার পত্নীতলা উপজেলার হাড়পুর মৌজায় প্রায় পঁষট্টি বিঘা জমির উপর গড়ে তুলেছেন একটি মিশ্র ফলের বাগান মাল্টা, কমলা এবং পেয়ারার পাশাপাশি প্রায় পনের বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন লেট ভ্যারাইটির গৌরমতি জাতের আম বাগান। প্রায় সাড়ে ছয় শত গাছের মধ্যে চলতি বছর প্রায় আড়াইশত গাছের আম উৎপাদিত হয়েছে।

জেলায় পর্যায়ক্রমে নাগফজলী, খিরসাপাতা, গোপালভোগ, ন্যাংড়া, আমরুপালী, আশ্বিনা ও বারি ফোর জাতের আম শেষ হয়েছে। যখন বাজারে কিংম্বা বাগানে আর কোন আম নেই তখন গৌরমতি জাতের আম বাগানে উত্তোলন শুরু করে। পনের সেপ্টম্বর পর্যন্ত এই আমের মৌসুম। এ বছর তাঁর এই বাগানে একশ মন আম গৌরমতি জাতের আম উৎপাদিত হয়েছে যা ইতিমধ্যে বাজার জাত শুরু করেছে। প্রথম দিকে প্রতিমন আম বারো হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাঝখানে শাত/আট হাজার
মন এবং সর্বশেষ বর্তমানে প্রতিমন আম দশ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারীভাবে গড়ে প্রতিমন আম নয় হাজার টাকা হিসেবে বিক্রিয় মূল্য। সেই হিসেবে এ বছর কমপক্ষে নয় লক্ষ টাকার আম বিক্রি করার প্রত্যাশা করছেন এই চাষী। এই আম সুস্বাদু, সুমিষ্টি এবং মৌসুমের সর্বশেষ জাতের কারনে লাভ জনক হওয়ায় এলাকার জনৈক মোশাররফ হোসেন সহ অনেকে আমচাষী এই আম বাগান গড়ে তুলতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ইতিমধ্যে কেউ কেউ এই জাতের আম বাগান গড়ে তোলার
উদ্যেগ নিয়েছেন।

পত্নীতলা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেছেন কৃষি বিভাগ থেকে এই কৃষকদের গৌরমতি জাতের আম চাষে উৎসাহিত করেছেন।পরবতীতে আম উৎপানের ক্ষেত্রে সব রকমের পরামশ এবং টেকনিক্যাল সাপোট এবং টেকনিক্যাল সাপোট প্রদান করা হচ্ছে।

এ ছাড়া তিনি আরও বলেছেন, যে কেউ গৌরমতি আমের বাগান গড়ে তুলতে সব রকমের সহযোগিতা সাপোর্ট প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া তিনি গৌরমতি আমের বাগান গড়ে তুলতে সব রকমের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেছেন।

লালমনিরহাটের আদিমারীতে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ ট্রাক আটক

ঈশাত জামান মুন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের আদিতমারীতে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ একটি ট্রাক আটক করেছে র‍্যাব-১৩ এর আভিযানিক দল।

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)প্রতিষ্ঠাকাল থেকে নিয়মিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, ছিনতাইকারী, মাদক, ডাকাতসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে র‌্যাব-১৩ ব্যাটালিয়ন সদর এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লালমনিরহাটের আদিতমারী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ মাদকদ্রব্য ৭১ কেজি ৮০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে। এ সময় মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ১টি ট্রাক জব্দ করা হয়। গ্রেফতার করা হয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলার সলংগা থানাধীন হাতীকুমরুল গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী মোঃ ফারুক আহমেদ (২৬) কে।

র‌্যাব-১৩’র অধিনায়কের পক্ষে সিনিয়র সহকারি পরিচালক (মিডিয়া) ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মাহমুদ বশির আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে,গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তার সাথে জড়িত অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে গোপন অনুসন্ধান চলছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থানায় র‌্যাব বাদী হয়ে একটি মাদক মামলা রুজু করেছে এবং আসামীকে আদিতমারী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

প্রতিনিয়ত চারপাশে তৈরি হচ্ছে ‘খন্দকার মোশতাক’

সারাবাংলায় হয়তো অসংখ্য ‘খন্দকার মোশতাক’ পাওয়া যাবে, কিন্তু সারা বিশ্ব খুঁজলেও আরেকজন ‘শেখ মুজিব’ খুঁজে পাওয়া যাবে না। একজন ‘শেখ মুজিব’ পৃথিবীতে বারবার আসে না, একবারই আসে। কিন্তু, মোশতাকরা পৃথিবীতে আজীবনই থাকে।

ফেইসবুকে একটি লেখায় পড়লাম, বঙ্গবন্ধু একদিন স্বপ্নে দেখেছিলেন, তাঁর সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটি কোরবানী করার জন্য। বঙ্গবন্ধু হাসতে হাসতে বলেছিলেন- ‘আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষতো মোশতাক। কিন্তু, ওকে তো কোরবানী করতে পারবো না, আমার বউ ওকে ভাই ডাকে’।

বঙ্গবন্ধুর পিতা শেখ লুৎফর রহমানের মৃত্যুতে বঙ্গবন্ধুর চেয়ে বেশি কেঁদেছিলেন একজন, তিনি ‘খন্দকার মোশতাক আহমেদ’। কবরে নেমে নিজের হাতে দাফন করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর পিতার লাশ। তার কান্না থামাতে হয়েছিলো স্বয়ং বঙ্গবন্ধুকেই। বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামালের বিয়ের ‘উকিল বাপ’ ছিলেন এই মানুষটি। তিনি বঙ্গবন্ধুকে এতোটাই ভালোবাসতেন (!?) যে, তার মাথার উপরে বঙ্গবন্ধুর ছায়া, এ কথা বোঝানোর জন্য সোনা দিয়ে একটা বটবৃক্ষ তৈরি করে বঙ্গবন্ধুকে উপহার দিয়েছিলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার পুত্র-কন্যাদের বলেছিলেন, যদি কখনো তার কিছু হয়ে যায়, মোশতাক কাকুর কাছে চলে যেতে। এতোটাই নির্ভরতা ছিলো তার উপরে, এতোখানি বিশ্বাস ছিলো তার প্রতি।

১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সাল, কালো রাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বাঙ্গালী জাতির পিতাকে অথচ খন্দকার মোশতাক ১৪ আগস্ট দিবাগত সন্ধ্যা রাতে বঙ্গবন্ধুকে নিজ হাতে হাঁসের মাংস রান্না করে খাইয়েছিলেন, যিনি ২ আগস্ট থেকেই জানতেন বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পুরো পরিকল্পনা ।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে, হত্যাকারীরা খন্দকার মোশতাকের বাসায় যায়। গোসল সেরে নতুন পোশাক পরে, তিনি বঙ্গভবনে আসেন ক্ষমতা দখলের জন্য। ১৫ আগস্ট সকাল ১১:৪৫ মিনিটে নতুন সরকার প্রধান হিসেবে খন্দকার মোশতাক বেতারে ভাষণ দিলেন। তিনি আবেগ মন্থিত গলায় বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের `সূর্যসন্তান` আখ্যা দিলেন। অথচ বঙ্গবন্ধুর মৃতদেহ তখনো নিথর পড়ে আছে ৩২ নম্বরের বাড়ির সিড়িতে। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেবার পর তিনি জিয়াউর রহমানের পরামর্শ মোতাবেক ১৫ আগস্ট নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার রহিত করার জন্য ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ` জারি করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান ‘জয় বাংলা’ পরিবর্তন করে, এর স্থলে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগান চালু করেন।

খন্দকার মোশতাকের প্রত্যক্ষ নির্দেশে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর চার ঘনিষ্ঠ সহচর জনাব তাজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মোঃ কামারুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে।

আজ আমাদের চারপাশে মোশতাকের মত চরিত্রের লোকের অভাব নেই। প্রতিনিয়ত মোশতাকদের জন্ম হচ্ছে।

১৫ আগস্ট ১৯৭৫ এর কালোরাতে সংগঠিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধু পরিবারের ৮ সদস্যসহ মোট ১৮ জন নিহত হন। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। কিন্তু ওদের ষড়যন্ত্র আজও বন্ধ হয়নি।

খন্দকার মোশতাক, মাহবুব আলম চাষী ও তাহেরউদ্দিন ঠাকুরদের উত্তরসূরিরা অতি সুকৌশলে ‘ক্ষমতা’র খুব কাছাকাছি থেকে পূর্বসূরিদের অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়নে সক্রিয় রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ৭৫ এর খুনীদের উত্তরসূরি এবং সুবিধাভোগীদের সমন্বয়ে গঠিত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা করা হয়েছিলো। সেদিনের হামলায় আইভি রহমানসহ ২৪ জন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী নিহত হয়েছিলেন। মহান আল্লাহর অপার করুণায় সেবারও শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচেছিলেন। ষড়যন্ত্রকারীরা মোট ১৯ বার হত্যাচেষ্টা করলেও, মহান আল্লাহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিরাপদ রেখেছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে খুবই সুনামের সাথে দীর্ঘ ১৩ বছর সরকার পরিচালিত হচ্ছে। বিরোধীদল সরকারের বিরুদ্ধে কোন আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারলেও স্বাধীনতাবিরোধী ও ১৫ আগস্টের ষড়যন্ত্রকারীরা হাত গুটিয়ে বসে নেই। গত ৩১ আগস্ট ২০২১, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচিতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধ শক্তি ও ১৫ আগস্টের খুনিদের দোসররা এখনও ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে’।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন।

ওরা সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন পদ-পদবীসহ জাতীয় সংসদ সদস্য এবং আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির পদও দখল করে নিয়েছে। ষড়যন্ত্রকারীরা ৭১, ৭৫, ২০০৪ সালের ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ২০০৬ সালে ‘এক/এগারো’ ঘটিয়েছিল। এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য সেসময়ের অনেক প্রভাবশালী(?) নেতা শেখ হাসিনার পাশে থেকে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে নিজস্ব লোকদের দলীয় পদ-পদবী দিয়েছিল। আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মী ও জনগণের চাপে এক-এগারো ষড়যন্ত্রকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু ওদের পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনে পদ-পদবীপ্রাপ্ত তাদের লোকগুলো সংগঠনে বহাল রয়েছে। ওরা তাদের পূর্বসূরিদের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে সক্রিয় রয়েছে কিনা বা সরকারের সঙ্গে মিশে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন কিনা সেদিকেও সজাগ থাকা জরুরী।

৭৫ এর খন্দকার মোশতাকরা যেমনিভাবে সুকৌশলে বঙ্গবন্ধুর কাছের মানুষগুলো দুরে সরিয়ে দিয়েছিল, ঠিক তেমনিভাবে একালের মোশতাকরাও শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত লোকগুলোকে দুরে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। মোশতাক, চাষী, তাহেরউদ্দিন ঠাকুরদের উত্তরসূরিদের পাশাপাশি একালের মোশতাকরাও খুবই সক্রিয়। তারা বিএনপি জামাতের লোকগুলোকে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে বসিয়ে দিয়ে ষড়যন্ত্রের জাল তৃনমূল পর্যায়ে পর্যন্ত বিস্তৃত করছে। পদ-পদবী পেতে, প্রয়োজনে ওরা অর্থ বিনিয়োগ করছে। পদপদবী পেতে অর্থ বিনিয়োগকারী এবং অর্থ বিনিয়োগে সহায়তাকারী নেতাদের চিহ্নিত করা জরুরী। এরাও বর্তমান কালের ‘মোশতাক’।

সম্প্রতি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র কেন্দ্রীয় নেতা বক্তৃতায় অর্থ বিনিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় এনেছেন। তিনি আরও বলেছেন বিএনপি ঘরানার এক শিল্পপতির দুই ছেলে (বয়স ১৯ ও ২১ বছর) মহানগর আওয়ামীলীগের দুই থানা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই দুইজন কোনদিন কোথায়ও আওয়ামীলীগ বা অংগ-সহযোগী সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন না এবং বর্তমান সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের সাথে বেশ সখ্যতা বজায় রেখে বেশ ভালভাবেই ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন।

অনুপ্রবেশকারী আওয়ামীলীগাররা নিজেকে ‘বড় আওয়ামীলীগার‘ প্রমাণ করার জন্য বঙ্গবন্ধুর শাহাদত দিবসে বেশ জাঁকজমক করে শোক দিবসের কর্মসূচির আয়োজন করে। কার চেয়ে কার শোক বেশি, সেটা প্রমাণ করতে ওরা মরিয়া হয়ে ওঠে। ওদের বিবৃতি আর কলামে ভরে যায় সংবাদপত্রগুলো, স্ট্যাটাস শেয়ারে ছেয়ে যায় ফেইসবুক। ঢাকা মহানগরসহ দেশের সকল সড়ক-অলিগলি ছেয়ে যায় বঙ্গবন্ধুর ছবির পাশে তাদের বড় বড় ছবি দেওয়া শোকের পোস্টারে। ব্যানারে তাদের হাসি হাসি অসৎ মুখগুলো বঙ্গবন্ধু মুজিবের ছবির পাশে খুবই বেমানান লাগে। তাদের চোখের জলে ভিজে যায় সদ্য কেনা মুজিব কোট, গলা জড়িয়ে আসে কথা বলতে বলতে, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর প্রতি আন্তরিকতার লেশমাত্র নেই, কারণ তারা মনের গভীরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে না। বিএনপি-জামাত থেকে আসা ‘হাইব্রিড আওয়ামীলীগ’ নেতাদের কর্মকাণ্ড দেখে আমরা ভীত হই। মোশতাকের চরিত্র চোখে ভাসে।

শোকদিবস এর কর্মসূচী পালনে কিছুসংখ্যক লোকের অর্থ সংগ্রহের ধরন দেখে, এটা তাদের অর্থ উপার্জনের উপায় বলে মনে হয়। এতে বঙ্গবন্ধুর আত্মা কষ্ট পায়। আমাদের শুধু মনে হয়, একজন মানুষ, যিনি তার পুরোটা যৌবন কাটিয়েছেন কারাগারে, জীবনের অনিশ্চয়তায়, শুধুমাত্র বাংলার গণমানুষের মুক্তির জন্য, তাদের বাকস্বাধীনতা প্রকাশের জন্য, তাদের দুইবেলা অন্নের নিশ্চয়তার জন্য, তাদের গণতন্ত্রের আস্বাদ দেবার জন্য  নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন– সেই মহাননেতার শাহাদত দিবসে কালো ব্যাজ পড়ে, মাইক টানিয়ে, টেবিল চাপড়ে গলা ফাটিয়ে বক্তৃতা দিয়ে, বিরিয়ানীর গন্ধে মাতোয়ারা হয়ে এই আনন্দোৎসবের মত শোক পালন করা দেখে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রকৃত নেতাকর্মীরা কষ্ট পায়, নীরবে চোখের পানি মুছে।

৭৫ এর ১৫ আগস্ট, ২০০৪ এর ২১ আগস্ট ও এক-এগারো, সকল ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনার উদ্দেশ্য একই, বাংলাদেশের স্বাধীনতা নস্যাৎ করতে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল সদস্যদের হত্যা করা। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট বিদেশে থাকায় মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে বেঁচে যাওয়া শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য, পরবর্তীতে মোট ১৯ বার হত্যাচেষ্টা করলেও, মহান আল্লাহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিরাপদ রেখেছেন। কিন্তু ওদের ষড়যন্ত্র আজও বন্ধ হয়নি।

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি হাজার বছরে একজনই জন্মায়। কিন্তু ইতর প্রাণী পথ-কুকুরের মতো মোশতাকদের বংশবৃদ্ধি ঘটে। বারবার জন্মায় মোশতাকের দল, নানা সময়ে, নানা চরিত্রে। অথচ একজন `শেখ মুজিব` আসেনা।

ইদানীং কালে নিবেদিত প্রাণ মুজিব সৈনিক সৃষ্টির হার তুলনামূলকভাবে খুবই কম। আমাদের চারপাশে শুধু ‘মোশতাক’ দেখি, শত শত মোশতাক, হাজার হাজার মোশতাক, লক্ষ লক্ষ মোশতাক। ১৫ আগস্টের মোশতাক, ২১ আগস্টের মোশতাক, এক-এগারো’র মোশতাক। এই সকল মোশতাকরা ও তাদের উত্তরসূরিরা হায়েনার মত চারিদিক ঘিরে আছে। আরেকটি ১৫ আগস্ট বা ২১ আগস্ট ঘটানোর পায়তারা করছে। জনমানুষ আতংকিত।

এখনই উত্তম সময়, প্রকৃত মুজিব সৈনিকেরা সংগঠিত হয়ে, শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে, সকল ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করে, গড়ে তুলতে হবে উন্নত বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশ তৈরি করতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ও নির্ঘুম অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা, যে বাংলাদেশের ‘স্বপ্নদ্রষ্টা’ ছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

ড. মোঃ আওলাদ হোসেন
ভেটেরিনারীয়ান, পরিবেশবিজ্ঞানী, রাজনৈতিক কর্মী ও কলামিস্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ।