বিএসএফের বাধায় ফুলবাড়ী-নাগেশ্বরী সড়কের ৩’শ মিটার এলাকার কাজ বন্ধ!

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার জুম্মারপাড় সীমান্তে ফুলবাড়ী-নাগেশ্বরী সড়কের প্রায় ৩’শ
মিটার সড়ক পাকা করণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে বিএসএফ। ফলে ওই স্থানে সড়কের নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে।

জানাগেছে, কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের অর্থায়নে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলার আছিয়ার বাজার থেকে নাগেশ্বরী কলেজ মোড় পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার রাস্তা সম্প্রসারণ ও পাকাকরণের কাজ শুরু করে ওটিবিএল নামের এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু উপজেলা সদরের জুম্মারপাড় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকার ৯৩৭/৮ নম্বর আন্তজাতিক সীমানা পিলার থেকে ৯৩৮ নম্বর পিলার পর্যন্ত ফুলবাড়ী-নাগেশ্বরী সড়কটির প্রায় ৩’শ মিটার এলাকা শুন্য লাইন থেকে ১৫০ গজের মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় ভারতীয় ৩৮ বিএসএফ’র অধীন কুর্শাহাট ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা গাইড ওয়াল সহ সড়ক নির্মান কাজে বাধা দেয়।

ওটিবিএল’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাসেল জানান, বিএসএফের বাধার কারণে আপাতত ওই অংশ বাদ দিয়ে সড়কের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

লালমনিরহাটর ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল এস এম তৌহিদুল আলম জানান,সড়কটির কিছু অংশ সীমান্তের শুন্য লাইন থেকে ১৫০ গজের মধ্যে পড়ায় বিএসএফ লিখিতভাবে নির্মাণ কাজে বাধা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অনুযায়ী শুন্য লাইন থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো দেশেরই পাকা স্থাপনার কাজ করার বিধান নাই। বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

হাঁসের বাচ্চা খেতে আসা গুইসাপ আটক!

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৩নং সদর ইউপি নওয়াগাঁও গ্রামের কোনা বাড়ি থেকে হাঁসের বাচ্চা খেতে আসা একটি গুইসাপ আটক করেছে এলাকাবাসী। গত বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) এলাকাবাসী গুই সাপটিকে দেখতে পেয়ে  বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে খবর দিলে,ফাউন্ডেশনের লোক এসে পৌঁছালে তারা গুইসাপটি উদ্ধার করে নিয়ে আসেন বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে।
পরে সন্ধ্যা চুইচুই কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্দ্যানে অবমুক্ত করা হয়। অবমুক্ত করার সময় উপস্থিত ছিলেন বিট কমকর্তা আনিসুর জামান।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব  জানান আমাকে  নওয়াগাঁও থেকে ফোন দেয় একজন লোক, ওনার ফোনে কথা বলার শুরু ছিল যে তার হাঁসের বাচ্চা খেতে গুইসাপ আসে, আসার পর এলাকাবাসী সকলে মিলে গুইসাপটিকে আটক করেছি। তখন আমি সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছে, সেখানে থেকে গুইসাপটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। পরে বিট কমকর্তার সাথে যোগাযোগ করে কথা বলে বিকেলে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্দ্যানে অবমুক্ত করে দেই।

নওগাঁয় করোনায় স্কুল বন্ধ হওয়ায় অফিস কক্ষেই অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা!

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ‘শহীদ আব্দুল জব্বার মঙ্গলবাড়ি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের’ প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ও সহকারি প্রধান শিক্ষিকা সুমাইয়া উম্মে শামসি’র বিরুদ্ধে অনৈতিক কার্যক্রমের অভিযোগ উঠেছে। তাদের এ অনৈতিক সর্ম্পকের কারণে ভেঙ্গে পরেছে বিদ্যালয়টির শিক্ষা ব্যবস্থা। স্থানীয়রা একাধিকবার তাদের হাতেনাতে আটক করেছে। তাদের অনৈতিক র্কমকান্ডের জন্য ইতিপূর্বে কয়েকবার অবরুদ্ধ হলেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে ও অর্থের বিনিময়ে বার বার পার পেয়ে গেছে। তাদের বিরুদ্ধে ইতির্পূবে একাধিক বার লিখিত অভিযোগ করা হলেও বৃদ্ধা আঙ্গুলি দেখিয়ে বহাল তবিয়তে রয়েছে। বরং যারা প্রতিবাদ করেন তাদেরকেই মিথ্যা মামলায় জরিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

সচেতন অভিভাবক ও এলাকাবাসী সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করলে ঘটনার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও রকম ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন সহ অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ অপসারণের দাবী জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, নওগাঁর সীমান্তবর্তী ধামইরহাট উপজেলার মঙ্গলবাড়ি গ্রাম। তারপাশের জেলা জয়পুরহাট সদর। সীমান্তবর্তী এ দুই জেলার অবহেলিত দরিদ্র নারীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে ১৯৯৬ সালে স্থানীয় শিক্ষা অনুরাগী শহীদ আব্দুল জব্বারের নামানুসারে শহীদ আব্দুল জব্বার মঙ্গলবাড়ি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে বিদ্যালয়টি সুনামের সঙ্গে চললেও ২০০১ সালের ৩ জানুয়ারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন আবুল কালাম আজাদ। এর এক বছর পর সহকারি প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন সুমাইয়া উম্মে শামসি। এরপর থেকে সহকারি প্রধান শিক্ষিকার সাথে বেশ কয়েকবার অনৈতিক সর্ম্পকে জড়িয়ে পরেন আবুল কালাম আজাদ।

অভিযোগ রয়েছে, আবুল কালাম আজাদ প্রধান শিক্ষক হওয়ার আগে জয়পুরহাট জেলার গ্রামীন ব্যাংকের দোগাছী শাখায় মাঠকর্মী হিসেবে চাকরি করতেন। সে সময় নারী কেলেঙ্কির ঘটনায় তাকে চাকরিচুত্য করা হয়। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে
যোগদানের পর চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে জয়পুরহাটের একটা বাসায় ওই শিক্ষিকার সঙ্গে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়ার সময় স্থানীয়দের হাতে আটক হয়। গত বছরের নভেম্বর মাসে তার নিজ বাসায় এবং এপ্রিল মাসে রাজশাহীতে একটি প্রশিক্ষণে গিয়ে এ দুই শিক্ষক -শিক্ষিকার অনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া ২০১৫ ইং সালেও তাদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগে ধামইরহাট থানায় জিডি আছে। করোনা ভাইরাসের কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও প্রধান শিক্ষক ও সহকারি প্রধান শিক্ষিকা কারণ ছাড়াই স্কুলে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটান। গত ২০শে মার্চ তারা অনৈতিক কাজে লিপ্ত হলে স্থানীয়া দেখে ফেলায় তাদের অবরুদ্ধ করলে প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে মুক্ত হয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয়সহ গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গত ৬/৫/২১ তারিখে জয়পুরহাট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বাদী ও শিক্ষিকা সাক্ষী হয়ে ছয়জনকে আসামী করে চাঁদাবাজি ও মানহানী মামলা করেন। মামলাটি মিথ্যা প্রমান হবে বুঝতে পেরে কয়েকদিন পর শিক্ষিকা সুমাইয়া উম্মে শামসি বাদী ও প্রধান শিক্ষক সাক্ষী হয়ে রাজশাহী সাইবার অপরাধ ট্রাইবুনালে আবারও একটি মামলা করেন।

মামলার আসামীরা হলেন- বাংলা টিভির জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি ও জয়পুরহাট সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, শিক্ষক খাজা ময়েন উদ্দিন, অত্র প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস, শিক্ষক আশরাফুল আলম, শিক্ষক আবুল হাসনাত মুকুল এবং শিক্ষক ইকবাল হোসেন। কিন্তু ঘটনার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও অনৈতিক কর্মকান্ডে অভিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও স্কুলের অভিভাবক সদস্য ওবাইদুল ইসলাম বলেন, করোনা ভাইরাসের কারনে দীর্ঘদিন থেকে স্কুল বন্ধ। কিন্তু তারা দু’জন প্রতিদিন স্কুলে আসেন। আমরা যারা মিডিয়ায় বক্তব্য দিয়েছি তাদের বিরুদ্ধে হয়রানীমুলক মামলা দিয়েছে। তারা দুজনে কেউ বাদী হয় আবার কেউ স্বাক্ষী হয়। এভাবে তারা পর্যায়ক্রমে মামলা দিয়ে যাচ্ছে।

বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানীয় বাসিন্দা আতোয়ার রহমান বলেন, আমরা এ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই। তাদের এ অনৈতিক কার্যক্রমে বাচ্চারা কি শিক্ষা গ্রহন করবে। কেন আও প্রশাসন নিরব। বেশ কয়েকবার জেলা শিক্ষা অফিস,
ইউনএন অফিসে,শিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে, তবুও তাদের নিরব ভূমিকায় আমরা চরমভাবে হতাশ।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি খাজা ময়েন উদ্দিন বলেন, প্রধান শিক্ষকের নারী কেলেঙ্কারির বিষয়টি এলাকার সবাই অবগত। গত ২০শে মার্চ তারা বিদ্যালয়ের কক্ষে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হলে স্থানীয়রা দেখে ফেলায় তাদের অবরুদ্ধ করলে পরে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারেন সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া এসে তাদের মুক্ত করে।

জয়পুরহাট সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক ও বাংলা টিভির প্রতিনিধি রেজাউল করিম রেজা বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করি। সংবাদ প্রকাশের মিথ্যা ও হয়রানি মূলক মামলা দিয়ে আমাদের কন্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এভাবে যদি আমাদের হয়রানি করা হয় তবে আমরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করবো কি করে। আমি তথ্য মন্ত্রনালয়সহ সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি। যাতে আমরা মুক্তভাবে কাজ করে যেতে পারি। আরও যাদের নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে তারা আজ ভয়ে কথা বলতে পারছেনা। এগুলোর সঠিক তদন্ত করে ওই শিক্ষক ও শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয় জাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওসমান আলী বলেন, ওই শিক্ষক ও শিক্ষিকার অনৈতিক কর্মকান্ড দীর্ঘদিনের। যা এলাকার সকলেই অবগত। এর আগেও ৩/৪বার তাদের বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়রা আটক করে। তাদের বার বার সতর্ক করা হলেও উল্টো যারাই প্রতিবাদ করে তাদেরকে হুমকি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে। বিদ্যালয়ের কক্ষে সম্প্রতি আবারও অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হলে হাতেনাতে ধরা পড়ে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। পরে ওই শিক্ষক ও শিক্ষিকা মিথ্যা হয়রানী মূলক মামলা দেয়। যা অত্যান্ত দু:খজনক ।

এসব অভিযোগের বিষয়ে অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি আদালতে চলমান মামলার বিষয় নিয়ে কোন কথা বলতে চাইনা। আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময় আমার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা রটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যা মিথ্যা।

এ ব্যাপারে সহকারি প্রধান শিক্ষিকা সুমাইয়া উম্মে শামসির সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি সাংবাদিক পরিচয়ে তার ফোন নাম্বারে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোন উত্তর দেননি।

ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গনপতি রায় অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও সমাজসেবা অফিসার সহ তিনসদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে করোনা ভাইরাসের কারনে তদন্তটি শেষ করতে পারেনি। তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সেলুন কর্মচারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় শাহীন আহমদ (২৭) নামে এক সেলুন কর্মচারী যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটতে পারে। গত বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) দুপুরে উপজেলার আরেঙ্গাবাদ গ্রামের ভাড়া বাসা থেকে তার লাশটি উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে বড়লেখা থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।  শাহীন দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার আরেঙ্গাবাদ গ্রামের একটি বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করে আসছেন। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলায়। শাহীন দক্ষিণভাগ বাজারের একটি সেলুনের কারিগর হিসেবে কাজ করতেন। তার শ্বশুর বাড়ি পুর্ব-দক্ষিণভাগ গ্রামে।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গির হোসেন সরদার জানান, শোনেছি স্ত্রীর সঙ্গে শাহীনের ঝগড়া হয়েছে। এরপর থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার জেরে অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।  এই ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

ভারতের ডেল্টা ও কাপ্পার ধরনে ফাইজার ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কার্যকর : অক্সফোর্ডের গবেষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বিশ্বে চলমান মহামারি করোনাভাইরাসের সবচেয়ে ভয়ংকর ধরন ডেল্টা ও কাপ্পার বিরুদ্ধে মানবদেহে কার্যকর প্রতিরোধ গড়তে সক্ষম ফাইজার-বায়োএনটেক ও অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা। ধরন দুটি ভারতে শনাক্ত হয়। খবর রয়টার্সের।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এই তথ্য জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালে সম্প্রতি সেই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভারতে শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসের ডেল্টা ও কাপ্পা ধরনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরিতে সক্ষম ফাইজার ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুই ডোজের করোনা টিকা।

এক বিবৃতিতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের (পিএইচই) গবেষণা প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়ে অ্যাস্ট্রাজেনেকার নির্বাহী মেনে প্যাঙ্গালোস বলেন, অক্সফোর্ড এবং পিএইচইর ডেটা থেকে প্রকাশিত নন-ক্লিনিক্যাল ফলাফল দেখে আমরা উজ্জীবিত। এর মাধ্যমে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেল—ডেল্টার বিরুদ্ধে আমাদের টিকা কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

গত শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, ডেল্টা রূপটি এই রোগের বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী সংস্করণে পরিণত হচ্ছে। গত বছরের অক্টোবরে ভারতে প্রথম শনাক্ত হয় করোনার ভারতীয় ধরন ডেল্টা।

উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে এই মুহূর্তে বিশ্বের ৮০টি দেশে ডেল্টায় আক্রান্ত রোগী আছে।

 

নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ’র দায়িত্ব গ্রহণ

সিএনবিডি ডেস্কঃ দেশের নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। আগামী তিন বছর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দেবেন জেনারেল শফিউদ্দিন।

আজ বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে তিনি জেনারেল র‌্যাংক ব্যাজ পরেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের ১৭তম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন তিনি।

এর আগে গত ১০ জুন লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর সেনাসদর দফতরের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। কিউএমজি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে জিওসি, অ্যার্টডক হিসেবে কর্মরত ছিলেন শফিউদ্দিন আহমেদ। এছাড়া তিনি জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার, লজিস্টিকস এরিয়া, একটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন ও বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) ব্যাটালিয়ন কমান্ডার, একটি পদাতিক ব্রিগেড ও সেনাসদর প্রশিক্ষণ পরিদফতরের পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মহাপরিচালক এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের সিনিয়র ডাইরেক্টিং স্টাফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হিসেবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ১৯৮৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর নবম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সংগে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কমিশন লাভ করেন।  তিনি ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৪ সালে মোজাম্বিকে ১৬ মাস শান্তিরক্ষী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া ২০১৪-১৬ পর্যন্ত সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক-এ ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অসামান্য কর্মদক্ষতা প্রদর্শনের জন্য এসআরএসজি কর্তৃক সাইটেশন প্রাপ্ত হন তিনি। ২০১২ সালের ৭ মে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করে ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। সফলতার সঙ্গে ডিভিশন কমান্ড শেষে তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজে ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন জাতিসংঘ সদর দপ্তর কর্তৃক মিনুস্কাতে ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হিসেবে নিযুক্তি লাভ করেন।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল শফিউদ্দিন বর্তমান পদবিতে পদোন্নতি লাভের পূর্বে এনডিসি এর এসডিএস (আর্মি-১) এবং লজিস্টিকস এরিয়ার জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জেনারেল শফিউদ্দিন গত ২৫ আগস্ট ২০১৯ তারিখে জিওসি হিসেবে আর্টডকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, আজ বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায়ী সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।

লোহাগাড়ায় ভাবীর ছুরিকাঘাতে দেবর খুন

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ভাবীর ছুরিকাঘাতে মোহাম্মদ ইউনুস (৪০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে। বুধবার (২৩ জুন) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে উপজেলার বড়হাতিয়া কুমিরাঘোনা জঙ্গলী পীর পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। সে একই এলাকার মৃত আলী আহমদের ছেলে।

ঘটনাস্থল থেকে ইউনুসের বড় ভাই মোহাম্মদ ইউছুফ (৪৫) এবং তার স্ত্রী নাছিমা আক্তারকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

চুনতি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক রাফিকুল ইসলাম জামান জানান, বুধবার সকালে ইউনুসের বড় ভাই ইউছুফ এবং তার স্ত্রী নাছিমা ইউনুসের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে নাছিমাকে অনৈতিক কুপ্রস্তাব দেয় বলে উল্লেখ করেন। এ অভিযোগ পেয়ে একইদিন বিকেলে এসআই শিশির বিন্দু ধর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে বিষয়টি তাৎক্ষণিক সমাধান হয়নি। পুলিশ চলে আসার পর ইউছুফের স্ত্রী তার দেবর ইউনুসকে ছুরিকাঘাত করেন। সেখান থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইউনুসের স্ত্রী রেহেনা আক্তার বুলু সাংবাদিকদের জানান, ইউছুফ চট্টগ্রাম শহরে থাকার সুবাদে বাড়িতে তার স্ত্রীর কাছে বিভিন্ন সময় বাইরের লোকজন আসা যাওয়া করতো। এঘটনায় ইউনুস প্রতিবাদ করায় তার স্বামীকে খুন করা হয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকের হোসাইন মাহমুদ বলেন, ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় আনা হয়েছে। সকালে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফুলবাড়ীতে যুবলীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসাবে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে উপজেলা যুবলীগ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন করেছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় ফুলবাড়ী ডিগ্রী কলেজ মাঠে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আশরাফুল আলম মন্ডল বুলবুল।

এসময় ফুলবাড়ী ডিগ্রী কলেজ অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম রিজু, সহকারী অধ্যাপক নুর ইসলাম শেখ, ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর-রশীদ, যুবলীগ সহ-সভাপতি ফারুকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান বকসি, সাধারন সম্পাদক আবু-বক্কর সিদ্দিক মিলন সহ উপজেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগে নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রাণীশংকৈলে বীর মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক কাস্টম অফিসার রফিকুল ইসলাম (৭৫) গত ২৩ জুন রাতে বাধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া — রাজিউন।

বৃহস্পতিবার ২৪ জন সকাল ১০ টায় নেকমরদ আলিমউদ্দীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মান জানানো শেষে ঐ মাঠেই তাঁর জানাযা নামাজ সম্পন্ন হয়। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তিনি স্ত্রী, সন্তান সহ অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে রাণীশংকৈল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড গভির শোক প্রকাশ করেছেন।

হাকালুকির ২০ হাজার বৃক্ষ কর্তনের অভিযোগে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার প্রতিবেশগত ভাবে সংকটাপন্ন (ইসিএ) হাকালুকি হাওরের মালাম বিলের দক্ষিণ-পূর্ব পাশের খাসজমি থেকে বৃক্ষ কেটে ফেলায় মামলা হয়েছে। গেল মঙ্গলবার (২২ জুন) রাত এগোরটায় পরিবেশ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে বড়লেখা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সম্প্রতি হাওরের মালাম বিলে বাঁধ নির্মাণের নামে আসামিরা হিজল-করচ-বরুণসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২০ হাজার বৃক্ষ কেটে নেয়।

আসামিরা হলেন, বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউপি মনাদি গ্রামের সুফিয়ান আহমদের ছেলে জয়নাল উদ্দিন, কাজীরবন্দের গ্রামের মৃত আকদ্দছ আলীর ছেলে মক্তদির আলী, মৃত আমরুজ আলীর ছেলে মশাঈদ আলী, মৃত মইয়ব আলীর ছেলে রিয়াজ আলী, ছত্তার আলীর ছেলে জয়নাল উদ্দিন, আব্দুল হান্নানের ছেলে কালা মিয়া ও মৃত মইয়ব আলীর ছেলে সুরুজ আলী। মামলায় ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বদরুল হুদা বলেন, জলজ বৃক্ষ কাটার ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে বড়লেখা থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি রাখা হয়েছে। মামলার তদন্তে আরো কারও বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ব্যবস্থাপনা বিধিমালায় মামলা করা হয়েছে।

বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হাকালুকি হাওরে গাছ কাটার ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, হাকালুকি জাগরণী ইসিএ ব্যবস্থাপনা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্য ও মালাম বিল বনায়ন এলাকার পাহারাদার আবদুল মনাফ গত রোববার পরিবেশ অধিদপ্তরে একটি অভিযোগ দেন।

তাতে বলা হয়েছে, হাকালুকি হাওরের মালাম বিলের দক্ষিণ-পূর্ব পাশের খাসজমির প্রায় ১২ বিঘা জমিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের সৃজিত বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ এবং প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো গাছ কর্তন করা হয়েছে। মালাম বিলের বাঁধ ও চাষের জমি তৈরির জন্য প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২১ জুন) মামলার বাদী অভিযোগকারী, হাল্লা ফরেস্ট বিটের বিট কর্মকর্তা সুমন বিশ্বাস এবং হাকালুকি ইসিএ ব্যবস্থাপনা বহুমুখী সমবায় সমিতির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এজাহারে আরো বলা হয়েছে, আসামিরা প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় আরোপিত বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে পরিবেশ অধিদপ্তরের সৃজিত ও প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা জলজ বৃক্ষ কর্তনের মাধ্যমে হাকালুকি হাওরের মৎস্যসম্পদ, জলজ প্রাণী, পাখির আবাসস্থল, উদ্ভিদের জলজ অভয়াশ্রমের ক্ষতিসাধন করেছেন। এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ধারা ৫-এর উপধারা ৪ এবং প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধান লঙ্ঘন করেছেন, যা দণ্ডনীয় অপরাধ। এবিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুসিয়ারি করে দেন।