কমলগঞ্জে চা–শ্রমিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার অর্জুন মহালী (২৭) নামের এক চা–শ্রমিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা মাধবপুর ইউপি পাত্রখোলা চা–বাগানের কবরস্থান এলাকায় একটি আমগাছ থেকে ওই ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

অর্জুন পাত্রখোলা চা-বাগানের মসজিদ লাইনের গোপাল মহালীর ছেলে। গরু চরাতে আসা রাখালেরা এ লাশটি দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে আশপাশের মানুষজন এসে জড়ো হয়।

নিহত অর্জুন মহালীর চাচাতো ভাই জাফর মহালী জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে অর্জুনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। গতকাল শুক্রবার লোকমুখে খবর শুনে এসে দেখেন এটি তার চাচাতো ভাইয়ের লাশ। তিনি খুব সহজ-সরল প্রকৃতির স্বভাবের ছিলেন। তাঁদের ধারণা, কেউ তাঁকে হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুঁলিয়ে রেখেছে। তাঁর হাতে রক্তের দাগও পাওয়া গেছে। এদিকে গাছের সঙ্গে লাশ ঝুলে থাকতে দেখে চা-শ্রমিকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

পাত্রখোলা চা–বাগানের ব্যবস্থাপক শামসুল ইসলাম সেলিম জানান, চা–শ্রমিকদের কাছ থেকে লাশের খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন এভাবে গাছের সঙ্গে লাশ ঝুলে আছে। তিনি কমলগঞ্জ থানা পুলিশকে জানালে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন শেষে বোঝা যাবে এটা হত্যা না আত্মহত্যা। তার আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

নকল চকচকে স্বর্নের বার দেখিয়ে আসল স্বর্ণ হাতানো চক্রের ৫ সদস্য আটক

মোঃ আমিন আহমেদ, সিলেটঃ নকল স্বর্ণের বার দেখিয়ে প্রতারণাপূর্বক আসল স্বর্ণ হাতিয়ে নেয়া সহ নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অপরাধে ৫ জন প্রতারককে আটক করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। নগরীর সিনেমা প্যালেস এলাকা থেকে কয়েকটি নকল স্বর্ণের বার তৈরির সরঞ্জাম, ও স্বর্ণালংকার রাখার কাভার উদ্ধার করা হয়। সিনেমা প্যালেস এলাকা থেকে এই প্রতারক চক্রটি আটক করা হয় বলে জানান কোতোয়ালী থানার এসআই মোঃ মোমিনুল হাসান।

আটককৃত আসামীরা হলেন, মোঃ তাজুল ইসলাম (৪২),মোঃ নজরুল ইসলাম (৩৮),মোঃ জামাল মিয়া (২৮),মোঃ কবির হোসেন (৩৮),রুরি বেগম (৩০)।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কেতোয়ালী থানাধীন ১৩৪/এ নন্দনকানন, শাহ আলী মার্কেটের কেয়ারটেকার জনৈক আবুল কালামের স্ত্রী ও পরিবার গ্রামের বাড়ীতে থাকে। স্ত্রী মাজেদা খাতুন অসুস্থ হওয়ায় চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী থেকে বাসায় আসার জন্য বসুরহাট এক্সপ্রেস করে সদরঘাট থানাধীন কদমতলী বাস ষ্ট্যান্ডে পৌছান। পরে একটি রিক্সাযোগে বাটালী রোড হতে এনায়েত বাজার মোড়ে পৌছালে রিক্সা চালক রিক্সার চেইন নষ্ট হয়ে গেছে বলে যাত্রীদেরকে জানায়। তখন ঐ রিক্সাচালক অপর একটি রিক্সায় যাত্রীদের উঠিয়ে দেয়। রিক্সাটি কিছু দূরে যাওয়ার পরে হঠাৎ করে রিক্সাটি থামিয়ে রিক্সার সামনে থাকা একটি প্যাকেটে মোড়ানো একটি জিনিস যাত্রীদেরকে দেখিয়ে পকেটে নিয়ে নেয়।

ঐ সময় রিক্সায় থাকা যাত্রী মাজেদা খাতুন কৌতুহল বসত রিক্সার চালককে কুড়িয়ে পাওয়া জিনিসটি কি, জানতে চাইলে রিক্সার চালক প্যাকেটটি খুলে এর মধ্যে স্বর্ণের বার পেয়েছি বলে জানায় এবং একপর্যায়ে ৫ আসামী মিলে কৌশলে আবুল কালামের স্ত্রীকে কুড়িয়ে পাওয়া স্বর্ণের বারটি রেখে টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেয়। পরে আবুল কালামের স্ত্রী মাজেদা খাতুন তাদের কথায় সরল বিশ্বাসে তার কানে থাকা ৫ আনা ওজনের ১ জোড়া স্বর্ণের কানের দুল এবং আরো নগদ ১০০০ টাকা দেয়।

আসামীরা টাকা নিয়ে কুড়িয়ে পাওয়া কথিত স্বর্ণের বারটি দিয়ে তার স্ত্রী ও তার সাথে থাকা কাপড়ের ব্যাগ কৌশলে রাস্তায় নামিয়ে ফেলে। মাজেদা খাতুন রিক্সার চালককে বাসায় পৌছে দেওয়ার জন্য বলিলেও রিক্সার চালক বাসায় পৌছে না দিয়ে দ্রুত চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। ঐ সময়ে সন্দেহ হলে স্বর্ণের কানের দুল ও নগদ টাকা ফেরত চাইলে রিক্সার চালক ফেরত না দিয়ে তারা দুজনেই তাদের সাথে থাকা অপর ২ জন পুরুষ ও ১ জন মহিলা সহ সু-কৌশলে রিক্সা যোগে পালিয়ে যায়। পরে আবুল কালাম বাদি হয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা করে।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন জানান, মামলার সুত্র ধরে সিনেমা প্যালেস এলাকা থেকে ৫ প্রতারককে আটক করা হয়।আসামীরা প্রতারক চক্রের সদস্য। তারা খুবই চালাক প্রকৃতির। গত মাসে অন্য একটি মামলায় জেলে কেটে ১ সপ্তাহ পর জামিনে বের হয়ে ৬০/৭০টি প্রতারণার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করে।

তিনি আরও জানান, তারা সকলেই হাজারী গলিতে স্বর্ণালংকারসমূহ বিক্রয় করে যে টাকা পায় সে টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়ে নেয়। হাজারী গলির স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ী কমমূল্যে উক্ত স্বর্ণালংকার সমূহ ক্রয় করে নেয়।

আসামীরা দীর্ঘ ৭/৮ বছর যাবৎ এই ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রম করে আসছে।তাদের বিরুদ্ধে সকল প্রকার আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে এই ধরনের প্রতারকদের কখনো ছাড় দেওয়া হবে না!

 

৩২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পেল বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক

জাতীয় ডেস্কঃ দেশের কৃষিতে উন্নয়ন ও অনুপ্রেরণা জোগাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে প্রবর্তন করেন কৃষি পদক পুরস্কার। এরই ধারাবাহিকতায় সব বারের মতো এবারও দেয়া হলো এ পুরস্কার। আর এবার দেশে কৃষি খাতের সর্বোচ্চ সম্মাননা বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার পেল ৩২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।

আজ রোববার (২৭ জুন) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এ পুরস্কার তুলে দেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির সময়ে সারের জন্য গুলিও খেতে হয়েছে কৃষকদের। কিন্তু বর্তমান সরকার ভুর্তকি দিয়ে কৃষকের কাছে সার পৌছে দিচ্ছে।আওয়ামীলীগের আমলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

সম্মাননার মধ্যে প্রথম পুরস্কার পাঁচটি স্বর্ণ, দ্বিতীয় পুরস্কার নয়টি ব্রোঞ্জ ও তৃতীয় পুরস্কার ১৮টি রৌপ্য পদক।

১০টি বিষয়ের ওপর বিশেষ অবদানের জন্য প্রতি বছর বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার প্রদান করা হয়। এগুলো হলো কৃষি গবেষণায় অবদান, কৃষি সম্প্রসারণে অবদান, প্রাতিষ্ঠানিক/সমবায়/কৃষক পর্যায়ে উচ্চমানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ, বিতরণ ও নার্সারি স্থাপন, কৃষি উন্নয়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, উদ্বুদ্ধকরণ প্রকাশনা ও প্রচারণামূলক কাজ, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন বা ব্যবহার, কৃষিতে নারীদের অবদান, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খামার স্থাপন, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বনায়ন, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি চাষ, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মৎস্য চাষ।

মৌলভীবাজার জেলা জুড়ে কোভিভ-১৯ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট অভিযান ও জরিমানা আদায়

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ করোনা মহামারী কোভিভ-১৯ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মৌলভীবাজার জেলার ১০টি পয়েন্টে একযোগে জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ব্যবসা পরিচালনা, বাহিরে অবস্থান ও গণপরিবহনে চলাচল করায় ১৮৯ জনকে অর্থদন্ড  জরিমানা করা হয়।

২৬ জুন শনিবার জেলা প্রশাসক ম্যাজিস্ট্রেট মীর নাহিদ আহসান নির্দেশনা অনুযায়ী ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া সুলতানা এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে একযোগে জেলার ১০টি পয়েন্ট সকল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ব্যবসা পরিচালনা, বাহিরে অবস্থান ও গণপরিবহনে চলাচল করায় দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারা ও সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ এর ২৫ ধারামতে ১৮৯ জনকে মোট ৪৪,৭৪৫. টাকা জরিমানা করা হয়।মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সকল উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ।

জেলা সদরে ম্যাজিস্ট্রেটদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সানজিদা রহমান, আসমা উল হুসনা, মোঃ আরিফুল ইসলাম, মোঃ রুহুল আমিন, মোঃ তানভীর হোসেন, মোঃ রফিকুল ইসলাম, অর্ণব মালাকার, শামীমা আফরোজ, খাদিজা তাহিরা প্রমুখ। মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সহযোগিতা করে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ।

কুষ্টিয়ায় সাধারণ লোকদের ঘরে রাখতে পুলিশের কর্মব্যস্ততা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ চলমান মহামারি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কুষ্টিয়ায় সর্বাত্নক লকডাউনের লকডাউন বাস্তবায়নে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোঃ খাইরুল আলমের নেতৃত্বে সরকারি সাধারণ লোকদের ঘরে রাখতে পুলিশের কর্মব্যস্ততা লক্ষ করা গেছে।

গতকাল শনিবার ( ২৬ জুন) কুষ্টিয়া জেলার সাত থানার সীমান্তবর্তী ও পৌর এলাকার চেকপোস্টে কঠোর ভাবে পুলিশি নজরদারী থাকায় আন্তঃজেলা ও আভ্যন্তরীণ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় শহরের ব্যাস্ততম সড়ক গুলোতে দেখা গেছে শুনশান নিরবতা। এ সময়ে অকারনে কেউ বাইরে বের হলেও তাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে আবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়ায় সর্বাত্মক লকডাউন কার্যকর করতে জেলার সীমান্তবর্তী স্থানে চেকপোস্টে ডিউটি পালনের জন্য বাঁশ বেধে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।কুষ্টিয়া – রাজবাড়ী মহাসড়কের খোকসা থানাধীন শিয়ালডাঙ্গী সীমান্তে চেকপোস্ট, কুষ্টিয়া – চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের পাটিকাবাড়ী তাহাজ মোড়ে চেকপোস্ট, কুষ্টিয়া -ঝিনাইদহ মহাসড়কের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার সামনে চেকপোস্ট, মিরপুর থানাধীন হালসা ক্যাম্পের অধীনে নান্দিয়া- পাইকপাড়া ফিডার রোডে চেকপোস্ট, মিরপুর থানাধীন মালিহাদ ক্যাম্পের অধীনে কুটিয়াডাঙ্গা হাট বোয়ালিয়া সড়কে চেকপোস্ট, ভেড়ামারা থানাধীন লালনশাহ সেতুর টোল প্লাজায় চেকপোস্ট,কুষ্টিয়া – মেহেরপুর সড়কের খলিশাকুন্ডি ব্রীজ চেকপোস্ট, দৌলতপুর সীমান্তে ধর্মদহ ব্রীজে চেকপোস্টে প্রতিদিন দুই শিফটে প্রতিটি চেকপোস্টে একজন এসআই,একজন এ এস আই ও তিনজন কনস্টেবল সহ মোট পাঁচজন পুলিশ সদস্য চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছে। একই সাথে কুষ্টিয়া জেলার পৌর এলাকাগুলোর বিভিন্ন চেকপোস্টে পুলিশের কঠোর নজরদারী থাকায় আভ্যন্তরীণ সড়কে কোন প্রকার যানবাহন চলাচল করেনি। পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পরিদর্শনের জন্য প্রায় প্রতিটি চেকপোস্টে পরিদর্শন করেছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোঃ খাইরুল আলম।

কুষ্টিয়া জেলার সাত থানার সীমান্তবর্তী ও পৌর এলাকার চেকপোস্ট পরিদর্শন কালে জেলা পুলিশ সুপার মোঃ খাইরুল আলম বলেন, মাস্ক পরার অভ্যেস, করোনা মুক্ত বাংলাদেশ।মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে রক্ষায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজে মাস্ক পরুন,অন্যকে মাস্ক ব্যাবহারে উদ্ধুদ্ধ করুন।অকারনে বাইরে ঘোরাফিরা না করে সবাই নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করে মহামারি করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যান।

এ সময় তিনি আরও বলেন, লকডাউন চলাকালীন সময়ে জরুরি পরিষেবা, চিকিৎসাসেবা, কৃষিপণ্য, খাদ্য সরবরাহ ও সংগ্রহ, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, ঔষধ শিল্প সংশ্লিষ্ট যানবাহন, কর্মী ইত্যাদি এবং সরকার কর্তৃক ঘোষিত অন্যান্য জরুরি পরিষেবা এর আওতা বহির্ভূত থাকবে।

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার(এসপি) মোঃ খাইরুল আলম বলেন, করোনা কালে সারা বিশ্বের অর্থনীতিক পরিস্থিতি যখন টালমাটাল ঠিক সেই সময়েও আমাদের দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক ভাল এবং অর্থনৈতিক সূচকেও আমরা এগিয়ে রয়েছি। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর হাতকে আরো শক্তিশালী করতে হলে তার নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। তাই আসুন আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার দেশ গড়ার লক্ষ্যে পুলিশ জনতা এক হয়ে কাজ করে আমাদের দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে যে যার অবস্থান থেকে কাজ করে যাই।

লকডাউনের চতুর্থ দিনেও সরেজমিনে উপস্থিত থেকে কুষ্টিয়ায় লকডাউন প্রতিপালনে বাধ্য করতে মুক্ষ্য ভুমিকা পালন করেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ), মোঃ ফরহাদ হোসেন খাঁন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জেলা বিশেষ শাখা), মোঃ রাজিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর), মোঃ আতিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল, ওসি কুষ্টিয়া মডেল থানা, ওসি কুমারখালী, ওসি খোকসা, ওসি ভেড়ামারা,ওসি দৌলতপুর, ওসি ইবি, ওসি মিরপুর, ওসি ডিবি, টি আই (এডমিন) কুষ্টিয়াসহ জেলা পুলিশ কুষ্টিয়ার সকল র্যাংকের অফিসার ও ফোর্স।

কুলাউড়া উপজেলা পরিষদ ভবনে অগ্নিকাণ্ড

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলা পরিষদ ভবনে শনিবার (২৬ জুন) রাত ১১টার দিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হওয়ার সাথে সাথে কুলাউড়া ফায়ার সার্ভিস টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা যায়, উপজেলা পরিষদ ভবনের নিচতলায় সিঁড়ির নিচে বৈদ্যুতিক মিটার বক্সে আগুনের সূত্রপাত হলে তাৎক্ষণিকভাবে কুলাউড়া ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা উপেন্দ্র কুমার সিংহের নেতৃত্বে একদল ফায়ার সার্ভিস টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হওয়ায় আগুনের কবল থেকে বেঁচে গেলো উপজেলা পরিষদ ভবনসহ মূল্যবান নথিপত্র।

এ দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম সফি আহমদ (সলমান), ইউএনও এটিএম ফরহাদ চৌধুরী ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাও. ফজলুল হক খান (সাহেদ) সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। অগ্নিকাণ্ডে বৈদ্যুতিক মিটার বক্স, বিভিন্ন অফিসের বৈদ্যুতিক ফ্যান ও বাল্বের ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা উপেন্দ্র কুমার সিংহ জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে উক্ত অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেন।

শ্রীমঙ্গলে নৈশপ্রহরীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার নৈশপ্রহরী মিজাজ মিয়া (৫০) এর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৬ জুন) সকাল ৮ ঘটিকার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের মিশন রোড থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নৈশপ্রহরী নিহত মিজাজ মিয়া শহরের সোনামিয়া রোডের নৈশ কলীন দায়িত্ব পালন করতেন।

নিহতের স্ত্রী মাজেদা বেগম বলেন, আমি বোনের বাসায় ছিলাম। সেখান থেকে খবর পেয়ে বাসায় এসে দেখি ফ্যানের রডের সাথে আমার স্বামী ঝুলে আছেন। তিনি বলেন, তার ধারণা তার স্বামী নিজে নিজেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন।

স্ত্রী বলেন, তার স্বামী খুব রাগ করতেন, কারো কথা শুনতেন না। জেদ করেই গলায় ফাঁস দিতে পারেন। নিহত ব্যাক্তি প্রায় ৪ বছর ধরে মিশন রোডে ভাড়া আছেন এবং দুই বছর ধরে নৈশপ্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌঁছায়। এসআই দুর্জয় সরকার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শষ্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে পাঠান।

শ্রীমঙ্গল থানার ওসি তদন্ত হুমায়ুন কবির এর সাথে কথা বললে জানান ঘটনার সত্য নিশ্চিত করে বলেন, ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে এটা হত্যা না আত্নহত্যা! এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গাজীপুরে ঝুট গুদামে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৪ ইউনিট

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ীতে একটি ঝুট গুদামে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট কাজ করছে।

আজ রবিবার (২৭ জুন) সকালে কোনাবাড়ী থানাধীন আমবাগ এলাকায় অবস্থিত একটি ঝুট গুদামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটে। পরে তা পাশের অন্যান্য গুদামে ছড়িয়ে পড়ে।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আবদুল হামিদ মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আমবাগ মিতালী ক্লাব এলাকায় কয়েকটি ঝুট গুদামে আগুন লাগলে এলাকাবাসী আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে ডিবিএল ও জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়।

আবদুল হামিদ জানান, আগুনের সূত্রপাত, ক্ষতির পরিমাণ এবং কয়টি গুদামে আগুন লেগেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রণ করতে সময় লাগছে বলে জানান তিনি।

অফিস সহকারীকে চুমু খেয়ে বিপাকে ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধের মধ্যে এক সহকারীকে চুমু খেয়ে বেকায়দায় পড়েছেন যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক। তার ওই ছবি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। মন্ত্রিসভা থেকে তাকে বের করে দেওয়ার দাবিও তুলেছে অনেকে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চাপের মুখে সামাজিক দূরত্বের বিধিনিষেধ ভেঙে সহকারীকে চুমু খাওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। গিনা কোলাডঅ্যাঞ্জেলো নামের ওই সহকারীকে ম্যাট হ্যানকক নিজেই নিয়োগ দিয়েছিলেন। তার সঙ্গে অন্তরঙ্গ ছবি প্রকাশ পাওয়ার পর দুঃখ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেছেন, তিনি মানুষকে হতাশ করেছেন।

এই ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির পক্ষ থেকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের প্রতি হ্যানকককে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। তার অবস্থানকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়েছে লেবার পার্টি।

ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হ্যানকক ও কোলাডঅ্যাঞ্জেলো দুজনই বিবাহিত। তাদের তিনটি করে সন্তানও রয়েছে। নিজের স্ত্রীকে অফিস সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি ক্ষমতার অপব্যববার বলে দাবি করে আসছে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

যুক্তরাজ্যে বিধিনিষেধ চললেও কাজের সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্যে নেই। তবে সরকারের পরামর্শ হচ্ছে, যেখানে সম্ভব মানুষ যেন দুই মিটার বা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে অন্তত এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখে। পাশাপাশি দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে এ নিয়ম মানতে হবে বা মাস্ক পরতে হবে।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান অ্যানেলিস ডডস বলেন, হ্যানকক নিজেই নিয়ম তৈরি করেছেন। তিনি তা ভাঙার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাকে পদ ছাড়তে হবে। তিনি যদি পদত্যাগ না করেন, তবে প্রধানমন্ত্রীর তাকে বরখাস্ত করা উচিত।

লেবার পার্টির একজন মুখপাত্র বলেছেন, সরকার এটাকে আড়াল করার চেষ্টা করলেও বিষয়টি এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। দেশটির লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে হ্যানকককে পদত্যাগ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে সামাজিক দূরত্ব রাখার বিষয়টি নিয়ে ভণ্ডামির অভিযোগ তোলা হয়েছে।

বিবিসি বলছে, সরকার মনে করে, এই ঘটনায় কোনো আইন লঙ্ঘন হয়নি। কারণ, হ্যানকক ও তাঁর সহকারী দুজনই দপ্তরে বৈধ কাজের জন্য গিয়েছিলেন। খবর-বিবিসি। 

ফুলবাড়ীতে মোটরসাইকেলের ট্যাংকির ভিতর গাঁজা, আটক- ২

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে পুলিশ  অভিযান চালিয়ে বিশেষ কায়দায় দুইটি মোটরসাইকেলের ট্যাংকির ভিতর ৮ কেজি গাঁজা পরিবহনকালে দুই মাদক চোরাকারবারিকে আটক করেছে ।

পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার খড়িবাড়ী-পাখির হাট সড়ক থেকে মোটর সাইকেল আরোহী ওই দুই মাদক চোরাকারবারিকে আটক করা হয়। এসময় তাদের এক সহযোগী কৌশলে পালিয়ে যায়। আটককৃতরা হলেন, উপজেলার নাওডঙ্গা ইউনিয়নের বালাতারি গ্রামের আবু বক্করের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩২)  এবং পূর্ব কুরুষা ফেরুষা গ্রামের হযরত আলীর ছেলে মো.সাইদুল ইসলাম(২৮)।

ফুলবাড়ী থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুর রউফ জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে আটককৃতদের কুড়িগ্রাম  জেলহাজতে পাঠানো  হয়েছে।