নওগাঁর আত্রাইয়ে করোনায় অসহায় মানুষের পাশে এম পি হেলাল

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ও আত্রাই- রানীনগর এলাকার সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন হেলাল এর সার্বিক সহযোগীতায় করোনার এই মহা সংকটে অসহায় ও দুস্থদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরন করছে আত্রাই যুব-লীগ ও ছাত্র লীগ। গতকাল বুধবার (৭ জুলাই) উপজেলার আত্রাই- সিংড়া রাস্তার মোড় এলাকায় এ খাবার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শ্রী নৃপেন্দ্র নাথ দত্ত দুলাল। প্রধান অতিথির
বক্তব্যে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন,আপনারা জানেন ২০২০ সাল থেকে করোনা ভাইরাস ব্যাপকভাবে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, বাংলাদেশ ও এই ভাইরাসের আক্রমন থেকে মুক্ত নয়।মানুষের জীবন রক্ষার্থে সরকার লকডাউন দিয়ে আসছে। এই লকডাউনে যেন কর্মহীন,অসহায়,দুস্থ মানুষ খাদ্য কষ্টে না থাক সে জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র নায়ক শেখ হাসিনার নির্দেশে আত্রাই- রাণী নগর আসনের এমপি আনোয়ার হোসেন হেলাল এর নেতৃত্বে আত্রাই উপজেলা যুবলীগ ও ছাত্র লীগ প্রতিটি ওয়ার্ড/ইউনিয়ন/ উপজেলার নেতৃবৃন্দ রান্না করা খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরো বলেন, যুব লীগ ও ছাত্র লীগের এ পযন্ত কয়েক হাজার মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার ও অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত মৃতদেহ সৎকার,ফ্রি টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে আসছে যুব লীগ ও ছাত্র লীগ। শুধু তাই নয় করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউয়ে যখন রোগীদের অক্সিজেন সমস্যা দেখা দিয়েছে তখন সারা দেশে যুবলীগ ও ছাত্র লীগ একই সাথে জীবন বাজী রেখে রোগীদের বিনা মূল্যে অক্সিজেন সেবা দিয়ে আসছে।যুব লীগের হটলাইনে ফোন দিলেই অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন নেতা-কর্মী।

তিনি আরো ও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সফল রাষ্ট্র নায়ক শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা ইতো মধ্যে মানবিক যুব লীগ ও ছাত্র লীগ ঘঠন করতে সক্ষম হয়েছি। যুব লীগ ও ছাত্র লীগের নেতা কর্মীরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মানবিক কর্মকান্ড করে যাচ্ছে।

এ সময় উপস্থিত উপজেলা যুব লীগ সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ হাফিজুর রহমান,ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম রাফি ফৌজদার, বীর মুক্তি যোদ্ধা শ্রী নীরেন্দ্র নাথ দাশ, উপজেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি একেএম কামাল উদ্দিন টগর, উপজেলা ছাত্র লীগ সভাপতি মাহদী মসনদ স্বরুপ, সাধারণ সম্পাদক সোহাগ, সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ ফারুখ বাচ্চু প্রামানিক, প্রান্তর প্রামানিক, রাসেল আলী সহ যুব লীগ,ছাত্র লীগ,বিভিন্ন ওয়ার্ড যুব-লীগ,ছাত্র লীগ নেতৃবৃনন্দ।

মৌলভীবাজারে কোরবানি পশু মোটাতাজাকরণ: কাঙ্ক্ষিত দাম ও বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় খামারি ব্যবসায়ীরা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা মৌলভীবাজারে আসছে কোরবানির ঈদের পশু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারি ব্যবসায়ীরা। গো-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, চিকিৎসা ব্যয় বাড়ার কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর বেড়েছে গবাদিপশু মোটাতাজাকরণ খরচও। তাছাড়া করোনা মহামারী ঠেকাতে চলমান লকডাউনে গবাদি পশুর বাজার বসানো নিয়েও তৈরী হয়েছে অনিশ্চয়তা। এ অবস্থায় পশু বিক্রি ও  ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা।

খামারীদের আশঙ্কা- বাজার ব্যবস্থা ও কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে বড় লোকসান গুনতে হবে তাদের। জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ বলছে, অনলাইনে বিক্রি বাড়াতে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করা হয়েছে। আর জেলায় কোরবানি পশুর চাহিদা ও উৎপাদনে এবার ভারসাম্য অবস্থা রয়েছে। বাইরে থেকে গবাদি পশু আমদানির প্রয়োজন পড়বেনা। স্থানীয় খামারিদের পশু দিয়েই জেলার চাহিদা মিটানো সম্ভব হবে।

সম্প্রতি মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদিঘি হাওরসংলগ্ন কয়েকটি খামারে গিয়ে দেখা যায়, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে শেষ সময়ে পালিত পশুর যত্নআত্তিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পশু খামারিরা। দানাদার খাবারের পাশাপাশি হাওরাঞ্চল থেকে ট্রাকে করে আনা হচ্ছে সবুজ ঘাস। কোরবানির পশুকে মুখে খাবার তুলে দেয়া, গোসল করানো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারের মালিক ও কর্চারীরা।

এসময় কথা হয় স্থানীয় শরিফা ডেইরি খামারের মালিক সাইদুল ইসলাম বাচ্চুর সাথে। তিনি জানান, বছর দু’য়েক আগে গড়ে তুলেছেন এই পশু খামার। বর্তমানে খামারে ৭০টি ষাঁড় মোটাতাজা করা হচ্ছে। সবগুলোই দেশি প্রজাতির। রয়েছে কিছু ছাগলও। এগুলো লালনপালন ও মোটাতাজা করতে এখন পর্যন্ত তার প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার মতো খরচ হয়েছে। এখন বিক্রি নিয়ে আছেন দুশ্চিন্তায়। তারপরও তিনি আশাবাদী গতবছরের মতো এবার পশু বিক্রি ও দাম পাবেন ভালো।

খামারের ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম জানান, গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় আগের চেয়ে এবার উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে। তবে তারা অনলাইনে পশু বিক্রিতে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। অনেক ক্রেতা খামারে এসেও পশু পছন্দ করে কিনে নেন। তাদের খামারের নিজস্ব গাড়িতে বিনামূল্যে পশু ক্রেতার কাছে পৌছে দেওয়া হয়।

খামারিরা জানান, কোভিড পরিস্থিতির কারণে মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দফায় দফায় লকডাউনে ব্যবসা বাণিজ্যের লোকসানের প্রভাব পড়তে পারে কোরবানির হাটে। এজন্য এবছর কোরবানির পশুর দরপতনের আশঙ্কা করছেন তারা। তাছাড়া বৈধ-অবৈধ উপায়ে ভারত থেকে যদি পশু আসে তাহলে নিশ্চিত ক্ষতির মুখে পড়তে হবে স্থানীয় খামারিদের। দেশের বাইরে থেকে যাতে পশু না আসে সরকারের প্রতি সেই দাবি জানান তারা।

জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এবছর ঈদুল আজহায় মৌলভীবাজারে ৭৩ হাজার ৩৫টি কোরবানি পশুর চাহিদা রয়েছে। তারমধ্যে স্থানীয় ২ হাজার ৩৬৫টি খামারসহ ব্যাক্তি উদ্যোগে ৬৭ হাজার ৫২৯টি পশু কোরবানির জন্য  মোটাতাজা করা হয়েছে। এরমধ্যে খামারীরা উৎপাদন করেছেন ৩২ হাজার ৫২৯টি আর খামারের বাইরে ব্যাক্তি উদ্যোগে করা হয়েছে ৩৫হাজার পশু। সংকট রয়েছে ৫হাজার ৫০৬টি পশুর। খামারী পর্যায়ে ৩২ হাজার ৫২৯টি কোরবানি পশুর মধ্যে গরুমহিষ ২২ হাজার ৫০১টি আর ভেড়া ছাগল ১০ হাজার ২৮টি।

মৌলভীবাজার জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা, ডা. মো. আব্দুস ছামাদ জানান, স্থানীয় খামারীদের পশু দিয়ে জেলার শতভাগ চাহিদা মিটানো সম্ভব। যে ৫ হাজার ৫০৬টি পশুর ঘাটতি রয়েছে সেটিও স্থানীয়ভাবেই পূরণ সম্ভব। কারণ ব্যক্তি উদ্যোগে পশু উৎপাদনের যে হিসেব থাকে প্রকৃতভাবে তার চেয়ে সবসময়ই কিছুটা বেশি উৎপাদন হয়। তিনি আরো বলেন, সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে যাতে গবাদি পশু প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে। আর পশু বিক্রির জন্য অনলাইন বাজারকে আরো শক্তিশালী করা হবে এবং স্থায়ী ও মৌসুমী পশুর হাটের বিষয়ে সরকারি যে নির্দেশনা আসবে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

লোহাগাড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাঁশভর্তি ট্রাক পুকুরে

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতাঃ চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাঁশভর্তি ট্রাক পুকুরে পড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার আনুমানিক সাড়ে ৯ টায় উপজেলার চুনতির জাঙ্গালিয়ায় ফরেষ্ট বিট সংলগ্ন আরকান সড়কে কক্সবাজার  অভিমুখী বাঁশভর্তি একটি ট্রাকের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে ট্রাকটি দুমড়ে মুচড়ে পার্শ্ববতী পুকুরে পড়ে ডুবে যায়।

খবর পেয়ে দোহাজারি হাইওয়ে থানা পুলিশ,সাতকানিয়া দমকল বাহিনীর একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দোহাজারি হাইওয়ে থানার এস.আই নাজিমুল হক।

স্থানীরা জানিয়েছেন,ট্রাকটি পড়ে যাওয়ার পর গাড়ি থেকে বের হয়ে একজনকে দ্রুত পালিয়ে যেতে দেখেছেন তাঁরা। তবে গাড়িতে আর কেউ আছে কি না সে ব্যাপরে এখনও কেউ জানতে পারেন নি। এ সংবাদ লিখা পর্যন্ত ট্রাকটি উদ্ধারের প্রস্তুুতি নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যরা।

ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারত ফেরত ১২ নারী-পুরুষ ও শিশু আটক

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ ভারতের দিল্লিতে ইট ভাটায় কাজ শেষে অবৈধ ভাবে দালালের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে বালাদেশে আসার সময় নারী,পুরুষ ও শিশুসহ মোট ১২ জন বাংলাদেশী নাগরিক  বিজিবির হাতে আটক হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে সাতটায় উপজেলার কাশিপুর সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ৯৪২ এর ৪ নম্বর সাব পিলারের নিকট দিয়ে বাংলাদেশ আসার সময় কাশিপুর ক্যাম্পের বিজিবির সদস্য তাদেরকে আটক করেন।

আটকৃতরা হলেন, জেলার নাগশ্বরী উপজেলার গাগলা এলাকার বিন্যাবাড়ী গ্রামের মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে আব্দুল জলিল (৫৫) তার স্ত্রী লিলিফা বেগম (৪৫) ছেলে লিমন মিয়া (১২) মেয়ে আফরিনা (০৮) একই উপজেলার কুটি বামনডাঙ্গা গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে  হাবিবুর রহমান (৩৬) তার স্ত্রী আনজু বেগম (৩০) একই গ্রামের মৃত আঃ হাকিমের ছেলে হাফিজুর রহমান (৩৮) তার স্ত্রী আনিচা বেগম (৩২) মেয়ে হামিদা (০৮) ছেলে রমজান আলী (০৩) একই উপজেলার শুকাতি বোড বাজার গ্রামের মৃত রুবেল হোসেনের মেয়ে রুবিনা (০৫) এবং ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের আব্দুস সোবাহানের ছেলে জাকির হোসেন (২২)। পরে অবৈধ অনুপ্রবেশের অপরাধে আটকৃতদের বিরুদ্ধে ফুলবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করে বিজিবি তাদের পুলিশে সোপর্দ করেছে।

ফুলবাড়ী থানার ওসি রাজীব কুমার রায় জানান, ৭ জনের নামে মামলা থাকায় তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। আর শিশু ৫ জনকে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার (প্রবেশন অফিসার) এর জিম্মায় দেয়া হয়েছে।

বাঞ্ছারামপুরে ঈদের আকর্ষণ ২৫ মণ ওজনের ষাঁড় গরু শান্তবাবু, দাম হাঁকাচ্ছেন সাত লাখ টাকা

মো. নাছির উদ্দিন, বাঞ্ছারামপুর-হোমনা প্রতিনিধিঃ আসন্ন কোরবানির ঈদকে ঘিরে  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর  উপজেলার আইয়ুব পুর  ইউনিয়নের সেরা আকর্ষণ শান্তবাবু। লাল-কালো রঙ মিশ্রণে শান্তবাবু  খুবই শান্ত-শিষ্ট স্বভাবের। গরুটির ওজন প্রায়ই ২৫ মণ, এর দাম হাঁকা হয়েছে ৭ লাখ টাকা।

শান্তবাবুর  লালন পালনকারী মো. জাকির হোসেন। কানাইনগর গ্রামের উত্তর পাড়ার বাসিন্দা। তিনি বলেন,আড়াই বছর আগে ৯০ হাজার টাকা দাম ধরে আমি গিয়াস উদ্দিন এর ডেইরি ফার্ম থেকে শান্তবাবুকে নিয়েছি,  এর পর থেকেই সন্তানের মতো লালন-পালন করেছি,এবং আদর করে নাম দিয়েছি শান্তবাবু,  প্রতিদিন নিয়মিত খাবারের মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক সবুজ ঘাস,খৈল, ভুষি,কাঁঠাল,মিষ্টি আলু, খুদের জাও, লবন, পানি খাওয়াইয়া মোটা তাজা করেছি।

জাকির হোসেনের স্ত্রী বলেন, নিজের সন্তানের মতো গরুটি লালন-পালন করেছি, গরুটি আমাদের কাছে খুবই আপনজনের মতো।

ডেইরি ফার্মের মালিক গিয়াস উদ্দিন বলেন, মনের মতো দাম পেলে বাড়ি থেকেই বিক্রি করব। আর ভালো দাম না পেলে ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করার চিন্তা করেছি, করোনার কারনে কি রকম দাম পাবো সে নিয়েও চিন্তাই আছি। ৭ লাখ টাকায় বিক্রি করার ইচ্ছা আছে।

এখন পর্যন্ত এর দাম উঠেছে ৪ লাখ টাকা। গিয়াস উদ্দিনের দাবী শান্তবাবু বাঞ্ছারামপুরের  সবচেযে বড় গরু। জাকির হোসেন শান্তবাবুকে লালন পালন করে এলাকায় সারা ফেলেছেন, শান্তবাবুকে দেখতে কৌতুহলী হয়ে দুর দুরান্ত থেকে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ বাড়ীতে ভিড় করছেন।

কমলগঞ্জে ২৫০ পরিবার পেলো প্রধানমন্ত্রীর উপহার

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন করোনা মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় প্রতিবন্ধী, কর্মহীন দিনমজুর, শ্রমজীবীসহ নিম্ন আয়ের ২৫০ পরিবার। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে এসব বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) দুপুরে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের (দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ শাখা) আয়োজনে কমলগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আশেকুল হকের সভাপতিত্বে

কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমেদ ও আব্দুল মালিক বাবুলের যৌথ পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। এসময় উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ইয়ারদৌস হাসান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি এম মোসাদ্দেক আহমেদ, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল।

ডোমারের চিলাহাটিতে ভালো নেই ব্যাটারী চালিত রিকশা-ভ্যান চালকেরা

মোঃ মোশফিকুর ইসলাম, নীলফামারীঃ লকডাউনে ভালো নেই, নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার চিলাহাটির ব্যাটারী চালিত রিকশা-ভ্যান চালকেরা। মানুষ বাইরে বের হতে না পারায় তারা ভাড়া পাচ্ছেন না। সারাদিনে ৮০ থেকে ৯০ টাকা উপার্জন হচ্ছে। চাল কিনতে সেই টাকা শেষ হওয়ায় তরকারি কিনতে পারছেন না। ফলে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। আজ বুধবার চিলাহাটি বাজারের ডাকবাংলোর সামনে ব্যাটারী চালিত রিকশা-ভ্যান চালক আমিনার ইসলাম জানায়, গত মঙ্গলবার সারাদিনে ৯০ টাকা আয় করেছেন তিনি । সোয়া কেজি চাল ও ১ কেজি আলু কিনে বাড়ি নিয়ে যান। এভাবেই কষ্টে দিন কাটছে তার।

ব্যাটারী চালিত রিকশা-ভ্যান চালক কালাম বলেন, ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি ব্যাটারী চালিত রিকশা-ভ্যান  কিনেছি। প্রতি সপ্তাহে ১২শত টাকা কিস্তি দিতে হয়। প্রতিদিনে কিস্তির জন্য ১৭০ টাকা জমাতে হয়। কিন্তু দিনে ১০০ থেকে ১২০ টাকার বেশি আয় হয় না। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তিনি বলেন, এখন ঋণ শোধ করব কিভাবে। আর স্ত্রী সন্তানদের খাওয়াবোই বা কী?

ভোগডাবুড়ী ও কেতকীবাড়ি অটো, রিকশা, ভ্যান শ্রমিকলীকের সভাপতি এ কে এম জাহাঙ্গীর বসুনিয়া রাসেল বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভ্যান শ্রমিকদের অভাব দেখা দেয়। বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান না খেয়ে থাকার মতো। তাই এভাবে আর কিছুদিন চললে ব্যাটারী চালিত রিকশা-ভ্যান শ্রমিকদের না খেয়ে মরতে হবে । তাই দ্রুত শ্রমিকদের সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা দাবি করছেন তিনি।

গরু নিয়ে দুশ্চিন্তায় লোহাগাড়ার খামারিরা

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ করোনা মহামারি চলছে। চলছে কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় সপ্তাহ। সারাদেশের মত বন্ধ আছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পশুর হাটগুলো। এগিয়ে আসছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদকে সামনে রেখে ও প্রাকৃতিক ঘাসের সুবিধা থাকায় অনেকেই গরু পালন করেন চট্টগ্রামের সর্ব দক্ষিণের এই উপজেলায়। ফলে এখানে ছোট, বড়, মাঝারি আকারে অনেক গরুর খামারও গড়ে উঠেছে। খামারিরা আশায় থাকেন গরু বিক্রি করে স্বাবলম্বী হওয়ার। বিনিয়োগও করেছে প্রচুর অর্থ। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় এবং লকডাউন শুরু হওয়ায় এখন গরু ও ছাগলের বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা। লকডাউন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পশুর দাম কমতে শুরু করেছে। গরু কেনা নিয়ে ক্রেতাদের মাঝেও তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। যদি কোরবানিতে পশুর হাট না বসে তাহলে ন্যায্য দাম তারা পাবেন না। এতে আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিতে পড়তে হবে। এ কারণে খামারিদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে,উপজেলাজুড়ে মোটাতাজাকরণ খামারের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজারের বেশি।  খামারগুলোতে গরু রয়েছে ১৫ হাজারেরও বেশি।  খামার ছাড়াও গ্রামে পুরো বছরজুড়ে গরু পালন করা হয়। পরে ঈদে বিক্রি করার মাধ্যমে লাভবান হওয়ার আশা করেন এসব গরু পালনকারীরা। কিন্তু বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের মাঝে গরু কেনা নিয়ে তেমন একটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া বাজার বসা নিয়েও সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে বাজার বসা নিয়ে জেলা প্রশাসনের অপেক্ষায় রয়েছে উপজেলার প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

আল বয়ান এগ্রো ফার্মের মালিক মোঃআক্তার কামাল জানান, প্রতিবছর আমরা স্থানীয়ভাবে কোরবানির পশুর হাটে গরু নিয়ে যাই এবং সেখানে দরদাম যাচাই-বাছাই করি। তার পর বাজার বুঝে বিক্রয় করি। এ বছর ওই হাট যদি না বসে তাহলে আমরা কোথায় বিক্রয় করবো?

আম্বিয়া কবির এগ্রো ফার্মের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বলেন, আমার খামারে সিন্ধি, শাহিওয়াল, বার্মা ও দেশি জাতের ২১ টি গরু ছিল। আমি গরুর ছবি ও ভিডিওসহ অনলাইনে বিক্রির চাহিদা দিয়েছি। সেখানে কয়েকটা বিক্রি হয়েছে। আমি সরকারের কাছে দাবি জানায় যাতে সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানের আগে গরুর বাজার খুলে দেয়। তা না হলে আমদের মূলধন হারিয়ে পথে বসা ছাড়া কিছুই করার থাকবে না।

চরম্বার রমজান আলী বলেন, আমার দুটি দেশি জাতের গরু আছে। বাড়িতে এসে স্থানীয় কয়েকজন দাম দর করে গেছেন। কিন্তু তারা যে দাম করেছেন বাজার মূল্যের অর্ধেক।

লোহাগাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.খালেকুজ্জামান বলেন, খামারিরা গরু পালন করেন লাভের আশায়। পবিত্র ঈদুল আজহার বেশি বাকি নেই। চেষ্টা করা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গরু বাজার চালু করার। কিন্তু পরিস্থিতিই বলে দিবে কি করার আছে। তবে আমরা আজ থেকে প্রায় ১০ দিন আগে খামারিদের গরুর ছবি, নাম ঠিকানা, মোবাইল নম্বর দিয়ে সিংড়া অনলাইন কোরবানির পশুর হাট নামে ফেসবুক পেজে গরু বেচা-কেনার ব্যবস্থা করেছি। ইচ্ছে করলে যেকোনো ক্রেতা-বিক্রেতা এখানে চাহিদা মতো কেন-বেচা করতে পারবেন।

লকডাউন পরিদর্শনে এসে মানবতার দৃষ্টি স্থাপন করলেন নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁয় চলছে ৬ষ্ঠ দিনের মতো লকডাউন এই লকডাউন পরিদর্শন করেন নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া বিপিএম। গেল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১ টায় শহরের মুক্তিরমোড় পরিদর্শনে এসে মানবতার দৃষ্টি স্থাপন করেন। আহম্মেদ আলি (৬০) নামে এক বয়স্ক রিস্কাচালকে এক হাজার টাকা দিয়ে সাহায়্য সহযোগীতা করেন। এবং রাস্তায় অসুস্থ এক শিশু ও এক যুবকে পুলিশে নিজেস্ব এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে হাসপাতালে পাঠায়। এছাড়াও যারা রাস্তাঘাটে অযথা ঘোরাফেরা ও মাস্ক ব্যবহার করছেন না তাদেরকে বুঝান। প্রয়োজন ছাড়া যাতে তারা ঘরের বাইরে বের না হন।

জেলা পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া বিপিএম বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে সারা দেশের ন্যায় নওগাঁতেও চলছে লকডাউনের ৬ষ্ঠ দিন। লকডাউন বাস্তবায়নে ও মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ আমরা সকলেই মাঠে কাজ করছি। এছাড়াও বাজারগুলোতে যাতে সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করে সেজন্য সবাইকে আমরা সচেতন করছি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম মামুন খাঁন চিশতী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন, সহকারী পুলিশ সুপার জেলা বিশেষ শাখা সুরাইয়া খাতুন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল আবু সাইদ সহ পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

এদিকে কঠোর লকডাউনে ৬ষ্ঠ দিনে রাস্তাঘাটে বেড়েছে মানুষের আনাগোনা। রাস্তাঘাটে বেড়েছে রিকশা ভ্যান, মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক। তবে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে মানুষকে জেরা করতে দেখা গেছে আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীকে।

 

শ্রীমঙ্গলে পাহাড় কাটার অপরাধে জরিমানা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউপি রাধানগরে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার অপরাধে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উপজেলার প্রশাসন। গেল মঙ্গলবার (৬ জুলাই) দুপুরে অভিযান পরিচালনা করে পাহাড় কাটার কারণে রাধানগর এলাকার ইউনুছ মিয়ার স্ত্রী নার্গিস বেগমকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার কমিশনার (ভুমি) নেছার আহমদ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অপারেশন) নয়ন কারকুন ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান ভানু লাল রায়।

তিনি জানান, এখান থেকে মাটি নিয়ে একটি ভিটা ভরাট করা হচ্ছিল। পাহাড় কাটার অপরাধে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভূমি কমিশনার।