বায়ান্ন লাশের আর্তচিৎকার❗

কলমে- শ্যামা

লোহার খাঁচায় বন্দী করে তারা বারবিকিউ করে জুস দিয়ে খেলো আমাকে,
তারা উঠেপড়ে লেগেছিলো কচি মাংস পুড়িয়ে খেতে।
পেটের দায়ে শিশু বয়সেই যেমনিভাবে জুস ফ্যাক্টরিতে কাজ নিতে উঠেপড়ে লেগেছিলাম।
যখন আমি আগুনে পুড়ে ঝলসে যাচ্ছি তারা তখন গেটে বড়োবড়ো তালা দিলো, বুনো উল্লাসে ফেটে পড়লো- আমার শরীরের মাংস দিয়ে বারবিকিউ পার্টি করবে বলে।
বাঁচার ইচ্ছায় জুতোয় নিজের নাম লিখে আমি ছুঁড়েছিলান জানালা দিয়ে,
জানাতে চেয়েছিলাম আমি শ্রমিক,
তালাবদ্ধ দরোজার ওপারে বেঁচে থাকার আর্তচিৎকারে এক অসহায় মানুষ।
এই জুতোজোড়া স্বাক্ষী-
আগুনে দগ্ধ আমার শরীর বিধ্বস্ত ভবনের কনক্রিটের নিচে চাপা দিয়েছো,
অথচ আমার মতো শ্রমিকের ঘামে, রক্তে আর বুকের চাপা কষ্টের ওপর দাঁড়ায়,
দেশীয় জিডিপির প্রবৃদ্ধি আর উন্নয়ন।
তোমরা নাকি আজ, বর্তমান বিশ্বের দ্রুত উন্নয়নশীল অর্থনীতি সপ্তম দেশ।
যারা আমার শরীরের পোড়া মাংস,
সেজান জুস দিয়ে চিবিয়ে খেলে,
সেই সেজান জুস তৈরি করিয়েছো আমারই হাতে, পঁচা আমে।
করোনা বেলাতেও পায়নি বেতন হাসেম ফুডের শ্রমিক যারা,
প্রতিবাদে রূপগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করেছিলাম আমরা৷
পাওনা চার মাসের বেতন আর ওভারটাইম নাই,
আমি পুড়ে ভস্মীভূত হওয়ার মাত্র সপ্তাহখানেক আগে।
তাই কি আজ আমাকে পুড়িয়ে বারবিকিউ পার্টি করলে?
চেয়ারম্যান হাসেম স্যার তুমি বড় ভাগ্যবান,
শ্রমিকদের এই বাহান্নজন আর কোনদিন বকেয়া বেতন চেয়ে আন্দোলন করবে না।
গরীবের হক মেরে খেয়ে নন-ক্যাম্পেইন ফ্যাক্টরিতে কাজ করতে বাধ্য করা,
হাসেম সাহেবেরাই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, তাই তোমাদের হাত কাঁপে না, নির্বিকার থাকতে পারো অকুতোভয়ে।
ঠাণ্ডা মাথায় আমাদের বাহান্নজন মানুষকে গলিত লাশে পরিণত করলে।
গরীবের রক্ত চুষে আর জীবনের বিনিময়ে হাসেম তুমি পকেট ভরো,
উন্নয়নের রোল মডেল তৈরি করো, বাড়াও জিডিপি প্রবৃদ্ধি।
বিজনেস ম্যানের পোষা রাষ্ট্র, সরকার, পুলিশ প্রশাসন আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি,
উল্টো আমাকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার বিচার চেয়ে যারা মানববন্ধন করলো, তাদের নির্লজ্জভাবে পিটিয়ে গেলে অবিরাম,
আর পত্রিকার পাতায় ক’জনইবা প্রচার করলো সেজান ব্রান্ডের জুসের নাম,
সখ্যতা নষ্ট হয়ে যাবে, তাই তো।
কোথায় দেবো বিচার?
কার কাছে দেবো?
আসমানের মালিকের কাছে, হেহ- বিচার দেবো?
কেন দেবো তার কাছে বিচার, বলতে পারো?
এই রাষ্ট্র, সরকার, পুলিশ আর মালিকেরা,
যারা আমাদের শাসনের বদলে শোষণ করে, তারা কারা?
কে তাদের সেই ক্ষমতা দিলো,
কে তাদের মালিক বানালো,
কে আমাদের স্বপ্ন পুড়িয়ে দিতে দিলো,
কে পরিবার, সমাজ, নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে-
বারবিকিউ পার্টির উপকরণ করতে দিলো,
তিনি তো সেই সত্ত্বা, মহাপরাক্রমশালী, পৃথিবীর একমাত্র অধিকর্তা, সকল ক্ষমতা উৎস।
আসমান-জমিনের মালিক খোদা।
তাই যদি হয় তবে, ঐ আসমানের মালিকই আমাকে পুড়িয়ে মারার ক্ষমতা দিয়েছে, তাদের।
তাই আসমানের মালিকের কাছে কোন বিচারই দেবো না।
চাই না বিচার, নাহ বিচার বলে কিছু নাই!
আসমানের মালিক, দুনিয়ায় মালিকের পক্ষেই থাক।
একবার বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের কথা মনে পড়েছিলো,
কারণ আমাদের বায়ান্নজনকে লোহার খাঁচায় বন্দী করে আগুনে ঝলসে বারবিকিউ বানানো হচ্ছে।
আহা! সেই বায়ান্নর সাথে আজকের বায়ান্নর কতো অমিল!
তোমার আসমানে বিচার নামের শব্দ নাই!

গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে এমপি শিবলী সাদিককের শোক

অলিউর রহমান মেরাজ, দিনাজপুর প্রতিনিধি : একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট গণসংগীত শিল্পী, বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা ফকির আলমগীর এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দিনাজপুর ০৬ আসনের সাংসদ সদস্য এমপি শিবলী সাদিক।

এমপি শিবলী সাদিক আজ এক শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় দিনাজপুর ০৬ আসনের এমপি শিবলী সাদিক জানান, ফকির আলমগীর স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।  ‘৬৬ এর গণঅভ্যুত্থান, ‘৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর গান এদেশের সাধারণ মানুষকে উজ্জীবিত করেছে। মহান স্বাধীনতা আন্দোলন ও গণসংগীতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

উল্লেখ্য, ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ফকির আলমগীর (৭১) গতকাল ২৩ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১০:৫৬ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

বিধিনিষেধ অমান্য করে মাধবপুর লেকে পর্যটকদের ভিড়

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনায় আরোপিত নিষেধাজ্ঞা, লকডাউন শিথিল থাকলেও পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্ত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ঈদের দিন স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে মাধবপুর চা-বাগান লেকে প্রায় ২-৩ হাজার পর্যটকের আনাগোনা করতে দেখা গেছে।
গেল বুধবার (২১জুলাই) ঈদের দিন বিকাল থেকে গতকাল অবধি মাধবপুর চা-বাগান লেকে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নারী-পুরুষ ও শিশুরা দল বেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। লেকে প্রবেশের প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে চা-কারখানার সামনের গেটে পর্যটকদের মোটরসাইকেল ও যানবাহন আটকে দিলেও টাকার বিনিময়ে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে পর্যটকদের। কেউ কেউ টাকা দিতে না পেরে লুকিয়ে চা-বাগানের ভেতর দিয়ে পায়ে হেঁটেই লেকে প্রবেশ করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাধবপুর লেকের গেটম্যান বলেন, ‘সরকার দেশের সকল পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রেখেছে। মাধবপুর লেকও বন্ধ ছিল। কিন্ত ঈদের দিন সকাল থেকে লেকে পর্যটকরা প্রবেশ করছে। কারও মুখে মাস্ক নেই, মাস্ক কোথায় জিজ্ঞাসা করলেও ধমক দেয় আমাদের। সামনের গেইটগুলোর দায়িত্বে থাকা গেটম্যানরা ভেতরে মোটরসাইকেল ও পায়ে হেঁটে প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে বলেই তো এতো পর্যটকের ঢল নেমেছে। আমাদের কিছু করার নেই।
তবে টাকার বিনিময়ে পর্যটকদের প্রবেশের বিষয়ে মাধবপুর লেকের ২ নং গেটের দায়িত্বে ধরমবীর মন্ডলের সাথে কথা বললে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
মাধবপুর ইউপি পরিষদ চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু বলেন, ‘লেকে পর্যটকদের প্রবেশ নিষেধ থাকলেও পর্যটকরা কোন নিষেধাজ্ঞা মানছেন না। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে জোর করে লেকে পর্যটকদের প্রবেশ করার বিষয়টি আমি গেটে দায়িত্বে থাকা তাদের কাছ থেকে জেনেছি। আর টাকার বিনিময়ে গেট পাস দেয়ার বিষয়টি এখন জানলাম, আমি চা-বাগান কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, করোনাকালীন সময়ে পর্যটন কেন্দ্রে প্রবেশ কোনভাবেই মানা যাবেনা। দল বেঁধে এভাবে স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে ঘুরে বেড়ানোর কোন সুযোগ দেওয়া যাবে না। তিনি বাগান কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন বলে জানান।

রায়পু‌রে বাবুরহাট ব্লাড ফাউ‌ন্ডেশ‌নের উ‌দ্যো‌গে আসহায়‌দের মা‌ঝে কোরবানীর গোস্ত বিতরন

মোঃ জ‌হির হো‌সেন, লক্ষ্মীপুরঃ লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর ৩ নং চর‌মোহনায় বাবুরহাট ব্লাড ফাই‌ন্ডেশ‌নের উ‌দ্যো‌গে প্রধান উদ্যোক্তা জালাল উ‌দ্দিন রানার উ‌দ্যো‌গে, প্রধান উপ‌দেষ্টা নাজমুল ইসলাম মিঠুর সমন্ব‌য়ে  অসহায়‌দের মা‌ঝে কোরবানীর গোস্ত বিতরন করা হ‌য়ে‌ছে। ক‌রোনার থাবায় যখন মানুষ সর্বশান্ত হ‌য়ে দি‌নের খাবার জোগাড় কর‌তে হিম‌শিম খা‌চ্ছে, তখন ঈ‌দে পশু কোরবানী করা তা‌দের জন্য ম‌নের ভাবনা ছাড়া আর কিছু নয়।

সংগঠন‌টির প্রধান উপ‌দেষ্টা নাজমুল ইসলাম মিঠু ব‌লেন আমা‌দের সংগঠন‌টি প্র‌তিবৎসরই  ঈ‌দের পর‌দিন এলাকার গরীব অসহায়‌দের জন্য প্রবাসী এবং দে‌শের কিছু মানু‌ষের সহ‌যৌগীতায় গরু ক‌োরবানী ক‌রে যা‌দের কোরবান দেওয়ার সামর্থ নেই ঈদুল আযহার ২য় দিন  তা‌দের ঘ‌রে কোরবানীর গোস্ত পৌঁ‌ছে দেয় সংগঠন‌টি। এছাড়া ও বাবুরহাট ব্লাড ফাউ‌ন্ডেশ রায়পুর এলাকার আ‌শেপা‌শে নানান সামাজ‌কি সহায়তামূলক কাজ ক‌রে থা‌কে। তি‌নি আশা প্রকাশ ক‌রেন এই  ধর‌নের সামা‌জিক সহয়তার কাজ তারা অব্যাহত রাখ‌বেন।

হতাশর মা‌ঝেও আ‌লো ছড়া‌নো যা‌দের কাজ তেমনই একটি সংগঠ‌নের নাম বাবুরহাট ব্লাড ফাউ‌ন্ডেশন। এই  সংগঠন‌টি ১৯৯৬ সা‌লে স্বেচ্ছয় রক্ত দান করার ল‌ক্ষে এক ঝাঁক উ‌দিয়মান তরুন এবং এলাকার সন্মানীত ক‌য়েকজন ব্যা‌ক্তি‌তে উপ‌দেষ্টা ক‌রে গঠিত হয়। সফলতার সা‌থে এলাকার বি‌ভিন্ন সামা‌জিক কাজ ক‌রে আ‌লো চড়া‌চ্ছে সংগঠন‌টি।

 যারা কোরবান দি‌তে পা‌রেন‌নি তা‌দের জন্য গরু কোরবা‌নি দি‌য়ে ৭৫ টি প‌রিবা‌রের মা‌ঝে গোস্ত, আলু, আটা এবং ডাল পৌঁ‌ছে দেয় সংগঠ‌নটির স্বেচ্ছা‌সেবীরা। প্র‌তি বৎসর  প্রবাসী এবং দে‌শের মানু‌ষের সহ‌যোগীতায় এভা‌বে মহত কাজ‌টি ক‌রে থা‌কে সংগঠন‌টি।

শ্রীমঙ্গলের সকলের প্রিয়মুখ নাট্যকর্মী মৌ আর নেই

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার শহরতলী নাট্যকর্মী মৌসুমী নাগ মৌ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তিনি ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

গত সপ্তাহের মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৌসুমী নাগ মৌ শ্রীমঙ্গলের সংবাদকর্মী পঙ্কজ কুমার নাগের স্ত্রী , তিনি  ঐত্যিবাহী শ্রীমঙ্গল থিয়েটারের নাট্য বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও কালিঘাট চা বাগান কিশোরী ক্লাবের আবৃত্তির শিক্ষক হিসেবেও কাজ করতেন।

অসংখ্য পথ নাটক, মঞ্চ নাটকের পাশাপাশি দেশ বিদেশের বিভিন্ন টেলিভিশনের ধারাবাহিক ও নাটকে কাজ করছেন তিনি।

শ্রীমঙ্গল থিয়েটারের কোষাধ্যক্ষ রুপক দত্ত বলেন, মৌসুমী আমাদের থিয়েটারে একজন নিবেদিত প্রান ছিলো। সে মঞ্চ নাটক, পথ নাটকসহ বিভিন্ন টেলিভিশনের ধারাবাহিক ও প্যাকেজ নাটকে অভিনয় করেছে। তার মৃত্যুতে আমাদের শ্রীমঙ্গলের নাট্যাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবারে তার স্বামী ও ১১ বছরের পুত্র সন্তান রয়েছে। তাদের তিন জনের সংসারে অনাবিল সুখ ছিলো। মৌসুমীর স্বামী সব কিছুতে তাকে নিয়ে আসতো। একটি পরিবার থেকে সুখ চলে গেলো।

পরিবার সুত্রে জানা যায়, গত ৮ জুলাই তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থতা বোধ করলে বাসায় রেখে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে গত ১৫ জুলাই তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার নমুনা পরীক্ষায় রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ও এনেস্থেসিওলজিস্ট ডা. এনাম উর রশীদ দীপু বলেন, প্রথম যখন আমাদের হাসপাতালে মৌসুমী নাগ ভর্তি হন তখন আমাদের আইসোলেশনে ছিলেন। তারপর তার হাই ফ্লো অক্সিজেন দেয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়।

পরবর্তীতে আমরা তাকে আইসিইউ বেডে নিয়ে আসি। হাই ফ্লো অক্সিজেন শুরুর সাথে সাথে প্রয়োজনীয় সব ঔষুধ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, অক্সিজেন হাইফ্লো দিয়ে দিলেও মৌর অবস্থা ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছিলো। একে তো কোভিড নিউমোনাইটিস তার উপর তিনি অন্তঃসত্ত্বা। তিনি তাই অনেকটাই কম ইমিউনিটিতে ভুগছিলেন। গত ৩/৪ দিন অনেক চেষ্টা করার পরও আমরা তাকে বাঁচাতে পারলাম না।

ঢাকা বনফুল গ্রীন লিও ক্লাবের সভাপতি মোঃ সোহেল, সম্পাদক রিসাত রহমান স্বচ্ছ

যুবায়ের ইবনে জহির, জবি প্রতিনিধিঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লিও মো. সোহেলকে সভাপতি ও লিও রিসাত রহমান স্বচ্ছ সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা বনফুল গ্রীন লিও ক্লাবের ২০২১-২২ সেশনের নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

মঙ্গলবার লিও ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫, বি২ এর ভাইস প্রেসিডেন্ট লিও মীর হোসেন মাসুদের উপস্থিতিতে ২০২১-২২ কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করেন।

কমিটিতে ক্লাব উপদেষ্টা হিসেবে আছেন লায়ন মনির হোসাইন।

লিও মো. সোহেল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ সেশন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও লিও রিসাত রহমান স্বচ্ছ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ সেশনের আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী।

অন্যান্য পদে সহ সভাপতি ১ লিও সুমাইয়া বিনতে তাহের ইরা, সহ-সভাপতি ২ লিও মশিউর শুভ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডমিন লিও ইসরাত জাহান লিমু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রজেক্ট লিও শাহ মুহাম্মদ শরফুদ্দিন ও ট্রেজারার (কোষাধ্যক্ষ) পদে লিও তমা ইসলামসহ মোট ১৮টি পদে ২৭ জন লিও নির্বাচিত হয়েছেন।

জানা যায়, ২০১০ সালে ঢাকা বনফুল গ্রীন লিও ক্লাব স্পন্সরড বাই লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা বনফুল গ্রীন যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন মানবসেবামূলক ও সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করে আসছে‌ সংগঠনটি।

নবনির্বাচিত সভাপতি লিও মো. সোহেল বলেন, ‘ঢাকা বনফুল গ্রীন লিও ক্লাব ২০২১-২২ সেশনের কার্যকরী কমিটির সভাপতি হিসেবে আমাকে মনোনীত করায় ঢাকা বনফুল গ্রীন লায়ন্স ও লিও লিডারদের প্রতি আমি আন্তরিক ভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। মানবতার সেবার ব্রত নিয়ে লিও কার্যক্রমে সংযুক্ত হয়েছি। আশা করছি আগামী এক বছর লায়ন্স ও লিও লিডারদের সহায়তা, পরামর্শ এবং আমার কেবিনেট সদস্যদের সমন্বয়ে ঢাকা বনফুল গ্রীন লিও ক্লাবকে সেবা কার্যক্রমের মাধ্যমে লিও ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫, বি২ এর একটি শক্তিশালী ক্লাব হিসেবে রিপ্রেজেন্ট করতে পারবো।’

ঢাকা বনফুল গ্রীন লিও ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল লিও ক্লাবের ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ বি২ এর অধীনস্থ একটি লিও ক্লাব। লিও ক্লাব লায়ন্স ক্লাবের ফান্ডের উপর নির্ভরশীল। লিও শব্দের অর্থ হলো নেতৃত্ব, দক্ষতা, সুযোগ। লিও তরুণদের নিয়ে সামাজিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে নেতৃত্ব বিকাশে সহযোগিতা করে। লিও ক্লাবের সদস্যরা লিও নামে পরিচিত। তারা সমাজে স্বাস্হ্য সেবা প্রদান, দারিদ্র্য বিমোচন, আত্মউন্নয়নসহ বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক কাজ করে থাকে।

কিংবদন্তী গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর আর নেই

সিএনবিডি ডেস্কঃ কিংবদন্তী গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর আর নেই। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন এই গুনী শিল্পী। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন ছেলে মাশুক আলমগীর রাজীব। মৃত্যুকালে ফকির আলমগীরের বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে রেখে গেছেন।মৃত্যুকালে ফকির আলমগীরের বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে রেখে গেছেন।

ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এই বরেণ্য শিল্পীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

এর আগে সোমবার (১৯ জুলাই) ফকির আলমগীরের চিকিৎসায় ইউনাইটেড হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। ১৮ জুলাই রাত ১০টার দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা। আর গত ১৪ জুলাই ফকির আলমগীরের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়। এর একদিন পর ১৫ জুলাই জ্বর ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। করোনায় তার ফুসফুস ৬০ শতাংশ সংক্রমিত হয়।

ফকির আলমগীর ১৯৫০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় দিনটিতে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার কালামৃধা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মো. হাচেন উদ্দিন ফকির, মা বেগম হাবিবুন্নেসা। শিল্পী কালামৃধা গোবিন্দ হাইস্কুল থেকে ১৯৬৬ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে স্নাতক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

ফকির আলমগীর ষাটের দশক থেকে সংগীতচর্চা করেছেন। গান গাওয়ার পাশাপাশি বাঁশীবাদক হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিল। বাংলাদেশের সব ঐতিহাসিক আন্দোলনে তিনি তাঁর গান দিয়ে মানুষকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি ১৯৬৬ সালে ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী ও গণশিল্পীগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে ষাটের দশকে বিভিন্ন আন্দোলন–সংগ্রামে এবং ’৬৯-এর গণ–অভ্যুত্থানে গণসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। গণ–অভ্যুথান, ’৭১–এর মুক্তিযুদ্ধ ও ৯০–এর সামরিক শাসনবিরোধী গণ–আন্দোলনে তিনি শামিল হয়েছিলেন তাঁর গান দিয়ে।

যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে সঞ্চিত যন্ত্রণাকে প্রকাশ করার জন্যই দেশজ সংগীতের সঙ্গে পাশ্চাত্য সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি ও তাঁর সময়ের কয়েকজন শিল্পী শুরু করেছিলেন প্রথম বাংলা পপ ধারার গান। বাংলা পপ গানের বিকাশেও তাঁর রয়েছে বিশেষ অবদান।

সংগীতের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এ পর্যন্ত পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় ‘একুশে পদক’, ‘শেরেবাংলা পদক’, ‘ভাসানী পদক’, ‘সিকোয়েন্স অ্যাওয়ার্ড অব অনার’, ‘তর্কবাগীশ স্বর্ণপদক’, ‘জসীমউদ্‌দীন স্বর্ণপদক’, ‘কান্তকবি পদক’, ‘গণনাট্য পুরস্কার’, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক মহাসম্মাননা’, ‘ত্রিপুরা সংস্কৃতি সমন্বয় পুরস্কার’, ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড যুক্তরাষ্ট্র’, ‘জনসংযোগ সমিতি বিশেষ সম্মাননা’, ‘চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড বিশেষ সম্মাননা’ ও ‘বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ’।

রাজনীতির ভাবনাঃ

আবার চৌদ্দ দিনের লক ডাউন শুরু হয়ে গেছে। অবস্থার উন্নতি না হলে এই চৌদ্দ দিনের সময় সীমা বাড়বে বোঝা যাচ্ছে। করোনা সংক্রমন নিয়ন্ত্রনে আনতে ভিন্ন কোন উপায়ও নেই। এভাবেই বছর শেষ হবে মনে হয়। দেশের রাজনীতিও এখন লক ডাউনে আটকে গেছে। কারন পৃথিবী জুরেই করোনা এখন এক নম্বর সমস্যা। করোনাকে নিয়ন্ত্রন করা না গেলে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে বাংলাদেশ। সরকার সেই লক্ষ্যে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে। যারা রাজনীতি করেন তারা গেল বছর এই করোনা নিয়ে রাজনীতি করেছেন। নেতার যে সব বক্তব্য দিয়েছেন তা অসত্য প্রমান হয়েছে। মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে ভেকসিন নেয়নি অনেকে। মানুষের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। ভেকসিন নিয়ে যারা বিরূপ মন্তব্য করেছেন তারাই নিজেরা ভেকসিন নিয়ে ছবি পোষ্ট করেছেন। এখন নেতাদের নেতৃত্বের যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। রাজনীতিতে অভিযোগ উত্থাপন করলে তা প্রমান করা জরুরী। বিরোধী দলের নেতারা করোনা নিয়ে যা যা বলেছেন তার একটি অভিযোগও সত্য প্রমানীত হয়নি। অসত্য বক্তব্য রাজনীতিতে গ্রহন যোগ্য নয়। সরকার হটাতে হুংকার দিয়েছেন বার বার। কিন্তু তারা নিজেরাও জানেন জনসমর্থন নেই তাদের। মাঠেও কর্মী নেই। বি এন পি ছাড়া মাহামুদুর রহমান মান্না সহ কিছু নেতা প্রতিদিন অভিযোগ করে চলেছেন। আসলে সরকারের সমর্থটি বোঝবার যোগ্যতাও তাদের নেই।

পদ্মা সেতু চালু হলে দক্ষিন বঙ্গ যুক্ত হবে উন্নয়নে। দেশের চেহারাটাই বদলে যাবে তখন। মিথ্যা অভিযোগ করে জনগনের সমর্থন পাওয়া অসম্ভব হবে। নির্বাচনী প্রচারনা শুরু হয়ে যাবে ২০২২ সাল থেকেই। বিরোধী নেতারা নিজেদের দলটিও গুছাতে পারেনি। নেতাবিহীন দলের পক্ষে সমর্থন আদায় করা হবে দুরহ ব্যপার। এমন কোন ইস্যুও হাতে নেই যা নিয়ে রাস্তায় নামবে বিরোধী দল। এই দুর্যোগে মানুষের হয়ে কাজ করলে আর দল গুছাতে পারলে কিছুটা হলেও সমর্থন পেত। সরকার বিপর্যয় ঠেকাতে কোন ভুল করেনি। প্রসংশীত হয়েছে আন্তর্জাতিক ভাবেও। উন্নয়নের দৃশ্যটিও অবাক করেছে দেশবাসিকে। দুর্নীতির কথা বলে সরকার হটাও আন্দোলনের ডাক দিয়ে সুবিধা করতে পারবে মনে হয়না। জোটের সদস্যরাও এখন আর জোটভুক্ত নেই অনেকে। নেতৃত্ব কার হাতে সেটিও পরিস্কার নয়। এমন নেতৃত্বহীন দল বা জোট আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে হারিয়ে ক্ষমতায় চলে আসবে এমন ভাবনা অবাস্তব। ভোট কারচুপির অভিযোগও সত্য নয়। সত্যটি হল বি এন পি নির্বাচনকেই ভয় পায়। কু করে যারা ক্ষমতায় যায় তাদের পক্ষে গনতান্ত্রিক পথে ক্ষমতায় যাওয়া সহজ নয়। এখন জনগনের চাওয়াটি হল ” শেখ হাসিনাই প্রধানমন্ত্রী থাক”। কিন্তু জনগন আওয়ামী লীগেও পরিবর্তন চায়। যারা ক্ষমতায় গিয়ে অর্থ হাতিয়েছে, যারা এলাকাবাসির কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেছে এবং যারা ত্যগী কর্মী বাহিনীকে উপেক্ষা করে অন্যদের সুবিধা দিয়েছে। তাদেরকে আর চায়না। এই শুদ্ধি অভিযানে অনেকের নামই উঠে এসেছে। সম্ভবত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিষয়টি জানেন। আগামি নির্বাচনে সৎ এবং ত্যগী নেতারা সুযোগ দিলে বিপুল ভাবে বিজয়ী হবে আওয়ামী লীগ। দেশের বেশীর ভাগ মানুষের প্রত্যাশাটিও তাই!

আজিজুর রহমান প্রিন্স,

কলামিস্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ। 

করোনা মোকাবেলায় `লকডাউন` বনাম `মাস্ক পরিধান ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ`

গত ঈদে অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের সময় বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের হার ছিল ১৫ শতাংশের আশেপাশে। সে সময়ে গড়ে প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৫০ থেকে ৬০ এর মধ্যে। তখন ঈদের ছুটিতে খুবই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীও মাঠে নেমেছিল। আর বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ শতাংশের আশেপাশে এবং মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর উপরে। অর্থাৎ গত ঈদের সময়ের চেয়ে বর্তমানে মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণ, আক্রান্তের হার তিনগুনেরও বেশি। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বিবেচনায়  বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১২তম এবং মৃত্যুর সংখ্যা বিবেচনায় ৯ম।

রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীর জন্য নির্ধারিত  সুযোগ-সুবিধা ক্রমেই কমে আসছে। ইতিমধ্যে হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর উপচে পড়া ভিড়। কোন হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ICU বা উচ্চ চাপ সম্পন্ন অক্সিজেন সরবরাহ সুবিধাও শেষ পর্যায়ে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বলেছেন, আগত করোনা রোগীর অধিকাংশ ঢাকার বাইরে থেকে আসা। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন যেভাবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে একই হারে যদি আরও কিছুদিন করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে তাহলে, সামনের দিনগুলোতে হাসপাতাসমূহের চিকিৎসকরা করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা দিতে পারবে না।

এতো গেলো করোনা আক্রান্তদের পরিস্থিতি। কিন্তু করোনার এ বাড়তি চাপের কারণে অন্যান্য রোগে যারা আক্রান্ত তাদের চিকিৎসাও এখন কঠিন চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন, যেমন-ক্যান্সার, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন মারাত্মক ব্যাধিতে ভুগছেন, তাদের জন্য এখন হাসপাতালগুলো যেন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে যে, এই ধরনের রোগীরা করোনার ঝুঁকি নিয়েও হাসপাতালে যাচ্ছেন এবং সেখানে গিয়ে অনেকে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, তার বড় ভাই করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। বড় ভাবি করোনা আক্রান্ত হয়ে বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। ভাতিজা-ভাতিজি, নাতি-নাতনী সকলেই করোনা পজিটিভ আছেন। এমনকি ঐ বাসায় কাজের মেয়ে দুটিও করোনা পজিটিভ। উল্লেখ্য, প্রাথমিক পর্যায়ে বড় ভাই ছাড়া বাড়ির কেউই করোনা আক্রান্ত ছিলেন না। বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা পারিবারিক দায়িত্ববোধ বা আবেগের বশবর্তী হয়ে স্বাস্থ্যবিধি লংঘন করে করোনা রোগীর সংস্পর্শে আসার  কারনে বাড়ীর সকলেই করোনা পজিটিভ হয়েছেন।

অতিসম্প্রতি ৭১ টিভি চ্যানেলের সংবাদে একটি ভিডিও ফুটেজে প্রচারিত হয়েছে, শেরপুরের জনৈক আবদুস সোবহান করোনা আক্রান্ত হয়ে অক্সিজেনের মাত্রা ৬০ এ নীচে নেমে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য অক্সিজেন সরবরাহ সুবিধাসহ একটি এম্বুলেন্স নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। প্রথমেই গমন করেন মহাখালীস্থ ডিএনসিসি করোনা বিশেষায়িত হাসপাতালে। কিন্তু বিধি বাম, বেড খালি নাই। রোগীর স্বজনেরা এম্বুলেন্স নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেও কোন ICU বেড পাননি। এমনকি অক্সিজেন সরবরাহ সুবিধাসহ কোন সাধারণ বেডও খালি  পাননি। এমনকি স্বজনেরা পরিচিত প্রভাবশালীজনদের দিয়েও চেষ্টা করিয়েছেন, কিছুতেই কিছু হলো না। কিন্তু এরই মধ্যে এম্বুলেন্সে রাখা সিলিন্ডারের সীমিত পরিমাণ অক্সিজেন নিঃশেষ হয়ে যায়। মৃত্যুর কোলে ঢলে পরেন তিনি। অক্সিজেনের অভাবেই এ পৃথিবীর আলো বাতাস ছেড়ে চিরবিদায় নিলেন তিনি।
অপর একটি এম্বুলেন্স টাঙ্গাইল থেকে ৫৫ বছর বয়স্ক একজন মূমুর্ষ করোনা আক্রান্ত রোগী নিয়ে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে আসে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, করোনা আক্রান্ত রোগীটি ভর্তির জন্য চেষ্টা করতে হয়নি। পথিমধ্যে সিলিন্ডারের অক্সিজেন নিঃশেষ হয়ে যাওয়ায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

এমনি পরিস্থিতিতে গত  বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই ২০২১ থেকে করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার কর্তৃক আরোপিত সকল বিধিনিষেধ শিথিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করার পর, ঈদের আনন্দ পরিবারের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে বাড়ির পথে ছুটেছেন অনেক মানুষ। গত কয়েকদিনে যেভাবে মানুষ ঘরমুখে ফিরছে তাতে স্বাস্থ্যবিধি মানা আদৌ সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না। আবার ইতিমধ্যে গরুর হাটও শুরু হয়েছে, সেখানেও স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই। এদিকে যানবাহনে মানা হচ্ছে না সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি। অর্ধেক যাত্রী ধারণের কথা থাকলেও অধিক সংখ্যক যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। কেউ মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন বিশেষজ্ঞ বলছেন যে, এখন যেভাবে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে তাতে ঈদের পরে  আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হার অনেক বাড়তে পারে। ফলে একটা ভয়ঙ্কর অবস্থা তৈরি হতে পারে।

মানুষের জীবন-জীবিকা এবং ঈদ উৎসব উদযাপনের কথা বিবেচনা করেই সরকারকে এই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এই সময়টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরাও। তবে স্বস্থির বিষয় হলো, করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এসে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ থেকে কমে ১০ জনে এসেছে। বিনামূল্যে টিকা প্রদান কর্মসূচী অব্যাহত রয়েছে। যদিও টীকা সংগ্রহকারীর সংখ্যা কম এবং টীকা নিতে ‘অনলাইন রেজিস্ট্রেশন‘ করার বিষয়টি বিড়ম্বনা মনে করেন সাধারণ মানুষেরা। এরই মাঝে টিকা প্রদানের বয়সসীমা ৪০ বছর থেকে নামিয়ে ৩০ বছর করা হয়েছে। বর্তমানে ১ কোটি ৮০ লক্ষ ডোজ টিকা মজুদ রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর‘ ২০২১ নাগাদ আরও প্রায় ১০ কোটি ডোজ টিকা আমদানির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন, দেশের প্রতিটি নাগরিককে বিনামূল্যে টিকা প্রদান নিশ্চিত করা হবে।

তবে সরকার যতই পদক্ষেপ গ্রহণ করুক না কেন, করোনা সংক্রমণ রোধে প্রয়োজন গনসচেতনতা। প্রয়োজন জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা ও সামাজিক উদ্যোগ। করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারের এতসব আয়োজনেও গনসচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছে না। জনগনকে স্বাস্থবিধির গুরুত্ব অনুধাবন করানো যাচ্ছে না। মাস্ক পরিধান ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার উপকারিতা বুঝানো যাচ্ছে না। শুধুমাত্র প্রশাসন ঘোষিত প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বিধিনিষেধ বা লকডাউন দিয়ে করোনা সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন লকডাউন চলতে থাকলে অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙ্গে পরার আশংকা রয়েছে। নিম্নআয়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবিকা বন্ধ হয়ে গেলে, সরকারের দৃষ্টির আড়ালে, অনাহারে মানুষ মরার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।

অনাহারে মানুষের জীবন হারানোর মত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটলে, অনেক বেশি রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে। সেকারনেই ভবিষ্যতের সংক্রমণের ভয়াবহতা বিবেচনায় রেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদপদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। রেডিও-টেলিভিশনে মাস্ক পরিধান ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি মসজিদের ইমাম-খতিবগন, স্কুলের শিক্ষকমন্ডলী ও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে সক্রীয় করতে হবে। হালে করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারী কার্যক্রমে শুধুমাত্র সরকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ায় জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের গুরুত্বহীন মনে করছেন। করোনা সংক্রমণ রোধে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ততা অতীব জরুরি। আমাদের মনে রাখতে হবে, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সম্পৃক্ততা ছাড়া অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো দূরহ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অঙ্গুলি নির্দেশে বাঙালি জাতি পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন করেছিল ও স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করে গণতন্ত্রের বিজয় এনেছিল। তাই রাজনৈতিক নেতৃত্বে প্রশাসনসহ সকল সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ, মসজিদের ইমাম-খতিবগণ, শিক্ষকমন্ডলীসহ সকলস্তরের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করতে হবে। উপরোল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ এবং সামাজিক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনসমূহকে সম্পৃক্ত করে, জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বে  মানুষকে মাস্ক পরিধান ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার গুরুত্ব ও উপকারিতা অনুধাবন করানোর পাশাপাশি, টীকা গ্রহণে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করাও জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা সংক্রমিত হোক বা না হোক, নাকমুখ ঢেকে যথাযথভাবে মাস্ক পরিধান করে  সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করলে ৯০-৯৫% সংক্রমণ প্রতিরোধ হয়।

এছাড়া পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে, বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিজস্ব ব্যবহারের জন্য স্থাপিত অক্সিজেন উৎপাদন ব্যবস্থা জোরদার করে হাসপাতালসমূহে অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধি করা বাধ্যতামূলক করতে হবে। অক্সিজেন ব্যবহার করতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি জরুরি ভিত্তিতে আমদানি করা প্রয়োজন। মার্চ ২০২০ থেকে করোনা মোকাবেলায় চিকিৎসক, পুলিশ, নার্সসহ অন্যান্য সম্মুখযোদ্ধারা অনেকেই ক্লান্ত। বিভিন্ন পেশার সহস্রাধিক সম্মুখযোদ্ধা  করোনা আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন। চাহিদা অনুযায়ী ডাক্তার, নার্স, মেডিকেল টেকনিশিয়ান এর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে  দ্রুত নতুন নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

সর্বোপরি ‘মাস্ক পরিধান ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে‘ জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পুলিশ বাহিনী সহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী সকল বাহিনীকে যথাযথ দায়িত্ব দিতে হবে। কলকাতার পুলিশ শপিং মল, রাজপথ, যেকোন স্থানে মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে কঠোর কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল। বর্তমানে কলকাতায় করোনা সংক্রমণের হার ০% এসে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশেও একইভাবে মাস্ক পরিধান ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনী সহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী সকল বাহিনীকে যথাযথ দায়িত্ব দিতে হবে।

আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে আমাদের সকলকে আরো সহযোগিতা করা খুবই জরুরি। মসজিদে মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে ইসলামী ফাউন্ডেশন থেকে মসজিদ পরিচালনা কমিটির প্রতি কঠোর নির্দেশ জারি করতে হবে। সরকারী-বেসরকারী অফিস, ব্যাংক, কলকারখানা, শপিংমল কাঁচাবাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্ব স্ব কর্তৃপক্ষ যথাযথ দায়িত্ব পালন করবে। তবেই, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে।

ডঃ মোঃ আওলাদ হোসেন,

ভেটেরিনারীয়ান, পরিবেশবিজ্ঞানী, রাজনৈতিক কর্মী ও কলামিস্ট,

ঢাকা, বাংলাদেশ। 

ঈদ

গত দু’দিন আগে ঈদ ছিল বাংলাদেশে। এই উপলক্ষে লাক ডাউন শিথিল করা হয়েছিল সাত দিনের জন্য। আগামি কাল থেকে আবার লক ডাউন দেওয়া হয়েছে। ঝুকিপুর্ন এলাকাকে সম্পুর্নভাবে বন্ধ ঘোষনা করা হবে। কিন্তু গরুর হাটের স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি সঠিকভাবে। স্বাস্থ্য দপ্তরের কোন নিয়ন্ত্রন ছিলনা গরুর হাটে। দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে গরু ব্যবসায়ীরা পশু বিক্রির উপর বেশী গুরত্ব দিয়েছে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে। হাটে ক্রেতার সংখ্যাও কমতি ছিলনা। অর্থ সঙ্কটের কথা বললেও গরু কিনেছে প্রতিযোগীতা করে। অন লাইনেও অনেক গরু বিক্রি হয়েছে। এগ্রো ফার্মগুলি অন লাইনে গরু/ ছাগল বিক্রি করে বাড়ীতে পৌছে দিয়েছে। স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই এই পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। বেশীর ভাগ বাড়িতেই গরু/ ছাগল রাখতে দেওয়া হয়নি এবং, ঈদের দিন পশু জবাই হয়েছে রাস্তায়। বৃষ্টি হওয়ায় বর্জ পরিস্কার করতে সুবিধা হয়েছে। কিন্তু করোনা সংক্রমনের খবরটি জানা যায়নি। তবে অনেকেই ধারনা করছে এই সাত দিনের শিথিলতা সংক্রমন ছড়িয়েছে। আগে করোনা হলে লোকেরা গোপন রাখত। এখন অনেকেরই মৃত্যু সংবাদ, সংক্রমনের সংবাদ আসছে প্রতিদিন। ১৪ দিনের লক ডাউন ঘরে বন্ধি মানুষকে অসুস্থ্য করে তুলবে আরও। কিন্তু এছাড়া কোন বিকল্প ব্যবস্থাও নেই। ঈদের নামাজ পড়তেও মসজীদে কম গেছে মুসল্লিরা। অনেক বাসার ছাদে সবাই মিলে নামাজ পড়েছে মসজীদের সঙ্গে। মাইকে ইমামের আওয়াজ শুনে নিয়ত করেছে।

ভ্যাকসিন প্রদান উন্নত এবং তড়িৎ হয়েছে। টেলিফোনে এপোয়েন্টমেন্ট পেয়ে যাচ্ছে সকলে। নতুন ভেকসিনও এসেছে আরো। মানুষ আগ্রহী হয়েছে ভ্যাকসিনের প্রতি। কিন্তু হাসপাতালের অবস্থা বদলায়নি। করোনায় আক্রান্ত মুমুর্ষ রোগী হাসপাতালে নেওয়ার বিড়ম্বনাটি বেড়েছে। হাসপাতাল কত্তৃপক্ষ কোন রকম ছাড় না দিয়ে ব্যবসা করছে। অক্সিজেন সাপ্লাই উন্নত হয়েছে। অনেকে আগাম অক্সিজেন ক্রয় করে রেখে দিয়েছে বাড়ীতে। তবে রাস্তার চিত্রটি বদলায়নি। দুই কানে মাস্ক ঝুলিয়ে নাক মূখ উম্মুক্ত রেখে চলার দৃশ্য দেখা যায় রাস্তায়। যারা আক্রান্ত হয়েছে বা যাদের পরিবার আক্রান্ত হয়েছে তারা সচেতন। যারা ভয়াবহতাটি দেখেনি তারা আয়েশী ভাবে চলাচল করছে। এই স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করার ফলাফল হবে ভয়ানক। প্রতিদিন মৃত্যু সংখ্যা বেড়েই চলেছে। একত্রে সাবধান না হলে। সকলে মিলে বিধিনিষেধ মান্য না করলে এই সংক্রমন কমবেনা। দেশের স্বার্থে সকলের স্বার্থে আসুন সবাই মিলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। নিজে বাঁচি সকলকে বাঁচতে সহায়তা করি।

আজিজুর রহমান প্রিন্স,

কলামিস্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ।