যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বন্যায় নিহত ২১ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য টেনেসিতে ভয়াবহ বন্যায় কমপক্ষে ২১ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত আরও প্রায় ২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। মিডল টেনেসির হামফ্রেস কাউন্টিতে ভয়াবহ বন্যায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ওয়াভারলি শহরের পুলিশ ও অগ্নিনির্বাপণ দফতরের প্রধান গ্রান্ট গিলেস্পি স্থানীয় সময় রবিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘দুর্যোগের কারণে গত কয়েকদিনে আমরা বিপর্যয়কর ক্ষতি ও প্রাণহানির মুখোমুখি হয়েছি।’

হামফ্রেস কাউন্টি ইমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির থেকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, বন্যায় মারা যাওয়া ২১ জনের জনের মধ্যে ২০ জনই প্রাণ হারিয়েছেন ওয়াভারলি শহরে। এ ছাড়া অন্য একজনের মৃত্যু হয়েছে কাউন্টির অন্য আরেকটি স্থানে।

এদিকে, বন্যার কারণে ওই অঞ্চলটিতে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। প্রথমে এই সংখ্যাটি ৪৫ বলে জানানো হয়েছিল।

গিলেস্পি বলছেন, দুর্যোগের কারণে মোবাইল ফোন সেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যার কারণে মানুষ তাদের স্বজনদের হালনাগাদ পরিস্থিতির খোঁজ নিতে পারছিলেন না। ফলে প্রাথমিকভাবে নিখোঁজের সংখ্যাটি একটু বেশি হয়েছিল।

টেনেসি অঙ্গরাজ্যের রাজধানী নাশভিলে আলাদা এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বিল লি জানান, ওয়াভারলি শহরে মানুষের জীবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মানুষের বাড়িঘর ও গাড়ি কার্যত ভেসে গেছে।

পদ্মা সেতুঃ শেষ স্ল্যাব বসার পর পুরো সড়কপথ দৃশ্যমান

ডিবিএন ডেস্কঃ আজ সোমবার (২৩ আগস্ট) সকালের মধ্যে ১০টা ১২মিনিটের দিকে সেতুর ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারে সর্বশেষ রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ শেষ হয়। এতে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতুতে পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল সড়কপথ। সেতুতে রেলপথের স্ল্যাব বাসানোর দুই মাসের মাথায় শেষ হলো সড়কপথের স্ল্যাব বসানোর কাজ। সড়কপথে মোট ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো হয়।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর কাজ আরও একধাপ এগিয়ে গেল। এ ছাড়া পদ্মা সেতুর মাঝখান দিয়ে গ্যাসলাইন বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে শেষ হতে চলছে রেললাইনের কাজও। আগামী বছরের জুনের আগেই সম্পূর্ণ কাজ শেষ করা হবে। এ জন্য এ প্রকল্পে কর্মরত সবাই একযোগে দিনরাত কাজ করে চলেছেন।

প্রকৌশলী সূত্রে জানা যায়, রবিবার পর্যন্ত সেতুর ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে বসানো হয়েছিল ২ হাজার ৯১৪টি। রাত থেকে বাকি তিনটি স্ল্যাব বসানোর কাজ চলছিল। রাতে দুটি ও বাকি থাকা একটি স্ল্যাব সকাল ১০টা ১২ মিনিটে বসানো হয়।

এর আগে, চলতি বছরের ২০ জুন শেষ হয়েছিল দ্বিতল সেতুর রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ।

প্রকৌশলী সূত্রে আরও জানা যায়, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত সেতু প্রকল্পের সার্বিক কাজ এগিয়েছে ৮৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর মূল সেতুর কাজের অগ্রগতি ৯৪ দশমিক ২৫ শতাংশ।

আগামী ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যেই এই সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার কথা রয়েছে।

“মায়া” (পর্ব-২)

কলমে- মোঃ আবু শামা (শ্যামা)

চিরকুটটা পড়ে আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম। মিনু, সে আমার মিনু ছিলো এত কাছে থেকেও তাকে একটাবার চিনতে পারলাম না, কতটা অকৃতজ্ঞ আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারলাম না। আমি যেন ভাবলেশহীন হয়ে সেই অতীতে ফিরে গেলাম। এই আমি একদিন মিনু কে অন্যর হাতে তুলে দিয়েছিলাম। মনে পরে গেলো আমার এক বড় ভাই অন্তর ভাইয়ের কথা, যিনি আমাকে আমার জীবনের দূরদিনে আমার পাশে না দাড়ালে আমার যে কি হতো জানতাম না।

আমি তখন ইন্টারমিডিয়েট পড়ছি, দারিদ্র্যের কারণে লেখাপড়া বন্ধ হবার পালা। তখন অন্তর ভাই ঢাকাতে চাকরি করত। আমি কিছু একটা করার আশায় তার কাছে ঢাকায় গেলাম। তিনি আমাকে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিলেন দুই মাসের মধ্যে আমাকে একটা চাকরি জোগাড় করে দিলেন। তাতে আমার লেখাপড়ার পর কিছু টাকা আমার পরিবারে দিতে পারছিলাম। একদিন তার বাসায় গেলাম, তিনি নিজে রান্না করে খান আমাকে নিজের হাতে রান্না করে খাওয়ালেন।

তার পর খোশগল্পের মাঝে বলে ফেললাম, অন্তর ভাইয়া আপনি বিয়ে করেন না কেন, একাই রান্না করে খান কষ্ট হয় না? তাছাড়া ভালো চাকরি করেন, এবার একটা বিয়ে করেই ফেলেন।

তিনি মৃদু হেসে বললেন, আমাকে এই বুড়ো বয়সে কে বিয়ে করবে রে পাগলা। অন্তর ভাই বরাবরই মৃদু ভাষি মানুষ, খুব সহজ সরল, এতটুকুও অহংকার নেই। এবং খুব মিশুক মানুষ সবার সাথেই সরল মনে মিশে যায়, তাতে অনেক সময় ঠকেও যান তবুও অনেক মানুষ কে উপকার করে, যেমন আমাকে উপকার করেছে, এখনো করছেন।

আমি মজার ছলে মিনুর ছবিটা অন্তর ভাইকে দেখিয়ে বললাম এই মেয়েটা কেমন লাগে বলুন তো, অন্তর ভাই ছবিটা দেখে বললেন, হাঁ দেখতে তো ভালোই। আমি বললাম বলেন কি শুধু ভালোই বললেন যে, আপনি বুঝেনই না, এত সুন্দরী একটা মেয়ে কে আপনি বলছেন শুধু ভালোই, আপনার রুচিই নাই, এ জন্যই তো বুড়ো হয়ে গেলেন একটা বউ যোগাড় করতে পারলেন না।

হঠাৎ মুখ ফসকে কথা টা বলে নিজেই খুব লজ্জা পেলাম। অন্তর ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি তার মুখ টা ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। বুঝতে পারলাম খুব কষ্ট পেয়েছে। বুকের মধ্যে চাপা কষ্ট নিয়ে শুধু বললেন, মেয়ে টা সুন্দরী হলেই কি আর না হলেই আমার কি আসে যায়, রে পাগলা।

আমি বললাম কি আসে যায় মানে এই মেয়ের সাথে আপনার বিয়ে দেব, মেয়ে টা আমার খুব কাছের বান্ধবী, খুব ভালো মেয়ে আর খুব ভালো ছাত্রী, তবে খুব দুঃখী মেয়ে তার মা মারা গেছে, সৎ মায়ের সংসারে খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করছে, বাবা খুব গরীব। আপনি বিয়ে করলে মেয়ে টা বেচে যাবে। আপনার সাথে খুব মানাবে, আপনি শুধু পড়াশোনা করাবেন, তাতেই সে খুব ভালো থাকবে।

গরীবের মেয়ে শুনে অন্তর ভাই আমাকে দিকে তাকিয়ে বললেন, বলিস কি আমার মত গরীব ঘরের মানুষ?

আমি বললাম, বলেন কি আপনি গরীব হবেন কেন, আপনার মত এত বড় মনের মানুষ আর এ জগতে একটাও আছে নাকি। অন্তর ভাই তখন আমাকে তার জীবনের কষ্টের কথা গুলো বলেছিলেন, কত কষ্ট করে লেখাপড়া করেছেন। তিনিও গরীব ঘরের সন্তান। তার কষ্টের কথা শুনে আমার চোখে পানি চলে এলো,তারপর আমি আমার মোবাইলে মিনুর ছবিটা দেখতে দিয়ে বললাম ছিবিটা ভালো করে দেখেন, আমি ওয়াশরুম থেকে আসি। আমি ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে এসে দেখি অন্তর ভাই মিনুর ছবিটার ঠিক কপালটায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন, আর অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন মিনুর ঠিক কপালটার দিকে, আমি অবাক হয়ে দূশ্যটা দেখছিলাম।

হঠাৎ আমার মনে হলো হায় রে ” আজ বুঝি নিজের হাতে নিজের পায়ে কুঠার টা মারলাম ।”

আমি অন্তর ভাইয়ের পাশে এসে বসলাম, তখনও অন্তর ভাই মিনুর ছবির কপালটার দিকে তাকিয়ে আছেন।

আমি বললাম, অন্তর ভাই এখন বলেন আমার বান্ধবী কেমন সুন্দরী। অন্তর ভাই শুধু মৃদু হেসে বললেন, মেয়েটার কপালে খুব মায়া রে, আর এই মায়া তাকে নিয়ে গেলো অনেক দূর।

আমি বললাম, এখন বলেন আমার বান্ধবী কে কি বিয়ে করবেন? আবারো মৃদু হেসে বললেন, তাই কি হয়, এমন সুন্দরী মেয়ে আমার মত টাক পড়া কুৎসিত মানুষকে বিয়ে করতে রাজি হবে। আমি বললাম এসব আমার উপর ছেড়ে দেন, যা করার সব আমি করবো। আপনি শুধু হাঁ বলেন। অন্তর ভাই বললেন, ঠিক আছে কথা বলে দেখ, আবার সেই বুকে চাপা কষ্ট নিয়ে কথা বললেন, আমার বুঝতে এতটুকুও অসুবিধে হলো না।

আমি চঠ করে বলে উঠলাম, ঠিক আছে আগামী ২৬ শে মার্চের ছুটির সময় আপনি আমার সাথে আমার বান্ধবী কে দেখতে যাবেন, আমি সব ঠিক করছি। অন্তর ভাই বললেন ঠিক আছে, দেখি তুই কি করতে পারিস।

যে কথা সেই কাজ, ঠিক ২৬ শে মার্চ তারিখে আমি অন্তর ভাই কে নিয়ে মিনুদের বাড়িতে গিয়ে হাজির, যদিও সবকিছু মিনুর পরিবার কে জানানো হয়েছিলো, তো আমরা মিনুদের বাড়িতে যাবার পর তাদের সামর্থ্যের যথাযথ আপ্যায়ন করা হলো।

সেখানে কিছু মুরুব্বি ছিলেন অন্তর ভাই কে জিগ্যেস করলেন তোমার কি মেয়ে পছন্দ হয়েছে? অন্তর ভাই অকপটে বলে দিলেন, ” পছন্দ করেই তো এসেছি।”

সবাই উত্তর শুনে অবাক, অন্তর ভাই বলেন দেখুন ছবিতে দেখেছিলাম, তখন ই বড্ড মায়া লেগেছিল, সুতরাং অপছন্দ হবার কোন কারণ নাই। পছন্দ হয়েছে বলেই ঢাকা থেকে ছুটে এসেছি।তারপর অনেক কথা পর অন্তর ভাই বললেন দেখুন আমার বাবা নেই আপনারা চাইলে আমার গরীব ঘরে আপনারা আসতে পারেন।

তারপর আমি সহ মিনু বাবা আর চাচা অন্তর ভাই দের বাড়িতে গেলাম। সেসময় যৌতুকের টাকা নিয়ে কথা উঠলো, অন্তর ভাই স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন একপয়সাও যৌতুকের দাবি নেই। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করে দিবেন। সেই দিন ই দুই পরিবার থেকে ঠিক করলো, আগামীকালই বিয়ে, কারণ যেহেতু ছেলে ঢাকায় কোম্পানির চাকরি করে, তাই সময় পায়না তাই কালই বিয়ে, ২৭ শে মার্চ বিয়ে হয়ে গেলো।

মিনুর বিয়ের পর আমি ইচ্ছে করেই তাদের সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দিলাম। তাছাড়া আমার চাকরি পড়াশোনা নিয়ে খুব ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। মাঝে মধ্যে খবর পেতাম তারা বেশ ভালো ভাবেই আছে, সুখে শান্তিতে বসবাস করছে। কিন্তু অনেক গুলো প্রশ্ন আমাকে পিড়া দিতে লাগলো, মিনু কেন গভীর রাতে রাস্তায়, কি করছিলো, একটা নারী কন্ঠে তাকে সখি ডেকে কেন আজেবাজে কথা বলছিলো, তবে কি মিনু গভীর রাতে রাস্তায় থাকে, ছি ছি, কি ভাবছি,নাহ এ হতেই পারে না। নিজেকে আর ক্ষমা করতে পারছিলাম না, মিনু কে এত কাছে পেয়েও চিনতে পারলাম, অথচ আমার এই বিপদে নিরবে এত বড় উপকার করে গেলো। আর আমি মিনু কেন গভীর রাতে রাস্তায় কি ছিল, জানতে পারলাম না, মিনুরও কি কোন বিপদ ছিলো, আর ভাবতে পারছিনা না, হতাশায় দেয়ালে মাথা ঠুকতে লাগলাম।

হঠাৎ আমার ছোটবোন এসে বলছে ভাইয়া আপনি এ কি করছেন, পাগল হলেন নাকি? তাড়াতাড়ি আসুন আপুর জ্ঞান ফিরেছে,  আপনাকে দেখতে চাইছে।

আমি আমার স্ত্রী কাছে গেলাম, মা মেয়ে সুস্থ আছে দেখে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলাম। তারপর সারাদিন হাসপাতালে ব্যস্ত ছিলাম। তারপর রাত নেমে এলো, তখন মিনুর কথা খুব মনে পড়ে গেলো, তখন ঠিক করলাম, মিনু কে খুজে বের করা দরকার। কিন্তু কোথায় তাকে খুঁজবো, অবশেষে ভাবলাম গতরাতে যেখানে তাকে পেয়েছিলাম সেখানে খুঁজবো, কোন না কোন ভাবে তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে।

রাত ১২ টার পর শান্তিনগর ফ্লাইওভারের আশেপাশে তাকে খুঁজতে লাগলাম, কোথাও তার দেখা নাই, প্রচন্ড হতাশা আমাকে ঘিরে ধরলো। রাত প্রায় দেড়টা, ভাবলাম এভাবে কি আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়, বরং হাসপাতালে ফিরে যাই। হঠাৎ একটা নারী কন্ঠে ভেসে এলো, মামা লাগবে নাকি, যা দিবেন খুশি মনে তাই চলবে।

আমি ভাবলাম মিনু নয়তো? তার কাছে ছুটে গেলাম। নারী কন্ঠেস্বর আমাকে বলে উঠলো কি মামা লাগবে। আমি বললাম, না ঠিক সেটা নয়, গতকাল রাতে একটা মেয়ে ছিলো এখানে নাম মিনু সে কি আজ এসেছে?

মেয়েটি বলবো মিনু টা আবার কে? আমি বললাম, গতকাল রাতে আমাকে রিক্সা করে এখন থেকে আমাকে নিয়ে গিয়েছিলো। মেয়ে টি বললো, আপনি সেই নাগর, কাল কি খুব আনন্দ দিয়েছে আমার সখি যে, আজও এসেছেন?

আমি বললাম আমাকে ক্ষমা করুন, আর দয়া করে অন্য কিছু ভাববেন না, আমার খুব বিপদ ছিলো, আপনি কি তার কোন খোঁজ দিতে পারবেন?

মেয়ে টি আমার কথায় সদয় হলো। কি বিপদ বলুন তো। আমি বললাম, আমরা একটু বসে কথা বলতে পারি, আমি খুব ক্লান্ত। মেয়েটি পাশে একটি টং দোকানে নিয়ে গেলো, আমরা বসে পরলাম। আমার দিকে চা কাপ এগিয়ে দিয়ে বললেন,এবার বলুন আপনার বিপদ টা কি? আমি মেয়ে টিকে সমস্ত ঘটনা খুলে বললাম। মেয়েটি আমার সব কথা বিশ্বাস করলো, সখি কে আমার আগে থেকেই সন্দেহ হয়েছিল, আমি বললাম, মিনু কে কোথায় পাবো? তার ঠিকানা আমাকে দয়া করে দিবেন, সবই তো শুনলেন, তাকে আমার কতো দরকার।

মেয়ে টি বললো, আমি সখির ঠিকানা জানি না, কতবার যে তাকে জিজ্ঞেস করেছি বলেনি, তবে তাকে একদিন একটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সামনে দেখেছিলাম, তার বাচ্চার সাথে ছিলো, সেই স্কুলে তার বাচ্চা পড়ে, আমাকে হাত জোর করে বলেছিলো বোন, কাউকে বলিও না। আমি খারাপ মানুষ, তাই আমি কাউকে কিছু বলিনি ৷ কারণ আমারও সন্তান আছে, আমরা পেটের দায়ে পাপের পথে পা বাড়িয়েছি, আমিও চাই না আমার সন্তানও কারো কাছে ছোট হোক।

আমি বললাম, তার ফোন নম্বর টা আমাকে দিন। সে বললো, সখি আমাকে তার ফোন নম্বর টাও দেয়নি, সত্যি বলতে এই লাইনে কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না। তাছাড়া সখি এই লাইনে বেশি দিন হলো আসেনি। আমি বললাম তার নাম কি সখি বললে কেউ চিনবে, মেয়ে টি বললো, না চিনবে না, আসলে এই লাইনে আমরা একে অপর কে সখি বলেই ডাকি, সবাই সবার সখি, বলেই অট্টহাসিতে হাসতে লাগলো।

আমি মেয়ে টি কে বললাম, আমি তাহলে তাকে কোথায় খুজে পাব? মেয়েটি বললো, চিন্তা করবেন না, আপনার ফোন নম্বর দিয়ে যান, তাকে পেলেই আপনাকে ফোন করে জানাবো।

আমি বললাম কাল একবার এখানে আমি আসবো আপনি থাকবেন। মেয়ে টি বললো খবরদার এখানে আপনি কখনোই আসবেন না। আপনি ভালো মানুষ বিপদে পড়ে এসময় এখানে এসেছিলেন, আর আসবেন না, আপনার উচিৎ আপনার স্ত্রী সন্তানের পাশে থাকা। আমি কথা দিচ্ছি,সখির কে পেলেই আপনাকে জানাবো,আপনি তাড়াতাড়ি এখান থেকে চলে যান।

তারপর আমি রাজ্যের হতাশা নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছাতেই ভোর হয়ে গেলো।

চলবে……………………………………………………

নবীনগর থানা পুলিশের শাসরুদ্ধকর অভিযানে অপহরণ হওয়া ভিকটিম উদ্ধার, গ্রেফতার-১

মো. নাছির উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের ভাতুরিয়া গ্রামের অপহরণ হওয়া ভিকটিম আলাল মিয়া (৫০),কে নবীনগর থানা পুলিশের শাসরুদ্ধকর অভিযানে অপহরণের ২০ ঘন্টা পার হওয়ার আগেই উদ্ধার করে, অপহরণকারী কে গ্রেফতার করে নবীনগর থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত আসামী হচ্ছে উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের ভাতুরিয়া গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান মো.দুলাল মিয়ার ছেলে  মো.হাছান মাহমুদ(২৬),।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২১ শে আগষ্ট) রাত অনুমান তিনটার দিকে ভাতুরিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর জব্বার মিয়ার ছেলে আলাল মিয়া অপহরণ হয়। নবীনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত)মো.নূরে আলমের নেতৃত্বে সংগীয় ফোর্সের সহায়তা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর পূর্ব ভাটারা এলাকা হইতে ভিকটিমকে উদ্ধার সহ মূল অপহরণকারী মো.হাছান মাহমুদ গ্রেফতার করেন।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)আমিনুর রশিদ সাংবাদিকদের জানান,এই বিষয়ে ভিকটিমের স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার (৩৮)বাদী হয়ে নবীনগর থানায় এজাহার দায়ের করলে নিয়মিত মামলা রুজু করে রবিবার(২২ শে আগষ্ট)উপরোক্ত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ফুলবাড়ীতে গলায় ফাঁস দিয়ে মানসিক রোগীর আত্মহত্যা

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ঘরের আড়ার সাথে গলায় রশি পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে মানসিক রোগী আত্মহত্যা করেছেন। রবিবার রাতে উপজেলার পুর্ব ধনিরাম গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম নুর আমিন (২৫)। তিনি ওই গ্রামের আদম আলীর ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান,  নুর আমিন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে ভুগছেন। রবিবার রাতের খাওয়া শেষে তিনি তার ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন। সোমবার সকালে অনেক ডাকা ডাকির পরও দরজা না খোলায় বাড়ির লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে দরজা ভেঙ্গে ঘরের আড়ার সাথে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তারা। পরে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
ফুলবাড়ী থানার এসআই রাহাত জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। মরদেহে কোন আঘাতের চিহ্ন না থাকায় এবং পরিবারের অভিযোগ না থাকায় দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

রাণীশংকৈলে দিন-দুপুরে স্বর্নালংকার ও নগদ অর্থ চুরি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার মীরডাঙ্গী এলাকায় গত ২২ আগস্ট রবিবার এক শিক্ষকের বাড়ির দেওয়াল টপকে দিন-দুপুরে স্বার্নালংকার ও নগদ টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার দিন দুপুরে উপজেলার মীরডাঙ্গী বাজার ও মহাসড়ক সংলগ্ন বনগাঁও দাখিল মাদ্রসার শিক্ষক ইব্রাহিম আলীর বাড়ির প্রাচীর টপকে এই চুরির ঘটনা ঘটে।

এদিন দুপুর সাড়ে ১২ থেকে প্রায় ঘন্টা খানেক ধরে বৃষ্টি হচ্ছিল। শিক্ষক ইব্রাহীম, তার স্ত্রী ও ছেলে বিভিন্ন কাজে বাড়ি বাইরে ছিল। এই সুযোগে চোর প্রাচীর টপকে বাসার ভিতরে ডুকে সাবল দিয়ে বারান্দার তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। ঘরের ভিতর আলমারি ভেঙ্গে দুই ভরি স্বার্নালংকারসহ নগদ ৫২ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায় চোর। এ সময় চোরেরা চুরি করার ব্যবহৃত সাবল ও গেটের তালা, ঘরের আসবাব পত্র ও বিভিন্ন ড্রয়ার এলোমেলো করে রেখে যায়।

বাড়ির মালিক শিক্ষক ইব্রাহিম কাজী জানান, বাসায় কেউ ছিলেনা। আমার স্ত্রী চাকরির কাজে বাহিরে গেছিলেন। আমি জমিতে হাল চাষের জন্য মাঠে ছিলাম। ছোট ছেলে সাদ তার পরীক্ষার এসাইনমেন্ট জমা দিতে কলেজে গিয়েছিল। বাসায় কেউ না থাকায় এসুযোগে দুপুরে চোরেরা আমার বাড়িতে এমন চুরির ঘটনা ঘটায়।

খবর পেয়ে রাণীশংকৈল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এবং এই ঘটনায় প্রকৃত জড়িতদের দ্রুততা  ধরতে থানা পুলিশকে বলেন।

থানা পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল লতিফ সেখ দিনদুপুরে সংঘটিত হওয়া চুরির বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন ঘটনাস্থলে আমাদের পুলিশ সদস্যরা পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আমরা দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

চা শ্রমিকদের দাবী আদায়ের লক্ষ্যে মানববন্ধন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল চায়ের রাজধানী খ্যাত পরিচিত দেশ জুড়ে কিন্তু চা শ্রমিকরা অবহেলিত। বাংলাদেশীয় চা সংসদ ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কতৃক সম্পাদিত শ্রম চুক্তি মোতাবেক চা বাগানের চা শ্রমিকদের মৌলিক নায্য দাবী অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ভুড়ভুড়িয়া চা বাগানে মানববন্ধন কর্মসূচি করা হয়। রবিবার (২২আগষ্ট) ভুড়ভুড়িয়া চা বাগান হাসপাতাল সংলগ্ন চা বাগানের অস্থায়ী চা শ্রমিক ও স্থায়ী শ্রমিকদেরকে নিয়ে সকাল ০৯ঘটিকায় চা শ্রমিকদের নায্য দাবী আদায়ের লক্ষ্য এক মানববন্ধন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, চা শ্রমিকদের নায্য দাবী আদায়ের পক্ষে বক্তব্য রাখেন আকাশ দোষাদ,আরো উপস্থিত ছিলেন,কাশিনাথ মৃর্ধা,রাজু রিকিয়াশন,প্রদীপ রিকিয়াশন,বিমল ভর,সাধন শুক্লবৈদ্য,গৌতম রবিদাস,মানিক রবিদাস,জিতনী মৃর্ধা,আরতী দোষাদ,দিপালী নায়েক,সৌরভী মৃর্ধা, চা শ্রমিক!সহ প্রমুখ।
এসময় আকাশ দোষাদ বলেন,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আামাদের চা শ্রমিকদের ও দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে,আমাদের বর্তমান সরকার চা শ্রমিকদের প্রতি খুবই আন্তরিক যার ফলে চা শ্রমিকদের উন্নতি করতে পেরেছে বর্তমানে চা শ্রমিকদের অভিভাবক হিসেবে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাংলাদেশীয় চা সংসদের (২০১৯-২০২০) অর্থ বছরের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদিত হয় যে চুক্তির মাঝে লিপিবদ্ধ আছে অস্থায়ী শ্রমিকদের স্থায়ী শ্রমিদের মতো একই মজুরি দিতে হবে।মহামারি করোনা কালিন সময়ে আমরা যারা চা শ্রমিক আমাদের জীবনবাজি রেখে চা শিল্প কে টিকিয়ে রেখেছি, সকল চা শ্রমিকদের নায্য দাবী আদায়ের লক্ষ্যে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।

বাঞ্ছারামপুরে চির নিদ্রায় শায়িত আওয়ামীলীগের নিবেদিত কর্মী মো.ফজলুল হক ভূঁইয়া

মো.নাছির উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া,প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর  চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সন্মানিত সদস্য ও বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দরবার শরীফের বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সভাপতি, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী,সমাজসেবক রাজনীতিবিদ,বাঞ্ছারামপুর (বটতলী) গ্রামের মো.ফজলুল হক ভূঁইয়া।
তিনি গত শনিবার উপজেলার ফতেপুর গ্রামে অটোগাড়ীর সাথে সংঘর্ষে মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হলে দ্রুত ঢাকার একটি বেসরকারি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং চিকিৎসাধীন অবস্হায় আজ রবিবার সকাল ১০টায় তিনি ইন্তেকাল করেন ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৫ বছর।
মরহুমের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়,বাঞ্ছারামপুর ফায়ার সার্ভিস মাঠ সংলগ্ন। জানাযা শেষে কান্দা পাড়া পারিবারিক কবর স্থানে  তাঁকে দাফন করা হয়। জানাযায়  মরহুমের কর্মময় জীবনের উপর আলোচনায়  বক্তারা বলেন,তিনি আওয়ামীলীগের একজন নিবেদিত কর্মী ছিলেন।তিনি ছিলেন  ন্যায় বিচারক, সমাজসেবক, সফল রাজনীতিবিদ।
জানাযায় মরহুমের পক্ষ থেকে কমিশনার নুরুল ইসলাম সবার নিকট ক্ষমা ও দোয়া প্রার্থনা করেন।
জানাযায় ইমামতি করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ওলামা ফ্রন্ট সভাপতি আলহাজ্ব হযরত মাওলানা আমিনুল ইসলাম চৌধুরী,খাদেম বিশ্ব জাকের মঞ্জিল।
জানাযায় অন্যান্যের মধ্যে  উপস্থিত ছিলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দুধ মিয়া মাষ্টার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জাকের পার্টির সভাপতি মো. সেলিম মিয়া ,উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম বকুল ভূঁইয়া, পৌর মেয়র তফাজ্জল হোসেন,সাবেক মেয়র খলিলুর রহমান টিপু মোল্লা,উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো.কবির হোসেন,হোমনা উপজেলার বি এনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মো. আজিজুর রহমান মোল্লা ও বিভিন্ন রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ কয়েক হাজার মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে মরহুম মো.ফজলুল হক ভূঁইয়ার  মৃত্যুতে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম(অব.) এমপি গভীর ভাবে শোকাহত। তিনি  জরুরি সংসদে কাজ থাকায়, আসতে পারেনি।
এ ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বাঞ্ছারামপুর ও হোমনা উপজেলার আওয়ামীলীগের বিভিন্ন  সংগঠন ও বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দরবার শরীফের ভক্তবৃন্দরা শোকপ্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
তিনি মৃত্যুকালে গর্ভধারিণী মা, স্ত্রী,৭ মেয়ে, লাকী আক্তার ,লাভলি আক্তার,বাবলি আক্তার,শিবলী আক্তার,বিজলী আক্তার,সুমি আক্তার,উরমী আক্তারসহ, অসংখ্য গুনাগ্রাহী রেখে গেছেন। ৫ মেয়ে বিবাহিত, ছোট ২ মেয়ে সুমি আক্তার ও উর্মী আক্তার অবিবাহিত।

মৌলভীবাজারে তৃতীয় লিঙ্গের মাদ্রাসা উদ্বোধন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে ‘দাওয়াতুল কুরআন তৃতীয় লিঙ্গের মাদ্রাসা’ নামে তৃতীয় লিঙ্গের অবহেলিত মানুষদের জন্য মাদ্রাসার উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় মৌলভীবাজার শহরের দীনকুঠির মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় এটি স্থাপন করে মরহুম আহমদ ফেরদৌস বারী চৌধুরী ফাউন্ডেশন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শ্রীমঙ্গল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সোয়েব আহমদ, ব্যবসায়ী সজল ঘোষ ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তৃতীয় লিঙ্গের কেন্দ্রীয় নেতা খালেক বিশ্বাস বলেন, ‘শ্রীমঙ্গল উপজেলায় প্রায় ১২০ জন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ রয়েছেন। এদের মধ্যে ৫৫ জনের মতো মুসলমান। মুসলিম সম্প্রদায়ের এ তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের ইসলাম শিক্ষায় শিক্ষিত করতে তারা এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।
মাদ্রাসায় প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে ক্লাস হবে। শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত হয়েছেন মুফতি মারুফ আব্দুল্লাহ ও মুফতি আব্দুল্লাহ অরফে লালবাহাদুর।
তিনি আরও জানান, শুরুতে ২০ জন তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। তারা ক্রমশ সবাইকে এ শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ  কার্যক্রমে সকলকে সম্পৃক্ত করবেন বলে জানান।

বাঞ্ছারামপুরের উজানচর পাগলা কুকুরের কামড়ে গ্রামবাসী অতিষ্ঠ, আহত হয়েছেন ১১ জন

মো.নাছির উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর গত শনিবার ও  রবিবার ২দিনে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে একটি পাগলা কুকুর ১১ জন মানুষসহ জালালের ১টি গরু কামড়ায় ও ১টি বিড়ালকে কামড়িয়ে মেরে ফেলেছে, কুকুরের ভয়ে গ্রামবাসী অতিষ্ঠ। হাতে লাঠি নিয়ে ঘর থেকে বের হয়।
আহতরা হলেন- স্বপনের মেয়ে আরিফা (৫)সফিকের ছেলে ফয়সাল(৪) ,রেজেক মিয়া,সিপনের ছেলে (৮) রামপ্রসাদের মেয়ে,খালেকের মেয়ে,রুপসীর ছেলে, কাশেম আলী, আলেয়া বেগম,করিমের স্ত্রী, লালনসহ প্রমুখ।
আহতদের উজানচর প্রাইভেট ক্লিনিক জয় দয়াময় ফার্মেসি ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৪ জন গুরুতর, ফয়সালের  অবস্হা আশংকাজনক তাকে ঢাকা মহাখালী হাসপাতালে নিয়ে ১৫টা ইনজেকশন দিয়ে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করা হয়েছে তার মাথায় বড় ধরনের সমস্যা হয়েছে,সে গরীব মানুষ খুব অসহায়।
এ বিষয়ে জয় দয়াময় ফার্মেসির নিতাই চন্দ্র সাহা বলেন, আমি ৩ জনের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি,বাকীজনরা কোথায় চিকিৎসা নিয়েছেন আমি জানিনা।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কমকর্তা ডা. রঞ্জন বর্মণকে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কুকুরের কামড়ের বিষয় আমার জানা নেই, আমি জেনে আপনাকে জানাবো।