মৌলভীবাজারে স্থাপন হতে যাচ্ছে আরটি পিসিআর ল্যাব

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলা সদরে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য স্থাপন হচ্ছে আরটি পিসিআর ল্যাব। বেসরকারি উদ্যোগে এই ল্যাবটি স্থাপন করে দিবে টিবি-লেপ্রসী প্রজেক্ট।

মৌলভীবাজার জেলাবাসীর বহুল কাঙ্ক্ষিত এই ল্যাবটি স্থাপনে জায়গা খোঁজা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি জানিয়েছেন মৌলভীবাজার বিএমএ সভাপতি এবং জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. শাব্বির হোসেন খাঁন।

তিনি জানান, ‘মৌলভীবাজারে একটি আরটি-পিসিআর ল্যাবরেটরী স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে টিবি-লেপ্রসী প্রজেক্ট। এ নিয়ে প্রজেক্টের কন্স্যালটেন্ট ডা. আহমদ পারভেজ জাবিন সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মোর্শেদের সাথে কথা বলেছেন। আজ রাতে আমার সাথেও কথা হয় ডা. জাবিন (সিওমেক’২১) এর।’

ডা. শাব্বির হোসেন খাঁন বলেন- ‘ডা. জাবিন জানিয়েছেন, তারা প্রজেক্ট থেকেই প্রয়োজনীয় কন্সট্রাকশন এবং ল্যাব স্থাপনের যাবতীয় যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করবেন এবং জনবল দিয়ে ল্যাব পরিচালনা করবেন। আমি ডা. জাবিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছি তার প্রজেক্ট থেকে এই সহায়তার প্রস্তাব দেয়ার জন্য। তিনি অনতিবিলম্বে আমার কাছে ল্যাবের একটা খসড়া লে-আউট পাঠাবেন। এই লে-আউটের ভিত্তিতে সিভিল সার্জন মহোদয়কে নিয়ে আমরা স্থান নির্বাচন করে প্রজেক্টে জানিয়ে দিলে দ্রুত আমাদের কাঙ্ক্ষিত ওই ল্যাব স্থাপনের কাজ শুরু হবে বলে আমার বিশ্বাস। আমরা আশাবাদী।’

উল্লেখ্য, টিবি-লেপ্রসী প্রজেক্টের মাধ্যমেই সিলেট এবং সুনামগঞ্জের আরটি পিসিআর ল্যাব দুটো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মোর্শেদ বলেন, মৌলভীবাজারে টিবি-লেপ্রসী প্রজেক্টের উদ্যোগে আরটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের বিষয়টি আমি জেনেছি এবং কাক্ষিত ফল পেতে যাচ্ছে মৌলভীবাজারবাসী।

লোহাগাড়ায় টংকাবতী খালের ভাঙনের কবলে রাস্তা ও বসতবাড়ি

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতাঃ চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ডলু ও টংকাবতীসহ ছোট-বড়  বেশ কয়েকটি খাল। উপজেলার ৯ ইউনিয়নের  এ সব খালের তীরবর্তী শত শত মানুষ বর্ষায় ভাঙন আতংকে থাকে।

জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের খাল তীরবর্তী ৩৫ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার পরিবার বর্ষায় ভাঙন আতংকের কবলে রয়েছে। চলমান বর্ষায় উপজেলার টংকাবতী খালের ভাঙনের কবলে পড়েছে আমিরাবাদ ও পদুয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা তেওয়ারি খীল, কলাউজানের  মিয়াজি পাড়া, কুলাল পাড়া ও রসুলাবাদ পাড়া কয়কটি পাড়া এবং উক্ত এলাকার টংকাবতী খাল পাড়ের বাসিন্দারা।

সরজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, আমিরাবাদ ও পদুয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী তেওয়ারি খীল এলাকায় একটি রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যার ফলে ঐ রাস্তা দিয়ে চলাচল করা শত শত শিক্ষার্থী ও এলাকার জনগণের চলাচলে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় এলাকাবাসী নিজস্ব খরচে মেরামতের ব্যবস্থা করেছেন।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, এলাকার কিছু বালু খেকো টংকাবতী খাল থেকে সারা বছর অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে খালের ভাঙ্গনে রাস্তা ও মানুষের বসতভিটা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে একদিন পুরো গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান আলী আক্কাস জানান, বর্ষা আসার আগেই রাস্তাটি সংস্কার করা হইছিল কিন্তু অতি বৃষ্টির কারণে আবার রাস্তাটি ভেঙে গেছে। বরাদ্দ পেলে আবার সংস্কার করা হবে।

পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কাউছার আলম বলেন, অপরিকল্পিত পানি ব্যস্থাপনার কারণে রাস্তাটি ভেঙে গেছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বরাদ্দ পেলে সংস্কার করা হবে। উপজেলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন কলাউজান ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে এখানেও টংকাবতী খালের ভাঙন কবলে পড়েছে  বহু পরিবার। ইতিমধ্যে চলমান বর্ষায় পূর্ব কলাউজানের মিয়াজি পাড়ার ১৫ টি পরিবার  ভাঙনের শিকার হয়েছেন। খাল গর্ভে বিলীনের মূখে আছে কয়েকটি বাড়ি।ইতিমধ্যে ২-৩ টি বাড়ি খাল গর্ভে বিলীন হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: আইয়ুব জানান, টংকাবতী খালের তীরবর্তী মিয়াজী পাড়ায় ৫০ টির অধিক ঘর-বাড়ি আছে। বর্ষায় টংকাবতী খালের  পানির তীব্র প্রবাহে উক্ত পাড়ার ঘর-বাড়ি ভাঙনের শিকার হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি ঘর-বাড়ি খাল গর্ভে বিলীন হয়েছে বলে তিনি জানান।

ইউপি চেয়ারম্যান এম,এ, ওয়াহেদ জানান, বর্ষায় উপজেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত টংকাবতী খালপাড়ের মানুষ আতংকে থাকে। ইতিমধ্যে টংকাবতী খালের ভাঙনে শিকার হয়েছে আমার ইউনিয়নের মিয়াজী পাড়া, কুলাল পাড়া ও রসুলাবাদ পাড়াসহ কিছু পাড়া  এবং খাল তীরবর্তী বাসিন্দারা। টংকাবতী খালের তীর ভাঙন এবং ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে ইতিমধ্যে অনেকবার জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

আজ ১লা আগষ্ট জলপাইগুড়ি-চিলাহাটি রেলপথে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল শুরু

মোঃ মোশফিকুর ইসলাম, নীলফামারী: করোনা প্রাদুভার্ব ও ইমিগ্রেশনসহ নানান জটিলতায় থমকে থাকা ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি থেকে বাংলাদেশের চিলাহাটি রেল যোগাযোগ অবশেষে চালু হয়েছে আজ ১লা আগস্ট। পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে গত বৃহষ্পতিবার ভারতীয় দু’টি রেল ইঞ্জিন এ রেলপথে ট্রায়াল সম্পন্ন করেছে।
গত বৃহষ্পতিবার ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে দু’টি ইঞ্জিন নিয়ে চারজন ড্রাইভার ও চারজন গার্ডসহ মোট ১২ জনের একটি দল দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে নীলফামারীর চিলাহাটি রেল ষ্টেশনে এসে পৌছায়। এ সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের চিলাহাটি রেলওয়ে ষ্টেশন মাস্টার আশরাফুল ইসলাম তাদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানায়। পরে ভারতীয় সকলের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষে দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে নিউ জলপাইগুড়ির উদ্দেশ্যে ইঞ্জিন দু’টি চিলাহাটি রেলওয়ে ষ্টেশন ত্যাগ করে।
ভারতীয় ইঞ্জিনের জেষ্ঠ্য গুড’স গার্ড মুকেশ কুমার সিং বলেন, আজ ১লা আগষ্ট থেকে এ রেলপথে চলাচল শুরু করেছে পণ্যবাহী ট্রেন। তারই জন্য গত বৃহস্পতিবার এ রেলপথের পরীক্ষামূলক ইঞ্জিন ট্রায়াল সম্পন্ন করা হয়।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের উর্দ্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুলতান মৃধা বলেন, পন্যবাহী ট্রেন চলাচল শুরু করার আগে তিনবার এ রেলপথের ইঞ্জিন ট্রায়াল করা হয়েছে।

কমলগঞ্জে পরকীয়া প্রেমেতে স্বামীকে পরিকল্পিত হত্যা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে স্বামীকে মদের সাথে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে হত্যার অভিযোগে পরকীয়া প্রেমিক সেলিম মিয়াসহ নিহতের স্ত্রী অষ্টমী বাউরীকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে স্থানীয়রা তাদেরকে আটক করে গাছের সাথে বেধে রেখে পুলিশকে খবর দেয়।

গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ফুলবাড়ি চা-বাগান এলাকায় নিজ বাসা থেকে নিহত চা-শ্রমিক বিজয় বাউরীর (৩৫) লাশ উদ্ধার করা হয়।

ফুলবাড়ি চা বাগান সূত্রে জানা যায়, ১০ বছর আগে জুড়ির সোনারুপা চা বাগানের মতি বাউরীর মেয়ে অষ্টমীর বিয়ে হয়েছিল ফুলবাড়ি চা বাগানের বিজয় বাউরীর সাথে। তাদের ঘরে ৭ ও ৪ বছর বয়সী দুটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। বছরখানেক আগে ফুলবাড়ি চা বাগানের চান মিয়ার ছেলে সেলিম মিয়ার সাথে বিজয়ের স্ত্রী অষ্টমীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিজয় বাউরী প্রায়ই রাতে মদ পান করে ঘুমাত। এ সুযোগে অষ্টমী বাউরীর ঘরে প্রেমিক সেলিম আসা যাওয়া করতো। বুধবার দিবাগত রাতে পরিকল্পনা মত বিজয় বাউরীকে মদের সাথে অতিরিক্ত ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে খাওয়ালে সে অচেতন হয়ে পড়ে এবং মারা যায়।

বিজয়ের বড়ভাই দয়াল বাউরী তার ভাইয়ের ঘরে প্রেমিক সেলিমের উপস্থিতি টের পেয়ে আশপাশের শ্রমিকদের অবহিত করলে ভোররাতে চা-শ্রমিক বিশ্বজিত, বুদু চন্দন, সোহেল, মনা, সুমনের নেতৃত্বে একটি দল ঘর থেকে প্রেমিক সেলিমসহ অষ্টমী বাউরীকে আটক করে ঘরের বাইরে একটি গাছের সাথে বেঁধে রেখে বাগান কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে খবর করে। এসময় ঘরের মেঝেতে বিজয় বাউরীর মরদেহ পড়েছিল।

ফুলবাড়ি চা-বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি মনোরঞ্জন পাল আইনিউজকে বলেন, ‘বিজয়ের স্ত্রীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে সেলিম মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুবছর আগে বাগানের আরেক শ্রমিকের স্ত্রীর সাথেও সেলিম প্রেম করে ধরা খেয়ে পালিয়ে যায়। এ চা বাগানের অনেক নারী তার কাছে সম্ভ্রম হারিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।’

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান বলেন, ‘লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রেমিক যুগলকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

চিত্রনায়িকা একার বাসা থেকে উদ্ধার হলো বিদেশী মদ-ইয়াবা !

বিনোদন ডেস্কঃ দেশী চলচ্চিত্রের এক সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা একা। গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে তাকে গতকাল শনিবার রামপুরার তার নিজ বাসা `বন্ধু নিবাস` থেকে আটক করা হয়। একই সাথে তার বাসায় তল্লাসি চালিয়ে বিদেশী মদ, ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতিরঝিল থানা পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, তিন-চার মাস ধরে হাজেরা বেগম (৩০) নামে এক গৃহকর্মীকে বেতন দিচ্ছিলেন না নায়িকা একা। গৃহকর্মী সেই টাকা চাইতে গেলে উল্টো তাকে মারধর করা হয়। মারধরে গৃহকর্মী অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশীদ বলেন, গৃহকর্মীকে নির্যাতন করা হয়েছে অভিযোগ তুলে ৯৯৯ থেকে আমাদের কাছে ফোন আসে। তারপর সন্ধ্যা সাতটার সময় আমরা চিত্রনায়িকা একাকে রামপুরা এলাকা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসি। আর গৃহকর্মীকে মারধরের ঘটনায় আহত গৃহকর্মীকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।এছাড়া যেহেতু তার বাসা থেকে ইয়াবা এবং মদ উদ্ধার করা হয়েছে এ ব্যাপারেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নিতে হবে।

উল্লেখ্য, শাহিদা আরবী সিমন ঢালিউডে একা নামে পরিচিতি। নির্মাতা তোজাম্মেল হক বকুল পরিচালিত ‘রঙিন রাখাল রাজা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছিল নায়িকা একার। ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৯৭ সালে। এরপর ১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ধর’ ও ‘তেজি’ সিনেমায় অভিনয় করে বেশ আলোচনায় উঠে আসেন এই নায়িকা। নায়িকা একা নায়ক মান্না, রুবেল, আমিন খান, আলেকজান্ডার বো, অমিত হাসান ও শাকিব খানের সঙ্গে জুটি হয়ে অন্তত ৩০টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তার সর্বশেষ সিনেমা বাহাদুর সন্তান ২০০৮ সালে মুক্তি পায়। এরপর বেশ কিছু দিন তিনি দেশের বাইরেও ছিলেন।

 

মাতৃগর্ভে মানব ভ্রুনের বর্ধন প্রক্রিয়ায় প্লাস্টিক বর্জ্যের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব

গত পঞ্চাশের দশকের দিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল যে, মায়ের গর্ভের ভ্রুণ সকল প্রকার প্রতিকূল পরিবেশমুক্ত থাকে। অর্থাৎ বাইরের পরিবেশ ভ্রুণের ক্ষতি করতে পারে না। কিন্তু চিকিৎসা ও পরিবেশ বিজ্ঞানীদের নিয়মিত গবেষণার ফলশ্রুতিতে প্রমানিত হয়েছে যে, দূষিত পরিবেশ, বর্ধনশীল ভ্রুণের বর্ধনকে খুব সহজেই ব্যাহত করতে পারে। ফলে এক বা একাধিক বংশানুক্রম পর্যন্ত প্রতিবন্ধি শিশু জন্ম হতে পারে, বিকলাঙ্গ শিশু জন্ম হতে পারে। কারন গর্ভবতী মা যে সব খাদ্য আহার বা পানীয় পান করেন তার সবকিছুই গর্ভের সন্তান পরোক্ষভাবে গ্রহণ করে থাকে। গর্ভবতী মায়ের রক্তের মাধ্যমে প্রবাহিত পুষ্টি থেকেই গর্ভের সন্তান পুষ্টি গ্রহণ করে । গর্ভবতী মা শ্বাস-প্রশ্বাসে যে বাতাস গ্রহণ করে সেই বাতাস যদি দূষিত হয়ে থাকে তবে সেই দূষণ রক্তের সাথে ভ্রুনেও চলে যায়। অর্থাৎ গর্ভবতী মা দূষিত পরিবেশে বসবাস করলে গর্ভের ভ্রূণও ঐ দূষণ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পরিবেশের ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্যের যে অবাঞ্চিত পরিবর্তন জীবের জীবনধারণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তাকেই দূষণ বলে। ক্ষতিকর পদার্থ পরিবেশে যোগ করলে তাকে দূষণ বা পরিবেশ দূষণ বলে। পরিবেশ দূষণ বিভিন্নভাবে হয়ে থাকে। Pollution is the introduction of contaminants into the natural environment that cause adverse change. Pollution can take the form of chemical substances or energy, such as noise, heat, or light. Pollutants, the components of pollution, can be either foreign substances/energies or naturally occurring contaminants ঢাকা শহরে প্রতিদিন গড়ে ৬৪৬ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। প্রিয় এই শহরে আমরা প্রতিদিন ১ কোটি ৪০ লাখ পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করে অবচেতন মনে অন্যান্য বর্জ্যের সঙ্গে ফেলে দিচ্ছি। প্রাত্যহিক জীবনে ব্যবহার্য  জিনিসপত্রের অধিকাংশই প্লাস্টিকের তৈরি। পৃথিবীতে প্রতি বছর ৪৫ কোটি টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশে যোগ হচ্ছে। এসব অপচনশীল প্লাস্টিক বর্জ্যের শতকরা ১০ ভাগ পুড়িয়ে ধ্বংস করা হলেও বাকি ৯০ শতাংশের বেশি বিশ্ব পরিবেশকে নানাভাবে বিপন্ন করে তুলেছে।

২০২১ সালের পরিবেশ দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত একটি পোর্টালে বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক তোফাজ্জল হোসেন লিখেছেন-, ‘প্লাস্টিক হচ্ছে কৃত্রিমভাবে তৈরি পলিমার, যা মূলত জীবাষ্ম জ্বালানি বা প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে রাসায়নিক উপায়ে তৈরি করা হয়। পরিবেশে যোগ হওয়া অপচনশীল নানা রকম প্লাস্টিক বর্জ্যের সঙ্গে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং পরিবেশের অন্যান্য উপাদানের মিথষ্ক্রিয়ার (Interaction) ফলে মাইক্রো ও ন্যানো প্লাস্টিকের কণা এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ (বিসফেনল-এ, ফথেলেটস, বিসফেনোন, অর্গানোটিনস, পার- এবং পলি ফ্লোরোঅ্যালকাইল পদার্থ এবং ব্রোমিনেটেড ফেইম রিটারডেন্টস উল্লেখযোগ্য) নিঃসরিত হয়ে পরিবেশ দূষিত করে।

পরিবেশে অপচনশীল প্লাস্টিকজাতীয় দ্রব্য, উপজাত, কণিকা বা প্লাস্টিকের দ্রব্য নিঃসরিত অণুর সংযোজন যা মাটি, পানি, বায়ুমণ্ডল, বন্যপ্রাণী, জীববৈচিত্র্য ও মানবস্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে,  পরিবেশকে অস্বাস্থ্যকর করে তুলছে। এসব মাইক্রো ও ন্যানো কণা এবং নিঃসৃত ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মানুষ ও অন্যান্য জীবের  হরমোনাল সিস্টেম নষ্ট করে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। ফলে প্লাস্টিকদূষণ মানুষ ও অন্যান্য জীবের প্রজননক্ষমতা নষ্ট করে, ভ্রুনের বর্ধন প্রক্রিয়া ব্যাহত করে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করে নানা রকম দুরারোগ্য ব্যাধি সৃষ্টি করে। এছাড়া এসব প্লাস্টিক ন্যানো কণা এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মানুষ ও অন্যান্য জীবের কোষাভ্যন্তরে অবস্থিত ডিএনএ ও আরএনএ অণুর মধ্যে পরিবর্তন করে ক্যান্সার বা স্নায়ুতন্ত্র বিকল করতে পারে। এছাড়া প্লাস্টিক বর্জ্য পোড়ানোর ফলে অদৃশ্য মাইক্রো প্লাস্টিকের কণা ভয়ংকরভাবে বায়ুদূষণ ঘটায়, যা নিঃশ্বাস ও প্রশ্বাসের সঙ্গে আমাদের ফুসফুসে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে‘।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করলে শুধুমাত্র নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবো তা নয়, আমাদের মধ্যে বসবাসরত গর্ভবতী নারীদের গর্ভের সন্তানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি বিকলাঙ্গ বা প্রতিবন্ধি সন্তানও জন্ম নিতে পারে।

১৯৯০-এ ইরাকে উপসাগরীয় যুদ্ধকালীন আমেরিকা ও ইরাক উভয়েই রাসায়নিক অস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের মারনাস্ত্র ব্যবহার করেছিল। পরবর্তীতে গবেষণায় দেখা গেছে, রেডিয়েশন ও রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ায় যুদ্ধকালীন সময়ে ইরাকে বসবাসকারী গর্ভবতী অনেক নারী প্রতিবন্ধী সন্তান প্রসব করেছিলেন।

১৯৬০-৬৬ সালে জাপান ও ইংল্যান্ডের মাদকসেবীরা ‘থালিডোমাইড’ নামক ঘুমের ঔষধের প্রতি আসক্ত ছিল। পরিসংখ্যানে জানা গেছে ঐ সময়ে উভয় দেশেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ‘Phocomelia’’ নামক প্রতিবন্ধি শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। বিজ্ঞানী Horton & Newburt গর্ভবতী ইঁদুরের উপর গবেষণা করে একই তথ্য পেয়েছেন।

জাপানের Nagoya University-তে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণকালে Environmental Medicine Department এর গবেষণাগারে আমার গবেষণাকর্মে গর্ভবতী ইঁদুরের Embryo Development এর বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন ডোজ এ X-Radiation বিচ্ছুরিত করার ফলে ঐ গর্ভবতী ইঁদুরগুলো প্রতিবন্ধি (Hydrocephalus) বাচ্চা প্রসব করেছিল। ইঁদুরের গর্ভের প্রতিবন্ধি বাচ্চাগুলোর বর্ধন প্রক্রিয়ার পর্যায়গুলো( Developmental Stages) গবেষণা করে এই উপসংহারে উপনীত হয়েছিলাম যে, বর্ধন প্রক্রিয়ার যে পর্যায়ে Radiation বিচ্ছুরিত করা হয়, সেসময়ে কোষ বিভাজন বন্ধ হয়ে যায়, ফলে বর্ধন প্রক্রিয়াও বন্ধ হয়ে যায়। পুনরায় কোষবিভাজন শুরু হলেও বর্ধন প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়ার কারণে Neural Tube (মাতৃগর্ভে শিশু সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়) ক্ষতিগ্রস্ত হয়, Neural Tube এর ঐ স্থানের নির্দিষ্ট অঙ্গটি বর্ধনে ব্যাঘাত ঘটে, শিশুর অঙ্গহানি হয়, বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম হয়। প্রতিবন্ধি শিশুও জন্ম হতে পারে।

আমাদের সমাজে আমরা প্রতিনিয়ত প্লাষ্টিক বা পলিথিনের পাত্রে রান্না করা গরম বা ঠাণ্ডা খাবার ও পানীয় গ্রহণ করছি। এমনও দেখা গেছে গরম চা বা কফি গ্রহণেও প্লাষ্টিক পাত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এই সকল প্লাষ্টিক পদার্থ থেকে নিঃসরিত রাসায়নিক মাইক্রো বা ন্যানো পদার্থগুলো খাবারের সাথে মিশে যায়, যা আমরা গ্রহণ করছি। এসব খাবার থেকে অস্বাস্থ্যকর রাসায়নিক মাইক্রো বা ন্যানো পদার্থ মিশ্রিত পুষ্টি উপাদানগুলো রক্তের সাথে মিশে। গর্ভবতী মায়ের গর্ভে ধারণ করা ভ্রুণও মায়ের শরীরে প্রবাহিত রক্ত থেকে, রক্তে মিশে থাকা প্লাষ্টিক পদার্থ থেকে নিঃসরিত রাসায়নিক মাইক্রো বা ন্যানো পদার্থ মিশ্রিত পুষ্টি গ্রহণ করছে।

Teratology experts-গন বলেছেন, গর্ভবতী মা যদি মাদকাসক্ত হয়, অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করে, রক্তশূন্যতা ও পুষ্টিহীনতায় ভোগে, ভুল ঔষধ বা কেমিক্যাল সেবন করে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত পরিমান এন্টিবায়োটিক গ্রহণ করে, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত  হয়, তবে মায়ের শরীর থেকে প্রবাহিত দূষিত রক্তের মাধ্যমেই গর্ভের বর্ধনশীল শিশুর প্রতিটি কোষ প্রতিকূল পরিবেশের সংস্পর্শে আসে, ভ্রণের বর্ধন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। একই প্রক্রিয়ায় গর্ভবতী মায়ের রক্ত থেকে আসা প্লাস্টিক বর্জ্য নিঃসরিত রাসায়নিক মাইক্রো বা ন্যানো পদার্থগুলো ভ্রুনণর বর্ধন প্রক্রিয়া ব্যাহত করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাব্যতাকে এড়িয়ে চলতে প্লাষ্টিকদূষণ থেকে দূরে থাকা খুবই জরুরি।

এজন্য প্রতিদিনের বাজারে এবং কেনাকাটায় আমরা পাতলা পলিথিনের পরিবর্তে বারবার ব্যবহারযোগ্য কাপড়, পাট কিংবা শক্ত প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার করে, একবার ব্যবহার করা (one time use) পাতলা পলিথিনকে বিদায় জানাতে পারি। দুধ ও পানীয়জাত দ্রব্যেকে প্লাস্টিক মোড়কে বাজারজাত করা বন্ধ করে কাঁচের বোতল ব্যবহার বাধ্যতামূলক প্রয়োজন। প্লাষ্টিক পাত্রে গরম-ঠান্ডা সব রকম খাবার বা পানীয় গ্রহণ, প্লাস্টিকের গ্লাস/কাপে গরম চা-কফি গ্রহন পরিহার করি। সিটি করপোরেশনসমূহ প্রতিটি বাসা থেকে বর্জ্য সংগ্রহের সময় উন্নত বিশ্বে প্রচলিত পদ্ধতিতে পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য আলাদাভাবে সংগ্রহ করতে পারে। আলাদাভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য প্রতিটি ঘর থেকে সংগ্রহ করতে পারলে তা পুনর্চক্রায়ণ (recycle use) করে নতুন পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব। এসকলক্ষেত্রে নাগরিক সমাজ, সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্লাস্টিকের দ্রব্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করে পরিবেশকে প্লাস্টিকদূষনমুক্ত রাখতে হবে।

ডঃ মোঃ আওলাদ হোসেন,

ভেটেরিনারীয়ান, পরিবেশবিজ্ঞানী, রাজনৈতিক কর্মী ও কলামিস্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ। 

 

মুরাদনগর থানার ওসির বিরুদ্ধে লকডাউন ভঙ্গের মিথ্যা অভিযোগ

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার ওসি সাদেকুর রহমানের বিরুদ্ধে লকডাউন ভঙ্গের মিথ্যা অভিযোগ করেছে একটি কুচক্রী মহল। ওসি সাদেকুর রহমানের পরিবার কুমিল্লা সদরে থাকেন। ১৫ই জুলাই থেকে ২৩ই জুলাই পর্যন্ত সরকারের কোন লকডাউন বা বিধি নিষেধ না থাকায় সাদেকুর রহমানের পরিবার মুরাদনগরে বেড়াতে আসেন।পরিবারের অনুরোধে ঈদের পরের দিন (২২ই জুলাই) ১৩ নং সদর ইউনিয়নের তিতাস নদী এলাকায় দুই জন গন্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক এবং দুই জন পুলিশ অফিসার সহ প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে যান। ঐ সময় নৌযান, মোটরযান, আকাশ পথ এবং মানুষ চলাচলের কোন বাধা নিশেধ ছিল না অর্থাৎ লকডাউন ছিল না। ঐ দিন সবাই মাস্ক পরে বেরিয়েছিলেন। শুধু ছবি তোলার সময় তারা মাস্ক খুলে ছবি তুলে ছিল।

ওসি সাদেকুর রহমান বলেন, ঈদের দিনও আমরা ডিউটি করেছিলাম এবং আমাকে রোল কল করতে হয়েছিল। ঐ দিন শুধু আমার দুই মেয়ের অনুরোধেই বের হয়েছিলাম।আমার মেয়েদের সময় দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য ছিল। এই বিষয় টি কে পুঁজি করে একটি হলুদ সাংবাদিকের কুচক্রী মহল পুলিশ প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

পুলিশ রেগুলেশন অব বাংলাদেশ (পিআরবি) ১৯৪৩ এর বিধানে পুলিশকে স্হানীয় গন্যমান্য এবং জনগণের সাথে মিলেমিশে কাজ করার কথা বলা আছে। মজিব বর্ষের অঙ্গীকার পুলিশ হবে জনতার,পুলিশই জনতা জনতাই পুলিশ। এই দুই টি স্লোগান কে মাথায় রেখেই তিনি ঈদের পরের দিন (২২ই জুলাই) বেরিয়েছিলেন। ঐ দিন লকডাউন ছিল না।

চামড়াশিল্পঃ একটি অপার সম্ভাবনাময়, কিন্তু অবহেলিত খাত

বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান একটি দেশ হওয়ায় সারা বছরই এখানে বিভিন্ন প্রকার গবাদিপশুর মাংস ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে। এছাড়া পবিত্র ঈদুল আজহার সময় প্রচুর গরু, ছাগল (প্রায় ৯১ লক্ষ) কোরবানি করা হয়েছে। দেশে চামড়ার যোগান ও সরবরাহ ক্রমেই বাড়ছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য দেশীয় কাঁচামালভিত্তিক একটি রপ্তানিমুখী শিল্প। জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি, রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়, কর্মসংস্থান এবং মূল্য সংযোজনের নিরিখে চামড়াশিল্প একটি অপার সম্ভাবনাময় খাত। চামড়া শিল্প বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজার ও রপ্তানির জন্য চামড়া এবং চামড়াজাত সামগ্রী উৎপাদন করে আসছে। সেমিপাকা চামড়া এবং চামড়াজাত দ্রব্য এই শিল্পের রপ্তানি সামগ্রী।

ব্যবসা হিসাবে বাংলাদেশে চামড়া খাতের যাত্রা শুরু হয়েছে বিগত শতাব্দীর চল্লিশের দশকে। ১৯৪০ সালে ব্যবসায়ী রণদা প্রসাদ সাহা (আরপি সাহা) নারায়ণগঞ্জের কাছে সর্বপ্রথম একটি ট্যানারি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫১ সালের অক্টোবরে তৎকালীন সরকার ঘোষিত এক গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ঢাকার হাজারীবাগে ট্যানারি শিল্প স্থাপিত হয়। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে এ খাত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

গত দু‘দশকে এ খাতে উল্লেখযোগ্য আধুনিকায়ন ঘটেছে এবং এর ফলে বিশ্বে প্রথম শ্রেণির চামড়া ও চামড়ার তৈরি সামগ্রী প্রস্তুতকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করেছে। মূলত বাংলাদেশের কাঁচাচামড়ার গুনগতমান অনেক ভালো। এছাড়া বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের Black Bengal Nanny Goat জাতের ছাগলের চামড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

বাংলাদেশের মসৃণ চামড়া জাপান এবং পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে বেশ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। কতিপয় জাপানি ব্যবসায়ী যৌথ বিনিয়োগে (Joit Venture) বাংলাদেশের ছোট বড় কিছু সংখ্যক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চামড়াজাত দ্রব্য তৈরি করছে। জাপান-বাংলাদেশ যৌথ বিনিয়োগের কোম্পানিগুলো নিজস্ব উৎপাদিত চামড়াজাত দ্রব্য জাপানে রপ্তানি করে সুনাম অর্জন করছে। বাংলাদেশের চামড়াজাত দ্রব্য জাপানের গুরুত্বপূর্ণ বানিজ্যিক এলাকা রুপ্পঙ্গি, শিনজুকুর নামিদামি শোরুমে শোভা পাচ্ছে এবং চড়াদামে বিক্রয়ও হচ্ছে। এছাড়াও ছোট বড় আরও অসংখ্য ব্যবসায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে চামড়াজাত দ্রব্য রপ্তানি করছে।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চামড়া শিল্পের রপ্তানি আয় ছিল ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১১৬ কোটি ৯ লাখ ৫ হাজার মার্কিন ডলার, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১২৩ কোটি মার্কিন ডলার। এরপর থেকেই এ শিল্পের আয় নিম্নমুখী হতে শুরু করে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চামড়া শিল্পের রপ্তানি আয় কমে দাঁড়ায় ১০৮ কোটি ৫৫ লাখ ১ হাজার মার্কিন ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ শিল্পের রপ্তানি আরও কমে হয় ১০১ কোটি ৯৭ লাখ ৮ হাজার মার্কিন ডলার যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তুলনায় ৬ দশমিক ০৬ শতাংশ কম। সবশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরে চামড়া শিল্পের রপ্তানি আরও কমে হয় ৭৩ কোটি ৯৩ লাখ ৯ হাজার মার্কিন ডলার।

রপ্তানিকারকরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে যাওয়ায় প্রভাব পড়ছে। অন্যদিকে পণ্য উৎপাদনে তাদের খরচও বাড়ছে। চামড়া সংরক্ষণে ব্যবহার হওয়া লবণ ও রাসায়নিক দ্রব্যর দাম বাড়ার কথা বলছেন তারা। তবে গত কয়েক বছর ধরেই ধারাবাহিকভাবে কমছে কাঁচা চামড়ার দাম। তাহলে প্রক্রিয়াজাতকরণ খরচ বাড়ার দাবি কতটা যৌক্তিক সেই প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে। ২০১৩ সালে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ছিল ৮৫-৯০ টাকা, এই বছর তা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে, ঢাকায় কোরবানির পশুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং ঢাকা ছাড়া সারা দেশে ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা। এ ছাড়া প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়া ১৫ থেকে ১৭ টাকা, বকরির চামড়া ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল সরকার। বাস্তবে গরুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৩০ টাকা বা এর চেয়ে কমদরে। যদিও গত বছর ঢাকার জন্য লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম গরুর ক্ষেত্রে ছিল প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। আর ঢাকার বাইরে ছিল ২৮ থেকে ৩২ টাকা।

এবছর (২০২১ সাল) ঈদুল আযহায় ৯০,৯৩,২৪২টি গবাদিপশু কোরবানি করা হয়েছে। যার মধ্যে ৪০ লাখ ৫৩ হাজার ৬৭৯টি গরু-মহিষ, ৫০ লাখ ৩৮ হাজার ৮৪৮টি ছাগল-ভেড়া ও অন্যান্য ৭১৫টি গবাদিপশু। গতবছর (২০২০ সালে) কোরবানিকৃত গবাদি পশুর সংখ্যা ছিল ৯৪,৫০,২৬৩টি। এ বছরের গরু-ছাগলের তুলনামূলক হার অনুযায়ী গতবারের ছাগলের সংখ্যা ৫২,৫০,১১৭ এবং গরুর সংখ্যা ৪২,০০,১৪৬ টি।

২০২০ এ বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের তথ্য অনুযায়ী গত অর্থবছরে বাংলাদেশের ট্যানারিগুলোতে ২৪,২৫,২৭৬ টি গরুর চামড়া এবং ৬,২৯,২২৫ টি ছাগলের চামড়া সংগৃহীত হয়েছে। অর্থাৎ গতবছরে কোরবানিকৃত ৯৪,৫০,২৬৩টি গবাদিপশুর চামড়া থেকে ৩০ লক্ষ ৫৪ হাজার ৫০১ টি চামড়া সংগৃহীত হয়েছিল, বাকি চামড়াগুলো কোথায় গেল? উত্তরে বলবেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি আয় ছিল ৭৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার (রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো)। ২০২০-২১ অর্থবছরে সেই আয় বেড়ে ৯৪ কোটি ২০ লক্ষ ডলার হয়েছে (বানিজ্য মন্ত্রনালয়)। অর্থাৎ রপ্তানী আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এই খাতের প্রধান কাঁচামাল হলো কাঁচা চামড়া। এবছরের সংগৃহীত চামড়ার সংখ্যা এখনও জানা যায়নি। তবে বাংলাদেশে কোরবানির ঈদ সহ প্রতি বছর প্রায় আড়াই কোটি গরু-ছাগলের কাঁচা চামড়া উৎপাদিত হয়। এই আড়াই কোটি কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানী করলে কি পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো একবার হিসাব কষলেই বুঝা যাবে, এই খাতে রপ্তানি আয় বেড়েছে কিনা?

গত এক দশক হতে কাঁচা চামড়ার বাজার মূল্য নাই বললেই চলে। এক সময় চার-পাঁচ মণ ওজনের একটি গরুর চামড়া ৩-৪ হাজার টাকায় বিক্রি হতো, এবছর সেটা বিক্রি হয়েছে মাত্র ১৫০-২০০ টাকায়। বিগতদিনে একটি খাসির চামড়া যেখানে ২০০-২৫০ টাকায় বিক্রি হতো এবার সেটা বিক্রি হয়েছে ১০-২০ টাকায়। কিন্তু জুতা-স্যান্ডেলের দাম বেড়েই চলেছে। গত কয়েক বছর ধরে কাঁচা চামড়ার দামে এ বিপর্যয় চলছে। চামড়ার এই দরপতনের যথাযথ কারণ খুঁজে তার সমাধান করা অতীব জরুরী।

সার্বিকভাবে অন্যান্য শিল্পের মত চামড়াখাতও ব্যাংকঋণ নির্ভরশীল। তবে এখাতে ঋণের প্রায় পুরোটাই খেলাপি। সংগৃহীত তথ্যানুসারে এখন পর্যন্ত চামড়া খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৩ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকাই খেলাপি। প্রতি বছর কোরবানির ঈদেই সিংহভাগ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হয়। এই সময় চামড়া সংগ্রহের জন্য ট্যানারি মালিকরা প্রতি বছরই ব্যাংক ঋণ পেয়ে থাকেন। সাধারণত ঈদের সময় ঢাকা ও চট্টগ্রামের মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা পাড়া-মহল্লা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে আড়তে বিক্রয় করেন। এছাড়া জেলা পর্যায় হতে চামড়া ব্যবসায়ীরা কোরবানির সময় চামড়া কিনে, লবণ দিয়ে মজুদ রাখে, পরবর্তিতে ঢাকায় আড়তদারের নিকট বেশি দরে বিক্রয় করেন। অভিযোগ রয়েছে, কোরবানির আগে চামড়াশিল্পের ট্যানারি মালিকদের যে ঋণ দেওয়া হয় সেই টাকা তারা আড়তদারদের পূর্ববর্তী ঋণ পরিশোধ না করে অন্য ব্যবসায় বিনিয়োগ বা স্থায়ী সম্পত্তি ক্রয়ের কাজে ব্যবহার করে। ফলে ঈদে নতুন চামড়া সংগ্রহে আড়তদাররা অর্থ সংকটে পরে এবং আড়তদাররাও ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের বকেয়া পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে চামড়া ক্রয়ে টাকার প্রবাহ কমে যায়। মাঠ পর্যায়ের মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা আড়তদারদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য নামেমাত্র সংখ্যক চামড়া ক্রয় করে। এছাড়াও চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণ হিসেবে ট্যানারি মালিক ও চামড়ার আড়তদারদের সিন্ডিকেট বা কারসাজি ও অনেক ক্ষেত্রে তারা দামের ওপর প্রভাব বিস্তার করে কম দামে চামড়া বিক্রি করতে বিক্রেতাকে বাধ্য করে থাকেন।

গত শতাব্দীর চল্লিশের দশকে চামড়া শিল্পের যাত্রা শুরু হলেও সেভাবে অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারছে না। যদিও এ খাতে বড় ধরনের সম্ভাবনা দেখছেন গবেষক, উদ্যোক্তা ও সরকার। মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে চামড়ার অবদান এখন মাত্র ০.৩৫ ভাগ। পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রম জরিপ বলছে, ২০১৬ সালে এ খাতে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার, যা মোট কর্মসংস্থানের ০.২২ ভাগ।

চামড়াশিল্প নিয়ে দূর্নীতি:

বাংলাদেশে নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে নীল চামড়া রপ্তানি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেখানেও সিন্ডিকেট কাজ করছে। এছাড়া কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে চামড়া রপ্তানীর জন্য ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করে, প্রক্রিয়াজাত করা চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য রপ্তানি না করে দুর্নীতির মাধ্যমে চামড়াশিল্প উন্নয়নে সরকার ঘোষিত ‘ইনসেনটিভ‘ গ্রহণ করে। ইনসেনটিভ পরিশোধ করার কারণে কাগজপত্রে রপ্তানী আয় বৃদ্ধি দেখা যায়, কিন্তু বাস্তবতা হলো প্রক্রিয়াজাত করা চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য রপ্তানি না হয়ে কাঁচা চামড়া পাচার হয়ে যাচ্ছে। ফলে গত কয়েক বছর আগে যেই সাইজের কাঁচা চামড়া ৩ হাজার টাকা বিক্রয় হতো, সেই একই সাইজের চামড়া ১৫০-২০০ টাকায় বিক্রয় হয়েছে।

দূর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীরা ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ না করায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পুনরায় ঋণ প্রদানে অনিহা প্রকাশ করে। আড়তদাররা বকেয়া টাকা না পেয়ে চামড়া ক্রয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। ফলে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা আড়তে চামড়া বিক্রয় করতে পারে না বিধায়, আগ্রহ নিয়ে চামড়া ক্রয়ের জন্য বাড়ি বাড়ি ঘুরে না। ফলে চামড়া মূল্য অটোমেটিক ভাবে কমে যায়। চামড়ার বিক্রয় মূল্য কমে যাওয়ায় মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরাও কোরবানির চামড়া সংগ্রহ করতে আগ্রহী হয় না। অবিশ্বাস্য হারে চামড়ার মূল্য কমে যাওয়ায় এবং যথাসময়ে চামড়া বিক্রয় না হওয়ায় ‘কাঁচা চামড়া‘ পাচারকারীদের হাতে পৌঁছে যায়। বলবেন, চামড়া পাচার রোধে বর্ডার সীল করে দেওয়া হয়। তাই যদি হয় গতবছরের কোরবানিতে জবেহকৃত গরু ছাগলের প্রায় ৬৪ লক্ষ চামড়ার হিসাব কোথায়? বর্ডার যত কঠোর, পাচার তত বেশি। তবে আনুষঙ্গিক খরচটা বেড়ে যায়।

উদাহরণস্বরূপ সম্প্রতি ভারতে সৃষ্ট ‘ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট‘ এর করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে বর্ডার সীল করেছিল সরকার। কিন্তু টেলিভিশন ও পত্রিকায় দেখা গেছে ভারত থেকে আসা লোকজন ঠেকাতে প্রশাসন হিমসিম খাচ্ছে। পরবর্তিতে সীমান্ত এলাকার জেলাগুলোতে করোনা সংক্রমণের হার অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরকারের আনুকূল্য পেলে সম্ভাবনাময় চামড়াখাত তৈরি পোশাকশিল্পের মত আরো দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে বলে মনে করে অর্থনীতিবিদ ও এ খাত সংশ্লিষ্টরা। চামড়া শিল্পের ভ্যালু এডিশন ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে যে আয় হয় তার বিপরীতে এই খাতে ব্যবহার করা রাসায়নিক দ্রব্য ছাড়া আর তেমন কিছু আমদানি হয় না। যদিও তৈরি পোশাকে ১০০ টাকা রপ্তানি হলে ৫০ টাকার বেশি চলে যায় এই খাত সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানিতে।

বাংলাদেশের চামড়ার মানও অন্যান্য দেশের তুলনায় উন্নত। বিশ্লেষকরা বলছেন, চামড়া খাতের উন্নয়নে দরকার একটি শিক্ষিত উদ্যোক্তা শ্রেণি। শিক্ষিত ও আন্তরিক সৎ উদ্যোক্তাদের কারণে আশির দশকে যাত্রা করে তৈরি পোশাক শিল্প অর্থনীতির অন্যতম ভিত হতে পেরেছে, অথচ চল্লিশের দশকে যাত্রা করা চামড়া শিল্প আগের অবস্থানেই পড়ে আছে।

চামড়াশিল্প নিয়ে সুপারিশঃ

*চামড়া শিল্পের ধস কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন এই শিল্পের আধুনিকীকরণ ও বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোকে আরো কার্যকর করে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো।

*এ ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধকতার মধ্যে রয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি, ট্যানারির অবকাঠামোগত উন্নয়নের ঘাটতি। জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার জন্য সম্ভাবনাময় এই শিল্পের উন্নয়নে ট্যানারির অবকাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন প্রয়োজন।

*এই শিল্পের অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য চামড়া চোরাচালান বন্ধ করে চামড়ার মৌসুমে সরকারের পক্ষ থেকে সহজ শর্তে ঋণ প্রদানসহ চামড়া সংগ্রহে সঠিক ব্যবস্থাপনা, বাজার মনিটরিং, দ্রুত সংরক্ষণ, পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সুষ্ঠু পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ করলে চামড়াশিল্প প্রসার ঘটিয়ে পোশাক শিল্পের চেয়েও অধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।

ডঃ মোঃ আওলাদ হোসেন,

ভেটেরিনারীয়ান, পরিবেশ বিজ্ঞানী, রাজনৈতিক কর্মী ও কলামিস্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ। 

 

কোদালের এক কোপে ১০ কোটি মার্কিন ডলারের মালিক!

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ কোদালের এক কোপে ১০ কোটি মার্কিন ডলারের মালিক বনে গেছেন শ্রীলংকার রত্নপুরা এলাকার এক ব্যক্তি। বাংলাদেশী টাকায় যা কিনা প্রায় ৮৪৫ কোটি টাকার সমান।সেই সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে বড় নীলাখণ্ডের সন্ধান পাওয়ার খেতাবটিও জুটে গেছে তার কপালে। বাড়ির পেছনে কূপ খননের সময় কোদালের কোপে উঠে আসে বিশাল এক পাথরের খণ্ড। এলাকাটির নাম রত্নপুরা বলেই পাথরটি পরখ করে দেখতে ডাকা হয় রত্ন বিশেষজ্ঞদের। পাথরের ওই খণ্ডটি দেখে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ যেনতেন রত্ন নয়, মূল্যবান নীলার বিশাল একটি খণ্ড এটি। বিশ্বে এর আগে এত বড় নীলার সন্ধান মেলেনি। খবর বিবিসির।

রত্নপাথর বিশেষজ্ঞ জামিনি জয়সা বলেন, ‘আমি এর আগে এত বড় নীলা দেখিনি।’ শ্রীলংকার রত্নপুরা অঞ্চল মূল্যবান রত্নপাথর উত্তোলনের জন্য সুপরিচিত। মাটি খুঁড়ে সন্ধান পাওয়া নীলার খণ্ডটি ২৫ লাখ ক্যারেটের। কেজির হিসাবে এর ওজন প্রায় ৫১০ কিলোগ্রাম।

প্রাথমিকভাবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ফ্যাকাশে নীল রঙের এ রত্নের দাম ১০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। মূল্যবান এ নীলাখণ্ড যার বাড়ির উঠানে পাওয়া গেছে, নিরাপত্তার জন্য তার নাম, পরিচয়, বাড়ির ঠিকানা প্রকাশ করা হয়নি।

তবে ইতোমধ্যেই তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের নীলার বিষয়ে জানিয়েছেন। পরিস্কার করার পর মূল্যবান রত্নটির স্বীকৃতির জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

টিকা নেয়ার সর্বনিম্ন বয়সসীমা ২৫ বছর নির্ধারণ করেছে সরকার

সিএনবিডি ডেস্কঃ চলমান মহামারি করোনা ভাইরাসের টিকা নেয়ার জন্য সর্বনিম্ন বয়সসীমা ২৫ বছর নির্ধারণ করেছে সরকার। ফলে এখন থেকে সর্বনিম্ন ২৫ বছর বয়স হলেই সাধারণ নাগরিকরা করোনার টিকা নিতে পারবেন। বয়সের নতুন সীমা নির্ধারণ করে টিকার জন্য নিবন্ধনের সুরক্ষা অ্যাপেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) সুরক্ষা অ্যাপে ঢুকে টিকা নিবন্ধনের বয়সসীমা ২৫ বছর ও তদূর্ধ্ব দেখা যায়। এর আগে গত ১৯ জুলাই টিকা নেওয়ার বয়স ত্রিশোর্ধ্ব নির্ধারণের কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দেশে টিকা নিবন্ধন শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে টিকা নেওয়াদের বয়স ৫৫ বছর বেঁধে দেওয়া হয়। পরে নিবন্ধন কম হওয়ায় কমিয়ে ৪০ বছর করা হয়। সবশেষ টিকা নেওয়া বয়স ৩০ বছরে করার ঘোষণা দেয় সরকার।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে এখন প্রতিদিনই প্রায় আড়াই লাখ মানুষকে প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সব সিটি করপোরেশন এলাকায় মডার্না ও জেলা এবং উপজেলায় দেওয়া হচ্ছে সিনোফার্মের টিকা। আর কোভ্যাক্স থেকে পাওয়া ফাইজারের টিকা দেওয়া হচ্ছে রাজধানীর সাতটি কেন্দ্রে।

এছাড়া নতুন করে সম্প্রতি কোভ্যাক্সের মাধ্যমে আস্ট্রাজেনেকার ২ লাখ ৪৫ হাজার ডোজ টিকা এসেছে।