মুরাদনগরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ১৮ মামলার আসামীসহ গ্রেফতার ৩

মোঃ খোরশেদ আলম,মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পাশের তিতাস থানার তালিকাভূক্ত অস্ত্র, ডাকাতি ও অপহরণসহ ১৮টি মামলার আসামী মেহেদী মামুন ওরফে ডাকাত মামুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তার সাথে থাকা ৫টি মামলার আসামী রকিবুল ওরফে বুলেট ও সহযোগি রিপন হোসেনকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়।

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের সুবিলারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, জেলার তিতাস উপজেলার বড় মাছিমপুর গ্রামের আব্দুল মতিন ভান্ডারীর ছেলে মেহেদী মামুন ওরফে ডাকাত মামুন (৩৫), একই গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে সহযোগি রিপন হোসেন (৩০) ও নারান্দিয়া গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে রকিবুল ওরফে বুলেট (২২)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত রাস্তা অবরোধ করে ও উপজেলার জাহাপুর, ছালিয়াকান্দি ইউনিয়ন এলাকায় ডাকাতি করে আসছিল। মঙ্গলবার রাতে সুবিলারচর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতি চলছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুরাদনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোসাদ্দেক হোসেনের নেতৃত্বে এসআই মোর্শেদ আলম, হামিদুল ইসলামসহ একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩টি রামদা ও ৩টি ছোড়াসহ তাদেরকে গ্রেফতার করে।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাদেকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা বিভিন্ন জেলা থেকে চিহ্নিত ডাকাত দলের সদস্যদের নিয়ে এ এলাকায় ডাকাতি করে আসছিল। অবশেষে তারা পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর ফেসবুকে পোস্ট করেও অভিযুক্ত ব্যাক্তি বহাল তবিয়তে…

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ একটি ছবিতে  আপত্তিকর মন্তব্য দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়ার ৫ মাস অতিবাহিত হলেও বহাল তবিয়তেই আছেন মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে উক্ত ঘটনায় আলোচিত আবু জার মো. বাবলা নামে এক ব্যাক্তি। এতে প্রচন্ড ক্ষুদ্ধ আওয়ামী পরিবার থেকে শুরু করে মুক্তিযোদ্ধা ,যুবলীগ ,স্বেচ্ছাসেবকলীগ এবং ছাত্রলীগের হাজার হাজার কর্মী। দলের প্রধান এবং দেশের একাধিকবারের সফল প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন অপমানজনক মন্তব্য মেনে নিতে পারেনি কেউ।

এদিকে এমন বড় একটি ঘটনা ঘটানোর পরও তাকে আটক না করে বরং প্রশাসনের নীরবতা অবাক করেছে আওয়ামী পরিবারের লোকজনদের । কেউ কেউ বলছেন বিরোধী দলের সাথে সম্পৃক্ত থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে এমন নোংরা প্রচার করার সাহস যদি এখনই দেখাতে পারে তাহলে ভবিষ্যতে তাদের সমর্থিত রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসলে তারা কি করবে এমন প্রশ্নও রেখেছেন অনেকেই ।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গত (১৬ মার্চ) মার্চ রোববার বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ছবি ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য দিয়ে পোস্ট ‘করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন । এতে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী সহ স্থানীয় সুশীল সমাজ ক্ষিপ্ত হন। আপত্তিকর’ মন্তব্য যুক্ত করে পোস্ট করার অপরাধে শ্রীমঙ্গল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক ইসমাইল মাহমুদ ফেসবুকে তার নিজস্ব টাইমলাইনে ঘোষণা দিয়ে এমন রাষ্ট্রদ্রোহী কাজের জন্য তাকে তাৎক্ষণিক সংগঠনের সহ-সভাপতির পদ থেকে বহিস্কার করেন। বহিস্কৃত এই ব্যাক্তির নাম আবু জার মো. বাবলা । তিনি একটি সিকিউরিটি কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছেন পাশাপাশি একটি পত্রিকার শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের কয়েকদিন আগে তিনি পরিকল্পিতভাবে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি যৌথ ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করার চেষ্টা করেছেন বলে মনে করেন আওয়ামীলীগের অনেক নেতাকর্মী।

আবু জার মো. বাবলা

গত (১৬ মার্চ) রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আবুজার বাবলা তার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবিটি পোস্ট করেন। ছবিটির সঙ্গে তিনি একটি মন্তব্য জুড়ে দেন, যে মন্তব্যকে ‘আপত্তিকর’ বলে অভিহিত করেছেন অনেকেই। আবুজার বাবলার টাইমলাইনের এই পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী পরিবার ছাড়াও  সচেতন মহলে এ নিয়ে সমালোচনার ব্যাপক ঝড় ওঠে ।

এদিকে দুই দেশের দুই প্রভাবশালী প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আবু জার বাবলার এমন জঘন্য কটূক্তির জন্য তাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির জোর দাবী জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজু দেব রিটন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এ এফ এম হিমেল ,কদর আলী,কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি শেখ সুজাত।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রাজু দেব রিটন ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করে বলেন,আবু জার বাবলা নামের এ ব্যাক্তি আমাদের বাতিঘর, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একই সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে কটূক্তি করে পোস্ট করার পরও প্রশাসন কেন কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় আমরা আওয়ামী পরিবার অন্তরে প্রচন্ড আঘাত পেয়েছি ।

রাজু বলেন তার খুঁটির জোর কোথায় ?তাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে এমন নিন্দনীয় কাজের সঠিক বিচার করা হোক।যাতে করে ভবিষ্যতে অন্য কেউ এমন জঘন্য কাজ করার সাহস না পায় ।

এদিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এ এফ এম হিমেল তার এহেন কাজের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাকে অনতিবিলম্বে গ্রেফতারের দাবী জানান।

হিমেল বলেন, ঠিক যে মুহূর্তে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফরে এসেছেন তার ঠিক কয়েকদিন আগে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে দেশে একটি অরাজগতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দুই দেশের দুই প্রভাবশালী প্রধানমন্ত্রীর যৌথ একটি ছবি কটূক্তি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছেন এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায়না। এর তীব্র নিন্দা জানান স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা। স্থানীয় রাজনীতিবিদদের কয়েকজন বলেন, নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে ঘিরেই এ ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। আবুজার বাবলার ফেসবুক পোস্ট তারই অংশ।

শ্রীমঙ্গল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও শ্রীমঙ্গল প্রেস ক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক ইসমাইল মাহমুদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়টি নিয়ে ঘোষণা দেন।

তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন , আবুজার বাবলার ফেসবুক পোস্টটি নিয়ে গত (১৭ মার্চ) বুধবার বিকেলে শ্রীমঙ্গল রিপোর্টার্স ইউনিটির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সাংবাদিকতার নীতি বিবর্জিত কর্মকাণ্ডের জন্য আবুজার বাবলাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন,সংগঠনে তার সহ-সভাপতি পদ থেকে শুরু তার সাধারণ সদস্যপদও কেড়ে নেওয়া হয়।

এদিকে, এ ঘটনার পর শ্রীমঙ্গল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন সোহেল জানিয়েছিলেন, প্রেস ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেউ সমাজ কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কিংবা রাষ্ট্রের গুরুত্তপূর্ণ কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে অপপ্রচার চালালে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার সদস্যপদ এমনিতেই বাতিল হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা দেখার অপেক্ষায় সাধারণ মানুষ।

হেফাজতের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী আর নেই

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ হেফাজতে ইসলামের আমির ও হাটহাজারী মাদরাসার পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী আর নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহির রাজীউন। আল্লামা বাবুনগরীর জানাজার নামাজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় হাটহাজারী মাদরাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। পরে ফটিকছড়ির বাবুনগর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে বাবুনগরীর দাফন করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর সিএসসিআর নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, জুনায়েদ বাবুনগরী দীর্ঘদিন ডায়াবেটিকসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম নগরের বেসরকারি হাসপাতাল সিএসসিআরে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাটহাজারী মাদরাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মাওলানা ইয়াহিয়া বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে বাবুনগরী মারা যান। তার মরদেহ হাসপাতাল থেকে মাদরাসায় আনা হবে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগরে তার মরদেহ দাফন করা হবে।

উল্লেখ্য, গেল ৭ জুন মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীকে আমির ও মাওলানা নুরুল ইসলামকে মহাসচিব করে ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। জুনায়েদ বাবুনগরী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষা পরিচালক ছিলেন। গেল বছরের ১৫ নভেম্বর তিনি হেফাজতের আমির নির্বাচিত হন। এর আগে ২০১৩ সালে হেফাজত প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে তিনি মহাসচিব ছিলেন।

 

ঠাকুরগাঁও জেলায় পর পর দু’বার শ্রেষ্ঠ কৃষক নির্বাচিত হলেন পয়গাম আলী

হুমায়ুন  কবির, রাণীশংকৈল, (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার পয়গাম আলী মাস্টার এসএমই কৃষক হিসাবে জেলার শ্রেষ্ঠ কৃষক নির্বাচিত হয়েছেন। সে  রাণীশংকৈল উপজেলার বনগাঁও গ্রামের মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে এবং রাণীশংকৈল বিএম কলেজ ভোকেশনাল শাখার বিএসসি শিক্ষক। গত ১৭ আগস্ট মঙ্গলবার রাণীশংকৈল কৃষি অফিস কর্তৃক তাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।
এর আগে গত সোমবার (১৬ আগষ্ট ) জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের বীজ উৎপাদন সংরক্ষণ ও বিপননের উপর বিশ্লেষণ করে ও সকল প্রকার চাষ ভালো করায় তাকে গতবারের মত এবারও জেলার শ্রেষ্ঠ কৃষক নির্বাচিত করা হয়। এবং তাঁর হাতে  সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হোসেন। এ সময় কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সঞ্জয় দেবনাথসহ জেলার বিভিন্ন কৃষি কর্মকর্তা কর্মচারি বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে কৃষি কার্যালয়ে জেলা উপ-পরিচালক আবু হোসেনের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক শামিমা নাজনীন নাইমুল হুদা সরকার, জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার সিরাজুল ইসলাম জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার আনিসুর কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও  কৃষকবৃন্দ।
এ বিষয়ে জেলার শ্রষ্ঠ কৃষক পয়গাম আলী জানান, জেলায় সবার সেরা কৃষক আমাকে নির্বিচিত করাতে আমি ভিষণ খুশি। কিন্তু এই অর্জনের পিছনে রাণীশংকৈল কৃষি অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দের অবদান অনস্বীকার্য। তার ডাল তেল মসলা জাতীয় ফসলগুলো চাষে আমাকে উদ্ভুদ্ধ করেছেন। কারণ এ ফসল গুলো এখানে তেমন চাষাবাদ হতো না। তাই আমাকে প্রথম নির্বাচিত করায় কৃষি কর্মকর্তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
প্রসঙ্গত: একই উপজেলার গোগর গ্রামের নজরুল ইসলাম জেলার ২য় স্থান অধিকারকারী কৃষক হিসাবে নির্বাচিত হওয়ায় একই অনুষ্ঠানে তাকেও সংবর্ধনা ও সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়।

কুলাউড়া পৌরসভার ৫১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: নতুন কোন করারোপ না করেই মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া পৌরসভায় ৫১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে বছরে আয় ৫১ কোটি ১১ লাখ ৪৫ হাজার ৪৪৬ টাকা এবং ৫০ কোটি ৭৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় দেখিয়ে ২০২১-২২ অর্থ বছ‌রের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেন পৌর মেয়র অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ।

বাজেট অনুষ্ঠানে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের সংশোধিত ও ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আয় ও ব্যয় খাতের সম্পূরক তুলে ধরেন পৌরসভার সচিব সরদিন্দু রায় প্রমুখ।

বাজেটে ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতে আয় দেখানো হয়েছে ৫১ কোটি ১১ লাখ ৪৫ হাজার ৪৪৬ টাকা। ওই অর্থবছরের রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৫০ কোটি ৭৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। উদ্ধৃত দেখানো হয়েছে ৩৬ লাখ ৫ হাজার ৪৪৬ টাকা।

পৌর মিলনায়তন হলরুমে আয়োজিত বাজেট অনুষ্ঠানে পৌরসভার সচিব সরদিন্দু রায়ের উপস্থাপনায় ও পৌর মেয়র অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট পর্যালোচনা এবং পরামর্শমূলক বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রেনু, ওসি বিনয় ভূষণ রায়, কেন্দ্রীয় জাসদ নেতা গিয়াস উদ্দিন আহমদ, জেলা সিপিবির সাবেক সভাপতি খন্দকার লুৎফুর রহমান, পৌর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল ইসলাম, ডেইলি স্টারের মৌলভীবাজার প্রতিনিধি মিন্টু দেশওয়ারা, সাংবাদিক ময়নুল হক পবন, ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আখই প্রমুখ।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন ৮নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর আতাউর রহমান চৌধুরী সোহেল।

মুজিববর্ষের জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় আ.লীগ নেতা আমিনের চারা বিতরণ

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : মুজিববর্ষে জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আওতায় ১০ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ। বুধবার (১৮ আগষ্ট) সকাল ১১টায় স্থানীয় প্যারাগন কমিউনিটি সেন্টারে এক অনুষ্টানের মাধ্যমে এসব গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী’র সভাপতিত্বে এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের সঞ্চালনায় বিতরণ অনুষ্টানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন হিরু, সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব জান মোহাম্মদ সিকদার ও সহ-সভাপতি শ্রীনিবাস দাশ সাগর।
এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাশেম মিয়া, ফরিদ আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান মিন্টু, দপ্তর সম্পাদক তৈয়বুল হক বেদার, কোষাধ্যক্ষ হাজ্বী মাহমুদুল হক, বন ও পরিবেশ সম্পাদক মঞ্জুর আহমদ, উপ-দপ্তর সম্পাদক এম.এস মামুন, চুনতি ইউপি চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন জনু, চরম্বা ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার শফিকুর রহমান, আধুনগর ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন, কার্যনির্বাহী সদস্য মামুন-উর রশিদ চৌধুরী, নুরুল হক কন্ট্রাক্টর, আবছার আহমদ, সলিল কান্তি বড়ুয়া, দিদারুল আলম বাবুল,  আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ রাসু, কলাউজান ইউনিয়ন সভাপতি গাজী ইছহাক, সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, চুনতি ইউনিয়ন সভাপতি শাহ আলম পল্টু, লোহাগাড়া সদর ইউনিয়ন সভাপতি জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক হেফাজত উল্লাহ, আধুনগর ইউনিয়ন সভাপতি নুরুল কবির, সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, পদুয়া ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক আবচার আহমদ, চরম্বা ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক আসহাব উদ্দিন, পুটিবিলা ইউনিয়ন সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক, আমিরাবাদ ইউনিয়ন যুগ্ম আহবায়ক কামাল উদ্দিন, পদুয়া ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক আবচার আহমদ, উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আলী আহমদ, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক আবছার উদ্দিন, শ্রমিকলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আয়ুব আলী, উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সহ-সভাপতি আকতার কামাল পারভেজ, কৃষক লীগের সহ-সভাপতি মাহমুদুল হক চৌধুরী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রিহান পারভেজ চৌধুরী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিকলীগ, কৃষক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে, প্রধান অতিথি আমিনুল ইসলাম আমিন দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে ১০ হাজার বিভিন্ন গাছের চারা বিতরণ করেন এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে  গাছের চারা রোপন করে বৃক্ষরোপন কর্মসুচির উদ্বোধন করেন।

মুরাদনগরে ৪টি ড্রেজার মেশিন জব্দ ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত

মোঃ খোরশেদ আলম, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : কুমিল্লার মুরাদনগরে কৃষি জমি থেকে অবৈধ ভাবে মাটি উত্তোলনের অপরাধে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়াও ৪’টি ড্রেজার মেশিন ও পাইপ জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (১৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার কামাল্লা ও বাঙ্গরা (পশ্চিম) ইউনিয়নের কামাল্লা, কোদালকাটা গ্রামে কৃষি জমিতে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিষেক দাস ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমাইয়া মমিন।

এসময় অবৈধ ভাবে মাটি কাটার দায়ে স্থানীয় কোদালকাটা গ্রামের মৃত কনু মিয়ার ছেলে শাহিন মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে বালু ও মাটি ব্যবস্থা আইন ২০১০’র ১৫ (১) ধারায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কামাল্লা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে ড্রেজার মেশিন জব্দ ও শাহিন মিয়াসহ আরো অনেকে কয়েক দিন ধরে ড্রেজার (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে অবৈধ ভাবে কৃষি জমি কেটে মাটি নিচ্ছিল। স্থানীয় প্রশাসন তাদের নিষেধ করার পরও থামেনি তারা। খবর পেয়ে আজ সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত যায় ঘটনাস্থলে। এসময় অন্যরা পালিয়ে গেলেও শাহিন নামের একজনকে অর্থদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাস (ইউএনও) বলেন, অবৈধ ভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কাটায় দায়ে এ দণ্ড দেয়া হয়েছে। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নেত্রকোনার মদনে স্বামী সৌদিতে স্ত্রীর স্বীকৃতি চেয়ে অনশনে তরুণী

মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি: নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলায় স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে অনশন করছেন এক তরুণী। গত মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের রুদ্রশ্রী গ্রামের হারেছ মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন সৈকতের বাড়িতে অনশনে বসেন ওই তরুণী। স্ত্রীর স্বীকৃতি না পেলে আত্মহত্যার করবেন তিনি।

দেলোয়ার হোসেন সৈকতের বাবা হারেস মিয়ার দাবি, তার ছেলে ২০-২৫ দিন আগে সৌদি আরবে চলে গেছে। যাওয়ার আগে ওই মেয়েকে তালাক দিয়ে গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন বছর আগে রুদ্রশ্রী গ্রামের হারেস মিয়ার ছেলে সৈকতের সঙ্গে ওই তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর তারা কোর্ট ম্যারেজ করেন। তবে ছেলের পরিবারের লোকজন বিয়ে মেনে না নেয়ায় দুজনে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘদিন সংসার করার পর ২০২১ সালের ৫ জুলাই ওই তরুণীকে ভাড়া বাসায় রেখে নিখোঁজ হন দেলায়ার হোসেন সৈকত।

সন্ধান চেয়ে ওই তরুণী ১ আগস্ট ঢাকার ভাষানটেক থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে মঙ্গলবার দেলোয়ারের বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশনে বসেন।

ওই তরুণীর বলেন, ‘দেলোয়ার হোসেন সৈকত আমার স্বামী। আমরা বিয়ে করে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করছিলাম। পরে স্বামীর পরিবারের লোকজনের ষড়যন্ত্রে টাকা-পয়সা নিয়ে নিখোঁজ হন সৈকত। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় বাড়িতে আসার পর থেকে আমাকে নির্যাতন করছেন। স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি না পেলে আমি এখানে আত্মহত্যা করব।’

সৈকতের বাবা বলেন, “আমার ছেলে ২০-২৫ দিন আগে সৌদি আরব চলে গেছে। যাওয়ার আগে মেয়েটিকে কোর্টের মাধ্যমে তালাক দিয়ে গেছে।”

দেলোয়ার হোসেন সৈকতের মা দিলোয়ারা আক্তার বলেন, “ছেলে কবে বিয়ে করেছে জানি না। এই মেয়েটি (তরুণীকে দেখিয়ে) আজ সকাল থেকে আমার ছেলের স্ত্রী দাবি করে ঘরে উঠেছে।”

বাবা, মা, চেয়ারম্যান তাদের তিন জনের কথার মধ্যে যথেষ্ট অমিল রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলমা চৌধুরী জানান, সৈকত ২০-২৫ দিন আগে দেশের বাইরে চলে গেছে বলে আমি শুনেছি। যে মেয়েটি অনশনে বসেছে তার একটি তালাক নোটিশ কোর্ট থেকে পরিষদে এসেছে।’

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) ফেরদৌস আলম জানান, তরুণীর অনশনের বিষয়টি ইউএনওকে জানানো হয়েছে। তার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

“মায়া” (পর্ব-১)

কলমে- মোঃ আবু শামা (শ্যামা)

গভীর রাত প্রায় রাত দুইটা বাজে আমি শান্তিনগর ফ্লাইওভারের নিচে দিয়ে হেঁটে চলেছি, পা দুটা যেন আর চলছে না জগতের সকল বোঝা যেন আমার দুপায়ে ঝুলে আছে, শরীর টা যেন নুয়ে পড়তে চাইছে মাটিতে, মনের গভীরে চলছে জগতের সকল হতাশা, কি করবো কিছুই ভেবে পাচ্ছি না, কোথায় যাব কি করবো, মাঝে মধ্যে আকাশের দিকে তাকিয়ে আল্লাহ কে ডেকে বলছি আল্লাহ আমাকে কোন পরিক্ষার মধ্যে ফেললে, আজ কি আমার সব শেষ হয়ে যাবে,আমার জন্য কি তুমি এমনই দুর্ভাগ্য লিখে রেখেছিলে,আল্লাহ আমাকে তুমি এই বিপদ থেকে রক্ষা করো, তুমি ছাড়া আমার এই বিপদ থেকে রক্ষা করার আর কেউ নাই। এক পা দু পা করে এগিয়ে চলার চেষ্টা করছি কিন্তু কোথায় যাব, কিভাবে উদ্ধার পাব আজ আমার সত্যি জানা নাই।

হঠাৎ পিছন থেকে একটা মেয়ে কন্ঠে ভেসে আসছে, মামা লাগবে নাকি, ঐ মামা শুনছেন না, লাগবে নাকি যা দিবেন তাই চলবে, বেশ ক’বার কথা গুলো আমার কানে আসছিলো, আমার তাতে বিন্দু মাত্র আগ্রহ নাই, কে ডাকছে কেন ডাকছে জানি না।

হঠাৎ আমার ফোন টা বেজে উঠল, আমি ফোন টা রিসিভ করতেই ফোনের ওপার থেকে ভেসে আসলো, ভাইয়া আপনি কোথায় তাড়াতাড়ি রক্ত নিয়ে হাসপাতালে আসুন, আপুর অবস্থা খুব খারাপ, কান্নার শব্দে আমার গলাটা ধরে এলো আমি কিছু বলার আগেই ফোন টা কেটে গেলো, আমি বলতেই পারলাম না, শান্তিনগর কোয়ান্টাম ব্লাড ব্যাংকেও নেগেটিভ রক্ত নেই।

আজ সারাদিন ঢাকা শহরের এই পান্ত থেকে ঐ পান্ত পাগলের মত ছুটে বেড়িয়েছি কোথাও রক্ত সংগ্রহ করতে পারিনি বিভিন্ন রক্তদান সংগঠন ছুটে বেড়িয়েছি কোথাও পাইনি, সারাদিন কতজন বন্ধু কে যে রক্তের জন্য ফোন করেছি কারো কাছেই রক্ত পাইনি, কেউ কেউ রক্ত দিতে চাইছে কিন্তু রক্তের গ্রুপ ও নেগেটিভ মেলেনি, এখন ফোন টাও বন্ধ হয়ে গেলে,হাসপাতালে থেকে ছোটবোন ফোন দিয়ে বললো ভাইয়া আপুর অবস্থা খুব খারাপ বলতেই ফোন কেটে গেলে, ফোন বন্ধ হয়ে গেলে, তাহলে কি সব শেষ হয়ে গেলো,আমার দমবন্ধ হয়ে আসছি আমি চিৎকার করে আল্লাহ বলে হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে পড়লাম।

হঠাৎ নিজেকে ফিরে পেলাম কেউ একজন আমার ঘাড়ে হাত দিয়ে বলে উঠলো, হতাশ হবেন না, আল্লাহ কে যখন ডেকেছেন তখন তিনি আপনার মঙ্গল করবেই, আমি তার দিকে ফিরেও তাকালাম না, আল্লাহ কে আর ডেকে কি লাভ, আমার তো সব শেষ হয়ে গেলো, আল্লাহই তো আমার সব কেড়ে নিলেন। বলেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠলাম, পিছন থেকে মেয়ে টি বললো কি বিপদ আপনার, আমাকে বলুন যদি কোন সাহায্যে আসি। আমি চিৎকার করে বলে উঠলাম, কে আপনি, আর আপনিই বা আমার আর কি সাহায্য করবেন, আমার তো সব শেষ হয়ে গেছে।

তবুও মেয়ে টি বললো বলুন, আমি রাস্তার মেয়ে তবুও তো মানুষ যদি আপনার একটু সাহায্য করতে পারি। আমি আবারো চিৎকার করে বললাম দূর হয়ে যান, মেয়ে টি আমার হাত চেপে ধরে বললো দয়া করুন আমার জন্য, আমাকে একটা সুযোগ দিন, আবারো বেশি রেগে গিয়ে বললাম, পারবেন উপকার করতে, পারবেন আমার স্ত্রী সন্তান কে ফিরিয়ে দিতে পারবেন।

মেয়েটি আবারো বললো, তা জানি না, তবে আমার মনে হয় আপনি এই বিপদে আল্লাহ কে ডেকেছেন, আপনি যা ভাবছেন ততটা নাও হতে পারে, দয়া করে খুলে বলুন আপনার বিপদটা আসলে কি। প্লিজ।

এবার আমি বললাম, আমি স্ত্রী বারডেম হাসপাতালে সন্তান প্রসব বেদনা ছটফট করছে চার ব্যাগ ও নেগেটিভ রক্ত দরকার দুই ব্যাগ রক্ত দিয়েছি আরো দুই ব্যাগ রক্ত যদি রাত দুইটার মধ্যে না দেয়া যায় তবে মা সন্তান দুই জনই মারা যাবে, এতক্ষণ মনে হয় দু’জন ই মারা গেছে, একটু আগে হাসপাতাল থেকে ছোটবোন ফোন করেছিল, শুধু বললো আমার স্ত্রী অবস্থা খুব খারাপ, তারপর আর শুনতে পারিনি, ফোনটা বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু কান্নার আওয়াজ শোনা গেছে, মনে হয় দুজনেই মারা গেছে।

মেয়েটি আমার কথা শুনার সাথে সাথে আমাকে ঝাপটে ধরে বললো, এখানে আর সময় নষ্ট করার মানে হয় না, উঠুন তাড়াতাড়ি, আমি হতভম্ব হয়ে বললাম কোথায় যাব, মেয়েটি বললো হাসপাতালে, আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই কোথায় থেকে যেন একটা রিক্সা জোগাড় করে আমাকে টেনে হিঁচড়ে রিক্সায় উঠালো, রিক্সা ওয়ালা কে বললো তাড়াতাড়ি বারডেম হাসপাতালে চলেন মামা।

আমাদের রিক্সা কিছু দূর আসার পর একটা মেয়ে কন্ঠে শুনা গেলো, সখি তুই নাগর পেয়েছিস, যা যা আমার কপালে এখনো জুটেনি। তোর ভাগ্য সবসময়ই ভালো রে, সবসময়ই আমার আগেই নাগর পেয়ে যাস, দিনকাল যা চলছে, আমাদের পেট যে কিভাবে চলবে ভগবান আমাকে চোখে দেখে নাহ, আমাদের মরণ নাই রে। মেয়ে টি উচ্চস্বরে কথাগুলো বলছিলো,একসময় সেই কন্ঠ আর শুনতে পেলাম নাহ।

আমাদের রিক্সাটা খুব দ্রত গতিতে চলছিলো। আমার পাশে বসা মেয়ে টি সেই মেয়ে কন্ঠে শুনা কথাটা কোন উত্তর দেয়নি, যেন একটা পাথরের মূর্তির মত ঠাঁই বসে আছে। আমি কিছু বুঝতে পারছি না, মেয়েটি কে, কেন আমাকে নিয়ে এতো তাড়াতাড়ি হাসপাতালের দিকে ছুটে চলছে, আমার অনেক কিছু জানতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু আমার মুখ থেকে কোন কথা বের হচ্ছে না।কিছু জানার মত আমার শরীর মনে কোন শক্তি নাই। হঠাৎ নিজেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে আবিষ্কার করলাম।

তারপর মেয়ে টি আমাকে রিক্সা থেকে নামিয়ে দিয়ে বললো, আপনার স্ত্রী হাসপাতালের কত নম্বর বেডে আছে চলুন, আমি শুধু বললাম আমার সাথে আসুন, বলেই পাগলের মত ছুটেতে লাগলাম। তারপর হাসপাতালের ভিতরে ঢুকতেই আমার ছোটবোন কে দেখতে পেলাম। সে দৌড়ে এসে বললো ভাইয়া আপনি এতক্ষণে এসেছেন, আমি তাকে জড়িয়ে ধরেই জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম।

তারপর কি হয়েছে জানি না। সকাল বেলা আমার জ্ঞান ফিরে পেলাম। আমার সামনে আমার ছোটবোন কোলে করে একটা ফুটফুটে একটা অপ্সরী বাচ্চা নিয়ে এসে আমার কোলে তুলে দিয়ে বললো ভাইয়া এইটা আপনার সন্তান। আমি হতবিহ্বল হয়ে অপ্সরীটা কে কোলে তুলে নিয়ে আল্লাহ কুদরতি পায়ে সিজদাহ্ লুটিয়ে পরলাম। আর আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করতে লাগলাম।

ছোট বোন কে কিছু জিজ্ঞেস করতেই আমাকে বলে উঠলো তাকে বেশি বেশি ধন্যবাদ দিন। আমি বললাম কাকে ধন্যবাদ দিবো?

ছোটবোন বললো, কেন যাকে গতরাতে সাথে করে নিয়ে এসেছিলাম। পৌঁছানের পরই তো আপনি জ্ঞান হাড়িয়ে ফেললেন। হাঁ তারপর কি হয়েছিলো? আমাকে খুলে বল।

তখন ছোটবোন আমাকে বললো, তাহলে শুনুন আপনি যখন তাকে নিয়ে আসলেন তারপর তো আপনি জ্ঞান হাড়িয়ে ফেললেন। আপনার মাথায় পানি ঢালা হলো ডাঃ একটা ঔষধ খাইয়ে দিলেন তারপর আপনি ঘুমিয়ে পড়ছিলেন। ততক্ষণে ফেরেস্তার মত মহিলাটি ডাঃ কে বললো ডাঃ আমার রক্ত ও নেগেটিভ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমার রক্ত নিয়ে রোগীকে বাঁচান।তারপর মহিলাটির শরীর থেকে দুই ব্যাগ রক্ত নিয়ে আপুর শরীরে দেয়া হয়। এবং ভোররাতে আপুকে অপারেশন করে আপনার সন্তানের জন্ম হয়, আপু আর সন্তান দুজনেই সুস্থ আছেন, আলহামদুলিল্লাহ। আর সেই ফেরেস্তার মত মহিলাটি আপনার জন্য একটা চিরকুট রেখে কিছু না বলেই চলে গেছে। এই নিন আপনার চিরকুট।

আমি চিরকুট টা তাড়াতাড়ি হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করলাম। তাতে লেখা-

“আজ তোমার ভালোবাসার কিছু টা ঋন শোধ করতে পারলাম, পারলে আমাকে ক্ষমা করো, তুমিও ঘর বেঁধেছো দেখে গেলাম, আজ আমার পাপের রক্ত থেকে কিছুটা রক্ত তোমার সন্তানের জন্য দিতে পেরে কিছুটা পাপ মুক্ত হলাম।”

ইতি তোমার “মিনু” ।

চলবে………………………………………

 

মুরাদনগরে ডিউটি অফিসারের দায়িত্ব পালন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর আবিদুর রহমান

মোঃ খোরশেদ আলম, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে বসে দায়িত্ব পালন এবং থানায় আসা সেবা গ্রহীতাদের সমস্যা শুনে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করলেন মীর আবিদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মুরাদনগর, কুমিল্লা।

রবিবার সকাল থেকেই মুরাদনগর থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে বসে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সেবা প্রদান করেন। সেবা নিতে আশা যখন জানতে পারেন সেবা প্রদানকারী ব্যক্তি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মুরাদনগর তখন তারা হতবাক হয়ে যান।

থানায় সেবা নিতে আসা এক ব্যক্তি বলেন,পারিবারিক ভাবে ঝামেলা চলছে তাই সমস্যাটি সুরাহার জন্য থানায় এসেছি। এসে দেখলাম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মুরাদনগর, কুমিল্লা সাহেব ডিউটি অফিসার এর চেয়ারে বসে আছেন। প্রথমে দেখে অবাক হলাম তারপর এএসপি সাহেব বললেন চাচা আসেন বলেন আপনার কি সমস্যা। সকল ঘটনা খুলে বলার পর ওসি সাহেবকে নির্দেশ দিলেন উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে দূত সমস্যা সমাধানের জন্য।

মুরাদনগর উপজেলার ১৪ নং নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের নগরপাড় গ্রাম থেকে এনাম জানান, আমাদের চাচাদের মধ্যে অনেক দিন থেকে পারিবারিক ভাবে দ্বন্দ চলছে তাই থানায় এসেছি সমস্যাটির সঠিক সমাধানের জন্য। ডিউটি অফিসারে দায়িত্ব পালন করছেন এএসপি স্যার জেনে খুবই ভালো লাগলো স্যার আমাদের সব কিছু শুনে ওসি স্যারকে সাথে সাথে বললেন যেন উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি সুরাহা করা হয়।

এছাড়া থানায় সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের মধ্যে শাহজাহান, আব্দুল করিম, আক্কাস আলী সহ আরো অনেকের সাথে কথা হলে তারা জানান, এমন উদ্যোগ যেন আগামীতেও অব্যহত থাকে। তাহলে আমরা সাধারণ জনগন অনেক উপকৃত হবো।

মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাদেকুর রহমান বলেন, থানায় সেবা নিতে আসা কাউকে যেন কোন রকম ভোগান্তি পোয়াতে না হয় সে জন্য এএসপি স্যার নিয়মত থানায় আসেন এবং রবিবার সকাল থেকেই থানায় স্যার ডিউটি অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেবা নিতে আসা সকলের সাথে কথা বলে তাদের সমস্যা সমাধানে স্যার আমাদের সার্বিক দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর আবিদুর রহমান (সার্কেল) মুরাদনগর,কুমিল্লা বলেন, যদি কেউ থানায় এসে কাঙ্খিত সেবা না পান এবং কোন ধরনের হয়রানির শিকার হয় তাহলে সরাসরি আমার সাথে যোগাযোগ করবেন । আমরা সেবা নিতে আসা মানুষকে সঠিক সেবা দূত সময়ের মধ্যে দিতে চাই।