দেশের রাজনীতিঃ

অনেকেই বিদেশ থেকে দেশের রাজনীতির খবর জানতে চান। কেউ কেউ পরামর্শও পাঠান দলের শির্ষ নেতাদের কাছে পৌছে দিতে। প্রথমত আমি রাজনৈতিক বিশরদ নই। অনেকের সঙ্গেই আলাপ পরিচয় আছে। মাঝে মধ্যে অনেকের সাথে কথাও হয় তবে দেখাসাখ্যাত খুব একটা হয়না করোনার কারনে। রাজনীতি নিয়ে আমিও ভাবি। এবং লিখি মনের ভাবনা থেকেই। আমি যা লিখি তা একান্তই আমার নিজস্ব। এর সঙ্গে দলের বা নেতাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। দেশে এখন কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ড নেই। মাঝে মধ্যে দু’চারজন নেতা তর্ক যূদ্ধ করেন গনমাধ্যমে। কার্যত কোন কর্মসূচী নেই কোন দলেরই। জাতীয় সংসদে বি এন পি’র দুর্বল প্রতিনিধিত্ব রয়েছে দলগত ভূমিকা নেই। সরকারী জোটে জাতীয় পার্টি। প্রধান নেতা এরশাদের মৃত্যুর পর সেই দলটিও এখন প্রায় নিরব। তৃতীয় শক্তি নামে যে জোটটি হয়েছিল সেটিও নিষ্ক্রীয়। ড, কামাল হোসেনের গনফোরাম বিভক্ত হয়ে গেছে। সর্বপরি করোনা পরিস্থিতি রাজনীতির জন্য সহায়ক নয়। কোন রকম প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই সরকার পরিচালনা করছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের রাজনীতি এখন প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রিক। নেতাদের উল্লেখযোগ্য কোন ভূমিকা নেই রাজনীতিতে। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া কোন কিছুই কার্যকর হয়না।

নির্বাচন খুব বেশী দেরি নেই। পদ্মা সেতু চালু হলে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই প্রস্তুতি চলছে দলের নমিনেশন নেওয়ার। এই প্রতিযোগিতায় থেমে নেই অখ্যত কর্মীটিও। সকলেই নিজেকে যোগ্য প্রার্থী মনে করে এবং প্রচারনা চালাচ্ছে নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায়। সদ্য দলে ভেরা বিত্ত্ববান এবং অন্য দল থেকে আসা নেতারাও চেষ্টা চালাচ্ছে নমিনেশন নিশ্চিত করতে। উপজিলার নেতা থেকে শুরু করে অঙ্গ সংগঠনের নেতারও আছে এই দৌড়ে। জীবনে একবারের জন্য হলেও সংসদে যেতে চান তারা। এই প্রতিযোগিতায় অনেক প্রবাসি নেতাও যুক্ত হয়েছেন। তবে দলের নেতৃত্বের পরিবর্তন চায় এখন সকলেই। নির্বাচনের আগে কাউন্সিল হতে হবে এবং সেই কাউন্সিলে লোভনিয় পদটি হবে দলের সেক্রেটারী। এই পদ প্রাপ্তির লোভে আওয়ামী লীগে নতুন করে অভ্যন্তরীন উপদল গঠনের চেষ্টা চলছে। ভাগ্যের সিকাটি কার হবে তা জানেন শুধু জননেত্রী শেখ হাসিনা। তবে নাম শোনা যাচ্ছে অনেকের। নতুনদের স্থান দিতে চান নীতিনির্ধারকরা কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই নীতিতে কতটা স্থির থাকতে পারবেন তা নির্ভর করবে দলনেত্রীর উপর। অনেক এম পি এখন বিতর্কিত হয়ে পরেছেন। এলাকাবাসি নেতৃত্বের পরিবর্তন চায়। সেই হিসাবে অনেকে বাদ পরবেন শোনা যাচ্ছে। কিন্তু সংখ্যাটি কত কেউ জানেনা। বেশী কাড়াকাড়ি চলছে মহিলা নেতৃত্বে। নির্ধারিত কোটায় এবারের সংসদে কয়েকজনের বিরুদ্ধে জোর আপত্ত্বি উঠেছে। কোন যোগ্যতায় মহিলা আসনে প্রার্থী নির্বাচীত হবে তা নিশ্চিত হওয়া জরুরী। জাতীয় কাউন্সিলে এই সিদ্ধান্তটি প্রত্যাশা করে মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মী। তা নিশ্চিত হলে অবস্থাটির পরিবর্তন হবে আশা করেন বিজ্ঞজনেরা। এই সব কিছুই নির্ভর করবে করোনা মোকাবেলায় সরকারের সফলতার উপর।

সরকার করোনা নিয়ন্ত্রনে ব্যর্থ হলে দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। ইতিমধ্যে জামাত-বি এন পি সহ সব দলের নেতারাই দেশে বিদেশে প্রচারনা চালাচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে। ভার্চুয়াল সাখ্যাতকারে মিথ্যাচার করছে সরকারের বিরুদ্ধে। এসব আলোচনা আর বক্তব্যের ভিত্তি নেই তবে জনগন বিভ্রান্ত হচ্ছে। এই প্রচারনা সবটাই হচ্ছে বিদেশ থেকে। সরকার চাইলেও এই প্রচারনা বন্ধ করতে পারবেনা। তাই প্রবাসি সংগঠনগুলিকেই স্বক্রিয় হতে হবে। ঐক্যবাদ্ধ হয়ে অপপ্রচারনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। শুধু নেতা হওয়ার আশায় যারা প্রবাসে রাজনীতি করেন তাদের কথা ভিন্ন। দলের একনিষ্ঠ কর্মী হলে প্রবাসে দুস্কৃতিকারিদের বিরুদ্ধে সঙ্গবদ্ধ হউন। প্রতিবাদ করুন।

আজিজুর রহমান প্রিন্স,

কলামিস্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ।

রায়পুরে শ্বশুড় বাড়ি থে‌কে মে‌য়ে জামাইর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

মোঃ জ‌হির হো‌সেন, লক্ষ্মীপুরঃ গত র‌বিবার ভো‌রে রায়পু‌র মিতালী বাজা‌রে শশুড় বা‌ড়ি থে‌কে  মোঃ জাফর (৩২) না‌মে জামাই‌য়ের লাশ উদ্ধার ক‌রে হায়দরগঞ্জ পা‌ড়ি পু‌লিশ। জাফ‌রের শ্বশুর বাড়ি রায়পুর ৯ নং ইউনিয় ৪ নং ওয়ার্ড লালমিয়া সিরাজ হাওলাদার বাড়ি, জাফরের স্ত্রী শিমা আক্তার(১৯)  পিতাঃ নুরনবী (৪৬) মাথাঃ কোহিনূর।

রবিবার ভোরে নামাজ পড়তে এসে লোখজন দেখ একটি চৌচালা খোলা ঘরে একটি লাশ গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতেছে তার পরে মানুষ ঝড় হয়, ধারনা  করা যায় রাতে যে কোন সময় এই ঘটনা ঘটে।

ছেলের মা রহিমা বেগম বলেন জাফর কে ৭ রমজান বিয়ে করাইছি তার পর পরেই জাফরের বাবা মারা যায়, জাফরের বউ ১২ দিন হয়েছে শিমা তার বাপের বাড়ি গেছে জাফর বউকে আনতে যায় কিন্তু তার শাশুড়ী  বউ কে দিতে চাচ্ছে না বলে আমি গিয়ে বউ আনতাম, কিন্তু জাপরের বাবা মারা গেছে ১ মাস ৪ দিন আমি বলছি ৪৫ দিন হোক তার পরে আমি গিয়ে বউ নিয়ে আসবো, আমার কাছে আমার কাছে শ্বশুর বাড়ি যাবে বলেছে আমি তখন তাকে ৫০০ টাকা দেই, বাড়ি থেকে বের হয়েছে আসরের সময়।

স্ত্রী শিমা বলেন আমার জামাই সন্ধার সময় আমাদের বাসায় আসে তার পরে খাবার খেয়ে একটু বিশ্রাম করে বলে শিমা আমি সকালে পানের ভোরে পান ভাঙ্গবো আমি চলে যায়, আমি বলি সকালে জান, কিন্তু তিনি বললো আমি এখন চল যাচ্ছি  এ বলে সে ঘর থেকে বের হয়েছে।

জাফরের ছোট ভাই বলেন আমার ভাই তিন বিয়ে করছে প্রথম বউ ভাইয়ের টাকা পয়সা সব আত্মসাৎ করেন তার পরে ভাই তালাক দিয়ে দেয়, দ্বিতীয় বউ এক ছেলের সাথে পালিয়ে যায়, আর শিমা হলেন ভাইয়ের তৃতীয় বউ।

হায়দার গঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার হাসান জাহাঙ্গীর আলম বলেন লাশের গলায় ফাঁস ছাড়া আর কোনো আঘাতের  চিহ্ন পাওয়া যায়নি, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের পর এটি হত্যা না আত্নহত্যা তা জানা যাবে।

রায়পু‌রে লকডাউ‌নের ৪র্থ দি‌নে ও প্রশাসনের ক‌ঠোর তৎপরতা

মোঃ জ‌হির হো‌সেন, লক্ষ্মীপুরঃ ১লা জুলাই থে‌কে সারা বাংলা‌দে‌শে চল‌ছে ক‌ঠোর লকডাউন। সারা বি‌শ্বে ডেল্টা না‌মের করোনার ভয়ঙ্কর থাবা দি‌য়ে কে‌ড়ে নি‌চ্ছে মানু‌ষের জীবন।

বাংলা‌দে‌শে  ও অন্যন্য দে‌শের ম‌তো ক‌রোনা আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হার বে‌ড়ে যাওয়ায়। সরকার‌রের ঘোষণা অনুযায়ী সারা দে‌শের ন্যায় লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পু‌রে লকডাউন কার্যকর কর‌তে রায়পুর প্রশাসন তৎপর র‌য়ে‌ছে। সকাল থে‌কে রায়পু‌রের সকল দোকানপাট বিপ‌নিবিতান বাস চলাচল বন্ধ র‌য়ে‌ছে। জনসাধার‌ণের চলাচল একবা‌রে সীমিত য‌দিও কেহ বের হ‌চ্ছেন তা‌দের চেক‌পো‌স্টে জিজ্ঞাসা করা হ‌চ্ছে জরুরী প্র‌য়োজন চাড়া কোন ধর‌নের মোটরসাই‌কেল গা‌ড়ি চলাচল কর‌ছে না।

রায়পুর থানা নির্বাহী অ‌ফিসার আবদুল জ‌লিল এর নেতৃ‌ত্বে রায়পু‌রের বিভিন্ন স্থা‌নে এবং বি‌ভিন্ন গ্রাম্য বাজা‌রে লকডাউন কার্যকর কর‌তে ক‌ঠোর তদার‌কি কর‌তে দেখা যায়। রাখা‌লিয়া বাজা‌রে একজন সেলুন ব্যবসায়ী সেলুন খোলা রাখায় তা‌কে গা‌ড়ি‌তে তু‌লে নেন কিছুক্ষণ পর তাকে শতর্ক ক‌রে ছে‌ড়ে দেন।

রায়পু‌রের বি‌ভিন্ন স্থা‌নে লকডাউন অমান্যকা‌রি‌দের জ‌রিমানা ক‌রে‌ছে নির্বাহী ম্যা‌জি‌স্ট্রেট। মালবা‌হি গা‌ড়ি এবং মোটরসাই‌কেল এর কাগজপত্র ড্রাই‌ভিং লাই‌সেন্স চেক করা হয়। জবাব‌দি‌হিতার মু‌খোমু‌খি হ‌তে হ‌চ্ছে হেল‌মেট ও মাস্ক ছাড়া যারা বাজা‌রে প্র‌বেশ কর‌ছে।

র‌্যাব ৯ এর অভিযানে জুড়ী থেকে ৫ কেজি গাঁজা সহ ১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলায় শনিবার (৩জুলাই) রাত সাড়ে ১০ ঘটিকায় র‌্যাব-৯, সদর কোম্পানী এর একটি আভিযানিক দল সিঃ এএসপি ওবাইন এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্সসহ মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী থানাধীন মোকামবাড়ী বাজারে নিমার আলীর মুদির দোকানের সড়কের উপর পূর্বের তথ্য অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান পরিচালনা করিয়া ৫ কেজি গাঁজাসহ একজন’কে আটক করে।

আটককৃত ব্যক্তি শ্যামল রায়(৪০), তাহার নিকট হতে ৫ কেজি গাঁজা ১টি মোবাইল ও ২টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, এ্যালভিন টিলা ফুলতলা চা বাগানের মৃতঃ সুরেশ রায় এর ছেলে শ্যামল রায়।

র‌্যাব-৯  অভিযানে আটক কৃত আসামী শ্যামল রায়ের সাথে থাকা জব্দকৃত গাঁজা ও মালমাল সহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর পূর্বক মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনা সত্যতা নিশ্চিতে যোগাযোগ করা হলে, জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ সঞ্জয় কুমার চক্রবর্তী এর সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং আইনানুসারে মাদকদ্রব্য আইনে মামলায় রবিবার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান।

লক ডাউনঃ

সারা দেশেই লক ডাউন চলছে। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিন দিন ধরে বৃষ্টি আর লক ডাউনের কারনে গৃহে বন্দি হয়ে পরেছে সবাই। আজ এক জরুরী কাজে গাজীপুর যেতে হয়েছিল। আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুরের রাস্তাটি ট্রাকের কারনে জ্যাম থাকে। এই পথটুকু পারি দিতে হয় ভোরে। আমরাও খুব ভোরেই রওনা হয়েছি। সরকারী দপ্তরের চিঠি সহ প্রয়োজনিয় সব কাগজপত্রও সংগে নিয়েছি। পথে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত দুইবার চেক পোষ্টে থামিয়েছে এবং জিঙ্গেস করে যেতে অনুমুতি দিয়েছে। উত্তরা থেকেই শুরু হয়েছে ট্রাফিক জ্যাম। কিছুতেই এগুনো যাচ্ছেনা। অনেক্ষন পর যখন চেক পোষ্টে পৌছালাম আবার চেকিং হল। এবারও পার পেয়ে গেলাম। উত্তরার পর থেকেই শুরু হল লম্বা লাইন আর ভাঙ্গা রাস্তা। চলেছি কাছিমের গতীতে। আজ রাস্তায় ট্রাক নেই।পুলিশ গাড়ী আটকে দিয়ে জ্যাম বাঁধিয়েছে। পুলিশ কারও কোন কথাই শুনতে চাইছেনা। বাধ্য হয়েই পুলিশের নির্দেশে মেনে ফেরৎ চলে এসেছি। কিন্তু ফেরার পথে এয়ারপোর্টের কাছাকাছি পুলিশ হাত উঁচিয়ে নির্দেশ দিল গাড়ী সাইড করতে। লক ডাউন দেওয়া হয়েছে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিৎ করতে। মাস্ক ছাড়া বেরিয়েছি কিনা তা পরীক্ষা করতে। যে উদ্দেশ্যে বেড়িয়েছি তার সত্যতা পরীক্ষা করাও পুলিশেরই কাজ৷ কিন্তু পুলিশ রাস্তার সাইডে গাড়ী দাঁড় করিয়ে টাকা আদায় করছে। না হয় মামলা দিচ্ছে ট্রাফিক আইনে। কয়েকজনকে এ নিয়ে প্রতিবাদও করতে দেখেছি। একটি টেলিভিশন ক্যামেরা শুট করছে দেখে আমরা রক্ষা পেলাম।

লক ডাউনের অযুহাতে রাস্তায় এখন ঘুষের উৎসব চলছে পুলিশের। সামাজিক দুরত্ব রক্ষা হচ্ছেনা রাস্তায়। মাক্সবিহীন পথচারি চলাচল আগের মতই অব্যহত রয়েছে। ইটের ট্রাকে বসে মাক্স বিহীন যাত্রী বহনের দৃশ্যও দেখেছি। কিন্তু পুলিশের দৃষ্টি কেবল গাড়ীর উপর সঙ্গত কারনেই। রাস্তায় মাক্সবিহীন কাউকে শতর্ক করতে দেখিনি। তাহলে এই লক ডাউনের গুরত্ব কতটুকু রক্ষা হল? বেড়িগেট দিয়ে রাস্তায় চেকপোষ্ট বসালেইকি করোনা মুক্ত হয়ে যাবে দেশ? অনেক জায়গায় মিলিটারিও নেমেছে তবে তাদের ভদ্র ব্যবহার লক্ষ্য করেছি। রাস্তার চিত্র দেখে লক ডাউনের উদ্দেশ্যটি কার্যকর হচ্ছে মনে হয়নি। জরুরী কাজে যেতে পারিনি তাতে দুঃখ নেই। কিন্তু পুলিশ জনগনকে লক ডাউনের উদ্দেশ্যটি বোঝাতে পেরেছে মনে হয়নি। জনগনকে করোনার সঙ্কাটি বোঝানের বদলে অশোভন আচরন করছে। মানূষকে সচেতন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে সংক্রমন রোধ করা সম্ভব হবে। না হয় লক ডাউন দিয়েও ভাল কোন ফল বয়ে আনবে মনে হয়না। জনগন সরকারের নির্দেশ মেনে ঘরে রয়েছে। আমরাও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই জরুরী প্রয়োজনে বেড়িয়ে ছিলাম। পুলিশের নির্দেশ মেনে চলে এসেছি। কিন্তু পুলিশের ভূমিকা দেখে লক ডাউন নিয়ে অন্যদের মত আমিও ক্ষুদ্ধ হয়েছি। সংশ্লিষ্ঠ কর্তিপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করবে আশাকরি।

আজিজুর রহমান প্রিন্স,

কলামিস্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ।

নীলফামারীতে ৫০জন করোনা পজিটিভ, লকডাউনের চতুর্থ দিনে প্রশাসনের কঠোর নজরদারী ও জরিমানা

মোঃ মোশফিকুর ইসলাম, নীলফামারীঃ গত বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশে লক ডাউনে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার প্রশাসনিক তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। গোটা রংপুর বিভাগ সহ নীলফামারী সদরের, ৬ উপজেলা কঠোর ভাবে লক ডাউন চলছে।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক নিয়মিত এই লক ডাউনে প্রচার অভিযান, স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি লক্ষে, সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করে চলেছেন।

তারই ধারাবাহিকতায় আজ ৪ জুলাই রবিবার, নীলফামারী শহরের স্বাধীনতা স্মৃতি অম্লান চত্বরে সেনা এবং প্রশাসন অবস্থান করেন। এই ভয়াবহ করোনায়, অযথা শহরে প্রবেশ করে পরিবেশ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার জায়িদ ইমরুল অর্থ জরিমানা সহ সচেতনতা সম্পর্কে মানুষ কে অবগত করেন।

নীলফামারী জেলায় ১২৬জনের নমুনায় ৫০ জন পজিটিভ এরমধ্যে সদরে ৪৫জনের ২০ জন পজিটিভ, ডোমার উপজেলায় ১৮ জনের মধ্যে ৫জন, সৈয়দপুর উপজেলায় ৪৭ জনের মধ্যে ১৭ জন, ডিমলায় ৪ জনের মধ্যে ৪ জন, কিশোরগঞ্জ ৩ জনের মধ্যে ১ জন, জলঢাকায় ৯ জনের মধ্যে ৩ জন।

অপর দিকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়শ্রী রানী রায়, করোনা পজিটিভ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন, এবং কিশোরগন্জ উপজেলায় আতিকুল নামে একজন করোনায় মৃত্যু বরণ করেছে।

বড়লেখায় পৌর এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় রোজ শনিবার (৩ জুলাই) সকাল ১১ ঘটিকার সময় অবৈধ স্থাপনা দখলমুক্ত করতে বড়লেখা থানা অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন সরদারের নেতৃত্বে একদল পুলিশের উপস্থিতিতে ও পৌর কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহায়তায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। শহরের যানজট নিরসনে ও শহরের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির লক্ষে এই অভিযানকে ব্যবসায়ী, পথচারী, প্রবাসীসহ সকলেই সাধুবাদসহ ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী ও থানা অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন সরদারের সাথে বাজারের বণিক সমিতির দায়িত্বশীল ও পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে দেড় মাস থেকে কয়েক দফা বৈঠক শেষে অভিযান পরিচালিত হয়। এ নিয়ে পৌর মেয়র আবুল ইমাম মোঃ কামরান চৌধুরী বলেন আমরা হাজীগঞ্জ বাজারের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে আমি এবং আবার পৌর কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট আন্তরিক। সেজন্য আমাদের পক্ষ থেকে যা কিছু সাহায্য সহোযোগিতায় করার আমরা করেছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী বলেন বড়লেখা হাজীগঞ্জ বাজারে যানজট নিরসনের জন্য অবৈধ ফুটপাত দখল মুক্ত করতে সকলেই আন্তরিক ছিলেন এবং সকলের সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। আমি আশাকরি এরকম সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে বাজারের এই সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবেন। বড়লেখা পৌর শহরের ফুটপাত ও ড্রেনের উপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এভাবে সকলের সহযোগিতা থাকলে আগামীতে আরো সুন্দর একটি বড়লেখা উপহার দেয়া সম্ভব।

কানাডায় তীব্র দাবদাহে ৭১৯ জনের মৃত্যু!

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ কানাডায় তীব্র তাপদাহে কার্যত পুড়ছে সারা দেশ। এরই মধ্যে মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে শুরু হয়েছে দাবানাল। এমতাবস্থায় বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। তীব্র তাপদাহে কেবল ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশেই মৃত্যু হয়েছে ৭১৯ জনের। কানাডার কর্তৃপক্ষ বলছে, তাপমাত্রায় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় মৃত্যুর হার বেড়েছে। আর রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রায় ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

ব্রিটিশ কলম্বিয়ার করোনার সার্ভিস গতকাল শুক্রবার জানিয়েছে, প্রদেশটিতে এখনও তীব্র তাপদাহ চলছে। তাপদাহে প্রদেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭১৯ জন। কর্মকর্তারা বলছেন, গত সাতদিন ধরে তীব্র তাপদাহের কারণেই হয়তো এই ৭১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত সপ্তাহে দেশটিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই সপ্তাহে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হতে পারে। কর্মকর্তারা বলছেন, এত অল্প সময়ের ব্যবধানে আগে কখনও এত মানুষের মৃত্যু হয়নি।

ব্রিটিশ কলম্বিয়ার চিফ করোনার লিসা লাপয়েন্টে বলেছেন, প্রদেশটির কিছু অংশে এখনও উচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে। তাই এই ভয়াবহ তাপদাহ থেকে বাঁচতে আমাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অনুগ্রহ করে পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী এবং বিশেষ করে যারা একা থাকেন তাদের খোঁজ নিন।

রায়পু‌রে ধার দেনায় হতাশ হ‌য়ে যুব‌কের আত্মহত্যা

মোঃ জ‌হির হো‌সেন, লক্ষ্মীপুরঃ লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পু‌রে এক যু্বক গলায় ফাঁস দি‌য়ে আত্মহত্যা ক‌রে‌ছে। ১ নং সোনাপুর ৪ নং ওয়ার্ড চৈতাল্লা দিঘীর পাড় পাঁচকু‌ড়ি বা‌ড়ির নুরুল আ‌মি‌নের ছে‌লে মোস্তফা আজ শ‌নিবার (৩ জুলাই) নিজ ঘ‌রের আড়ার সা‌থে ফাঁস দি‌য়ে আত্মহত্যা ক‌রেন। খবর পে‌য়ে রায় প‌রিবা‌রের লোকজন মৃত‌কে রায়পুর স্বাস্থক‌মপ্লেক্সে আনার পর পরীক্ষা নি‌রিক্ষা ক‌রে  ডাক্তার মৃত ঘোষণা ক‌রেন। মোস্তফার মৃ‌ত্যু‌তে প‌রিবা‌রে শো‌কের ছায়া নে‌মে এসেছে।

পা‌রিবা‌রিক সূ‌ত্রে জানাযায় নিহত মোস্তফা বি‌ভিন্ন এন‌জিও থে‌কে কি‌স্তির  টাকা প‌রি‌শোধ কর‌তে পার‌ছি‌লো না। লকডাউ‌নে হতাশাগ্রস্থ হ‌য়েপ‌ড়েন। সংসা‌রের অভাব অনটন সহ বি‌ভিন্ন কার‌নে হতাশ হ‌য়ে আত্মহত্যা ক‌রেন। মৃত মোস্তফার ঘ‌রে স্ত্রী, প্র‌তিব‌ন্ধি ৩ বছ‌রের এক মে‌য়ে আবং ৭ দি‌নের ছে‌লে বাচ্ছা র‌য়ে‌ছে।

রাজনীতিঃ

তারেক জিয়াকে নিয়ে ডা,জাফরউল্লাহ চৌধুরীর সাম্প্রতিক মন্তব্য বি এন পি’তে এখন তোলপার হচ্ছে। একদল বলছে জাফরউল্লাহর বক্তব্য সঠিক অন্যদল বলছে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বি এন পি’র কে! আসলেই জাফরউল্লাহ চৌধুরী বি এন পি’র কেউনা। কিন্তু সব সময়ই বি এন পি এই বুড়ুকে ধরে রেখেছে। দলের গুরুত্বপুর্ন সভাতেও আমন্ত্রন পান তিনি। রাজনীতির কৌশল সর্বকালেই অভিন্ন। চলমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে কৌশল বদল করতে হয়। বি এন পি কৌশলে ব্যর্থ হয়ে এখন জনবিচ্ছিন্ন। বেগম খালেদা জিয়া অর্থ আত্নসাধের মামলায় অভিযুক্ত হয়ে বন্দি (শর্ত স্বাপেক্ষে এখন জামিনে) তারেক জিয়া পুলিশের খাতায় পলাতক আসামি। দুই শির্ষ নেতার দুর্দশা থেকে দলকে মুক্ত করা না গেলে আগামি নির্বাচনেও বি এন পি’র ভরাডুবি হবে নিশ্চিত।

ডা: জাফরউল্লাহ রাজনৈতিক নেতা নন। বরাবরই সুবিধাবাদি। বর্তমান সরকারের আমলে তেমন কোন সুবিধা নিতে পারেননি। তাই তিনি শেখ হাসিনা বিরোধী। তবে বি এন পি’কে যে পরামর্শটি তিনি দিয়েছেন তা সঠিক। তারেক জিয়া এখন দলের বোঝা। অপরিপক্ক নেতা ক্ষমতা পেলে কি করে তারেক তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রাজনীতি থেকে অর্থ পেয়ে তারেক এখন বেপরোয়া। সম্প্রতি তিন মিলিয়ন পাউন্ড জুয়া খেলে হেরেছে এমন সংবাদ গনমাধ্যমেই এসেছে। লন্ডনে তার রাজকীয় বসবাসের অর্থ যোগান দেয় দলের নেতা কর্মীরা। উপজেলা সংগঠনের কমিটি গঠনেও তারেক সম্মতি দেয়না টাকা ছাড়া। এমন সহজ বানিজ্যের লোভে তারেক এখন কাউকেই মানতে চায়না। এমন ব্যক্তি দেশের সরকার প্রধান হলে দেশের অবস্থাটি কি হবে ভাবা যায়না।

বি এন পি সরকারের আমলেই তারেকের উত্থান।এখনো হাওয়া ভবনের কেচ্ছাকাহিনী মানূষের মূখেমূখে। কম বিদ্যাতে রাজনীতি করা অন্যায় নয়। অনেকে বড় নেতাও হয়েছেন। কিন্তু তারেক জিয়া রাজনীতি করেনি। ১০ ট্রাক আস্র মামলা, ২১ আগষ্টের হত্যাকান্ডের মূল আসামি তারেক জিয়া। খাম্বা, কমশন বানিজ্য আর সিনিয়র নেতাদের সাথে অসৌজন্য মূলক আচরনে খ্যতি ছড়িয়েছে তার। সেই তারেক এখন নেতাদের রাজিনীতি শেখাচ্ছে লন্ডনে বসে। রাজকীয় পোষাকে মঞ্চে গিয়ে বক্তব্য দিচ্ছে জাতীর পিতার বিরুদ্ধে। তারেকের বক্তব্য শুনে বি এন পি’র নেতা কর্মীরাই এখন ক্ষুদ্ধ। তারেকের কারনে বি এন পি ডুবেছে এবং তারেকের কারনেই দল ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। চতুর কর্মীরা অনেকেই সটকে পরেছে আবার অনেকে পথ খুঁজছে। আরেকবার নির্বাচনে ভরাডুবি হলে দলের লোকেরাই তারেককে নিষিদ্ধ ঘোষনা করবে। যারা এখন দলের সিনিয়র নেতা তারা মূখে না বললেও ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে তারেকের উপর। দলকে না গুছিয়ে তারেকের খরচ মিটাতে হচ্ছে নেতাদের। ইতিমধ্যে জামাত তারেককে গ্রাস করে ফেলেছে। অর্থ লোভি তারেক প্রচুর অর্থ পাচ্ছে জামাতের কাছ থেকে। নেতারা (অনেকে) চাইলেও সঙ্গত কারনেই তারেক জামাতকে ছাড়তে পারবেনা। এমন একজন অর্থলোভি নেতাকে দলের শির্ষ পদে রেখে বি এন পি’র শুধু ক্ষতিই হবে। ডা, জাফরউল্লাহ মোটেও ভুল বলেননি। নাহলে বি এন পি রাজনীতিতে থাকলেও অবস্থাটি হবে মুসলীম লীগের মত।

আজিজুর রহমান প্রিন্স,

কলামিস্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ।