হরিপুরে প্রতিবন্ধীর বসতবাড়ির জমি জবর দখলের পাঁয়তারা, ইউএনও’র নিকট আবেদন

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার কামারপুকুর( মিলবাজার) গ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধি মোসলেমউদ্দিন ও তার ভাইদের বসতবাড়ির জমি দখলের পাঁয়তারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৩ জুন বুধবার সরেজমিনে গিয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাদী মোসলেম উদ্দিন ও তার ভাই মোকলেসুর রহমানের লিখিত আবেদনে জানা যায়, তাদের পিতা আব্দুল আজিজ ১৯৬৫ সালে ১০০৭৪ দলিলমূলে এস,এ রেকর্ডিয় মালিক পুলিন বিহারী দাসের নিকট থেকে ১৩ শতক জমি ক্রয় করে তাতে বসতবাড়ি বানিয়ে সপরিবারে বাস করতে থাকেন। আব্দুল আজিজের মৃত্যুর পর তার তিন ছেলে ঐ জমিতে বাড়ি করে সপরিবারে বাস করতে থাকেন। ইতোমধ্যে তাদের নামে দখল পর্চাও হয়। এরপর মোসলেমউদ্দিন ও তার ভাইরা ঐ জমির ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট নামজারি খারিজের আবেদন করেন।

কিন্তু ইতোমধ্যে একই গ্রামের মৃত সফির হোসেনের ছেলে মিজানুর রহমান মোসলেমউদ্দিন ও তার ভাইদের উক্ত জমি ভুয়া দলিল বলে তার দাবি করে নিজ নামে নামজারি খারিজের আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে মোসলেমউদ্দিন ও তার ভাই মোকলেসুর বিবাদী মিজানুর রহমানের ঐ আবেদন স্থগিত করার আবেদন করেন।

এ ব্যাপারে ইউএনও আব্দুল করিম বলেন, প্রতিবন্ধী মোসলেমউদ্দিনকে আমি চিনি, তার আবেদন আমি সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করছি। আগামি ১ জুলাই এ বিষয়টির উপর শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

বাংলাদেশে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কমলগঞ্জ মেয়রের ১ হাজার চারা গাছ বিতরণ

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার(২৩জুন) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ পৌরসভার পক্ষ থেকে কমলগঞ্জ পৌর এলাকার জনসাধারণের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ১হাজার চারা গাছ বিতরণ করা হয়।

চারা গাছ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ পৌরসভার দুই বারের নির্বাচিত মেয়র ও কমলগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক জননেতা জুয়েল আহমেদ।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পৌর কাউন্সিলরগণ,উপজেলা যুবলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, আওয়ামীলীগ জনমানুষের দল,শোষিত ও নিপিড়ীত মানুষের আওয়ামীলীগ অতীতেও ছিল,বর্তমানে আছে ভবিষ্যতে থাকবে।আওয়ামীলীগের জন্ম হয়েছিল বলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে আজ আমরা শৃঙ্খলমুক্ত স্বাধীন দেশের নাগরিক। বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার  সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে এগিয়ে যাচ্ছে সুনামের সাথে, তাছাড়া করোনা বিস্তার রোধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের প্রসংশা করেন।

এসময় উপস্থিত সকল জনসাধারণকে  মেয়রের পক্ষ থেকে মিষ্টি মুখ করানো হয়।

বিশ্বে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে ৪ কোটি ১০ লাখ মানুষঃ ডব্লিউএফপি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ গতকাল মঙ্গলবার (২২ জুন) সারা বিশ্বের ৪ কোটি ১০ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সংস্থা। খবর-রয়টার্সের।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের গতকাল মঙ্গলবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী ইতালির রোমভিত্তিক জাতিসংঘের খাদ্য বিষয়ক অঙ্গ সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলে বলেছেন, সারা বিশ্বের ৪ কোটি ১০ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ছাড়া আরও পাঁচ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের মতো দুরবস্থার মধ্যে রয়েছেন। বর্তমানে চারটি দেশে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে চার কোটি ১০ লাখের মতো মানুষের দুয়ারে দুর্ভিক্ষ কড়া নাড়ছে। ঝুঁকিতে থাকা ৪৩ দেশের এসব মানুষের জন্য আমাদের জরুরিভিত্তিতে ৬০০ কোটি ডলার প্রয়োজন।

সম্পূর্ণরূপে স্বেচ্ছায় অনুদানের অর্থ দ্বারা পরিচালিত এই সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলে এ জন্য দ্রুত তহবিলের যোগান চেয়ে আরও বলেন, আমাদের তহবিল (ফান্ডিং) দরকার এবং এটা আমাদের দরকার এখনই।

রয়টার্স জাতিসংঘের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে বিগত কয়েক দশক ধরে প্রতি বেলা খাবার পায় না এমন মানুষের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার পর দেশে দেশে সংঘাত ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০১৬ সাল থেকে সেই সংখ্যাটা আবার বাড়তে শুরু করেছে।

ডব্লিউএফপির হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দুর্ভিক্ষের মুখে থাকা মানুষের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৭০ লাখ। কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এই সংখ্যাটা দ্রুত বাড়তে থাকে। আর চলতি বছর তা ৪ কোটি ছাড়িয়েছে। আর গত মে মাসে বিশ্বে খাদ্যদ্রব্যের দাম এক দশকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়। গত মাসে বিশ্বে দানাদার খাবার, তেল, দুগ্ধজাত পণ্য, মাংস এবং চিনির মতো জরুরি খাদ্যপণ্যের দাম এক বছর আগের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। লেবানন, নাইজেরিয়া, সুদান, ভেনেজুয়েলা এবং জিম্বাবুয়ের মতো দেশে মুদ্রার অবমূল্যায়ন এই চাপগুলোকে আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং খাদ্যপণ্যের দাম আরও বেশি করে বেড়েছে। আর এতে করে বিশ্বে খাদ্য সুরক্ষায় দেখা দিয়েছে এই বিপর্যয়।

ডব্লিউএফপি আরো জানিয়েছে, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৯ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৬৯ কোটি মানুষ এখনো প্রতিদিন রাতে কোনো খাবার না খেয়ে ঘুমাতে যান।

উল্লেখ্য, ২০২০ সাল থেকে আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া, মাদাগাস্কার, দক্ষিণ সুদান এবং মধ্যপ্রাচ্যের ইয়েমেনের পাশাপাশি আফ্রিকার আরও দুই দেশ নাইজেরিয়া এবং বুরকিনা ফাসোর কিছু কিছু এলাকায় এখনও দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি রয়েছে।

 

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা

সিএনবিডি ডেস্কঃ বিশ্বের কয়েকটি বড় তেল কোম্পানির প্রধানরা আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। তারা বলেছেন, তেল খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের অভাবে তেলের সরবরাহ কমে যেতে পারে এবং তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়বে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল কোম্পানি র‍য়্যাল ডাচ শেল এবং টোটাল এনার্জি ভবিষ্যৎ বাণী করেছে যে, অপরিশোধিত তেলের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে অস্থিতিশীল বাজার পরবর্তীতে আবার নিচে নেমে আসতে পারে।

এক্সন মবিল কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড্যারেন উডস কাতার অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকে গতকাল মঙ্গলবার (২২ জুন) বলেছেন, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের অভাবে তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে এবং তাতেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়বে এবং পরবর্তীতে আবার সেটি ঠিক হয়ে যেতে পারে। তবে এই সংক্ষিপ্ত সময়ে তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্রেডিং হাউস ট্রাফিগুরাড গ্রুপ বলছে, আগামী ২০২২ সাল নাগাদ তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ব্যাংক অব আমেরিকা কর্পোরেশনও চলতি সপ্তাহে পূর্বাভাস দিয়েছে যে, তেলের দাম ওই পর্যায়ে যেতে পারে। একই কথা বলেছে গোল্ডম্যান সাচ গ্রুপও।

চলতি বছর বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের মহামারী এবং টিকাদান কর্মসূচির কারণে তেলের দাম শতকরা ৪৪ ভাগ বেড়েছে। আর গতকাল নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় ২.৫৫ মিনিটে বেঞ্চমার্ক বেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল তেল বিক্রি করেছে ৭৪.৯০ ডলারে।

এদিকে ইউরোপ-আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে আবার কর্ম তৎপরতা বাড়ার সাথে সাথে অর্থনীতির চাকাও সচল হচ্ছে। ফলে তেলের ব্যবহার বাড়ছে, আর সেই পরিমাণে তেল সরবরাহ না দিতে পারলে তেলের দাম অনিবার্যভাবেই বাড়বে বলেই ধারনা করছেন বিশ্লেষকরা।

 

দেশে করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৫ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৫,৭২৭

ডিবিএন ডেস্কঃ চলমান মহামারি প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ৮৫ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ১৩ হাজার ৭৮৭ জন । এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮ হাজার ২৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও ৫ হাজার ৭২৭ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৮৭৭ জন।

আজ বুধবার (২৩ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরো ৩ হাজার ১৬৮ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৯১ হাজার ৫৫৩ জন।

উল্লেখ্য, এর আগে মঙ্গলবার দেশে আরো ৪ হাজার ৮৪৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে মারা যান ৭৬ জন।

 

সাংবাদিক-সাহিত্যিক-গায়ক সবাই এখন টিকা ব্যবসায়ীঃ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন

সিএনবিডি ডেস্কঃ করোনা ভাইরাসের টিকা নিয়ে সবাই মুলা দেখাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, টিকা মজার জিনিস। সাংবাদিক, সাহিত্যিক, গায়ক, ব্যবসায়ী সবাই এখন টিকা ব্যবসায়ী। সবাই আমাদের কাছে প্রস্তাব নিয়ে আসেন। আমরা যেহেতু এটাতে নেই, তাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে যেতে বলি। তখন তারা বলেন, ওনারা কথা শোনে না। আপনারা শোনেন।’

গতকাল মঙ্গলবার (২২ জুন) দুপুরে বিভিন্ন দেশ থেকে টিকা দেওয়ার বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে চাইলে তিনি এ মন্তব্য করেন। এরআগে ১০ জুন এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিকা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘সবাই বলে দেবে। কিন্তু হাতে আসছে না।’

মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘ টিকা নিয়ে বড় বড় পণ্ডিতেরা, এই যে জি–৭ দেশগুলো বলল ১০০ কোটি ডোজ টিকা দেবে। ১৩ই জুন জি-৭ সম্মেলন শেষে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এ ঘোষণা দেন। শুধু গল্পই শুনতেছি। কিন্তু দেওয়ার নামে তো কোনো আগ্রহ দেখি না। আমি বলি মুলা দেখাচ্ছে সবাই।

টিকা নিয়ে সুখবর আছে কি না, জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,সুখবর যে পাব। কখন পাব, কতটুকু পাব, এটা এখনো আমরা কনফার্ম হতে পারিনি।’

টিকা এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির অংশ কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে সবাই। সবচেয়ে বড় সমাধান হবে যখন আমরা নিজেরাই টিকা তৈরি করব। নিজেরা টিকা তৈরি করলে আর অন্যের দিকে চেয়ে থাকতে হবে না।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, অনেক রাষ্ট্র টিকা দেয়ার অঙ্গীকারের পর পরই বলে যে আমাকে অমুক জিনিসে সমর্থন দিতে হবে। দেখা যাচ্ছে টিকাকে তারা কূটনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। ধনী দেশগুলো টিকা নিয়ে বসে রয়েছে। তাদের যত জনসংখ্যা, তার থেকে তাদের কাছে টিকা বেশি রয়েছে! এটা অন্যায়। সবাই কেবল আশ্বাস দিচ্ছে, কিন্তু টিকা কবে পাঠাবে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো রাষ্ট্রই এ নিয়ে কিছু বলছে না।

এর আগে গত ৬ই মে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাকসিন পাওয়া নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আমেরিকার ভ্যাকসিন আমাদের আশা দেখাচ্ছে। তারা বলেছে, তাদের ৬০ মিলিয়ন ভ্যাকসিন আছে, যা তারা ব্যবহার করছে না। এটা জানার সঙ্গে সঙ্গে আমরা আমেরিকাকে ভ্যাকসিনের জন্য অনুরোধ করেছি, ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে বলেছি, আবার ওয়াশিংটনে নিযুক্ত আমাদের রাষ্ট্রদূত বাইডেন প্রশাসনকে অনুরোধ করেছেন। আশা করি আমেরিকা আমাদের প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে।

ডিজিটাল বাংলা নিউজ/ ডিআর /এমআরবি

বড় সঙ্কট আসন্নঃ

আবারও লক ডাউন শুরু হয়েছে। বর্ডার এলাকায় করোনা সংক্রমন আর মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তঃজেলা বাস সার্ভিস নিষিদ্ধ করা হয়েছে আবার। কিন্তু মানুষ নিয়ম নীতি মানছে না। দেশে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় সবই বন্ধ। অন লাইনে ক্লাশ চালু থাকলেও সুবিধা বঞ্চিত এলাকায় ছাত্র ছাত্রীরা অসহায়। স্কুলগামী শিশু কিশোরদের লেখাপড়া নেই। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলি ভবিষ্যতের আশায় এখনো দাঁড়িয়ে রয়েছে।। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দুই বছরেও কোন আশার বানী শোনাতে পারেনি। অবস্থাটি কতদিন চলবে কেউ জানেনা। রপ্তানীমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ হলে রাজস্ব খাত ব্যহত হবে মারাত্বক ভাবে। দেশ অচল হয়ে পরবে। যেভাবে অবকাঠামো বৃদ্ধি হয়েছে উৎপাদন বৃদ্ধি না হলে বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে পরবে। ক্ষুদ্র শিল্পের উৎপাদন দেশীয় বাজারে কিছুটা হলেও স্বচল রয়েছে। কিন্তু রপ্তানী করোনার কারনে ব্যহত হচ্ছে। চাকুরী হারিয়ে বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে দেশে। শীঘ্রই করোনার আছর কেটে যাবে মনে করার কারন নেই। বাংলাদেশে এমন কোন খনিজ সম্পদও নেই যা অর্থনীতিকে স্বচল রাখবে।

৭৪ সালে অনাবৃষ্টি, খড়া, অতিবৃষ্টি, বন্যা, সাইক্লোন আর ঘুর্নিঝড়ের কারনে ফসল উৎপাদন ব্যহত হয়েছিল। দুর্ভিক্ষ আসন্ন বুঝতে পেরে বঙ্গবন্ধুর সরকার খাদ্য আমদানি করেছিল। দেশীয় জোতদার, মূনাফাখোর অধিক মূল্যের আশায় গুদামজাত করে রেখেছিল প্রয়োজনীয় পন্য। আমদানিকৃত খাদ্যের জাহাজ প্রলম্বিত হয়েছিল পৌছতে। তাই দুর্ভিক্ষ ঠেকানো যায়নি। একই চিত্র এখন আবার শুরু হয়েছে। দেশের অর্থ নিয়ন্ত্রন করছে ধনীক পরিবার। এখন তারা গুদামজাত করেনা। ব্যাংকের টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করে দেয়। কি পরিমান অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে সঠিক অঙ্ক জানার উপায় নেই। তবে ব্যাংকের অবস্থা ভাল নেই। ইরানের মত ধনী দেশেও একইভাবে অর্থ পাচার হয়েছে রাজা শাহ পাহলেবীর বিদায়ের পর। সেই ইরান তেল সমৃদ্ধ হয়েও এখন দারিদ্র সীমানার নীচে চলে গেছে। বাংলাদেশেও এখন ধনীক শ্রেনীর হাতে অর্থনীতি জিম্মি হয়ে পরেছে। ব্যাংক মালীকরাই ঋন গ্রহিতা। প্রত্যেকেরই (প্রায়) বিদেশে আবাসন রয়েছে। সুযোগ পেলেই ব্যাংকের টাকা লুট করে সটকে পরে। ইরানীদের মত বিদেশে লগ্নি খাটিয়ে আয়েশী জীবন কাটায় বিদেশে। লক্ষনটি ভাল নয়। উচিৎ হবে পথটি বন্ধ করার। নাহয় বড় ধরনের সর্বনাশ হয়ে যেতে পারে। দেশ উন্নত হয়েছে ঠিক কিন্তু উন্নতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে অর্থনীতিকে বাচিয়ে রাখতে হবে। বিশ্ব বানিজ্য করোনার কারনে বন্ধ প্রায়। অনেকেই সাবধান করেছেন। মনে হয় সরকারও অনুমান করছে এখন। লুটেরা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষতির মূখে পরতে পারে বাংলাদেশ।

আজিজুর রহমান প্রিন্স,

কলামিস্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ। 

পিএসএলে ইসলামাবাদকে হারিয়ে ফাইনালে মুলতানের বিপক্ষে পেশোয়ার

স্পোর্টস ডেস্ক /S.H:

২২ জুন রাতে পাকিস্তান সুপার লিগের ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় ইসলামাবাদ ইউনাইটেড ও পেশোয়ার জালমি। ইসলামাবাদকে আট উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে মুলতানের বিপক্ষে মাঠে নামবে পেশোয়ার।

আবুধাবির মাঠে গতকাল মঙ্গলবার মুখোমুখি হয়েছিল ইসলামাবাদ ও পেশোয়ার। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ১৭৪ রান করেন শাদাব খানের দল। ম্যাচের শুরুতে কলিন মুনরো ছাড়া কেউই মাঠে টিকে থাকতে পারেনি। কেউ আউট হয়েছে ১৮ রানে তো কেউ আউট হয়েছে ১ রানে। কলিন মুনরো ২৯ বলে করেন ৪৪ রান। অধিনায়ক শাদাবের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১৬ বলে ১৫ রান। ইসলামাবাদ দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন হাসান আলী। তার ঝড়ো ইনিংসে ইসলামাবাদ ১৭৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোরটি গড়ে তুলতে পারেন। ১৬ বলে ৫ টি চার ও ৩টি ছক্কা মারেন হাসান আলী। দলের হয়ে ১১ বলে ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। পেশোয়ারার হয়ে দু’টি করে উইকেট নেন অধিনায়ক ওয়াহাব রিয়াজ ও উমাদ আসিফ। একটি করে উইকেট পান মোহাম্মদ ইরফান, মোহাম্মদ ইমরান এবং আমাদ বাট।

জবাবে মাঠে নেমে শুরুতেই আউট হয়ে যায় কামরান আকমাল। এরপর দলের লাগাম টেনে ধরেন হযরতউল্লাহ জাজাই ও জোনাথন ওয়েলস। এই জুটির দারুণ ইনিংসে পেশোয়ার পৌঁছে যায় জয়ের দার প্রান্তে। ১৪৪ রানে মাথায় উইকেট পড়ে যায় জাজাইয়ের। ৪৪ বলে ৬ টি চার ও ৪টি ছক্কায় সর্বোচ্চ ৬৬ রান করেন জাজাই। ৪৩ বলে ৫৫ রান করেন জোনাথন ওয়েলস। জাজাইয়ের আউটের পর মাঠে নামেন শোয়েব মালিক। ১০ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩২ রানের দারুণ এক  ইনিংস খেলেন তিনি। মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে ১৯ বল হাতে রেখেই ফাইনালে টিকিট পেয়ে যায় পেশোয়ার। ইসলামাবাদের হয়ে ১ টি করে উইকেট পান হাসান আলী ও মোহাম্মদ ওয়াসিম। আগামী কাল ২৪ জুন শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মুলতান সুলতান্স বিপক্ষে মাঠে নামবে পেশোয়ার জালমি।

পরিবেশ মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে রক্ষা পেল সেই দরিদ্র বিধবার বসতবাড়িটি

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখায় রক্ষা পেল বিধবা প্রতিভা রাণী দাসের বসতবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলীর হস্তক্ষেপে। গত রোববার ইউএনও’র নির্দেশে ইউপি সদস্য বিজয় কৃষ্ণ দাস প্রবেশ রাস্তায় কাটা খাল ভরাট করে দেন।

জানা গেছে, বড়লেখার পানিসাওয়া গ্রামের নিকেশ দাসের বাড়ি হতে ফকিরবাজার পাকা রাস্তা পর্যন্ত গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা পুনঃসংস্কারের জন্য ২০২০-২১ অর্থ বছরে ইজিপিপি প্রকল্পে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। প্রকল্প কমিটির সভাপতি ইউপি মেম্বার বিজয় কৃষ্ণ দাস সংশ্লিষ্ট রাস্তার সংস্কার কাজ করতে গিয়ে বসতঘরের রাস্তায় খাল কেটে মাটি নিয়ে যান হতদরিদ্র বিধবা প্রতিভা রাণী দাসের ৷

বিধবা প্রতিভা রাণী দাস জানান, ইউপি মেম্বার বসতভিটের রাস্তায় খাল কেটে মাটি নেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হন । এব্যাপারে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে তিনি পরিবেশমন্ত্রী ও ইউএনও’র কাছে অভিযোগ দেন। তাংক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসন তার বসতঘরের সামনের খাল ভরাট করে দিয়েছেন ৷ পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এমপি ও ইউএনও খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ জানিয়েছেন বিধবা প্রতিভা রানী দাস।

ইউএনও খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী এর সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন, পানি নিষ্কাষন ব্যবস্থা করতে দরিদ্র বিধবার বসতভিটার যাতায়াত রাস্তাটি কেটে ফেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হন তিনি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিবেশ মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এমপি’র নজরে আসে। মন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দ্রুত দেখতে বলায় তিনি তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ইউপি মেম্বারকে বসতভিটের সামনের খাল ভরাট করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। গত রোববার ইউপি সদস্য তা খাল ভরাট করে দিয়েছেন।

ফুলবাড়ীতে গাছ থেকে পড়ে ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে জামগাছ থেকে পড়ে  আবীর খন্দকার(১২) নামের এক ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৫ টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।

নিহত আবীর উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের ছড়ারপাড় ফকিরপাড়া গ্রামের নাবিউল খন্দকারের ছেলে এবং ফকির পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে জাম পাড়ার জন্য বাড়ীর পার্শ্ববর্তী পাকা রাস্তার ধারের জাম গাছে উঠে শিশু আবীর। জাম পাড়ার এক পর্যায়ে হঠাৎ পা পিছলে গাছ থেকে পাকা রাস্তায় পড়ে মারাত্বক আহত হয় সে। পরে পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাথে সাথেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকালে মারা যায় শিশু আবীর। শিশু পুত্রের মৃত্যুতে পরিবারসহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

শিমুলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান এজাহার আলী জানান, মঙ্গলবার রাত ১০ টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে ওই শিশুর লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে।