চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে হবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা

শিক্ষা ডেস্কঃ চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে স্থগিত পরীক্ষা শুরু করতে যাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এক আসন খালি রেখে জেড পদ্ধতিতে কেন্দ্রে আসন বিন্যাস করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার (৩০ আগস্ট) রাতে পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত নির্দেশাবলী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত নির্দেশাবলীতে বলা হয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা গ্রহণ এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। পরীক্ষা কেন্দ্রে দুই জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অন্তত ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে (আসন বিন্যাসের নমুনা-১ অথবা আসন বিন্যাসের নমুনা-২ এর অনুরূপভাবে) আসন ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ভেন্যু কেন্দ্রে পরীক্ষা গ্রহণ করা যাবে।

আরও বলা হয়েছে, সকল শিক্ষক, পরীক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মাস্ক পরিধান করে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করবে। মাস্ক সঠিক নিয়মে পরতে হবে এবং মাস্ক ছাড়া কেউ পরীক্ষা কেন্দ্র প্রবেশ করতে পারবে না। শুধুমাত্র পরীক্ষার্থীর পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য সাময়িক মাস্ক খোলা যাবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের পূর্বে হাত ধোয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সাবান এবং পানির ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রয়োজনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

ফের দেশের বাজারে বাড়ল এলপিজির দাম!

অর্থনীতি ডেস্কঃ টানা তিন মাসের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণ দেখিয়ে দেশের বাজারে সিলিন্ডারে বিক্রি হওয়া তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির দাম বাড়লো। বেসরকারি পর্যায়ে এলপিজির দাম প্রতিকেজি ৮৬ টাকা ৭ পয়সা ধরে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম মূল্য সংযোজন করসহ  (মূসক) ১০৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ছে অটোগ্যাসের দামও। অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৫০.৫৬  টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগামীকাল ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

চলতি আগস্ট মাসে বেসরকারি পর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৯৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর আগে জুলাই মাসে ছিল ৮৯১ টাকা এবং জুন মাসে ছিল ৮৪২ টাকা। এদিকে প্রতি লিটার অটোগ্যাস আগস্টে ছিল ৪৮ টাকা ৭১ পয়সা, জুলাইয়ে ছিল ৪৪ টাকা। সে হিসেবে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৪০ টাকা ও অটোগ্যাসের দাম লিটার প্রতি বেড়েছে ২.৩৯ টাকা।

আজ মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) অনলাইনে এক সংবাদ সম্মেলনে ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দামের এই আদেশ দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এসময় বিইআরসির চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল, কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আবু ফারুক, মকবুল-ই এলাহী, বজলুর রহমান, কামরুজ্জামান, সচিব রুবিনা ফেরদৌসীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এর বাইরে ৫.৫, ১২.৫, ১৫, ১৬, ১৮, ২০, ২৫, ৩০, ৩৩, ৩৫ ও ৪৫ কেজি এলপিজির দামও বিইআরসি আদেশে পুনর্র্নিধারণ করা হয়েছে।

তবে সরকারি পর্যায়ে সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম আগের মতোই ৫৯১ টাকা থাকবে। যেহেতু এই দামের সঙ্গে সৌদি সিপির কোনো সম্পর্ক নেই, যা কমিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

এদিকে আবাসিক এ শিল্পে কেন্দ্রীয়ভাবে এলপিজির ব্যবহার শুরু হয়েছে। নতুন পদ্ধতিতে একসঙ্গে বাসা বা কারখানার নিচে বা পাশে বড় সিলিন্ডার থেকে এলপি গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। এই সিলিন্ডার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাসায় বাসায় বা কারখানায় সরবরাহ করা হচ্ছে গ্যাস। এটির দামও কমিশন পুনর্র্নিধারণ করে।

রেটিকুলেটেড সিস্টেমে সরবরাহ করা এলপিজির দাম ভোক্তা পর্যায়ে মূসক ছাড়া প্রতিকেজি ৭৮ টাকা ৩১ পয়সা এবং মূসকসহ ৮৩ টাকা ৭৭ পয়সা অথবা লিটার হিসাবে প্রতি লিটার মূসক ছাড়া ০ দশমিক ১৭৪০ টাকা এবং মূসকসহ প্রতি লিটার ০ দশমিক ১৮৬১ টাকা পুনর্র্নিধারণ করেছে কমিশন।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জানান, বিইআরসি আইনের অনুচ্ছেদ ক অনুযায়ী আগস্ট মাসে সৌদি আরামকো কর্তৃক প্রোপেন ও বিউটেনের ঘোষিত সৌদি সিপির দাম যথাক্রমে প্রতি মেট্রিক টন ৬৬০ ডলার এবং ৬৫৫ ডলার হয়েছে। এ অনুযায়ী আগস্ট মাসে প্রোপেন ও বিউটেনের মিশ্রণ অনুপাত ৩৫:৬৫ বিবেচনায় প্রোপেন ও বিউটেনের গড় সৌদি সিপি প্রতি মেট্রিক টন ৬৫৬.৭৫ ডলার বিবেচনা করে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগের মাসে প্রোপেন ও বিউটেনের ঘোষিত সৌদি সিপি যথাক্রমে প্রতি মেট্রিক টন ৬২০ ডলার এবং ৬২০ ডলার অনুযায়ী প্রোপেন ও বিউটেনের মিশ্রণ অনুপাত ৩৫:৬৫ বিবেচনায় প্রোপেন ও বিউটেনের গড় সৌদি সিপি প্রতি মেট্রিক টন ৬২০ ডলার বিবেচনা করে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল।

অবশেষে জামিন পেলেন আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি

বিনোদন ডেস্কঃ আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় অবশেষে জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ২টায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে রবিবার (২৯ আগস্ট) উচ্চ আদালতের নির্দেশে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ পরীমনির জামিন শুনানির জন্য ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করেন। আর গত ২২ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে পরীমনির জামিন আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী মজিবুর রহমান। তখন আদালত শুনানির জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন। পরে তার আইনজীবীরা এ নিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৪ আগস্ট সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে তার বনানীর বাসা থেকে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। ওইদিনই রাত ৮টা ১০ মিনিটে পরীমনিকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে র‌্যাব সদরদফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত ১২টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে র‌্যাব। পরদিন ৫ আগস্ট বিকেল ৫টা ১২ মিনিটে পরীমনি, চলচ্চিত্র প্রযোজক রাজ ও তাদের দুই সহযোগীকে কালো একটি মাইক্রোবাসে করে বনানী থানার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর র‌্যাব বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় পরীমনি ও তার সহযোগী দীপুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে।

এর পর তাকে আদালতে হাজির করলে প্রথমে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে আরও দুই দফায় তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়।

উল্লেখ্য, মামলা সূত্রে জানা যায়- পরীমনি ২০১৬ সাল থেকে মাদকসেবন করতেন। এমনকি এলএসডি ও আইসও সেবন করতেন তিনি। এজন্য বাসায় একটি ‘মিনিবার’ তৈরি করেন। বাসায় নিয়মিত ‘মদের পার্টি’ করতেন। চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজসহ আরও অনেকে তার বাসায় অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকের সরবরাহ করতেন ও পার্টিতে অংশ নিতেন।

চিকিৎসা বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরী পেলেন এশিয়ার নোবেলখ্যাত ম্যাগসেসে পুরস্কার

সিএনবিডি ডেস্কঃ এশিয়ার নোবেলখ্যাত  র‌্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) বিজ্ঞানী ড. ফিরদৌসী কাদরী।

আজ মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) র‌্যামন ম্যাগসেসে অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব ট্রাস্টি ২০২১ সালের পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে।

র‌্যামন ম্যাগসেসে অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরী ছাড়াও এ বছর পাকিস্তানে দারিদ্র বিমোচনে ভূমিকা রাখায় দেশটির অন্যতম বৃহৎ এক ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান মোহাম্মদ আমজাদ সাকিব এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাস্ত্যুচুত শরণার্থীদের জীবন পুনর্গঠনে কাজ করা স্টিভেন মুনচি-ও এই পুরস্কার পেয়েছেন।

র‌্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার এশিয়ার সর্বোচ্চ সম্মাননা এবং এই অঞ্চলে নোবেল পুরস্কারের সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ড. ফেরদৌসী কাদরীর বিষয়ে ম্যাগসেসে অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন বলছে, কাদরী একজন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী; যিনি লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচাতে কলেরা টিকা আবিষ্কারে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) ইমিউনোলজি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফেরদৌসী কাদরী।

প্রসঙ্গত, ড. ফেরদৌসী কাদরীর ফিরদৌসীর প্রধান গবেষণার বিষয় হলো অন্ত্রের রোগ। বিশেষ করে ইমিউনোলজি, জিনোমিক্স, প্রোটোমিক প্রযুক্তি এবং ডায়াগনস্টিকস ও ভ্যাকসিনে উন্নতি সাধন। তিনি বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষের জন্য নতুন ধরনের স্বল্পদামের কলেরা টিকা উন্নয়নে কাজ করেছেন। তিনি ব্যয়বহুল ‘ডকোরাল’ টিকার পরিবর্তে ‘শানকল’ নামক একটি টিকা ঢাকায় ব্যবহার করে সফলতা লাভ করেন। পরবর্তীতে টিকাটি রোহিঙ্গা শরনার্থীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

উল্লেখ্য, ড. ফেরদৌসী কাদরী ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও আণবিক জীববিদ্যা বিভাগ থেকে বিএসসি ও ১৯৭৭ সালে এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন। তারপর ১৯৮০ সালে যুক্তরাজ্যের লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন/প্রতিষেধকবিদ্যা বিভাগ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

আইসিডিডিআর,বি’র প্রতিষেধকবিদ্যা বিভাগ থেকে পোস্টডক্টরাল গবেষণা শেষ করার পর, তিনি একই প্রতিষ্ঠানে ১৯৮৮ সালে সহযোগী বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দেন। পরে তিনি একই প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী এবং মিউকোসাল ইমিউনোলজি ও ভ্যাকসিনোলজি বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।

উন্নয়নশীল দেশে শিশুদের সংক্রামক রোগ চিহ্নিতকরণ ও বিস্তার রোধে প্রাথমিক চিকিৎসা কার্যক্রম ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদারে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ২০২০ সালে তিনি ‘লরিয়েল-ইউনেস্কো উইমেন ইন সায়েন্স অ্যাওয়ার্ড’(এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল) লাভ করেন।

এছাড়া, ২০১৩ সালে অনন্যা শীর্ষ দশ পুরস্কার পান ফেরদৌসী। আর ২০২১ সালে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে এশিয়ার শ্রেষ্ঠ ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় তিনি অন্তর্ভুক্ত হন।

আফগানিস্তানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র ঘোষণা করলো তালেবান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ একে একে সব দেশের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেষ ফ্লাইট কাবুল ছাড়ার পর আফগানিস্তানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ক্ষমতা দখল করা সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবান। খবর আল-জাজিরার।

চুক্তি অনুযায়ী আজ ৩১ আগস্ট (মঙ্গলবার) যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সেনারা আফগানিস্তান ছেড়েছে। প্রায় দুই দশক পর বিদেশি সেনাদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়েছে কাবুল। রাজধানী কাবুলে অবস্থিত হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান যোদ্ধারা। এরপরপরই জয় উদযাপন করতে দেখা গেছে তাদের। আকাশে গুলি ছুড়ে আফগান সদস্যরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন। এর আগে তালেবান দেশের নিয়ন্ত্রণ নিলেও যুক্তরাষ্ট্র কাবুল বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু অবশেষে বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণও এখন তালেবানের হাতে।

তালেবান দিনটিকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে তারা বলছে, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ এ পরাজয় বিশ্বের মোড়ল দেশগুলোর জন্য শিক্ষা। ভবিষ্যতে কোনো দেশ ঠুনকো অভিযোগে যেন স্বাধীন ও সার্বভৌম কোনো দেশে হস্তক্ষেপ না করে সেই আশা তালেবানের।

তালেবানের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, আফগানিস্তান এখন স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র। ২০ বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে মার্কিন সেনাদের আফগানিস্তান ছাড়ার ঘটনা ঐতিহাসিক এক মুহূর্ত।

এদিকে, আফগানিস্তান ছাড়ার আগে নিজেদের সামরিক প্লেন, সাঁজোয়া যানবাহনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট করে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সোমবার রাতে কাবুল বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শেষ ফ্লাইট ছাড়ার আগে সবকিছু নিস্ক্রিয় করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সৈন্যরা।

মার্কিন মিশনের কমান্ডার জেনারেল কেনেথ ম্যাককেনজি জানিয়েছেন, ৭৩টি সামরিক বিমান, ৭০টি সাঁজোয়া যান এবং আরও ২৭টি সামরিক সরঞ্জাম নষ্ট করে ফেলা হয়েছে যেন পরবর্তী সময় এগুলো তালেবানরা ব্যবহার করতে না পারে।

আরও ২১ বীরাঙ্গনা পেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি

সিএনবিডি ডেস্কঃ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৭৫তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের হাতে নির্যাতিত হওয়া আরও ২১ জন বীরাঙ্গনা বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছেন। এর আগে মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। এ নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া বীরাঙ্গনার সংখ্যা দাঁড়াল মোট ৪৩৮ জনে।

বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া বীরাঙ্গনারা হলেন- নাটোরের হাফিজা বেগম, মোছা. কমেলা, নাছিমা বেগম, মোছা. আকলিমা বেগম, সাহেরা, মোছা. শরীফা ইসলাম, মোছা. ফিরোজা বেগম. মোছা. আয়েশা বেগম, মোছা. ফাতেমা, মোছা. জোসনা বেগম, মোসা. আছমা বেগম, মোছা. রেজিয়া বেগম ও মোছা. আমবিয়া বেগম মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছেন।

এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছেন- বরিশালের রোকেয়া বেগম, বিভা রানী মজুমদার, খুলনার সন্ধ্যা রানী বিশ্বাস, অঞ্জনা বালা বিশ্বাস, পাবনার মোছা. আনোয়ারা বেগম, মোছা. বিলকিস বানু, কুমিল্লার মোসা. তাহেরা বেগম ও নওগাঁর বদরুন নেছা।

শ্রীমঙ্গলের আশিদ্রোন ইউপি মতিগঞ্জ টু ভূজপুর রাস্তার বেহাল দশা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৬নং আশিদ্রোন ইউপি মতিগঞ্জের আব্দুস শহীদ কলেজ হতে ভূজপুর প্রাইমারী স্কুল হয়ে ভূজপূর বাজার যাতায়াতের রাস্তাটির বেহাল অবস্থা গত ১বছর যাবত বিরাজ করছে। ফলে গ্রামবাসীদের চলাচলের ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলছে।

এলাকাবাসী জানান, ৬নং আশিদ্রোন ইউপির রাস্তাটি শুধু ভূজপূরবাজার যাতায়াতের রাস্তা নয়। আমাদের এরাস্তাটি সাতগাও হয়ে সিন্ধুর খান চলে গেছে শ্রীমঙ্গল। মতিগঞ্জ টু ভূজপুর ৩ কিলোমিটার এই সড়কের দুই পাশে বসবাস করেন ৩/৪ গ্রামের বাসিন্দা। রয়েছে ৪টি প্রাইমারী স্কুল, ১টি মাদ্রসা ১এতিমখানা, ১ টি কমিনিউটি ক্লিনিক সহ কয়েকটি মসজিদ। নিত্যদিন হাজারো মানুষের যাতায়াতের পাশাপাশি অন্তিম যাত্রাও হয় এই রাস্তা ব্যবহার করেই। গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তার বেহালদশা থাকলেও এ রাস্তাটির কোন প্রকার উন্নয়ন হয়নি। ইউনিয়নের ২ নং ও ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদ মিয়া ও লিটন মিয়া দুই ওয়ার্ডের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করা হলে, এক জনও যোগাযোগে কোন সাড়া মেলেনি। বরং তাদের চরম রকমের উদাসীনতা দেখা যায় সরেজমিনে।

৬ নং আশিদ্রোন ইউপি চেয়ারম্যান জহর লাল বর্ধন এর সাথে যোগাযোগ করলে জানান, আমি কাজের জন্য ডিও লেটার পাঠিয়েছি এবং বৃষ্টির জন্য কাজ করানো যাবে না। তবে আগামী শীতে এর কাজ শুরু হবে বলে জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে , প্রাক্তন ইউপি সদস্য সহ সিএনজি চালক, যাত্রীদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে এ রাস্তার বেহাল দশায় ক্ষতিগ্রস্ত সকলে।

সরেজমিনে গেলে ভোক্তভোগীরা বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে অন্তত দেড় থেকে দুই হাজার লোক যাতায়াত করেন। একটু বৃষ্টি হলেই চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। বৃষ্টি হলে মৃত ব্যক্তির লাশ নিয়ে যাওয়া দূরহ হয়ে পড়ে, সাথে অসুস্থ রোগী বা গর্ভবতী কোন মাকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর আগে ডেলিভারিও হয় রাস্তার ঝাঁকুনিতে। এলাকাবাসীর প্রানের দাবি সম্মিলিতভাবে সড়কটির উন্নয়নের জন্য আবেদন জানান। সরেজমিনে গিয়ে এলাকায় কিছু যুবকের দেখা মিলে যারা স্বেচ্ছা শ্রমে বড় বড় গর্ত স্থানে ইটের খোয়া দিয়ে ভড়াট করছে।

স্বেচ্ছা শ্রমে ছিলেন- রয়েছ আহমেদ, জামাল মিয়া, হেলাল মিয়া, লিটন মিয়া, কামাল মিয়া এঁরা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। সকলের দূর্ভোগের কথা মাথায় রেখে তারা এই স্বেচ্ছা শ্রমে এতটুকু হলেও কষ্টের ভাগ নিতে চান যুবকেরা জানান। আরো

জানান, গত ১ বছরেও আমাদের এ রাস্তাটির কোন উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। আর কতদিন অপেক্ষার পর আমাদের সড়ক বেহাল অবস্থা থেকে মুক্তি হবে জীবিত অবস্থায় দেখে যেতে পারবো কিনা একমাত্র আল্লায় জানে।

“মায়া” (পর্ব-৩)

কলমে- মোঃ আবু শামা (শ্যামা)

ভোর বেলা যখন হাসপাতালে পৌছালাম, আমার ছোট বোন ছুটে এসে বললো, আপনি সারারাত কোথায় ছিলেন? সেই ফেরেস্তার মত মহিলা টা এসেছিলেন।

আমি বললাম, কোন মহিলা টা? ছোটবোন বললো, আপনি তো সত্যিই একটা অকৃতজ্ঞ মানুষ। যে মানুষ টি আপনার স্ত্রী সন্তান কে নিজের রক্ত দিয়ে বাচিয়ে গেলো তাকেই ভুলে বসে আসেন।

আমি বললাম, সে কোথায়? ছোটবোন বললো, সে তো চলে গেছে। আমি বললাম, কিছু বলে গেছে? কোন ঠিকানা দিয়ে গেছে?

ছোটবোন অবাক হয়ে বললো, বলেন কি? আপনি তার ঠিকানা জানেন না, তাহলে তাকে কোথায় থেকে ধরে এনে বিপদ থেকে উদ্ধার হলেন।

আমি কথা বাড়ালাম না, শুধু বললাম কিছুই বলে যান নি তিনি? ছোটবোন একটা চিঠির খাম আর একটা ডাইরি আমার হাতে দিয়ে বললো এগুলো আপনাকে দিয়ে গেছে।

আমি চিঠির খাম আর ডাইরিটা নিয়ে একটা নির্জন যায়গায় বসে চিঠির খাম খুললাম। চিঠিটা হাতে নিয়েই বুঝতে পারলাম, লেখার সময় মিনু অনেক কেঁদেছে, কারণ চিঠিতে চোখের পানি স্পষ্ট বোঝা যায়, যায়গায় যায়গায় চিঠিটা এখন ভিজে আছে।

কোন সম্মোধন ছাড়াই শুরু করেছে মিনু, ক্ষমা চেয়েছে তিন বার, আমার নাম না লিখেই বলছে-

“যাকে পাগলের মত ভালোবাসতে তাকে অন্যের হাতে কেন তুলে দিয়েছিলে তা আমার বিয়ের পর সব জানতে আর বুঝতে পেরেছি। যদিও তোমার উপর আমার কোন রাগ বা ন্যূনতম অভিমান নেই। কারণ আমার নিজের ইচ্ছেতেই বিয়ে টা করেছিলাম। তুমি আমাকে কতটা ভালোবাসতে তা আমি স্কুলের সময় থেকেই বুঝতে পারতাম। আর কলেজের সময়টা তে আমার প্রতি তোমার ভালোবাসা স্পষ্ট হয়ে যায়, যখন তুমি অভাবের তাড়নায় বাড়ি ছেড়েছিলে। যে দিন আমার কাছে বিদায় নিতে এসেছো, তোমার চোখের পানি আমায় প্রমাণ দিয়েছিলো, আমাকে তুমি কতটা ভালোবাসতে। কিন্তু কখনো প্রকাশ করোনি। তুমি যখন আমাকে ছেড়ে ঢাকায় চলে গেলে, তখন থেকে আমিও তোমার অভাব হাড়েহাড়ে টের পেলাম। কারণ আমার সৎ মায়ের অত্যাচার সইতে পেরেছি যখন তুমি আমার পাশে থেকে আমাকে ভালো রাখার চেষ্টা করতে নানা উপায়ে। যখন তুমি আমার কাছে থেকে অনেক দূরে চলে গেলে, তুমি আমার কতোবড় আপনজন ছিলে, সবই বুঝতে পেরেছি তোমাকে কাছে না পাওয়া তে। কত ভালো বন্ধু ছিলে।

তারপর তুমি হঠাৎ ঢাকা থেকে তোমার বড় ভাই কে নিয়ে আমাদের বাড়িতে হাজির হলে। আর আমাকে বিয়ে করতে বুঝালে, যে আমি যদি বিয়ে টা করি তবে আমার পড়াশোনা নিয়ে ভাবতে হবে না। এই সৎ মায়ের অভাবের সংসারে আর বোঝা হয়ে থাকতে হবে না। তারপর আমি বিষয়টা নিয়ে অনেকবার ভাবলাম যে, তুমি যখন তোমার বড় ভাইয়ের এতো ভালো মানুষের সার্টিফিকেট দিচ্ছো, আবার ভালো চাকরি করে, আর বিয়ের পরেও পড়াশোনা করতে দিবে, তখন ঠিক করলাম বিয়ে টা করাই আমার জন্য মঙ্গল হবে। বলতে গেলে সৎ মায়ের অত্যাচার আর অভাবের কারণেই বাধ্য হলাম, বিয়ে করেই এই অভাব শব্দ টা কে ঝেটিয়ে বিদায় করবো। তারপর তো বিয়ের এক মাস পর তোমার বড় ভাই মানে আমার স্বামী অন্তর আমাকে তার ঢাকার বাসায় নিয়ে গেলো, সবকিছু মোটামুটি ঠিক ঠাক চলছিল। এর মধ্যে তুমিও আর তেমন যোগাযোগ করতে না। জানতাম আমাকে ভালোবেসেও আমার মঙ্গলের জন্য তোমার ভালোবাসার মানুষ কে তুমি তোমার বড় ভাইয়ের হাতে তুলে দিয়েছো। আর তোমার কারণে যেন আমাদের সংসারে কোন অশান্তি দেখা না দেয় তাই তুমি আমাদের থেকে একসময় সম্পূর্ণ আড়ালে চলে গেলে। আর আমি হারালাম আমার জীবনের পরম বন্ধু কে। তোমার মত বন্ধু যদি আমার পাশে সবসময়ই থাকতে তাহলে আজ আমাকে তোমার এই অবস্থায় রাস্তায় দেখতে হতো না। এ দায় তোমাকে তো কিছু টা নিতেই হবে।

যাইহোক এবার আসল কথায় আসি, এক বছর পর আমি একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। ভাবলাম, জীবন থেকে তো অভাব দূর করেছি, এবার নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে পড়াশোনা বেশি মনোযোগ দিতে হবে। সুতরাং আমি পড়াশোনায় প্রচুর মনোযোগ দিতে লাগলাম। প্রথম সেমিস্টারে খুব ভালো রেজাল্ট করলাম। তারপর অনেকের কাছে দাম পেতে লাগলাম। ততদিনে বেশ কিছু বন্ধু জুটে গেলো। একটা ছেলে বন্ধুর সাথে বেশ ভালো বন্ধু্ত্ব জমে গেলো। তার সাথে মাঝে মাঝে বাইরে ঘুরতে লাগলাম। ছেলে টা অনেক বড়লোকের ছেলে প্রচুর টাকা পয়সা। নিজের গাড়ি আছে।

একদিন তোমার বড় ভাই মানে অন্তর আমাদের দু’জন কে দেখে ফেলে ঢাকার বাইরে। আসলে আমরা লংড্রাইভে মাঝে মধ্যে যেতাম। অন্য দিনের মত সেদিনও গিয়েছিলাম, আর সেদিনই অন্তর তার অফিসের কাজে সেখানে ছিলো। মানে সেই খানে অন্তরের অফিসের নতুন প্রজেক্ট ছিলো। আমাদের সামনাসামনি দেখা হয়। তখন আমার বন্ধুর সঙ্গে আমি কিছু টা অন্তরঙ্গ ভাবেই ছিলাম। তখন অন্তর আমাকে একটা কথাও বলেনি, এমন কি বেশ কিছুক্ষণ কাছাকাছি থাকার পরও অন্তর আমাকে না চেনার ভান করে এড়িয়ে গেলো।

তারপর বাসায় ফিরতে বেশ রাতই হলো, অনেক ভয়ে ভয়ে বাসায় ফিরলাম। একবার ভাবছিলাম বাসায় আর ফিরবো না, কোন মুখে আমি অন্তরের সামনে গিয়ে দাঁড়াবো। যে মানুষ টা আমাকে এতোটা বিশ্বাস করে, আমার ন্যূনতম অভাব রাখেনি, আমার কোন চাওয়া অপূর্ণ রাখেনি, আমি তাকে দিনের পর দিন ঠকিয়েছি। কি বলবো তাকে? সত্যি বলতে আমার কাছে কোন জবাব ছিলো না। তবুও সাহস করে তার সামনে দাঁড়াবো যা হবার হবে।

তারপর বাসায় ঢুকতেই দেখি দরজাটা খোলা ভিতরে অন্ধকার। আমি পা টিপতে টিপতে ভিতরে প্রবেশ করলাম, একবার ভাবলাম হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে। যাকগে ঘুমালে ভালোই হবে অন্তত এখনকার মত অন্তরের সামনে পরতে হবে না। তারপর কাল যা হবার হবে। হঠাৎ থমকে দাঁড়ালাম। অন্তর বললো, এসেছো তাহলে। আমি ভেবেছিলাম আর ফিরবে না, ঠিক আছে ফিরেছো যখন হাতমুখ ধুয়ে কিছু খেয়ে নাও। নাকি খিদে নেই? অনেক কিছু খেয়ে এসেছো বলে আর খেতে চাও না? পেট টা ভরাই আছে? সে আর কিছুই বললো না। সোজা ঘরে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো। আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছিনা, কাকে দেখছি, সে কি আমার স্বামী নাকি অন্য কেউ ৷ তার বউ অন্যের সাথে সারাদিন কাটিয়ে মধ্যে রাতে ফিরে এসেছে আর সে কিছুই বলছে না, দিব্যি কিছুক্ষণ পর ঘুমিয়ে পড়লো। আমি সারারাত একটুকুও ঘুমাতে পারলাম না, এপাশ ওপাশ করে ভোর হয়ে গেল। শরীরের ক্লান্তিতে একসময় ঘুমিয়ে পড়লাম।

ঘুম থেকে উঠে দেখি সকাল ১১ টা বাজে। হাতমুখ ধুয়ে এসে দেখি টেবিলে নাস্তা সাজানো আছে। বুঝতে পারলাম, অন্তর নাস্তা তৈরি করে রেখে গেছে। এর আগে অনেকবার নাস্তা তৈরি করে রেখে যেত, এমনকি মাঝে মধ্যে সবকিছুই রান্না করত। আর ছুটির দিনে তো সবসময়ই রান্নাতে আমাকে সাহায্য করতো। আমি ইউনিভার্সিটি থেকে এসে দেখতাম অন্তর অফিস থেকে এসে রান্না করে রাখতো। আমি আসলে তবেই আমার সাথে এক সাথে খেত। এমন কোন দিন জানা নাই যে সে আমাকে রেখে একলা খেয়েছে।

আমি নাস্তা খেতে বসলাম ঠিকই কিন্তু নাস্তা আমার গলা দিয়ে আর নামছে না। আমি সারাদিন কিছুই খেতে পারলাম না, রাত হয়ে গেল অনেক, কিন্তু অন্তর বাসায় ফিরলো না। একবার ভাবলাম রাতে বাসায় ফিরে না, এমন তো হয়নি, আবার কোন সমস্যা হয়নি তো? আবার ভাবলাম বাসায় আসেনি ভালোই হয়েছে।

পরের দিন বিকাল গড়িয়ে যাবার পর অন্তর খাবারের প্যাকেট হাতে নিয়ে বাসায় ফিরলো। এসেই বললো তোমার মুখটা এতো শুকনা কেন কিছু খাওনি? খাবার নিয়ে এসেছি। এসো আমার সাথে খাবে, আমারো খুব খিদে পেয়েছে। আমি লক্ষ করে দেখলাম অন্তরের মুখটা সত্যি শুকনো কিছু খায়নি বেচারা। অনেকবার দেখেছি অফিসে ভালো খাবার দিলে সে কখনো খায়নি, সবসময়ই খাবার নিয়ে বাসায় আসতো আমাকে মুখে তুলে খাইয়ে দিতো, তারপর নিজে খেতো। তবে আমি কখনো তাকে মুখে তুলে খাইয়ে দেইনি, আমার কখনো ইচ্ছে হয়নি। কিন্তু আজ আমাকে মুখে তুলে খাইয়ে না দিয়ে নিজেই খেতে শুরু করলো। আমি চুপচাপ বসে আছি। খাব নাকি খাবনা? বুঝতে পারছি না। হঠাৎ অন্তর আমাকে ধাক্কা দিয়ে বললো, খাচ্ছো না কেন? খাও, আরে খাও খাও। জীবনের সবকিছু তো একলা করতে শিখে গেছো, শুধু একটা জিনিস করতে শেখো নি। খাওয়া টা তো সামান্য ব্যাপার, এটাও পারবে। চেষ্টা করো, পারবে। খাও, খাও। আর এটা করতে পারলেই তো তোমার ছুটি, বলেই একটা অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো। যেন আকাশ পাতাল ভেঙে চৌচির হয়ে ভেঙে খানখান হয়ে যাবে। আমি আর নিতে পারছিলাম না। এটা কাকে দেখছি এটা কি অন্তর? নাকি ভয়ংকর হিংস্র দানব। আমি একটা চিৎকার করে মাটিতে পড়ে গেলাম।

 

চলবে……………………………………………………

দুই বীর মুক্তিযোদ্ধার আয়োজনে জাতির পিতার স্মৃতি চারণ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বরণের স্বপরিবারে হত্যায় শোক সন্তপ্ত পরিবারের মাকফেরাত কামনা করে স্মৃতি বিজড়িত আলোচনা সভা আয়োজন করেন মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার দুই মুক্তিযুদ্ধা।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউপি এর বাড়ি ধারা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবু শহিদ আবদুল্লা ও শহরতলীর বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী বিরাজ সেন (তরুণ)।

রোজ সোমবার (৩০ আগষ্ট) বিকেল ৫ ঘটিকায় এই আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করে ১৯৭৫ সালের সেই ইতিহাসের ঐতিহ্যৈর ঐতিহাসিক দিন গুলি স্মৃতি চারণ করেন।

এসময় ঘনিষ্ঠ দুই বন্ধু মুক্তিযোদ্ধারা লিখিত বক্তব্যে বলেন, আসলে বঙ্গবন্ধুর পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ একটি অস্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। যেখানে খুন, গুম, হত্যা, রাহাজানি সহ বিশেষ করে যারা বঙ্গবন্ধু আওয়ামী পরিবারকে খুব ভালবাসতো তাদের উপর নেমে আসে অত্যাচারের বেদনা দায়ক স্মৃতি। খন্দকার মোশতাকের শাসন আমল থেকেই যারা বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ কর্মী ছিল তাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের উপর চালানো হতো অত্যাচার ও নির্যাতন। এমনকি সামাজিকভাবে তাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করতে সাজানো হতো মিথ্যা নাটক। মোস্তাক বাহিনীর পর পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে থেকে আগের রূপে হামলা-মামলা, গুম-খুন চালানো হয় আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত হৃদয় থেকে ভালবাসে তাদের উপর ও বিশেষায়িত করে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের উপর। এরপর স্বৈরাচারী জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের উপর নির্যাতন চলছিল তা যেন আরো তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে। তখন সময়ে জাতীয় পার্টির অনেক গুণ্ডাবাহিনী আমাদের শ্রীমঙ্গলে বঙ্গবন্ধুর নামটি উচ্চারণ করতে দিত না। যখন আমরা শ্রীমঙ্গলে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করি তখন সময়ে অনেকে আমাদের উপর গুলি পর্যন্ত চালায়। পরবর্তীতে তখন তাদের কারনে আমাদেরকে জেলে প্রেরণ করা হয়। এর পরবর্তীতে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠন করা হয়। তখনও আমাকে শ্রীমঙ্গলের আহব্বায়ক করে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

১৯৮৯ সালে বাবরি মসজিদ ইস্যুতে শ্রীমঙ্গলে তখন সাম্প্রদায়িকতার নামে পুরো উপজেলা জুড়ে চলে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর সন্ত্রাসী হামলা ও মন্দির ভাংচুর ঐই সময়ে আমার বাসায় সামনে মিশন রোডের রামকৃষ্ণ মিশন ভাংচুর করতে বাধা হয়ে দাঁড়াই আমি সহ আমার পরিবার । এর ফলে তত্কালীন সময় আমার দোকান কোঠা সহ বাসায় আগুন লাগানো হয়। শহরের অন্যান্য মন্দির ভাংচুর হলেও অক্ষত থাকে রাম কৃষ্ণ মিশন।

সর্বশেষ বলেন, আমি আমার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জন্য আমার শরীরের শেষ বিন্দু পর্যন্ত আমি পাশে ছিলাম, পাশে আছি এবং পাশে থাকবো।

নওগাঁয় ডিবি পুলিশ ক্রেতা সেজে ৭৫ বোতল ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁয় ডিবি পুলিশ ক্রেতা সেজে ৭৫ বোতল ফেন্সিডিল সহ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে সোমবার বিকাল ৪টায় নওগাঁর ধামুইরহাট মঙ্গোলিয়া পূর্বপাড়া গ্রাম থেকে ক্রেতা সেজে কিনতে গিয়ে যুবক কে আটক করা হয়।

আটকৃত যুবক ধামুইরহাট চককালু গ্রামের দেওয়ান মোহাম্মদ মহিউদ্দীনের ছেলে দেওয়ান মোহাম্মদ আবু হুরায়ারা বিপ্লব (২৫)।

নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া বিপিএম এর দিক নির্দেশনায় এস আই মিজানুর রহমান এর নেতৃত্বে এএসএই মেহেদী হাসান সংঙ্গীয় ফোর্স সহ গোপন সংবাদে মঙ্গোলিয়া পূর্বপাড়া গ্রাম থেকে ক্রেতা সেজে কিনতে গিয়ে মাদক ব্যাবসায়িকে আটক করে।

এই বিষয়ে নওগাঁ ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর ইনচার্জ কে এম শামসুদ্দিন বলেন, ৭৫ বোতল ফেন্সিডিল সহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে নওগাঁ ধামইরহাট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলার হয়েছে।