বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে প্রান গেল বিদ্যুৎ শ্রমিকের

তিমির বনিক, মৌলভীবাজারঃ মৌলভীবাজারে সোহেল মিয়া (২৭) নামের এক শ্রমিক পল্লী বিদ্যুতের মেইন লাইন বন্ধ না করে, মেইন লাইনের সংস্কার কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১২জুন) দুপুরে দিকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের বানেশ্রী (নতুন ব্রিজ) এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
নিহত সোহেল মিয়া শ্রীমঙ্গল উপজেলার কাকিয়াবাজার গ্রামের ইসহাক মিয়ার ছেলে। এসময় আহত হয়েছেন আরো শাহিন মিয়া (২০) শরিফুল ইসলাম (২৩) জহিরুল মিয়া (২৪) আনোয়ারুল (২২)।
মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি ইয়াছিনুল হক জানান, সকাল থেকে বানেশ্রী এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের সংস্কার কাজ চলছে এ সময় তারা অসাবধানতাবশত: উপরের লাইন, নিচের লাইনে লেগে যায় এতে শর্ট সার্কিটের তৈরি হয়। তখন ঔই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে থানা পুলিশ কে খবর দেয়,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। এ সময় ৫ জন গুরুতর আহত হলে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কতব্যরত চিকিৎসক সোহেল মিয়াক নামক ব্যাক্তিকে মৃত ঘোষণা করেন এবং বাকিদের চিকিৎসা দেওয়া চলছে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে ‘এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্ট’ থেকে ২০০ মরা মুরগি উদ্ধার, আটক ৭

সিএনবিডি ডেস্কঃ রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ‘এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্ট’ থেকে ২০০ মরা মুরগি উদ্ধার করা হয়েছে। রেস্টুরেন্টটিতে মরা মুরগি জবাই করার সময় জড়িত ৭ জনক আটক করেছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এ সময় অভিযানের নেতৃত্ব দেন- শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলী আফরোজ।

শনিবার (১২ জুন) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মোহাম্মদ জিয়াউল হক।

তিনি বলেন, আমাদের সাদা পোশাকের সদস্যরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এয়ারপোর্টের কাস্টমস হাউসের পার্শ্ববর্তী এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্ট থেকে ২০০ মরা মুরগিসহ হাতেনাতে ৭ জনকে আটক করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

 

বিপদমুক্ত ক্রিশ্চিয়ান এরিকসন

স্পোর্টস ডেস্ক/S.H:

 

শনিবার ইউরো কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল ডেনমার্ক। কিন্তু হৃদয়ভাঙ্গা গল্প দিয়ে উইরো শুরু করতে হল ড্যানিশদের। ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ৪৩ মিনিটের মাথায় হঠাৎ মুখ থুবড়ে পড়ে যায় ডেনমার্কের মিডফিল্ডার ক্রিশ্চিয়ান এরিকসন।

গতকাল বি গ্রুপের প্রথম খেলায় মুখোমুখি হয়েছিল ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ড। দারুণ আক্রমণাত্মক খেলা দিয়ে ম্যাচ শুরু করেছিল ড্যানিশরা। কিন্তু ৪৩ মিনিটের মাথায় নিজেদের মিড ফিল্ডারকে মাঠে লুটে পড়তে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে ডেনমার্ক দল। এরিকসন যখন মাটিতে লুটে পড়ছিল তখন আশেপাশে ছিলনা কেউই। তাকে লুটে পড়তে দেখে রেফারি ও ফুটবলারা তার কাছে ছুটে যায়। মুহূর্তে মধ্যেই মেডিকেল টিম এসে তাকে সিপিআর দেয়। প্রায় পনের মিনিট মাঠেই তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এসময় তার সতীর্থরা কান্না ভেঙ্গে পড়ে। পুরো মাঠ জুড়েই বিরাজ করছিল থমথম আবহাওয়া। পুরো ফুটবল বিশ্ব থমকে গিয়েছিল এই দৃশ্যে। অবশেষে ডাক্তারা তাকে জ্ঞানে ফিরাতে সক্ষম হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। উয়েফা পক্ষ থেকে জানানো হয় অনেকটাই সুস্থ আছে ক্রিশ্চিয়ান এরিকসন। এই নিউজের পর গোটা ফুটবল বিশ্ব চিন্তা মুক্ত হয়। এদিকে দু’পক্ষের সম্মতিতে আবার ম্যাচ শুরু হলেও নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে পারেনি ডেনমার্ক। ফিনিশদের কাছে ১-০ গোলে হেরে মাঠ ছাড়ে ড্যানিশরা। তবে বীরত্বের গল্প রচনা করেছে ডেনমার্ক। এত কিছুর পরও সাহস জমিয়ে মাঠে নেমে যে ইতিহাস গড়েছে ডেনমার্ক তা লেখা থাকবে ফুটবল ইতিহাসে। আর জয় দিয়ে ইউরো শুরু করলেও রংহীন খুশি পেলো ফিনল্যান্ড।

৫ লাখ মানুষের প্রাণের দাবী রাজনগর-বালাগঞ্জে কুশিয়ারা সেতু

তিমির বনিক মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ও সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদীতে সেতু নির্মাণের দাবি নিয়ে দুই উপজেলার প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ ফুঁসে উঠেছেন। সেই সাথে সেতু মন্ত্রীর কাছে খুব তাড়াতাড়ি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। এ ছাড়াও কুশিয়ারায় সেতুর দাবীতে ইতিপূর্বে নদী পাড়ের খেয়াঘাটবাজারে মানববন্ধন করেছেন দুই উপজেলার সহস্রাধিক মানুষ। মানববন্ধনে তারা ঠিক একই দাবি তুলেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ আশার আশায় এখন পর্যন্ত ওই এলাকায় সেতু না হওয়াতে লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ নদীতে সেতু নির্মিত হলে মৌলভীবাজারের সাথে সিলেটের খুব সহজ ও কম সময়ে যোগাযোগ রক্ষা করা যাবে। বিশেষ করে রাজনগর, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার মানুষ বেশি উপকৃত হবেন। কুশিয়ারা নদী হয়ে বালাগঞ্জ থেকে রাজনগর ও মৌলভীবাজারগামী কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন নৌকা পথে বহু কষ্টে নদী পাড় হন। বর্ষা মৌসুম এলেই নদীর শ্রোত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় নৌকা ডুবে যায়। এতে মোটর সাইকেল, মোবাইল ফোনসহ সাধারণ মানুষের জান মালের মারাত্বক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
রাজনগর উপজেলার কালারবাজারের স্থানীয় ইউপি সদস্য হারুন মিয়া ও বাজার কমিটির সভাপতি ডাঃ আব্দুল আলীম জানান, খেয়াঘাটবাজার ও বালাগঞ্জ সদরের কুশিয়ারা নদীতে বহু দিন পূর্বে সেতু নির্মাণের কথা ছিল, এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। সেতু মন্ত্রী, দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সেতু নির্মাণের দাবী জানান তারা। অচিরে এই সেতুর তৈরির জন্য জোর দাবি জানান।
খেয়াঘাটবাজারের আব্দুল ওয়াহিদ বাচ্চু, জিলু মিয়া, তুলা মিয়া জানান, নদীতে সেতু নির্মাণ করাটা এখন আমাদের প্রাণের দাবী হয়ে উঠেছে। খুব দ্রুত আমরা একটা সমাধান চাই। চারিদিকে শুধু দেখছি প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা উন্নয়ন করে যাচ্ছে তাহলে আমরা কি জন্য বঞ্চিত লাঞ্চিত।

কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্যে একই পরিবারের ৩ জনকে গুলি করে হত্যা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে একই পরিবারের তিনজনকে  (স্বামী-স্ত্রী-সন্তান) হত্যা  করা হয়েছে।

আজ রোববার (১৩ জুন) বেলা সোয়া ১১টার দিকে শহরের ৬ নং ওয়ার্ডের কাস্টমস মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নিহতরা হলেনঃ শাকিল (২৮), আসমা (২৫) এবং তাদের শিশুসন্তান রবিন (৫)।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান এবং কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার তাপস কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের কাস্টমস মোড়ে তিনতলা একটি ভবনের সামনে এক নারী চার বছরের ছেলে শিশুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় সেখানে এক পুরুষ ছিলেন। হঠাৎ করে এক ব্যক্তি প্রথমে নারীকে মাথায় গুলি করেন। এরপর পাশে থাকা পুরুষের মাথায় গুলি করেন। ভয়ে ছেলে শিশুটি দৌড়ে পালাতে গেলে তাকেও ধরে মাথায় গুলি করা হয়। আশপাশের লোকজন গুলি করা ব্যক্তিকে ধরতে গেলে তিনি দৌড়ে তিন তলা ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এরপর লোকজন জড়ো হয়ে ওই ভবনের দিকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। গুলিবিদ্ধদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নারীকে মৃত ঘোষণা করেন। অস্ত্রোপচার কক্ষে গুলিবিদ্ধ পুরুষ ও গুলিবিদ্ধ শিশুর মৃত্যু হয়।

এদিকে ঘটনার পর ঘাতককে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। তাকে থানায় নিয়ে গেলেও তবে তাৎক্ষণিকভাবে ঘাতকের পরিচয় জানায়নি পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নিখোঁজ শিশু রাকিবকে উদ্ধার করলো কুলাউড়া থানা পুলিশ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলাঃ মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার জয়পাশা এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া শিশু রাকিব আহমদকে নবীগঞ্জ উপজেলার জনতাবাজার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

কুলাউড়া থানার ওসি বিনয় ভূষণ রায় এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় ওসি (ত’দন্ত) মোঃ আমিনুল ইসলাম ও এস আই মোঃ কামরুল হাসান রোজ শনিবার (১২ জুন) শিশু রাকিবকে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করেছেন। নিখোঁজ শিশু রাকিবকে ফিরে পাওয়ায় তার মা জান্নাত বেগম শুকরিয়া আদায় ও পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

কুলাউড়া থানা সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়া পৌরসভাধীন জয়পাশা এলাকার মৃত মিছবা উদ্দিনের শিশুপুত্র রাকিব আহমদ ২৮ এপ্রিল নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ হওয়ার পর শিশু রাকিবের মা জান্নাত বেগম কুলাউড়া থানায় একটি জিডি দায়ের করেন। উক্ত জিডির প্রেক্ষিতে কুলাউড়া থানা পুলিশ তথ্যপ্রযু’ক্তি ব্যবহার করে নিখোঁজ শিশু রাকিবকে নবীগঞ্জ থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। শনিবার ১২ জুন উদ্ধার করা শিশু রাকিবকে তার মা জান্নাত বেগমের কাছে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ বিনয় ভূষণ রায়ের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়।

রাণীশংকৈলে বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন

হুমায়ুন কবির রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ১২ জুন শনিবার সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ( বালক,অনুর্ধ-১৭) টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করা হয়।
এ উপলক্ষে পৌর শহরের হ্যালিপ্যাড মাঠে উপজেলা প্রশাসন ও ক্রীড়া সংস্থার যৌথ আয়োজনে ও সহকারি কমিশনার( ভূমি, ভাঃ ইউএনও) প্রীতম সাহার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না। বিশেষ সম্মানিত অতিথি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ইয়াসিন আলি।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা ও শেফালি বেগম, সাবেক অধ্যক্ষ ও ক্রীড়া সংগঠক তাজুল ইসলাম, প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আনোয়য়ারুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান। এ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক- সামাজিক নেতা, শিক্ষক,জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী খেলায় কাশিপুর ইউনিয়ন একাদশ বাচোর ইউনিয়ন একাদশকে ৩-০ গোলে হারিয়ে জয়লাভ করে।  উপস্থাপনা করেন, ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। খেলা পরিচালনা করেন রেফারি জয়নুল আবেদীন।

শ্রীমঙ্গলে গৃহবধূর রহস্যময় মৃত্যু

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা সংবাদকর্মীঃ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার পৌর এলাকার শান্তিবাগ আবাসিক এলাকায় এক গৃহবধূর রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
গৃহবধূ ঝুমা বেগম (২০) সোহাগ মিয়ার স্ত্রী বলে জানা যায়। পুলিশের ধারনা ঝুমা বেগমকে হত্যা করা হতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার রাতে (১১জুন) স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কলহের ঘটনা ঘটেছিল। সকালে ঝুমা ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে সোহাগ মিয়া প্রতিবেশীদের জানান।
শনিবার (১২জুন) সকাল ৯টার দিকে ঝুমাকে নিয়ে তার স্বামী সোহাগ মিয়া শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এসময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন ঘন্টা পূর্বে ঝুমার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।মৃত ঝুমার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করি ৫০ শষ্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএসও সাজ্জাদুর চৌধুরী বলেন আমাদের এখানে আসার পূর্বে মারা যায় এবং মৃতের শরীরে দাগের চিহ্নের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আব্দুছ ছালেক বলেন,ঝুমার বেগমের লাশ উদ্ধার করে, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সোহাগ মিয়া, ভাই এবাদুর ও পিতা জিয়াউর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিজ উদ্যোগে গত ৪ বছরে নওগাঁ ও রাজশাহী সড়কে এক লাখ তাল গাছ রোপণ

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যেতে বসেছে তাল গাছ। এই গাছকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন মাহমুদুন নবী বেলাল নামে এক সাংবাদিক। নিজ উদ্যোগে গত ৪ বছরে নওগাঁ ও রাজশাহী জেলায় এক লাখ তাল গাছসহ ২৫ হাজার ফলজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করেছেন।

মাহমুদুন নবী বেলাল পেশায় একজন সাংবাদিক। তিনি মোহনা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি এবং সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক। গত২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে মান্দা ফেরিঘাট থেকে নিয়ামতপুর সড়কের গাবতলী পর্যন্ত রোপণ করা সাড়ে ৫ হাজার গাছ ৩-৪ ফুট উঁচু হয়ে এখন দৃশ্যমান। এই গাছ লাগাইতে গিয়ে তিনি তার পৈতৃক কৃষিজমি বন্ধক রেখেছেন। তবুও তিনি থেমে থাকেননি। তালের আঁটি সংগ্রহ করা সহজ ছিল না। বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে তাল বীজ সংগ্রহ
করতে এতে অনেক শ্রম ও শ্রমিক লেগেছে।

বেলালের গ্রামের বাড়ি মান্দা উপজেলার বৈলশিং পানাতাপা গ্রামে। তাল আঁটি রোপণে তাকে সার্বক্ষণিক মানসিকভাবে সাহস দিয়েছেন তার বাবা স্বাস্থ্য বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহিম হোসেন ও বেলালের স্ত্রী মৌসুমী খাতুন। নওগাঁ-রাজশাহীর ৭৫ কিলোমিটার সড়কের দু’ধারে এ মহাযজ্ঞ চালিয়ে যেতে কত টাকা ব্যয় হয়েছে জানতে চাইলে তিনি টাকার হিসাব প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করেন।

জানা গেছে, মহাদেবপুর রাণীপুকুর গ্রামের এর গহের আলী (১০৭) তাল গাছ রোপন করে ছিনিয়ে নিয়েছিলেন জাতীয় পরিবেশ পদক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার হাতে ২০০৯ সালে পদক তুলে দিয়েছিলেন। এর পরের বছর মারা যান গহের আলী। সেই ফলবতী তাল গাছগুলো এখন আর নেই। সড়ক প্রশস্ত করতে গিয়ে সব তালগাছ কাটা পড়েছে। গহের আলীর রোপণ করা তাল গাছের শূন্যস্থানে বেলাল আবারও রোপণ করেছেন তালের আঁটি। একদিন গহের আলীর সেই স্থানে তাল গাছগুলো মাথা
উঁচু করে দাঁড়াবে বলে বিশ্বাস বেলালের।

বেলাল বলেন, মানুষের চলার পথে টাকা-পয়সা বড় কথা নয়। মানুষের মধ্যে স্মৃতি হয়ে থাকতে চাই। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গত ৩-৪ বছর জেলার বিভিন্ন স্থানে ও রাস্তার পাশে তাল বীজ রোপণ করেছি। পাশাপাশি নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের নওহাটা মোড় থেকে রানীপুকুর পযর্ন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তার দুপাশে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভা বর্ধনকারী ১০ হাজার গাছের চারা রোপণ করেছি। নিয়মিত গাছ পরিচর্যার জন্য ভিমপুর গ্রামের আশরাফুল ইসলাম নামে একজন পাহারাদার রেখেছি। এ ছাড়া নওগাঁ আদালত চত্বরের সামনেও বিভিন্ন প্রজাতির দুই শতাধিক গাছের চারা রোপণ করে নিজেই নিয়মিত পরিচর্যা করছি।

তিনি আরও বলেন, ৩ বছর ধরে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার রাস্তায় ১ লাখ করে তাল বীজ রোপণ করেছি। এ কাজে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তাল বীজ রোপণে ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

আমার ইচ্ছে এই বর্ষায় নওগাঁ সদর উপজেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ১০টি করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিনা মূল্যে রোপণের জন্য বিতরণ করব। এ লক্ষ্যে প্রায় ৩০ হাজার গাছের চারা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ ছাড়া কৃষি ও বন বিভাগকে তাক লাগিয়ে পাঁচ হাজার তাল গাছের চারা করা হয়েছে। এ ছাড়া সবাইকে কমপক্ষে পাঁচটি করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের জন্য আবেদন করছি। সেইসঙ্গে সরকারিভাবে বেশি বেশি গাছের চারা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে জোর দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম  বলেন, বেলালের কাজ সারাদেশে অনন্য নজির হয়ে থাকবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নওগাঁ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান বলেন, যত বেশি গাছ লাগানো হবে তত বেশি প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় থাকবে। দেশের প্রায় সর্বত্রই তাল গাছসহ বড় বড় গাছের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। এতে করে বজ্রপাতে মানুষের প্রাণহানি বাড়ছে। তাই গাছ লাগান এবং সুস্থ থাকুন।

এমন মহৎ উদ্যোগ নেওয়ায় সাংবাদিক মাহমুদুন নবী বেলালকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন, মহাদেবপুর-বদলগাছী আসনের সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দিন তরফদার সেলিমসহ জেলা ও পুলিশ, প্রশাসনসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। তারা বলেন, এ রকম শ্রম দিয়ে দেশের সেবা করার মতো মানুষের আজ খুবই অভাব।

 

বাঁচতে চায় কিশোর আকিজ মিয়া

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: চিকিৎসার অভাবে দিন দিন মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া কিশোর আকিজ মিয়া (১৪) বাঁচতে চায়। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের তালকু শিমুলবাড়ী গ্রামের দিনমজুর শামছুল হকের নাতি সে। বাবা কফিল উদ্দিন হার্ট এ্যাটাকে মারা গেছেন প্রায় ১০ বছর আগে। এর কিছুদিন পর মা আমেনা বেগম অন্যত্র বিয়ে করে সংসার পেতেছেন। আর আকিজ মিয়া বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে মৃত্যুর প্রহর গুনছে নানা- নানীর সংসারে। চিকিৎসার অভাবে তার মাথা ফুলে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটা বড় হয়েছে। ছোট হয়ে গেছে চোখ দুটো। মাথার ভাড়ে হাঁটতে না পারলেও অর্থাভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না তার।

আকিজের নানা শামছুল হক জানান, আকিজের বয়স যখন চার বছর তখন মেয়ে-জামাই সহ স্ব-পরিবারে ভারতের দিল্লীতে ইট ভাটায় কাজ করতে যান তারা। সেখানে কয়েক মাস কাজ করার পর হঠাৎ প্রচন্ড মাথা ব্যাথায় অসুস্থ্য হয়ে পড়ে আকিজ। ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে অপারেশন করতে বলেন। কিন্তু অর্থাভাবে অপারেশন করা সম্ভব না হওয়ায় সাধারণ চিকিৎসা চলতে থাকে। এর মধ্যে হঠাৎ করে হার্ট এ্যাটাকে মারা যান জামাতা কফিল উদ্দিন। উপায়ান্তর না দেখে স্ব-পরিবারে দেশে ফিরে আসেন। সেই থেকে প্রায় ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও টাকার অভাবে আকিজের উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি।

শামছুল হক আরও বলেন, বাড়ী ভিটা ছাড়া কিছইু নাই আমার। দুই মেয়ে আর দুই ছেলে যার যার মত আলাদা সংসার করছে। আগে ঠেলাগাড়ী চালাতাম কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে এখন আর পারিনা। অন্যের জমিতে দিনমজুরী করে যা পাই তা দিয়ে নাতীসহ ৩ জন কোন রকমে বেঁচে আছি। অসুস্থ্য নাতীর চিকিৎসার খরচ আমি কোথায় পাবো ? তাই আকিজের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান, হৃদয়বান দানশীল মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি।