রাণীশংকৈলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২য় পর্যায়ের গৃহ প্রদান উপলক্ষে প্রেস ব্রিফিং

হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল, (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ মুজিববর্ষে ভূমিহীন – গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রম উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে শুক্রবার ১৮ জুন প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

এ উপলক্ষে এদিন বিকেলে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে প্রেস ব্রিফিং করেন সহকারি কমিশনার (ভূমি)ও ভাঃ প্রাঃ ইউএনএ প্রীতম সাহা।

এ সময় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা স্যামুয়েল মার্ডি, ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা জাহিরুল ইসলাম, প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, ভূমি অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় সাংবাদকর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত: আগামী ২০ জুন রবিবার সারাদেশে  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৫৩ হাজার ৩ শত ৪০ জন ভূমিহীন- গৃহহীন পরিবারকে অনুষ্ঠানিক ভাবে গৃহ প্রদান করবেন। এরই অংশ হিসাবে রাণীশংকৈল উপজেলায়  ঐ দিন ২৯৬ জন ভূমিহীন -গৃহহীন পরিবারকে গৃহ প্রদানের লক্ষে ৪০ জনকে দলিলসহ ঘর হস্তান্তর  করা হবে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারপ্রাপ্ত ইউএনও   জানান।

সিলেটে তিন দিনের সফরে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ

মোঃ আমিন আহমেদ, সিলেটঃ প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি তিন দিনের সফরে সিলেট আসছেন। আজ শনিবার (১৯ জুন) বিকাল ৩টায় বিমানযোগে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন। এদিন সিলেট সার্কিট হাউসে রাত্রিযাপন করবেন তিনি।

তিনি রবিবার (২০ জুন) মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে গোয়াইনঘাটে গৃহহীন মাঝে জমির দলিল হস্তান্তর ও ঘর প্রদান অনুষ্ঠানে গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

এছাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বাসভবন, উপজেলা আনসার ভিডিপি ব্যারাক, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নতুন অফিস ভবন, আমার বাড়ি আমার খামারের উপজেলা কার্যালয়ের ঊর্ধ্বেমূখী সম্প্রসারণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। চা-শ্রমিকদের জীবনমান কর্মসূচির আওতায় এককালীন অনুদান, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান করবেন।

গোয়াইনঘাট ইমরান আহমদ বালিকা বিদ্যালয়, গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজে বৃক্ষরোপন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। ওইদিন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইমরান আহমদ কারিগরি কলেজে উপস্থিতি হয়ে দূর্যোগ ব্যাবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়িত মুজিব কেল্লা ও জেলা পরিষদ কর্তৃক বাস্তবায়িত ভবন পরিদর্শন ও প্রাতিষ্ঠানিক বৃক্ষরোপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

২১ জুন (সোমবার) সকলে জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের উপস্থিত হয়ে বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল উদ্বোধন করবেন। উপজেলা পর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য কৃষক প্রশিক্ষণ (তৃতীয় পর্যায়ে) প্রকল্পের আওতায় উপজেলা কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করবেন তিনি।

জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদে মিলনায়তনে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় এককালীন অনুদান ও শতভাগ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। ইমরান আহমদ ডিগ্রি কলেজে প্রাতিষ্ঠানিক বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

গোয়াইনঘাট উপজেলার উক্ত অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান।

এছাড়া গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম কিবরিয়া হেলাল এবং গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফজলুল হক।

 

নওগাঁয় ৫০২টি পরিবারকে ঘর হস্তান্তরে সংবাদ সম্মেলন

একেএম কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: “বাংলাদেশের একজন মানুষ ও গৃহহীন থাকবে না” স্লোগানে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে সকল গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার পুনর্বাসন কার্যক্রমের ২য় পর্যায়ে নওগাঁয় ৫০২টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর হস্তান্তর উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় নওগাঁ সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ এ সংবাদ সম্মেলন করেন। আগামী ২০ জুন রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপকারভোগী গৃহহীন পরিবারের মাঝে ঘরগুলো হস্তান্তরের উদ্বোধন করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক উত্তম কুমার রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইব্রাহিম হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মির্জা ইমাম উদ্দিন, সহকারি কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল ইসলাম ও ফারাহ ফাতেহা তাকমিলাসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেলার ১১টি উপজেলায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫০২টি ঘর হস্তান্তর করা হবে।

এর মধ্যে নওগাঁ সদর উপজেলায় ১০টি, বদলগাছীতে ৯টি, মহাদেবপুরে ৭৬টি, আত্রাইয়ে ১০টি, রানীনগরে ৩৩টি, মান্দায় ২১টি,  পত্নীতলায় ১১৭টি, ধামইরহাটে ২০টি, পোরশায় ৭১টি, নিয়ামতপুরে ৭৫টি এবং সাপাহারে ৬০ টি ঘর রয়েছে। প্রতিটি গৃহ নির্মাণে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা। প্রতিটি গৃহ একই ধরনের। যেখানে দুইটি শয়ন কক্ষ, একটি টয়লেট, রান্নাঘর, কমনস্পেস ও একটি বারান্দা আছে। এসব গৃহ প্রত্যেক পরিবারের জন্য আলাদা করে নির্মাণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারীতে প্রথম পর্যায়ে ১হাজার ৫৬টি ঘর হস্তান্তর করা হয়।

মৌলভীবাজারে ৬৫৭টি পরিবারে জমি ও ঘর হস্তান্তরঃ সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে দ্বিতীয় পর্যায়ে ১১৫১টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে নতুন পাকা ঘর ও দুই শতক করে জমি। এর মধ্যে আগামী ২০ জুন (রোববার) সকালে ৬৫৭টি পরিবারের কাছে জমিও গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোজ শুক্রবার (১৮ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

জেলা প্রশাসক জানান, সারাদেশের সাথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের মাইজদিহি পাহাড় থেকে ভার্চুয়ালি প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরাসরি যুক্ত হবে শ্রীমঙ্গল উপজেলা। সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জনপ্রতিনিধি ও উপকারভোগী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকবেন।

এছাড়া জেলার ৭টি উপজেলা প্রান্ত থেকে যুক্ত হবেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ, এসি ল্যান্ড, পিআইওসহ উপকারভোগী ও সাংবাদিকরা।

মাইজদিহি প্রকল্পঃ জেলা প্রশাসক জানান, মাইজদিহি প্রকল্পে ৩০০টি গৃহহীন পরিবারের ১৫০০ মানুষের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আশ্রয়ন। যেখানে রয়েছে সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি, বিদ্যালয়, মসজিদ-মন্দির, ফোর-জি ইন্টারনেট। পাশেই কমিউনিটি ক্লিনিক, বৃহত্তর বাজার, ইউডিসি-সহ সকল নাগরিক সুবিধা। রয়েছে সুবিধাভোগীদের ফসল ফলানোর জন্য শতাধিক একর খাসজমি। আছে শিশুদের খেলার উন্মুক্ত স্থান। যেখানে আগামী প্রজন্মের প্রায় ৬০০ শিশুর স্বপ্ন বড় হবে।

এছাড়া পুরো এলাকা সবুজায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ কাজ চলছে। এতে আশ্রয়নটি ছায়াঘেরা-মায়াময় গ্রামে পরিণত হবে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, ‘মাইজদিহি প্রকল্প’ যেন প্রধানমন্ত্রীর আমার গ্রাম আমার শহরের এক পরিপূর্ণ মডেল। চারদিকে পাহাড়-টিলা আর সবুজ ঘেরা মাজদিহি যেন হয়ে ওঠেছে পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আরেক পর্যটন নগরী।

উল্লেখ্যঃ মৌলভীবাজারে প্রথম পর্যায়ে ১ হাজার ১২৬টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার ঘর পেয়েছে।

আরও ৫৩৩৪০ পরিবার পাচ্ছে ভূমিসহ ঘর প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় আরও ৫৩ হাজার ৩৪০টি পরিবার পাচ্ছে বিনামূল্যে দুই শতক জমি ও সেমিপাকা ঘর। আগামী ২০ জুন এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাইস কুকারে ভাত রান্না করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধুর মৃত্যু

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে রাইস কুকারে ভাত রান্না করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাহমিনা বেগম (৩২) নামের এক গৃহবধুর মত্যু হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব ফকিরপাড়া জকুরটল গ্রামে এ দূঘর্টনা ঘটে। নিহত গৃহবধু ওই গ্রামের নুর আমিনের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দুপুরে রাইস কুকারে ভাত রান্না করতে রান্না ঘরে যান তাহমিনা। সেখানে রাইস কুকারের সুইচ অন করা মাত্র  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারাত্বক আহত হন তিনি। পরে বাড়ীর লোকজন তাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

ফুলবাড়ী থানার ওসি রাজীব কুমার রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের হয়েছে।

নওগাঁয় ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তি আটক

কামাল উদ্দিন টগর,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁয় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নওগাঁ শহরের আরজী নওগাঁ মধ্যপাড়া নিমাই বটতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই থানার ভোঁপড়া ইউনিয়নের বাঁকা গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে খালেক রানা( ৩৬) এর স্ত্রীর কাছে সেলাই এর কাজ শিখত (ছদ্মনাম) সুমাইয়া (১১) প্রতিদিনের ন্যায় ঘঠনার দিন বিকালে কাজ শেখার জন্য শহরের আরজী নওগাঁ মধ্যপাড়া নিমাই বটতলী এলাকায় (ইকবালের বাসায়) ভাড়া বাসায় গেলে আসামীর স্ত্রী বাসায় অনুপস্থিত এর সুযোগে খালেক রানা কৌশলে তার শয়ন ঘরের মধ্যে ডেকে নিয়ে যৌন কামনা চরিতার্থ করার জন্য জড়িয়ে ধরে এবং শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিলে মেয়ের ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে খালেক রানা মেয়েকে রেখে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, খালেক রানার বিরুদ্ধে রাতে ধর্ষণ চেষ্টার লিখিত অভিযোগ দিয়েছে মেয়েটির মা। এ ঘটনায় ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে এবং মামলা রুজু হয়েছে।

বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রীর এলাকাতেই গাছ কেটে উজাড়

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ জলবায়ু, পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বিশ্বব্যাপী যখন চলছে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা এবং তা মোকাবেলায় পরিবেশের ভা’রসাম্য রক্ষায় যখন নেওয়া হচ্ছে নানামুখী পদক্ষেপ, বৃক্ষ রোপন কার্যক্রম ঠিক তখনই খোদ বন ও পরিবেশ জলবায়ু মন্ত্রীর এলাকায় নির্বিচারে নিধন করা হয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ জলাভূমি হাকালুকি হাওরের মালাম বিলের কান্দির ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী ২০ হাজার জলজ বৃক্ষ হিজল, করচ ও বরুন গাছ। যা প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অর্থায়নে পরিচালিত। হাওরের গাছ কেটে পরিবেশের এতো বড় ক্ষতির পরও রহস্য বা ভৌতিক কারণে নির্বাক জীববৈচিত্র ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বিভাগ। আজও পরিবেশ ধংসকারীদের বিরুদ্ধে তারা নেয়নি কোনো রকম আইনি ব্যবস্থা। এতে হাওরপাড়ের সাধারণ মানুষ ও পরিবেশবাদীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জলজ বনের পাহারাদার আব্দুল মনাফ গত ৩০ মে ৭ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। যার অনুলিপি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসককে দেওয়া হয়েছে।অভিযোগ সুত্রে ও সরেজমিনে জানা গেছে, হাকালুকি হাওরের অর্ন্তভুক্ত বড়লেখা উপজেলাধীন মালাম বিলের (মৎস্য জলাশয়) আয়তন ৪২৮.৯২ একর। ১৪২৭ বাংলা হতে ১৪৩২ বাংলা সাল পর্যন্ত সময়ের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে ২১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৪৩ টাকায় মালাম বিলটি ইজারা নিয়েছে বড়লেখা উপজেলার মনাদি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি। মালাম বিলের কান্দির (পাড়ে) সরকারী ভুূমিতে পরিবেশ অধিদপ্তর ২০০৩ সাল হতে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থায়নে হিজল, করচ, বরুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির জলজ বৃক্ষ রোপন করে। এছাড়া প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো জলজ বৃক্ষের রক্ষনাবেক্ষন করে। বর্তমানে প্রাকৃতিক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সৃজিত জলজ উদ্ভিদগুলো ১০-১৫ ফুট উচ্চতার হয়েছে। যা হাকালুকি হাওরের ইসিএ এলাকার জীববৈচিত্র রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রোধে বিশেষ অবদান রাখছে। গত মে মাসের প্রথম দিকে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ইজারাদারের লোকজন বিলের বাঁধ নির্মাণের নামে পরিবেশ অধিদপ্তরের ও প্রাকৃতিক জলজ বনের প্রায় প্রায় ২০ হাজার গাছ অবৈধভাবে কেটে নিয়েছে। এতে হাওরের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র মারাত্মক হুমকির সম্মুখিন হয়ে পড়েছে।

হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র সংরক্ষণকর্মী (বনায়ন পাহারাদার) আব্দুল মনাফ ও আরফান আলী জানান, মালাম বিলের ইজারাদার সমিতির লোকজন এসকেভেটর দিয়ে মে মাসের প্রথম দিকে বিলের দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের সরকারী ভুমির জলজ বৃক্ষ নিধন করে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। আমরা বাঁধা দিলে তারা তা মানেনি। জীববৈচিত্র ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বিভাগের হাকালুকি বিট অফিসার তপন কুমার দেবনাথকে গাছ কেটে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলতে থাকার দৃশ্য দেখিয়েছি। তিনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় অসাধুরা বেপরোয়াভাবে অন্তত ২০ হাজার জলজ বৃক্ষ কেটেছে। এছাড়াও অন্যান্য বিলের পাড়ের গাছ কেটে অনেকেই বোরো চাষের জমি তৈরী করছে। পরে এ ব্যাপারে ৭ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

স্থানীয় সুত্র জানায়, বন বিভাগের বিট কর্মকর্তাকে বৃক্ষ নিধনকারীরা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে।বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বিভাগের হাকালুকি বিট অফিসার তপন কুমার দেবনাথ জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিক মৌখিকভাবে বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করি। তার নির্দেশনা না পাওয়ায় তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি।

মালাম বিলের ইজারাদার সমিতির পরিচালক জয়নাল উদ্দিন জানান, জলমহাল ইজারায় মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির শুধুমাত্র নাম ব্যবহার করা হয় তা সকলেই জানেন। নাম ব্যবহারকারী মানুষ গুলোই এখানকার গাছ কেটেছেন। এটা মোটেও ঠিক হয়নি। উনারাই পুনরায় গাছ লাগিয়ে দিবেন বলে কথা হয়েছে।

ইউএনও খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী জানান, হাকালুকির মালাম বিলের পাড়ের ব্যাপক জলজ বৃক্ষ কেটে ফেলার একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সহকারী কমিশনার (ভুমি)কে নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাণীশংকৈলে নেশা জাতীয় পানীয় খেয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় নেশা জাতীয় পানীয় পান করে চরণ পাহান (৬০) নামে  এক বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। চরণ উপজেলার নেকমরদ-পশ্চিম ঘনশ্যামপুর গ্রামের মৃত রমেশ পাহানের ছেলে। গতকাল বুধবার রাতে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত চরণ পাহান গতকাল বুধবার রাতে নেশা জাতীয় পানীয় পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে।তার অবস্থার অবনতি হলে  পরিবারের লোকজন ঐ রাতেই তাকে রাণীশংকৈল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ ফিরোজ আলম বলেন, রোগিকে হাসপাতালে নিয়ে আসার ২০/২৫  মিনিট আগেই তিনি মারা গেছেন। পরে পরিবারের লোক লাশ নিয়ে বাড়িতে ফিরে যায়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঐ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ হেফাজতে নিয়ে আসে। পরদিন ১৭ জুন বৃহস্পতিবার পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য লাশ জেলা মর্গে পাঠায়।

এ ব্যাপারে রাণীশংকৈল থানা অফিসার ইনচার্জ এস এম জাহিদ ইকবাল বলেন, মৃত ব্যাক্তির মৃত্যুর সঠিক কারন জানা যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এনিয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কমলগঞ্জে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কিশোরীকে ধর্ষণ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউপি ভাষাণীগাঁও গ্রামে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে কিশোরীকে ধর্ষনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৬ জুন রাত সাড়ে ৮ টায় মেয়ের বসত ঘরে আবারো মেলামেশা করতে গিয়ে সৎ মায়ের হাতে ধরা পড়লে ছেলেটি পালিয়ে যায়।

অভিযোগকারী কিশোরীর ভাষ্য মতে জানা যায়, ভাষানীগাঁও গ্রামের সালাত মিয়ার মেয়ে (১৭)বছর বয়সি কিশোরী সৎ মা সহ একই বাড়ীতে অবস্থান করছে।এরই মধ্যে পাশের বাড়ীর প্রবাসী আখের মিয়ার ছেলে রনি মিয়া (২২) চার পাঁচ মাসে পূর্বে জোর পূর্বক ধর্ষন করে।এরপর থেকে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

অভিযুক্ত রনি

প্রেমের সম্পর্কের কারনে রনি বিয়ের প্রলোভন দিলে তার সাথে একাধিক বার গোপনে দৈহিক মিলনে মিলিত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১৬ জুন রাত সাড়ে ৮ টায় মেয়েটির মা অন্য ঘরে অবস্থান করাকালীন সময়ে গোপনে সালাত মিয়ার ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে রনি প্রবেশ করে উভয়ে দৈহিক মিলনে লিপ্ত হয়।

এ সময় মা শব্দ পেয়ে মেয়ের ঘরে অর্তকিত ভাবে প্রবেশ করে তাদেরকে এই অবস্থায় দেখে তাদেরকে ঝাঁপটে ধরার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত রনি পরনে কাপড় ফেলে রেখেই পালিয়ে যায়।ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী অভিযুক্ত রনিকে আটকের চেষ্টা করলে রনি আত্মগোপনে চলে যায়।এদিকে কিশোরী মেয়ে এলাকাবাসীকে তার সাথে দীর্ঘ দিনের সর্ম্পকের কথা জানিয়ে বিয়ের দাবীতে রনির বাড়ীতে গিয়ে অবস্থান নেয়।

পরে মাধবপুর ইউপি সদস্য মোতাহের আলী ঘটনা জানতে পেরে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে অভিযুক্তের বাড়ীতে যায়।অভিযুক্তের বাড়ী থেকে বুঝিয়ে-সুজিয়ে মেয়েকে তার(সালাত মিয়ার) বাড়ীতে নিয়ে আসে। ইউপি সদস্য মোতাহের আলী আরো জানান,বিষয়টি সামাজিক ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলে ও অভিযুক্তের (রনির) পরিবার সম্মত না হওয়ায় মেয়ের বাবা সালাত মিয়া বাদি হয়ে কমলগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলাটি এফআইআর ভুক্ত হয়নি।কমলগঞ্জ থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান বলেন, এখনো আমার কাছে অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে নিশ্চিত করেন।

আফ্রিকার বোতসোয়ানায় বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম হীরার সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আফ্রিকার বোতসোয়ানায় বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম হীরার সন্ধান পাওয়া গেছে বলে ঘোষনা দিয়েছে দেশটির মাইনিং কোম্পানি ডেবসওয়ানা। দেশটির হীরার খনি থেকে ১ হাজার ৯৮ ক্যারেটের একটি হীরা উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মাইনিং কোম্পানি ডেবসওয়ানা।

গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ১ জুন বড় আকারের এই অমসৃণ হীরার সন্ধান মিলেছে। এরমধ্যে রাজধানী গ্যাবোরোনে দেশটির প্রেসিডেন্ট মোকগোয়েতসি মাসিসিকে এই হীরা দেখানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মোকগোয়েতসি মাসিসি জানান, সত্যি এটি বিরল এবং অসাধারণ পাথর। এই হীরা জাতির জন্য ভালো কিছু আনবে। সরকার এবং গ্লোবাল ডায়মন্ড জায়ান্ট ডি বিয়ার্স-এর যৌথ উদ্যোগে এই হীরা আবিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে।

মাইনিং কোম্পানি ডেবসওয়ানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক রানিত্তে আর্মস্ট্রং বলেন, বিশ্বে সন্ধান পাওয়া হীরাগুলোর মধ্যে এটিকে আকারের দিক থেকে তৃতীয় বৃহত্তম বিবেচনা করা হচ্ছে। এটি অসাধারণ ও দুর্লভ। প্রতিষ্ঠানটির কোনো খনি থেকে সন্ধান পাওয়া সবচেয়ে বড় হীরা এটি।

উল্লেখ্য, ১৯০৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ৩ হাজার ১০৬ ক্যারেটের কুলিনান হীরা আবিষ্কার হয়, যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হীরা হিসেবেই পরিচিত। আর দ্বিতীয়টি ২০১৫ সালে বোতসোয়ানার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কারওয়েতে থেকে আবিষ্কার করা গেছে। লেসেডি লা রোনা নামের ওই ডায়মন্ড ছিল ১ হাজার ১০৯ ক্যারেটের। আফ্রিকায় ডায়মন্ড আবিষ্কারের মধ্যে অন্যতম দেশ হলো বোতসোয়ানা।