ঠাকুরগাঁওয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতারকৃত সাংবাদিককে জামিন দিয়েছে আদালত

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে করোনা রোগীর খাবারে অনিয়ম নিয়ে জাগো নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম অনলাইন পত্রিকায় প্রতিবেদন করায় সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের করা মামলায় গ্রেফতারকৃত সাংবাদিক তানভীর হাসান তানুর জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত।

গতকাল ১১ জুলাই রোববার দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে ঠাকুরগাঁও চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আরিফুর রহমানের এজলাসে তাকে হাজির করে  মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ডালিম কুমার রায় সাংবাদিক তানুর ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এসময় তানুর পক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে রিমান্ড না মঞ্জুর করে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। তানুর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. আব্দুল হালিম, সিনিয়র এ্যাড. জাহাঙ্গীর আলম, এ্যাড. এমরান হোসেন চৌধুরী, ফজলে রাব্বি বকুল, এ্যাড. লিয়ন।

প্রসঙ্গত, ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের খাদ্য সরবরাহের দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ৩ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নাদিরুল আজিজ চপল। এই মামলায় পুলিশ দৈনিক ইত্তেফাক, জাগো নিউজ টুয়েন্টিফোর ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি’র ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি তানভীর হাসান তানুকে গত ১০ জুলাই শনিবার রাতে গ্রেফতার করে। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি আব্দুল লতিফ লিটু ও  নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের জেলা প্রতিনিধি রহিম শুভ।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই সাংবাদিক মামলার খোঁজখবর নিতে থানায় আসলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত তানভির হাসান তানু (২৯) শহরের হাজীপাড়া এলাকার আবু তাহেরের ছেলে। তিনি ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক ও ঠাকুরগাঁও অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

গত ৯ জুলাই ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মো. নাদিরুল আজিজ বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫(১)(ক) ২৫(১)(খ) ২৯(১)/৩১(১)/৩৫(১) ধারায় সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার বরাতে ওসি তানভিরুল ইসলাম বলেন, গত ৫ ও ৬ জুলাই ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের খাবার নিয়ে জাগো নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম ও বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে সংবাদ প্রকাশ করে সাংবাদিক তানভির হাসান তানু, রহিম শুভ ও আব্দুল লতিফ লিটু। সংবাদটি ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট জনরোষ সৃষ্টিকারী মানহানিকর দাবি করে ৯ জুলাই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নাদিরুল আজিজ বাদি হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ঐ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

এদিকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা ও সাংবাদিক তানভির হাসান তানুকে গ্রেপ্তার করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব, ঠাকুরগাঁও টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, ঠাকুরগাঁও অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ ঠাকুরগাঁওয়ের  সাংবাদিক মহল।

ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি মনসুর আলী, সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান মিঠু বলেন, করোনা মহামারি মোকাবেলায় অপ্রতুল পদক্ষেপের কথাগুলো যখন সাংবাদিকরা তুলে ধরছেন তখন সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে দিয়ে এই মামলা করানো হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শনিবার রাতেই সাংবাদিকরা ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবে এক প্রতিবাদ সভায় মিলিত হন। তারা প্রেসক্লাবের সামনে কলম ও ক্যামেরা ফেলে প্রতিবাদ জানায়।

সাংবাদিক তানভির হাসান তানুর নিঃশর্ত মুক্তি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা প্রত্যাহার না করলে কঠোর আন্দোলনে নামার কথা বলেন সাংবাদিক নেতারা।

মৌলভীবাজার হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার দিলেন পরিবেশমন্ত্রী

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার দিন দিন করোনা টোগীর সংখ্যা যত বাড়ছে ততই সংকট দেখা দিচ্ছে অক্সিজেন। তখনি করোনা মহামারীতে রোগীর অক্সিজেন সংকট নিরসনে মৌলভীবাজার-২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১৫টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এমপি।

গতকাল রবিবার (১১ জুলাই) দুপুরে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ১৫টি অক্সিজেন সিলিন্ডার হস্তান্তর করা হয়। পরিবেশ ও বন মন্ত্রীর পক্ষে পৌর মেয়র ফজলুর রহমান ও সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ এসব অক্সিজেন সিলিন্ডার হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্বাবধায়ক ডা. বিনেন্দু ভৌমিক এর কাছে হস্তান্তর করেন। এসময় জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আজমল হোসেন, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পান্না দত্তসহ আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ  এবং  হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলায় করোনা সংক্রমণ উর্ধ্বগতির সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এমপি ব্যাক্তিগত উদ্যোগে অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রদান করায় হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্বাবধায়ক ডা. বিনেন্দু ভৌমিক ধন্যবাদ জানান।

এ সময় তিনি বলেন, নতুন যুক্ত ১৫টি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে মোট অক্সিজেন সিলিন্ডার হলো ২৭০টি। যা রোগীদের অক্সিজেন সংকট নিরসনে উপকারে আসবে।

এছাড়াও পরিবেশমন্ত্রী বড়লেখায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিদের দাফন কাফনের কাজের জন্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “টিম ফর কোভিড ডেথ”-কে  নগদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন। টিম লিডার পরিবেশমন্ত্রীর নগদ আর্থিক অনুদান তাদের কজের আরো উ‌ৎসাহ যোগাবে বলে জানান কর্মকর্তা।

মান্দায় কাশ্মীরি “টাইগার” এর মূল্য ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ২০ হাজার

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় এক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সখের বসে ৬ বছর ধরে পালন করে আসছে কাশ্মীরি জাতের ছাগল। আদরে আহ্লাদে পুষে আসছেন এই ছাগল। সখ করে নাম রেখেছেন টাইগার। এই টাইগারকে অন্যান্য পশুর মতো কাঁঠাল পাতা, খড়, গমের ভুষি ও ময়দা খেয়ে বড় করে তুলেছেন তিনি। তার এই টাইগার ছাগলের এখন গড় ওজন ১০৩ কেজি। এই ছাগলের মালিক ঈদকে সামনে রেখে আনুমানিক এর মূল্য নির্ধারণ করেছেন ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা।

এই টাইগারের মালিক মেহেদী হাসান নিয়ামতপুর উপজেলায় কর্মরত আছেন। তিনি মান্দা উপজেলার পরানপুর ইউপির বাণিসর মধ্যপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত: আব্দুল মালেক মন্ডলের ছেলে। আগামী কোরবানী ঈদকে ঘিরে এই ছাগলকে বিক্রয়ের জন্য প্রস্ততি নিচ্ছেন। ছয় দাঁতের ছাগলের বয়স এখন ৬ বছর। এর উচ্চতা ৪ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং দৈর্ঘ্য ৪ ফুট ১০ ইঞ্চি।

ছাগলটির মালিক মেহেদী হাসান জানান,আমি শখের বসে কাশ্মীরি জাতের এ ছাগলটি পালন করেছি। ওকে আমি টাইগার নামে ডাকি। করোনা ভাইরাসের কারণে হাটে নিতে পারিনি টাইগারকে। তাই আমি ছাগলটি এখন দরদামের মাধ্যমে অনলাইনে বিক্রি করতে ইচ্ছুক টাইগারকে। যোগাযোগ ০১৭৩৮-৯৪০৪৮৪।

মান্দা উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ অভিমান্য চন্দ্র বলেন, এ অঞ্চলে সরারচর কাশ্মীরি জাতের ছাগল লালন- পালন করা হয় না। তবে অনেকে শখ করে এ জাতের ছাগল পালন শুরু করেছেন।

ভূমি ধসে ভেঙ্গেছে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর ঘর: প্রকল্প পরিচালক

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ অনিয়মের কার‌ণে নয় ভূমি ধসে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর ঘর ভে‌ঙে‌ছে ব‌লে মন্তব‌্য ক‌রে‌ছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন ২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মাহবুব হোসেন। গেল শ‌নিবার দুপুরে বগুড়ার শেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপ‌হা‌রের ভে‌ঙে পড়া ঘর প‌রিদর্শন করতে ৫ সদ‌স্যের এক‌টি টিম নি‌য়ে আসেন তি‌নি। প‌রিদর্শন শে‌ষে তি‌নি সাংবা‌দিক‌দের উ‌দ্দে‌শ্যে একথা ব‌লেন।

প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মাহবুব হোসেন ব‌লেন, বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর প্রধানমন্ত্রীর উপহার দুর্যোগসহনীয় ঘর অবহেলা ও অনিয়মের কারণে ভেঙ্গে পরেনি। ভূমি ধসের কারনে পাকঘর ও টয়লেট ধসে পরেছে। এগুলো টেকসই করতে আরসিসি পিলারও দিয়েও রক্ষা করতে পারেনি। পরবর্তীতে এমন যেন আর না হয় সেজন্য বাড়ীর সামনে শস্যক্ষেতের পানি, ঘরে প্রেসার না করে তার জন্য ঘরের সামনে দিয়ে স্থায়ী ড্রেনেজ নির্মান করে পানিগুলো খালে নামিয়ে দেয়া হ‌চ্ছে। তাহলে এই ঘরগুলো রক্ষা পাবে।

এ সময় তার সা‌থে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ময়নুল ইসলাম, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শাবরিনা মারমিন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি তারিকুল ইসলাম তারেক, পিআইও ছামছুন্নাহার শিউলী, উপজেলা উপ-সহকারি প্রকৌশলী এলজিইডি আব্দুর রশিদ।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প আশ্রয়ণ-২ এর আওতায় অতিদরিদ্র ভূমিহীনদের জন্য সরকারিভাবে আধাপাকা বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। সে মোতাবেক শেরপুর উপজেলায় দুই কোটি ৮৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। পরে দুই শতক করে খাসজমি বন্দোবস্ত দিয়ে উপজেলার আটটি ইউনিয়নে অতিদরিদ্র ১৬৩টি ভূমিহীন পরিবারকে একটি করে আধাপাকা বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হয়। দুই কক্ষ, রান্নাঘর ও টয়লেটসহ প্রধানমন্ত্রীর উপহারের প্রত্যেকটি বাড়ি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এরই ধারাবাহিকতায় খানপুর ইউনিয়নের খানপুর কয়েরখালি এলাকায় বুড়িগাড়ি নামক স্থানে খালের কিনারায় ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২২টি আধাপাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে সুফলভোগীদের হাতে এসব বাড়ির জমির দলিল ও বাড়ির চাবি হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু বর্ষা মৌসুমের শুরু‌তে টানা বৃ‌ষ্টি‌তে দুর্যোগসহনীয় সাতটি ঘরের একাংশ করে ভেঙে পরে।

 

ফুলবাড়ীতে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে পুকুরের পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গেল শনিবার দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কিশামত প্রানকৃষ্ণ গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুটির নাম মিরাজ (২)। সে ওই গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, খেলতে খেলতে শিশুটি বাড়ীর পাশের পুকুরে কখন যে পড়ে ডুবে যায় তা কেউই জানেন না। কিছুক্ষন পর শিশুটির খোঁজ হলে এদিক সেদিক খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে বাড়ীর লোকজন পুকুরের পানিতে শিশুটির ভাসমান লাশ  দেখতে পায়। পরে চিৎকার চেঁচামেচি শুনে আশপাশের লোকজন পুকুরে নেমে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।

ফুলবাড়ী সদর ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ডিজিটাল বাংলা নিউজ/ ডিআর/এমআরবি

নীলফামারীতে নিজ বাড়ি থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

মোঃ মোশফিকুর ইসলাম, নীলফামারীঃ নীলফামারীতে নিজ বাড়ির প্রধান গেট থেকে হোসেন আলী যাদু (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গেল শনিবার (১০ জুলাই) সকালে নীলফামারী পৌর শহরের হাড়োয়া নীলকুঞ্জ পাড়া থেকে মরদেহ উদ্ধার করে জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) আব্দুর রউফ জানান, জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ এ ফোন পেয়ে নিহতের নিজ বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের গায়ে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

ওসি জানান, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক ছেলের বউকে আটক করা হয়েছে। একটি ছুরি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।

শ্রীমঙ্গলে আশ্রয়ন প্রকল্পে দূর্নীতি ও স্বামী-স্ত্রী ২জনের জন্য ২টি ঘর বরাদ্দ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমংগলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে দেয়া ঘর নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি অর্থের বিনিময়ে স্বচ্ছল ব্যক্তিদেরও সরকারি খরচে ঘর তুলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পে নতুন ঘর প্রাপ্তির পর সারা দেশে এসব প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতি অনিয়ম লোপাটের অভিযোগ উঠেছে শ্রীমঙ্গলেও তার ব্যতিক্রম হয়নি ।

প্রকল্পের শুরুতে প্রতিটি ঘরের ভিটার মাটি ভরাট না করেই শুরুহয় নির্মান কাজ, ডিজাইন, নির্মাণ ব্যায়, ওয়ার্ক ইষ্টিমিট গোপন করে নিজেদের মনগড়া ভাবে ডিজাইন ঠিক রেখে ইট সিমেন্ট’র পরিমাণ কম দিয়ে শুরু করেন প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের ঘর তৈরীর কাজ। পরবর্তীতে নিম্নমানের ঢেউটিন,  দরজা জানালায় নিম্নমানের ষ্টিল রড,ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিটি ঘরের বরাদ্দকৃত অর্থের প্রায় অর্ধেক টাকা আত্বসাতের টার্গেট নিয়ে ঘরের নির্মাণ কাজ গুটিয়ে আনেন সংশ্লিষ্টরা।

আর্থিকভাবে স্বচ্ছল অধিকাংশ পরিবারের মাঝে টাকার বিনিময়ে বিতরণ করা হয়েছে বহু ঘর। এ ঘটনা ঘটে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৩নং সদর ইউপি মহাজিরাবাদ বেগুনবাড়ি প্রকল্পে।

প্রতিটি ঘর পেতে প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে খরচ করতে হয়েছে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা। নিম্মমানের উপকরণ দিয়ে নির্মাণ করায় একাধিক ঘর দেবে যায় এবং ড্রিল গাতুনীতে উলটে আসে দেয়ালের অংশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ২০২০-২০২১ ইং অর্থ বছরে শ্রীমংগলে ৩০০ গৃহহীন পরিবারকে ঘর দেয়ার উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। এর মধ্যে অধিকাংশ ঘরই নবগঠিত ৩নং সদর ইউপি ও কালাপুর ইউনিয়নে বরাদ্দ দেয়া হয়।

সরজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায় একই পরিবারে স্বামী, স্ত্রী ২ টি ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন। অথচ তাদের মুসলিমবাগ গাং পাড়ায় নিজস্ব বাড়ি রয়েছে জমির মিয়ার, সে বাড়িতে ভাড়াটিয়া দিয়ে নিজে ভাড়া থাকেন। তিনি দীর্ঘদিন মুসলিমবাগ ভাড়া থাকেন ঘর পাওয়ার পর ও ভাড়াটিয়া হিসেবেই আছেন।

তাকে ভূমিহীন দেখিয়ে ঘর দেয়া হয়েছে ২টি। জমির মিয়ার স্ত্রী বলেন, “আমার স্বামী এখানে ভ্যান চালায়। আমরা ২টি ঘর পেয়েছি। এই ঘরের ইট, বালু, সিমেন্ট পরিবহনের জন্য আমাকে ২০ হাজার টাকা খরচ দিতে বলা হয়েছে। আমি দেইনি,কিন্তু সকলের নিকট হতে ২০ থেকে ১০ হাজার আদায়ের প্রেক্ষিতে তাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘর দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকায় ব্যবসা করেন এমন একাধিক লোক ও টাকার বিনিময়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়েছেন। তারা স্বচ্ছল হওয়ার পর ও তাদের নামে একটি ঘর বরাদ্দ নিয়েছেন।

অপরদিকে  এলাকাবাসীর সূত্রে এ প্রতিবেদক জানতে পারেন যে জমির মিয়ার বরাদ্দকৃত ঘর ভাড়া দিবেন বলে তিনি ভাড়াটিয়া খুঁজছেন এর সূত্র ধরে নিজের পরিচয় গোপন রেখে জমির মিয়ার সাথে ভাড়াটিয়া সেজে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে  জমির মিয়া ২টি ঘর ভাড়া দিবেন বলে প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেন । এরই সূত্র ধরে বেরিয়ে আসে থলের বেড়াল।

আশ্রয়ন প্রকল্পের সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ১৬টি ঘর মাটিতে দেবে গেছে, তাই পাহাড় কেটে নতুন করে মাটি দিয়ে চারিদিকে মাটি ভরাট করে দরমুজ মারা হচ্ছে। দেয়ালে একাধিক ফাটল, ফ্লরিংএ ফাঁটল দেখা দিয়েছে। ঘর তৈরিতে নিম্মমানের জিনিস পত্র ব্যবহার করা হয়েছে। যার একাধিক ভিডিও ফুটেজ এবং ভুমিহীন ও গৃহহীন হিসাবে সম্প্রতি নতুন ঘর পাওয়া উপকারভোগী পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য এই প্রতিবেদক এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট গচ্ছিত আছে।

তবে প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতি অনিয়ম লোপাটের অভিযোগের বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের সাথে কথা বলতে চাইলে এ প্রতিবেদক গত দুইদিন যাবৎ বার বার নজরুল ইসলামের ব্যাবহৃত মোবাইল ফোনে ফোন দিলে তার ফোন প্রতিবারই ব্যস্ত দেখিয়েছে।

পরে অপর এক গনমাধ্যম কর্মীর মোবাইল দিয়ে ফোন করে উক্ত দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ওনার উপজেলায় নির্মাণ করা ঘর তৈরিতে কোন রকম অনিয়ম হয়নি।

এছাড়া ঘর নির্মাণে কোন অনিয়ম হয়নি বলে তিনি ফোন কেটে দেন। পি আর ও (কমলগঞ্জ – শ্রীমঙ্গল) দায়িত্বে গত ১৩ বছর যাবত একইস্থানে বহাল তবিয়তে চাকুরী অবস্থায় মোঃ কামাল এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ও কোন রকম বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি ফোনে উত্তর দেন নাই।

—-চলমান প্রতিবেদনঃঃ

নিজে বাঁচুন অন্যকে বাঁচানঃ

১১ জুলাই ছিল কোপ আমেরিকার ফাইনাল খেলা। দুই জনপ্রিয় দল আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল ফাইনালে খেলেছে। এই খেলা নিয়ে উত্তেজনা ছিল সবখানে। দুই দলের সমর্থকরা লাঠিসটা নিয়ে মারামারিও করেছে। ব্রাহ্মনবাড়িয়ায় পুলিশ মাঠে নেমেছিল দাঙ্গা ঠেকাতে। এখন শোস্যাল মিডায়াতে আক্রমন চলছে সমর্থকদের। খেলা নিয়ে সমর্থকদের খেলাটিও কম উত্তেজনার ছিলনা। খেলা নিয়ে বাংলাদেশে মানূষের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে তখন করোনায় মৃত্যু হয়েছে আরও দুই শ মানুষের। গরুর হাটে লোক সমাগম শুরু হয়েগেছে। প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে গরু আসছে ঢাকায়। স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছেনা সেখানেও। দেশে এখন ৩৩% শতাংশ মানুষ করোনায় আক্রান্ত। সতর্ক না হলে এই হার ক্রমেই বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু রাস্তায় বাস আর সি এন জি ছাড়া গাড়ী চলাচল স্বাভাবিক। দোকানপাটও ৬ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ফেরি ঘাটে এম্বুলেন্স আর মালাবাহী গাড়ী ছাড়া পারাপার নিষিদ্ধ হলেও চলাচল বন্ধ হয়নি। এমন অসতর্ক অবস্থা চলতে থাকলে দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। হাসপাতালে ডাক্তারের স্বল্পতা ধরা পরেছে। অক্সিজেনের অপ্রাপ্তি প্রথম দিন থেকেই বিদ্যমান। যেসব ডাক্তার বি সি এস উত্তীর্ন হয়ে নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছে, তাদেরকে দ্রুত নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছে অনেকে। স্বল্প আয় এবং নিম্ন আয়ের মানুষের অবস্থা ভাল নেই। লক ডাউনের কারনে অর্থ সঙ্কট শুরু হয়ে গেছে। শিঘ্রই স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে না এলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে দেশে। এই বিপর্যয় থেকে দ্রুত উত্তরনের পথ একটাই – স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। নিজে বাঁচুন অন্যকে বাঁচতে সাহায্য করুন।

আজিজুর রহমান প্রিন্স,

কলামিস্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ।

লোহাগাড়ায় সড়কের কালভার্ট ভেঙ্গে জনদুর্ভোগ চরমে

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতাঃ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের জাংছড়ি বাজার-বাগমুয়া সড়কের খালেকশাহ,মালেকশাহ ও এতিমুন্নেচ্ছা মাজার এলাকার কালভার্টটি ভেঙ্গে গেছে। এর ফলে ব্যস্ততম এই সড়কে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। গত কিছুদিন আগে কালভার্টি হালকা করে ভেঙে গেলেও কোন ব্যবস্থা না নেওয়া কয়েকদিন আগে কালভার্টটি সম্পূর্ণ  ভেঙ্গে যায়। এতে ভোগান্তি আরও বাড়েছে। বর্তমানে সেটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

নুরুল ইসলাম নামের একজন এলাকাবাসী বলেন, ব্যস্ততম সড়ক হবার কারণে শুরু হয়েছে চরম জনদুর্ভোগ। এখন প্রায় প্রতিদিন সড়কে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। কালভার্টটি এতোটাই খারাপ যে চলার অনুপযোগী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া শত শত স্কুল,কলেজে যাওয়া ছাত্র ছাত্রী ও রোগীদের অনেক কষ্টে চলাচল করতে হচ্ছে। তিনি কালভার্টি দ্রুত মেরামতের দাবি জানান।

মোঃ আজমগীর বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত ছাত্র ছাত্রী ও অনেক গাড়ি চলাচল করে। কালভার্টি ভেঙে যাওয়ার কারণে এলাকাবাসীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

শেখ মুহাম্মদ রাজু বলেন, অতিরিক্ত মালামাল পরিবহনকারী ভারী যানবাহন যাতায়াতের কারণে এ অবস্থা। রাস্তা মেরামতের সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনেরও অবাধে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

চরম্বা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাস্টার শফিকুর রহমান বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব চলাচলের উপযোগী করে তোলা হবে।

বগুড়ার আদমদীঘিতে প্রধানমন্ত্রীর “দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি” তৈরিতে অনিয়ম, দুর্নীতি তদন্তে পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ বগুড়ার আদমদীঘিতে পরিকল্পনাহীন ভাবে নির্মাণ হয়েছে প্রধান মন্ত্রীর দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি, এই শিরোনামে বিভিন্ন পত্রিকায় ও ইলেকট্রোনিক মিডিয়ায় সংবাদটি প্রচারের পর, অনিয়ম, দুর্নীতি তদন্তে পরিদর্শন করেছেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো: হুমায়ুন কবীর।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বগুড়া জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক, আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সীমা শারমিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমির হোসেন, শান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এরশাদুল হক সহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

তদন্ত কালে বাড়ীর উঠানে বয়লারে ছাই, বালু দিয়ে ভরাট করলেও প্রকৃত বসবাসের ঘর গুলো পানির নিচে রয়ে গেল। বাড়ীতে বসবাসকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জন সাংবাদিকদের কে জানান, আমরা গরীব মানুষ আমাদের ঘরবাড়ি নাই। এখন আমাদের বাড়ীর উঠান উঁচু, ঘর নিচু একটু বৃষ্টির পানি হলেই বৃষ্টির পানি ঘর গুলোর মেঝেতে ডুকে পড়বে। এছাড়া প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিতে হাটু পানি জমে এই মাঠে এবং ছোট-বড় বন্যার সময় এই মাঠের জমিতে মানুষ সমান পানি জমে যায়। তখন আমরা গৃহহীনরা এই সব দুর্যোগসহনীয় বাড়িতে কেমন করে বসবাস করবো তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখানে বসবাসকারী অনেকেই ধারনা করছেন দুর্যোগ সহনীয় বাড়িই প্রতি বছর দুর্যোগ ডেকে আনবে আমাদের ভাগ্যে।

এই বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার ড. মো: হুমায়ুন কবীর বলেন, প্রধান মন্ত্রীর দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি কোন প্রকার দুর্নীতি হলে এক চুলও ছাড় দেওয়া হবে না। যদি কোনো অনিয়ম হয় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।