সপ্তাহব্যাপী কদমতলী থানা আওয়ামী লীগের মাস্ক বিতরণ কর্মসূচী শুরু

রাজনীতি ডেস্কঃ “মাস্ক পরিধান করুন। নিজে সুস্থ থাকুন, অন্যকে সুস্থ থাকতে সহায়তা করুন। করোনা সংক্রমণ রোধে মাস্ক ব্যবহার ৯০% কার্যকর”। সাবেক সহকারী একান্ত সচিব ডঃ মোঃ আওলাদ হোসেন মাস্ক বিতরন কর্মসূচীতে এসব মন্তব্য করেন।  সরকারের গনটিকা কর্মসুচী বাস্তবায়নের পাশাপাশি সকলকে মাস্ক পরিধান করার জন্য গনসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আজ বুধবার সকাল ১১ টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৮ নং ওয়ার্ডের বড়ইতলা চত্বর থেকে কদমতলী থানা আওয়ামীলীগ এর উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী বিনামূল্যে এই মাস্ক বিতরন কর্মসূচী শুরু হয়েছে।

আজ বুধবার (২৮ জুলাই) কর্মসূচি উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব ডঃ মোঃ আওলাদ হোসেন।

উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে ডঃ মোঃ আওলাদ হোসেন আরও বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ উর্ধমুখী। প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ শতাংশের আশেপাশে এবং মৃত্যুর সংখ্যা ২৫০ এর উপরে উঠে এসেছে। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীর জন্য নির্ধারিত  সুযোগ-সুবিধা প্রায় শেষ পর্যায়ে। হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর উপচে পড়া ভিড়। কোন হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। আইসিইউ ও উচ্চ চাপ সম্পন্ন অক্সিজেন সরবরাহ সুবিধাও শেষ পর্যায়ে। করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত লকডাউন কর্মসুচী আগামী ৫ জুলাই শেষ হবে। দীর্ঘদিন লকডাউন চলতে থাকলে অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙ্গে পরার আশংকা রয়েছে। নিম্নআয়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবিকা বন্ধ হয়ে গেলে, সরকারের দৃষ্টির আড়ালে, অনাহারে জীবন যাপন করার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।”

সাবেক সহকারী একান্ত সচিব বলেন, “জীবন-জীবিকা ও ভবিষ্যতের সংক্রমণের ভয়াবহতা বিবেচনায় রেখে সরকার আগামী ৭ জুলাই‘ ২০২১ শনিবার থেকে সারাদেশে ওয়ার্ড-ইউনিয়ন পর্যায়ে বিনামূল্যে গন-টিকা প্রদান কর্মসূচী ঘোষণা করেছে। টিকা নিতে ‘অনলাইন রেজিস্ট্রেশন‘ করার মত বিড়ম্বনা বাতিল করে শুধুমাত্র জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে টিকা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই মাঝে টীকা প্রদানের বয়সসীমা ৪০ বছর থেকে নামিয়ে ৩০ বছর করা হয়েছে এবং খুব সহসাই ১৮ বছরে নামিয়ে আনা হবে। এমনি পরিস্থিতিতে গনটিকা কর্মসুচী বাস্তবায়নের পাশাপাশি সকলকে মাস্ক পরিধান করার জন্য গনসচেতনতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। মাস্কবিহীন বাইরে ঘোরাফেরা করলে আপনি করোনা সংক্রমিত হতে পারেন, আপনার থেকে আপনার পরিবারের সদস্যরা সংক্রমিত হতে পারে। পরিবারের সদস্যদের করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচিয়ে রাখতে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। নিজে বাঁচতে হবে, অন্যকে বাঁচতে সহযোগিতা করতে হবে।”

আজকের মাস্ক বিতরণ অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন কদমতলী থানা আওয়ামীলীগ এর সভাপতি মোহাম্মদ নাছিম মিয়া।

এ সময় মাস্ক বিতরণ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা পরিষদ সদস্য জননেতা আলমগীর হোসেন, কদমতলী থানা আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ আহসানউল্লাহ, মোঃ নজরুল ইসলাম, রোখসানা বেগম পারুল, শহীদ মাহমুদ হেনা, ৫৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মহব্বত হোসেন, ৫৮ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ফরিদ হোসেন, ৫২ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর খান, ৫৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ আরিফ হোসেন, ৫২ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি দবিরুল ইসলাম সহ আওয়ামীলীগ ও অংগ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 

কুলাউড়ার ডাকাত মিলাদ অস্ত্র সহ আটক

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় সংঘটিত ডাকাতি মামলার অন্যতম আসামি মিলাদ (৩০) কে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোজ মঙ্গলবার (২৭জুলাই) কুলাউড়া থানার ওসি বিনয় ভূষণ রায়ের নেতৃত্বে ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই অপু কুমার দাসসহ থানা পুলিশের একটি টিম গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মিলাদকে গ্রেপ্তার করে, বিকেলে কুলাউড়া থানায় নিয়ে আসেন।

গ্রেপ্তারকৃত মিলাদ মিয়া রাজনগর উপজেলার সালন নিবাসী তরিক মিয়ার ছেলে।

কুলাউড়া থানা ইনচার্জ (ওসি) বিনয় ভূষণ রায় জানান, থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মিলাদের স্বীকারোক্তি মূলক মঙ্গলবার রাতে পৃথক এক অভিযান চালিয়ে কুলাউড়ার টিলাগাঁও ইউপি বাঘেরটিকির লুকিয়ে রাখা এক ঝোঁপ থেকে ৬ রাউন্ড কার্তুজসহ ১টি দেশীয় পাইপগান উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। এ ব্যাপারে মিলাদের বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলা ছাড়াও কুলাউড়া থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে বুধবার (২৮ জুলাই) মৌলভীবাজার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়া থানাধীন টিলাগাঁও ইউপি আশ্রয়গ্রামের মো. ইকরাম আলীর বসত ঘরে গত (১৬জুলাই) রাতে অজ্ঞাতনামা ৮/৯ জনের এক ডাকাতদল বসত ঘরের কলাপসিবল গেইটের তালা এবং দরজার লক ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে বাড়ির লোকজনদের দেশীয় অস্ত্র রামদা, ছুরির ভয় দেখিয়ে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থসহ সর্বমোট ১১ লাখ ৫৬ হাজার ৬ শত টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

উক্ত ঘটনায় মো. ইকরাম আলী খান বাদী হয়ে গত ১৭ জুলাই অজ্ঞাতনামা ৮/৯ জন ডাকাতদের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ ডাকাতদের গ্রেপ্তারে  অভিযান পরিচালনা শুরু করে।

বিষয়টি ভাবনার বটে

হেলেনা জাহাঙ্গীর এবং চাকুরীজিবী লীগ নিয়ে তুমুল হৈচৈ হচ্ছে গনমাধ্যমে। হেলেনা জাহাঙ্গীর লাইভে এসে কান্নাকাটি করে নির্দোষ প্রমানের চেষ্টা করেছে। দাবী করেছে দীর্ঘ দিন ধরেই তিনি বহু প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত। এখন অনেকেই প্রশ্ন করছেন হেলেনা কোন যোগ্যতায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় মহিলা বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য হলেন। কোন বিবেচনায় হেলানাকে অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করেছে এবং কারা করেছে! নিয়ম হল দলের এবং অঙ্গ সংগঠনের মধ্য থেকে ধাপে ধাপে মূল দলে নিয়ে আসা। এমন অনেক ত্যগী নেতা-কর্মী দীর্ঘদিন ধরে এই কমিটিতে আসার জন্য অপেক্ষা করছে। তাদেরকে উপেক্ষা করে হেলেনাকে দলের উপ কমিটির সদস্য করার রহস্যটি উদঘাটন হওয়া দরকার। উপ কমিটির সদস্যা হয়েই হেলেনা জাহাঙ্গীর যে কাজটি করেছে তা কোন ত্যগী নেতা-কর্মী কখনোই করবেনা। দলের নিয়মনীতিকে উপেক্ষা করে চাকুরীজিবী লীগের সভাপতি বনে গেছে হেলেনা। এখন কান্নাকাটি করে যতই বলুক সে জেনে শুনেই নেতা হওয়ার চেষ্টা করেছে। হেলেনার উপর কারও আশির্বাদ থাকতে পারে কিন্তু, দলের জন্য এই ধৃষ্ঠতা ক্ষমার অযোগ্য। এমন বহু হেলেনা আছে যারা দাপট দেখাচ্ছে দলে। আগামি নির্বাচনের আগে এই সব নেতাদের নির্মুল করতে না পারলে দলের ক্ষতি হবে।

হেলেনা জাহাঙ্গীরের আলোচনা শেষ না হতেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভিকারুননেসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপ্যাল কামরুন নাহার। তার একটি ফোনালাপের অডিও ভাইরাল হয়েছে গনমাধ্যমে। দেশের স্বনামধন্য বিদ্যাপিঠের একজন সম্মানীত প্রিন্সিপ্যাল যে ভাষায় কথা বলেছেন তা বিশ্বাস করা যায়না। বস্তির মেয়েরা যে ভাষায় কথা বলে সে ভাষায় সেভাবেই গালাগালি করেছেন এই প্রিন্সিপ্যাল। শুধু প্রিন্সিপ্যাল নয় একজন ভদ্র নারীর পক্ষেও এমন অশ্রাব্য গাল দেওয়া সম্ভব নয়। এক পর্যায়ে বলেছেন “আমি পিস্তল বালিশের নীচে রেখে ঘুমানো মেয়ে। আমার বিরুদ্ধে কেউ লাগলে তাকে আমি স্কুল নয় দেশ ছাড়া করবো”। রাস্তায় কাপড় খুলে পিটাবো। গালাগালি শুনে কান গরম হয়ে গেছে শ্রোতাদের। ভদ্র পরিবেশে এই ভাষা উচ্চারন করাও সম্ভব নয়। এমন শিক্ষকদের কাছে শিক্ষার্তীরা কি শিখবে? কেন এই স্কুলে মেয়ে পাঠাবে অভিবাবিকরা। অনেকেরই ব্যক্তি চরিত্র আছে কিন্তু এমন পদে বসে অশ্রাব্য গালিগালাজ অমার্জনীয় অপরাধ। বিপদটি হল এই প্রিন্সিপ্যাল দলের সংশ্লিষ্ঠতার কথা বলেছেন টেলিফোনে।

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ব্যপক উন্নয়ন করেছে। দেশ এখন উন্নত দেশের কাতারে স্থান পেতে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু ব্যক্তি এবং তাদের আচার আচরন দলকে ক্ষতিগ্রস্থ্য করছে। এদের ব্যক্তিগত আচরনের দায় সরকারের নয় কিন্তু, বিরোধীরা এটাকেই পুজি করে প্রচারনায় নামবে। এই মুহুর্তে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার মত কোন ইস্যু নেই বিরোধী দলের কাছে। দলের নেতা কর্মীদের অপকর্ম সরকারের সকল কৃতত্বকে ম্লান করে দিচ্ছে। নেতারা প্রায়ই ” হাই ব্রিড” ” কাউয়া বলে বক্তৃতা করেন। এদের বিরুদ্ধে হুশিয়ারী উচ্চারন করেন। কিন্তু নেতাদের আশির্বাদেই এরা দলে শক্ত অবস্থান করে নিয়েছে। কাউয়ারাই নেতা-কর্মীদের এখন সাবধান করে দলে। প্রত্যান্ত অঞ্চলের নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও হঠাৎ দলে ঢোকা নেতাদের দাপটে ত্যগী কর্মীরা এখন কোঠাসা হয়ে পরেছে। কতজন হেলেনা দল থেকে বহিস্কার হয়েছে জানিনা। এসব ভুইফোড় নেতাদের নির্মুল করা নাগেলে আগামি নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে দলে। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রিয় কমিটিতে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি ভাবনার বটে।

আজিজুর রহমান প্রিন্স,

কলামিস্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ।

মুরাদনগরে থানা পুলিশের অভিযানে ড্রেজার মেশিন জব্দ

মোঃ খোরশেদ আলম, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার মুরাদনগর থানা পুলিশের অভিযানে ৫টি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুরাদনগর সার্কেল) মীর আবিদুর রহমান ও মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাদেকুর রহমান।

এসময় উপজেলার কেয়ট গ্রাম থেকে ১টি, বোড়ারাচর এলাকা থেকে ৪টি ড্রেজার মেশিন জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

জানা যায়, এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষি জমি থেকে দীর্ঘদিন যাবত ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি কেটে তা বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে আসছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। যার ফলে এসব ব্যবসায়ীর স্থাপনকৃত ড্রেজারের আশপাশের জমি ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছিল।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুরাদনগর সার্কেল) মীর আবিদুর রহমান বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন (এফসিএ) ও কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার) এর নির্দেশনায় ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কৃষকের ফসলি জমি রক্ষার জন্য আগামীতে এ অভিযান পুলিশের অব্যাহত থাকবে।

শ্রীমঙ্গলে কঠোর লকডাউনেও প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে ঘরের বাহিরে লোকজন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে উপজেলায় নানা অজুহাতে ঘর থেকে বের হচ্ছে সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে কঠোর লকডাউন ভাঙছেন বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়ীরা। শহরে পুলিশের চেকপোস্ট ফাঁকি দিয়ে চলছে সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা। মাস্ক পরার প্রবণতাও খুবই কম। আর এসব ঘটনার বিপরীতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা।

মানুষের মধ্যে অসেচতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারনে গতকাল মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) এই উপজেলায় একদিনেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ এ দাঁড়িয়েছে। যা এই উপজেলার একদিনে সর্ব্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা।

মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, শ্রীমঙ্গলে এই পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৭৬ জন। এর মধ্যে সুস্থ্য হয়ে উঠেছেন ৪৭৭জন। এর মধ্যে এই মুহূর্তে ৩২ জন আক্রান্ত রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা বাসা বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই আক্রান্তের মধ্যে শ্রীমঙ্গল উপজেলা হাসপাতালে নমুনা দিয়ে মারা গেছেন ৭ জন।

গতকাল শ্রীমঙ্গলে একদিনেই ৩০ জন করোনা শনাক্ত হওয়া ছাড়াও গত ১০ দিনে ৮১ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই উপজেলায় গত ২৬ জুলাই ৩ জন, ২৫ জুলাই ৩ জন, ২৪ জুলাই ৩ জন, ২৩ জুলাই ১২জন, ২১ জুলাই ৭ জন, ২০ জুলাই ১ জন, ১৯ জুলাই ৯ জন, ১৮ জুলাই ১৩ জন করোনা পজেটিভ হন।

সরেজমিনে মঙ্গলবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় সব দোকানপাটই খোলা রয়েছে। দোকানগুলোর একটি সার্টার খোলা রেখে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। হোটেলে বসে খাওয়া নিষেধ হলেও বিভিন্ন ছোট ছোট হোটেল গুলো সেটি মানছে না। মাস্ক পরিধান করে ঘর থেকে প্রয়োজনে বের হওয়ার কথা থাকলেও বেশীরভাগ লোকই মুখে মাস্ক ছাড়া বের হতে দেখা গেছে। শহরে সিএনজি ও অটোরিকশা চলছে। তবে প্রশাসন যখনই মাঠে নামছে বা যেদিকে যাচ্ছে সেই দিকগুলো পুরো বন্ধ ও মানুষের মুখে মাস্ক পরতে দেখা যাচ্ছে। এভাবেই প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে লকডাউন ভাঙছেন ব্যবসায়ী ও সাধারন মানুষ। এসব ঘটনার মধ্যে প্রশাসনের অভিযান মোবাইলে কোর্টে জরিমানা করছেন নিয়মিত।

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস ছালিক বলেন, আমরা শহরে প্রবেশমুখে বিভিন্ন স্থানে চেক পোস্ট বসিয়েছি। লোকজন নানা অযুহাতে ঘর থেকে বের হচ্ছে। আমরা তাদের আটকিয়ে জিজ্ঞাসা করলে বেশিরভাগ লোকই আমাদেরকে রোগী পরিচয় দেয়, প্রেসক্রিপশন পকেট থেকে বের করে, ফার্মেসি থেকে ওষুধ আনার কথা বলে, তাছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনার অযুহাত তো থাকছেই। এই অবস্থার মধ্যে দিয়ে আমরাও আসলে দ্বিধাদন্দে পরিবেশ হয়ে যায় যে কে সত্য বলছে আর কে মিথ্যা বলছে। উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি আমরাও শহরে আসা যাত্রীবাহী যানবাহনগুলো আটক করে থানায় নিয়ে যাচ্ছি।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার  ও উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, মানুষের নানা অজুহাত, বেশিরভাগ লোকই আমাদেরকে রোগী পরিচয় দেয়, প্রেসক্রিপশন পকেট থেকে বের করে, ফার্মেসি থেকে ওষুধ আনার কথা বলে, তাছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনার অযুহাত তো থাকছেই। সরকার কর্তৃক যে নীতিমালা দেওয়া হয়েছে আমরা সেই নীতিমালা কার্যকরে আমরা মাঠে কাজ করছি।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নেছার উদ্দীন বলেন, সরকার কর্তৃক যে নীতিমালা দেওয়া হয়েছে আমরা সেই নীতিমালা কার্যকরে মাঠে রয়েছি। বিনা প্রয়োজনে অকারণে বাসা থেকে বের হওয়া ও দোকানপাট খোলার কারনে আমরা জরিমানা করেছি। এছাড়াও অপ্রয়োজনে বের হওয়া লোকজনকে আটক করে থানায় পাঠানো হচ্ছে। আমরা অভিযান করতে গিয়ে দেখেছি, মানুষ অযথা বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হচ্ছেন। মানুষের মধ্যে অসচেতনতা দেখা যাচ্ছে। আমরা সবাইকে বলবো সবাই সচেতন হোন। আমাদের দেশে করোনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই করোনাভাইরাসকে ঠেকাতে আমাদের সকলের ভূমিকা, যার যার অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব ততটুকু ভূমিকা নেওয়া উচিত।

বাঞ্ছারামপুরে স্বেচ্ছাসেবকলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সজিব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন পালন ও খাবার বিতরণ অনুষ্ঠিত

মো. নাছির উদ্দিন, বাঞ্ছারামপুর, প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের আয়োজনে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  সুযোগ্য উত্তরসূরি জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও ডিজিটাল বাংলাদেশের সপ্নদ্রষ্টা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের শুভ জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল শেষে গরীব অসহায়দের মাঝে রান্না করা খাবার ও  মাস্ক  বিতরণ করা হয়েছে।

২৭ শে জুলাই মঙ্গলবার বিকালে  বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের  দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্হিত ছিলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান সায়েদুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুল।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক মো.আল-আমিন এর সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক  মো. কবির হোসেন, পৌর কাউন্সিলর মকবুল হোসেন, স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর হাফিজ বাদশা, পৌর আওয়ামীলীগ এর তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক শামীম আহমেদ, পৌর যুবলীগ সভাপতি কামাল আহমেদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন, সাবেক আহবায়ক আলমগীর হোসেন, সাবেক  সাধারন সম্পাদক রুহুল আমিন টিপু , সাবেক সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা শ্রমিকলীগের যুগ্ম আহবায়ক রবিউল আউয়াল, আব্দুল লতিফ লিটু, পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি মো. সোহেল রানা, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি মো.আবুল কালাম, সবুজ আহমেদ, আমির হোসেন ,মো.কবির হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, মো. মকসুদ, পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি মো. অহিদ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উল্লাহ, আইয়ুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম,সাধারণ সম্পাদক কাজী নূর মোহাম্মদ,ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ডাক্তার সঞ্চয় সরকার, তেজখালী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি জালাল মোসলেম, যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনসহ আওয়ামীলীগের  বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ফুলবাড়ীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের জাকলাটারী ছড়ারপাড়  গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর নাম রহিমা বেগম (৫৫)। তিনি ওই গ্রামের আবদার আলীর স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানান, ছিড়ে যাওয়া বিদ্যুতের তার জোড়া দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গুরুতর আহত হন ওই নারী। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ফুলবাড়ী থানার ওসি রাজীব কুমার রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলে ‘সজীব ওয়াজেদ জয়’ ৫১ তম জন্ম দিন পালন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বাঙালি জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর দৌহিত্র ও বর্তমান সময়ের মানসকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদর্শে আদর্শিত সন্তান সজীব ওয়াজেদ (জয়) এর ৫১ তম জন্মদিন উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে ‘সজীব ওয়াজেদ জয় পরিষদ’ এর আহ্বায়ক কমিটির উদ্যোগে ৫১টি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়।

মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ও মানুষের মাঝে ৫১টি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করেন।

৫১টি এই গাছের চারা রোপণ সম্পর্কে জানতে চাইলে জানান, সজীব ওয়াজেদ (জয়) ৫১ তম জন্ম দিন এরই ধারাবাহিকতায় সন্মান পূর্বক এমন উদ্যেগ নেন নেতাকর্মীরা।

উক্ত কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন সেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এ এফ এম এম হিমেল এবং ‘সজিব ওয়াজেদ জয় পরিষদ’ কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন (অপু), সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান (সোহেল), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হেলন আহমেদ, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক সাব্বির আহমেদ, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক মোঃ শাওন চৌধুরী, সদস্য রহমান শাহী, আবদুল্লাহ আল জোবায়ের, এ.ডি স্বপ্ন সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রাণীশংকৈলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল, (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে করোনাকালে স্বল্পপরিসরে কর্মহীন ও দুস্থ শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এ উপলক্ষে ২৭ জুলাই মঙ্গলবার সকালে দলীয় কার্যালয়ে  জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে বিকেলে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মুন্নাফ হোসেনর সভাপতিত্বে  এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেব বক্তব্য রাখেন উপজেলা আ’লীগ সভাপতি অধ্যক্ষ সইদুল হক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, পৌর আ’লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মহাদেব বসাক, স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি প্রভাষক খাদেমুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া হাবিব ডন,আ’লী সদস্য তারেক আজীজ প্রমুখ।

এছাড়াও উপজেলা আ’লীগ সদস্য তসদিকা হক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সদস্য নওরোজ কাউষার কানন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দপ্তর সম্পাদক আরথান আলী, ছাত্রলীগ নেতা টিটুসহ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ ও অন্যান্য সহোযোগি অঙ্গসংগঠনের  নেতাকর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।

শেষে করোনায় কর্মহীন ও দুস্থ শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী হিসেবে চাল, ডাল,তৈল,সাবান, লবন ও আলুর সম্বিলিত একটি করে প্যাকেট বিতরণ করা হয়।

ডোমারের চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশন ঘুরতে এসে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক প্রেমিক যুগল

মোঃ মোশফিকুর ইসলাম, নীলফামারীঃ নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশন ঘুরতে এসে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) সদস্যের হাতে আটক হয়েছেন প্রেমিক যুগল।

গেল সোমবার (২৬ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে ডোমার উপজেলার চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশন প্রথম দেখা করতে আসে প্রেমিক যুগল। রেললাইন দিয়ে হাটার সয়ম নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) সদস্য তাদেরকে আটক করে অফিসে নিয়ে আসে। এর পর প্রেমিকে মারপিট করে আরএনবির দুই সদস্য আনিস ও সাজ্জাদ। তারপর প্রেমিক যুগলের পরিবারের অভিভাবকদের ফোন করে জানালে তারা ছুটে আসে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) অফিসে।

তাদের অভিভাবকদের সাথে টাকা রফাদফা করে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) দুই সদস্য লিখিত নিয়ে ছেড়ে দেয় প্রেমিক ও যুগলকে। আটক প্রেমিক সিরাজ (১৯) চিলাহাটির ১নং ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের গোসাইগঞ্জ এলাকার মালেক ইসলামের ছেলে। তিনি ঢাকা শহরে একটি রড মিলে কাজ করেন। তার সাথে আটক হওয়া একই ইউনিয়নের মেয়েটির আগে বিয়ে হয়েছিল। এক সন্তান রেখে তার সংসার বিচ্ছেদ ঘটে। রং নাম্বারে কথার এক পর্যায়ে তাদের মাঝে মধুর সম্পর্ক ভালোবাসা তৈরি হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) সদস্যদের কাজ হচ্ছে রেলওয়ের নিরাপত্তা দেওয়া। ঘুরতে আসা ছেলে-মেয়েদের আটক করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া তাদের কাজ নয়। তারা আরো বলেন দিনে দুপুরে চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশনে খারাপ কাজ করা সম্ভব নয়। রেলওয়ে স্টেশন সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং শত শত মানুষের চলাচল রয়েছে। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) সদস্যেরা প্রায় প্রায় অসহায় পরিবারের ছেলে-মেয়েদেরকে আটক করে টাকা রফাদফা করে। তারা এ ধরনের কাজ গুলো মোটেও ঠিক না।

চিলাহাটি রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর হাবিলদার সেলিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পার্বতীপুরে অবস্থান করায় বিষয়টি পুরোপুরি জানেনা বলে কলটি কেঁটে দেন।

চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আশরাফুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন,ছেলে-মেয়েদের কে আটক করে। টাকা রফাদফা করা মোটেও ঠিক করেনি । তাদেরও তো আত্মীয় স্বজন হতে পারত। তারা খুবই লজ্জাজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আরো বলেন, আমি শুনেছি মানুষের কাছে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) বিষয়টি শুনেছি টাকা নিয়ে রফাদফা করেছে। আমি অফিসের কাজে বাইরে ছিলাম আর কিছু জানিনা।

দীর্ঘ ৫ ঘন্টা পর চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশনের নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি)খাঁচায় আটক থাকার পর সন্ধ্যার পূর্বে উভয় প্রেমিক-প্রেমিকা যখন মুক্ত আকাশে বেরিয়ে নিজ বাড়ির অভিমুখে যাচ্ছিল, ঠিক তখনি স্থানীয় যুবসমাজ তাদের আটক করে পিছনে ফেলে আসা দিনগুলোর কথা জিজ্ঞাসা করতে থাকে। ঠিক সেই মূহুর্তে হাজির হয় চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই হামিদুল ইসলাম ও তার সঙ্গীয় ফোর্স।

এ প্রসঙ্গে,চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একজন কর্মকর্তা এসআই হামিদুল ইসলাম। তিনি উভয় ছেলে-মেয়েকে ধরে চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যান। পরে তিনি সংবাদদাতাকে জানান, এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি আপস মিমাংসা করে ঘটনাটির সমাধান করেন এবং ছেলে-মেয়েকে নিয়ে যান।

তবে বর্তমানে এলাকায় একটি মন্তব্য বাতাসে উড়ে বেরাচ্ছে, প্রেমিক সিরাজের পারিবারিক অবস্থা ভাল থাকায় টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়েছে। কিন্তু, টাকাটা নিল কে ?