ফের ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়লো

সিএনবিডি ডেস্কঃ ফের  এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম বাড়ল। বেসরকারি পর্যায়ে এলপিজির দাম প্রতিকেজি ৭৭ টাকা ৪০ পয়সা ধরে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম মূসকসহ ৯৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা জুলাই মাসে ছিল ৮৯১ টাকা এবং জুন মাসে ছিল ৮৪২ টাকা। এছাড়া, প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৪৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৮ টাকা ৭১ পয়সা নির্ধারণ করেছে হয়েছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে এ দাম কার্যকর হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) অনলাইনে এক সংবাদ সম্মেলনে ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির তৃতীয়বারের মতো দামের এই আদেশ দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

এ সময় বিইআরসির চেয়ারম্যান আবদুল জলিল, কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আবু ফারুক, মকবুল-ই এলাহী, বজলুর রহমান, কামরুজ্জামান, সচিব রুবিনা ফেরদৌসীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এর বাইরে ৫.৫, ১২.৫, ১৫, ১৬, ১৮, ২০, ২৫, ৩০, ৩৩, ৩৫ ও ৪৫ কেজি এলপিজির দামও বিইআরসি আদেশে পুনর্র্নিধারণ করা হয়েছে।

তবে সরকারি পর্যায়ে সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম আগের মতোই ৫৯১ টাকা থাকবে। যেহেতু এই দামের সঙ্গে সৌদি সিপির কোনো সম্পর্ক নেই, যা কমিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

সরবরাহ করা এলপিজির দাম ভোক্তা পর্যায়ে মূসক ছাড়া প্রতিকেজি ৬৭ টাকা ২৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ টাকা ১৯ পয়সা এবং মূসকসহ ৭১ টাকা ৯৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা ৪৩ পয়সা অথবা লিটার হিসাবে প্রতি লিটার মূসক ছাড়া ০ দশমিক ১৪৯৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ০ দশমিক ১৬৭১ টাকা এবং মূসকসহ প্রতি লিটার ০ দশমিক ১৫৯৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ০ দশমিক ১৭৮৭ টাকা পুনর্র্নিধারণ করেছে কমিশন।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জানান, বিইআরসি আইনের অনুচ্ছেদ ক অনুযায়ী জুলাই মাসের জন্য সৌদি আরামকো কর্তৃক প্রোপেন ও বিউটেনের ঘোষিত সৌদি সিপি যথাক্রমে প্রতি মেট্রিক টন ৬২০ ডলার এবং ৬২০ ডলার অনুযায়ী প্রোপেন ও বিউটেনের মিশ্রণ অনুপাত ৩৫:৬৫ বিবেচনায় প্রোপেন ও বিউটেনের গড় সৌদি সিপি প্রতি মেট্রিক টন ৬২০ ডলার বিবেচনা করে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

জুন মাসে এই প্রোপেন ও বিউটেনের ঘোষিত সৌদি সিপির দাম ছিল যথাক্রমে প্রতি মেট্রিক টন ৫৩০ ডলার এবং ৫২৫ ডলার। এ অনুযায়ী জুন মাসে প্রোপেন ও বিউটেনের মিশ্রণ অনুপাত ৩৫:৬৫ বিবেচনায় প্রোপেন ও বিউটেনের গড় সৌদি সিপি প্রতি মেট্রিক টন ৫২৬.৭৫ ডলার বিবেচনা করে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, গত ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো এলপিজির দাম নির্ধারণের ঘোষণা দেয় কমিশন। সাধারণত সৌদি সিপি (কন্ট্রাক্ট প্রাইস) অনুযায়ী দেশে এলপিজির দাম নির্ধারিত হয়। প্রতি মাসের শেষে যখন সৌদি সিপির দাম পরিবর্তন হয়, তখন কমিশন এলপিজির দাম পরিবর্তনের বিষয়ে নতুন করে আদেশ দেয় কমিশন।

 

চট্টগ্রামে করোনা রোগীর দেহে ব্লাক ফাঙ্গাস শনাক্ত

সিএনবিডি ডেস্কঃ এবার চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা ফেরদৌসি বেগম (৬০) নামে এই নারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হবার পর তার শরীরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্ত করেছেন চমেকের চিকিৎসকরা। গত চার দিন ধরে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চট্টগ্রামে এই প্রথমবারের মত একজন করোনা রোগী ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ (কালো ছত্রাক) আক্রান্ত হবার খবর নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবির।

জানা যায়, গত ২৫ জুন থেকে জ্বরে আক্রান্ত হন ফেরদৌসি বেগম। গত ৩ জুলাই তার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর ১৩ জুলাই তিনি করোনা নেগেটিভ হলেও তার নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। পরে স্বজনরা তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসকরা নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গতকাল (বুধবার) এই রোগীর ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্ত করা হয়। ওই নারীর স্বামী পাঁচদিন আগে করোনায় সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন।

ফেরদৌসি বেগমের মেয়ে তাহমিনা বেগম জানান, ১৩ জুলাই তার মায়ের করোনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসে। ১৫ জুলাই হঠাৎ তার দাঁতে ব্যথা শুরু হলে তাকে একজন ডেন্টিস্টের কাছেও নেওয়া হয়। পরীক্ষা রিপোর্ট দেখে ডাক্তার সন্দেহ করেন, রোগী ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত।

এরপর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বায়োপসি রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকরা নিশ্চিত হয়েছেন তিনি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত।

উল্লেখ্য, গত ৮ মে ৪৫ বছর বয়সী এক রোগীর শরীরে মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এরপর গত ২৩ মে ৬০ বছর বয়সী আরেক জনের শরীরেও ছাত্রাকজনিত রোগটি শনাক্ত হয়। এর পর গত ১৪ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ব্লাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত আর একজন রোগী শনাক্ত হয়। এ ছাড়া ভারতে গিয়ে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়েছেন দেশে ফিরেছেন এমন অন্তত দুইজনের শরীরে ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ শনাক্ত হয়েছে।

তুরস্ক বঙ্গবন্ধু স্মরণে ডাকটিকেট অবমুক্ত করেছে

সিএনবিডি ডেস্কঃ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মরণে একটি ডাকটিকেট অবমুক্ত করেছে তুরস্ক সরকার। গত ২৭ জুলাই তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ওই ডাকটিকেট অবমুক্ত করা হয়। মন্ত্রণালয়ের সাংস্কৃতিক উইং আয়োজিত ওই অবমুক্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তুরস্কে নিয়োজিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মসয়ূদ মান্নান।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাংস্কৃতিক উইংয়ের মহাপরিচালক ডেনিজ চাকারের আমন্ত্রণে অবমুক্তি অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাষ্ট্রদূত। বিশেষ ওই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মসয়ূদ মান্নান বলেন: মুজিব বর্ষে এই ডাকটিকেট অবমুক্তির ঘটনা দু’দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথাও স্মরণ করেন রাষ্ট্রদূত।

কঠোর লকডাউনেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলছে যাত্রীবাহী মটরসাইকেল

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ ঈদের ছুটি ২০,২১ ও ২২ জুলাই। এরপর ২৩ই জুলাই থেকে ০৫ই আগষ্ট পর্যন্ত লকডাউন এবং লকডাউনের সময় বন্ধ থাকবে শিল্পকারখানা,গণপরিবহণ, বেসরকারি অফিস আদালত সহ সকল কিছু। লকডাউন সফল করতে মাঠে থাকছে পুলিশ, আনসার, সেনাবাহিনী সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর থাকলেও তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে যাত্রীবাহী মটরসাইকেল।

আজ ২৯ জুলাই সরোজমিনে কালিয়াকৈর চন্দ্রা গিয়ে দেখা যায় এমন পরিস্থীতি। চন্দ্রা ত্রীমোড়ে দাড়িয়ে আছে মটরসাইকেল নিয়ে এই সব চালকেরা। ভাড়ায় ২জন যাত্রী নিয়ে চলছে সফিপুর, মৌচাক, কোনাবাড়ী পর্যন্ত। শুধু মটরসাইকেল নয় এদের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে তিন চাকার অটোরিক্সা। চন্দ্রা ত্রিমোড় থেকে পল্লী বিদ্যুৎ, আনসার একাডেমি, সফিপুর ও মৌচাক পর্যন্ত টানা চলছে তারা।

জানা গেছে, লকডাউনে মহাসড়কে গণপরিবহণ না থাকায় বাড়তি বাড়া আদায় করছে অটো রিক্সা চালক ও যাত্রীবাহী মটরসাইকেল চালকেরা। লকডাউনে যখন মহাসড়ক ফাঁকা তখন দাপুটে চলছে এই সকল অটো রিক্স ও যাত্রীবাহী মটরসাইকেল। নিত্য প্রয়োজনীয় বাজার করতে, জরুরী প্রয়োজনে যখন মানুষ বাহির হচ্ছে তখনই তিন গুন ভাড়া গুনতে হচ্ছে সাধারন মানুষের।

মৌলভীবাজার পৌর কতৃপক্ষের প্রায় দেড়শ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ বৈশ্বিক মহামারী ও কঠোর লকডাউন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই দেড়শ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছেন মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান। করোনা পরিস্থিতির কারণে এ বছর শুধুমাত্র গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে বাজেট উপস্থাপন করা হয়।

রোজ বৃহস্পতিবার (২৯জুলাই) মৌলভীবাজার পৌরসভা হলরুমে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ২০২১–২২ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন মেয়র। এতে ১৫৪ কোটি ৫৭ লাখ ৫৮ হাজার ৭৭ টাকা ৬৩ পয়সার বাজেট প্রস্তাব করা হয়। গত বছর অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ছিল ৯৭ কোটি ১৬ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮০ টাকা। এবছর সেটা প্রায় ৫৭ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন বাজেটে নাগরিকদের উপর নতুন কোন কর আরোপ করা হয়নি।

এই অর্থবছরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ড্রেন  মেরামত এবং সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিকরণে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান মেয়র। তৈরি করা হবে ফুলেল শহর।

উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কাজের মধ্যে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণে ব্যয় হবে ১০ কোটি টাকা। শহরের বাসাবাড়ি ও হোটেল-রেস্টুরেন্টের ময়লা সংগ্রহ করে তা ফেলার জন্য জগন্নাথপুর এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন। শান্তিবাগ এলাকায় মনুনদের পাড়ে সৌন্দর্য্য বর্ধনকরণ ও ওয়াকওয়ে নির্মাণে ব্যয় হবে ১১ কোটি টাকা, কোদালিছড়া সংস্কারে ২৩ কোটি টাকা এবং ২০টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ড্রেন নির্মাণে ব্যয় হবে ১১ কোটি টাকা।

এছাড়াও বেরি লেক সংস্কার ও সৌন্দর্য্যবৃদ্ধিকরণ চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান মেয়র ফজলুর রহমান।

বাজেট বক্তব্যে মেয়র বলেন, ১০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম। পৌরসভার আয় দিয়ে সেই ঋণের ৬০ শতাংশ পরিশোধ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকিটুকুও পরিশোধ করা হবে।

এছাড়া ডেঙ্গু ও মশা নিধন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান মেয়র। প্রতিদিন যেন পৌর শহরের এক হাজার মানুষ টিকা নিতে পারেন সে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য সিভিল সার্জন ও মৌলভীবাজার-২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সাথে আলোচনা হয়েছে। পৌরসভায় খোলা হয়েছে ভ্যাকসিনেশন রেজিস্ট্রেশন বুথ।

বাজেট অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- পৌরসভার কাউন্সিলর জালাল আহমদ, ফয়ছল আহমদ, নাহিদ হোসেন, আসাদ হোসেন মক্কু,  সৈয়দ সেলিম হক, অ্যাডভোকেট পার্থ সারথী পাল, সালেহ আহমদ পাপ্পু, আনিসুজ্জামান বায়েছ, নারী কাউন্সিলর নাজমা বেগম, জাহানারা বেগম, জিম্মি আক্তার, সহকারি প্রকৌশলী সৈয়দ নকীবুর রহমান, উপ-সহকারি প্রকৌশলী আব্দুল মালিক, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) রণধীর রায় কানু, উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মুমিন (সিভিল), উপসহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আমিনুল ইসলাম, হিসাব রক্ষক উজ্জ্বল চন্দ্র দেব, সহকারী হিসাব রক্ষক শর্মিলা দেবসহ পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও জেলার ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বাজেট ঘোষণা বিলম্বের কারণ হিসেবে মেয়র বলেন, করোনার প্রার্দুভাবে বাজেট ঘোষণা করতে বিলম্ব হয়েছে। এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। এ কারণে চলমান বাজেট সীমিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

মেয়র আরও বলেন, পৌর নাগরিকদের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা, মানসম্পন্ন সেবা দেয়ার দিকে লক্ষ্য রেখেই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মৌলভীবাজার শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প কাজ চলমান রয়েছে, আরও কিছু প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

ফুলবাড়ীতে দেড় বছরে পানিতে ডুবে ১৪ শিশুর মৃত্যু

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে করোনাকালীন দেড় বছরে পানিতে ডুবে ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অসচেতনতা এবং সাবধানতা অবলম্বন না করার কারনে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে পুলিশ দাবী করেছে। তাই পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হ্রাসে-শিশুর প্রতি যত্নশীল হওয়া, শিশুকে বাড়ীর বাইরে একা খেলতে না দেয়া, সাঁতার না জানা শিশুকে পুকুর,ছড়া কিংবা নদ-নদীতে গোসল করা থেকে বিরত রাখা সহ সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, পাড়া-মহল্লায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচার-প্রচারণার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন সচেতন মহল।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১১ জুলাই রবিবার বিকালে বাড়ীর পাশের পুকুরে ডুবে মারা যায় উপজেলার নওদাবশ গ্রামের সুবল চন্দ্রের কন্যা সুর্বনা (৬)। এর একদিন আগে ১০ জুলাই দুপুরে একইভাবে মারা যায় কিশামত প্রানকৃষ্ণ গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে মিরাজ (২)। এছাড়াও চলতি বছরের ২১ মে বাড়ীর উঠানে খেলতে খেলতে সকলের অগোচরে পাশের পুকুরে পড়ে মারা যাওয়া ঘোগারকুটি গ্রামের মাইদুল ইসলামের ছেলে মাহিম (২) সহ ২০২০ সালের জানুয়ারী মাস থেকে ২০২১ সালে ২৯ জুলাই পর্যন্ত উপজেলায় পুকুর ডোবা খাল-বিলে পড়ে মৃত্যুবরণ করে কোলমমতি ১৪ শিশু।

পানিতে ডুবে মারা যাওয়া এক শিশুর পিতা উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের তাজুল ইসলাম জানান ,তার দেড় বছরের কন্যা সন্তান উঠানে খেলতে খেলতে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ির পাশের ডোবার পানিতে পড়ে মারা যায়। কন্যা সন্তানের অকাল মৃত্যুতে শোকে কাতর তাজুল ইসলাম বলেন, অসচেতনতা এবং অবহেলার কারণে আমারা সন্তানকে হারিয়েছি। তাই শিশুদের প্রতি সকলেরই সচেতন হওয়া উচিত।

নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার বলেন, পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্য পরিবার ও সমাজকে আকর্ষ্মিক শোকের ছায়ায় ঢেকে দেয়। পারিবারিক এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি হলে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর সংখ্যা অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে আমি মনে করি। এজন্য সরকারী বা বেসরকারী ভাবে প্রচার-প্রচারণার বিকল্প নাই।

ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজীব কুমার রায় বলেন, ২০২০ সালের জানুয়ারী মাস থেকে ২০২১ সালের ২৯ জুলাই পর্যন্ত এ উপজেলায় পানিতে ডুবে ১৪ শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। অভিভাবকরা সচেতন হলেই পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর সংখ্যা হ্রাস পাবে বলে আমার বিশ্বাস।

করোনায় চট্টগ্রামের স্বেচ্ছাসেবকরা সারাদেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, “মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। মানুষের মধ্যে মানবিকতা প্রয়োজন। কোভিড-১৯, ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বেচ্ছাসেবক হতে যারা এসেছেন তারা একটি মহৎ কাজে শামিল হয়েছেন। এই উদ্যোগ চট্টগ্রামসহ সারাদেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) দুপুরে নগরীর আন্দরকিল্লাস্থ পুরাতন নগর ভবনে কে.বি আবদুস সাত্তার মিলনায়তনে কোভিড-১৯, ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং যে কোন দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে গঠিত আরবান কমিউনিটি ভলান্টিয়ার এর দলনেতাদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, চসিক গঠিত ভলান্টিয়ার ও দলনেতারা যদি এই করোনাসহ যেকোন দুর্যোগে সাফল্য দেখাতে পারেন তাহলে মেয়র হিসেবে আমি তাদের পুরষ্কৃত করবো। আশাকরি আমাদের ভলান্টিয়ারগণ সাফল্যের সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালার আলোকে কর্পোরেশনের গঠিত ৬ সদস্যের কমিটি এই ভলান্টিয়ারদের কার্যক্রম তদারক করবেন। ইতোমধ্যে ৪,৭,৮,১৯ নং ওয়ার্ড থেকে ভলান্টিয়ার নেয়া হয়। পরবর্তীতে প্রতিটি ওয়ার্ডে ২জন করে ভলান্টিয়ার সংযুক্ত করা হয়। এদের মধ্যে ৪ জন ভলান্টিয়ার ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত। তারা জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় দেশের যে কোন প্রান্তে কাজ করতে সক্ষম। বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইপসার প্রয়াস প্রকল্পের অধীনে ভলান্টিয়ার প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

চসিকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ও কাউন্সিলর জহরুল আলম জসিমের সভাপতিত্বে ও মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেমের সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন প্যানেল মেয়র মো. গিয়াসউদ্দিন,বর্জ্য স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর মো. মোবারেক আলী, স্বাস্থ্য স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর জহুর লাল হাজারী, সমাজ কল্যাণ স্ট্যান্ডিং কমিটির আবদুস সালাম মাসুম, সংরক্ষিত কাউন্সিলর রুমকী সেনগুপ্ত, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও চসিক সচিব খালেদ মাহমুদ।

ভ্যাকসিনেশনের পরিস্থিতি পরিদর্শনে নেছার আহমদ এমপি

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে টিকাদান কার্যক্রম, করোনার নমুনা সংগ্রহসহ হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেছেন আজ বৃহস্পতিবার (২৯জুলাই) মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান, পৌর মেয়র ফজলুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আজমল হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালালউদ্দিন মোর্শেদ, ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিনেন্দু ভৌমিক ও আরএমও ডা. ফয়সল জামান।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহযোগিতায় করোনা ভ্যাকসিন প্রদান ও নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানান সংসদ সদস্য নেছার আহমদ।

এ সুশৃঙ্খলতা যাতে অব্যাহত থাকে এবং হাসপাতাল যাতে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকে সেই ব্যাপারে মাননীয় সংসদ সদস্য নির্দেশনা প্রদান করেন এবং সকলকে সচেতন ও সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ মান্য করার জন্য আহবান করেন।

করোনা পরিস্থিতিঃ

ঈদের আগেই শতর্ক করা হয়েছিল কঠিন লক ডাউন আসছে। কারনটিও যথার্থ। সংক্রমনের অবস্থা তখন উর্ধমূখী। মানুষ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাড়ী গেছে ঈদ করতে। ফেরী ঘাটে ভির জমে ছিল বাড়ীফেরা মানুষের। অনেকের মূখেই মাস্ক দেখা যায়নি। পশুর হাটের চিত্র ছিল আরও ভয়ানক। তাই গতকাল ছিল করোনায় মৃতের সংখাটি সর্ব্বোচ্চ ২৫৮ জন। বহু মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এখন চিকিৎসাধীন। ঘরেও চিকিৎসা নিচ্ছে অনেকে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের অবস্থাটিও দিল্লির মত হয়ে পরবে। করোনার কোন অসুধ আবিস্কার হয়নি। যে সব দেশ বা শহর করোনা সংক্রমন নিয়ন্ত্রন করতে পেরেছে, তারা একটা ব্যবস্থাই নিয়েছিল ” মাস্ক এবং দুরত্ব” নিশ্চিত করা। গনমাধ্যমে নিত্য মৃত্যু সংবাদ দেখেও বাংলাদেশের মানুষ সচেতন হয়নি। গুরত্ব দেয়নি অনেকে। বরং লক ডাউন নিয়ে ব্যঙ্গ করছে। আবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে জায়গা না পেলে সরকারের ব্যর্থতা বলে চিৎকার করেছে। আসলে করোনাকে মোকাবেলা করা এককভাবে সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। জনগনের সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের মানুষ যত আগে বিষয়টি অনুধাবন করবে ততই মঙ্গল। নাহয় এই সংক্রমন মহামারির রূপ নিবে। মানুষ সচেতনতা না হলে লক ডাউন দিয়ে বা মেয়াদ বৃদ্ধি করে সংক্রমন রোধ করা যাবেনা। ব্যবসা বানিজ্যও স্বাভাবিক হবেনা। ভুলটি শুধু জনগনের নয় নেতারা বিভ্রান্ত করেছে মানুষকে।

অনেক উন্নত দেশের আগে বাংলাদেশে ভ্যাকসিন এসেছে। সেই ভ্যাকসিন নিয়ে নেতারা মিথ্যা আর ভুল মেসেজ দিয়েছে জনগণকে। কেউ বলেছেন হাস মুরগীর ভ্যাকসিন । আবার কেউ বলেছেন মানুষ মারার ভ্যাকসিন। এককজন প্রতিজ্ঞা করেছেন মরে গেলেও তিনি এই ভ্যাকসিন গ্রহন করবেননা। মানুষ নেতাদের কথায় ভ্যাকসিনে নিরুৎসাহীত হয়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরন করেছে। পরে দেখা গেল এই নেতারাই ভ্যাকসিন নিয়ে ছবি পোষ্ট করেছে গনমাধ্যমে। যিনি মরে গেলেও এই ভ্যাকসিন নিবোনা বলেছেন তিনিও চুপিসারে ভ্যাকসিন নিয়ে নিরাপদ ভাবছেন নিজেকে। এখন মানুষ রেজেষ্ট্রেশন করছে ভ্যাকসিনের জন্য। নেতাদের মিথ্যাচারে বিশ্বাস করে স্বজন হারিয়েছেন অনেকে। তাই অপেক্ষার লাইন এখন দীর্ঘ হচ্ছে যৌক্তিক করনে। নেতারা এখন আবার বলছেন সরকার বিদেশ থেকে ভ্যাকসিন আনতে ব্যর্থ হয়েছে।

সরকারে উদ্যোগকে সহায়তা করলে জনগন বিভ্রান্ত হতনা। এভাবে করোনা সংক্রমন বিস্তার হতনা। এই মিথ্যাচারের কারনেই এখনো ভ্যাকসিন নিয়ে দেশের মানুষের মনে ভয় কাজ করছে। কিন্তু যারা এই মিথ্যাচার করেছেন তারা ভ্যাকসিন নিয়ে সঙ্কামুক্ত হয়েগেছেন। প্রতিনিয়ত সরকার পরিবর্তনের দাবী করে জনগনকে ভুল পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের বক্তৃতা বিবৃতি আর্কাইভে রয়েগেছে। যারা প্রতিদিন ভ্যাকসিন নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন। জনগনকে নিরুৎসাহিত করেছেন, তারা এই মৃত্যুর দায় এড়াতে পারেননা। করোনা সংক্রমন আর ভ্যাকসিন নিয়ে নেতাদের মিথ্যাচার মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। নেতারা এই মিথ্যা প্রচারের না করলে মানুষ সচেতন হত আগেই। এভাবে সংক্রমন ছড়াতে পারতনা। শুধু মিথ্যাচারই করেনি এই নেতারা, জনগনের নেতা হিসাবে করোনা মোকাবেলায় কোন ভূমিকাও পালন করেনি। করোনা এখন জাতীয় দুর্যোগ হয়ে এসেছে। নেতা হিসাবে জনগন এবং দেশ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার রজনৈতিক অঙ্গিকার প্রত্যাশীত ছিল। কিন্তু নেতারা করোনাকে পুজি করে সরকার হটানোর ষরযন্ত্র করেছে। কেন তাহলে মানুষ হত্যার দায়ে এই নেতাদের বিচার হবেনা?

আজিজুর রহমান প্রিন্স,

কলামিস্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ।

কমলগঞ্জে গৃহবধূর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে নিখোঁজের ১ মাস ৬ দিন পর সুচিত্রা শব্দকর (৪০) নামে এক গৃহবধুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘাতক স্বামী সুবাস বাউরী ওরফে নুনু (৪৮) কে আটক করে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ।

স্থানীয়রা জানায়, স্বামী পরিত্যক্তা সুচিত্রা শব্দকর (৪০) পাত্রখোলা চা বাগানের বাজারে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতো। সেই সুবাদে পাত্রখোলা চা বাগানের পশ্চিম লাইন এলাকার মৃত নিতাই বাউরীর ছেলে সুবাস বাউরী ওরফে নুনুর সাথে পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠলে ১৩ বছর আগে সামাজিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক বছর সংসার ভালো চললেও পরে দেখা দেয় পারিবারিক কলহ। প্রতিদিনই মদ্যপ অবস্থায় স্বামী স্ত্রীর মাঝে ঝগড়াঝাটি হতো। বুধবার সকাল ১১ টার দিকে কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউপি পাত্রখোলা চা বাগানের পশ্চিম লাইন এলাকায় নিজ বাড়ির আঙিনার পাশে মাটি খুঁড়ে অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এই দম্পতির ঘরে এক ছেলে রয়েছে।

এদিকে গত ২২ শে জুন থেকে সুচিত্রা নিখোঁজ ছিলেন। মাস খানেক থেকে মায়ের সাথে আগের স্বামীর মেয়ে সীমা শব্দকরের যোগাযোগ না হওয়ায় সৎ পিতা সুবাসের কাছে মায়ের খবর জানতে মুঠোফোনে কল দিলে রহস্যজনক কথাবার্তা বলতো সুবাস। মেয়ে সীমা শব্দকরের সন্দেহ হলে স্বামীর বাড়ি কমলগঞ্জ সদর ইউপি তিলকপুর থেকে মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) সৎ পিতা সুবাস বাউরীর বাড়ি পাত্রখোলা চা বাগানের পশ্চিম লাইনে আসে। প্রথম দিকে সীমার কথার উত্তর না দিলেও পরের দিন ২৮ জুলাই বুধবার সকালে সীমার জেরার মুখে সুবাস একপর্যায় স্বীকার করে ১ মাস পূর্বে তার মায়ের সাথে ঝগড়া হয়েছিল তাই সে রাগ করে কুড়ালে হাতল দিয়ে আঘাত করলে সুচিত্রার মৃত্যু হয়। তাই সে ভয়ে লাশ গোপনের জন্য আঙিনার পাশে পুঁতে রেখেছে। একথা শুনে সীমা চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করলে সুবাস পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে এলাকার লোকজনকে সাথে নিয়ে পাত্রখোলা জামে মসজিদ এলাকা থেকে ঘাতক সৎ পিতা সুবাস কে আটক করে গাছের সাথে বেধে রেখে কমলগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেয়।

ঘাতক সুবাস বাউরী জানায়, পারিবারিক কলেহের জেরে চলতি বছরের ২২ জুন সে তার স্ত্রী সুচিত্রাকে হত্যা করে বাড়ির আঙিনার পাশে পুঁতে রেখেছে।

খবর পেয়ে মৌলভীবাজার জেলার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এএসপি ( শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) সার্কেল শহীদুল হক মুন্সির নেতৃত্বে কমলগঞ্জ থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান, ওসি তদন্ত সোহেল রানা, সহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যান। সেখানে আটককৃত ঘাতক সুবাস বাউরীর দেখানোমতে বাড়ীর আঙিনার পাশে পুঁতে রাখা গৃহবধূর অর্ধগলিত মরদেহটি দুপুর দেড় টায় উদ্ধার করে মৌলভীবাজার মর্গে প্রেরণ করে।

কমলগঞ্জ থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্ত্রী হত্যার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় সীমা শব্দকর বাদি হয়ে সৎ পিতা সুবাস বাউরীকে আসামী করে কমলগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেছে।