মৌলভীবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসা ১৪ রোহিঙ্গা আটক

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে মৌলভীবাজারে এসে আটক হয়েছেন ১৪ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী। মৌলভীবাজার সদরের চোবড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (২ জুলাই) রাতে তাদের আটক করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমান দেশের জনপ্রিয় এক গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোকে নিশ্চিত করেন মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি ইয়াছিনুল হক।

মৌলভীবাজার ওসি জানান, লকডাউনের সময় আইন অমান্য করায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে আসল তথ্য।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমান জানান, জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হওয়া গেছে তারা রোহিঙ্গা সদস্য। শরণার্থী ক্যাম্প থেকে এখানে এসেছেন তারা।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, তারা মৌলভীবাজার শহরে আরও দুইদিন আগেই প্রবেশ করে। কোনও একভাবে তারা উখিয়া শরণার্থী ক্যাম্প থেকে বের হয়ে এসেছে। এরপর কয়েকদিন চট্রগ্রামে অবস্থান করে কাজের সন্ধান চালায়। পরে তারা সিলেটে আসে কাজের সন্ধানে। আর সেই সূত্রেই মৌলভীবাজার আসা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, সন্ধ্যায় আমাদের টিম লকডাউন বাস্তবায়নের জন্য মাঠে ছিল। শহরের চোবড়া এলাকায় তাদের দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয়। পরে তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়। এখানে প্রথমে তারা স্বীকার করেননি। পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা স্বীকার করেছেন।

পুলিশ জানাচ্ছে, এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া হবে। পরে তাদের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাণীশংকৈল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার সহায়তা করলেন সাবেক এমপি

হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ চলমান ভয়াবহ করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে  ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আক্রান্ত রোগীদের অক্সিজেন সেবা প্রদানের লক্ষে শনিবার ৩ জুলাই ঠাকুরগাঁও( ৩)আসনের  সাবেক জাতীয় পার্টির এমপি হাফিজউদ্দিন আহম্মেদ  সৌজন্যে উপহার হিসাব ৫ টি অক্সিসিজেন সিলিন্ডার প্রদান করেছেন।

এ উপলক্ষে এদিন দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও  পাঃপাঃ কমকর্তা ডাঃ আব্দুস সামাদ চৌধুরী অফিস কক্ষে এমপি’র প্রতিনিধিরা স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃপক্ষের হাতে সিলিন্ডারগুলো তুলে দেন। এসময় উপস্থিত থেকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না, সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও প্রীতম সাহা, পৌর মেয়র আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান,  ওসি জাহিদ ইকবাল প্রমুখ।

আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জাতীয় পার্টি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ জেড সুলতান, সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদব আকতারুল ইসলাম, জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য ও পৌর কাউন্সিলর ইসাহাক আলীসহ স্থানীয় সাংবাদকর্মিরা।  এ ব্যাপারে টিএইএ ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুস সামাদ বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের হাসপাতালে প্রায় একশত’র মতো ডিলিন্ডার রয়েছে। তবে যে হারে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে সেই তুলনায় আরও সিলিন্ডার মজুদ রাখা খুবই প্রয়োজন।

ঢাকার বাস সার্ভিস-৩

দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাই বলে দেয় দেশটির উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশের সব ক’টি যোগাযোগ মাধ্যম রুগ্ন হয়ে পরেছে। এমন নয় যে মানুষ চড়তে চায়না বা ভাড়া দেয়না। বরং টিকিট পাওয়া যায়না রেল কিংবা বিমানে। বাসে চড়তে হয় গাদাগাদি করে। কিন্তু অব্যবস্থাপনা আর দুর্নীতির কারনে এই খাতের প্রতিটি শাখায় লোকসান হয় প্রতি বছর। লোকসানী প্রতিষ্ঠানগুলিকে লাভজনক করাই এখন এক মাত্র করনীয়। স্বাধীনতার পর থেকে যোগাযোগ মাধ্যমে (রেল, বিমান, সড়ক এবং নদী) শুধু লোকসানই গুনতে হচ্ছে। আমাদের দেশে খনিজ সম্পদ নেই। সীমিত রপ্তানী আর স্থানীয় উৎপাদনই রাজস্ব দেয়। বিদেশে গরীব শ্রমীকদের প্রেরিত রেমিটেন্স এখন বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ বাড়ায়। কিন্তু দেশীয় উৎপাদন খাত ঘুষ, দুর্নীতি আর অপচয় করে বিনষ্ট করে। সজ্ঞবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দুর্নীতিকে বৈধতা দিয়েছে। প্রকাশ্যেই নির্ধারীত অঙ্কের ঘুষ না কাজ পাওয়া বা কাজ দেওয়া অনিয়ম হয়েগেছে। নিয়ম হয়েছে ঘুষ দিতেই হবে যতই ক্ষমতাশালী হউন। দেশের রাজস্ব উৎপাদনের সিংহ ভাগই ভাগ- বাটোয়ারা করে লুটে নেয় লুটেরা। তারাই আবার ন্যয় নীতির কথা বলে বক্তৃতা দেয় সভা করে। দেশের বেশীর ভাগ সম্পদের মালীক এখন সরকারী কর্মচারী আর আমলা। আর যারা মালীক হয়েছেন তাদের উৎসটিও স্বচ্ছনা৷ হিসাবটি করতে পন্ডিত কিংবা অঙ্ক বিশারদ হওয়ার প্রয়োজন নেই। তাই দুর্নীতি দমন কমিশনও দুর্নীতিমুক্ত না।

ইউরোপ আমেরিকার শহরের বাস সার্ভিস পরিচালিত হয় সরকারের অধীনে। সেখানেও ইউনিয়ন আছে ইউনিয়নের নামে প্রতিষ্ঠানের লোকসান হয়না। প্রায়ই আন্দোলন হয়, বেতন বৃদ্ধি সহ নানা সুবিধা আদায় করতে। সার্ভিস বন্ধ করে জনগনকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়না। আমাদের দেশে জঘন্য অপরাধীকেও সাজা দিলে রাস্তাবন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। বিদেশ থেকে নতুন গাড়ী এনে দিলেও একবার গ্যরাজে গেলে সেই গাড়ী আর চেনা যায়না। সব বিক্রি হয়ে যায়।

বর্তমান সরকার ডিজিটাল নীতি ঘোষনা করেছে। ডিজিটাল পন্থায় দুর্নীতি নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব। দেশীয় বিজ্ঞানীরাই পারে উপায় উদ্ভাবন করতে। হাস্যকর মনে হলেও এই পথেই পরিবর্তন সম্ভব। তা না হলে দুর্নীতি বন্ধ করা যাবেনা। আর দুর্নীতি বন্ধ করা না গেলে দেশও উন্নত হবেনা যতই চেষ্টা হউক। দেশের রাজস্ব উৎপাদনের প্রতিটি খাতকে নিয়ন্ত্রনে আনতে হবে। বাসের সার্ভিস সহ যোগাযোগ খাতের প্রতিটি স্তরকে ঢেলে সাজাতে হবে। তবেই কেবল এই নৈরাজ্য দূর করা সম্ভব হবে।

আজিজুর রহমান প্রিন্স,

কলামিস্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ।

হামলা-মামলা থেকে রক্ষা পেতে লোহাগাড়ায় এক দিনমজুরের সংবাদ সম্মেলন

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার উত্তর কলাউজান ১ নম্বর ওয়ার্ডের লেংঙ্গা পুকুর পাড় এলাকার বাসিন্দা তৈয়বুল হকের ছেলে মোহাম্মদ ফরিদুল আলম একই এলাকার আবদুল নবীর (মৃত) ছেলে মোহাম্মদ বাবুলের বিরুদ্ধে অত্যাচার-নির্যাতনের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে। গতকাল শুক্রবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় লোহাগাড়া প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে বাবু্লের অত্যাচারে অসহায় ফরিদুল আলমের পরিবার এবং এলাকাবাসীর ব্যানারে উক্ত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে ফরিদুল আলম বলেন, কয়েকদিন আগের প্রবাস ফেরত বাবুল  পারিবারিক জায়গা-জমির বিরোধের জের ধরে আমার পরিবারের উপর হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি শুক্রবার সকালে আমি বাড়ির পাশের দোকানে চা খাওয়ার সময় লম্বা দা নিয়ে আক্রমণ করে। তখন এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রাণে বেঁচে যায়। আমি এবং আমার পরিবারের লোকজন জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমি প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে ফরিদুল আলমের পরিবার এবং এলাকাবাসীর পক্ষে বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

মৌলভীবাজার জেলায় চলছে করোনার খামখেয়ালিপনা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারে গত কয়েকদিন থেকেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে শনাক্ত হচ্ছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের হার। প্রতিদিনই আক্রান্ত হচ্ছেন নতুন নতুন মানুষ। এর মধ্যে গতকাল শুক্রবার (২ জুলাই) জেলায় একদিনে শনাক্ত হয়েছেন রেকর্ড সংখ্যক করোনা সংক্রমন রোগী।

খুব বেশি দূর থেকে নয়, এই গত বুধবার থেকেই দেখা যাক আক্রান্তের হারটা। গত বুধবার (৩০ জুন) মৌলভীবাজারে ৫৭টি নমুনা পরীক্ষায় ২৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তের হার ৪৪%। এর পরে বৃহস্পতিবার (১ জুলাই)  ৮৫টি নমুনা পরীক্ষায় ২৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তের হার ৩৪ শতাংশ। আগের দিনের ৪৪ শতাংশ থেকে কমে ৩৪ শতাংশে, আশা ছিলো আরও কমবে করোনা শনাক্তের হার।

কিন্তু এর পরের দিনেই অবাক হতে হয় মৌলভীবাজারবাসীকে। পরের দিন শুক্রবার (২ জুন) দেখা যায় জেলায় একদিনেই করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৫২ জন। এটিই এখন পর্যন্ত মৌলভীবাজারে একদিনে আক্রান্তের সর্বোচ্চ রেকর্ড। ১৩০টি নমুনা পরীক্ষায় ৫২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।  আগের দিন শনাক্তের হার ৩৪ এ নামলেও তা আবার ৪০ শতাংশে।

সর্বশেষ আজ শনিবার (৩ জুন) মৌলভীবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ জন। এছাড়াও করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন আরও একজন। মৃত্যুবরণ করা ওই ব্যক্তি জেলার জুড়ী উপজেলার। ৭৯টি নমুনা পরীক্ষায় ২৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তের হার ২৯ শতাংশ। গতকাল এই শনাক্তের হার ছিলো ৪০ শতাংশ, সেই তুলনায় আজকে শনাক্তের হার কমেছে।

মৌলভীবাজার জেলায় এ পর্যন্ত মোট ৩১০০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মোট মারা গেছেন ৩৬ জন। গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ১৯ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ২৭০৪ জন।

নীলফামারীতে কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে প্রশাসন

মোঃ মোশফিকুর ইসলাম, নীলফামারীঃ করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সারা দেশের ন্যায় নীলফামারীতে শুরু হয়েছে কঠোর লকডাউন। গত বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে আইজিপির নির্দেশে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বিপিএম পিপিএম এর নেতৃত্বে জেলা পুলিশ ও বিজিবির মহড়া শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় মাইকে সচেতনামূলক প্রচারনা চালানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোছাঃ লিজা বেগম।

নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রউপ, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ উন নবী সহ আরো অনেকে, মহড়া শেষে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অপ্রয়োজনে বাইরে আসা মানুষদের সাবধান করে দেওয়ার পাশাপাশি মাক্স বিতরণ করা হয়। সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই কঠোর লকডাউন কার্যকর করতে পুলিশ, বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জেলার ৬ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। পাশাপাশি পুলিশের ১১টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। রাস্তা ঘাট এখন প্রায় ফাঁকা।

জেলা শহরগুলোতে জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। শুধু জরুরী সেবা অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে যানবাহন চলাচল করছে। তবে সকালে জেলা শহরের বড় বাজারে সবজি কেনার জন্য ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা দিয়েছে।

জেলা প্রশাসনের সূত্র মতে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে জেলার ৬ উপজেলায় ২ প্লাটুন সেনাবাহিনী ও ২ প্লাটুন ৫৬ বিজিবি মাঠে নেমেছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের ৬টি গাড়ি টহল দিচ্ছে। এছাড়া লকডাউনের ৩য় দিনেও জেলা প্রশাসনের ১৫টি ভ্রাম্যমান আদালত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কাজ করছে।

নওগাঁর আত্রাইয়ে পালিত হচ্ছে সর্বাত্নক স্বতঃস্ফুর্ত লক ডাউন

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ব্যপকতা রোধে দেশব্যপী সর্বাত্নক লকডাউরেন প্রথম দিন বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে এখন পর্যন্ত নওগাঁয় সর্বাত্নক পালিত হচ্ছে। উপজেলাসহ গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন হাট বাজারে স্বাস্থ্য বিধিমেনে কাঁচাবাজার বেলা একটা পর্যন্ত দোকান খোলা রেখে বেঁচা-কেনা সহ দু’ একটি ওষধের দোকান ছাড়া সকল প্রকার দোকান পাঠ বন্ধ রয়েছে। বাস,ট্রাক, পিক-আপ,রিক্সাভ্যান, বেটারী চালিত অটো রিক্সা, সিএনজিসহ সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। উপজেলার গুরুত্বপূন মোড় সমুহে পুলিশ এবংউপজেলা প্রশাসনের কঠোর সতক নজরদারী লক্ষ্য করা গেছে। সকল রাস্তায় যানবাহনে নিয়ন্ত্রনে পুলিশ কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকতেখারুল ইসলাম, আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা(ওসি) মোঃ আবুল কালাম আজাদ সরাসরি রাস্তায় নেমে এসব ব্যবস্থা তদারকী করছেন।

আত্রাই থানার ওসি মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন থানার সকল পুলিশ কর্মকতা এবং পুলিশ সদস্য এই করোনা মহামারীতে নিরলস ভাবে দায়িত্ব পালন করছে। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টিম পুরো উপজেলায় টহল প্রদান অব্যাহত রেখেছে।

লকডাউনের ৩য় দিনেও কঠোর অবস্থানে দেবিদ্বার উপজেলা প্রশাসন

শাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া (দেবিদ্বার, কুমিল্লা প্রতিনিধি) : কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে আজ থেকে দেশজুড়ে সাত দিনের কঠোর লকডাউনের ৩য় দিনেও কুমিল্লার দেবিদ্বারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসন আছে কঠোর অবস্থানে। সকালে উপজেলা সদরে যানবাহন ও জনসাধারনের উপস্থিতি ছিল কম। মানুষ খুব বেশি একটা ঘর থেকে বের হয়নি। তবে লকডাউন অমান্য কারীদের জরিমানা সহ বিয়ে বাড়ির কার্যক্রম বন্ধ করেন ইউনও রাকিব হাসান।

এছাড়াও দেবিদ্বার উপজেলা নিউমার্কেট চত্বর সহ বিভিন্ন সড়ক ও মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন মামলা দিয়ে জরিমানা আদায় করছেন। তবে সড়কগুলোতে রিকশা চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়িও দেখা গেছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিব হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি)মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও ওসি মোঃ আরিফুর রহমান সহ পুলিশের অন্যান্য সদস্য বৃন্দ।

গাড়ি না পেয়ে ফলের গাড়িতে যাত্রা, পথেই মৃত্যু

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়েছিলেন আব্দুল মুহিত সবুজ। কিন্তু লকডাউনের কারণে কোনো পরিবহন না পেয়ে নিরুপায় হয়ে উঠেন ফলসহ পণ্যবাহী ট্রাকে। রওয়ানা দেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার উদ্দেশ্যে। ট্রাকে সফরসঙ্গী জুড়ী উপজেলার রফিক উদ্দিনসহ আরও অনেকে। তারা ভোরে শ্রীমঙ্গল শহর পাড়ি দিয়ে মৌলভীবাজার শহরের কাছাকাছি এসে পৌঁছান। হঠাৎ পথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আকবপুর এলাকায় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে উল্টে খাদে পড়ে যায়।

খবর পেয়ে পরে ফায়ার সার্ভিসের কমীরা ঘটনাস্থলে যায়। গাড়ির ভেতর থেকে আব্দুল মুহিত ও রফিক উদ্দিনের লাশ উদ্ধার করে। এসময় আহত অবস্থায় আরও তিনজনকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতালে উপস্থিত নিহত আবদুল মুহিতের বন্ধু মইনুল হক বলেন, ‘মুহিত গত রোববার ঢাকা গিয়েছিলেন। যাত্রীবাহী গাড়ি না পেয়ে পণ্যবাহী ট্রাকে উঠেছিলেন। ট্রাকটি বিয়ানীবাজার যাচ্ছিল। আমরা সকাল আটটার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়েছি।’

মৌলভীবাজার ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা জালাল আহমদ বলেন, ‘সকাল সাড়ে ছটার দিকে আমরা দুর্ঘটনার খবর পাই। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ি কেটে সবাইকে উদ্ধার করি। আহতদের আমাদের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি।’

নিহত আব্দুল মুহিত সবুজের (৩৯) বাড়ি কুলাউড়া উপজেলার বরমচালের মাধবপুরে। তাঁর বাবার নাম আব্দুল কাদির। আর রফিক উদ্দিনের বাড়ি জুড়ি উপজেলার ফুলতলা ইউপি কোনাগাঁও গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মছকন আলী।

আব্দুল মুহিত সবুজ কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক। জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমান বলেন, ‘সবুজ ব্যক্তি জীবনে একজন অমায়িক ও ভালো মানুষ ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি শত বাধা বিপত্তিতেও ছিলেন অবিচল। কুলাউড়াবাসী সত্যিকারের একজন ভালো মানুষকে হারালো।’

এদিকে কুলাউড়ার স্থানীয় মানুষেরা জানান, আব্দুল মুহিত সবুজ ছিলেন একজন বিনয়ী ও ভালো মানুষ। সর্বস্তরের মানুষের সাথে তাঁর সুসম্পর্ক ছিলো।

নতুন করে ধরলার ভাঙনের কবলে পড়েছে ফুলবাড়ীর ৪টি গ্রাম

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ গত চার থেকে পাঁচ দিনের বৃষ্টি আর উজানের ঢলে ধরলা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের চর বড়ভিটা, বুদার চর, চর মেখলি ও বড় বাসুরিয়া সহ মোট ৪টি গ্রাম ধরলা নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। গত বছরের ভাঙনে ওই এলাকার ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠসহ বিভিন্ন স্থাপনা, আবাদি জমি, গাছপালা এবং শতাধিক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ বছর হঠ্যাৎ করে ভাঙন শুরু হওয়ায় ঘরবাড়ী নিয়ে দুচিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়ছেন তারা। এ অবস্থায় ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ধরলা নদীর তীরে মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচী পালন করেছেন তারা।

ধরলা নদীর তীরে মেখলি গ্রামে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন ও সমাবেশে বড়বাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আশরাফুল হক মিঠু সহ স্থানীয় আবুল কাশেম, বদিয়ার রহমান, আব্দুল মতিন, শওকত আলী, সাহেব উদ্দিন ও মমিন মিয়া বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। কিন্তু ভাঙনরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন-নিবেদন করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এমনকি কেউ দেখতে পর্যন্ত আসেননি। তাই আমরা মানববন্ধন ও সমাবেশের মাধ্যমে অবিলম্বে ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানাচ্ছি।

বড়ভিটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খয়বর আলী জানান, ওই এলাকায় ধরলার ভাঙ্গন রোধে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করে কোন লাভ হয়নি। তাই নিঃস্ব হওয়া পরিবার গুলোর তালিকা করা হচ্ছে। তাদের মাঝে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ত্রান বিতারণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী ওমর ফারুক জানান, ওই এলাকার ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ করা হবে।